ডেঙ্গু জ্বরে ১২ দিনে ১ হাজার ৬৪৩ জন হাসপাতালে ভর্তি, মারা গেছে ১১ জন, নগরবাসী অসহায়

0
256

তাফিফ তাওরাতের বয়স সাড়ে তিন বছর। ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর ৭ জুলাই তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল শুক্রবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু তাফিফের পাশে ম্লান মুখে বসে আছেন মা। এক খালা চোখ মুছতে মুছতে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।

শিশুটির বাবা মুঠোফোনে বিভিন্নজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন রক্তের জন্য। শিশুটির জন্য এ পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন। সাত মাস বয়সে শিশুটির প্রথম ডেঙ্গু হয়েছিল।

বিকেলে তাফিফ তাওরাতকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। বাবা মো. মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। ছেলেটার এই বয়সে দুবার ডেঙ্গু হলো। আমি নিয়মিত কর পরিশোধ করি। অথচ মেয়র মশা মারতে পারছেন না। এখন শুনছি মশা মারার ওষুধ অকার্যকর। সরকারও নির্বিকার। এই দায়দায়িত্ব সরকার বা মেয়র এড়াতে পারেন না। তাঁদের ব্যর্থতার কারণে আমরা কেন হাসপাতালে এত টাকা ব্যয় করব?’

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

এরই মধ্যে এপ্রিল থেকে জুলাইয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১১ জন। এর আগে ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। গত বছর একই সময়ে মৃত্যু হয়েছিল সাতজনের। সরকার ডেঙ্গুতে আক্রান্তের যে সংখ্যা প্রচার করছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি।

আইইডিসিআরের মৃত্যু পর্যালোচনাবিষয়ক কমিটির দুজন সদস্য গতকাল ১১ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রথম আলোকে জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, এই সপ্তাহে তাঁরা সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন আইইডিসিআরকে দেবেন।

গেল কয়েক বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জুলাই মাসে গতকাল পর্যন্ত ১২ দিনে মোট ১ হাজার ৬৪৩ জন আক্রান্ত রোগী সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অর্থাৎ দিনে গড়ে ১৩৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি।

ভাইরাসজনিত ডেঙ্গু জ্বর এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। মশা মারতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন যে ওষুধ ব্যবহার করে, তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) পৃথক দুটি গবেষণায় দেখেছে, এই ওষুধে মশা মরছে না,মৃত্যু বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে আক্রান্ত দুজন ডেঙ্গু রোগী মারা যান। আর ২ জুলাই মারা যান একজন। এই তিনজনের মৃত্যুর কথা সরকার প্রকাশ করলেও গত কয়েক দিনে আর কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ কিছু রোগে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে আইইডিসিআরের ৮ সদস্যের মৃত্যু পর্যালোচনা কমিটি। আইইডিসিআরের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য, ভাইরাস বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞরা এই কমিটির সদস্য। গতকাল আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সাব্রিনা প্রথম আলোকে বলেন, কমিটি মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৃত্যুর কারণ বর্ণনা ও সুপারিশ করে। তবে তিনি মৃত্যুর সংখ্যা বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে সব জানতে পারবেন।’

গতকাল সকালে কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, এপ্রিল–জুলাইয়ে মোট ১৪টি মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনা করে হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। অন্য তিনটি ক্ষেত্রে সঠিক ও পর্যাপ্ত কাগজপত্র ছিল না।

ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর বাবা বললেন,আমি নিয়মিত কর পরিশোধ করি অথচ মেয়র মশা মারতে পারছেন না এখন শুনছি মশা মারার ওষুধ অকার্যকর

কমিটির আরেকজন সদস্য বলেছেন, ১১টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, রোগীরা একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অর্থাৎ রোগীরা অপেক্ষাকৃত উন্নত বা ভালো চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল পরিবর্তন করেছেন। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে একজন চিকিৎসক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের একটি বড় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার আগে ওই চিকিৎসক অন্য আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছে। ১২টি সরকারি ও আধা সরকারি এবং ৩৫টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে তথ্য নিয়ে তারা তালিকা তৈরি করে। গতকাল নিয়ন্ত্রণকক্ষের তালিকায় দেখা যাচ্ছে, গতকাল বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১ হাজার ৫৯ জন।

ওই তালিকায় রাজধানীর গ্রিন রোডের গ্রিন লাইফ হাসপাতালের নাম আছে। সরকারি হিসাবে গতকাল ওই হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি ছিল না। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।

গতকাল দুপুরে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নাজিয়া হক প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি আছে ৩৫ জন রোগী। এদের মধ্যে শিশু ১৫ জন।

এ ছাড়া তালিকায় ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাম থাকলেও রোগী ভর্তির কোনো তথ্য ছকে নেই। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী জানান, গতকাল হাসপাতালে ২৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে শিশু ৭ জন।

একইভাবে তালিকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নাম থাকলেও সেখানে কোনো রোগী ভর্তি নেই বলে উল্লেখ আছে। বিএসএমএমইউর আবাসিক চিকিৎসক হাসান ইমাম বলেন, প্রতিদিন বহির্বিভাগে কমপক্ষে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল ভর্তি ছিল ১ জন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বারডেম হাসপাতালের শিশু বিভাগে এ বছর ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রায় সমানসংখ্যক শিশুকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তথ্য জোগাড় করতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যেসব হাসপাতালের তথ্য দিচ্ছে, তা–ও আংশিক। অন্যদিকে হাসপাতালের বাইরে অনেক রোগী চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা নিচ্ছে। সেই তথ্য কারও কাছে নেই। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে অনেকেই মনে করছেন।

উদ্বেগ বাড়ছে

গতকাল বিকেলে পরিস্থিতি নিয়ে মুঠোফোনে কথা হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই সপ্তাহে স্বাস্থ্য, পরিবেশ, বিজ্ঞানী, গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে পরামর্শ সভার ডাক দেওয়া হয়েছে। এতে মূলত মশার ওষুধ পরিবর্তন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এ ছাড়া নাগরিকদের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বিশিষ্টজনদের পরামর্শও নেওয়া হবে।

বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ খান আবুল কালাম আজাদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০০০ সালে এই শহরে প্রথম ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০০৯ সাল থেকে ঢাকার এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। এখন দিনে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন ডেঙ্গুর রোগী ভর্তি হচ্ছে ঢাকা মেডিকেলে। এত রোগী কখনো ভর্তি হতে দেখিনি।’

বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় নিয়মিত জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঢাকা শহরের নাগরিকেরা সাধারণত মশা নিধনের ওপর গুরুত্ব দেয়। তারা চায় সরকার নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটাক। কিন্তু এবার প্রথম তারা জানতে পারল, সিটি করপোরেশন যে ওষুধ ছিটায় তা অকার্যকর। এটা নাগরিকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

উৎসঃ প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক উদ্বোধনের আগেই দেবে যাচ্ছে!


সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে ঢাকা-টাঙ্গাইল চার লেন মহাসড়ক। জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কটি নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের প্রতি কিলোমিটারের নির্মাণব্যয় ৫৮ কোটি টাকারও বেশি। আগামী বছরের জুনের মধ্যে চার লেনের এ মহাসড়ক উদ্বোধন হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই দেবে যাচ্ছে সড়কটি। দেবে যাওয়ার মাত্রা এলেঙ্গা-টাঙ্গাইলের পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার অংশে বেশি। মহাসড়কের কোথাও কোথাও দেড়-দুই ইঞ্চি পর্যন্ত দেবে যাচ্ছে পিচ। আবার কোথাও কোথাও সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে এ মহাসড়কে চলাচল করা বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সড়ক দেবে যাওয়ার এ সমস্যাকে প্রকৌশলীদের ভাষায় বলা হয় ‘রাটিং’। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সড়ক গবেষণাগারের প্রকৌশলীদের মতে, পিচের জন্য পাথর-বিটুমিনের যে মিশ্রণ তৈরি করা হয়, সেটি ঠিকমতো না হলে রাটিং বা সড়ক দেবে যেতে পারে। সড়ক দেবে যাওয়ার আরেকটি কারণ যানবাহনের ‘ওভারলোড’। এর বাইরে দুর্বল নকশা বা দুর্বল নির্মাণকাজের কারণেও সড়ক দেবে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। এছাড়া মাটির ধাপগুলোতে ঠিকমতো রোলিংয়ের কাজ না করা হলেও রাটিং দেখা দিতে পারে। একই সমস্যা দেখা গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়কেও। এ কারণে উদ্বোধনের এক বছরের মাথায় হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে সংস্কারকাজের প্রয়োজন পড়ে সড়কটিতে।

জানা গেছে, গত ২১ ও ২২ জুন মহাসড়কটি পরিদর্শন করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি মনিটরিং টিম। পরিদর্শনকালে তারাও এলেঙ্গা থেকে ঢাকার দিকে পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার অংশে রাটিং দেখতে পেয়েছেন। মনিটরিং টিমের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাটিং হওয়া কয়েকটি জায়গায় মেশিন দিয়ে কেটে মেরামত করা হয়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে পুরনো মেরামত করা সড়ক। সদ্য নির্মিত মহাসড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের আগে এ ধরনের রাটিং কোনোভাবেই কাক্সিক্ষত নয়। রাটিংয়ের মাত্রা ক্রমান্বয়ে ঢাকার দিকে এগোচ্ছে। এতে নির্মাণকাজের প্রতি জনসাধারণ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে। অন্যদিকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ভাবমর্যাদাও ক্ষুণœ হচ্ছে। কারিগরি টিম গঠন করে রাটিংয়ের কারণ অনুসন্ধান করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করার জন্যও মতামত দিয়েছে এই মনিটরিং টিম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণেই উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের এমন অবস্থা হয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন কয়েকজন বাস চালকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের পর থেকে ঢাকার দিকে (ডান পাশে) প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক দেবে গেছে। এছাড়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর সিএনজি পাম্পের সামনে কোথাও কোথাও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আবার উত্তরবঙ্গের দিকে (ডান পাশে) এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত চার লেনের মহাসড় দেবে গেছে। এর মধ্যে কোথাও একটু বেশি আবার কোথাও একটু কম। দেবে যাওয়া কয়েকটি স্থানে নতুন করে কার্পেটিং করে মেরামতও করা হয়েছে। তার চিহ্ন এখনও রয়ে গেছে। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী হানিফ পরিবহনের চালক আব্দুল রশীদ বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে এক পাশে দেবে যাচ্ছে। যা দিন দিন বাড়ছে বলেই মনে হচ্ছে। নিম্নমানের কাজের কারণেই এরকম হচ্ছে। একতা পরিবহনের চালক জাকির হোসেন বলেন, উদ্বোধনের আগেই মহাসড়ক একপাশে দেবে যাওয়া খুবই দুঃখজনক। ঠিকমতো ভিটুমিন দিয়ে কাজ করলে হয়তো মহাসড়কটি আরও ভালো হতো। অল্পদিনেই এভাবে দেবে যাবে এটি ধারণাই করা যায় না।

বাস চালকরা জানান, মহাসড়কের একপাশ দিয়ে গাড়ি চালাতে গেলেই দেবে যাওয়া অংশে চাকা পড়ে বাস একদিকে কাত হয়ে যায়। তখন বাধ্য হয়ে গতি কমাতে হয়। তা না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। হঠাৎ করে বাস একদিকে কাত হলে যাত্রীরাও ভয় পেয়ে যান। তারাও নড়েচড়ে বসেন।

জানা গেছে, চারটি প্যাকেজে চলছে ঢাকা-টাঙ্গাইল চার লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ। এর মধ্যে প্যাকেজ-৪-এ পড়েছে এলেঙ্গা-টাঙ্গাইলের ১০ কিলোমিটার। দক্ষিণ কোরিয়ার জিডিসিএলের এ অংশের নির্মাণকাজ করছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিয়েনকো লিমিটেড। কাজের চুক্তিমূল্য ৩৫৬ কোটি টাকা।

