দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম: টিআইবি

0
215

দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের চার ধাপ অবনতি হয়েছে। আর দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম।

মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে টিআইবি।

এদিকে সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের নানা চিত্র তুলে ধরে টিআইবি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে সরকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশন।

সরকার টিআইবি প্রতিবেদনকে বিএনপির প্রতিবেদনের সাথে তুলনা করে প্রত্যাখ্যান করে। অন্যদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন একেবারেই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

সম্প্রতি আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে কমিশনে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন বিষয়ে টিআইবি যে মন্তব্য করেছে তা অসৌজন্যমূলক উল্লেখ করে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘ওই প্রতিবেদন আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি, কারণ মাঠ পর্যায় থেকে আমরা এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। এমনকি মিডিয়া থেকেও অভিযোগ পাইনি।’

উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ‘শুধু মিডিয়া নয়, যারা নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন, তাদেরও আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, ভোটে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছে সংস্থাটি।

‘একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা’ শীর্ষক গবেষণার প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে মঙ্গলবার টিআইবির ধানমন্ডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে করা গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরে টিআইবি। নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্য থেকে দ্বৈবচয়নের (লটারি) ভিত্তিতে ৫০টি বেছে নেয় সংস্থাটি।

টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৫০টি আসন নিয়ে গবেষণা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এর মধ্যে ৩৩টিতে ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল দেয়ার অভিযোগ পেয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি৷

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২৯৯টি আসনের মধ্যে ৫০টি আসন নিয়ে সার্বিক গবেষণা শুরু করেছে৷ দৈব চয়নের ভিত্তিতে ওই ৫০টি আসন বাছাই করে তারা৷ তারই প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করেছে মঙ্গলবার৷ ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া’ শীর্ষক গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে টিআইবি বলছে, ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৭টিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো- না-কোনো ধরনের অনিময়ম পাওয়া গেছে৷

অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অনিয়মগুলো হলো- ভোটের আগের রাতে ৩৩টি আসনে ব্যালট পেপারে সিল মারা, জাল ভোট ৪১টি আসনে, ভোট শুরুর আগেই ব্যালটবাক্স ভরে রাখা হয়েছে ২০টি আসনে, বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সিল ৩০টি আসনে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নীরব ভূমিকা ৪২ আসনে, ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো বা ভোটদানে বাধা ২১ টি আসনে, নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে ২৬টি আসনে, ব্যালট পেপার আগেই শেষ হয়ে যায় ২২টি আসনে এবং প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টকে ঢুকতে দেয়া হয়নি ২৯টি আসনে৷

টিআইবি ২৯৯ আসনের মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৫০টি আসনে গবেষণার যে তথ্য দিয়েছে, তাতে গড়ে ৯৪ শতাংশ আসনে নির্বাচনি অনিয়ম হয়েছে৷ জাল ভোট পড়েছে ৮২ শতাংশ আসনে৷ নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটবাক্সে সিল মারা হয়েছে ৬৬ শতাংশ আসনে৷

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘নির্বাচন বৈধ, না অবৈধ সেটা নিয়ে আমরা কোনো গবেষণা করিনি৷ আমরা নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছি৷ আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে নির্বাচনের এই ধারা কোনোভাবেই অব্যাহত থাকতে পারে না৷ এটা অব্যাহত থাকলে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র সুদূর পরাহত হয়ে উঠবে৷ এ কারণেই আমরা কিছু সুপারিশ করেছি৷ আশা করছি সেগুলো বিবেচনায় নেয়া হবে৷’

টিআইবি যে ধরনের নির্বাচনপ্রক্রিয়ার চিত্র তুলে এনেছে, তার মাধ্যমে গঠিত একটি সরকার চলতে পারে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা আমরা বলতে পারব না৷ এ নিয়ে আমাদের মন্তব্য করাও ঠিক হবে না৷ বিরোধীপক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে পারে৷ তাদের কেউ কেউ আদালতে যাওয়ারও কথা বলেছে৷ নির্বাচন কমিশন দেখতে পারে৷ এটা আমাদের এখতিয়ারবহির্ভূত৷’

এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম টিআইবির এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যা করেছেন৷ তিনি মঙ্গলবারই সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘প্রতিবেদনটি পূর্বনির্ধারিত ও মনগড়া৷ এটা কোনো গবেষণা নয়৷ গবেষণায় যেসব পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়, তা এখানে প্রয়োগ করা হয়নি৷ এই প্রতিবেদন আমাদের দেয়া হয়নি৷ এটা আমরা আমলেও নিচ্ছি না৷’

