দেশ ভয়াবহ সংকটে, উত্তরণে দরকার বৃহত্তর ঐক্য: মির্জা ফখরুল

0
117

দেশে এক ভয়াবহ সংকটে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশে একদলীয় শাসন ভর করেছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। বিচারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সবমিলিয়ে বিপর্যয়ের মুখে মাতৃভূমি। এই সংকট থেকে উত্তরণে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য দরকার।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে একথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বিএনপি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। অবিলম্বে তার মুক্তি দিতে হবে।

সরকার প্রশাসনকে দখল করে ক্ষমতায় টিকে আছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ৩০ ডিসেম্বর এদেশে কোনো ভোট হয়নি। আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। সরকার জোরজবরদস্তি করে টিকে আছে। প্রশাসনকে ব্যবহার করে মসনদ সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছে।

সরকার দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। জনগণের কাছ থেকে দেশের মালিকানা কেড়ে নেয়া হয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে শেষ করে দেয়া হয়েছে। দেশ এক মহাবিপর্যয়ের মুখে।

এই বিপর্যয়ের হাত থেকে মাতৃভূমিকে রক্ষায় দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ বৃহত্তর ঐক্য দরকার। এটি ছাড়া জনগণের মুক্তি সম্ভব নয়। খালেদা জিয়ার মুক্তিও সম্ভব নয়।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আরও কর্মসূচি দেয়া হবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সবার চাওয়া একটি, সেটি হচ্ছে গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি। সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মাঠে নামতে হবে। আন্দোলন করতে হবে।

মানবন্ধনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, যু্গ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয়, মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘অস্বাভাবিক’ দুর্নীতির কারণে আওয়ামী লীগ সরকারকে চড়া রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবেঃ আব্দুর রাজ্জাক


বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে সেটিকে ‘দিনে-দুপুরে ডাকাতি’ বলে বর্ণনা করেছেন সরকারের কৃষিমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক।

এসব দুর্নীতির কারণে ক্ষমতাসীন দলের জন্য ‘রাজনৈতিক মূল্য’ অনেক বেশি হতে পারে মি: রাজ্জাক উল্লেখ করেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরতদের জন্য আবাসিক এলাকায় আসবাবপত্র কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সম্প্রতি একটি সরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে একটি পর্দা কেনা হয়েছে ৩৭ লাখ টাকায়।

এসব দুর্নীতিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে বর্ণনা করেন আব্দুর রাজ্জাক।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “এগুলো হলো একদম দিনে-দুপুরে ডাকাতি কিংবা সিঁদ কেটে চুরি করা ছাড়া কিছুই না। একজন সরকারি কর্মকর্তার এতো বড় সাহস কোথা থেকে আসে!”

বালিশ ক্রয়ে দুর্নীতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল

তিনি বলেন, এতে সরকার এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকার ভীষণ উদ্বিগ্ন বলে উল্লেখ করেন মি: রাজ্জাক।

“আমাদের যত অর্জন সাফল্য সবই ম্লান হয়ে যাচ্ছে, সব ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। বরং কালিমা লেপন হচ্ছে।”

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা বালিশ এবং পর্দা ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি হালকা-ভাবে উপস্থাপন করলেও মি: রাজ্জাক বলছেন ভিন্ন কথা।

তিনি মনে করেন, এগুলো ‘ছোটখাটো’ কোন বিষয় নয়। “ছোটখাটো বিষয় হবে কেন? যারা এগুলো করতে পারে তারা বড়ও করতে পারে,” বলছিলেন মি: রাজ্জাক।

রাজনৈতিক সদিচ্ছা কতটা?

দুর্নীতি বিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে সরকারের মধ্যে ‘দ্বিমুখী চিত্র’ প্রকাশ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা বললেও যারা এটি বাস্তবায়ন করবেন, তাদের একটি অংশের মধ্যে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্নীতির ঘটনাগুলোকে অস্বীকার করার মানসিকতা দেখা যায়।

“এ ধরণের বক্তব্য যখন আসে তখন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যারা জড়িত, বিচারিক কিংবা তদন্ত প্রক্রিয়ায় যারা জড়িত তাদের কাছে এক ধরণের রং মেসেজ (ভুল বার্তা) পৌঁছায়,” – বলছিলেন মি: জামান।

তবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নেই।

মি: রাজ্জাক বলেন, দুর্নীতি কমানোর জন্য এরই মধ্যে সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

উৎসঃ বিবিসি বাংলা/

আরও পড়ুনঃ এই হাতকড়া শেখ হাসিনার অপেক্ষায়!


কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার কারাগারে আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির পাবনা সদরের স্মরণকালের উন্নয়নের প্রকৃত রূপকার হিসেবে পরিচিত সাবেক এমপি মাওলানা আব্দুস সোবহান গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুশয্যায়।

শেখ হাসিনার তৈরি করা কথিত যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। শুধু মাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই শেখ হাসিনা কথিত যুদ্ধাপরাধের মিথ্যা ও বায়বীয় অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে তাকে কারাবন্দী করে রেখেছে। মাওলানা সোবহানের আদর্শ, নীতি, সততা, এলাকার উন্নয়ন এবং বিশাল জনপ্রিয়তাই হলো বড় অপরাধ। এই অপরাধেই তিনি আজ স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার জুলুম-নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার।

জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে কারাগারে পড়ে গিয়ে বাম হাতে প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছেন মাওলানা আব্দুস সোবহান। কিন্তু, এত বড় একটা আঘাত পাওয়ার পরও কারারক্ষীরা তার কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি। এ নিয়ে আইজি (প্রিজন্স) অফিস ও আদালতে দুই মাস দৌড়াদৌড়ির পর তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

সচেতন মহল বলছে, ৯২ বছর বয়সের এমন একজন বয়ো:বৃদ্ধ আলেমের সঙ্গে শেখ হাসিনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে বর্বরোচিত ও অমানবিক আচরণ করেছে তা নজিরবিহীন। হাসপাতালের বেডে মাওলানা সোবহানকে হাসিনার পুলিশ বাহিনী হাতে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে চিকিৎসা দেয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছবি দেখে নিষ্ঠুর জালিম, স্বৈরাচারী হাসিনাকে ধিক্কার জানানোর ভাষা মানুষ খুঁজে পাচ্ছে না।

তার ভক্তরা এই ছবি শেয়ার করে তাদের মনের আকুতি জানিয়েছেন। অনেকেই লিখেছেন, প্রতিহিংসারও তো একটা সীমা থাকে। কিন্তু শেখ হাসিনা সকল সীমা অতিক্রম করেছে।

আল মামুন নামে একজন লিখেছেন, এই অবিচারের শেষ কোথায়? এ দৃশ্য দেখার পরও কি এমপিদের মান যায় না! বর্তমান এমপিরাও একদিন সাবেক হবেন। তখন যদি তাদেরকেও রাজনৈতিক রোষানলে এভাবে হাতকড়া আর ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখে কেউ, তবে কি তখন তাদের ভালো লাগবে? তাদের মান সম্মানের হানি হবেনা?

কার নির্দেশে এবং কেন একজন সাবেক এমপিকে হাতকড়া পরানো হলো তা আপনারা খতিয়ে দেখুন। মেহেরবানী করে মনে রাখবেন, সম্মান দিলে সম্মান পাওয়া যায় আর হিংসা বিদ্বেষ শত্রুতা ছড়ালে সেটাই মেলে। ইতিহাস কিন্তু তা-ই বলে।

শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে হত্যার কথা কি শেখ হাসিনা ভুলে গেছে? ভুলে গেলে চলবে না। ফাঁসির এই রশিগুলো শেখ হাসিনার জন্যও প্রস্তুত হচ্ছে।

শেখ হাসিনা কি ভুলে গেছে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সেই নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের কথা? সেদিন ছাত্রলীগ-যুবলীগের কুলাঙ্গার নরপশুরা শেখ হাসিনার নির্দেশেই পল্টনে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদেরকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছিল। শেখ হাসিনা সেই দৃশ্য ভুলে গেলেও এদেশের মানুষ কিন্তু ভুলে যায়নি।

