আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-লুটপাটের কথা স্বীকার করলেন শেখ হাসিনা!

0
731

বিগত ১০ বছর ধরে কথিত বায়ুবীয় উন্নয়নের নামে সারাদেশে শত শত প্রকল্প উদ্বোধন করে যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তারা লুটপাট করতেছে এনিয়ে প্রায় দিনই গণমাধ্যমগুলোতে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। শুধু বড় বড় প্রকল্পই নয়, টিআর-কাবিখা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দেয়া গরীবের ত্রাণের টাকাও লুটে নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এক সময় আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী ঠিক মতো তিন বেলা খেতো পেত না ১০ বছরের ব্যবধানে তারা এখন শত কোটি টাকার মালিক। বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে।

যুবলীগের একনেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট, নুর নবী চৌধুরী শাওন, আ.লীগ নেতা শাহে আলম মুরাদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাসিম, মোফাজ্জল চৌধুরী মায়া, এ কে এম রহমতুল্লাহ, মো. নাসিমসহ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা এখন সবাই শত থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক।

তারপর সুইচ ব্যাংকের দেয়া তথ্য মতে, প্রতিবছরই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচারের পরিমাণ বাড়ছে। অনুসন্ধান বলছে, এসব টাকা পাচারের সাথে যারা জড়িত তারা অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও ব্যবসায়ী। এমনকি, দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত দুর্নীতি, লুটপাট ও টাকা পাচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারপরেও শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় দুর্নীতি-লুটপাটের দায় বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে থাকেন।

তবে, দেশের কথিত উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি-লুটপাট এখন এমন একপর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যার কারনে শেখ হাসিনা নিজেও এখন বিরক্ত। এমনকি, এতদিন দুর্নীতির কথা অস্বীকার করলেও শেখ হাসিনা এখন নিজেও স্বীকার করেছেন যে দুর্নীতি হচ্ছে।

শনিবার গণভবনে বিভিন্ন মন্ত্রণায়গুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যেই বলেছেন-দুর্নীতি যেন উন্নয়নগুলোকে খেয়ে না ফেলে। দুর্নীতির কারণে যে উন্নয়ন কাজগুলো ব্যাহত না হয়। দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হলেও সেটা হবে দুঃখজনক।

তাই সচেতন মহল বলছে, শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, কথিত উন্নয়নের নামে চালু করা প্রকল্পগুলোতে ব্যাপকভাবে দুর্নীতি লুটপাট হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এসব দুর্নীতি লুটপাট কারা করছে? প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব তো আর বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতে নয়। সবগুলোর প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা। সুতরাং দুর্নীতি-লুটপাট তারাই করছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ডুবছে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও বন্দর


অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোগত সুবিধা থাকার পরও লাভজনক হচ্ছে না কেরানীগঞ্জের পানগাঁও বন্দর। ঢাকায় সহজে নৌপথে পণ্য পরিবহনের লক্ষ্যে এ টার্মিনালটি নির্মাণ করা হলেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে লাভজনক হচ্ছে না বন্দরটি। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের চেয়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে শুল্ক আদায় হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা কম। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দেয়া শুল্ক আদায়ের টার্গেট বাস্তবায়ন হয়েছে -৩৪ শতাংশ। ফলে প্রায় ৭০০ কোটি টাকায় নির্মিত বন্দরটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

শুল্ক আদায় কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ টার্মিনালে আমদানিকৃত পণ্যের নাম, বিবরণ, গুণগত মান, মূল্য, এইচ এস কোড ইত্যাদিতে মিথ্যা ঘোষণা দেয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। তারা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কাছ থেকে বাড়তি আর্থিক সুবিধা আদায় করে বেশি শুল্কপণ্যকে কম শুল্কপণ্য দেখিয়ে শুল্কায়ন করছেন। এ সময় যেসব ব্যবসায়ীর সাথে শুল্ক কর্মকর্তাদের বোঝাপড়া হচ্ছে না তাদের পণ্য খালাসে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ করছেন। ফলে তাদের পোর্টের ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় এবং ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

পানগাঁও আইসিডির এসব অনিয়ম ও কনটেইনার আটকের অভিযোগ পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে পোর্টে প্রায় ৩০০ কনটেইনার শুল্কায়নের জন্য আটকে আছে এমন অভিযোগের তদন্তের জন্য সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দেশনা দেয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন ১৫ দিনের মধ্যে দুদকের কাছে প্রেরণের অনুরোধ করা হয়। কিছু কাস্টমস কর্মকর্তার হয়রানির কারণে বছরে পর বছর অত্যাধুনিক এ টার্মিনালে পণ্য খালাস ও কনটেইনার আমদানির পরিমাণ কমেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক অর্থবছরের ব্যবধানে কনটেইনার আমদানি কমেছে ২৯৯টি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পানগাঁও পোর্টে কনটেইনার এসেছে ১ হাজার ২২৩টি। অথচ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসেছে ৯২৪ কনটেইনার পণ্য। এ কারণে রাজস্ব আদায়ে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। এ দিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এনবিআরের বেঁধে দেয়া লক্ষ্যমাত্রা ৯৮০ কোটি টাকার মধ্যে আদায় হয়েছে ৮৬০ কোটি টাকা। আর সদ্য বিদায়ী অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ১০২ কোটি টাকার মধ্যে আদায় হয়েছে মাত্র ৫৬০ কোটি টাকা। কাস্টমস কর্মকর্তাদের হয়রানির কারণে রাজস্ব আদায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পানগাঁও টার্মিনাল সূত্র জানায়, গত বছর ব্যাটারি আমদানিকারক একটি প্রতিষ্ঠানের ফাইল আটকে রেখে পানগাঁও কাস্টমসের উপকমিশনার সোনিয়া আক্তার ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন। ফাইল আটকে থাকলে মালপত্র বন্দরে পড়ে থাকবে, তাতে তার আর্থিক ক্ষতি হবেÑ এ চিন্তা করে ওই কর্মকর্তাকে দুই লাখ এবং পরে আরো আট লাখ টাকা দেনওই ব্যবসায়ী। এর পরও তিনি ফাইল না ছাড়ায় ওই ব্যবসায়ী কাস্টমস কমিশনারের কাছে যান। কাগজপত্র যাচাই করে তার চালান ছেড়ে দেন কমিশনার।

