দল গোছাটনোর জন্য যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে বিএনপি

0
140

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর বিএনপিতে পুনর্গঠনের সুর বাজছে। দাবি উঠেছে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সংগঠন ঢেলে সাজানোর। আর এ দাবি আমলে নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি সারা দেশে দলের সাংগঠনিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে হাইকমান্ড। প্রাথমিক পর্যালোচনায় অঙ্গসংগঠনসহ দলটির ভঙ্গুর সাংগঠনিক অবস্থার চিত্রই ফুটে উঠেছে।

দলটির সিনিয়র অনেক নেতা মনে করেন, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর দল গোছানোর যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল নানা কারণে তা সম্পূর্ণ করা যায়নি। অর্ধেকেরও বেশি সাংগঠনিক জেলায় কমিটি দেয়া হলেও তা ত্রুটিমুক্ত ছিল না। ১১টি অঙ্গসংগঠনের অবস্থাও বেহাল। ৪-৫টি সংগঠনের আংশিক নতুন কমিটি হয়েছে, কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার উপক্রম হলেও এসব কমিটির কোনোটিই পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এর প্রভাব একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও পড়েছে বলে নেতারা বলেছেন।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর যে নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয় সেই কমিটিতেও বহু পদ ফাঁকা ছিল, যা গত তিন বছরেও পূরণ করা হয়নি। এমনকি দলের সর্বোচ্চ ফোরাম স্থায়ী কমিটিতেও কমপক্ষে তিনটি পদ ফাঁকা ছিল শুরু থেকেই। এখন তা ৫টিতে দাঁড়িয়েছে। দলটির অর্ধেকেরও বেশি সাংগঠনিক জেলায় নতুন কমিটি দেয়া হয়েছিল, কিন্তু ঘুরে ফিরে একই নেতা শীর্ষ পদগুলো আঁকড়ে থাকায় নেতৃত্বে গতিশীলতা আসেনি। উপজেলা-থানা-ইউনিয়ন কমিটি থাকলেও এসব কমিটির কয়েকটি পদধারী ছাড়া সবাই নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। মামলা-হামলা-জেল এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কারণ হলেও তৃণমূল নেতাদের মনোবল অটুট রাখতে কেন্দ্র যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ হয়নি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপির কমিটি : ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সভাপতি ও কাজী আবুল বাশারকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ৭০ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। একইভাবে এম এ কাইয়ুমকে সভাপতি ও আহসান উল্লাহ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৬৬ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঘোষণার সময় বিএনপির হাইকমান্ড থেকে বলা হয়েছিল, এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে; কিন্তু দেখতে দেখতে দুই বছর চলে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি উত্তর ও দক্ষিণের নেতারা। অবশ্য তারা এক বছরের মাথায় থানা ও ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা দিয়েছে। কমিটি গঠনের পর পুরনো কোন্দল বেড়েছে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের একটি অংশকে পদ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়েও পদবঞ্চিতদের বড় একটি অংশই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতাকর্মীদের ভূমিকাও দৃশ্যমান ছিল না।

মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রদল : ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজিব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে তা পূর্ণাঙ্গ করে ৭৩৬ সদস্যের ঢাউস কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই সময় ছাত্রদল সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সহসভাপতিকে বিএনপির নির্বাহী কমিটিতেও ঠাঁই দেয়া হয়। ছাত্রদলের শীর্ষ অবস্থানে থাকাবস্থায় ওই তিন নেতা বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে ঠাঁই পাওয়ায় তারা এমপি প্রার্থী হওয়ার জন্য তোড়জোড় করেন। বিএনপি অবশ্য তাদের মনোনয়ন দেয়নি। এখন সংগঠনটির কমিটি আড়াই বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ। কমিটি হালনাগাদ না থাকায় আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে প্যানেল দিতে সংগঠনটিকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। জানা গেছে, ছাত্রদলের এই বেহাল অবস্থায় ডাকসু নির্বাচনের পর নতুন কমিটি দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে বিএনপির হাইকমান্ড।