তিনি আরো বলেন, ‘টিআইবি বাছাই করা প্রার্থীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছে৷ জামায়াতের প্রার্থীদের কাছ থেকে তথ্য নিলে গবেষণা প্রতিবেদন একরকম হবে আর আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের কাছ নিলে তা আরেক রকম হবে৷ এই গবেষণায় টিআইবির বাছাই করা প্রার্থী কারা, সেটা স্পষ্ট নয়৷’

আর বুধবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘‘টিআইবি’র অভিযোগ অলীক রহস্যময় কাহিনি৷ টিআইবিকে বলবো ‘গল্প খাওয়াচ্ছেন, অনেক অবিশ্বাস্য রূপকথার কাহিনি সাজাচ্ছেন- নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি৷ স্বচ্ছ ব্যালটবক্স ব্যবহার করা হয়েছে৷ আপনাদের কোনো একজন প্রতিনিধি বা প্রতিপক্ষের এজেন্ট নির্বাচনি কেন্দ্রে কি এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা চ্যালেঞ্জ করেছে?’ টিআইবি আসলে স্বচ্ছতার বিরুদ্ধে কথা বলছে৷’

এর জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার যা বলেছেন, তা তাঁর মন্তব্য৷ তাঁর অবস্থান৷ কিন্তু টিআআইবি’র গবেষণাপদ্ধতি নিয়ে যদি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে বলবো, টিআইবি কোনো ভিত্তিহীন বা নিয়মনীতিহীন গবেষণা করে না৷ গবেষণায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি অবলম্বন করে৷ টিআইবি’র গবেষণার আন্তর্জাতিকমান স্বীকৃত৷ আর আমরা এরই মধ্যে আমাদের গবেষণা নির্বাচন কমিশনকে পাঠিয়ে দিয়েছি৷ তাঁরা তা দেখতে পারেন৷’

টিআইবি’র এই গবেষণায় যে ফল পাওয়া গেছে, তার প্রেক্ষিতে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘টিআইবি’র এই প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বা ‘পূর্ব নির্ধারিত’ না বলে নির্বাচন কমিশনের এখন উচিত হবে এই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তদন্ত করা৷ তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া৷ এ নিয়ে আগে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উদাহরণ আছে৷ একটা বিখ্যাত মামলা আছে৷ নূর হোসেন বনাম নজরুল ইসলাম৷ এই মামলায় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে যে, যদি কোনো নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ বা প্রশ্ন ওঠে, তাহলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে৷ তাদের নির্বাচন বাতিল করারও ক্ষমতা আছে৷’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘যে অভিযোগ উঠেছে, তাতে মানুষের ভোটাধিকারই প্রশ্নবিদ্ধ৷ তাই নির্বাচন কমিশনকে সবার আগে তদন্তের উদ্যোগ নিতে হবে৷ তারপর অন্য ব্যবস্থা৷’

এদিকে টিআইবি’র প্রতিবেদনকে উদ্দেশ্যপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ, একপেশে এমনকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যায়িত করে সরকারের মুখপাত্র তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে দেশে কয়েকটি সংগঠন আছে, যারা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার কাজেই লিপ্ত থাকে। টিআইবি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং বলে যে, তাদের গবেষণাপ্রসূত প্রতিবেদন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা অতীতেও দেখতে পেয়েছি, তারা যে গবেষণার কথা বলে, সেই গবেষণাগুলো প্রকৃতপক্ষে সঠিক কোনো গবেষণা নয়। বেশিরভার প্রতিবেদন হচ্ছে উদ্দেশ্যপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ, একপেশে এমনকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বুধবার সকালে চট্টগ্রামে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

পদ্মা সেতু নিয়ে টিআইবি মনগড়া কল্পকাহিনি সাজিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। পদ্মা সেতুতে যে দুর্নীতি হয়নি, সেটি শুধু দেশে নয়, বিদেশেও প্রমাণিত হয়েছে। কানাডার আদালতে মামলায় হেরে গেছে বিশ্ব ব্যাংক।’

‘এরপর টিআইবিসহ যেসব সংস্থা কল্পকাহিনি সাজিয়েছিল, তাদের উচিত ছিল ক্ষমা চাওয়া। এবং এই ধরনের মনগড়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা। এটি তারা করেনি।’

নির্বাচন নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদন আর বিএনপির প্রতিবেদনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, টিআইবি, বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে মাত্র, অন্য কোনোকিছু নয়।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন হাসান মাহমুদ। তিনি আরো বলেন, ‘যারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে এসেছিলেন তারা সবাই এই নির্বাচনের প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে যতগুলো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার মধ্যে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অনেক শান্তিপূর্ণ হয়েছে। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে উৎসবমুখর নির্বাচন হয়েছে।’

