কেন এবং কিভাবে আওয়ামীলীগ থেকে ড. কামাল হোসেন বেরিয়ে এসেছিলেন? বিবিসির প্রতিবেদন!

0
152

১৯৯১ সালের নির্বাচন। সে নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেল বিএনপি ১৪০ আসনে জয়লাভ করলেও আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছিল ৮৮ আসনে।

নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা নির্বাচনে ‘সূক্ষ্ম কারচুপির’ অভিযোগ এনছিলেন। সে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন । খবর বিবিসি’র।

শেখ হাসিনা নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ আনলেও ড. কামাল হোসেন তখন এক সাক্ষাতকারে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ড. কামাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তার আত্মজীবনী বিপুলা পৃথিবী বইতে লিখেছেন, এর জের ধরে ড. কামাল হোসেনের গাড়ি আক্রান্ত হয় এবং তিনি কটুকাটব্যের শিকার হন।

দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেয়া এক চিঠিতে ড. হোসেন নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে দলীয় কোন্দল এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন।

এর ফলে তার এবং শেখ হাসিনার মধ্যকার দূরত্ব অনেকটা প্রকাশ্য হয়ে উঠে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে ড. কামাল হোসেনের পক্ষে তখন আওয়ামী লীগে টিকে থাকা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল।

দলীয় বিভিন্ন ফোরামে তিনি ক্রমাগত তোপের মুখে পড়ছিলেন। সে সময়ের পত্র-পত্রিকা দেখলে এ ধারণাই পাওয়া যায়।

সে সময় আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে আকস্মিকভাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সবগুলো জেলার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দেন।

সে চিঠিতে তিনি দলের ভেতর ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে সজাগ থাকার জন্য সতর্ক করে দেন। শেখ হাসিনা সে চিঠিতে লেখেন, ‘একটি মুখোশ-ধারী চক্র দলে ফাটল ধরাবার চেষ্টা করছে।… নানা কৌশলে, সস্তা, সেন্টিমেন্টমূলক বক্তব্য দিয়ে প্রকাশ্যে -অপ্রকাশ্যে আজ আমার ও আওয়ামী লীগের ইমেজকে খাটো করা হচ্ছে।’

সে চিঠিতে কারো নাম উল্লেখ না করা হলেও, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ধরে নিয়েছিলেন যে ড. কামাল হোসেন সে চিঠির লক্ষ্যবস্তু।

১৯৯২ সালের মার্চ মাসের প্রথম দিকে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে বর্ধিত সভায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ড. কামাল হোসেন।

ড. হোসেন হয়তো বুঝতে পারছিলেন তাকে ভিন্ন পথ দেখতে হবে। সেজন্য তিনি নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি মঞ্চ তৈরির চিন্তা-ভাবনা করতে থাকেন।

গণতান্ত্রিক ফোরাম গঠন
১৯৯২ সালের জুন মাসে ড: কামাল হোসেন গণতান্ত্রিক ফোরামের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন। সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড. মোজাফফর আহমেদ, প্রফেসর রেহমান সোবহান, প্রফেসর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামসহ আরো অনেকে।

তবে এই গণতান্ত্রিক ফোরাম নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে বেশ অস্বস্তি ছিল। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হবার পরেও কেন ড. হোসেন গণতান্ত্রিক ফোরাম গঠন করলেন সেটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে।

ড. হোসেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে তিনি অনুরোধ করেছিলেন যাতে তার এই উদ্যোগে সাথে যুক্ত হন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের আত্মজীবনী বিপুলা পৃথিবী বইয়ে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

ড: কামাল হোসেনের উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত হতে রাজী হননি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। তিনি লিখেছেন, ‘আমার অনিচ্ছার কথা তাদের জানালে কামাল একদিন এ-বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেন। তার চেম্বারে বসে দেড় ঘণ্টা আলোচনা হয়। আমি কামালকে বলি, তিনি রাজনীতিবিদ, আজ যে অরাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলছেন, কাল তা রাজনৈতিক সংগঠনে রূপান্তরিত করতে তিনি ইচ্ছুক হবেন।…. গণতান্ত্রিক ফোরাম রাজনৈতিক দল হলে আমি তাতে থাকতে পারবো না। এখন যোগ দিয়ে পরে বেরিয়ে আসার চেয়ে বরঞ্চ গোড়া থেকেই আমার পক্ষে বাইরে থাকা ভালো’।

অনেকে ধারণা করছিলেন যে ড. কামাল হোসেনের গণতান্ত্রিক ফোরাম একটি রাজনৈতিক দলে রূপ নিতে পারে। শুরুর দিকে ড. হোসেন এ ধারণাকে খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, এটি শুধুই নাগরিকদের ফোরাম।

কিন্তু কামাল হোসেনের গণতান্ত্রিক ফোরাম নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা সমালোচনামূখর হয়ে উঠেন। তার বিরুদ্ধে দলীয় ভাবমূর্তি নষ্টের অভিযোগ তোলা হয়।