এরপর সোনিয়া আক্তারের কাছে গিয়ে ঘুষের টাকা ফেরত চান ওই ব্যবসায়ী। উত্তপ্ত আলোচনার পর টাকা ফেরত দিতে সম্মত হন ওই কর্মকর্তা। পরে তিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন। এ ঘটনার ভিডিও সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে কর্মস্থল থেকে বদলি করলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন সোনিয়া আক্তার। ভিডিওসহ দুর্নীতি দমন কমিশনে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের হলেও ওই কর্মকর্তাকে গত সপ্তাহে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর পানগাঁও আইসিডি বন্দর সচলে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে পদক্ষেপ নেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। সমাধানের উপায় হিসেবে বন্দরের গতি ফেরাতে একচ্ছত্রভাবে তুলা আমদানি সহায়ক হতে পারে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া বন্দরের কার্যক্রমকে নীরবচ্ছিন্ন রাখতে তাৎক্ষণিক চট্টগ্রাম বন্দর থেকে একটি অপারেটরসহ স্ক্যানার এ বন্দরে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রীর এমন পদক্ষেপের পরেও পূর্ণভাবে সচল হচ্ছে না এ বন্দরটি।

এ বিষয়ে জানতে পানগাঁও কাস্টমস হাউজের কমিশনার ইসমাঈল হোসেন সিরাজীর দফতরে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পঃ উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়লো চট্টগ্রাম শহর রক্ষা বাঁধ


পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পাশ ঘেঁষে নির্মিতব্য চট্টগ্রাম শহর রক্ষা বাঁধ তথা আউটার রিং রোড এখনো উদ্বোধনই হয়নি। অথচ সড়কটির বেশ কয়েকটি অংশ ধসে গেছে। শনিবার (১৩ জুলাই) এই ঘটনা ঘটে।

সড়কটির নির্মাণ দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বলছে, টানা বৃষ্টিতে সাগরের পানি বেড়ে যাওয়ায় সড়কটির কিছু অংশ দেবে গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পাশ ঘেঁষে নির্মিতব্য শহর রক্ষা বাঁধ তথা আউটার রিং রোডে ব্লক সরে মাটি তলিয়ে যাওয়ায় সিসি ঢালাইয়ে তৈরি ওয়াকওয়েটি ধসে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে আরও বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, সাগরে পানি বেড়ে যাওয়ায় ঢেউয়ের কারণে ব্লক সরে বিশাল অংশ দেবে গেছে।

দেখা যায়, বাঁধের ব্লক সরে মাটি তলিয়ে যাওয়া সিসি ঢালাইয়ে তৈরি ওয়াকওয়েটি ধসে পড়েছে। এ অবস্থায় ওই অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। হঠাৎ ওয়াকওয়েটির বিশাল অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, এখনো ওয়াকওয়ে তৈরির কাজ শেষ হয়নি। এরমধ্যে সেটি ধেবে পড়েছে।

চাপ বেশি পড়ে বলে এটি রড দিয়ে কংক্রিট (আরসিসি) ঢালাই করার দরকার ছিল। কিন্তু ওয়াকয়েটি সিসি ঢালাই দিয়ে করা হয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, সাগরের পাশে কাজ করার সময় বিবেচনায় রাখতে হয় মাটি সরে যাবে। সেটি বিবেচনায় না রেখে এ ধরনের কাজ করা মানে অর্থ অপচয়।

সাধারণত এ ধরনের কাজগুলো পাইলিংয়ের ওপর হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত ভরবহন করার প্রয়োজন হলে সেখানে প্রি-কাস্ট কংক্রিট পাইল ব্যবহার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, রিটেইনিং ওয়াল দিয়ে মাটি না সরার জন্য আলাদা কাস্টিং করতে হয়। ধসে পড়া ওয়াকওয়েটিতে হয়তো এ ধরনের কাজ করা হয়নি।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ওয়াকওয়ের পাশে রিটেইনিং ওয়াল ছিল। সবকিছু বিবেচনা রেখে কাজ হয়েছে।

কাজটা সম্পূর্ণ না হওয়াতে অনেক জায়গায় ব্লক বসানো হয়নি। ফলে সেটি ধসে পড়েছে। যেসব অংশে কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে, সেখানে ধসে পড়ার আশঙ্কা নেই।

তিনি আরও বলেন, ঢেউয়ের কারণে মাটি সরে যাওয়ায় ওয়াকওয়ে ধসে পড়েছে। সেগুলো সরানো হচ্ছে। পাশাপাশি ধসে পড়া স্থানগুলো পুন:নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ধসের কারণ জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’

উল্লেখ্য, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ২০০৫ সাল থেকে পতেঙ্গা হতে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ কাম আউটার রিং রোড নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়। যাচাই শেষে ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে জাইকা।

২০১৬ সালের জুলাইয়ে চার লেনের এ সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আড়াই হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

উপকূলীয় বাঁধ কাম আউটার রিং রোড নির্মাণ নামে এ প্রকল্পের আওতায় ১৭ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হবে। এর মধ্যে ১৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার মূল ও ২ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। এ ছাড়া প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে।

শুরুতে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৮৬৫ কোটি ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দুই বার সংশোধনের পর বর্তমানে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৭২০ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ও জাইকার সহায়তা ৭০৬ কোটি টাকা।

