ডিউটি না করেই সরকারি বেতন-ভাতা নিচ্ছেন তিনি!

0
363

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে (মমেক) কর্মস্থলে যোগদান না করেই গত ১৫ মাস ধরে সরকারি বেতন-ভাতা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) রীনা আক্তারেরর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের ভেতরে ও বাহিরে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালেও অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মস্থলে রিনাকে পাওয়া যায়নি। তার সহকর্মীরা বলছেন, রিনা দীর্ঘ ১৫ মাস যাবত কোনো ডিউটি না করেই বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন।

এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অফিস সহকারী আব্দুল মোতালেব।

তিনি জানান, ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বরে মমেক মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ থেকে বদলি হয়ে ফরেনসিক বিভাগে আসেন রীনা আক্তার। কিন্তু এ বিভাগে পূর্বে দ্বায়িত্ব পালনকালে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় তার যোগদানপত্র গ্রহন করেননি বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা: কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান। ফলে বিভাগে তার কোনো হাজিরা নেই।

তবে অফিস সহায়ক রীনা আক্তার নিয়মিত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানের হিসাব রক্ষক একেএম তাফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, ‘রীনা আক্তার নিয়মিত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। সে কর্মস্থলে অনুপস্থিত এ সংক্রান্ত কোন চিঠি আমি পাইনি। এ কারণে তার বেতন-ভাতা নিয়মিত হচ্ছে।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সচিব মো. জহুরুল হক বলেন, ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় তার বদলি ফরেনসিক বিভাগে হয়েছিল। কিন্তু ওই বিভাগ কর্তৃপক্ষ তাকে না নেয়ায় সে আর কোথাও যোগদান করেনি।’

অন্যদিকে অফিস সহায়ক রীনা আক্তার দাবি করে বলেন, ‘আমি চাকুরির শুরু থেকেই ফরেনসিক বিভাগে ছিলাম। পরে বদলি হয়ে অন্য বিভাগে গেলেও সম্প্রতি ফরেনসিকে আবারও আমার বদলি হয়। কিন্তু সেখানের স্যার আমার যোগদান নেয়নি। অন্য কোনো বিভাগে আমাকে বদলিও করা হয়নি। তবে নিয়মিত আমি অধ্যক্ষ স্যারের অফিসে হাজিরা দিচ্ছি। তিনি একটা ব্যবস্থা করবেন বলেছেন।’

বিষয়টি জানতে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে ওই বিভাগের কর্মচারীরা জানায়, ২০০৪ সালের ৯ অক্টোবরে রীনা আক্তার চাকুরিতে যোগদান করে টানা দশ বছর এ বিভাগেই কর্মরত ছিল। সে সময়কালে তার বিরুদ্ধে ময়নাতদন্ত রির্পোট বাণিজ্যসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এ কারনেই তাকে এ বিভাগে যোগদান নেয়নি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘রীনা বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেনি সত্য। কিন্তু সে নিয়মিত অফিসে আসে।’ তবে কর্মস্থলে যোগদান না করেই বেতন-ভাতা নেয়ার বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্যখাতের কুমির হিসেবে পরিচিত সেই আফজালের সঙ্গে দুদকের গোপন সম্পর্ক!


স্বাস্থ্যখাতের কুমির হিসেবে পরিচিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানম। নিম্ন পদে চাকরি করেও ২৪ বছরে তারা অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে ১৫ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা যদি ২৪ বছরে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে পারেন তাহলে দ্বিতীয় বা প্রথম শ্রেণির একজন কর্মকর্তার সম্পদ কী পরিমাণ থাকতে পারে? এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে।

গত ২২ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানমের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক, হস্তান্তর বা লেনদেন বন্ধ এবং ব্যাংক হিসাবগুলোর লেনদেন অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেন আদালত। আদালতের আদেশের পরপরই বিজি প্রেস থেকে গেজেট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আদালতের আদেশ পৌঁছে গেছে। আদালত সুনির্দিষ্টভাবে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সান ও বাংলা দৈনিক অগ্রসরে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার জন্য আদেশে বলেছিলেন। সে মোতাবেক বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয়েছে।

এরপর গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক বরাবর দুদক থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আফজাল, তাঁর স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের সব ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে আদালতে নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, আদালতের আদেশের কপি মাত্র ৩টি ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংক, এবি ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠিয়েছে দুদক। অন্য কয়েকটি ব্যাংকে থাকা আবজাল দম্পতির হিসাবগুলো এখনও সচল রয়েছে।

জানা গেছে, আদালতের আদেশের পর গত দুই সপ্তাহেই আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানমের ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত লেনদেন হচ্ছে। রুবিনা খানমের মালিকানাধীন রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, যার মাধ্যমে সরকারি ঠিকাদারি কাজের বিল আদায় হতো সেটিও সচল আছে এবং লেনদেন চলছে। আবজালের নিজের নামে ও তাঁর যেসব নিকটাত্মীয়কে দুদক জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনেছে তাঁদের হিসাবও সচল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওইসব হিসাব সচল থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

ওইসব ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, জব্দের কোনো আদেশ না পাওয়ায় এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তাঁরা।

আদালতের আদেশের পরও আবজাল দম্পতির ব্যাংক লেনদেন সচল থাকার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই এনিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, লেনদেন জব্দের জন্য দুদক মাত্র ৩টি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে কেন? আফজাল দম্পতিকে তাদের অবৈধ সম্পত্তি সরিয়ে নেয়ার সুযোগ দিতেই অন্য ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয়নি দুদক?