শেখ হাসিনা কি ভুলে গেছে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির পিলখানার সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা? সেদিন দাদা বাবুদের নির্দেশে শেখ হাসিনাই দেশপ্রেমিক ৫৭ জন সেনা অফিসারকে হত্যা করেছিল। শেখ হাসিনা ভুলে গেলেও মানুষ কিন্তু ভুলে যায়নি।

বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলী, অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে আমান আযমী, মীর কাশেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আরমান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্র আল মোকাদ্দেস ও অলিউল্লা, ছাত্রদল নেতা নুরসহ বিএনপি, ছাত্রদল, জামায়াত ও শিবিরের হাজারো নেতাকর্মীকে গুম করে হত্যার কথা কি শেখ হাসিনা ভুলে গেছে? এসব ভুলে থাকা যাবে না। এদেশের মানুষ একদিন সবগুলো হত্যাকাণ্ডই শেখ হাসিনাকে স্মরণ করিয়ে দেবে।

অনেকেই বলছেন, শেখ হাসিনা মনে করছে ক্ষমতা তার চিরস্থায়ী হয়ে গেছে। এটা তার ভুল হিসাব। ক্ষমতা তাকে একদিন ছাড়তেই হবে। আর ক্ষমতা ছাড়ার পরই শুরু হবে তার জবাবদিহীতার পর্ব। আজকে বিএনপি-জামায়াতের নেতাদেরকে তিনি যেভাবে নির্যাতন, নিপীড়ন ও অপমান করছে, এ পরিস্থিতির শিকার একদিন তাকেও হতে হবে। অগণিত মানুষ হত্যার দায়ে তাকে একদিন হাতে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরতে হতে পারে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ জিয়াউর রহমানকে ‘জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা’ ঘোষণা করায় , তারেকের বিরুদ্ধে মামলা


সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা ঘোষণা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ঘোষণায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও মানহানির অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুল হুদা সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। এতে বাদী হয়েছেন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য আকরাম হোসেন বাদল।

মামলা দায়ের পর শুনানি শেষে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালত তারেক রহমানসহ মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এই মামলায় তিনি তারেক রহমানকে এক নম্বর আসামি, বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসকে দুই নম্বর আসামি ও সাধারণ সম্পাদক কাওছার এম আহমেদকে তিন নম্বর আসামি করেছেন। পরে শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

অ্যাডভোকেট নূরুল হুদা জানান, ‘বাদী তার মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও মানহানির অভিযোগ এনেছেন। গত ১৮ আগস্ট লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা জিয়াউর রহমান। সেই সঙ্গে দেশের সংবিধান নিয়েও তিনি কটূক্তি করেছেন, যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।’

তিনি আরও জানান, ‘আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সব নথি পর্যালোচনা করেছেন। মানহানির অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। একই সঙ্গে আগামী ১০ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে। সেদিন রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগের বিষয়ে আদালত নির্দেশ দিতে পারেন।’

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সরঞ্জাম কেনাকাটায় ৪১ কোটি টাকার দুর্নীতি


ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে আইসিইউর (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) রোগীকে আড়াল করে রাখার এক সেট পর্দার দাম পড়েছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা! শুধু এ পর্দা নয়, কলেজের বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটায় প্রায় ৪১ কোটি টাকার দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে এসেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্তে। ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এসব সরঞ্জাম কেনাকাটা করা হয়। এ ব্যাপারে তদন্ত করতে সম্প্রতি দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দরপত্রের মাধ্যমে ২০১২-১৬ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনিক ট্রেডার্স ফমেক হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ও মালামাল সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহকৃত মালামালের দাম কয়েকগুণ বেশি নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবিশ্বাস্য দামে ফমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৬৬টি চিকিৎসা যন্ত্র ও সরঞ্জাম কিনেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ২০১২-১৬ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পে হাসপাতালটি ১১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬৫ টাকার মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনাকাটা করে। এতে বিল দেখানো হয়েছে ৫২ কোটি ৬৬ লাখ ৭১ হাজার ২০২ টাকা। এ কেনাকাটাতেই মেসার্স অনিক ট্রেডার্স বাড়তি বিল দেখিয়েছে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৭ টাকা। বিষয়টি ওই সময়ের ফমেক কর্তৃপক্ষ কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে কাজ করলেও বিপত্তি বাধে সর্বশেষ ১০ কোটি টাকার একটি বিল নিয়ে। সর্বশেষ ১০ কোটি টাকার বিলটিতে চিকিৎসা সরঞ্জামাদিতে বেশি দাম নেয়া হয়েছে- এ মর্মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিলটি আটকে দেয়। এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনিক ট্রেডার্স ওই বিল পেতে হাইকোর্টে একটি রিট করে। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে ফরিদপুরসহ সারা দেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পর্দা ছাড়া আর যেসব সরঞ্জামাদি কেনা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ৩ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা দামের একেকটি স্টেথিস্কোপের জন্য খরচ করেছে ১ লাখ সাড়ে ১২ হাজার টাকা করে। ১০ হাজার টাকার ডিজিটাল ব্লাডপ্রেশার মাপার মেশিন কেনা হয় ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকায়। অব্যবহৃত আইসিইউর জন্য অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্টের দাম ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। খোদ জাপান থেকে আনলেও এটার খরচ পড়বে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা। বিআইএস মনিটরিং প্ল্যান্ট স্থাপনে ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। এমন প্ল্যান্ট স্থাপনে সর্বোচ্চ খরচ হয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এভাবে প্রায় ১৮৬ গুণ পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে ১৬৬টি যন্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে মেসার্স অনিক ট্রেডার্স। অথচ এ অনিক ট্রেডার্সই দুদকের কালো তালিকাভুক্ত।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইন ডাইরেক্টর (হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো) ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী শুক্রবার রাতে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়টি এখন একটি আইনি প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে চলছে। উচ্চ আদালত দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আইনি প্রক্রিয়ায় যেভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা সেভাবেই হবে। এর বাইরে কিছুই বলা সম্ভব নয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১০ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ও মালামাল সরবরাহ করে মেসার্স অনিক ট্রেডার্স। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর ফমেক হাসপাতালের স্টোর অফিসার মো. আ. রাজ্জাক স্বাক্ষর করে ১০ প্রকারের যন্ত্রপাতি ও মালামাল বাবদ ১০ কোটি টাকার সরবরাহ করা মালামাল বুঝে নেন। সরেজমিন দেখা যায়, দু-একটি যন্ত্রপাতি ছাড়া বেশিরভাগই তালাবদ্ধ ভবনের রুম, স্টোর রুম ও আলমারিতে রয়েছে। এগুলো গত কয়েক বছর অযতœ-অবহেলায় থেকে ধুলাবালি পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিন ফমেক হাসপাতালে দেখা যায়, ইউএসএর তৈরি ভিএসএ অনসাইড অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্টটি আইসোলেশন ওয়ার্ডের পশ্চিম পাশে আলাদা একটি রুমে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ রুমটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় তালায় মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অবশেষে তালা ভেঙে রুম খোলার ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ। সেখানে দেখা যায়, বন্ধ রুমটির দেয়ালে শ্যাওলা পড়ে নোনা ধরে স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় পড়ে রয়েছে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যের পুরো প্ল্যান্টটি। প্ল্যান্টটিতে সংযোগ দেয়া রয়েছে বড় আকারের বেশ কয়েকটি অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার। এগুলো অযতেœ পড়ে থেকে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।

আরও দেখা গেছে, ফমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে হসপিটাল সারটেইন সিস্টেম ফর আইসিইউ/সিসিইউ ১৬টি বেড পড়ে রয়েছে। এর পাশে ঘেরাও করার জন্য রয়েছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের রোগীকে আড়াল করার এক সেট (১৬ পিস) পর্দা। এ রুমের দায়িত্বে রয়েছেন সিনিয়র স্টাফ নার্স রিজিয়া আক্তার। তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রতিদিন এ রুমের তালা খুলে বেড ও যন্ত্রপাতি চালু করি এবং ঝেড়েমুছে আবার বিকাল হলে রুম বন্ধ করে চলে যাই। এভাবেই কয়েক মাস ধরে কাজ করছি।