এদিকে, উদ্বোধনের আগে সড়ক দেবে যাওয়ার জন্য নিম্নমানের নির্মাণকাজকে দায়ী করা হলেও তা মানতে নারাজ প্রকল্পের পরিচালক এবং নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রকল্পের পরিচালক মো. ইসহাক বলেন, নিম্নমানের নির্মাণকাজের জন্য এমন সমস্যা হয়নি। দেবে যাওয়ার একটা কারণ হতে পারে ওভারলোডের যানবাহনের চলাচল ও অতিরিক্ত ট্রাফিক। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেবে যাওয়া আর রাটিং এক জিনিস না। ওই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা বলেন, রাটিংটা হয় সড়কের নির্দিষ্ট অংশে, যেদিক দিয়ে গাড়ির চাকা বেশি পড়ে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি একটি সাধারণ সমস্যা। তিনি বলেন, শুধু এলেঙ্গা-টাঙ্গাইলের ৪ নম্বর প্যাকেজে নয়, পুরো সড়কেই রাটিং সমস্যা দেখা দিয়েছে। যেদিক দিয়ে গাড়ির চাকা বেশি পড়ে, সেই অংশে রাটিং তৈরি হয়। দুটি কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। প্রথমত ওভারলোডিং। দ্বিতীয়টি হলো সড়কের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ওভারলোডিংয়ের কারণে এমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বুয়েটের শিক্ষক প্রফেসর ড. সামছুল হক বলেন, ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া যমুনা সেতুর সংযোগ সড়ক দিয়ে গাড়িগুলো ঢাকা-টাঙ্গাইল চার লেন মহাসড়কে উঠছে। সেখানে তো রাটিং দেখা যায়নি। তিনি বলেন, যারা ‘ওভারলোডেড’, ‘ওভার ট্রাফিকের’ কথা বলছেন, তারা আসলে একটা দায়সারা কথা বলছেন, যেটার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বিশেষজ্ঞ এ প্রকৌশলী মনে করেন, সমস্যাটা নির্মাণে। রাস্তার নির্মাণকাজটাই আসলে এখানে ভালো হয়নি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয় ২০১৩ সালে। কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। চার প্যাকেজে কাজ হচ্ছে। প্রথমটি গাজীপুরের ভোগরা বাজার ইন্টারচেঞ্জ থেকে কালিয়াকৈর বাইপাস ইন্টারসেকশন পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার। এর কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার কায়রইঙ ও বাংলাদেশের স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।

দ্বিতীয় প্যাকেজে টাঙ্গাইল থেকে কালিয়াকৈর বাইপাস ইন্টারসেকশন পর্যন্ত আরো ১৯ কিলোমিটার নির্মাণ করছে বাংলাদেশের আব্দুল মোনেম লিমিটেড ও মালয়েশিয়ার এইচসিএম ইঞ্জিনিয়ারিং। তৃতীয় প্যাকেজে দুল্লামারী রোড থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ২২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নয়ন করছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামহোয়ান ও বাংলাদেশের মীর আখতার।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ পৃথিবীতে ইসলামই একমাত্র মানবতার ধর্ম


ইসলাম পৃথিবীর একমাত্র মানবতার কল্যাণকামী শ্রেষ্ঠ ধর্ম। পৃথিবীতে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে মানবতার কল্যাণ সাধন করাকে এতোটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত মানবজাতির কল্যাণের জন্যে তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। ( সুরা আল ইমরান ১১০)।

অভুক্তদের কষ্টের ভাগীদার হতে মহান আল্লাহ রমজানের সিয়াম ফরজ করেছেন। দুঃখীর কষ্ট লাগবে যাকাত ফরজ ও সাদাকাতুল ফিতরের বিধান ওয়াজিব করেছেন।

আল্লাহ বলেন,যারা নিজেদের ধন সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রত্যেক শীষে রয়েছে ১০০ শস্যদানা। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। আর আল্লাহ সর্বব্যাপী প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (সুরা বাকারা-২৬১)।

আল্লাহ আরও বলেন, আর তাদের ধন–সম্পদে রয়েছে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতের হক। ( সুরা যারিয়াত -১৯)।
আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন দয়া ও মহানুভবতার মূর্ত প্রতীক। ষষ্ঠ হিজরিতে খায়বার বিজিত হয়। নবম হিজরিতে যখন আরব উপদ্বীপ মুসলিমদের অনুগত। চারদিক হতে যখন বিপুল সম্পদ প্রেরিত হয় সবই তিনি অকাতরে বিলিয়ে গেছেন।

হযরত আয়েশার (রা) ভাষ্যমতে, নবী (সা.) এমনভাবে ইহকাল পরিত্যাগ করেছেন যে,তার পরিবার লাগাতার দুইদিন পেটভরে যবের রুটি খেতে পারেন নি।

আল্লাহর রহমত, বরকত ও সাওয়াব অর্জনের সবচেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত পথ আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি, বিশেষত মানুষের প্রতি কল্যাণ ও উপকারের হাত বাড়িয়ে দেয়া।

সকল প্রকার মানব সেবামূলক কাজের জন্য অকল্পনীয় সাওয়াব ও মর্যাদার কথা অগণিত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যতক্ষণ একজন মানুষ অন্য কোনো মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে ততক্ষণ আল্লাহ তার কল্যাণে রত থাকবেন। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় বান্দা যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নেক আমল কোনো মুসলিমের হৃদয়ে আনন্দ প্রবেশ করানো,অথবা তার বিপদ, কষ্ট বা উৎকণ্ঠা দূর করা, অথবা তার ঋণ আদায় করে দেয়া, অথবা তার ক্ষুধা দূর করা।

আমার কোনো ভাইয়ের কাজে তার সঙ্গে একটু হেঁটে যাওয়া আমার কাছে মসজিদে এক মাস ইতেকাফ করার চেয়েও বেশি প্রিয়। যে ব্যক্তি তার কোনো ভাইয়ের সাথে যেয়ে তার প্রয়োজন মিটিয়ে দেবে কিয়ামতের কঠিন দিনে যেদিন সকলের পা পিছলে যাবে সেদিন আল্লাহ তার পা সুদৃঢ় রাখবেন। (মুনযিরী, আত-তারগীব ৩/৩৪৬-৩৫১, মাজমাউয যাওয়াইদ ৮/১৯১)

অন্য হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম মুসলিমের ভাই। কোন মুসলিম না কোন মুসলিমের ওপর জুলুম করবে, না তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবে। যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ভাইয়ের অভাব মোচনে সাহায্য করবে, আল্লাহ তায়ালা তার অভাব মোচন করবেন।

যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম ভাইয়ের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দুঃখ-কষ্ট লাঘব করবেন। যে ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাইয়ের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। (বুখারী ২৪৪২, – তিরমিযী ১৫২৬, সিলসিলাতুস সহীহাহ ৫০৪)

এ হাদিসটি মানবাধিকার রক্ষায় একটি মাইলফলক। হাদিসের প্রথম অংশে যে এক মুসলিমকে আরেক মুসলিম ভাই হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে এটা হলো উখুওয়াতুল ইসলাম বা ইসলামী ভ্রাতৃত্ব। অর্থাৎ এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। এখানে উল্লেখ্য যে, ভাই কখনো ভাইয়ের ওপরে জুলুম করবে না, অর্থাৎ মুসলিম ভাই মুসলিম ভাইয়ের ওপরে জুলুম করা হারাম।