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুদকের কাছে শুধু ৩টি ব্যাংকের তথ্য থাকবে কেন? তাহলে নিশ্চয় অদৃশ্য কোনো ইশারায় আফজাল দম্পতির অবৈধ সম্পত্তির সব অনুসন্ধান করেনি দুদক। কোন ব্যাংকের মাধ্যমে আফজাল দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন করে আসছে এসব নিশ্চয় দুদকের জানা আছে। আফজাল দম্পতির সঙ্গে যে দুদক কর্মকর্তাদের গোপন আঁতাত রয়েছে এটা এখন পরিষ্কার।

কেউ কেউ বলছেন, দুদক কমিশনাররা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এটা করেছে। আফজাল দম্পতিকে অবৈধ টাকা সরিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদসহ অন্যান্য কমিশনারদেরও হাত রয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে কে?

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়ে কোটিপতি বনে যাওয়া ম্যাজিক মিজান

মিজানুর রহমান। তিনি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। মাদারীপুর শহরে উনার ৪টি বাড়ী রয়েছে। পরিবহন ব্যবসায়ও বড় লগ্নি করেছেন তিনি। নিজের নামে ছাড়াও স্ত্রী ও স্বজনদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে দিয়েছেন। চাকুরীর শুরুতে একেবারে শূন্য থেকে বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক হওয়া এই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এর আগে তিনি মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অর্পিত সম্পত্তি শাখাসহ বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন। তৃতীয় শ্রেণির চাকরি করে কোটিপতি বনে যাওয়ার এমন ম্যাজিক দেখিয়ে তিনি এখন মাদারীপুরের সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু। অদৃশ্য খুঁটির জোরেই তিনি বেপরোয়া। অনেক সময় তোয়াক্কা করেন না সিনিয়র কর্মকর্তাদেরকেও। এ নিয়ে অনেকে ক্ষুব্ধ হলেও ভয়ে মুখ খোলেন না কেউ।

অভিযোগ রয়েছে, মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চাকুরীর সময়ই মিজানের ভাগ্যোন্নয়ন শুরু হয়। এই সময় তিনি সরকারী সম্পত্তি লিজ দেয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন বিপুল পরিমান টাকা। এছাড়াও সরকারী সম্পত্তি নিজের এবং আত্মীয় স্বজনদের নামেও লিজ নেন। এভাবেই তিনি মাদারীপুর শহরের গড়ে তুলেছেন ৪টি বাড়ী। যার বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা।

এছাড়াও ভাইদের রয়েছে শহরের বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা। এই সব ব্যবসায় তিনিই অর্থের জোগান দিচ্ছেন এমনটাই দাবী এলাকাবাসীর। গ্রামের বাড়ি শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের শম্ভুক এলাকায়ও রয়েছে সম্পত্তি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদারীপুর শহরের পাঠককান্দি এলাকায় তার একটি বাড়ি রয়েছে। এই বাড়িতেই তিনি থাকেন। এছাড়াও ভাড়াটিয়া রয়েছে প্রায় ৫টি। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকা। শহরের স্টোডিয়ামের পিছনে বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ করছেন তিনি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এই বাড়ির নির্মাণ কাজ তিনতলা পর্যন্ত হয়ে গেছে। জমিসহ এর বাজার মূল্য কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা। শহরের থানতলী এলাকাতেও রয়েছে তার একটি বাড়ি। এই বাড়িতে একাধিক ঘর রয়েছে। একটি ঘরে তার ছোট ভাই থাকেন। বাকি ঘরগুলো ভাড়া দেয়া রয়েছে।

মাদারীপুর শহরের ইউ আই স্কুল সংলগ্ন এলাকায়ও তার একটি বাড়ি রয়েছে। এই বাড়িটি গড়ে তুলেছেন সরকারী জমির উপর। তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মরত থাকাকালে আপন ভাইয়ের নামে লিজ নেন। এখানেও রয়েছে ৪-৫টি ভাড়াটিয়া। এই বাড়ির বাজার মূল্যও কোটি টাকার উপরে। এছাড়াও পরিবহন ব্যবসাও রয়েছে তার।

