চাকরি-বিয়েতে মাদক ও থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ হাইকোর্ট’র

0
104

বাংলাদেশের সব চাকরিতে যোগ দেয়ার আগে ডোপ টেস্ট এবং কাবিন রেজিস্ট্রির আগে বর-কনের রক্তে মাদক ও থ্যালাসেমিয়ার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এসব পরীক্ষায় মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দাখিল কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন।

সোমবার এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খাইরুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

গত ৫ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা শাহিন আরা লাইলীর পক্ষে এখলাছ উদ্দিন ভূইয়া হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন। সোমবার রিট আবেদনের পক্ষে তিনি শুনানি করেন।

এখলাছ উদ্দিন ভূইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধানের ২১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিক জীবন রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাষ্ট্রকে গ্রহণ করার কথা আদালতে বলেছি। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে এ আদেশ দেন।’

রিটে আবেদনে বলা হয়, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই রোগে আক্রান্ত কোনও রোগীর বিয়ে হলে অনাগত সন্তান বিকলাঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন।

এছাড়া দেশে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। এর মধ্যে শতকরা ৬৫ ভাগ তরুণ। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণও মাদকাসক্তি।

বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের সালিশি পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের অভিযোগের কারণ হচ্ছে স্বামীর শারীরিক অক্ষমতা। আর ইয়াবা, হেরোইন ও অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক সেবনে তারা পুরুষত্বহীন হয়ে যাচ্ছে।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান নিকাহনামার ৩ ও ৪ নম্বর দফায় বর-কনের জন্ম সনদের পাশাপাশি ১৭ নম্বর দফায় ডাক্তারি সার্টিফিকেট (ডোপ টেস্ট সার্টিফিকেট) বাধ্যতামূলক হলে বর-কনের ভবিষ্যত সংসার ও অনাগত সন্তানের জীবন রক্ষা পাবে।

-সুত্রঃ ঢাকা-টাইমস

মাদকাসক্তির ব্যাপারে আমাদের সবারই ধারনা আছে।

আসুন, থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে জানিঃ

থ্যালাসেমিয়া এক ধরনের রক্তশূন্যতা, যা বংশগতভাবে বিস্তার লাভ করে। থ্যালাসেমিয়ায় স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন তৈরির হার কমে যায়, তবে কতটা কমে তা নির্ভর করে একটা অথবা দু’টি জিনই খারাপ কি না তার ওপর।

থ্যালাসেমিয়া – সংগৃহীত

সাধারণত শরীরের যেকোনো বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য দুটি জিনই দায়ী, এর একটা বাবা আর একটা মা থেকে আসে। যদি হিমোগ্লোবিন তৈরির একটি জিন ভালো এবং একটা মন্দ থাকে, তবে হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিকের চেয়ে (১০-৫০%) কম তৈরি হবে। এ ধরনের রোগীকে থ্যালাসেমিয়া মাইনর বলে। এদের মধ্যে রোগের লক্ষণ কম প্রকাশ পায় বিধায় রোগ সহজে ধরা যায় না। কারণ, এরা ডাক্তারের কাছে দেরিতে আসেন। এদেরকে থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট বা কেরিয়ার বলে। আর যাদের দুটি জিনই মন্দ অর্থাৎ যাদের মা এবং বাবা উভয়ই থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট, তাদের মধ্যে রোগের লক্ষণ শিশুকালেই প্রকাশ পায় এবং সহজেই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়। এদের থ্যালাসেমিয়া মেজর বা বিশেষ ক্ষেত্রে থ্যালাসেমিয়া ইন্টারমেডিয়া বলে। এরা শিশুকাল থেকেই নানা সমস্যায় ভোগে। হিমোগ্লোবিন গঠন পদ্ধতিতে সমস্যা থাকতে পারে, যেমন- Hb-E, Hb-C, Hb-D ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রে এদের সংমিশ্রণও হতে পারে, তবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাবা অথবা মা উভয়েই দায়ী। বাংলাদেশে হিমোগ্লোবিন-ই (Hb-E) এবং হিমোগ্লোবিন বিটা থ্যালাসেমিয়া ট্রেইটের (Hb-B trait) প্রকোপ বেশি।

লক্ষণ : রোগের লক্ষণগুলো নির্ভর করে রোগটা কেরিয়ার না ডিজিজের ওপর। কেরিয়ারের বেলায় কমবেশি রক্তশূন্য থাকে। অনেক সময় হালকা জন্ডিসও থাকতে পারে। কিন্তু থ্যালাসেমিয়া মেজর বা ইন্টারমেডিয়ার বেলায় রক্তশূন্যতা, জন্ডিস, প্লীহা বড় হতে পারে। জন্ডিসের লক্ষণ থাকায় অনেকে লিভারের সমস্যা মনে করেন। এ ছাড়া শিশুদের শরীর বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটে ও ঘন ঘন ইনফেকশন হতে পারে। পিত্তে পাথর হওয়ার প্রবণতা থাকে। শরীরে অধিক পরিমাণে আয়রন জমা হয়ে ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা ও লিভার সিরোসিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। কেরিয়ার রোগীদের বেলায় ভুল চিকিৎসায় শরীরে অধিক আয়রন জমা হয়ে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া, একজন কেরিয়ার না জেনে আরেকজন কেরিয়ারকে বিয়ে করলে তাদের সন্তানদের জীবন হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।

চিকিৎসা : থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসাব্যবস্থা অপ্রতুল। তবে চিকিৎসার জন্য একজন রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে ঘন ঘন ব্লাড ট্রান্সফিউশন ও আয়রন চিলেশনের প্রয়োজন হয়। কিউরেটিভ চিকিৎসা হিসেবে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (ইগঞ) লাভজনক। তবে রোগের বিস্তার রোধে প্রতিকারের দিকে অধিক মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৬-৭ শতাংশ লোক এ রোগের কেরিয়ার বা বাহক এবং ভবিষ্যতে তা আরো বৃদ্ধি পাবে যদি না আমরা সতর্ক হই।

রোগীদের প্রতি কিছু পরামর্শ:

– আয়রন-জাতীয় ওষুধ খাবেন না।
– অধিক আয়রন-জনিত জটিলতা এড়ানোর জন্য তিন-ছয় মাস পর পর রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
– একজন কেরিয়ার (ট্রেইট) অন্য একজন কেরিয়ারকে বিয়ে করবেন না।
– মা ও বাবা উভয়েই কেরিয়ার হলে প্রিনেটাল ডায়াগনসিসের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

[ থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন অধ্যাপক ডা: এম এ খান ]

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here