তাকে কষ্টও দিবে না বরং তাকে সহযোগিতা করবে, সাহায্য করবে এবং তার পক্ষ হয়ে সব ধরনের বিপদাপদে তার সহযোগী হবে। এই সহযোগী হওয়াটা মাঝে মাঝে বাধ্যতামূলক হয়ে যায় মাঝে মাঝে তা কাঙ্ক্ষিত হয়ে থাকে।

ইমাম ত্ববারানী সালিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমকে বিপদগ্রস্ত দেখে চলে যাবে না, বরং তার সহযোগী হবে। ইমাম মুসলিম আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমকে ক্ষুদ্র জ্ঞান করবে না।

হাদিসের আরেক অংশ হলো, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তখন বান্দাকে সাহায্য করেন যখন সে তার ভাইকে সাহায্য করে। আর যে কোন মুসলিম ভাইয়ের দুনিয়া ও আখিরাতের কোন বিপদে সাহায্য করবে আল্লাহ রাববুল আলামীন তাকে সাহায্য করবেন।

এ হাদিসে মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন করতে বলা হয়েছে, এটি একটি শর্তসাপেক্ষ বিষয়; তা যদি প্রকাশ করার চাইতে গোপন করা উত্তম হয়ে থাকে তাহলে গোপন, আর যদি প্রকাশ করা উত্তম হয় তাহলে প্রকাশ করবে।

এক্ষেত্রে আমরা দেখি ইমামগণ যে রাবীদের সমালোচনা করেছেন এটা হারাম গীবতের মধ্যে শামিল নয়, কারণ এখানে তার দোষ না বললে সমস্ত মুসলিম এক চরম ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাবে। (ফাতহুল বারী ৫ম খন্ড, হাদিস ৪৯৫৮)

পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মানবসেবা ও সমাজ কল্যাণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এমনকি নবী (সা.) ও স্বীয় বাণী ও কর্মে একই আদর্শ জীবনভর প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন। শুধু নিজে প্রচার করেই ক্ষান্ত হন নি। নিজ কর্মেও এর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

সুতরাং প্রতিটি মুমিনের উচিত পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বাণীকে হৃদয়ে লালন করে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণের নিমিত্তে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করা।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘বিচারকদের আতঙ্কে রাখতেই সিনহার বিরুদ্ধে মামলা’


বিচারকদের আতঙ্কে রেখে স্বাধীনভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করতে না দেয়ার উদ্দেশ্যেই সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করা হয়েছে। এটা একটি থ্রেট বা হুমকি, যাতে সরকারের বাইরে বিচার বিভাগ যেতে না পারে এমনটি মনে করেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক দু’জন সভাপতি ও বর্তমান সম্পাদক। তারা সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদকের এ মামলার তীব্র নিন্দা জানান। সেইসাথে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত করতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিচারপতি এস কে সিনহা একটি দেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়। সেটা অনেক দিন আগের ঘটনা। এখন তার বিরুদ্ধে যা করা হচ্ছে তা মানুষ বিশ্বাস করছে না। তারা মনে করছে এটা প্রতিহিংসার কারণে করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, এটা একটি থ্রেট বা হুমকি, যাতে সরকারের বাইরে বিচার বিভাগ যেতে না পারে। অতীতে একজন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এত দিন তার বিরুদ্ধে কী দুর্নীতি পেল তা প্রকাশ করা হয়নি। এর কিছুই আমরা জানি না।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় সরকারের পক্ষে রাখার জন্য এবং বিচারপতিরা যাতে স্বাধীনভাবে রায় দিতে না পারে তাদের মনে ভীতি সঞ্চার করার জন্যই সরকার প্রভাব খাটিয়ে এ মামলা করেছে। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদকের এ মামলার তীব্র নিন্দা জানান। সেইসাথে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত করতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিলের রায় নিয়ে মূলত সরকারের সাথে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে তার কিছু পর্যবেক্ষণও ভালোভাবে নেয়নি সরকার। সরকারি দল ও জোটের নেতারা সংসদে এস কে সিনহাকে উদ্দেশ করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। পরে রাষ্ট্রযন্ত্র জোরপূর্বক গৃহবন্দী করে তাকে অসুস্থ বলে দেশ ত্যাগে বাধ্য করে।

উল্লেখ্য, ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এস কে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই বুধবার দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।

বিচারপতি এস কে সিনহা ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো: শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

ফারমার্স ব্যাংকের দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির ‘প্রমাণ’ পাওয়ার কথা গত বছর অক্টোবরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। পরে বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বলে ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ঋণ জালিয়াতির টাকা বিদেশে পাচার


বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট, দুর্নীতি দমন কমিশন ও এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর তদন্ত করছে * টাকা পাচার বন্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ব্যাংকগুলোর প্রতি অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ * অর্থ ফেরানোর সুযোগ আছে, উদ্যোগ নেই

ব্যাংকিং খাতে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকার বড় অংশই বিদেশে পাচার হয়েছে। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় এসব অর্থ পাচার করেছেন।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে হলমার্ক গ্রুপ ৪৬ কোটি টাকা, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, ক্রিসেন্ট গ্রুপ ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, প্যাসিফিক গ্রুপ ৭৩০ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংক থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান ১৭৫ কোটি টাকা, ইমাম গ্রুপ ৮৮ কোটি টাকা পাচার করেছে।

এছাড়া আমদানির পণ্য দেশে না এনে, আমদানি পণ্যের মূল্য বেশি দেখিয়ে, রফতানির মূল্য দেশে না এনে, শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির নামে এসব অর্থ পাচার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, টাকা পাচারের ঘটনাগুলো প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে। বর্তমানে এগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর আলাদাভাবে তদন্ত করছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো সংস্থার তদন্তে অর্থ পাচারের ঘটনা ধরা পড়লে তা আরও সুনির্দিষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও মাঠে নামে।

পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদনগুলো বিএফআইইউ ও দুদকে পাঠাতে হয়। তারা সেগুলো আরও বিশদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়। এছাড়া শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকেও ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, টাকা পাচারকারীরা নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যাংকিং খাতকে বেছে নিয়েছে। আমদানি-রফতানি দুইভাবেই টাকা পাচার হচ্ছে। এর মানে, এসবের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে কাজ করছে না। যে কারণে টাকা পাচার হচ্ছে। এগুলো বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় অর্থনীতি রক্তশূন্য হয়ে যাবে।

বিএফআইইউ’র এক কর্মকর্তা বলেন, তারা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। গত ছয় মাসে টাকা পাচারের প্রায় অর্ধশতাধিক ঘটনা তদন্ত হয়েছে। আরও তদন্ত চলছে।