অন্যদিকে বুধবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘টিআইবি নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি বলে অলীক, অবিশ্বাস্য রূপকথার কাহিনী সাজাচ্ছে। নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপির কোন এজেন্ট বা টিআইবি’র একজন প্রতিনিধিও নির্বাচনের দিন স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেননি।’

সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, ‘ নির্বাচনের দিন তারা নির্বাচনের কারচুপির কোন কারণ খোঁজে পাননি। আর এখন তারা নির্বাচন নিয়ে কেন অলীক রূপকথার গল্প সাজাচ্ছেন তা আমরা জানি। দেশের জনগণই তার জবাব দেবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের জনগণ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে টিআইবি’র অলিক ও অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্পের জবাব দেবে।

তবে বুধবার বিকেলে দলীয় অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে, এই নির্বাচনের ফলে জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন যেটি হয়েছে তা বাংলাদেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব প্রত্যাখ্যান করেছে। এটা নিয়ে আর কোনও প্রশ্ন থাকে না। দেশে কোনও নির্বাচন হয়নি। এটা একটা তামাশা হয়েছে। প্রহসন হয়েছে। এই প্রহসন একটা নিষিদ্ধ প্রহসন। এতে মানুষের অধিকারকে হত্যা করা হয়েছে। ভোটারদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। যার আংশিক টিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে’

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন- এমনটা আওয়ামী লীগ কেন করলো? আমি বলবো- এতে আওয়ামী লীগের একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। আওয়ামী লীগ এদেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দলের একটি, তাদের গণতন্ত্রের গৌরবোজ্জ্বল অতীত রয়েছে। কিন্তু এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ লোকেরাই প্রশ্ন তুলেছে, ‘আমার ভোট আমি দিতে পারলাম না কেন?’ সমস্যা হলো আওয়ামী লীগের স্বভাবজাতভাবে যে চরিত্র তা আমরা স্বাধীনতার পর থেকেই দেখে আসছি। আওয়ামী লীগ সবসময় মনে তারা মালিক। একই সাথে ভিন্ন মতকে তারা সহ্য করে না। জনগণ হচ্ছে তাদের সত্যিকার অর্থে প্রজা। যে কারণে জনগণের অধিকারকে তারা কখনই স্বীকৃতি দেয় না।’

সংবিধানের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের যে সংবিধান রয়েছে তার একটা একটা পরিবর্তন করে একদলীয় বাকশালে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আরও বিজ্ঞজন রয়েছেন। তারাও এ বিষয়গুলোকে এড়িয়ে গিয়েছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা বিষয় স্পষ্টত প্রমাণ হয়েছে, বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে বর্তমান সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। এবার নির্বাচনে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে রাষ্ট্রের জুডিশিয়াল থেকে শুরু করে আনসার পর্যন্ত। যাদেরকে সরকার ব্যবহার করেছে। এই সরকারের ক্ষমতায় যাওয়ার মূল বিষয় হচ্ছে দেশকে একদলীয় শাসনব্যবস্থায় নিয়ে আসা।’

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা


গত ১০ বছরে (২০০৬ থেকে ২০১৫) বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩০৯ কোটি ডলার বা ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সোমবার (২৮ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জিএফআই’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫৯০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। ২০১৪ সালে দেশ থেকে পাচার হয়েছিল ৮৯৭ কোটি ডলার। এই হিসাবে ২০১৪ সালের চেয়ে ২০১৫ সালে পাচারের পরিমাণ কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে এক দশকে পাচারের পরিমাণ ৫ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা।

সংস্থাটি বলছে, উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ২০ ভাগই পাচার হয়েছে নানা কৌশলে। আর পাচারকৃত টাকার বড় অংশই গেছে আমদানি-রফতানির সময়ে পণ্যের প্রকৃত দাম গোপন করার মাধ্যমে।

বিশ্বজুড়ে অর্থপাচার নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি-জিএফআই। সোমবার প্রকাশিত সবশেষ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে ১৪৮ উন্নয়নশীল দেশের টাকা পাচারের চিত্র।

তবে জিএফআই এর দেওয়া অর্থ পাচারের তথ্যকে পুরোপুরি স্বীকার করতে নারাজ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান।

তিনি বলেন, ‘জিএফআই পাচারের যে তথ্য দেয় তা পুরোপুরি সত্য নয়। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রেটি বা জিএফআই অর্থ পাচারের যে তথ্য দেয় তা যে পুরোপুরি সত্য, তা আমরা স্বীকার করি না।’