পূর্ণাঙ্গ হয়নি যুবদল কমিটি : দুই বছর ধরে আংশিক কমিটিতেই আটকে রয়েছে বিএনপির অন্যতম অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়াই শুরু করতে পারেননি দায়িত্বশীল নেতারা। নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, হচ্ছে হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু এক মাসের মধ্যে কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা পেরিয়ে দুই বছরেও হয়ে ওঠেনি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি যুবদলের কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও মহানগর দক্ষিণের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। মহানগর উত্তর যুবদল সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর ও দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু। এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ থাকলেও তা হয়নি। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু জেলে রয়েছেন। সভাপতি সাইফুল আলম নীরব মামলা-হুলিয়া নিয়ে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন। সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু এক দিনের জন্যও প্রচারণায় মাঠে নামতে পারেননি তিনি। তবে তিনি বলছেন, তার বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে কৌশলে তাকে প্রচারণা চালাতে হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করতে না পারলেও বহু জেলায় নতুন কমিটি দেয়া হয়েছে।

৭ নেতা দিয়ে আড়াই বছর পার স্বেচ্ছাসেবক দলের : ২০১৬ সালের ২৮ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে শফিউল বারী বাবুকে সভাপতি ও আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ ছাড়া সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহসভাপতি গোলাম সারোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও সাদরাজ্জামানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ইয়াসিন আলীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। কমিটিকে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় অনুমোদনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয় বিএনপির হাইকমান্ড থেকে; কিন্তু আড়াই বছরের বেশি সময়েও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি স্বেচ্ছাসেবক দল। অবশ্য তারা জেলা পর্যায়ে কমিটি ঘোষণা করেছে।

৩ বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ শ্রমিক দল : বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ২০১৪ সালের ১৯ ও ২০ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের তিন দিন পর আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি, নুরুল ইসলাম খান নাসিমকে সাধারণ সম্পাদক ও জাকির হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে। প্রায় তিন বছর আগে শ্রমিক দলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গ্রুপিং ও কোন্দল বেড়েছে। দলের কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

২০ বছর আগের কমিটি দিয়ে চলছে কৃষক দল : ১৯৯৮ সালের ১৬ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে কৃষক দলের কমিটি গঠন হয়। ২০ বছর আগের সেই কমিটি দিয়েই চলছে গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গসংঠনটি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৯ বছর কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলের পর তিনি মহাসচিব হলে কৃষক দল ছেড়ে দেন। টানা ২৮ বছর ধরে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন শামসুজ্জামান দুদু। তিনি এখন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। মাঠপর্যায়ে কৃষক দলের অবস্থাও বেহাল। সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি জরুরি। নইলে এই সংগঠনটির বিপর্যয় কাটছে না।

মহিলা দল : জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ। এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি বর্তমান নেতৃত্ব। তবে মহিলা দল সাফল্য দেখিয়েছে জেলা পর্যায়ে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনে। ২৯ জেলায় মহিলা দল সম্মেলন করেছে। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের থানা পর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছে সম্মেলনের মাধ্যমে।

জাসাস : বর্তমান কমিটির সভাপতি ড. অধ্যাপক মামুন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান। এই কমিটি গঠনের পর বিক্ষোভ শুরু হয়। বিএনপির আন্দোলনে অঙ্গসংগঠন জাসাস এক সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকত। সেই জাসাস এখন একেবারেই নীরব। নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ ও গ্রুপিং চলছে বলে জানা গেছে।

মুক্তিযোদ্ধা দল : গ্রুপিং ও কোন্দলে অকেজো হয়ে পড়েছে মুক্তিযোদ্ধা দল। এ সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ে নানামুখী মেরুকরণ চলছে। একটি অংশ দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎকে মেনে চলছে। অন্য অংশ দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের অনুসারী। এই কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে।।

