ডিজিটাল আইনে যুগান্তর সাংবাদিক গ্রেফতারঃ দেশজুড়ে মানববন্ধন নিন্দা প্রতিবাদ ক্ষোভ

0
135

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যুগান্তরের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রতিবাদ সভায় তারা বলেছেন- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কেরানীগঞ্জের যুগান্তর প্রতিনিধিকে গ্রেফতার ও চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, থানার একজন ওসির দুর্নীতির খবরও প্রকাশ করা যাবে না- প্রকারান্তরে গণমাধ্যমকে এমন বার্তাই দেয়া হচ্ছে।

সাংবাদিকরা বলেন, বাস্তবে এমন আশঙ্কা সত্য হলে তা হবে পুরো জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের অত্যাচার-নির্যাতন ও নাজেহাল করেও ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার বিতর্কিত ওসি মোস্তফা কামাল এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন তার বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের তদন্ত শুরু না হলেও সাংবাদিকদের বাসা-বাড়িতে গিয়ে হয়রানি ও নাজেহাল করা হচ্ছে। যুগান্তরের নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি আজহারুল হকসহ আরও তিন প্রতিনিধির আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে তল্লাশির নামে হুমকি দেয়া হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোসহ সাংবাদিকরা অবিলম্বে যুগান্তরের কারাবন্দি কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফরকে মুক্তি দেয়ার জোরালো দাবি জানান। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাংবাদিক নেতারা।

১৯ ফেব্রুয়ারি যুগান্তরে ‘নবাবগঞ্জের ওসি মোস্তফা কামালের আলিশান বাড়ি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওসি মোস্তফা কামালের মদদে ওই দিন সন্ধ্যায় দোহার থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। যুগান্তর ও যমুনা টিভির নিজস্ব প্রতিনিধি আজহারুল হক, কেরানীগঞ্জ থানা প্রতিনিধি আবু জাফর, আশুলিয়া থানা প্রতিনিধি মো. মেহেদী হাসান মিঠু, ধামরাই থানা প্রতিনিধি শামীম খান এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এসএম হুমায়ুন কবীরকে আসামি করে মামলা করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কথিত নেতা, অসংখ্য অপরাধমূলক মামলার আসামি ও কুখ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. পলাশ মিয়া। মামলার পর রাতেই সাংবাদিক আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ওসি মোস্তফা কামাল ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পলাশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরায় সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন নেমে আসে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভা ও সমাবেশ সম্পর্কে যুগান্তরের ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) : যুগান্তরের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফরের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে বেলা ১১টায় জিনজিরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিক চৌধুরী, আহ্বায়ক মো. আবদুল গনি, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কালিম সান্টু, রাকিব হোসেন, হাজী মোস্তফা কামাল, সাবেক সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, হাজী সালাউদ্দিন মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন মিন্টু, মোহাম্মদ রায়হান খান, এইচএম আমীন, জাহাঙ্গীর হোসেন ঝনু, ইকবাল হোসেন রতন, মো. ইউসুফ আলী, মো. আলমগীর হোসেন, মিয়া আবদুল হান্নান, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, শেখ শামীম উদ্দিন, লিটন মাহমুদ, এরশাদ হোসেন, নাজিম উদ্দিন ইমন, আরিফ ও আবু জাফরের পরিবারের সদস্য প্রমুখ। এতে কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শফিক চৌধুরী বলেন, যুগান্তরের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফরসহ যুগান্তরের সাভার, ধামরাই, নবাবগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে করা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।

