ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে নরওয়ের তরুণ মুসলিমদের ভাবনা নিয়ে কী বলছেন মিনা

0
93

ওসলো: নরওয়ের মুসলিম নাগরিক মিনা তার ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একে ‘নিজের অন্তরের বিষয়’ বলে আখ্যায়িত করেন। তার কাছে ইসলাম হচ্ছে একেবারে ব্যক্তিগত বিষয় যা কারো চিন্তার বিষয় না।

নরওয়ের ওসলো বিশ্ববিদ্যালয় ‘Radicalization and Resistance’ শিরোনামে এক গবেষণায় মিনাসহ আরো ৯০ জন মুসলিমদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩২ এর মধ্যে।

নরওয়ের অনেক তরুণ মুসলিম নিজেদের ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে অন্যদের জানতে দিতে চান না। তাদের বিশ্বাস তাদের যার যার ব্যক্তিগত বিষয় এবং তাদের নিকট পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করাটা একটি সহজ কাজ।

ইদিল আবদি নামের অপর মুসলিম যিনি একটি গবেষণা প্রকল্পের সহকারী তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ অংশ গ্রহণকারী বলেছেন তাদের ধর্ম তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তারা ধর্ম সম্পর্কে বেশি কিছু বলতে চান না।’

ইদিল আবদির গবেষণা প্রকল্প ‘Young Muslim voices’ নামের একটি বই প্রকাশ করেছে।

প্রার্থনা এবং এলকোহল নিয়ে শান্ত থাকা
তাদের গবেষণা প্রকল্পে নরওয়ের প্রায় সকল স্থান থেকে আসা লোকজন অংশ নিয়েছেন একই সাথে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থকে বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসী লোকজনও অংশ নিয়েছেন।

ইদিল আবদি বলেন, ‘বেশিরভাগ সময় তাদের কাছে মসজিদে যাওয়ার সময় হয়ে উঠে না, কারণ তা বিদ্যালয় বা কর্মক্ষেত্রের সময়ের সাথে একীভূত না।’

খাদরা নামের একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, ‘আমি কি দিনে পাঁচবার সালাত আদায় করি? আমি চেষ্টা করে থাকি। আমি কি উপবাস থাকি? আমি আসলে তা পালন করি। আমি কি এলকোহল পান করি? হ্যাঁ। আমি কি শূকরের মাংস খাই? না। আমি কি শালীন পোশাক পরিধান করি? হ্যাঁ, সাধারণত।’

পুনরায় জন্ম নেয়া মুসলিম?
‘পুনরায় জন্ম নেয়া’ শব্দটি সাধারণত সেইসব খ্রিস্টানদের প্রতি নির্দেশ করে যারা সৃষ্টিকর্তার সাথে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করে। এই শব্দটিকে মুসলিমদের ক্ষেত্রও প্রযোজ্য?

ওসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং গবেষণা প্রকল্পটির প্রধান সেভিনাজ সান্ডবের্গ বলেন, ‘তারা মসজিদে যায় কি যায় না বা নীতিমালা অনুসরণ করে কি করে না এসব বিতর্কের উর্ধ্বে তারা মুসলিম।’

গবেষণায় অংশ নেয়া তরুণদের ধর্ম চর্চার ক্ষেত্র অনেকটা শিথিলতা দেখে তিনি কিছুটা বিস্মিত হয়ে পড়েন।

নিজের মতামতের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
সান্ডবের্গ মনে করেন ধর্মীয় ব্যাপারে খোলামেলা হওয়া কট্টরপন্থী চিন্তা চেতনা থেকে আমাদের রক্ষা করে।

তারা ভাষায়- ‘কট্টরপন্থীরা যা বিশ্বাস করে তার ব্যপারে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। তারা বলে তাদের নিকটে সত্য রয়েছে। কিন্তু যখন আপনার মনে ‘হতে পারে’ শব্দটা এসে যায় তখন আপনি অযথাই লোকজনদের মারতে পারেন না।’

অন্যদিকে ইদিল আবদি বলেন, ‘যদি তরুণ মুসলিমগণ তাদের মনকে উদার করতে পারেন তখন তারা হয়ত কট্টরপন্থীদের শিকারে পরিণত হতে বিরত থাকবেন।’

অনেকেই সমকামিতার বিরুদ্ধে
গবেষণায় অংশ নেয়া অনেকেই যৌন জীবনের ক্ষেত্রে শালীন। তারা বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা বা সমকামিতাকে অপছন্দ করেন কিন্তু তারা অন্যদের সম্পর্কে মন্তব্য করতে চান না। তাদের মতে শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তাই তাদের সম্পর্কে বলতে পারেন।

এন্টোন নামের একজন অংশগ্রহণ কারী বলেন, ‘এটি অনেকটা একটি ধূসর এলাকা। যদি একজন ব্যক্তি সমকামী হয় তবে আমার কাজ হচ্ছে তা সুপথ দেখানো। যদি সে আমার কথা না শোনে তবে তার জীবন তার মত চলুক। এজন্য আমি তাকে হত্যা করতে পারি না।’