ওলামা দল : জাতীয়তাবাদী ওলামা দলও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে। দীর্ঘদিন ধরে ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা আবদুল মালেক ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মো: নেছারুল হক। পদ-পদবি নিয়ে এই সংগঠনেও গ্রুপিং-লবিং চলছে। নতুন কমিটি গঠনের দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

তাঁতী দল : ২০০৮ সালের ২২ মে তাঁতী দলের কমিটি গঠন করা হয়। এরপর আর কাউন্সিল হয়নি। এই কমিটির অবস্থাও বেহাল। বর্তমান সভাপতি হুমায়ুন ইসলাম খান পরপর দুইবার সভাপতি। সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁতী দল পুনর্গঠনের দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

মৎস্যজীবী দল : ২০১১ সালের ২ ডিসেম্বর জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিন সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটির সভাপতি হন রফিকুল ইসলাম মাহতাব, সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মিলন মেহেদী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল। ৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে এবং সমন্বয় নেই বলে জানা গেছে।

অঙ্গসংগঠনগুলোর এমন বেহাল অবস্থা উত্তরণে পর্যায়ক্রমে নতুন নেতৃত্বে কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামীতে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। এই মুহূর্তে কাউন্সিল করা সম্ভব না হলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শূন্যপদগুলো পূরণ করা হতে পারে বলে কেউ কেউ জানিয়েছেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে যেসব দুর্বলতা আছে তা অতি দ্রুত সংশোধন করা হবে। সংগঠন শক্তিশালী ও কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্যখাতের কুমির হিসেবে পরিচিত সেই আফজালের সঙ্গে দুদকের গোপন সম্পর্ক!


স্বাস্থ্যখাতের কুমির হিসেবে পরিচিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানম। নিম্ন পদে চাকরি করেও ২৪ বছরে তারা অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে ১৫ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা যদি ২৪ বছরে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে পারেন তাহলে দ্বিতীয় বা প্রথম শ্রেণির একজন কর্মকর্তার সম্পদ কী পরিমাণ থাকতে পারে? এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে।

গত ২২ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানমের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক, হস্তান্তর বা লেনদেন বন্ধ এবং ব্যাংক হিসাবগুলোর লেনদেন অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেন আদালত। আদালতের আদেশের পরপরই বিজি প্রেস থেকে গেজেট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আদালতের আদেশ পৌঁছে গেছে। আদালত সুনির্দিষ্টভাবে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সান ও বাংলা দৈনিক অগ্রসরে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার জন্য আদেশে বলেছিলেন। সে মোতাবেক বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয়েছে।

এরপর গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক বরাবর দুদক থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আফজাল, তাঁর স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের সব ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে আদালতে নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, আদালতের আদেশের কপি মাত্র ৩টি ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংক, এবি ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠিয়েছে দুদক। অন্য কয়েকটি ব্যাংকে থাকা আবজাল দম্পতির হিসাবগুলো এখনও সচল রয়েছে।

জানা গেছে, আদালতের আদেশের পর গত দুই সপ্তাহেই আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানমের ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত লেনদেন হচ্ছে। রুবিনা খানমের মালিকানাধীন রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, যার মাধ্যমে সরকারি ঠিকাদারি কাজের বিল আদায় হতো সেটিও সচল আছে এবং লেনদেন চলছে। আবজালের নিজের নামে ও তাঁর যেসব নিকটাত্মীয়কে দুদক জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনেছে তাঁদের হিসাবও সচল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওইসব হিসাব সচল থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

ওইসব ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, জব্দের কোনো আদেশ না পাওয়ায় এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তাঁরা।

আদালতের আদেশের পরও আবজাল দম্পতির ব্যাংক লেনদেন সচল থাকার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই এনিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, লেনদেন জব্দের জন্য দুদক মাত্র ৩টি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে কেন? আফজাল দম্পতিকে তাদের অবৈধ সম্পত্তি সরিয়ে নেয়ার সুযোগ দিতেই অন্য ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয়নি দুদক?