জিএফআই এর প্রতিবেদন অনুসারে, টাকার অংকের দিক দিয়ে ২০১৫ সালে অর্থপাচারে শীর্ষ ৩০ দেশের একটি ছিল বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। জিএফআই বলছে, টাকা পাচারের এ প্রবণতা টেকসই উন্নয়নের বড় বাধা।

জিএফআই’র হিসাবে, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩০৯ কোটি ডলার বা ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট বাজেট ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই অর্থবছরের মোট বাজেটের চেয়েও বেশি টাকা ১০ বছরে পাচার হয়েছে।

জিএফআই বলছে, এটি আনুমানিক হিসাব। প্রকৃত পাচারের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। পাচারের পাশাপাশি, ২০১৫ সালে অবৈধভাবে দেশে ২৮০ কোটি ডলার আসার তথ্যও দিয়েছে জিএফআই।

এর আগে গত জুনে প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৭’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জমানো অর্থের পরিমাণ কমেছে। সুইস ব্যাংকে ২০১৭ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জমার পরিমাণ ছিল ৪৮ কোটি ১৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা (১ সুইস ফ্রাঁ = সাড়ে ৮৪ টাকা হিসাবে)। আগের বছর ২০১৬ সালে এর পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ (৫ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা)। সুইস ব্যাংকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জমার পরিমাণ ছিল ৫৫ কোটি ৮ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

উৎসঃ ‌গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি

আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে, দুদক যাচ্ছে প্রাইমারি স্কুলে!


সরকারের অনুগত দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দিন দিন ব্যাপক সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। দুর্নীতির অনুসন্ধানে তিনি সারাদেশ চষে বেড়াচ্ছেন। ছুটে চলছেন এক জেলা থেকে আরেক জেলা। তিনি এখন এমন ব্যক্তিদের পেছনে লাগছেন যাদের কাজে ফাঁকি দেয়ার কিছু সুযোগ আছে, কিন্তু দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক চাইলেও কোনো টাকা-পয়সা আত্মসাত করতে পারবেন না। কারণ, বেতন ছাড়াতো তাদের কাছে আর কোনো টাকা আসে না। তবে ক্লাস ফাঁকি দেয়ার একটা সুযোগ তাদের আছে। কিন্তু দুদক চেয়ারম্যান বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরছেন যেন রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম-দুর্নীতি শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই হচ্ছে।

রোববার চট্টগ্রামের ৩টি স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। একটি স্কুলে ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭ জনই অনুপস্থিত ছিল। এটা অবশ্যই বড় ধরণের অন্যায় ও শিক্ষার জন্য খুবই ভয়ঙ্কর বিষয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসলে শিক্ষার নামে কি হচ্ছে সেটা বেরিয়ে এসেছে।

এখন প্রশ্ন হলো-শুধু প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে দৌড়ানোই কি দুদকের মূল কাজ?

বিগত কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের লাখ লাখ কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া দরবেশ নামে খ্যাত সেই সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুটকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তির নির্দেশেই ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান সরাসরি এই রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত। অথচ এনিয়ে দুদক নীরব ভুমিকা পালন করছে।

রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় দুর্নীতির আখড়া হিসেবে খ্যাত। টিআইবির পক্ষ থেকে কয়েক মাস পর পরই রাষ্ট্রের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিভিন্ন অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজদের নিয়ে সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি দুদককে।

এছাড়া, প্রতিবছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টেগ্রিটির মতে, শুধু ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ২০১৬ সালেও সংস্থাটি এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তারপর পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতেও বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের নাম এসেছিল। কিন্তু এসব বিষয়েও দুদকের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলেও এসবের তদন্ত করার কোনো প্রয়োজনীয়তা মনে করছে না দুদক।

তবে, বিরোধীদলের কোনো নেতার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য পেলে সেটা নিয়ে আবার ডাকঢোল পিটিয়ে মাঠে নামে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছে, সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি চাপা দিতেই দুদক চেয়ারম্যান এখন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে লেগেছেন। প্রাইমারি স্কুলের তদারকির জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসই যথেষ্ট। দুর্নীতিবাজদের ধরার নামে দুদক চেয়ারম্যান আইওয়াশ করছেন।

কেউ কেউ বলছেন, দুদক চেয়ারম্যান এখন সরকারের দাসে পরিণত হয়েছেন। দাস যেমন মনিবের অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না, ইকবাল মাহমুদও ঠিক দাসের মতো সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here