তাদের মনে শরিয়া নেই
গবেষণায় অংশ নেয়া অনেক তরুণ মুসলিম আইন বা শরিয়া সম্পর্কে উত্তর দিতে অস্বস্তি বোধ করে। তারা আসলে এ বিষয়টি নিয়ে অতোটা চিন্তা করে না।

ইদিল আবদি বলেন, ‘জনগণ যেরকম জিহাদ এবং শরিয়া সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, তেমনটি আমাদের প্রকল্পে অংশ নেয়াদের মধ্যে দেখা যায় নি।’

সেভিনাজ সান্ডবের্গ বলেন, ‘আমি অবাক হয়েছি যে, এসকল অংশগ্রহণকারীর অনেকেরই এমন বন্ধু রয়েছে যারা কট্টরপন্থী বা যারা কট্টরপন্থীদের সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।’

ইসলাম সম্পর্কে জানার মধ্য দিয়ে কি কট্টরপন্থী থেকে বাঁচা সম্ভব? গবেষকদের ধারণা ধর্ম সম্পর্কে খোলাখুলি আলোচনা তরুণদের কট্টরপন্থী থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধব কট্টর পন্থা থেকে দূরে রাখে
বেশীরভাগ তরুণ মুসলিমগণ কট্টরপন্থী সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে আগ্রহী নন কারণ তারা পুলিশের নজরে পড়তে ভয় পান। তবে গবেষকরা এমন লোকদের সাথেও কথা বলেছেন যারা নরওয়ের কিছু জিহাদি দলের সাথে সংযুক্ত রয়েছেন।

সেভিনাজ সান্ডবের্গ এমন একজন তরুণ মুসলিমের কথা বলেন যিনি নরওয়ে থেকে সিরিয়ায় জিহাদে অংশ নিতে উদ্যোগী হয়ে পড়েন কিন্তু পরবর্তীতে তার বন্ধুরা এবং পরিবার তাকে এ পথ থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হন।

সিরিয়া থেকে জিহাদে অংশ নিয়ে ফিরে আসা এমন একজন মুসলিম বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াগুলো কট্টর পন্থায় ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অভাবে কট্টরপন্থার দরজা খুলে দিতে পারে

সহজীকরণ হয়ত কোনো কোনো ক্ষেত্রে শক্তি হতে পারে। কিন্তু ‘সকল কিছুই গ্রহণযোগ্য’ এ ধরনের ইসলামি বিশ্বাস যে কারো জন্য যে কোনো ভাবে ধর্মীয় গ্রন্থ ব্যাখ্যা করা সুযোগ করে দেয়।

সেভিনাজ সান্ডবের্গ বলেন, ‘ঐতিহ্যগত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের জন্য কট্টরপন্থীদের নজরে আনা কঠিন বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ উত্তর এবং উগ্রপন্থী সমাধাণ হয়ত ক্ষতির দিকে নিয়ে যেতে পারে, যদি আপনি আপনার জীবনের দিক ঠিক করতে সংগ্রাম করতে থাকেন অথবা আপনার কোনো অপরাধী মনোভাব থেকে থাকে।’

নরওয়ের পুলিশ নিরাপত্তা বিভাগের তদন্তে উঠে আসে যে, বেশিরভাগ কট্টরপন্থী উগ্রপন্থায় জড়ানোর পূর্বে কোনো না কোনো ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।

তথাপি, বেশ কিছু গবেষক বলেছেন যে, আমাদের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন যে, কট্টরপন্থীরা যে কোনো অবস্থান থেকে উঠে আসতে পারে।

উৎসঃ ‌সাইন্সনরডিক ডট কম

আরও পড়ুনঃ ইসলামবিরোধী বই লিখতে গিয়ে মুসলিম হলেন ডাচ এমপি


একসময়ে ইসলাম ধর্মের প্রবল বিরোধিতা করতেন এক ডাচ এমপি। সুযোগ পেলেই কঠোর সমালোচনা করতেন ইসলামের। লিখতে যান ইসলামবিরোধী এক বইও। অবশেষে বই লিখতে গিয়ে সেই ব্যক্তি গ্রহণ করলেন ইসলাম।এমন ঘটনা ঘটেছে নেদারল্যান্ডে।

ইসলাম গ্রহণকারী ওই ব্যক্তির নাম জোরাম ভ্যান ক্লাভিরিন (৩৯)। জোরাম ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পার্লামেন্ট ফর দ্য ফ্রিডম পার্টির (পিভিভি) সদস্য ছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালে তিনি সে দল ছেড়ে দেন।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসলামবিরোধী একটি বই লিখতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন জোরাম। সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।

ডাচ রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোরাম বলেছেন, ইসলাম সম্পর্কে বই লেখার সময় আমি অনেক বিষয়বস্তু অতিক্রম করে আসি, অনেক বিষয় জানতে পারি। যা আমার ইসলাম সম্পর্কে ধারণা বদলে দেয়।

ইসলামবিরোধী বই লিখতে গিয়ে মুসলিম হলেন ডাচ এমপি

২০১৪ সালে পিভিভি দল ছেড়ে দেওয়ার পর জোরাম নিজে একটি দল গড়েন। ২০১৭ সালে নেদারল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। কিন্তু তাতে জয়লাভ করতে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেন। পিভিভি দল করার সময় ইসলামের কঠোর সমালোচক ছিলেন জোরাম।