গাইবান্ধা : যুগান্তরের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফরকে গ্রেফতার এবং অপর চার সাংবাদিককে হয়রানি করার ঘটনায় গাইবান্ধার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন। অবিলম্বে আবু জাফরের কারামুক্তি দেয়ার দাবি জানান তারা। গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন- ক্লাবের সভাপতি কেএম রেজাউল হক, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সাবু, প্রধান উপদেষ্টা গোবিন্দলাল দাস, সহ-সভাপতি আবদুস সামাদ সরকার বাবু, অমিতাভ দাশ হিমুন, দীপক কুমার পাল, যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিক আলম দয়াল, ইদ্রিস উজ্জামান মোনা, সহকারী সম্পাদক শাহাবুল শাহীন তোতা, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান মামুন, কোষাধ্যক্ষ আবদুল মান্নান চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক উজ্জ্বল চক্রবর্তী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কুদ্দুস আলম, পাঠাগার সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ক্রীড়া সম্পাদক নজরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ফেরদৌস ইসলাম খান, খায়রুল ইসলাম, এবিএম ছাত্তার, এছাড়া সাধারণ সদস্য আজাদ হোসেন সরকার, ফারুক হোসেন, রেজাউল হক মিতা, আফরুজা লুনা, রিক্তু প্রসাদ, মো. শামসুজ্জোহা, রিপন আকন্দ প্রমুখ।

লালমনিরহাট : পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) লালমনিরহাট জেলা শাখার নেতারা। এ নিয়ে শনিবার দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদসংলগ্ন বিএমএসএফের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) লালমনিরহাট জেলা ইউনিটের সভাপতি খোরশেদ আলম সাগর, সম্পাদক আসাদুজ্জামান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়াজ আহেম্মদ শিপন প্রমুখ। অবিলম্বে সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

নাটোর : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে নাটোর জেলা প্রেস ক্লাব প্রতিবাদ সভা করা হয়েছে। জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার মো. মাহ্ফুজ আলম মুনীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল হাকিম, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি মুক্তার হোসেন, আলোকিত বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি মো. আবদুর রাজ্জাক লাকি, বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি মো. নাসিম উদ্দিন, বাগাতিপাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম মাসুম ও দর্পণ প্রতিদিনের জেলা সংবাদদাতা লিমন হোসেন লিটন। তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার হতে পারে এমন আশঙ্কায় সাংবাদিকরা শুরু থেকে এর বিরোধিতা করে আসছিলেন। এ কালো আইনে সাংবাদিক আবু জাফরকে গ্রেফতার এবং আরও চারজনের নামে মামলা করায় সেই আশঙ্কা প্রমাণিত হল। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আবু জাফরকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া এবং সাংবাদিক আজহারুল হক, এসএম হুমায়ুন কবীর, মেহেদী হাসান ও শামীম খানের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য তারা জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি বাতিল করারও দাবি জানানো হয়।

কুড়িগ্রাম : ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত ওসি মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশনের কারণে মিথ্যা মামলায় সাংবাদিক আবু জাফরের গ্রেফতারের প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন প্রথম আলোর অফিস প্রধান সফি খান, মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি হারুন উর রশীদ ও রেজাউল করিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক ও একুশে টেলিভিশনের প্রতিনিধি খ ম আতাউর রহমান বিপ্লব, যুগ্ম-সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি নাজমুল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক জাগো বাহে পত্রিকার সম্পাদক রেজাউল করিম, দফতর সম্পাদক ও ভোরের ডাক পত্রিকার প্রতিনিধি এম. রহমান রঞ্জু, ক্রীড়া সম্পাদক ও নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির সূর্য্য, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও ইনডিপেনডেন্ট টিভির প্রতিনিধি আবদুল খালেক ফারুক, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সকালের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি গোলাম মাসুদ, কুড়িগ্রাম বার্তার সম্পাদক এবি সিদ্দিক সরকার, বাংলা ভিশনের প্রতিনিধি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার রাজু মোস্তফিজ, ডেইলি স্টার প্রতিনিধি আবদুল ওয়াহেদ, মানবজমিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মিজানুর রহমান মিন্টু, দি নিউ এজ পত্রিকার প্রতিনিধি গোলাম রব্বানী, আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার খন্দকার একরামুল হক সম্রাট প্রমুখ।