এ ধরণের ফোরাম না করার জন্য ড. কামাল হোসেনকে নিষেধ করা হলেও তিনি তাতে কান দেননি। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ তাদের কাউন্সিল অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে থাকে।

সে সময় বেশ জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়ে যে কাউন্সিলের পর ড. কামাল হোসেন নতুন দল গঠন করবেন। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছিল। কাউন্সিলের কিছুদিন আগে দৈনিক ভোরের কাগজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গণতান্ত্রিক ফোরাম আওয়ামী লীগের বিকল্প নয়।

সে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ফোরাম কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। … যারা গণতান্ত্রিক ফোরাম নিয়ে আপত্তি করছে, তারা না বুঝেই করছে।’

একই দিন আওয়ামী লীগের তখনকার প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বিরোধী দলীয় উপনেতা আব্দুস সামাদ আজাদও একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ভোরের কাগজ পত্রিকাকে।

সে সাক্ষাৎকারে আজাদ গণতান্ত্রিক ফোরাম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘ড: কামাল কেন গণতান্ত্রিক ফোরাম করেন আমি বুঝি না, আমরা তো চাই উনি পার্টি করুক, আওয়ামী লীগ করুন।’

কাউন্সিলের আগে তিনি বিদেশে চলে যান। তখন কারো বুঝতে সমস্যা হয়নি যে ড. কামাল হোসেন কাউন্সিল এড়িয়ে যেতে চাইছেন। প্রেসিডিয়াম থেকে ড. কামাল হোসেনের বাদ পড়া

১৯৯২ সালের ১৯ এবং ২০ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সে কাউন্সিলে জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। কিন্তু দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যের পদ থেকে বাদ পরেন ড: কামাল হোসেন।

ড: কামাল হোসেনকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়। কিন্তু তিনি তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ড, কামাল হোসেনকে জিজ্ঞেস না করেই তাকে উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

বিষয়টি নিয়ে তিনি শেখ হাসিনার কাছে একটি চিঠি দেবার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন বলে জানা যায়। তখন গুঞ্জন এরা জোরালো হয় ড: কামাল হোসেন আর আওয়ামী লীগে থাকছেন না।

সে সময়ের খবরের কাগজ দেখে মনে হচ্ছিল ড. হোসেন এ ধরণের পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে তৈরি ছিলেন। কাউন্সিলের পর ড. কামাল হোসেন ভয়েস অব আমেরিকা রেডিওকে একটি সাক্ষাতকার দেন।

সে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি গণতন্ত্রায়ণের মাধ্যমে হলে ভালো হতো। এমন অবস্থায় ড. হোসেনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে আসার গুঞ্জন আরো জোরালো রূপ নিয়েছে।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাদের সাথেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন তিনি। এ অবস্থায় কিছুদিন অতিবাহিত হয়। নিজের অবস্থান তুলে ধরে ড. কামাল হোসেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখতে পারেন- এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছিল।

সে সময় ঢাকার মিরপুরে একটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছিল। সংবাদ মাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা হচ্ছিল যে ড. কামাল হোসেনকে উপনির্বাচনে মনোনয়ন দিতে পারে আওয়ামী লীগ।

এর আগের নির্বাচনে এই একই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ড. কামাল হোসেন বিএনপির হারুন মোল্লার কাছে ২০০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ড. কামাল হোসেনকে মনোনয়ন না দিয়ে কামাল আহমেদ মজুমদারকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয় আওয়ামী লীগ। তখন দল থেকে ড. কামাল হোসেন দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

গণফোরাম গঠন
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফোরামে তখন ড. কামাল হোসেনকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা। দলের কোন-কোন নেতা ড. কামাল হোসেনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করার পক্ষে মত দিচ্ছেন।

১৯৯৩ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী সংসদের এক সভায় তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিম দাবি তোলেন যে ড. কামাল হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

সে রকম এক সভায় দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে ভোরের কাগজ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমাদের মধ্যে উদারতার কোন অভাব নেই। গত ২ বছরে আমি নিজেও তার সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছি। বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন উদ্যোগে সাড়া দিয়েছি। কিন্তু তিনি কথা দিয়েও বৈঠকে আসেননি।সাড়া দেননি।’

এর কিছুদিন পর ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক দল গড়ার উদ্যোগ সামনে আসে। তিনি যাদের সাথে আলোচনা করেন, তাদের মধ্যে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাও ছিলেন। ড: হোসেনর ধারণা ছিল যে আওয়ামী লীগের ভেতরে তার বেশ জনপ্রিয়তা আছে।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তার বিপুলা পৃথিবী বইতে লিখেছেন, ‘তারা কামালকে এমন ধারণা দেন যে, তিনি কোন বিকল্প সংগঠন গড়ে তুললে তারাও তাতে যোগ দেবেন। তেমন ইচ্ছে হয়তো এদের অনেকের আদৌ ছিল না। কামাল আওয়ামী লীগ ছাড়লে দলের মধ্যে নিজেদের গুরুত্ব বাড়বে, এমন কথা হয়তো তাদের মনে ছিল। কামাল ধরে নেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে তার বড়ো রকম সমর্থন আছে’।