২০১৯ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা।ইতোমধ্যে প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

উৎসঃ পূর্বপশ্চিমবিডি

আরও পড়ুনঃ মাদকে একশ মাফিয়াঃ আছেন জনপ্রতিনিধি-নেতাকর্মী, রাঘববোয়াল; ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে গডফাদাররা


দেশের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন ১০০ ব্যবসায়ী। সরকারের মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স ক্রাশপ্রোগ্রাম’-এর পরেও এই ১০০ বিগশট রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের বেশির ভাগই জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। প্রত্যেকেই ধনাঢ্য ব্যক্তি। তাদের কেউ কেউ বিদেশে সেকেন্ড হোম করেছেন মাদক বিক্রি করে। মূলত মাদকের এই গডফাদারদের কারণেই বন্ধ হচ্ছে না দেশের মাদক ব্যবসা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য দিয়ে বলেছে, টেকনাফে ১০২ মাদক ব্যবসায়ীর আত্মসমপর্ণ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দেড় শতাধিক ব্যবসায়ী নিহত হন। কিন্তু ধরা পড়েননি টপ মোস্ট মাদক ব্যবসায়ীরা। তারা এতটাই প্রভাবশালী যে, তাদের নাগাল ছুঁতে পারেনি কেউ। সূত্র জানায়, দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় রয়েছে এমন এক থেকে দুজন করে গডফাদার। তবে কক্সবাজারে মাদক গডফাদারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। হালে পুলিশি তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় ওই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ভিন্ন পথে ব্যবসা চালাচ্ছেন। তারা রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছেন। যে কারণে ইয়াবা বন্ধের পরিবর্তে সরবরাহ বেড়ে গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানে যুক্ত করা হয় ‘টপ টেন লিস্ট’। জেলাভিত্তিক শীর্ষ গডফাদারদের তালিকা ধরে ক্রাশপ্রোগ্রাম শুরু হয়। যেখানে ৬৪ জেলার ৬৫০ বিগশটের নাম ছিল। এর মধ্যে অন্তত ১০০ ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করছেন। তারাই মাদকের নিয়ন্ত্রক। ভিন্ন ব্যবসার আড়ালে করছেন মাদক ব্যবসা। সূত্র জানায়, তারা শুধু মাদক ব্যবসায়ী নন, তাদের অনেকের কাছে বিপুলসংখ্যক অবৈধ অস্ত্রও আছে, যার প্রমাণ মেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময়। গ্রেফতার অভিযানের সময় তারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উল্টো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রীতিমতো বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, সমূলে বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে মাদকবিরোধী উচ্চমাত্রার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এক্ষেত্রে কারও কোনো রাজনৈতিক বিশেষ পরিচিতিও বিবেচনায় নেওয়া হবে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাঁড়াশি মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে অনেক শীর্ষ ব্যবসায়ী পলাতক রয়েছেন। তবে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত। এতে তারাও সন্ত্রস্ত থাকছে।

নিজেদের সাফল্যের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেখুন আইস আমাদের দেশের জন্য একটি নতুন মাদক। ইয়াবার বিকল্প হিসেবে এর প্রচুর অপব্যবহার হচ্ছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তবে আমাদের দেশে এটি ছড়ানোর আগেই সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। একই সঙ্গে খাত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আমাদের সফলতা বলব শতভাগ।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস্্) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে র‌্যাবের ব্যাপক সফলতা রয়েছে। মাদকের ওপর র‌্যাব সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তবে এককভাবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সমাজের প্রত্যেকটি কর্নারের অংশগ্রহণ। প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ।

শীর্ষ অনেক মাদক ব্যবসায়ী ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন, এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেখুন র‌্যাব অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখে। কেউই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে না। হয়তো কেউ কেউ আত্মগোপনে কিংবা পলাতক। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে কথাটি সঠিক নয়। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের পরও কেন থামছে না মাদক- এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, আশ্রিত অনেক রোহিঙ্গা যুবক রাতের আঁধারে মিয়ানমার ঢুকে ৩/৪ হাজার ইয়াবাসহ আবার ফিরে আসছে। এমন তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কিছু শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ধরাছোঁয়ার বাইরে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কিছু নতুন ব্যবসায়ীর নাম শুনছি। কিছু শীর্ষ ব্যবসায়ী যারা পলাতক আছেন তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তবে তাদের নেটওয়ার্কও আগের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকার প্রথমেই যার নাম আছে, তিনি হলেন আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সাবেক এই এমপির স্ত্রী এখন তার আসনের এমপি। অথচ তিনি আছেন প্রকাশ্যেই। তার সম্পর্কে সূত্রটি জানায়, তিনি ইয়াবা ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক। তবে ব্যবসায় সরাসরি জড়িত হন না তিনি। তার ইচ্ছার বাইরে বা অজান্তে ইয়াবা ব্যবসা প্রায় অসম্ভব।