এছাড়া গ্রেফতার সাংবাদিকের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি একেএম সামিউল হক নান্টু, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু, সদর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল বাতেন, জেলা উদীচীর সভাপতি নিজামুল হক বিলু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও জীবিকার পরিচালক মানিক চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদ লাল, জেলা সুজনের সভাপতি খাইরুল আনম, সুজনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ পোস্ট পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আতিকুর রহমান সুজন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান বাবু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাঈদ হাসান লোবান, প্রবীণ ভাওয়াইয়া শিল্পী অনন্ত কুমার দেব, ভূপতি ভূষণ বর্মা, শফিকুল ইসলাম সফি, নাট্যশিল্পী আরিফুল ইসলাম রকেট, জেলা স্বজন সমাবেশের সভাপতি কবি শেখ আলমগীর কবির বাবলু, কলেজ শিক্ষক রফিকুল ইসলাম পুতুল, কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র কাজিউল ইসলাম, কুড়িগ্রাম কমিউনিস্ট পার্টির বর্ষীয়ান নেতা অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক মাহবুবুর রহমান মমিন, আক্তারুল ইসলাম রাজু, বাসদ নেতা মোনাব্বের হোসেন প্রমুখ।

চিতলমারী (বাগেরহাট) : যুগান্তরের সাংবাদিক ও কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু জাফরের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হরানিমূলক মামলার প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে চিতলমারী উপজেলা প্রেস ক্লাব। বিবৃতি দাতারা হলেন- প্রেস ক্লাবের সভাপতি এসএস সাগর, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম সাফা, সাধারণ সম্পাদক শেখর ভক্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক পংকজ মণ্ডল, সাংবাদিক প্রদীপ মণ্ডল, তাওহিদুর রহমান বাবু, দেবাশিষ বিশ্বাস, কামরুজ্জামান। বিবৃতিদাতারা সাংবাদিক আবু জাফরের মুক্তির দাবি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এছড়া যুগান্তরের গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি এসএম হুমায়ুন কবিরসহ আরাও চার সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

বাঘা (রাজশাহী) : বাঘা প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাঘা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সমকাল প্রতিনিধি আবদুল লতিফ মিঞা। সাধারণ সম্পাদক ও ইত্তেফাক প্রতিনিধি নুরুজ্জামানের পরিচালনায় বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাঘা উপজেলা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি শিক্ষক আমানুল হক আমান, অর্থ সম্পাদক, উপজেলা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি লালন উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নয়াদিগন্ত প্রতিনিধি আসলাম আলী, প্রচার সম্পাদক ও সংগ্রাম প্রতিনিধি আশরাফুল আলম, তথ্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সালাম, আলোকিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি গোলাম তোফাজ্জল কবীর মিলন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বাঘা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দিনকাল প্রতিনিধি ফজুলুর রহমান, আমাদের সময় প্রতিনিধি শাহানুর রহমান বাবু, কামরুজ্জামান রিপন, জহুরুল ইসলাম, আবদুর কাদের নাহিদ, আবদুল হানিফ, আবুল কালাম মিঠু, জহুরুল হক, কামরুল হাসান প্রমুখ। সভায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানা হয়। সাংবাদিকদের নামে করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতার সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানানো হয়।

কেশবপুর (যশোর) : কেশবপুর প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিকদের নামে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি ও তীব্র নিন্দা জানানো হয়। প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন- কেশবপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান খান (এনটিভি ও ইত্তেফাক), সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান (যুগান্তর), সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন (সমকাল), সহ-সভাপতি হাজি মোল্লা আবদস সাত্তার (সংগ্রাম), হাজী রুহুল কুদ্দুস (ইনকিলাব), যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান টুলু (নবচেতনা), অধ্যক্ষ এমআর মঈন (দক্ষিণাঞ্চল), কোষাধ্যক্ষ শামসুর রহমান (সংবাদ), দফতর সম্পাদক মশিয়ার রহমান (আলোকিত বাংলাদেশ), ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ শাহীনুর ইসলাম (করতোয়া), গ্রন্থাগার সম্পাদক শাহীনুর রহমান (ভোরের ডাক), নির্বাহী সদস্য কেএম কবীর হোসেন (জনকণ্ঠ), নুরুল ইসলাম খান (কালের কণ্ঠ), আবদুর রহমান (মানবজমিন), রুহুল আমীন খান (দেশজনতার কথা), আবদুর রাজ্জাক (আজকালের খবর), জয়দেব চক্রবর্তী (প্রতিদিনের সংবাদ), আবদুল হাই সিদ্দিক (নয়াদিগন্ত), দীলিপ মোদক (প্রথম আলো), তন্ময় মিত্র বাপী (যায়যায়দিন), জাহীদ আবেদীন বাবু (ভোরের কাগজ), আবদুস সালাম (ডেসটিনি), উৎপল দে (প্রতিদিনের কথা), রাবেয়া ইকবাল (প্রবর্তন)।