১৯৯৩ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিকে গণতান্ত্রিক ফোরামের তিন দিন-ব্যাপী জাতীয় মহাসম্মেলন আহবান করা হয়। সে সম্মেলনের মাধ্যমে ড. কামাল হোসেন নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেবেন, সেটি অনেকটা পরিষ্কার হয়েছিল।

এ সম্মেলনের মাধ্যমে ১৯৯৩ সালের ২৯ আগস্ট রাজনৈতিক দল গণফোরাম গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। এর আগে সকালে ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। তার পদত্যাগের চিঠি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়।

তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির সংস্কার-বাদী অংশ, পংকজ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ন্যাপ এবং শাহজাহান সিরাজের নেতৃত্বে জাসদ-এর একটি অংশ গণফোরামের সাথে একত্রিত হয়ে যায়।

এছাড়া রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গণফোরামের সাথে সম্পৃক্ত হন। ড: হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরামের সাথে সম্পৃক্ত হন সিপিবি নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক, ন্যাপ নেতা পংকজ ভট্টাচার্য, ব্যরিস্টার আমিরুল ইসলাম, আবুল মাল আব্দুল মুহিত (বর্তমান অর্থমন্ত্রী), শাহজান সিরাজ (পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী)।

মোস্তফা মহসিন মন্টুর বহিষ্কার ও ড. কামাল হোসেনের অবস্থান
১৯৯২ সালের মে মাসে মোস্তফা মহসিন মন্টুকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। মন্টু ছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান। এর আগে বাদল হত্যার সাথে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।

তাকে সাসপেন্ড করার পর মন্টু আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের যে বৈঠকে মোস্তফা মহসিন মন্টুকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেখানে মন্টুর পক্ষে ছিলেন ড: কামাল হোসেন এবং তোফায়েল আহমেদসহ চারজন। মন্টুকে বহিষ্কারাদেশের বিপক্ষে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন তারা।

মোস্তফা মহসিন মন্টুকে যখন প্রথমে সাসপেন্ড করা হয়, তখন তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশের সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডেয়াম সদস্য জোহরা তাজউদ্দীন। সেখানে তিনি বলেন, মন্টুকে অরাজনৈতিক-ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সেখানে জোহরা তাজউদ্দীনের অংশগ্রহণ নিয়ে দলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। কেউ-কেউ তাকে বহিষ্কারের দাবি তোলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা তাতে সায় দেননি।

মোস্তাফা মহসিন মন্টুকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের কিছুদিন পরেই ড. কামাল হোসেনও আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে আসেন।

ড: কামাল হোসেন যখন গণফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন সে সময় মোস্তফা মহসিন মন্টুও সাথে ছিলেন। মন্টু বর্তমানে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক।

সুত্রঃ বিবিসি, আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনাকেও নাইকো মামলায় আদালতে হাজির করা হোকঃ বেগম খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। কাজেই তাকেও এখানে হাজির করা উচিত।

বৃহস্পতিবার নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানিতে আদালতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল আজ। শুনানি শেষে এই আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবির আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন। ঢাকা বিশেষ আদালত-৯–এ এই মামলার বিচারকাজ চলছে।

শুনানিতে খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। কাজেই তাকেও এখানে হাজির করা উচিত।

এ সময় বিচারক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মামলার আসামি নন। কাজেই তাকে এখানে হাজির করানোর কোনো প্রশ্ন ওঠে না।’

এরপর এই মামলার অন্যতম আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন। প্রথমে মওদুদ আহমদ আজ শুনানি না করার জন্য আদালতে একটি দরখাস্ত করেছিলেন। কিন্তু আদালত সে দরখাস্ত নামঞ্জুর করে তাকে শুনানিতে অংশ নিতে নির্দেশ দেন।

বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে কারাগারে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। তিনি বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

হাসপাতাল থেকে আজই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে আদালতে আনা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে খালেদা জিয়াকে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছিলেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেওয়ার’ মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন। আসামিপক্ষ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করলে হাইকোর্ট ওই বছরের ৯ জুলাই এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং রুল দেন।

প্রায় সাত বছর পর ২০১৫ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। পরে ওই বছরের ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আমিনুল ইসলাম ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার চত্বরে স্থাপিত বিশেষ আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি আজকের মতো শেষ হয়েছে। আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী বুধবার দিন রেখেছেন।

সুত্রঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ছাড়পত্র দিতে চাপ, খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ভয়ঙ্কর চক্রান্ত’

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘তাঁর চিকিৎসার জন্য আদালতের নির্দেশনা ও মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশকে লঙ্ঘন করে সরকার দেশনেত্রীকে আজ হাসপাতাল থেকে কারাগারে প্রেরণ করেছে। তাঁর চিকিৎসা শুরুই হয়নি, কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, আর সেই মূহূর্তে দেশনেত্রীকে কারাগারে প্রেরণ করার উদ্যোগ শুধু মনুষ্যত্বহীন কাজই নয়, এটি সরকারের ভয়ঙ্কর চক্রান্ত।’