সূত্র জানায়, হলমার্ক গ্রুপ সোনালী ব্যাংকসহ ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। এর মধ্যে তারা যুক্তরাজ্যে সোনালী ব্যাংকের মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেড থেকে ৬৫ কোটি টাকার একটি এলসির দেনা শোধের নামে পাচার করেছে।

সোনালী ব্যাংকের গ্যারান্টিতে পণ্য আমদানির এলসি খোলা হয়েছিল যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকে। পণ্য দেশে না আসায় দেনা শোধ করছিল না সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক দায়, সে কারণে ব্যাংকের ইমেজের স্বার্থে পরিশোধ করতেই হবে। এ কারণে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ওই সময়ে সোনালী ব্যাংক ইউকে’কে দেনা পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়। এই নির্দেশ মোতাবেক ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ূন কবির এ নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি দুদক তদন্ত করছে।

৫টি ব্যাংক থেকে বিসমিল্লাহ গ্রুপ জালিয়াতি করে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর পুরোটাই তারা বিদেশে পাচার করেছে। ওই টাকায় দুবাইয়ে তারা হোটেল ব্যবসা করছে বলে তথ্য পেয়েছে বিএফআইইউ।

ক্রিসেন্ট গ্রুপ জনতা ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। এর মধ্যে তারা ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে তথ্য পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। তারা আরও তদন্ত করছে। এ পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এদিকে তাদের পাচার করা অর্থের ব্যাপারে বিএফআইইউ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশের কাছে পাচার করা অর্থ সম্পর্কে তথ্য চাইতে হলে বিএফআইইউর তদন্তে তা প্রমাণিত হতে হয়। এর ভিত্তিতে বিএফআইইউ বিভিন্ন দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে পারে। কিন্তু বিএফআইইউ থেকে সে রকম জোরালো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

প্যাসিফিক গ্রুপ কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে এবি ব্যাংকের গ্যারান্টিতে বেসরকারি খাতের ১২টি ব্যাংক থেকে সিটিসেল ঋণ নিয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্যাসিফিক মোটরস নিয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থের মধ্যে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বেসিক ব্যাংক জালিয়াতি করে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের দুটি শাখা থেকে আমদানি ও রফতানির মাধ্যমে ১৬টি প্রতিষ্ঠান ১৭৫ কোটি টাকা পাচার করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাচার করা হয়েছে ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে। শান্তিনগর শাখা থেকে তুলনামূলকভাবে কম পাচার হয়েছে। ছোট ছোট এলসির মাধ্যমে এই টাকা পাচার হয়।

সূত্র জানায়, ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার গ্রাহক রিয়াজুল ইসলাম দুবাইভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী। তার ব্যবসায়িক অংশীদার হচ্ছেন শাহরিয়ার খান জয়।

তিনি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর ছোট ভাই পান্নার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এ কারণে বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হলে ফাইল তৈরির কাজ পড়ত জয়ের ওপর।

যেসব ফাইল জয়ের প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি ওইগুলোর ঋণ দ্রুত পর্ষদে পাস হয়ে যেত। এমনই একটি প্রকল্পের বন্ধকি জমির প্রকৃত মূল্য আড়াই কোটি টাকা।
ব্যাংকে এর মূল্য দেখানো হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণ দেয়া হয়েছে ২৯ কোটি টাকা। ঋণের পুরো টাকাই বিদেশে পাচার করে দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের একই শাখা থেকে ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য লোন এগেনস্ট ট্রাস্ট রিসিপ্টি (এলটিআর) সুবিধা নেয়। কথা ছিল ওই অর্থে আমদানি করা ভোগ্যপণ্য বিক্রি করে ব্যাংকের দেনা শোধ করবেন।

ওই অর্থে তিনি ভোগ্যপণ্য আমদানি করেছেন এমন কোনো তথ্য পায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদিকে তিনি ওইসব ঋণও পরিশোধ করেননি। এ খাতে তার বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। ফলে ওই অর্থও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এ বিষয়গুলোএখন দুদক থেকে সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত হচ্ছে।

সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখা থেকে কয়েকটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে পাচার হয়েছে ২২২ কোটি টাকা।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সোনালী ব্যাংকের একজন ডিজিএম দেশ ছেড়ে কানাডা চলে গেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ডিজিএমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এই প্রথম সোনালী ব্যাংক নিজে বাদী হয়ে তার কোনো ডিজিএমের বিরুদ্ধে মামলা করল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক ৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য চট্টগ্রামের চারটি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় এলসি খোলে। এসব এলসির বিপরীতে ১৭৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করা হয়েছে।

কিন্তু দেশে কোনো শিল্পের কাঁচামাল আসেনি। যেসব কনটেইনারে এসব এলসির বিপরীতে পণ্য এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে শিল্পের কাঁচামালের পরিবর্তে পাওয়া গেছে ইটের গুঁড়া, আবর্জনাময় বালি, বিভিন্ন পণ্যের পোড়া অংশের ছাই, গুঁড়া পাথর ও সিমেন্টের ব্লক।

চট্টগ্রামের এবি অ্যান্ড ডি কর্পোরেশন, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম, এসআর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, এসএল স্টিল, এলএসআই, ইয়াছির এন্টারপ্রাইজ ও সেবা এন্টারপ্রাইজের নামে এলসিগুলো খোলা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, যেহেতু ব্যাংকের মাধ্যমে দেনা শোধ করা হয়েছে, কিন্তু পণ্য আসেনি- এর মানে হচ্ছে ওই সব টাকা পাচার করা হয়েছে। এ ঘটনাটি এখন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকে তদন্ত হচ্ছে।

ইমাম গ্রুপের ঋণের পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা। যার পুরোটাই খেলাপি। এর মধ্যে একটি ব্যাংকের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ইমাম ট্রেডার্সকে ১৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। এর ১০০ কোটি টাকা এলসির বিপরীতে এবং ৭৫ কোটি টাকা এলটিআর। এসব ঋণের টাকায় পণ্য আমদানি করার কথা। বাস্তবে বেশির ভাগ পণ্যই দেশে আসেনি। এসব অর্থও বিদেশে পাচার হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মাঠে নামছে বিএনপি, ২০ জুলাই লালদীঘির সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