জনবলের অভাবে এখনও আইসিইউ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্টটি পুরনো ভবনের দন্ত বিভাগে স্থাপন করা হয়েছে। রুমটি বেশির ভাগ সময় তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকে। মাঝেমধ্যে রুমটি খুলে দেলোয়ার হোসেন নামের একজন ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। এ প্ল্যান্টটিও পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ডিজিটাল ব্লাডপ্রেশার ৩টি যন্ত্র মেল মেডিসিন, সিসিইউ ও লেবার ওয়ার্ডে অনেকটা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

বিস মনিটরিং সিস্টেমটি কাগজপত্রে অপারেশন থিয়েটারে থাকার কথা থাকলেও সেখানে গিয়ে মেশিনটি দেখা যায়নি। থ্রি হেড কার্ডিয়াক স্টেথিস্কোপ ৪টি মেডিসিন ওয়ার্ড ও সিসিইউ কক্ষে প্যাকেটজাত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফাইবার অপটিক ল্যারিনোস্কোপ সেট ম্যাকিন্টোস ২টি গাইনি ও মেডিসিন ওয়ার্ডে রয়েছে। এছাড়া অটোমেটিক স্ক্রাব স্টেশন, স্যাকশন মেশিন ও ডাউন স্টিম ইকুইপমেন্ট অনেকটা চালু অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সার্বিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির বিষয়ে ফমেক হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ যুগান্তরকে বলেন, আমি মাত্র কয়েক মাস আগে এ হাসপাতালে যোগদান করেছি। আমি এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। তবে শুনেছি, এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে। আদালতের আদেশে দুদক তদন্ত করবে। তদন্তের পর বিষয়টি জানা যাবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যন্ত্রপাতিগুলো বুঝে নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে এগুলো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। যেন তাড়াতাড়ি আইসিইউ বিভাগসহ সব যন্ত্রপাতি চালু করা যায়।

এদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের এক সেট পর্দা ৩৭ লাখ টাকা দিয়ে কেনার খবরের বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২০ আগস্ট এ বিষয়টি ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দেন আদালত। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান যুগান্তরকে বলেন, আমরা জেনেছি। কিন্তু এ বিষয়ে লিখিত কোনো আদেশ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাইনি।

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার জানান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের একটি পর্দা ৩৭ লাখ টাকা দিয়ে কেনার খবরের বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২০ আগস্ট এ বিষয়টি ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দেন আদালত। তিনি বলেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল্যায়ন কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তা ও ডাক্তার ছিলেন। দুঃখজনক যে, এভাবে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে, এতে চিকিৎসাসেবার মানের যে বিষয় তা কখনই বাস্তবায়ন হবে না। এর আগে পাবনায় রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের গ্রিন সিটিতে বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার টাকা। পরে তা গড়ায় আদালতে। এ বিষয়টি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য উঠেছিল।

রেলওয়ের কারিগরি প্রকল্পে ক্লিনারের বেতন মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। আর অফিস সহায়কের বেতন প্রতি মাসে ৮৩ হাজার ৯৫০ টাকা। যেখানে ক্যাড অপারেটরের বেতন সাধারণত ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা ধরা হয় সেখানে এই প্রকল্পে ধরা হয়েছে সোয়া লাখ টাকা।

আর বিদেশী পরামর্শকদের বেতন মাসে গড়ে ১৬ লাখ টাকা। এসব ব্যয়কে পরিকল্পনা কমিশন অত্যধিক ও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে কার্যপত্রে। প্রকল্পে অত্যধিক পরামর্শক রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। আর অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দেশে লাগামহীন লুটপাট চলছে। দুর্নীতির বিচার ও শাস্তি না হওয়ায় লুটপাটের মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এসব এখনই কঠোর হাতে দমন করতে হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠানো রেলওয়ের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে প্রস্তুতিমূলক কারিগরি সহায়তায় ২৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে কারিগরি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পে ব্যয়ের বেশির ভাগ অর্থাৎ ১৮০ কোটি ৫০ লাখ ২৯ হাজার টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ঋণ হিসেবে নেয়া হবে। বাকি প্রায় ৭৬ কোটি টাকা হবে সরকারি অর্থায়ন। প্রকল্পের মূল কাজ হলো ১১টি উপপ্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ।