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুদকের কাছে শুধু ৩টি ব্যাংকের তথ্য থাকবে কেন? তাহলে নিশ্চয় অদৃশ্য কোনো ইশারায় আফজাল দম্পতির অবৈধ সম্পত্তির সব অনুসন্ধান করেনি দুদক। কোন ব্যাংকের মাধ্যমে আফজাল দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন করে আসছে এসব নিশ্চয় দুদকের জানা আছে। আফজাল দম্পতির সঙ্গে যে দুদক কর্মকর্তাদের গোপন আঁতাত রয়েছে এটা এখন পরিষ্কার।

কেউ কেউ বলছেন, দুদক কমিশনাররা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এটা করেছে। আফজাল দম্পতিকে অবৈধ টাকা সরিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদসহ অন্যান্য কমিশনারদেরও হাত রয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে কে?

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ জামালপুরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে এক শিশুর মৃত্যু, ৫ শতাধিক অসুস্থ


জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে সুনিত রায় নামে ১৫ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পর শিশুটির বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। বিকেলে তার মৃত্যু হয়। মৃত শিশু সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার সুরভিত রায়ের পুত্র। আরো ৫ শতাধিক শিশু অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকরা সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে সরিষাবাড়ীর গণময়দান এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পে শিশু সুনিত রায়কে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। শিশুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার পর থেকেই বমি ও পাতলা পায়খানায় শুরু হয়। বিকালে তাকে দ্রæত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে শিশু সুনিত রায়ের মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও কর্মচারীরা প্রথমে বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করলেও এক পর্যায়ে শিশু মৃত্যুর খবর চার দিকে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

এলাকাবাসী জানায়, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অনেক শিশুর বমি, কোন কোন শিশুর পাতলা পায়খানা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচ শতাধিক অভিভাবক আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে শুরু করে। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভিড় ছিল। জামালপুর স্বাস্থ্যবিভাগ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করলেও আক্রান্ত অন্যান্য শিশুদের চিকিৎসা ও অভিভাবকদের কাউন্সেলিং চলছে বলে জানিয়েছে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পর এক শিশু মারা যাওয়ায় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ তৎপর হয়ে উঠেছে।

জামালপুরের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে ডাক্তারদের একটি বিশেষ টিম বিকেল থেকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছে। খবর পেয়ে নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল সংস্থার প্রতিনিধি মাহফুজা রুমা বিকেল থেকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা রাতে তথ্য সংগ্রহের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকার চেষ্টা করলে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রভাবশালীরা তাদেরকে বাঁধা দেয়।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার গৌতম রায় বলেন, শিশু সুনিত রায়কে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পরই তার বমি ও পাতলা পায়খানা হয়। শিশুটি আমাদের এক স্টাফের সন্তান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আর কোনো শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়া শিশুর অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পর কি কারণে এমন হলো তা আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে এই মুহূর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

উৎসঃ ‌amadershomoy

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বেড়েছে ছয়গুণ


এ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে জানুয়ারি মাসে দেশে মোট ৬৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ধর্ষণ ৪৮টি ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৯টি। গত বছরের একই সময়ে দেশে ১৯টি ধর্ষণ ও তিনটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ ২০১৮ সালের জানুয়ারির তুলনায় এ বছরের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণের ঘটনা তিনগুণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ছয়গুণ বেড়েছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় উঠে আসা এই পরিসংখ্যানের বিষয়ে নারী নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। তাদের ভাষ্য, ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হচ্ছে কিনা, তা মনিটরিং থাকতে হবে। কেননা, বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না হওয়ায় পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগ থাকে।

বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৬৭টি। ২০১৮ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২২টি। ২০১৯ সালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ১৯ জন, এ সংখ্যা ২০১৮ সালের একই সময়ে ছিল তিনটি।

তিনটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উপাত্ত নিয়ে এ গবেষণা করে বাংলা ট্রিবিউন। গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছরের শুরুতেই বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ বছর ছাত্রী ও গৃহবধূরা ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বেশি। কর্মজীবী নারীদের মধ্যে পোশাক শ্রমিকরা বেশি ধর্ষণের শিকার হন। এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীরাও।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ধর্ষণের খবর পাওয়া যায় ১৬টি জেলা থেকে, ২০১৯ সালের একই সময়ে ৩৫টি জেলা এ ধরনের সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার তুলনামূলক চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৩১ জন শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয় ২১ জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় তিন জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাতটি শিশু এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়, এর মধ্যে দু’টি শিশুকে হত্যা করা হয়।

নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর মনে করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা কমছে না। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে যে ধর্ষণের খবরগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার কয়টির বিচার হয়েছে। ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ করে যখন ধর্ষক পার পেয়ে যায়, তখন তা অপরাধকে উৎসাহিত করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধর্ষণ কমবে— এমনটা আশা করা ঠিক না।’

রোকেয়া কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমত, ধর্ষণের ঘটনার বিচার হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভিকটিম যেন নির্ভয়ে বিচার চাইতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংখ্যাগতভাবে ধর্ষণ বাড়ছে দুটো কারণে। এক. আগে ধর্ষণের সংবাদ পত্রিকায় কম আসতো। আরেকটি হলো সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। এমন অপরাধের (ধর্ষণ) ক্ষেত্রে বিচার না হওয়া, অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার পরিমাণ বাড়ছে।’

ধর্ষণ ঘটনার খুব কমই বিচার হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বিচার হলেও অভিযুক্ত খালাস পেয়ে যাচ্ছে। সাক্ষীর অভাব, বাদীর অনীহা, পুলিশের গাফিলতিতে দুর্বল চার্জশিট দেওয়া ইত্যাদি কারণে ধর্ষণ প্রমাণ কঠিন হয়। সমাজের মধ্যে এ ধরনের অপরাধের ব্যাপারে মানুষ সোচ্চার হলেও ভিকটিমকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না। নারীকে অবহেলার চোখে দেখা হয়।’

বেশ কিছু করপোরেট অফিস থেকে নারী নির্যাতনের খবর আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারীরা আসলে রাস্তা-বাড়ি-কর্মক্ষেত্র কোথাও নিরাপদ না। এটি ব্যাপকতা পেয়েছে। একজন নারী, সে যদি অফিসেও যৌন হয়রানির শিকার হন, সেখানেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘পিতৃতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নারীকে সম্মানের জায়গায় অধিষ্ঠিত হতে বাধা দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষণরোধে আইন হতে হবে এবং ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে বর্তমান বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। বিচার না হওয়ার কারণে অপরাধ দ্বিগুণ-তিনগুণ হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিচার হবে কী করে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। সাক্ষীর নিরাপত্তার কোনও জায়গা আমরা রাখিনি। অথচ, ভিকটিমের সাক্ষী লাগবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মেডিক্যাল পরীক্ষা হতে হবে, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সবসময় সেই সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায় না। তাহলে কীভাবে প্রতিকার মিলবে?’

আয়েশা খানম বলেন, ‘ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফলতি হচ্ছে কিনা, সেই বিষয়ে মনিটরিং থাকতে হবে। বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না, ফলে পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগগুলো থাকে। নারী ভিকটিম হলে তাকে ইতিবাচক সহায়তা দেওয়ার বদলে কোন কোন কারণে তার ধর্ষণ জায়েজ, সমাজ এখনও সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেয়। এসব বদলাতে অপরাধকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিচার হতে হবে।’

উৎসঃ ‌banglatribune

আরও পড়ুনঃ ভিন্নমত ও বিভিন্ন প্রতিবাদ আন্দোলন দমনের কারণে পদক পেল পুলিশ বাহিনী!


ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিহত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মায়ের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে লুটিয়ে পড়ার ছবিটি দেখে অপরাধীরা ছাড়া আর সবারই বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠার কথা। এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরেও দিয়াজের মা ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আমৃত্যু অনশনে বসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হত্যার বিচারের আশ্বাসে তখন তিনি অনশন ভেঙেছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালের নভেম্বরের সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীর প্রকাশনায় হত্যায় অভিযুক্ত একজনের বাণী ছাপা হয়েছে। অর্থাৎ দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পুনর্বাসন অনেকটাই সাধিত হয়েছে।

বিচারপ্রার্থী দিয়াজের মা যখন দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে লুটিয়ে পড়েছেন, ঠিক তখনই ঢাকায় সুপ্রিম কোর্টের আঙিনায় অসহায় অজ্ঞাতনামাদের অবিচার থেকে মুক্তি চাওয়ার আর্তি। ধান বিক্রি করার টাকা খরচ করে পুলিশি হয়রানি থেকে রেহাই পেতে জামিনের জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ধরনা দিয়ে বসে আছেন শত শত মানুষ। এঁদের অনেকেই হয়তো এর আগে কখনো ঢাকায় পা ফেলেননি। বছরের শুরু থেকে দেশের নানা প্রান্ত থেকে জামিনের আশায় ভিড় করছেন ৪ হাজারের বেশি গায়েবি মামলার আসামি শত শত মানুষ। এঁদের মধ্যে আছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, সত্তরোর্ধ্ব প্রায় চলনশক্তিহীন মানুষও, যাঁরা দলবাজির রাজনীতির ধারেকাছেও নেই। এ রকম গায়েবি মামলায় কতজন কারাগারে বন্দী আছেন, সেই হিসাব কারও কাছেই নেই। তবে মানবাধিকার সংগঠক সুলতানা কামাল বলেছেন, দেশের কারাগারগুলোতে বন্দীদের প্রতি তিনজনের দুজনই বিনা বিচারে আটক রয়েছেন। অবিচারের শিকার নির্দোষ জাহালমের তিন বছর কারাভোগের পর মুক্তিলাভের খবরের পটভূমিতে এসব বিনা বিচারের বন্দীর দুর্ভোগের বিষয়টি মোটেও উপেক্ষণীয় নয়।

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও সংবাদ শিরোনামে ফিরে এসেছে। নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে জানুয়ারিজুড়ে নানা ধরনের বিচার-বিশ্লেষণের পর ফেব্রুয়ারির শুরুতে আলোচনায় এসেছে হারকিউলিস। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা কথিত ক্রসফায়ারের অভিযোগ কয়েক বছর ধরে বেড়েই চলেছে। এই পটভূমিতে ধর্ষণের অভিযোগে কয়েকজন সন্দেহভাজনের সাম্প্রতিক রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড এই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ রকম কয়েকটি শিরোনাম হচ্ছে: ‘হারকিউলিস ভিজিল্যান্টে কিলস্ সাসপেক্টেড রেপিস্টস ইন বাংলাদেশ’ (আল-জাজিরা, ৬ ফেব্রুয়ারি), ‘ডেথস অব অ্যাকিউজড রেপিস্টস ইন বাংলাদেশ টায়েড টু সাসপেক্টেড ভিজিল্যান্টে’ (ইউপিআই, ৬ ফেব্রুয়ারি), ‘ইন বাংলাদেশ, এ সিরিয়াল কিলার কলড হারকিউলিস ইজ টার্গেটিং অ্যালেজড রেপিস্টস’ (জি নিউজ, ৫ ফেব্রুয়ারি), ‘হারকিউলিস সাইনস ডেথ ওয়ারেন্টস অব অ্যালেজড রেপিস্টস ইন বাংলাদেশ’ (টিআরটি ওয়ার্ল্ড, ৫ ফেব্রুয়ারি)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসব সংবাদ শিরোনাম বাংলাদেশে আইনের শাসনের দুর্বলতার করুণ প্রতিফলন।