সংবাদ মাধ্যম এনআরসি এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, জোরাম ওইসময় ইসলাম ধর্মকে ‘মিথ্যা’ এবং কোরআন শরিফ’কে ‘বিষ’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

তবে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জোরাম। তিনি বলেন পিভিভি দল করার কারণে এসব বলতে হয়েছে যা ওই দলের পলিসি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরো পড়ুন: ‘নীচু জাতের’ ছেলের সঙ্গে প্রেম করায় মেয়েকে হত্যা করল বাবা

জোরামের আগেও পিভিভি দল ছেড়ে আরেকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

উৎসঃ ‌ইত্তেফাক

আরও পড়ুনঃ যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইসরাইল রাষ্ট্রটিকে শাস্তির আওতায় আনা: কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমার


ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমার চলতি মাসে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইরানের মত করে ইসরাইল রাষ্ট্রটিকেও শাস্তির আওতায় আনা। তিনি আরো বলেন, ইসরাইলকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় দেওয়াতে তার ‘ব্যাপক হাসির উদ্রেক করে।’

ইলহান ওমার সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণ করা ইথিওপিয়া থেকে আসা একজন অভিবাসী যিনি ডেমোক্রেট পার্টির হয়ে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে রাশিদা তালিব নামের অপর মুসলিম নারীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম কংগ্রেসওম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ইসরাইলকে বয়কট করা এবং দেশটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে মত দিয়ে থাকেন।

ইলহান ওমার ইতোমধ্যেই ইসরাইলের সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন এবং তার সাম্প্রতিক চমক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাকে শক্তিশালী powerful House Foreign Affairs Committee তে নিযুক্ত করেছেন যেটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং পররাষ্ট্র সহায়তা নিয়ে কাজ করে।

ইয়াহু নিউজের জাইনাব সালবি নামের এক সাংবাদিককে ‘Through Her Eyes’ নামে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ইসরাইল সম্পর্কে ওমারের মতামত জানতে চাওয়া হয়। জাইনাব সালবি ওমারকে উদ্দেশ্য করে বলেন,

‘আমি ইসরাইল সম্পর্কে কথা বলতে চাই কারণ এটি এখন তর্কের বিষয়। আপনার মতে যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটি দীর্ঘ মেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে?’

উত্তরে ওমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ভাবেই ইসরাইল রাষ্ট্রের পক্ষ নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন- ‘দুটো দেশকেই সমান ভাবে দেখার উদ্যোগ হিসেবে আমরা এমন পদক্ষেপ নিয়েছি যাতে করে একটি দেশকে অন্য আরেকটির উপর বড় করে দেখানো হয়। আর একে আমরা আলোচনা এবং দুই-রাষ্ট্রের মধ্যকার সমাধানের ফাঁদে পেলে দিয়েছি।’

যখন জাইনাব সালবি ওমারের উদ্দেশ্যে আরো পরিষ্কার করে বলেতে অনুরোধ করেন, উত্তরে ওমার ইসরাইলের সমালোচনা করে বলেন, ওয়াশিংটনের এমন একটি দেশের প্রতি সমর্থন করা উচিত নয়ে যে দেশটি তার ভেতরকার অ-ইহুদি নাগরিকদের প্রতি বৈষম্য করে আইন পাশ করে।

তিনি বলেন- ‘আমি যখন দেখি যে, ইসরাইল সরকার এমন আইন তৈরী করে যাতে করে ইসরাইল একটি ইহুদি রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যারা ইসরাইলে বাস করে তারা এর অংশ নয় এমন বলা হয় তখন আমরা একে মধ্যপ্রাচ্যের একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করি। আমার তখন হাসি পায় কারণ ঠিক একই কারণে আমরা অন্যদের সমালোচনা করি।’

‘আমরা ইরানের প্রতি বৈষম্য মূলক আচরণ করি। আর এখন আমি সৌদি আরবের প্রতিও এমন আচরণ দেখতে পাচ্ছি সুতরাং আমি এইসমস্ত ভিন্নতা দেখে আতঙ্কিত হই।’

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনাজামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির উদ্যোগে একটি আইন পাশ হয়। এই আইনে আরবীকে ইসরাইলের বেসরকারি ভাষা করা হয়, আইনি ক্ষেত্রে ইসরাইলকে একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ইসরাইলিদের সমতার ব্যাপারটি উহ্য রাখা হয়।

এদিকে Democratic Majority for Israel এর প্রধান মেলাম্যান বলেন, ‘ইসরাইল এমন একটি দেশ যা এখানে বসবাস কারী সকলের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। এবং ইসরাইলের আদালতসমূহে আরব এবং ইহুদি দুই জাতির বিচারক রয়েছেন।’

তিনি ইলহান ওমারের সমালোচনা করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্যদের উচিত কথা বলার পূর্বে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জেনে নেয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে সত্য জানানো। আর এ দিক থেকে কংগ্রেসওম্যান ওমার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।’

উৎসঃ ‌টাইমস অফ ইসরাইল ডট কম

আরও পড়ুনঃ ফিলিস্তিনিদের অধিকারের বিষয়ে আমরা চুপ থাকব না: এরদোগান


সামরিক শক্তিতে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছেন,তার দেশ ফিলিস্তিনীদের পাশে রয়েছে, এবং কোনো চাপের মুখে তুরস্ক ফিলিস্তিন সমস্যার ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, ইসরাইলি পার্লামেন্টের আরব সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট এরদোগান এসব কথা বলেন।

মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী এ নেতা বলেন, আঙ্কারা সবসময় ফিলিস্তিনি মাজলুমদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। ফিলিস্তিনিদের পাশে থেকে আমরা কখনো সরে যাবো না, ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান আরও বলেন, ইসরাইলি দখল থেকে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করা, ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীকার প্রতিষ্ঠা আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার।

এ বিষয়ে আমরা কখনো নমমীয় হইনি। ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বের প্রতিটি সংস্থাকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এরদোগান।

বৈঠকে ফিলিস্তিন বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখায় ইসরাইলি পার্লামেন্টের আরব সদস্যরা তুর্কি প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান। প্রেসিডেন্ট এরদোগানও ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় তাদের ধন্যবাদ জানান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কন্যার ইসলামে ধর্মান্তরের প্রতি সমর্থন জানানো অমুসলিম চীনা পিতার গর্ববোধ


সিঙ্গাপুর: এটি বাস্তব সত্যি যে, একজন কন্যার জন্য তার পিতার ভালোবাসার চাইতে বড় কিছু হতে পারে না। আর একজন সমর্থনকারী পিতার এই হৃদয়স্পর্শী গল্প আপনার মন ছুঁয়ে যাবে যিনি শুধুমাত্র তার কন্যা সুখী হওয়ার প্রার্থনা করেন।

লি জিনগহান নামের সিঙ্গাপুর-চীনা বংশোদ্ভূত একজন নারী চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ফেইসবুকে একটি গল্প শেয়ার করেন যেখানে দেখা তার পিতার সাথে একজন মালয়েশিয়ান লোকের কথোপকথন হচ্ছে। সেখানে তার পিতা মালয়েশিয়ান লোকটিকে ব্যাখ্যা করে বলছেন যে, কেন তিনি তার কন্যার ইসলাম ধর্ম গ্রহণকে অনুমোদন করেন।

২৯ বছর বয়সী এই নারীর বর্তমান নাম হচ্ছে- নুর জিহান লি।

এত সবকিছুর শুরু হয়েছিল যখন তার পিতা লি সুন কুন একজন মালয়েশিয়ান Carousell(সিঙ্গাপুরের একটি সামাজিক মার্কেটপ্লেস যেখানে লোকজন তাদের জিনিসপত্র বিক্রয় এবং ক্রয় করতে পারেন) বিক্রেতার সাথে নুর জিহান লির পরিচয় করিয়ে দেন যাতে তিনি তার পক্ষ হয়ে কিছু পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

কিন্তু মালয়েশিয়ান বিক্রেতাটি নুর জিহান লির পিতাকে দেখে অবাক হয়ে যান কেননা তিনি ধারণা করেছিলেন লোকটি একজন মালয়েশিয়ান হবেন।
লি সুন কুন, নুর জিহান লির বাবা এ কথা জানতে পেরে মালয়েশিয়ান বিক্রেতাটি আরো অবাক হয়ে যান, কারণ লি সুন কুন তার কন্যার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ অনুমোদন করেছেন। তার ধারণা অধিকাংশ চীনা পিতামাতা এমন উন্মুক্ত মনের অধিকারী নন।

নুর জিহান লি তার ফেইসবুকে তার পিতা এবং মালয়েশিয়ান বিক্রেতার সাথে হওয়া কথোপকথনটি প্রকাশ করেন যেখানে লির পিতা তার সম্পর্কে বলেন, ‘সাদামাঠা, আমি এখনো তাকে নিয়ে গর্ববোধ করি।’

এর পরে তিনি বলেন, ‘আমি সুখ সাধনা সম্পর্কে গভীরভাবে অনুভব করি। জীবনের আসল উদ্দেশ্য কি? সুখ খুঁজে বেড়ানো।’

নুর জিহান লির পিতা আরো বলেন, ‘প্রত্যেক ধর্মই সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। যদি তুমি আমায় বল যে, এই ধর্ম তোমাকে সুখী করেছে তবে আমি তোমাকে বাধা দান করবো কেন?’

এর পরে নুর জিহান লি তার ফেইসবুকে বলেন, ‘সমাজ এ সম্পর্কে ঠিক কি ভাববে তিনি তা নিয়ে চিন্তিত নন, তিনি একইভাবে আমাদের আত্মীয় স্বজন আমার ইসলাম গ্রহণ করাকে কিভাবে মেনে নিবে তা নিয়েও চিন্তিত নন, আর এর মাধ্যমে আমি আমার পিতার সাথে তার প্রিয় বার্বি কিউ খাওয়ায় অংশ নিতে পারবো না তা সম্পর্কে কি আসে যায় তাতেও তিনি বিচলিত নন। তার মূল উদ্বিগ্নতা আমার সুখী হওয়া নিয়ে।’