চট্টগ্রামের গার্মেন্ট, আমদানি-রপ্তানি ও জাহাজ ব্যবসায়ী সাইফুল করিম ছিলেন আরেক নিয়ন্ত্রক। যদিও ক্রসফায়ারে গত মাসে টেকনাফে তিনি নিহত হন। চট্টগ্রামে এখনো বহাল মঞ্জুর আলম ওরফে মঞ্জু সওদাগর ওরফে কানা মঞ্জু ও রেজাউল করিম ওরফে ডাইল করিম। জানা গেছে, মঞ্জুর আলম চট্টগ্রাম শহরের একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তিনি দেশের অন্যতম প্রধান ইয়াবা চোরাকারবারি। তার বাবার নাম হাজী আবদুল করিম। গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়া থানার রূপকানিয়ায়। চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দীন বাজারে ফলের গলিতে তার ইয়াবার পাইকারি মোকাম রয়েছে। র‌্যাব জানায়, ব্যক্তিগত পাজেরো গাড়িতে পাচারের সময় প্রায় ৮ লাখ ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিল মঞ্জু। চট্টগ্রাম শহরেই তার অন্তত পাঁচটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, মার্কেট ও তিনটি বাড়ি রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক মামলার সংখ্যা প্রায় ১৫টি। তালিকায় থাকা রেজাউল করিমও ইয়াবার বড় মাপের পাইকারি বিক্রেতা ও গডফাদার। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। রেজাউল করিম চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রাম জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফারুক ক্রসফায়ারে মারা গেলেও বরিশাল কলোনির আরেক গডফাদার রয়েছেন। নাম তার ইউসুফ। তবে তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রয়েছেন রতন মিয়া, কুমিল্লার আবুল হোসেন, হুমায়ন মেম্বার, লক্ষ্মীপুরের রিপন হোসেন ওরফে রিংকু, ইব্রাহিম মজুমদার, নোয়াখালীর রফিক, হাসান ওরফে রুশো হাসান, শেরপুরের মাহবুব আলম, গোপালগঞ্জের টুটুল হোসেন খান, ফেনীর সরোয়ার হোসেন, চাঁদপুরের সবুজ মিজি ও পশ্চিম মদনা এলাকার কবির জমাদার প্রমুখ।

রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান মাদক বিপণন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জেনেভা ক্যাম্পের মাদক গডফাদার ইসতিয়াক ওরফে কামরুল হাসান আছেন শীর্ষ ১০ তালিকার এক নম্বরে। অনুসন্ধানে তার তিনটি ঠিকানা পাওয়া যায়। প্রথম ঠিকানাটি জেনেভা ক্যাম্পের বি-ব্লকের ১৬২ নম্বর বাসা। দ্বিতীয় ঠিকানা সভারের মাদ্রাসা রোডের জাদুরচর ঈশিকা ভবন। তার তৃতীয় ঠিকানা হচ্ছে আশুলিয়া ব্যারন বাসস্ট্যান্ড এলাকার ১০/এ নম্বর প্লটের ছয়তলা বাড়ি। সূত্র জানায়, ইসতিয়াক দেশে থাকেন কম। বছরের বেশির ভাগ সময় তিনি মালয়েশিয়ায় থাকেন। সেখানে তিনি সেকেন্ড হোম করেছেন। মালয়েশিয়ায় তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জেনেভা ক্যাম্পের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে ইসতিয়াক পরিচিত। তালিকার ২ নম্বরে ছিলেন মোস্ট ওয়ানটেড মাদক ব্যবসায়ী নাদিম ওরফে পশ্চিম। তিনি ক্রসফায়ারে নিহত হন।

কক্সবাজারের টেকনাফে এমন গডফাদারের সংখ্যাই বেশি। আত্মগোপনে আছেন তাদের মধ্যে তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদার হলেন- সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির ভাই কাউন্সিলর মৌলভী মুজিবুর রহমান, জালিয়াডপাড়ার জাফর আলম প্রকাশ টিটি জাফর, টেকনাফের উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ ও তার ছেলে টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজাহান মিয়া, বাহারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন ও তার ভাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন, উখিয়া গুয়ালিয়ার ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমদ, নুরুল হক ভুট্টো, কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার শাজাহান আনসারী, তার ভাই কাশেম আনসারী, একই এলাকার আবুল কালাম ও তার ভাই বশির আহমদসহ অন্তত ২০ জন। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতেও রয়েছে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ওয়াসার ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পঃ নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার, প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কা!


প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ঢাকা ওয়াসার পদ্মা (যশলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে পরীক্ষা ছাড়াই নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে।

পাইপলাইন স্থাপনের পর ইতিমধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে পাইপ ফেটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া ধলেশ্বরী নদীর কুচিয়া মোড়া তলদেশের পাইপ ভেসে উঠায় সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা বাড়ছে। ৪২ মাসের প্রকল্পটি ৬৬ মাসেও আলোর মুখ দেখেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর প্রায় ৪০ লাখ মানুষের পানির চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। ২০১৪ সালের প্রথমদিকে প্রকল্পের কাজ শুরু করে তা ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার কথা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যবহৃত পাইপ পরীক্ষা করে ব্যবহার করার কথা থাকলেও সেটা না করেই তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করা হয়। প্রকল্পটি ৪২ মাসে শেষ করার কথা থাকলেও ৬৬ মাসেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

পদ্মানদী (যশলদিয়া) থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত পাইপলাইন বসানো হলেও ঢাকায় পানি সরবরাহ লাইন প্রস্তুত করা হয়নি। আবার যেনতেনভাবে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রস্তুত করা হলেও সরবরাহ লাইন প্রস্তুত না হওয়ায় নগরবাসী কবে পদ্মার পানি পাবেন সেটা ওয়াসার সংশ্লিষ্টরাও পরিষ্কার করে বলতে পারছে না।