ফাইল ছবি

কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে বিভাগীয় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। আগামী ২০ জুলাই লালদীঘি মাঠ সংলগ্ন জেলা পরিষদ চত্বর কিংবা কাজীর দেউড়ি মোড়ের এই সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার (১২ জুলাই) মহানগর বিএনপির নাসিমন ভবন কার্যালয় চত্বরে সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ সভা হয়। সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুকসহ চট্টগ্রামের জেলাগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার জন্য বিএনপি ও অঙ্গদলের থানা, ওয়ার্ড অংঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা অংশ নেবেন। এছাড়াও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকজন নেতা অংশ নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষ এটা জানে যে সরকার একটা ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে সামনের দিকে চলতে চাচ্ছে। দেশনেত্রীকে মুক্ত করা ছাড়া এই ভয়ভীতির পরিবেশ থেকে বের হওয়া যাবে না, গণতন্ত্র ফিরে পাওয়া যাবে না, বাকস্বাধীনতা পাওয়া যাবে না, আইনের শাসন ফিরে পাওয়া যাবে না।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা বলেন, খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা মানে গণতন্ত্রকে বেঁধে রাখা। তিনি মুক্ত থাকলে দেশে ভোট চুরির নির্বাচন হতে পারবে না। তাঁর মুক্তির দাবিতে ২০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় সমাবেশে যোগ দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান বিএনপি নেতারা।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উপ-দফর সম্পাদক মো. ইদ্রিস জানান, চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ করতে প্রথমে লালদীঘি মাঠ চেয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা চলায় পরবর্তীতে কাজীর দেউরী মোড় কিংবা লালদীঘির পাড় সংলগ্ন জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বরে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই দুটি স্থানের যেকোন একটিতে সমাবেশ করার অনুমতি পাওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে নগর পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ তিস্তার পর এবার আত্রাই নদীর পানি নিয়ে মমতার বাংলাদেশবিরোধী চাল

বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকেছে এমন তিন-চারটি অভিন্ন নদীর ওপর বাংলাদেশ যাতে বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে না পারে, সেজন্য দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ঢাকার সঙ্গে অবিলম্বে বৈঠকে বসে যাতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়, কেন্দ্রকে চিঠি লিখে সেই দাবিই জানিয়েছেন তিনি।

এই নদীগুলো হলো, আত্রাই (আত্রেয়ী), টাঙ্গন, পুনর্ভবা ও তুলাই। এসব নদী তাদের গতিপথের একটা পর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রবেশ করেছে। এরমধ্যে আত্রাই নদীটিকে বালুরঘাট শহরের জীবনরেখা বলেও ধরা হয়।

তবে দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অনেকেই মনে করছেন, তিস্তা চুক্তির বিরোধিতার ক্ষেত্রে নিজের অবস্থানকে আরও কঠোর করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই মমতা ব্যানার্জি এই চাল দিয়েছেন।

আত্রাইসহ এসব নদী থেকে বাংলাদেশ পানি টেনে নিচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এই অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে গত মঙ্গলবারেই (৯ জুলাই)। সেদিন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা থেকে নির্বাচিত বিধায়ক নর্মদাচন্দ্র রায় সভায় বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে এই নদীগুলোতে বাংলাদেশ নানা ধরনের স্থায়ী ও অস্থায়ী বাঁধ বসিয়ে জল সরিয়ে নিচ্ছে। পরে দেখা যাচ্ছে, বর্ষার পর চাষের জন্য যখন এসব নদীর জল সবচেয়ে বেশি দরকার, তখন আর পশ্চিমবঙ্গের চাষিরা সেচের কোনও জলই পাচ্ছেন না।’

এর ফলে গোটা জেলায় সেচ ও পানীয় জলের সরবরাহ ভেঙে পড়ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে বিধানসভায় সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের মন্ত্রীরাই। কিন্তু বাংলাদেশ এবং পানি যেহেতু মমতা ব্যানার্জির ‘প্রিয়’ বিষয়, তাই রাজ্যের সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে থামিয়ে দিয়ে তিনি নিজেই তখন বলতে ওঠেন।

মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘আত্রাই থেকে বাংলাদেশ যে অন্যায়ভাবে জল সরিয়ে নিচ্ছে সে কথা আমি বহুবার দিল্লিকে জানিয়েছি। বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতির বিষয়, ফলে ভারত সরকারকেই এখানে দায়িত্ব নিতে হবে। ঢাকার সঙ্গে তাদের কথা বলতে হবে।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিষয়টিকে তারা খুব ক্যাজুয়ালি নিচ্ছে। এভাবে নিলে চলবে না। আমি আবারও তাদের বৈঠকে বসতে তাগাদা দেবো।’

যেমন কথা তেমন কাজ। বস্তুত এর পরদিনই ( বুধবার, ১০ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়, যাতে আত্রাইসহ এই নদীগুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈঠক আয়োজনের কথা বলা হয়।

পশ্চিমবঙ্গের সেচ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, চিঠির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি স্যাটেলাইট ছবির প্রতিলিপিও জুড়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, ‘ওই উপগ্রহ-চিত্রে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, আত্রাইয়ের উজানে বাংলাদেশ বাঁধের মতো কাঠামো তৈরি করেছে– যার মাধ্যমে নদীর জল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তৃণমূল সভাপতি ও বালুরঘাটের সাবেক এমপি অর্পিতা ঘোষও বলছিলেন, ‘আত্রাই আসলে খুব ইউনিক একটি নদী। ভারতে উৎস হলেও তারপর সেটা বাংলাদেশে ঢুকেছে, পরে আবার ভারতে ঢুকেছে। পুরো বালুরঘাট শহর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জীবন-জীবিকা নির্ভর করে এই নদীটির ওপর।’

‘এখন ভারতের সঙ্গে কোনও কথা না বলেই বাংলাদেশ তাদের অংশে এই নদীটির ওপর বাঁধ বসিয়ে জল টেনে নিচ্ছে— আমাদের আপত্তি এখানেই। ফলে বালুরঘাটে এসে আত্রাই শুকিয়ে যাচ্ছে’, বলছিলেন তিনি।

দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের এক কর্মকর্তা অবশ্য জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গের অভিযোগ নিশ্চয়ই আমরা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবো, বাংলাদেশের কাছেও এ ব্যাপারে জানতে চাইবো। তবে সত্যি বলতে কী, আত্রাই-পুনর্ভবার ওপর বাংলাদেশ বাঁধ দিয়েছে কিনা, দিলেও জল সরানো হচ্ছে কিনা, সে সম্পর্কে কোনও তথ্য আমাদের হাতে নেই।’

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা অবশ্য মনে করেন, ‘এটা জল নিয়ে মমতা ব্যানার্জির আর একটি রাজনৈতিক চাল।’