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার ডাক্তার ও তাঁর জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য সৈয়দ আতিকুল হকের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন, ডাক্তার আতিক বেগম জিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছুটির ছাড়পত্র দেননি এবং মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাক্তার জলিলুর রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে, এমতাবস্থায় সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেগম জিয়ার ছাড়পত্র দিতে বাধ্য করতে চাপ সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ বেগম জিয়ার জীবনকে বিপন্ন করার অথবা শারীরিকভাবে চিরতরে পঙ্গু করার চক্রান্ত সরকারের কুৎসা সঞ্চারিত মনের বিকার।’

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া সুস্থ হোক, এটি বিদ্বেষপ্রবণ সরকার কখনো চায় না। বেগম জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে লাগামছাড়া ক্রোধে এই অবৈধ শাসকগোষ্ঠী এখন তাঁর জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এটি শেখ হাসিনার হিংস্র আচরণেরই চরম বহিঃপ্রকাশ। অহংকার, উন্মত্ততা, হিংসা ও দখলকৃত ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নির্লজ্জ লড়াই চালাতেই বিচার বুদ্ধি হারিয়ে সরকার বেগম জিয়ার জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের সৌজন্যবোধ ও হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছে বলেই দেশের বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী বেগম জিয়ার ওপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নিপীড়ন।’

রিজভী বলেন, ‘সরকারের পাতানো পথে বিরোধী দলকে নির্বাচন করতে বাধ্য করানোর জন্যই সরকার দেশনেত্রী বেগম জিয়াকে নিয়ে নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে। তাঁর চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারকেও কেড়ে নিয়েছে সরকার। চিকিৎসা শেষ না করেই পিজি হাসপাতাল থেকে দেশনেত্রীকে কারাগারে প্রেরণের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

এসয় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘দেশনেত্রীর চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি রাখতে হবে, অন্যত্থায় জনগণ আর বসে থাকবে না, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিপর্যস্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করতে এবারে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে হলেও প্রতিরোধ করবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে সংলাপকালে কথা দিয়েছিলেন-নতুন মামলা দেয়া হবে না, গ্রেফতার করা হবে না এবং প্রকৃত রাজবন্দিদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের কোনো প্রমাণ মেলেনি।’

‘গতকালের সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমিও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের চিরুনী অভিযান চালিয়ে ছেঁকে ধরা হয়েছে, তার জন্য।’

এসময় বিএনপির এই মুখপাত্র প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সংলাপ কি তাহলে চূড়ান্ত আক্রমণের পূর্বে কিছুটা সময়ক্ষেপণ? তা না হলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করার অঙ্গীকার করার পরও এতো তাণ্ডব, এতো পাইকারী গ্রেফতার! সরকার কি তাহলে প্রতারণা ফাঁদ তৈরি করেছে? প্রধানমন্ত্রী অতিতের মতো বলেন একটা, কিন্তু কাজ করেন অন্যটা।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মো. আবু জাফর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুত্রঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ আ.লীগের ২ টার্গেট: হয়তো ক্ষমতা দখল নয়তো নিরাপদ প্রস্থান!

 

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে বিরোধীদল গুলোর সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংলাপ বুধবার শেষ হয়েছে। চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দুই দফা সংলাপ করেও কোনো সমাধান আসেনি। সরকার তাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোই মানেনি। দাবি আদায়ে এখন তারা আন্দোলনের পথেই হাটার ঘোষণা দিয়েছে। এসব নিয়ে এখন দেশের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে, আগামী নির্বাচন নিয়ে সংলাপে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় ২০০৬ ও ২০১৪ সালের মতো রাজনীতিতে আবারো বড় ধরণের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন বিশিষ্টজনেরা। অপরদিকে, বিরোধীদলগুলোর মতামত উপেক্ষা করেই বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা জাতির দেয়া ভাষণের পর তফসিল ঘোষণা করবেন। এই তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দেশে সংঘাতের সূচনা হতে পারে বলেও মনে করছেন সচেতন মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্টের দাবি না মানা ও তড়িগড়ি করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পেছনে আওয়ামী লীগের দুইটি উদ্দেশ্য রয়েছে।

প্রথমত: আগামী নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপিকে এমন সুযোগ করে দেবে না যাতে তারা ক্ষমতায় আসতে পারে। শেখ হাসিনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি কোনোভাবেই ড. কামাল, আ স ম রব, মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিএনপিকে ক্ষমতায় বসতে দেবেন না। শেখ হাসিনার কাছে তথ্য আছে, বর্তমানে বিএনপি, খালেদা জিয়া ও তার পরিবার যে চরম সংকটে পড়েছে, ক্ষমতার পালাবদল হলে শেখ হাসিনা, তার পরিবার এবং দলকেও এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