নুর জিহান লির ফেইসবুক পোস্টটি ইতোমধ্যেই ৫,০০০ বারের বেশী শেয়ার হয়েছে এবং তাতে ১৪,০০০টি লাইক করা হয়েছে একই সাথে সত্যের পথে অবিচল থাকার জন্য সাধুবাদ জানিয়ে নুর জিহান লিকে উদ্দেশ্য করে অনেক মন্তব্য করা হয়েছে। আর তার পিতাকে লির প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য ধন্যবাদ দেয়া হয়েছে।

নিচে নুর জিহান লির ফেইসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হলো:
গত সপ্তাহে আমার পিতা আমার কাছে জানতে চেয়েছিল যে, আমি ‘Carousell’ কোনো কিছু নিতে চাই কিনা। আমি তার সাথে একটি চুক্তি করেছিলাম এবং আমার ঠিকানা দিয়েছিলাম।

যখন তিনি আমাদের ঠিকানায় আসেন, তিনি খুবই দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েন কারণ তিনি ভেবেছিলেন আমরা মালয়েশিয়ান হব।
তিনি (Carousell) বলেন: আপনারা চীন দেশের? আমি ভেবেছিলাম আপনারা মালয়েশিয়ান!

আমার পিতা বলেন: না, সে আমার মেয়ে।

লোকটি বলেন: কিন্তু আপনার মেয়ে হিজাব পরিধান করে আছে। আপনারা চীনা মুসলিম, না?

আমার পিতা উত্তরে বলেন, আমার মেয়ে চীনা মুসলিম, সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে (আমার পিতা এখনো মুসলিম এবং ইসলাম এ দুটোকে আলাদা করতে পারছেন না)।

লোকটি বলেন: ওয়াও! আপনি তাকে ইসলাম গ্রহণ করতে অনুমোদন দিয়েছেন? তাকে থামান নি?

আমার পিতা বলেন: কখনোই নয়, আমি তাকে সমর্থন করি!

লোকটি বলেন: ওয়াও, আপনি আসলেই খুব ভালো। কিন্তু কেন আপনি সমর্থন করেন?

আমার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে লোকটির আগ্রহ দেখে আমার পিতা খুব পুলকিত অনুভব করলেন। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন যে, ‘কেন লোকজন এ কথা জানতে পেরে অবাক হয়ে পড়ে যে, আমি তোমাকে ইসলাম গ্রহণে অনুমোদন দিয়েছি?’

আমি এর উত্তরে বলেছিলাম: ‘কারণ আপনার মত মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! বেশীরভাগ পিতামাতা তাদের সন্তানদের ধর্মান্তরকে মেনে নেন না। সত্যিকার অর্থে, বাবা কেন তুমি আমাকে ধর্মান্তরিত হতে অনুমোদন দিয়েছ?’

আমার পিতা উত্তরে বললেন: কারণ আমি জীবন সম্পর্কে সত্যটা অনুভব করি। কারণ আমি জীবনের সুখ সাধনা অনুভব করতে পারি। জীবনের আসল উদ্দেশ্য কি? সুখ খুঁজে বেড়ানো। ভিন্ন ভিন্ন লোক ভিন্ন ভিন্ন জিনিসে সুখ খুঁজে পায়। কেউ সুখ খুঁজে পায় সম্পদে, কেউ পরিবারে, কেউ কেউ ধর্মে…
পিতামাতা সবসময় কি চায়? তারা চায় যাতে তাদের সন্তানরা সুখে থাকে।

প্রত্যেক ধর্মই সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। যদি তুমি আমাকে বল যে, এই ধর্ম তোমাকে খুশি করেছে, তবে কেন আমি তোমাকে বাধা দিব?

উৎসঃ ‌এশিয়াওয়ান ডট কম

আরও পড়ুনঃ অন্ধকার জগত থেকে মার্কিন ফটোগ্রাফার নিকোল কুইনের ইসলামে ধর্মান্তিত হওয়ার গল্প


টেক্সাস: আমেরিকান মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট নিকোল কুইন একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম, ১৯৮১ সালে হিউস্টনের এক খ্রিস্টান পরিবারে তার জন্ম। তিনি পেশায় একজন পেশাদার ফটোগ্রাফার।

আমেরিকার শহর হিউস্টন, অরেঞ্জ এবং টেক্সাসে বড় ভাই জোয়ের সঙ্গে তার ছোটবেলার অধিকাংশ সময় কেটেছে। ৮ বছর বয়সে নিকোল ও তার ভাই জোয়ি তাদের পালিত বাবা-মা’র সঙ্গে ডালাসের দক্ষিণে অবস্থিত একটি ছোট্ট শহরে চলে আসেন এবং তার স্নাতক শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন।

১৭ বছর বয়সে নিকোল ‘পামার হাই স্কুল’ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং তার জীবন শুরু করার জন্য নিজের অ্যাপার্টমেন্টে চলে যান। নিকোল তার নিজের ব্যয়-ভার বহনের জন্য ফটোগ্রাফির ওপর কোর্স করেন এবং ফটোগ্রাফি স্টুডিওতে তার কর্মজীবন শুরু করেন।