এই সপ্তাহেই সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ। এ সময়ে পুলিশের প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা পেশাগত কাজে কৃতিত্ব প্রদর্শনের জন্য পদক ও প্রণোদনামূলক পুরস্কার পেয়েছেন। কেউ কেউ দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো পুরস্কৃত হয়েছেন। যাঁরা পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে যোগ্য কেউ ছিলেন না, তা নয়। তবে অনেক পুরস্কারের ক্ষেত্রে কারণগুলো স্পষ্টতই গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধের পরিপন্থী। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বাহিনীর কথিত সাফল্য ও ব্যর্থতার প্রকট বৈপরীত্যের প্রতিফলন আর কী হতে পারে? নিরীহ কাউকে হয়রানি না করতে পুলিশের প্রতি নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গাছের ছায়ায় জামিনের অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলোর কানে কি পরিহাসের মতো শোনায়নি?

যাঁরা পদক পেয়েছেন তাঁদের কৃতিত্বের যেসব বিবরণ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার মধ্যে আছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন ও কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ, কথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণামূলক’ সাক্ষাৎকারের জন্য (আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে) গ্রেপ্তারে ‘পেশাগত দক্ষতা’র স্বীকৃতি, ডিজিটাল মাধ্যমে কথিত অপপ্রচার বন্ধে সাফল্য ইত্যাদি। প্রতিবাদ-বিক্ষোভের বৈধ নাগরিক অধিকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও দমন-পীড়নের স্বীকৃতি দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদক দেওয়ার ঘটনা এক নতুন দৃষ্টান্ত। দৃশ্যত এর উদ্দেশ্য: ১. পুলিশকে দমনমূলক নীতি অনুসরণে উৎসাহ দেওয়া; ২. সরকারবিরোধী সব দল, গোষ্ঠী ও ব্যক্তির মধ্যে ভীতি ছড়ানো, যাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলন দানা বাঁধতে না পারে।

রাজনৈতিক দলগুলো যে প্রতিবাদ জানানোর শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছে, তাতে সন্দেহ নেই। এর ফলে নাগরিক সমাজে সৃষ্ট উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে যে তারা উদ্বিগ্ন। কেননা, যেসব সাফল্যের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের পদক দেওয়া হয়েছে, সেসব ঘটনার প্রতিটির ক্ষেত্রেই পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘নিষ্ক্রিয়তা’, ‘পক্ষপাতিত্ব’ বা ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ অভিযোগ সর্বজন বিদিত।

টিআইবি আরও বলেছে, পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে শুদ্ধাচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চর্চা সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও আইনের সমান সুযোগ লাভের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। তাই শান্তি ও জনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ আইন লঙ্ঘনকারীকে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই বাহিনীর প্রতি জনগণের নির্ভরশীলতা প্রতিষ্ঠায় এই মুহূর্তে এটাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

টিআইবির এই দাবি নতুন নয়। বরং পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য একটি আলাদা ও স্বাধীন তদন্ত সংস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি অনেক দিনের। পুলিশে যেসব সংস্কারের জন্য ২০০৯ সালে সরকার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সঙ্গে সমঝোতা করেছিল, তাতে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা ছিল। পুলিশ কমপ্লেইন্টস কমিশন বা পুলিশ কমিশন গঠিত হলে পুলিশের কর্তাব্যক্তিদের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা কিছুটা খর্ব হবে বলে তাঁরা এ বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি নন, এটা জানা কথা। কিন্তু রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা দুর্ভাগ্যজনক।