অর্থাৎ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বিস্তারিত ডিজাইন, দরপত্র ডকুমেন্ট প্রস্তুতসহ কিছু আনুষঙ্গিক কাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য পরামর্শক থাকবে ১ হাজার ৫৩০ জন। এর মধ্যে বিদেশী পরামর্শক ১ হাজার ১৫৩ জন, স্থানীয় ৩৭৭ জন। ১৩ জন কর্মকর্তা, ১৮ জন জনবল এবং ৯ জন স্টাফ। তবে এই জনবল নিয়োগে কোনো ক্ষেত্রেই অর্থ বিভাগের জনবল কমিটির সুপারিশ কারিগরি প্রকল্প প্রস্তাবনায় (টিপিপি) পাওয়া যায়নি।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্রে দেখা যায়, সহায়তা স্টাফদের জন্য বেতন ধরা হয়েছে আকাশচুম্বী; যা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ক্লিনারের বেতন প্রতি মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা কোনো কোনো প্রকল্পে একজন বিদেশী পরামর্শকের বেতনের সমান বা বেশি। অফিস সহায়কের বেতন ধরা হয়েছে প্রতি মাসে ৮৩ হাজার ৯৫০ টাকা আর ক্যাড অপারেটরের বেতন মাসে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এসব ব্যয় অত্যধিক বলে পরিকল্পনা কমিশন বলছে।

প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনায় দেখা যায়, পরামর্শক সেবার মূল প্যাকেজটির মূল্য ২৩৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর আওতায় সব কাজই করা হবে। সেবা ক্রয়ে মাত্র দুটি প্যাকেজ করা হয়েছে। সম্ভবত একটি ফার্মের মাধ্যমে এই কাজ করা হবে। প্রকল্পভুক্ত ১১টি উপপ্রকল্পের কাজ একক প্যাকেজের পরিবর্তে ৪ থেকে ৫টি প্যাকেজের মাধ্যমে করা উচিত বলে ভৌত অবকাঠামো বিভাগ থেকে বলা হয়েছে। প্রকল্পে ১৩ জন কর্মকর্তা প্রেষণে অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করবেন। আরো ৫ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। এ ছাড়া ৯ জন স্টাফ আউটসোর্সিং হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই জনবল কমিটির সুপারিশ টিপিপিতে সংযুক্ত করা হয়নি। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

ব্যয় বিভাজন পর্যালোচনা করে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পে সব মিলে ১ হাজার ৫৩০ জন পরামর্শক রাখা হয়েছে। প্রকল্পে পরামর্শকের আধিক্য রয়েছে। আবার একই বিষয়ে দুই বা ততোধিক পরামর্শকের সংস্থান রাখা হয়েছে, যা অর্থের অপচয়। আন্তর্জাতিক পরামর্শকের বেতন প্রতি মাসে ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এই খাতে ব্যয় প্রতি মাসে গড়ে ১৬ লাখ টাকা। সম্প্রতি অনুমোদিত এডিবির সমজাতীয় প্রকল্পের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই ব্যয় যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। এসব আলোচনা করে কমিয়ে আনা প্রয়োজন। আবার পরামর্শক ব্যয়ের সাথে গাড়ি ভাড়া বাবদ ৪ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এই ব্যয়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও ভৌত অবকাঠামো বিভাগ মন্তব্য করেছে।

যে ১১টি উপপ্রকল্পের জন্য এই কারিগরি প্রকল্প তার মধ্যে হলো- হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ওপর বিদ্যমান রেলসেতুর সমান্তরালে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য বিশদ নকশাসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, আব্দুলপুর-রাজশাহী সেকশনে আরেকটি সমান্তরাল ব্রডগেজ লাইনের জন্য বিশদ ডিজাইনসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, সান্তাহার থেকে রোহনপুর নতুন ব্রডগেজ লাইনের জন্য বিশদ ডিজাইনসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, সান্তাহার-বগুড়া-কাউনিয়া-লালমনিরহাট সেকশনে বিদ্যমান মিটারগেজ লাইনকে ডুয়েলগেজ লাইনের জন্য বিশদ ডিজাইনসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ড লাইনের সমান্তরাল নতুন ব্রডগেজ লাইনের জন্য বিশদ ডিজাইনসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যশোর থেকে বেনাপোল সমান্তরাল নতুন ব্রডগেজ লাইনের জন্য বিশদ ডিজাইনসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইত্যাদি।