মাত্র দুই বছরে মধ্যে নিকোল একটি ফটোগ্রাফি স্টুডিও পরিচালনা করতে সক্ষম হন এবং বিভিন্ন রাজ্যে ভ্রমণ করতে থাকেন। টানা কয়েক বছর শহর থেকে শহরে ছুটে বেড়ানোর পর তিনি নিউইয়র্কে একটি স্টুডিও পরিচালনা করতে শুরু করেন। এই সময়ের মধ্যে নিকোল তার দক্ষিণের শিকড়কে অনুভব করেন এবং নিজের ফটোগ্রাফির ব্যবসা শুরু করার জন্য টেক্সাসে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।

তার নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এবং কাজের জন্য বিভিন্ন শহরে ভ্রমণে নিকোল একটি অস্থায়ী জীবনধারার স্বাদ লাভ করেন। তিনি যেখানেই থাকতেন না কেন, সেখানে তিনি কখনো তার শিকড় রাখতেন না এবং নিজের জীবনকে একটি বিশাল সুযোগ হিসেবে দেখেন।

সামাজিককরণের ক্ষেত্রে নিকোল ছিলেন অত্যন্ত স্বাভাবিক একজন মানুষ। বিভিন্ন শহরে তার বসবাসের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অত্যন্ত দ্রুত বন্ধু তৈরি করতে শিখেন এবং তা অতি দ্রুত ছুড়ে ফেলেও দিতেন।

তিনি ‘নাইটলাইফ’ দৃশ্যকে তার নিজের ফটোগ্রাফি ব্যবসায় ফোকাস করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এতে তিনি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। তিনি খুব দ্রুতই ডালাসের একমাত্র নারী ‘নাইট লাইফ’ ফটোগ্রাফার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন এবং পার্টি শিল্পের বড় বড় ক্লায়েন্টস অর্জন করেন।

ফটোগ্রাফি ব্যবসার কারণে জাস্টিন টিম্বারলেক, টিম্বারল্যান্ড, কেট হুডসন, টমি লি’র মতো নামকরা অগণিত ক্রীড়াবিদ, অভিনেতা ও মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। প্রতিটি রাতে নিকোল বিভিন্ন ক্লাবে রাত ৩টা পর্যন্ত কাটাতো এবং দুপুর পর্যন্ত ঘুমাতো। মদ্যপান ছিল তার একটি স্বাভাবিক অভ্যাস এবং এটি তার জীবনধারার অংশ হয়ে ওঠে।

এভাবে নিকোলের আত্মা অনুভূতি হারিয়ে ফেলতে শুরু করে। তার জীবনে আরো বেশি কিছুর প্রত্যাশা করেন এবং জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কে অন্যদের সঙ্গে গভীর কথোপকথনে নিজেকে জড়িত করতেন। ক্লাব, পার্টি ও লোভের দ্বারা পরিবেষ্টিত বহু বছরের বস্তুবাদী জীবনধারার পর নিকোল আত্মার সন্ধান শুরু করেন এবং মাত্র দুই বছরের মাথায় তিনি ইসলামি বিশ্বাসে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানত না।

জীবনের অর্থ খোঁজার সময় পৃথিবীর সব অংশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বন্ধুরা তাকে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এক রাতে শুটিং শেষে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তার সঙ্গে বন্ধু তৈরি করেন। তার বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই মুসলিম ছিলেন। কিন্তু তারা সবাই একই ভাবে নিকোলের মতোই জীবন-যাপন করতেন।

ধর্মীয় মানুষ হিসাবে তারা কখনো নিকোলের মনোযোগ আকর্ষন করত না। তার নতুন আত্মার অনুসন্ধানের দুঃসাহসিক যাত্রায় তার নতুন মুসলিম বন্ধুটি তার সঙ্গে ঘন্টার পর ঘণ্টা কথা বলতেন। তারা জীবন, অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত সম্পর্কে কথা বলতেন এবং তারা উভয়েই তাদের বর্তমান অবস্থানের চেয়ে বিশ্বকে আরো বেশি কিছু অফার করার অনুভূতি অনুভব করতেন।

নিকোল অনেকগুলো উৎস থেকে ইসলাম সম্পর্কে শুনেছেন কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রভাবটি এসেছে ইসলামের সঙ্গে তার প্রকৃত অভিজ্ঞতা থেকে। ইসলামি বিশ্বাসের শৃঙ্খলা তাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে।

মদ্যপান না করেই কিংবা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত না হয়ে কীভাবে মুসলমানরা তাদের জীবনযাপন করতে পারে এবং ক্লাব-পার্টিতে সময় নষ্ট না করে তারা তাদের জীবনকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে- তা নিকোলের মনে বিস্ময়ের জন্ম দেয়।

তিনি অনলাইনে ইসলামের সঙ্গে নিজেকে আবিষ্ট করে ফেলেন। ইসলাম গ্রহণকারী মুসলমানদের সম্পর্কে জানতে কখনো কখনো তিনি সমস্ত রাত পার করে সূর্যোদয় পর্যন্ত ইউটিউবে ভিডিও দেখছেন। ইসলাম গ্রহণকারী এসব মুসলমানদের কাহিনী তার জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল কারণ এই লোকেরা একই ধরনের আকাঙ্খার কারণে তারা ইসলামের শান্তি খুঁজে পেয়েছিল।