এমনকি শেখ হাসিনার উপদেষ্টারা তাকে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারলে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০০৬ সালের পল্টন হত্যাকাণ্ড, জামায়াত নেতাদের ফাঁসি, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাবেক সেনা কর্মকর্তা আমান আযমী ও ব্যারিস্টার আরমানসহ শত শত নেতাকর্মীকে গুম-অপহরণের দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এরপর দুর্নীতি, লুটপাটতো আছেই। তাই শেখ হাসিনার প্রথম টার্গেট হলো ক্ষমতা ধরে রাখা। সংসদ ভেঙ্গে তিনি নির্বাচন দেবেন না।

দ্বিতীয়ত: ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলনের মুখে এবং আন্তর্জাতিক চাপে যদি ক্ষমতা ধরে রাখতে না পারে তাহলে নিরাপদ প্রস্থানের জন্য সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। জানা গেছে, সেনা প্রধান আজিজকে শেখ হাসিনা বলেও দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আপনাদেরকে হাল ধরতে হবে। আর আমাদের সকল নেতাকর্মীকে নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

এখন এই দুই টার্গেট নিয়েই সামনে এগুচ্ছে আওয়ামী লীগ। নিরাপদ প্রস্তানের জন্য যেটাকে সহজ মনে করছে সেই পথেই হাটবে আওয়ামী লীগ।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‘খুবই সহজ-খুবই কঠিন’ খালেদা জিয়ার মুক্তি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনুষ্ঠিত সংলাপকে কেন্দ্র করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

আইনজীবীদের একপক্ষ বলছে, কারামুক্তির বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এবং এটা খুবই সহজ কাজ। অন্যপক্ষ বলছে, এটা পুরোপুরি আদালতের ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষ বা সরকারের করণীয় কিছুই নেই। সে ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তির বিষয়টি ‘খুবই সহজ’ আবার ‘খুবই কঠিন’ এমন একটি অবস্থায় দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা হওয়ার পর থেকেই কারাবন্দি রয়েছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন মামলার বিচার শেষে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে হাইকোর্ট গত ৩০ অক্টোবর তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও প্রায় ৩৬-৩৭টি মামলা বিচারাধীন। বিএনপি নেতা ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার এসব মামলা রাজনৈতিক দাবি করে, নির্বাচনের আগেই আইনি প্রক্রিয়ায় তার কারামুক্তি চেয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার মধ্যেও এক দফা হচ্ছে খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।

এ অবস্থায় তার কারামুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, খালেদা জিয়ার আইনিভাবে মুক্তির বিষয়টি খুবই সোজা। ফৌজদারি মামলায় পক্ষ দুটির একটি রাষ্ট্র; অন্যটি আসামিপক্ষ। রাষ্ট্র প্রমাণ করার চেষ্টা করে আসামি দায়ী। সেই রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যদি জামিনের বিরোধিতা না করে সে ক্ষেত্রে জামিনের মাধ্যমে কারামুক্তি সম্ভব। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে জামিনের প্রার্থনা করলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অর্থাৎ মামলা সুপ্রিমকোর্টে হলে অ্যাটর্নি জেনারেল ও তার সহকর্মী এবং মামলা নিম্ন আদালতে হলে পাবলিক প্রসিকিউটর ও তার সহকর্মীরা জামিনের বিরোধিতা না করলে সাধারণত আদালত জামিনের প্রার্থনা মঞ্জুর করেন। বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষে তার কারামুক্তি দেওয়া একেবারেই সম্ভব নয়। সম্ভব হলো আইনের মাধ্যমে, আদালতের মাধ্যমে। কারণ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে তার সাজা হয়েছে। দীর্ঘদিন আদালতে শুনানি হয়েছে। তথ্য-প্রমাণ বিবেচনায় আদালত সাজা দিয়েছে। হাইকোর্ট আপিলে তার সাজা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছে। এগুলো সবই আদালতের ব্যাপার। আদালতের মাধ্যম ছাড়া তার মুক্তি সম্ভব নয়।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতা করা-না করাটা কোনো ব্যাপার না। হাইকোর্ট পাঁচ বছরের সাজাকে ১০ বছর করে রায় দিয়েছেন। সেখানে রাষ্ট্র কীভাবে বলবে, তার মুক্তি দিতে। এটা করলে অন্যসব মামলায়ও এর প্রভাব পড়বে। রাষ্ট্র বা দুদক সব ফৌজদারি মামলার বাদী। সে ক্ষেত্রে যারা অপরাধ করে তাদের আইনের আওতায় আনাই দুদক ও রাষ্ট্রের কাজ। এখানে ব্যক্তিগত কিছু না। তাই সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে তার মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বা সরকারের করণীয় কিছু নেই।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন বলেন, খালেদা জিয়া এখন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার কারামুক্তি আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সম্ভব নয়। আর এটা নির্ভর করছে আদালতের ওপর। প্যারোলে কারামুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, প্যারোলের বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন। প্যারোলে মুক্তি পেতে হলে, তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আবেদন করতে হবে। এ ধরনের মুক্তির ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কারও নিকটাত্মীয় মারা গেলে মানবিক কারণে প্যারোলে মুক্তি পেতে পারে। এ ছাড়া দেশে চিকিৎসা সম্ভব না হলে মেডিক্যাল বোর্ড যদি বিদেশে পাঠানোর সুপারিশ করে সে ক্ষেত্রে প্যারোল হতে পারে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সরকার বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। এর প্রমাণ হলো মানি লন্ডারিং মামলায় আদালত তারেক রহমানকে খালাস দিয়েছিল। সেই বিচারককে ধরার জন্য দুদক ও পুলিশ উঠে-পড়ে লাগে। বাধ্য হয়ে সেই বিচারক দেশত্যাগ করে। সরকারের কারণে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাও। এসব ঘটনা কারও অজানা নয়। তাই বলব, সরকার প্রভাব বিস্তার না করলে খালেদা জিয়া অনেক আগেই কারামুক্তি পেয়ে যেতেন। সরকার ইচ্ছে করলেই যে কোনো সময় খালেদা জিয়ার কারামুক্তি সম্ভব। তার কারামুক্তি সরকারের ওপর নির্ভর করছে।