গত এক দশকেও আমাদের রাজনীতিকেরা ওই সুপারিশটি বাস্তবায়নের পথে পা বাড়াননি। এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার ছাড়া আর কী হতে পারে? রাজনীতিকেরা এটা ভালোই জানেন যে এ রকম স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জবাবদিহির ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলে পুলিশকে দলীয় কাজে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়বে। ৩০ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে দলীয় স্বার্থে নজিরবিহীনভাবে পুলিশকে কাজে লাগানো অথবা নিষ্ক্রিয় করায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র এক মাসের মাথায় পুলিশ কর্তাদের পুরস্কারের বিষয়ে তাই প্রশ্ন ওঠা মোটেও অস্বাভাবিক নয়।

পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সদস্যদের বীরত্বপূর্ণ কাজ কিংবা জনস্বার্থমূলক ব্যতিক্রমী ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়ার রীতি সব দেশেই আছে। সাধারণত স্বাধীনতা দিবস বা জাতীয় দিবসগুলোতে এসব পদক দেওয়া হয়। সমাজ-সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যেভাবে সম্মান জানানো হয়, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও তাঁদের দায়িত্ব পালনে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য এ ধরনের স্বীকৃতির ন্যায্য দাবিদার। কিন্তু জনমনে যদি এমন ধারণা হয় যে এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক স্বার্থ, বিশেষত দলীয় বিবেচনার ছায়া পড়েছে, তাহলে তা বিতর্কের জন্ম দিতে বাধ্য। এবারের পুলিশ সপ্তাহে বিদেশে দূতাবাসে পদায়ন ও আলাদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মতো বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবিগুলোও এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পুলিশের সাম্প্রতিক ভূমিকা ও তাদের পুরস্কার ও প্রণোদনার পদক্ষেপগুলো সেই বিতর্ক বাড়িয়েই দিয়েছে।

লেখক: সাংবাদিক কামাল আহমেদ

উৎসঃ ‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ মানিকগঞ্জে ডাকবাংলোয় আটকে রেখে এক নারীকে ইয়াবা খাইয়ে ধর্ষণ করল দুই পুলিশ


মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ডাকবাংলোয় আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুই পুলিশ সদস্য হচ্ছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাজহারুল ইসলাম।

রোববার দুপুরে ওই নারী জেলা পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীমের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে সাটুরিয়ায় এলে সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দার হোসেন থানার পাশে ডাকবাংলোতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে জোর করে ইয়াবা বড়ি খাইয়ে নেশাগ্রস্ত করেন। পরে এসআই সেকেন্দার ও এএসআই মাজহারুল ইসলাম তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এরপর বিষয়টি কাউকে জানালে বা মামলা-মোকদ্দমা করলে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরের দিন শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত আটকে রাখার পর তাঁকে ছেড়ে দেয়।

ধর্ষণের শিকার ওই নারীর প্রতিবেশী আরেক নারী জানান, এসআই সেকেন্দার হোসেন তাঁর পূর্ব পরিচিত। একসঙ্গে জমি কেনার বিষয়ে তিন বছর আগে তিনি সেকেন্দারকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা নিতে তিনি তাঁর প্রতিবেশীকে নিয়ে সাটুরিয়ায় যান। সেকেন্দার হোসেন তাঁদের টাকার বিষয়ে কথা বলার জন্য থানার পাশেই সরকারি ডাকবাংলোতে নিয়ে যান। সেখানে পাওনা এক লাখ টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা দিয়ে তাঁকে পাশের একটি কক্ষে আটকে রাখে। আর তাঁর প্রতিবেশীকে অন্য কক্ষে নিয়ে যান সেকেন্দার।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শনিবার বিকেলে টেলিফোনের মাধ্যমে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে সদর সার্কেলের এএসপি হাফিজুর রহমানকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে কিছুটা সত্যতা পাওয়ায় শনিবার রাতেই এসআই সেকেন্দার হোসেন ও এএসআই মাজাহারুল ইসলামকে মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার ভিকটিম সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উৎসঃ ‌এনটিভি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here