এছাড়া ওয়াসা সংশ্লিষ্টদের অভিমত, জনগণের টাকায় নির্মিত এ মেগা প্রকল্প যেনতেনভাবে বাস্তবায়ন করায় যতদিন টেকসই হওয়ার কথা তার অর্ধেক সময়ও প্রকল্পটি টিকবে না। শুরু থেকে এ প্রকল্পের নিম্নমানের পাইপের প্রশ্ন থাকলেও তার কোনো সুরাহা না করেই প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ওয়াসা। আর মেয়াদকালের সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকৌশলী ও পানি বিশেষজ্ঞ ম. ইনামুল হক যুগান্তরকে বলেন, পদ্মার পানি শোধনাগার প্রকল্প একটি অবাস্তব প্রকল্প। ঢাকা ওয়াসার অপরিণামদর্শী এ প্রকল্প লেজেগোবরে অবস্থায় পড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পদ্মা থেকে পানি এনে ধলেশ্বরী এবং বুড়িগঙ্গা পার করে রাজধানীবাসীকে খাওয়ানো খুবই অবাস্তব প্রকল্প। এরপর ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে সেটার কী অবস্থা দাঁড়াবে, সেটা সহজে অনুমান করা যায়।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার পদ্মা (যশলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রজেক্টের পরিচালক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে অনেকে কিছু গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে, বাস্তবে যার কোনো ভিত্তি নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পের স্পেসিপিকেশন অনুযায়ী প্রকল্পের পাইপ না কিনে নিম্নমানের পাইপ কেনা হয়েছে। দুই হাজার কোটি টাকার পাইপ ক্রয়ে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। চুক্তি অনুযায়ী ২২ দশমিক ৫ মিলিমিটার পুরুত্বের পাইপ সরবরাহ করার শর্ত ছিল এবং ক্ষেত্র বিশেষে ১৯ দশমিক ২ মিলিমিটার পর্যন্ত বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে চীনা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে ১৯ মিলিমিটার পুরুত্বের পাইপ আমদানি করেছে ওয়াসা। এ বিষয়ে সংক্ষুব্ধ এক নগরবাসী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন। ১২ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দুদক অনুরোধ করেছে। কিন্তু, এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ তদন্ত শুরু করে সময় বাড়িয়ে নিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওয়াসার পদ্মা (যশলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ব্যয় ৩ হাজার ৫০৮ কোটি ৭৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেবে চায়না এক্সিম ব্যাংক। বাকি অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার ও ঢাকা ওয়াসা। ঋণের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংককে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হচ্ছে। প্রকল্পের সুবিধা না পেলেও শুরু থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ অর্থ রাজধানীরবাসীর কাছ থেকে পানির দাম বাড়িয়ে উঠানো হবে। পরবর্তী সময়ে আবার এ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

৫ জুলাই সরেজমিন, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীর পাড়সংলগ্ন যশলদিয়ায় ঢাকা ওয়াসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রজেক্ট ঘুরে এবং এলাকাবাসী, ঠিকাদার ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পের নানা অনিয়মের চিত্র জানা গেছে।

এক ঠিকাদার জানান, প্রকল্পের শুরুতে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলেও কিছুদিন পর থেকে খুবই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার শুরু করা হয়। এরপর থেকে মানহীন সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং ওয়াসার প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা একযোগে অনিয়ম করছেন।

১ নম্বর ধলেশ্বরী সেতু এলাকার মুদি দোকানদার মোহাম্মদ মানিক, দেলোয়ার হোসেন ও আবদুল হক যুগান্তরকে বলেন, ধলেশ্বরী নদীর কুচিয়া মোড়া অংশের ওয়াসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রজেক্টের পাইপ জাহাজের সঙ্গে বেঁধে ভেসে উঠে। পরে ওয়াসা সেখানে নতুন পাইপ স্থাপন করেছে। তারা জানান, এসব পাইপ নদীর তলদেশ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা না করায় এমন ঘটনা ঘটে।

যশলদিয়া মাদবর বাড়ীর মোড় এবং আশপাশের এলাকায় প্রকল্পের পাইপ স্থাপনের সময় কয়েকটি পাইপ ফেটে যায়। এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. মমিনুর রহমান ও আয়ুব আলী যুগান্তরকে বলেন, কয়েক মাস আগে এ এলাকায় পাইপ স্থাপনের সময় কয়েকটি পাইপ ফেটে যায়। যে মানের পাইপ দেয়ার কথা ছিল সে মানের পাইপ দেয়া হয়নি। এ কারণে পাইপগুলো ফেটে যায়। যশলদিয়ার মাদবর পাড়ার মজিবর রহমান জানান, এ এলাকায় নির্মিত ওয়াসার দোতলা ভবনটিতে ব্যবহারের আগেই ফাটল ধরেছে। ফাটলগুলো ওয়াসার ঠিকাদাররা নতুন করে সংস্কার করছেন। তিনি বলেন, নতুন ভবনের এ অবস্থা হলেও মাটির নিচ দিয়ে স্থাপিত পাইপে কত অনিয়ম করেছে তা সহজেই বোঝা যায়।

বর্তমানে রাজধানীতে দৈনিক ২৩০-২৩২ কোটি লিটার পানির চাহিদা রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর দৈনিক পানির উৎপাদন ক্ষমতা ২৪০-২৪২ কোটি লিটার। এরমধ্যে ভূ-গর্ভস্থ উৎস থেকে ৭৮ ভাগ এবং ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে ২২ ভাগ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে এ চিত্র পাল্টে দেয়ার লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সুদূর পদ্মা থেকে পানি শোধন করার প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। এ প্রকল্প থেকে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মক্কা-মদিনায় হাজিদের বাড়িভাড়া নিয়ে হজ অফিসের দুর্নীতির ফোনালাপ ফাঁস! (অডিও সহ)


পবিত্র মক্কা ও মদিনায় কমিশন ছাড়া কোনো দিনও বাড়িভাড়া নেয় না হজ অফিস। এমন অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ। এ বছরও কমিশন নিয়ে সিন্ডিকেট করে বাড়িভাড়া করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ।

জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি অডিও আলাপনে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আলাপনে শোনা যায়, রাষ্ট্রদূত মোবাইল/টেলিফোনে মূসার (সৌদি আরবে বাংলাদেশ কমিউনিটির একজন) কাছে এবার সৌদি আরবে হাজিদের বাড়িভাড়া কে করেছে, এবার ব্যবসাটা কে পেল- তা জানতে চাইছেন।