উৎসঃ আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ছাড়পত্র দিতে চাপ, খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ভয়ঙ্কর চক্রান্ত’


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘তাঁর চিকিৎসার জন্য আদালতের নির্দেশনা ও মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশকে লঙ্ঘন করে সরকার দেশনেত্রীকে আজ হাসপাতাল থেকে কারাগারে প্রেরণ করেছে। তাঁর চিকিৎসা শুরুই হয়নি, কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, আর সেই মূহূর্তে দেশনেত্রীকে কারাগারে প্রেরণ করার উদ্যোগ শুধু মনুষ্যত্বহীন কাজই নয়, এটি সরকারের ভয়ঙ্কর চক্রান্ত।’

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার ডাক্তার ও তাঁর জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য সৈয়দ আতিকুল হকের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন, ডাক্তার আতিক বেগম জিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছুটির ছাড়পত্র দেননি এবং মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাক্তার জলিলুর রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে, এমতাবস্থায় সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেগম জিয়ার ছাড়পত্র দিতে বাধ্য করতে চাপ সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ বেগম জিয়ার জীবনকে বিপন্ন করার অথবা শারীরিকভাবে চিরতরে পঙ্গু করার চক্রান্ত সরকারের কুৎসা সঞ্চারিত মনের বিকার।’

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া সুস্থ হোক, এটি বিদ্বেষপ্রবণ সরকার কখনো চায় না। বেগম জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে লাগামছাড়া ক্রোধে এই অবৈধ শাসকগোষ্ঠী এখন তাঁর জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এটি শেখ হাসিনার হিংস্র আচরণেরই চরম বহিঃপ্রকাশ। অহংকার, উন্মত্ততা, হিংসা ও দখলকৃত ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নির্লজ্জ লড়াই চালাতেই বিচার বুদ্ধি হারিয়ে সরকার বেগম জিয়ার জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের সৌজন্যবোধ ও হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছে বলেই দেশের বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী বেগম জিয়ার ওপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নিপীড়ন।’

রিজভী বলেন, ‘সরকারের পাতানো পথে বিরোধী দলকে নির্বাচন করতে বাধ্য করানোর জন্যই সরকার দেশনেত্রী বেগম জিয়াকে নিয়ে নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে। তাঁর চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারকেও কেড়ে নিয়েছে সরকার। চিকিৎসা শেষ না করেই পিজি হাসপাতাল থেকে দেশনেত্রীকে কারাগারে প্রেরণের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

এসয় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘দেশনেত্রীর চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি রাখতে হবে, অন্যত্থায় জনগণ আর বসে থাকবে না, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিপর্যস্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করতে এবারে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে হলেও প্রতিরোধ করবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে সংলাপকালে কথা দিয়েছিলেন-নতুন মামলা দেয়া হবে না, গ্রেফতার করা হবে না এবং প্রকৃত রাজবন্দিদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের কোনো প্রমাণ মেলেনি।’

‘গতকালের সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমিও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের চিরুনী অভিযান চালিয়ে ছেঁকে ধরা হয়েছে, তার জন্য।’

এসময় বিএনপির এই মুখপাত্র প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সংলাপ কি তাহলে চূড়ান্ত আক্রমণের পূর্বে কিছুটা সময়ক্ষেপণ? তা না হলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করার অঙ্গীকার করার পরও এতো তাণ্ডব, এতো পাইকারী গ্রেফতার! সরকার কি তাহলে প্রতারণা ফাঁদ তৈরি করেছে? প্রধানমন্ত্রী অতিতের মতো বলেন একটা, কিন্তু কাজ করেন অন্যটা।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মো. আবু জাফর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুত্রঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ তফসিল ঘোষণার পর পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করবে বিএনপি

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদক পর্যায়ের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে, আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া, আগামীকাল তফসিল ঘোষণা হলে পরবর্তিতে কি করণীয় ও আগামী আন্দোলনের পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া হয় বলে হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। সেই সাথে, আগামীকাল নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করা হবে বলেও জানা যায়।