এই খরচের ব্যাপারে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিসের সাথে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইলে যোগাযোগ করে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রেল উইংয়ের যুগ্ম-প্রধান মো: মতিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটা মিটিংয়ে আছেন বলে জানান।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদের মতে, চোখ বন্ধ করে দুর্নীতি করা হচ্ছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী বলছেন দুর্নীতিতে জিরো টরালেন্স সেখানে তারা কিভাবে এবং কারা এভাবে দুর্নীতি করার সাহস পাচ্ছে। ক্লিনারের বেতন ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা কোনো মতেই হতে পারে না। এসব হলো চরম মাত্রায় দুর্নীতি। তিনি বলেন, এক সময় আমরা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। বিদেশ থেকে ঋণ এনে সেই টাকা এভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে অপব্যবহার করা হলে বিদেশীরা আমাদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা করবে।

তিনি বলেন, যেখানে খুব দ্রুত আমরা উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার আশা করছি সেখানে এসব দুর্নীতি আমাদেরকে সেই প্রত্যাশা পূরণে বাধাগ্রস্ত করবে এবং করছে। এসব দুর্নীতি না থাকলে আমরা আরো আগেই মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারতাম। এই যে বালিশ দুর্নীতি, ৩৭ লাখ টাকায় পর্দার কাপড় কেনা এগুলো আমাদের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করছে।

ক্লিনারের বেতন সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এসবের ব্যাপারে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে। যেটা না করার কারণে দুর্নীতির মাত্রা বেড়েই চলেছে। একজন ক্লিনারের বেতন মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এটা লুটপাট ছাড়া কিছুই না। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এসব কী হচ্ছে? তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন খাতে যে দুর্নীতি ও অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে তার কোনো বিচার ও শাস্তি হচ্ছে না। যার কারণে এসব কর্মকাণ্ড এখন লাগামহীনভাবে চলছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। জনগণের করের টাকা এবং জনগণের মাথায় ঋণের দায় চাপিয়ে দিয়ে বিদেশ থেকে ঋণ এনে তা এইভাবে লুটপাট ও তছরুপ করা হচ্ছে। এগুলোকে কঠোরভাবে দমন করা দরকার। যারা এসব করছে তাদের ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এখনই।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ দুর্নীতির আখড়া জাহিদ মালেকের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়!


মাত্র কিছু দিন আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঘটে গেল এক ভয়াবহ বালিশ কেলেংকারির ঘটনা। বালিশ, বিছানা চাদর, চায়ের কাপ, কেটলি, চেয়ার টেবিল, লেপ-তোষক কেনায় এমনই সীমাহীন দুর্নীতি ছিল যে, হাইকোর্টের বিচারপতিরা পর্যন্ত এসব শুনে অবাক হয়ে গেছেন। নজিরবিহীন এই দুর্নীতির ঘটনায় সরকারের ওপর মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল।

ভিডিওঃ  ‘ দুর্নীতিতে রূপপুর বালিশ কান্ডকে হার মানাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৌশলে এই দুর্নীতির দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, পরে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। মির্জা ফখরুল আসল গোমর ফাঁস করে দিয়েছেন।

বালিশ কেলেংকারির সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ঘটেছে বই কেলেংকারির ঘটনা। দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের জন্য বই কেনার নামে লুটপাট করা হয়েছে কোটি টাকা।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের জন্য ১০টি বই কপি কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বইটির বাজারমূল্য সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা হলেও স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতিটি বই কিনেছে ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা করে। সেই হিসাবে ১০ কপি বইয়ের মোট দাম পরিশোধ করা হয়েছে ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, বাজার দামের তুলনায় ৮ লাখ টাকা বেশি খরচ করে এ বই কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

শুধু এই একটি আইটেমের বই-ই নয়, দুটি টেন্ডারে ৪৭৯টি আইটেমের ৭ হাজার ৯৫০টি বই কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এসব বইয়ের মূল্য বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৩৪ হাজার ২৪৩ টাকা।

রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজের জন্য ৩১৭টি আইটেমের ২৪৫৪টি বই ২ কোটি ৫০ লাখ ৯১ হাজার ২৮৫ টাকায় কেনা হয়েছে। এছাড়া, সারাদেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের জন্য ১৬২টি আইটেমের ৫৪৯৬টি বই কেনা হয়েছে ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪২ হাজার ৯৫৮ টাকায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের ২৬ ও ২৭ মে বই কেনার জন্য পৃথক দুটি টেন্ডার আহ্বান করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। প্রথম টেন্ডারের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় পাঁচ কোটি টাকা ও দ্বিতীয়টির প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪২ হাজার ৯৫৮ টাকায় প্রথম টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডার পায় হাক্কানী পাবলিশার্স। আর ২ কোটি ৫০ লাখ ৯১ হাজার ২৮৫ টাকায় দ্বিতীয় টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডারও পায় একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষে এসব বই কেনার দায়িত্বে ছিলেন উপ-পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) ডা. শেখ মো. মনজুর রহমান, শিক্ষা চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন।

৪৭৯টি আইটেমের বইয়ের মধ্যে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০টি বইয়ের বাজার দাম যাচাই করেছে । বইয়ের বাজার দাম যাচাই করে দেখা গেছে, বইগুলো দ্বিগুণ, তিনগুণ কোনও ক্ষেত্রে ১৫ গুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে।

সাতটি মেডিক্যাল কলেজের জন্য গ্রেজ অ্যানাটমি নামে ৯৫টি বই কেনা হয়েছে। বাজারে এই বইয়ের প্রতিটি কপির দাম ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। কিন্তু একেকটি বই কেনার বিল করা হয়েছে ৪৩ হাজার টাকা করে। ৯৫টি বই কিনতে খরচ হয়েছে ৪০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ বাজার মূল্যের চেয়ে অন্তত সাতগুণ বেশি দামে বইটি কিনেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বার্ন অ্যান্ড লেভি ফিজিওলজি বইটির ৬৫টি কপি কেনা হয়েছে দেশের পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজের জন্য। বাজারে বইটির দাম চার হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা। কিন্তু, মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি বই কেনা হয়েছে ২০ হাজার ৪৮০ টাকায়।

মুগদা মেডিক্যালের জন্য কেনা হয়েছে ‘অর্থোডোনটিক মেটারিয়াল সায়েন্টেফিক অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল অ্যাসপেক্টস’ নামে তিনটি বইয়। বাজারে বইটির দাম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা হলেও কেনা হয়েছে ১৪ হাজার ১৭৫ টাকা করে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্র্যাকটিক্যাল অপটামোলজি: ম্যানুয়াল ফর বিগেনার্স বইটি কেনা হয়েছে পাঁচ কপি। প্রতিটি বইয়ের বাজার মূল্য ২৯ হাজার টাকা। কিন্তু, প্রতিটি বই কেনা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা করে।

‘অর্থোফিক্স এক্সটার্নাল ফিক্সেশন ইন ট্রমা অ্যান্ড অর্থোপেডিকস’ নামের বইটির ১০টি কপি কেনা হয়েছে মুগদা মেডিক্যালের জন্য। এ বইয়ের বাজার দর প্রতিটি ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা। কিন্তু প্রতিটি বই কেনা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৫ টাকা করে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখত বরাবরই দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত। কিছু দিন আগেই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী আবজালের দুর্নীতির চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিগত ১৫ বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকার মালেক হয়েছেন। তার এই দুর্নীতি নিয়ে সারাদেশে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু, এরপরও দুদকের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবজাল দম্পতি দেশ থেকে পালিয়েছেন।

বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ওই সময় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। জানা গেছে, এসব দুর্নীতির সঙ্গে তিনিও জড়িত আছেন। এখন তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী। দুর্নীতি এখন মন্ত্রণালয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছেছে। বিভিন্ন সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি বড় বড় কথা বললেও কার্যত দুর্নীতি বন্ধে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here