বিশেষ করে মদিনায় ‘আল আনসারির’ হোটেলের ব্যবসাটা কে পেল- তা তিনি জানতে চান মূসার কাছে। এ সময় মূসা বলেন, এবার হজ অফিস বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে। এ কথা শুনে গোলাম মসিহ বলেন, বাড়ি তো মালিকের কাছ থেকেই ভাড়া নেয়, জানতে চাচ্ছি মাঝখানের লোকগুলো কে, কারা।

ভিডিওঃ  ‘মক্কা-মদিনায় হাজিদের বাড়িভাড়া নিয়ে হজ অফিসের দুর্নীতির ফোনালাপ অডিও ফাঁস! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে মূসা বলেন, এবার মাঝখানে কেউ ছিল না।

এ কথা শুনে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, ‘শোন মূসা, এ কথা আমাকে বলো না, হজ অফিসাররা এত ফেরেশতা নয়, তোমরা এবার সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নিছ, আমি তো খবর পাইয়া যামু। কোন জমানায় ডাইরেক্ট ব্যবসা হইছে! তুমি আমারে কি শিখাইতাছ?’

আলাপনে গোলাম মসিহ আরও বলেন, ‘গতবার পর্যন্ত খালি কমপ্লেইন করছ, আমাকে বাড়িভাড়া নেয় না। এবার তোমরা কেউ বাড়ির ব্যবসা কর নাই? সবাই ফেরেশতা হইয়া গেলা। কোন জমানায় ডাইরেক্ট হইছে? আওয়ামী লীগের নাম ভাঙাইয়া সবাই ধান্ধাবাজি করে।’ এ কথা বলে তিনি লাইন কেটে দেন।

এরপর মূসা কলব্যাক করে আবার তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, বাড়িভাড়ার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এ সময় গোলাম মসিহ বলেন, ‘তুমি বুঝবা না কেন? ২৮ বছর মদিনায় আছ। কোনো দিন কমিশন ছাড়া বাড়িভাড়া নেয় হজ অফিস, আমারে বলো? কোনো দিন কমিশন ছাড়া নিছে। আজকা তোমরা সবাই ফেরেশতা হইয়া গেছ।’

তিনি আবার বলেন, ‘আমার কাছে রিপোর্ট আছে, সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নেয়া হইছে। না হলে আল আনসারির বাড়ি এমনিতেই ভাড়া অইয়া গেছে। তুমি কি মনে করো খবর পামু না? হজ অফিসারের গলা টিইপ্যা বাইর কইরা ফালামু।’ এভাবে চলতে থাকে তাদের কথোপকথন।

হজের বাড়িভাড়া নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি-না, এ ফোনালাপের সূত্র ধরে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘হজের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। একটা কমিটি হয়। তারা বাড়িভাড়ার বিষয়গুলো ঠিক করে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি জিজ্ঞেস করতে পারি, কে বাড়িভাড়া নিল বা কে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে? আমি সেটাই জানতে চেয়েছি। তবে যার কাছে জানতে চেয়েছি তিনি নিজেও কিছু জানেন না।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির সদস্য বা বাড়িভাড়ার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, তারা বিষয়টি বলতে পারবেন- যোগ করেন তিনি।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের বিএনপির নির্দেশ


বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। আজ শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অতিসম্প্রতি বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে ছেড়ে দেওয়া পানির ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে সেই বিষয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে বন্যাপীড়িত দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের সর্বস্তরেরে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

‘দলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ যে কমিটি আছে তাকে সক্রিয় করে দুর্গত এলাকায় ত্রান সমাগ্রি পাঠানোর কার্য্ক্রম শুরু করাও সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে’, যোগ করেন ফখরুল।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুটি দেশের অর্থনীতি, দেশের স্বাধীনতার ওপরে বড় রকমের চাপ সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে এই সমস্যা সমাধানে উপনীত হয়ে একটা প্রক্রিয়া শুরু করতে। আমরা দেখতে পারছি যে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার কোনো কার্য্করী উদ্যোগ নিতে পারছে না। তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম চীনে প্রধানমন্ত্রী গেলে যেখান থেকে একটা পজেটিভ কোনো এনসার পাবো সেটাও আমরা দেখতে পারছি না। আমরা বরঞ্চ দেখলাম যে, চীন তার একই অবস্থানেই আছে এবং সেখানে কোনো কনক্রিট কিছু আমাদের জন্য উপযোগী কোনো কথা চীনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা পাইনি। এ বিষয়ে আমরা কূটনীতিকদের ব্রিফিং করব এবং তার আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাবো।’

ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার ভেঙে পড়া প্রসঙ্গে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং সিস্টেমটা একেবারে ভেঙে পড়েছে। আপনারা দেখেছেন যে, তিনদিন আগে পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স কোম্পানিটিকে আমানতকারীদের ২৩৬ কোটি টাকা ফেরত না দিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে অবসান করেছে। সেটা নজিরবিহীন ঘটনা। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারি ও আমানতকারীরা চরম অনিশ্চয়তা মধ্যে পড়েছে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ বিষয়টি গোটা ব্যাংকিংয়ের যে সিস্টেমের একটা প্রতিকী ঘটনা। এইভাবে গোটা ব্যাংকিং সিস্টেম ভেঙে পড়েছে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এককভাবে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা না করে এবং ওই প্রতিষ্ঠানটি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্য্করী ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে পুঁজিবাজারের আমানতকারীসহ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার বিষয়ে ভবিষ্যতে দলীয় কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

স্থায়ী কমিটির সদস্যদের জন্য বৈঠকে ফোল্ডার

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। দলের স্থায়ী সদস্যদের কাছে বৈঠকের একদিন আগে বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্বলিত কাগজপত্রসহ একটি ফোল্ডার বিশেষ বার্তা প্রেরকের মাধ্যমে পাঠানো হয়। দলীয় মনোগ্রাম সম্বলিত একটি বড় ফোল্ডারের ভেতরে এসব কাগজপত্র থাকে। শনিবারের বৈঠকে সব সদস্যই ফোল্ডার হাতে নিয়ে বৈঠকস্থলে ঢুকেন।