ইসলাম নিয়ে নিকোলের ক্রমবর্ধমান নানা প্রশ্ন আর তার মনোযোগের বিষয়টি বেশ ভালভাবেই খেয়াল করেন ওই মুসলিম যুবকটি। তিনিই তাকে প্রথম ইংরেজি ভার্সনের একটি কোরআন উপহার দেন। এছাড়াও, মসজিদের মুসলিম শ্রেণির সম্পর্কে তিনি নিকোলকে ধারণা দেন। ইসলামের সৌন্দর্যের জন্য নিকোলের প্রশংসা যুবকটিকে উৎসাহিত করে নিকোলকে ইসলামের সঙ্গে আরো বেশি ঘনিষ্ট করে তুলতে।

একসময় তারা ধীরে ধীরে তাদের ঘনিষ্টতা কমিয়ে দেন এবং প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব উন্নতির দিকে ফোকাস করার সিদ্ধান্ত নেন। এভাবে মাসের পর মাস পেরিয়ে যেতে থাকে এবং ধীরে ধীরে নিকোল তার জীবনের জন্য ভালবাসা অনুভব করতে থাকেন এবং তার হৃদয়ে ঈশ্বরের ভাবনা গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে কঠোর পরিবর্তন দেখে তার পার্টির বন্ধুরা বিভ্রান্ত হয়ে যান।

টানা ৫ থেকে ৬ মাস ইসলাম নিয়ে অধ্যয়নের পর নিকোল তার জীবনে উন্নতি দেখতে পায়। ইতোমধ্যে তার হৃদয়ে কালেমা ‘শাহাদা’ ঘোষণার অনুভূতি জাগ্রত হয় এবং নিকোল সিদ্ধান্ত নেয় যে বিষয়টি অন্যদের কাছে ঘোষণার জন্য তিনি প্রস্তুত আছেন।

লজ্জা ও অস্বস্তিকর অবস্থা দূর করতে পরামর্শের জন্য তিনি তার পুরানো মুসলিম বন্ধুটির শরণাপন্ন হন। তখনো পর্যন্ত তার ইসলামের অধ্যয়নে নিবেদিত থাকার বিষয়ে মুসলিম বন্ধুটি অবাক হয়ে যান এবং অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে তিনি তার ইসলাম গ্রহণের সব আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করেন।

ইতোমধ্যে নিকোল কয়েকজন মুসলিম নারীর সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করেন। তিনি তার মেয়ে বন্ধুদের নিয়ে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের কক্ষে প্রবেশ করেন। কালেমা শাহাদা পাঠের জন্য তাকে প্রস্তুত করতে ওই নারীরা তাকে সাহায্য করেন। নিকোলের কথায় ‘তারা ছিল খুবই হেল্পফুল’ এবং এজন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন।

কালেমা পাঠের জন্য নিকোল লম্বা একটি সাদা লিনেন স্কার্ট পরেন এবং মাথায় হিজাব পরিধান করেন। নতুন বান্ধবীরা তাকে ওজু এবং স্কার্ফ পরতে সাহায্য করেন। ডাঃ ইউসুফ জিয়া কাভাসি নামে তুর্কি বংশোদ্ভূত একজন ইমাম তাকে কালেমা পাঠ করান।

ইসলামের প্রথম এই যাত্রায় নিকোলের চোখ-মুখে গোলাপী আভা ফুটে ওঠে। শাহাদা পাঠের আগে ইমাম তার কাছে জানতে চান-তিনি যা করতে যাচ্ছেন তা সুস্থ মস্তিস্কে করছেন কিনা। এরপর ইমাম তার নিকট কালেমার অর্থ সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি তাকে ইংরেজি ও আরবি উভয় ভাষাতেই কালেমা পাঠ করান।

ইসলাম গ্রহণের পর নিকোলের জীবন পুরো বদলে যায়। তিনি তার ‘নাইটলাইফ’ ফটোগ্রাফির কাজ ছেড়ে দেন এবং ডালাসের শহরতলিতে একটি বৃহৎ কর্পোরেশনে ডে শিফ্টের নতুন চাকরি খুঁজে পান।

ইসলামের প্রতি তার দৃঢ় একাগ্রতা তাকে মহান আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে তার সম্পর্ক বৃদ্ধি পেতে থাকে। একদা মদ্যপান ও পার্টিতে সময় কাটানো নিকোল এখন ইসলাম সম্পর্কে আরো বেশি করে জানতে তার নতুন মেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং মসজিদে গিয়ে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন।

শাহাদা ঘোষণার কয়েক মাস পর নিকোল ইসলাম সম্পর্কে আরো জানার গভীর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। এজন্য তিনি একটি মুসলিম দেশ সফর করার জন্য দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন। আমেরিকার বাইরে অন্য কোথাও যাওয়ার কোনো অভিজ্ঞতা তার ছিল না।

নিকোল বলেন, ‘মুসলিম দেশে বসবাসকারী মানুষেরা কিভাবে জীবন যাপন করে, কেমন করে ধর্ম-কর্ম করে একজন মুসলিম হিসাবে সে সম্পর্কে আরো জানতে চেয়েছিলাম।’

নিকোল তার এই আকাঙ্ক্ষার কথা তার একজন মুসলিম ছেলে বন্ধুর কাছে জানান। ওই বন্ধুটি জর্ডানে তার পরিবারের কাছে নিকোলের ইচ্ছার কথাটি জানান এবং জর্ডান সফরে নিকোলকে তার পরিবারে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। ২০০৮ সালের নভেম্বরে নিকোল প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্য সফর করেন।