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যুগান্তরের পাঁচ সাংবাদিকের নামে মামলা এবং কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফরকে গ্রেফতারে কলাপাড়া সাংবাদিক মহল তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সাংবাদিকরা হলেন- কলাপাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন মান্নু, সাধারণ সম্পাদক মোহসীন পারভেজ, সাবেক সভাপতি ও পৌর মেয়র বিপুল হাওলাদার, সাবেক সভাপতি শামসুল আলম, হুমায়ূন কবীর, সাংবাদিক জীবন কুমার মণ্ডল, বশির উদ্দিন বিশ্বাস, বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, এনামুল হক, এসএম মোশারফ হোসেন মিন্টু, অমল মুখার্জি, নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু, অ্যাডভোকেট গোফরান বিশ্বাস পলাশ, শরীফুল হক শাহীন, নুরুল কবির ঝুনু, জসীম পারভেজ, মিলন কর্মকার রাজু, হাসান পারভেজ, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি কবির তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মিলন সরকার, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি এসকে রঞ্জন, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হক প্রমুখ। তারা অবিলম্বে সাংবাদিক আবু জাফরকে মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঘাটাইল প্রেস ক্লাব। গ্রেফতার সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করে তারা বিবৃতি দেন। বিবৃতিদাতারা হলেন- ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি খান ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুজ্জামান মিঞা, যুগ্ম সম্পাদক আবদুল লতিফ, কোষাধ্যক্ষ মো. মাসুম মিয়া, দফতর সম্পাদক এবিএম আতিকুর রহমান, সাংবাদিক সাইয়্যিফ মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ, আতিকুর রহমান, রেজাউল করিম খান রাজু প্রমুখ।

টেকেরহাট (মাদারীপুর) : ডিজিটাল আইনে করা মামলা প্রত্যাহার এবং আবু জাফরের মুক্তির দাবিতে রাজৈর প্রেস ক্লাবে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজৈর প্রেস ক্লাবের সভাপতি খোন্দকার আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে ও যুগান্তরের টেকেরহাট প্রতিনিধি ও প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক খোন্দকার রুহুল আমিনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি নিত্যানন্দ হালদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সজিব ফরাজী, সুজন হোসেন রিফাত প্রমুখ।

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) : পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে কোটালীপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদের সামনে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মিজানুর রহমান বুলু, মোল্যা মহিউদ্দিন, সুবল চক্রবর্তী, এইচএম মেহেদী হাসানাত, রতন সেন কংকন, গৌরাঙ্গ লাল দাস, জাহিদুল ইসলাম, উত্তম কুমার বাড়ৈ, সুশান্ত বর্ণিক, কালাম মৃধা, ইমরান হোসেন, আবুল বশার, রনি আহম্মেদ, প্রমথ রঞ্জন, সুমন বালা, সুজিৎ মৃধা, রুহুল আমিন ফকির, শাহ আলম মিয়া, সমীর রায়, কালীপদ দাস বক্তব্য দেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি আবু জাফরকে মুক্তি না দেয়া হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও তারা ঘোষণা দেন।