‘এর আগেও তিনি তোর্সা-জলঢাকা, এসব নদীর জল দিয়ে তিস্তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এখন আত্রাই-পুনর্ভবা নিয়ে তিনি আরও একবার প্রমাণ করতে চাইছেন, জলের ইস্যুতে তিনি রাজ্যের স্বার্থে কোনও আপস করবেন না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তার এসব চালাকি বুঝে গেছেন’, বলছিলেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার।

দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্রেও বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক বহু বছর ধরে হয়নি। কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বৈঠক ন হলে এ ধরনের বিষয়গুলোর মীমাংসা যে কঠিন, সেটা তারাও মেনে নিচ্ছেন।

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ কোটি টাকার প্রকল্পে আ’লীগ নেতার চাঁদা দাবি, না দিলে কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও জয় বাংলা সাংস্কৃতিক জোটের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্স সদরুজ্জামান

মাহবুবুর রহমান রিপন, সিলেট ব্যুরো

বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের ৫৬ কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) দেখা না করলে কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও জয় বাংলা সাংস্কৃতিক জোটের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্স সদরুজ্জামান।

বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক প্রকৌশলী মানোয়ার হোসেন খানকে মোবাইল ফোনে এমন হুমকি দেয়ার অডিও সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট ও ঢাকায় চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

অডিওটিতে মানোয়ার হোসেন খানকে প্রিন্স সদরুজ্জামান বলেন, আপনার পিডি, ডিপিডি বারবার বলার পরও সেলিমের (সামসুল আলম সেলিম, সিলেট জেলার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি) সঙ্গে দেখা করল না, আমার এখন একটিই পথ খোলা- সেটা কাজ বন্ধ করে দেয়া। উন্নয়ন দরকার নেই, টাকা ফেরত যাক।

যদিও প্রিন্স সদরুজ্জামান যমুনা টেলিভিশনকে বলেন, কাজ যাতে ভালো হয় সেই পরামর্শ নেয়ার জন্য দেখা করতে বলেছি, অন্য কোনো কারণে নয়। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মুজিবর রহমান বলেন, তারা কি কারণে দেখা করতে বলেছেন তা সবারই জানা থাকার কথা। কোনোভাবেই তাদের কোনো অনৈতিক চাঁদা দাবি মেটাব না। এই অডিওটির বিষয়ে বাংলাদেশ বেতারের প্রধান প্রকৌশলীও জানেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ বেতার সিলেট আঞ্চলিক কেন্দ্রের আধুনিকায়নে ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। বরাদ্দ অনুযায়ী একটি ডরমেটরি ও একটি আধুনিক অডিটোরিয়ামসহ বেশকিছু কাজ শুরু করে বাংলাদেশ বেতার প্রকৌশল বিভাগ। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে প্রকৌশল বিভাগের ঢাকা কার্যালয়ের মুজিবর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিছু কাজ শুরু করার পর বারবার পিডিকে দেখা করার জন্য বলেন প্রিন্স সদরুজ্জামান। দেখা না করায় সম্প্রতি তিনি সিলেটের আঞ্চলিক প্রকৌশলী মানোয়ার হোসেন খানের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন।

যা হুবহু তুলে ধরা হল- ‘কি অবস্থা আমি তো ভারত থেকে এসে শুনলাম আপনার পিডি সেলিমের সঙ্গে দেখা করল না, সে তো এসে সেলিমের সঙ্গে বসার কথা ছিল। আমি তো তাকে স্ট্রেইট বলেছিলাম, সিলেটে এসে সেলিমের সঙ্গে দেখা করে কাজ শুরু করার জন্য। এখন সে যদি এসব করে তাহলে উন্নয়নের দরকার নেই, কাজ বন্ধ থাকুক। উন্নয়ন তো আমরাই আনছি, উন্নয়ন দরকার নেই, এগুলো বন্ধ রাখেন।’ এ সময় মানোয়ার খান বলেন, কাজ বন্ধ করতে পারবেন না। আমাকে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এ সময় প্রিন্স বলেন, ‘স্ট্রেইট আমাদের কথা বলেন যে তারা বলেছে- পিডি ডিপিডি দেখা না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।’ এ সময় প্রিন্সকে বলতে শোনা যায়, ‘বারবার কথা বলার পরও সে যদি না শুনে, তার মানে সে চোর। এখানে চুরি চলবে না।’ এ সময় প্রিন্স আরও বলেন, ‘ঢাকায় জয় বাংলা সাংস্কৃতিক জোটের স্মরণসভায় তথ্যমন্ত্রী এসেছিলেন, তার পাশেই বসা ছিলাম। আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে ছিল; কিন্তু নানাদিক চিন্তা করে বলিনি।’

এরপর মানোয়ার খান কিছু কথা বলার পর প্রিন্স বলেন, ‘এসব বললে সোজা ওপর মহলে বলে আঞ্চলিক প্রকৌশলী আর পিডিকে বদলাতে বলব। এসব লোক দিয়ে এখানে কাজ হবে না।’ এ সময় মানোয়ার খানকে বলতে শোনা যায়, তিনি কাজ করছেন না, কাজ মনিটরিং করছেন পিডি ও ডিপিডি। প্রিন্স বলেন, ‘আমি কাজ বন্ধ করলে আপনার পিডির বাপও কাজ করতে পারবে না এবং আমি আসলে একদম কাজ বন্ধ করে দিব, আমার আর কোনো রাস্তা নেই। আপনিই দায়িত্ব নিয়েছিলেন সেলিমের সঙ্গে পিডিকে বসিয়ে দিবেন।’ এসব বিষয়ে প্রায় ৭ মিনিট ১৪ সেকেন্ড কথা হয় প্রিন্স সদরুজ্জামান ও মানোয়ার হোসেন খানের। এই অডিও ক্লিপটি এখন যমুনা টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা দফতর ও বাংলাদেশ বেতারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

এ বিষয়ে প্রিন্স সদরুজ্জামান বলেন, আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু কাজ সঠিকভাবে করার জন্যই তাদের সঙ্গে বসার কথা বলেছি। পিডি যাতে সার্বক্ষণিক সিলেটে থেকে কাজটি করেন এসব পরামর্শ দেয়ার জন্য। কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, কাজ যদি ভালো না হয়, তাহলে তো বন্ধ করে দেয়াই ভালো।