মধ্যপ্রাচ্য সফর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একাকি জর্ডান সফরের ব্যাপারে আমি খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিলাম। আমি সেখানকার খুঁটিনাটি সবকিছুই দেখতে চেয়েছিলাম। এটা খুবই মজার ছিল কারণ যারা আমাকে দেখেছিল, তারা ধরেছিল যে আমি জর্ডানেরই নাগরিক।’

সেই স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সেখানকার অধিকাংশ মেয়েই হিজাব পরিধান করে। আমিও চেয়েছি তাদের মতো করে এটি পরতে। সেখানে আমার অতিথি মায়ের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ। তিনিও হিজাব পরতেন এবং আমাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন।’

তার অতিথি পরিবারটি তাকে তাদের মেয়ের মতোই আদর করত এবং তাকে তাদের পছন্দের রেস্টুরেন্ট, দোকান এবং কফি হাউসে নিয়ে যেত।

সেখানকার প্রায় ৩০ শতাংশ মেয়েই হিজাব পরিধান করে না এবং তারা সাধারণত প্রকাশিত পশ্চিমা পোশাক পরিধান করেন। এই বিষয়টি নিকোলকে বেশ কষ্ট দেয়।

আম্মানের নতুন পরিবেশে হিজাবে নিকোল তার নিজেকে অত্যন্ত পবিত্র অনুভব করেন এবং অন্যদের কাছ থেকে অনেক প্রশংসা কুড়ান। এটি তার আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছিল। নিজ দেশে ফিরে গিয়ে হিজাব চেড়ে দেয়ার চিন্তাটি তিনি ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন।

নিকোল বলেন, ‘মাত্র ৩০ দিনের জন্য যদি কেউ হিজাব পরিধান করে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি তিনি এটি কখনো ছাড়তে পারবেন না। এটি তার অন্তরে অন্যরকম সুখের অনুভূতি নিয়ে আসবে।’

নিকোল জর্ডান থেকে টেক্সাসে ফিরে আসেন এবং তার জর্ডানী মুসলিম বন্ধুটির সঙ্গে তার নতুন অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য অত্যন্ত উদগ্রীব ছিলেন। সকালে ফজরের নামাজের জন্য মুসলিম বন্ধুর মা তাকে প্রতিদিন জাগিয়ে তুলতেন এবং সূর্যাস্তের সময় তাদের আম্মানের শ্বেত পাথরের ঘর থেকে তাকে সূর্যের বিভিন্ন রঙের বর্ণালী দেখাতেন। এসব বিষয় তিনি অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে মুসলিম বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করেন।

আজ থেকে ৪ বছর আগে নিকোল ইসলামে ধর্মান্তরিত হন এবং এটি এখনো তার কাছে নতুন অনুভূতি জন্ম দিচ্ছে বলে তিনি জানান। তার মুসলিম বন্ধুটি পরে তার নিজের ব্যক্তিগত যাত্রা শুরু করেন এবং মক্কা থেকে হজ করে ফিরে আসার পরই তিনি নিকোলের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তার পরিবারের সম্মতিতে জর্ডানের রাজধানী আম্মান তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

হাসান (নিকোলের মুসলিম বন্ধু) এবং নিকোল দম্পতি বর্তমানে ডালাস শহরের টেক্সাসে অত্যন্ত সুখেই বাস করছেন। নিকোল তার স্বামীর সহায়তায় দাওয়াতের মাধ্যমে তার জীবনের উদ্দেশ্য অব্যাহত রেখেছেন। দাওয়াতি কাজের জন্য তিনি তার নিজস্ব ওয়েবব্লগ চালু করেছেন, www.QueensofIslam.com।

নিকোল তার ব্লগে বলেন, ‘আমার ইসলামে ধর্মান্তর যাত্রায় আমি যে সকল সমস্যার মোকাবেলা করেছি, তা যাতে অন্যরা না করে-এই উদ্দেশ্য নিয়েই আমার এই দাওয়াতি ব্লগ।’

এছাড়াও তিনি আমেরিকার মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে দাওয়াত, ইসলামে ধর্মান্তর, জনগণের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্কে নিয়মিত কথা বলেন।

আল জাজিরার ‘ইসলাম ইন আমেরিকা’, আলজেরিয়া টিভির ‘দ্য চুজ ইসলাম’ এবং রাষ্ট্রদূত আকবর আহমেদের ‘জার্নি ইন্টু আমেরিকা’ তথ্যচিত্রের মাধ্যমে নিকোলকে তুলে ধরা হয়েছে।

সম্প্রতি নিকোল ও হাসান আমেরিকায় ইসলাম সম্পর্কে বিবিসির ডকুমেন্টারিটিতে অংশ নেন। ডকুমেন্টারিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আপনি চাইলে নিকোলের ফ্যামিলি ব্লগ অনুসরণও করতে পারেন। নিকোলের ফেসবুক পেজ দেখতে ক্লিক করুন এখানে।

উৎসঃ ‌নিকোল কুইন ডটকম অবলম্বনে

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here