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) : যুগান্তরের নান্দাইল প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এনামুল হক বাবুলের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন নান্দাইল প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রভাষক মাহবুবুর রহমান বাবুল, সাংবাদিক সমিতির সেক্রেটারি এবি সিদ্দিক খসরু, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি মো. ইলিয়াছ উদ্দিন ফকির রঞ্জু, প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি কামরুজ্জামান খান গেনু, শামছ-ই-তাবরীজ রায়হান, মোহনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি মো. আবুল হাসেম, এসকে টেলিভিশনের প্রতিনিধি শাহাব উদ্দিন ফকির, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রফিক, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, এহতেশামুল হক শাহীন, শাহজাহান ফকির, রমজান আলী, কবি এনইউ আহম্মদ, মো. ইসলাম উদ্দিন, আবু হানিফ সরকার, মোখলেছুর রহমান, প্রভাষক আমিনুল হক বুলবুল প্রমুখ।

চিতলমারী প্রতিনিধি : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হরানিমূলক মামলার প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছেন চিতলমারী উপজেলা প্রেস ক্লাব। বিবৃতিদাতারা হলেন- প্রেস ক্লাবের সভাপতি এসএস সাগর, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম সাফা, সাধারণ সম্পাদক শেখর ভক্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ মণ্ডল, প্রদীপ মণ্ডল, তাওহিদুর রহমান বাবু, দেবাশীষ বিশ্বাস, কামরুজ্জামান। বিবৃতিতে সাংবাদিক আবু জাফরের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এছাড়া যুগান্তরের গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি এসএম হুমায়ুন কবিরসহ অন্যদের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়।

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) : মামলা প্রত্যাহার ও সাংবাদিককে মুক্তির দাবিতে বাবুগঞ্জ প্রেস ক্লাবে জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাবুগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি জহিরুল হাসান অরুণের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি মো. শাহজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহম্মাদ আলী, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মামুন, প্রচার সম্পাদক নয়ন আরিফ, সদস্য প্রভাষক সাইফুল রহিম, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়া স্থানীয় সাংবাদিকরা বিবৃতি দিয়ে মামলা প্রত্যাহার এবং আবু জাফরকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) : যুগান্তরের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফরের মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে গৌরীপুরে যুগান্তর স্বজন সমাবেশের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। হাতেম আলী সড়কের যুগান্তর স্বজন সমাবেশ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বজন সমাবেশের সভাপতি মো. এমদাদুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কবি সেলিম আল রাজ। এতে বক্তব্য দেন গৌরীপুর যুগান্তর প্রতিনিধি মো. রইছ উদ্দিন, প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, আজকালের খবরের প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান বোরহান, গৌরীপুর মানবাধিকার কমিশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল মোমেনীন, পৌর স্বজন সমাবেশের সভাপতি শ্যামল ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান মুক্তা, উপজেলা স্বজনের সহ-সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন সোহেল, মো. আবদুল মালেক, যুগ্ম সম্পাদক মো. ফিরোজ মিয়া, সহ-সম্পাদক মো. মিলন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক সামছুজ্জামান আরিফ, পরিবেশ সম্পাদক মো. ইয়াহিয়া, ব্যবসায়ী মো. সামছুল হক, স্বজন মো. শাহজাহান মিয়া, তাসাদদুল করিম, মো. মাফুজুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান সাগর প্রমুখ।

ফরিদপুর (পাবনা) : যুগান্তর প্রতিনিধি ও প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবদুল হাফিজের উদ্যোগে মানববন্ধনে সাংবাদিক, শিক্ষক, পৌর কাউন্সিলর ও ছাত্র অংশগ্রহণ করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কক্সবাজার উপকূলে হঠাৎ করে বন ধ্বংসের উৎসব শুরু হয়েছে


কক্সবাজার উপকূলে হঠাৎ করে যেন উপকূলীয় বন ধ্বংসের উৎসব শুরু হয়েছে। উপকূলের প্রাকৃতিক বন কক্সবাজারের মূল ভূখন্ডকে ঝড়-জলোচ্ছাস থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে প্রাচীর হিসেবে ভূমিকা রেখে আসলেও ভূমিগ্রাসীরা প্রাকৃতিক এই প্রাচীর কেটে সাবাড় করছেন।