এই সম্পদের আয়ের উৎস সম্পর্কে মিজানুর রহমান বলেন, অনেক আগে কমমূল্যে আমি স্টেডিয়ামের পিছনে জমি কিনেছিলাম। সেই জমি দাম এখন বেড়েছে। ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। এছাড়াও থানতলী এলাকার বাড়ির জমিও অল্প টাকায় কিনেছিলাম। এখন জমির দাম বেড়ে গেছে। এগুলো আমার বেতনের টাকায় কেনা। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকুরী করি। এছাড়া পাঠককান্দি এলাকার জমিটি সরকারী সম্পত্তি। আমার এক আত্মীয় ভোগ দখল করতো। পরে তারা ছেড়ে দেয়ার আমার নামে লিজ নিয়েছি। ইউ আই স্কুল সংলগ্ন জমিটি আমার ছোট ভাইয়ের নামে লিজ নেয়া। এছাড়াও ২-৩টি ট্রাক রয়েছে এগুলো আমার ভাইদের সাথে শেয়ারে কেনা। আমার কোন অবৈধ উপার্জন নেই।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ সদস্যদের বেতন-রেশন তুলে খাচ্ছেন আনসার ক্যাম্পের কমান্ডার পিসি হারুন

চাকরি ছেড়ে দেওয়া এক আনসার সদস্যের পদত্যাগপত্র জমা ছিল তার কাছে। ওই পদত্যাগপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চার মাসেও পাঠাননি চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ জোনের সিইপিজেড আনসার ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার (পিসি) মো. হারুন। বরং, পদত্যাগী ওই সদস্যের নামে বেতন-ভাতা ও রেশন তুলে আত্মসাৎ করে চলছিলেন।

পিসি হারুনের বিরুদ্ধে তাদেরও সরকারি বেতন-ভাতা ও রেশন আত্মসাৎসহ আরও একাধিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন সিইপিজেড আনসার ক্যাম্পে কর্মরত আরও নয়জন।

তবে তদন্ত শুরু করে পিসি হারুনের অবৈধ বিলগুলো আটকে দিয়েছে সংস্থাটি। তাকে প্রথম ও শেষবারের মতো হুশিয়ারও করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাম্পের সাবেক এক আনসার সদস্যের অভিযোগ, তিনি পিসি হারুনের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান। কিন্তু হারুন পদত্যাগপত্রটি জমা না দিয়ে তার চারমাসের বেতন-ভাতা ও রেশন উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এখন বার বার ফোন করলেও হারুন তার ফোন ধরেন না। বাধ্য হয়ে ক্যাম্পের রাইটার শহিদুল্লাহকে ফোন করে জানতে চাইলে তিনিও পিসি হারুনের খোঁজ দিতে পারেননি।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ক্যাম্পটিতে কর্মরত ১০৪ আনসার সদস্য। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়ম অনুসারে প্রতি তিন বছর পর পর ছয় মাসের জন্য বিশ্রামে (রেস্ট) যান তারা। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে ছুটি পান। বিশ্রামে বা ছুটিতে যাওয়া সদস্যদের দুই থেকে চার মাসের বেতন-ভাতা ও রেশন তুলে পিসি হারুন আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি অভিযোগকারী নয়জনের।

নয়জনের একজন মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, শনিবার তিনি বিশ্রাম থেকে ক্যাম্পে ফিরে জানতে পেরেছেন, তার তিনমাসের বেতন-ভাতা ও রেশন তুলে নিয়েছেন পিসি হারুন। বাকিরাও দুই থেকে চারমাসের বেতন-ভাতা ও রেশন খুইয়েছেন।

ক্যাম্পে দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এপিসি বলেন, এ অনিয়মের কথা প্রকাশ হওয়ার পর তদন্ত চলছে। পিসি হারুনের করা অবৈধ বিলগুলো আটকানো হয়েছে এবং প্রথম ও শেষবারের মতো তাকে হুশিয়ার করা হয়েছে।

ঘটনা পুরোপুরি না হলেও অর্ধেক সত্য বলেও মন্তব্য করেন এপিসি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিইপিজেড ক্যাম্পের পিসি হারুন দাবি করেন, ‘বেপজা এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে কোনো অনিয়ম করার সুযোগ নেই। আমার নামে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।’

যে অভিযোগ উঠেছে তার তদন্ত হচ্ছে বলেও জানান এই ক্যাম্প কমান্ডার।

পিসি হারুনের বিলের কপি দেখতে চাইলে বেপজার সিকিউরিটি ম্যানেজার রবিউল খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি সরকারি কাজ করি, কোনো ডকুমেন্ট দেওয়ার অনুমতি নেই।’

‘এখন আমি একজন সিনিয়র অফিসারের প্রটোকলে আছি, পরে কথা হবে’ বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

বন্দর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা আবদুর রশিদ বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট (সিএ) সেটি দেখভাল করছেন।

সিএ মো. টিটুল মিয়া বলেন, কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

টিটুল মিয়া আরও বলেন, জেলা কমান্ড্যান্ট রাজিব হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা সামনে রেখে জেলা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

বাহিনীর নিজস্ব মনিটরিং টিম সদস্যদের কাজ তদারকিসহ অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে। টিমের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি পিসি হারুনের বিরুদ্ধে রিপোর্ট দিয়েছি, অবশ্যই এটা বিরাট অপরাধ। সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সদর দপ্তরের, তার বিরুদ্ধে সদর দপ্তরই ব্যবস্থা নেবে।’

উৎসঃ ‌ঢাকাটাইমস

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here