বুধবার (৭নভেম্বর) রাজধানীর গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিকেল ৩টা থেকে পর্যায়ক্রমে রাত প্রায় সাড়ে নয়টা পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে নেতারা বলেন, বেগম জিয়াকে মুক্ত করেই আগামী নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে সবাই ঐক্যমত। তবে, আলোচনা সফল না হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই বলে সকলেই তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

এর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামীকাল তফসিল ঘোষনা তারিখ রয়েছে, তফসিল ঘোষণার হলে আমরা আমাদের রোডমার্চের সিদ্ধান্ত নেবো। আপাতত রোডমার্চ স্থগিত। আগামীকাল তফসিল ঘোষণা ও যেসব জেলার উপর দিয়ে রোর্ডমার্চ যাবে সেখানকার নেতাকর্মীদের মামলা, গ্রেফতার হওয়ার বিষয়গুলোর করণেই মূলত কালকের রোর্ডমার্চ স্থগিত করেছি।

তিনি বলেন, দু’দফা সংলাপে মূল বিষয়গুলোতে কোন ফলাফল পাইনি, আবারো আলোচনার কথা বলেছি। দেখা যাক কি হয়। তাছাড়া চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবেই সংলাপে যাওয়া, আমার বলেছি আলোচনার কথা তারা সময় বের করেবেন এবং কিছুটা রাজিও হয়েছেন তারা।

এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বলেছেন, রাস্তা বন্ধ করবেননা, মাঠে সমাবেশ করুন কাউকে গ্রেফতার করা হবেনা, কিন্তু গতকালের জনসভা শেষে অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার করা হয়েছ। প্রধানমন্ত্রী বলেন একরকম, তার নিচের লোকেরা কাজ কর্ম করেন আরেক রকম। গাড়ি চলছে উল্টোপথে, দেশ চলছে উল্টোপথে।

বৈঠক শেষে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলনও চলবে নির্বাচনও চলবে। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনের আগে বেগম জিয়ার মুক্তি। আমরা চাই বেগম জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে যেতে।

বৈঠকে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আব্দুল মঈন খান। ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আব্দুল্লাহ -আল নোমান, ডাকসুর ভিপি আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব।

সুত্রঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের ক্ষমতার বিড়ম্বনা, সামনে কি হতে যাচ্ছে?

ঐক্যফ্রন্ট মূলত একটি ভাল সুযোগ ছিল এই দানবীয় ক্ষমতার পাগলা বাঘের পিঠ থেকে নেমে রাজনীতির মাঠে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য।

সরকারের মনে এই ধারণা কি করে তৈরি হল তা সহজেই বুঝা যায়। সরকার মনে করে, নিরপেক্ষ নির্বাচন আর লীগের ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া দুটো একই জিনিস। তার মানে এই ফ্যাসিবাদ এতো দিন মিথ্যার উপর ভর করে চললেও এখন প্রকাশ্যে জনগেণের সাথে যুদ্ধে নামতে হবে।
১.
পরপর দু’টি সংলাপ ব্যর্থ হওয়া ও জনগণের সামনে বোকার মত নাটক করে দেশকে নিজেদের হাতে জিম্মি করে রাখার যে আয়োজন তা যে কোন মূল্যে জারি রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। আর এই ফ্যাসিবাদের সমর্থন যোগাতে আছে পোষ্য মিডিয়া, বিবেকহীন বুদ্ধিজীবী শ্রেণি। আছে দলীয় ক্যাডার রূপে হাজির হওয়া পুলিশ। এটাই সরকারের শক্তির উৎস দেশের ভেতরে। আর বাইরের উৎস বলতে ভারত। তবে ভারত আর এই সব হাঙ্গামায় সরাসরি আসবে না। আসার দরকার ফুরিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অবৈধ ক্ষমতার এক মধুর বিড়ম্বনায় পড়েছে আওয়ামী লীগ। তারা যেহেতু মনে প্রাণে বিশ্বাস করে, নিরপেক্ষ নির্বাচন মানেই ক্ষমতা হারানো। ফলে ডিজিটাল উপায়ে, সিলমারার কষ্ট কমিয়ে বিতর্কিত ইভিএম ব্যবহার করার আয়োজন করা হয়েছে। দেশে সরকারি নেতাদের পোস্টার ও একতরফা নির্বাচনী প্রচারণা জনগণকে ভীত ও আতঙ্কিত করে রেখেছে। এর মধ্যে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি নিয়ে সরব হওয়ায় জনগণের মনে আশার আলো দেখা দিতে শুরু করেছিল। কিন্তু ফ্যাসিবাদ যুদ্ধ ছাড়া টিকতে পারে না। এবং যুদ্ধ করেই টিকতে হয়। সেই পথেই থেকে গেল এই অবৈধ সরকার। কিন্তু জনগণের যে জোয়ার জেগেছে তা এই ফ্যাসিবাদের নির্মম পরাজয় ডেকে আনার জন্য যথেষ্ট। সব সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরে এখন বাকি রইল কেবল আন্দোলনের পথ। এত দিন আন্দোলন অনলাইনে বেশি হয়েছে রাস্তায় কম। এবার উল্টোটা হবে মনে হচ্ছে। গতকালের সমাবেশের চিত্র তাই বলে। সেই পথেই হাটছে বাংলাদেশের রাজনীতি।
২.
কিন্তু এই আন্দোলনের পথে একাধিক বিপদ আওয়ামী লীগের জন্য অপেক্ষা করছে। প্রথমত আন্দোলন লম্বা হলে দেশ অচল হয়ে পড়তে পারে। তৃতীয় পক্ষ, ক্ষমতা নিয়ে নিতে পারে। আর সেটা হলে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হবে আওয়ামী লীগকে। লীগের সামনে দুইটা পথ খোলা। এক. সাগরে ঝাঁপ দেয়া, দুই. নদীতে ঝাঁপ দেয়া।