জেলার চকরিয়া এলাকায় গত এক মাসে লক্ষাধিক বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে তৈরি করা হয়েছে একাধিক চিংড়ি ঘের। ভূমি গ্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্জকর পদক্ষেপ না থাকায় এভাবে চলে যাচ্ছে শত শত একর সারকারী ভূমি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় চিংড়ি ঘের তৈরির জমির পরিমান ১২ হাজার ১১০ একর। এরমধ্যে তিন হাজার ১০১ একর জমিতে অবৈধ এসব চিংড়িঘের তৈরি করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, উপকূলীয় এলাকার বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে এসব চিংড়ি ঘের তৈরি করা হয়েছে। বন বিভাগের দ্বায়িত্ব অবহেলা এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের অনেকটা সহযোগিতায় এসব কাজ চলছে বলে অনেকের অভিযোগ। এই সুযোগে দখলবাজ প্রভাবশালীদের দাপটে ওই এলাকায় সরকারের হাত ছাড়া হয়েছে সাড়ে তিন হাজার একর প্যারাবন। কক্সবাজার শহর থেকে সমুদ্রপথে ৬০ কিলোমিটার দূরে চকরিয়ার চরণদ্বীপ মৌজার গোলচর ও চিলখালীর চর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েক হাজার একর প্যারাবনের লক্ষাধিক বাইন ও কেওড়াগাছ কেটে সেখানে বিশাল আকৃতির কয়েকটি চিংড়ি ঘের তৈরি করা হয়েছে। ঘের পাহারার জন্য তিন দিকে ১২টি ঘর তৈরি করে পাহারা বসানো হয়েছে।

পাহারাদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছ, গত এক মাস ধরে তিন শতাধিক মানুষ প্যারাবনে ঢুকে অন্তত দেড় লাখ বাইন ও কেওড়াগাছ কেটে চকরিয়ার বিভিন্ন ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করা হয়। স্থানীয় চকরিয়া ও কক্সবাজারের কয়েকজন প্রভাবশালী এই প্যারাবন নিধন করে চিংড়ি ঘের তৈরি করছে বলে জানা গেছে। ১০-১৫ বছর বয়সী বড় বড় গাছ কাটা হয় করাত দিয়ে। আর ছোট গাচ গুলোতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়। স্থানীয় জে এম ঘাট এলকার অনেকেই বলেন, রাতের বেলায় পরিকল্পিতভাবে পেট্রোল ঢেলে এই প্যারাবন ধ্বংস করা হয়েছে। আগে প্যারাবনে হরিণ, বানর, বাদুড়, সাপ, বকসহ নানা পশু-পাখির বিচরণ দেখা যেত। প্যারাবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত এলাকায় কয়েক হাজার পরিবার।

স্থানীয় তরুণ কামাল আহমেদ (২৪) বলেন, কয়েক হাজার একরের প্যারাবনের লক্ষাধিক বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে নিলেও বন বিভাগ নীরব ভূমিকা পালন করে। তারা একটি গাছও উদ্ধার করতে পারেননি।

উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা গোলাম মর্তুজার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে হলে তিনি প্রভাবশালীদের ভয়ে এ প্রসঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার বলেন, ওই সব এলাকায় বাস্তবে কোন গাছ নেই বললে চলে। তাই জমিগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখতে, বেকার লোকজনের কর্মসংস্থানের সুবিধার্থে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষে নতুন করে কিছু জমি চিংড়ি ঘেরের জন্য ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি অবৈধ দখলে থাকা জমিগুলো উদ্ধারের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন। জেলা প্রশাসনের এ কর্মকর্তা বলেন, ইতিপূর্বে ১০ একরের অধিক জমি লীজ নেয়া জমিগুলো যাচাই-বাছাই করে অতিরিক্তি জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা চিংড়ি সম্পদ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা কমিটি।

পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রণমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, চকরিয়া চরণদ্বীপ মৌজায দেড় হাজার একরের বেশি এই প্যারাবনে পাঁচ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি বাইন ও কেওড়াগাছ ছিল। ইতিমধ্যে তিন লাখের বেশি গাছ কেটে চিংড়িঘের করায় উপকূলের ১০ লাখ মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অথচ বন বিভাগের কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়াও কক্সবাজার উপকূলে চিংড়ি চাষের জন্য জমি লীজ না দিতে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনাও রয়েছে।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here