বৈঠকে মহাসচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান প্রমুখ।

উৎসঃ বআমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ সাগরে বাংলাদেশী জেলেদের ইলিশ ধরা বন্ধ, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারতীয় জেলেরা (ভিডিও সহ)

বঙ্গোপসাগরে দেশীয় জেলেরা মাছ ধরতে না পারলেও ভারতীয় জেলেরা ট্রলিং ট্রলার নিয়ে সাগরের বয়া এলাকা থেকে পূর্বে কুয়াকাটা উপকুল পর্যন্ত দাপিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। গত ৭ জুলাই বঙ্গোপসাগরে কোষ্টগার্ডের অভিযানে ৩২ ফিসিং বোট সহ ৫ শতাধিক ভারতীয় জেলে আটক হয়েছে।

শরণখোলা ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, আমাদের ছোট ছোট ইঞ্জিন চালিত নৌকা ট্রলারের জেলেরা সুন্দরবনের দুবলারচর এলাকায় মাছ ধরার সময় গত কয়েকদিনে সাগরের বয়া এলাকায় অসংখ্য ভারতীয় ফিসিং ট্রলারের জেলেদের মাছ ধরতে দেখেছেন। আবহাওয়া খারাপ হলে ভারতীয় জেলেরা হিরণপয়েন্টের অদুরে ছোট খালে আশ্রয় নিয়ে থাকে বলে আবুল হোসেন জানান।

ভিডিওঃ  ‘বাংলাদেশী জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ হলেও বাংলাদেশের সীমানায় ভারতের ইলিশ উৎসব!’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

বাংলাদেশ ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী জানান, সাগরে বাংলাদেশ জলসীমায় অবৈধভাবে মাছ শিকার করা ভারতীয় জেলেদের নিত্যদিনের ঘটনা। ৬৫ দিনের অবরোধে আমাদের দেশীয় জেলেরা মাছ ধরতে না পারলেও ভারতীয়রা ঠিকই ধরে নিয়ে যাচ্ছে । যার জলজ্যান্ত প্রমাণ গত ৭ জুলাই পায়রা সমুদ্র বন্দরের অদুরে সাগরে মাছ ধরার সময় কোষ্টগার্ড ৩২ ফিসিং বোট সহ ৫ শতাধিক ভারতীয় জেলে আটকের ঘটনা। ঝড়ের কবলে পড়ে তারা এসেছে ভারতীয় জেলেদের এ দাবী তিনি নাকচ করে বলেন, তাই যদি হয় তা হলে তাদের নিদেন পক্ষে হিরণপয়েন্ট দুবলারচর আলোরকোল পর্যন্ত আসার কথা।

ফিসিংবোট এফবি খাইরুল ইসলামের মিস্ত্রি শরণখোলা উপজেলার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের মোঃ রফিক জানান, বরাবরের মত ভারতীয় ট্রলিং ট্রলার বঙ্গোপসাগরের বয়া এলাকা থেকে পূর্বে কুয়াকাটা উপকুল, সোনারচর, ঢালচর পর্যন্ত সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা অবাধে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় মাছ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তিনি গত ২২ জুন সাগরের সোনারচর এলাকায় শতাধিক ভারতীয় ফিসিং বোটকে মাছ ধরতে দেখেছেন। ওই সময় তিনি তার বোটের মবিল ফুরিয়ে যাওয়ায় ভারতীয় একটি বোট থেকে কয়েক লিটার মবিল চেয়ে নেন বলে রফিক মিস্ত্রি জানান।

ভিডিওঃ  ‘বাংলাদেশী জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ হলেও বাংলাদেশের সীমানায় ভারতের ইলিশ উৎসব!’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করায় শরণখোলাসহ উপকুলীয় এলাকার জেলে পল্লীগুলিতে হতাশার পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

অপরদিকে শরণখোলা, পাথরঘাটাসহ অন্যান্য এলাকার অনেক ফিসিংবোট বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মাছ শিকার করে শরণখোলা ও পাথরঘাটা মৎস্যঘাটে ফিরে এসে রাতের মধ্যেই মাছ ট্রাক বোঝাই করে খুলনা ও বরিশালের মোকামে চালান করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে চলেছেন। বিশেষ করে শরণখোলার মজিবর তালুকদার, বেলায়েত খান, ও আবুল হোসেনের ফিসিং বোট নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চোরাইভাবে সাগরে মাছ ধরছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে গত ৬ জুলাই রাঙ্গাবালীর কাছে সাগরে ৫/৬ টি ফিসিং বোট ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে গেছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার খবর তার জানা নেই খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘সরকারের পছন্দমতো রায় না লেখায় আমাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল’: এস কে সিনহা


জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করতেই ক্ষমতাসীন সরকার দুর্নীতির মামলা দায়ের করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

ঢাকায় সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হওয়ার একদিন পর ওই মামলা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ভিত্তিক মুক্ত গণমাধ্যম বেনারকে তিনি এই কথা বলেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম- রুল অব ল, হিউমেন রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’র সূত্র ধরে তিনি তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া অবিচারের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, “আমাকে ১৫ দিন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল।”

আত্মজীবনীতে সরকারের পছন্দমতো রায় লিখতে রাজি না হওয়ায় শেখ হাসিনা ও তাঁর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা এবং চাপ দিয়ে দেশত্যাগ ও পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন এস কে সিনহা।

বর্তমান সরকারের অধীনে ন্যায়বিচার আশা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি । “এটি অনৈতিক, অন্যায়। তারা আমাকে জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায়,” বেনারকে বলেন বিচারপতি সিনহা।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে সরকারের সাথে মতবিরোধ সৃষ্টি হয় এস কে সিনহার। এরই জের ধরে ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর প্রথমে ছুটি নিয়ে বিদেশ যান তিনি। পরে সেখান থেকেই রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত বিচারপতি সিনহা গত কয়েক দিন ধরে নিজের ছোট মেয়েকে দেখতে স্ত্রীসহ কানাডায় রয়েছেন। সেখান থেকে টেলিফোনে বেনারের সাথে কথা বলেন তিনি।

দুর্নীতি মামলা হওয়ার সংবাদটি তাঁর স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে তাঁকে বলেছেন জানিয়ে বিচারপতি সিনহা বলেন, “আমি হাসব না কাঁদব, সেটাই ভাবছি!”

ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে এই মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার সংস্থাটির জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ এ সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

বাংলাদেশে সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা এটাই প্রথম।

“আপনার কি মনে হয় আপনি এই মামলায় ন্যায়বিচার পাবেন?” বেনারের এমন প্রশ্নে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, “যখন আমি কর্মরত প্রধান বিচারপতি ছিলাম, তখনই ন্যায়বিচার পাইনি। তাহলে এখন কীভাবে আশা করব?”

তাঁকে চাপ ও হুমকি দেওয়ার জন্য সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও (ডিজিএফআই) আত্মজীবনীতে অভিযুক্ত করেন তিনি।

“শেষ পর্যন্ত, আমার পরিবারের ওপর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর চাপ ও হুমকির মুখে আমি দেশের বাইরে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেই,” আত্মজীবনীর ভূমিকায় জানিয়েছেন বিচারপতি সিনহা।

তবে তাঁর অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেছে সরকার।

আত্মজীবনী প্রকাশের প্রায় এক বছরের মাথায় তাঁর বিরুদ্ধে বুধবার দুর্নীতির দায়ে মামলা দায়ের করল দুদক। যদিও মামলাটি এখনো প্রাথমিক স্তরে রয়েছে বলে বেনারকে জানান দুদকের আইনজীবী খুরশেদ আলম খান।

“এটা একটা মানি লন্ডারিং মামলা। এটা তথ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই হয়েছে। এটা খুব ইনিশিয়াল স্টেজে আছে। এখন তদন্ত হবে, তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এটা সময়ের ব্যাপার,” বেনারকে বলেন খুরশেদ আলম।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বেনারকে বলেন, “আমরা আশা করব সাবেক প্রধান বিচারপতি ন্যায় বিচার পাবেন। ন্যায় বিচারে মাধ্যমেই তিনি দোষী কিংবা নির্দোষ সাব্যস্ত হবেন।”

দুর্নীতি মামলা

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে এ অনুসন্ধান শুরু হয়। ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে। পরে দায়িত্ব পেয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থার পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত দল। এর পরে দুদকের অনুমতিতে এই মামলাটি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

“দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন সাবেক বিচারপতি দুর্নীতি মামলার মুখোমুখি হলেন, এটা ভালো লক্ষণ নয় এবং বিচারব্যবস্থার জন্য এটা হুমকি,” বেনারকে বলেন সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, এসকে সিনহা নিজেই বলেছেন যে, তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়েননি। তাই এই মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

“দুদকের মানি লন্ডারিং মামলাগুলো সাধারণত তথ্য এবং রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে হয়। তাই এই মামলার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, এটা বলার সুযোগ নেই,” বেনারকে বলেন দুদক আইনজীবী খুরশেদ আলম।

উৎসঃ justnewsbd

আরও পড়ুনঃ ‘বিচারকদের আতঙ্কে রাখতেই সিনহার বিরুদ্ধে মামলা’


বিচারকদের আতঙ্কে রেখে স্বাধীনভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করতে না দেয়ার উদ্দেশ্যেই সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করা হয়েছে। এটা একটি থ্রেট বা হুমকি, যাতে সরকারের বাইরে বিচার বিভাগ যেতে না পারে এমনটি মনে করেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক দু’জন সভাপতি ও বর্তমান সম্পাদক। তারা সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদকের এ মামলার তীব্র নিন্দা জানান। সেইসাথে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত করতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিচারপতি এস কে সিনহা একটি দেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়। সেটা অনেক দিন আগের ঘটনা। এখন তার বিরুদ্ধে যা করা হচ্ছে তা মানুষ বিশ্বাস করছে না। তারা মনে করছে এটা প্রতিহিংসার কারণে করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, এটা একটি থ্রেট বা হুমকি, যাতে সরকারের বাইরে বিচার বিভাগ যেতে না পারে। অতীতে একজন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এত দিন তার বিরুদ্ধে কী দুর্নীতি পেল তা প্রকাশ করা হয়নি। এর কিছুই আমরা জানি না।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় সরকারের পক্ষে রাখার জন্য এবং বিচারপতিরা যাতে স্বাধীনভাবে রায় দিতে না পারে তাদের মনে ভীতি সঞ্চার করার জন্যই সরকার প্রভাব খাটিয়ে এ মামলা করেছে। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদকের এ মামলার তীব্র নিন্দা জানান। সেইসাথে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত করতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিলের রায় নিয়ে মূলত সরকারের সাথে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে তার কিছু পর্যবেক্ষণও ভালোভাবে নেয়নি সরকার। সরকারি দল ও জোটের নেতারা সংসদে এস কে সিনহাকে উদ্দেশ করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। পরে রাষ্ট্রযন্ত্র জোরপূর্বক গৃহবন্দী করে তাকে অসুস্থ বলে দেশ ত্যাগে বাধ্য করে।

উল্লেখ্য, ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এস কে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই বুধবার দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।

বিচারপতি এস কে সিনহা ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো: শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

ফারমার্স ব্যাংকের দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির ‘প্রমাণ’ পাওয়ার কথা গত বছর অক্টোবরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। পরে বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বলে ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here