যদি আন্দোলনের দিকে সমস্ত বিরোধীদলকে ঠেলে দেয় তাহলে এরশাদ সরকারের চেয়ে খারাপ পরিণতি হবে আওয়ামী লীগের। লীগের এই বিশাল সাংগঠনিক বিস্তার। রাজনৈতিক পরিসর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গণ-আন্দোলনের পরে যে কোন ফ্যাসিবাদি সংগঠনের যা হয় তাই হবে। অন্যদিকে তৃতীয় পক্ষ বলতে সেনা সমর্থিত সরকার বুঝায়। আর এই সেনা ক্ষমতায় এসে এক বিডিআর বিদ্রোহের বিচার শুরু করলেই আওয়ামী লীগ নির্মূল হতে শুরু করবে। এই বিপদের দিকে লীগের যে হুশ নাই তা না। তাই তারা সরাসরি সংলাপ বা ঐক্যফ্রন্টকে মোকাবেলা না করে নানান নাটক ও চাতুরি করে এই সময়টা কোন মতে পার করে নির্বাচন করে ফেলতে চায় সবাইকে বাগে রেখে। কিন্তু যেহেতু আওয়ামী লীগকে একটা দুধের শিশুও বিশ্বাস করে নাই তাই এই সুযোগ আর এবার পাবে বলে মনে হচ্ছে না। আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা ছাড়া হল সাগরে ঝাঁপ দেয়া।
৩.
আর নদীতে ঝাঁপ দেয়া মানে হল, ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে একটা সমাধানের পথে হাটা। এতে লীগ লাভবান হবে। এককভাবে ক্ষমতায় না আসতে পারলেও নদী সাতরে তীরে ওঠার পথ খোলা থাকবে। ঐক্যফ্রন্ট বলতে এটার বড় বড় নেতারা মিডিয়ার মনযোগে আছেন। কিন্তু মাঠের শক্তি বলতে পুরোটাই বিএনপির। এই শক্তি ও ইমেজ মিলে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তাতে সরকারের পক্ষে সহিংসতার বয়ানের ভিতর দিয়ে ২০১৪ সালের মতো উৎরে যাওয়ার পথ এবার দেখা যাচ্ছে না। আড়ালে বিএনপি থাকলেও বিএনপি লীগের রাজনৈতিক পরিসর বন্ধ করবে না। আন্দোলনের মাধ্যমে দুই দল মারামরি করে দুইদলই জখম ও ক্লান্ত হলে তৃতীয় দল ক্ষমতা নিতে বাধ্য হবে। আর ক্ষমতা কারো আনুগত্য মানে না। ফলে লীগ যেহেতু সর্বশেষ ক্ষমতায় থাকা দল লুটপাট, সন্ত্রাস এই সবের বিচার দরকার হবে আর এতে আসল মাইরটা খাবে লীগ। বিএনপির আর হারানোর কিছু নাই। তাই এটা নিয়ে আজ কথা বলব না।

সেনা টাইপের কোন কিছুর কাছে ক্ষমতা চলে যাওয়া হবে সাগরে ঝাঁপ। আর বিএনপির মাধ্যমে (যদি ধরে নেই এরাই ক্ষমতায় আসছে) ক্ষমতা ছাড়া হবে নদীতে ঝাঁপ। যেখান থেকে উত্তরণের সুযোগ থাকবে। নইলে দেশের জন্য যেমন রক্তপাত অপেক্ষা করছে তেমনি আওয়ামী লীগের ক্ষমতার লোভ তার রাজনীতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। যদি জোর করে ক্ষমতায় থাকে লীগ সারা দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে আর না হলে গোটা দেশের মানুষ জিম্মি হবে। হয় লীগ করতে হবে না হলে জেল বা অত্যাচার। ভিন্নমত বলে কিছু থাকবে না। কি হবে তা আমরা সবাই জানি।

ফলে, সবার জন্যই এটা জান রক্ষার লড়াই। এই অবস্থায় জনগণের আন্দোলনের বিকল্প যেমন নাই। তেমনি লীগকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে কোন পথ বেছে নিবে। এই বেয়াহা সংসদ, নির্বাচন কমিশন ও গুণ্ডাতন্ত্র দিয়ে ক্ষমতা রাখা গেলেও রাজনীতি টিকিয়ে রাখা যায় না।

ক্ষমতা বিড়ম্বনা আওয়ামী লীগ কীভাবে সমাধান করে তার উপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে।

উৎসঃ জবান 

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here