এ বিষয়ে মানোয়ার হোসেন খান বলেন, তার সঙ্গে কথা হয়েছে, কি বিষয়ে কথা হয়েছে তা তো অডিওতেই আছে, এর বেশি আর কিছু বলতে চাচ্ছি না। কথা হয় প্রকল্প পরিচালক মুজিবর রহমানের সঙ্গে, তিনি বলেন, কাজ শুরুর আগে থেকেই আমাকে বারবার তাদের সঙ্গে বসতে বলা হচ্ছে। সামসুল আলম সেলিমের সঙ্গে কথাও বলেছি, কিন্তু তারপরও সেলিম আমাকে বলেছে তাদের সঙ্গে বসতে।

কেন বসতে বলেছে জানতে চাইলে মুজিবর রহমান বলেন, সেটা তো অনুমানই করতে পারেন কেন বসতে বলেছে। কোনোভাবেই অনৈতিক চাঁদা দাবিতে আমি সায় দেব না। তিনি আরও বলেন, এই অডিওটি এখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে।

তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। এদিকে সামসুল আলম সেলিমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন তার সঙ্গে পিডির কথা হয়েছে। কিন্তু শুধু কাজটি ভালোভাবে করার জন্যই বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি। বসার কথা তিনি বলেননি বলে দাবি করেন।
প্রিন্স সদরুজ্জামান কেন তার সঙ্গে বসার জন্য পিডিকে বলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সামসুল আলম সেলিম বলেন, এটা আমি জানি না, আমার সঙ্গে প্রিন্সের কোনো সম্পর্কই নেই।

মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা প্রিন্স সদরুজ্জামানের কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকির বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এমন কথাবার্তার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎসঃ যমুনা টিভি

আরও পড়ুনঃ গ্যাসের দাম আরো বাড়ানো প্রয়োজন ছিল, মানুষের কথা চিন্তা করে বাড়াইনিঃ শেখ হাসিনা


শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্যাসের দাম যেটা বৃদ্ধি করার প্রয়োজন ছিল সেটা করা হয়নি।৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির দরকার ছিল সেখানে মাত্র ৩২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিরাট অংকের ভর্তুকি দিয়ে আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরববরাহ করছি। যারা এখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন তারা প্রকৃত অবস্থা চিন্তা করছেন না। তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি আমাদের এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে এখন মিশ্রিত গ্যাসের জন্য যে খরচ পড়ছে তার পুরোটা জনগণের কাছ থেকে নেয়া উচিত সেটাতো আমরা নিচ্ছি না। তিনি গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা প্রি-পেইড মিটারের চিন্তা করছি, যাতে অপচয় রোধ করা যায়।

জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন।

গত ১১ জুন শুরু হওয়া অধিবেশনটি ২১ কার্যদিবসে বৃহস্পতিবার শেষ হয়। এতে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট পেশ ও পাস হয়। এছাড়াও ৭টি বিল পাস হয়্ বাজেটের ওপর ২৬৯ জন সদসপ্রায় ৫৫ ঘন্টা ৩৬ মিনিট বক্তব্য রাখেন।

শেখ হাসিনা তার সমাপনী বক্তব্যে বাজেট আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদকে প্রাণবন্ত করেছেন। শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করা হয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পুণতা অর্জনসহ নানা ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করে।এরপর আবার কলো অধ্যায়ের সূচনা হয় এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গত এক দশকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহীসোপানে যাত্রা শুরু করেছে। এখন বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেলে পরিণত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট দেয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমরা এখন ৯৯ ভাগ আমাদের নিজেদের অর্থায়নে করতে পারি। এবার আমর ৯৪ ভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আমরা নিজেদের স্বাবলম্বী করতে চাই, কারো কাছে হাত পেতে নয়। সেটা আমরা আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছি। তিনি দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলারে উন্নীত করতে পারবো। তিনি দেশের মানুষের গড় আয়ু পুরুষের ৭২.৮বছর এবং নারীর ৭৩ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে বলেন, খাদ্যে ভেজালের কথাও শুনতে হচ্ছে। তারপরও গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে সরকারের সার্বিক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, আর্থসামাজিকভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, গ্যাসের দাম নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। ভারতে গ্যাসের দাম নাকি কমানো হয়েছে। দাম বাড়ানোর প্রয়োজন কেনো হলো তা ব্যখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, গ্যাসের চাহিদার কারণে আমাদের প্রাকৃতি গ্যাসের পাশাপাশি এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। এ কারণে যেখানে ৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির দরকার ছিল সেখানে মাত্র ৩২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ঘনলিটার গ্যাসের দাম নেয়া হচ্ছে ৯.৮০ টাকা। অথচ এই গ্যাস খাতে প্রতিবছর সরকারকে ৩০ হাজার কোটি টাকা দেয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই হিসেবে দাম যেটা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল সেটা করা হয়নি। আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। প্রতি ঘনলিটার গ্যাসের দাম যেখানে পড়ে ৬১.১২ টাকা সেখানে নেয়া হচ্ছে ৯.৮১ টাকা অথ্যাৎ ৫১.৩২ টাকা সরকার আর্থিক সহায়তা করছে। এই হিসেবে এখনো বছরে ১৯ হাজার ১০ কোটি টাকা ভর্তূকি দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন পেট্রোবাংলা ১০২ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিল। দামতো আরো বাড়ানো যেতো, কিন্তু আমরা বাড়াইনি মানুষের কথা চিন্তা করে। তিনি বলেন, আমাদের প্রাকৃতি গ্যাস অপ্রতুল । ফলে এলএনজির সংমিশ্রন করে গ্যাস দিতে হয়। এতে খরচের ব্যাপার আছে।

গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ না নেয়ার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা গ্যাস অনুসন্ধ্যান অব্যাহত রেখেছি। ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন গ্যাস রপ্তানীর প্রস্তাব দিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আমি তখন বলেছিলাম আমাদের ৫০ বছরের গ্যাস মজুদ রাখার পর যদি থাকে তাহলে চিন্তা করা যেতে পারে। কিন্তু তার আগে আমাকে জানতে হবে আমার কত গ্যাস আছে। এরপর তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আবারো মুচলেকা নিতে চেয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দিয়ে ক্ষমতায় আনতে হবে সেই রাজনীতি করি না। আমি মুচলেকা দেইনি, খালেদা জিয়া দিয়েছিল। সেজন্য সেবার আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সংসদ নেতা আবারো বলেন, এখানে আমাদের আমাদে খরচটাতো বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদের এনার্জি ছাড়াতো চলবে না। খরচের পুরোটাইতো জনগণের কাছ থেকে নেয়া উচিত, সেটাতো আমরা নিচ্ছি না। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে গ্যাসের দামের তুলনামূলক একটি চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদেরতো ভারতের তুলনায় দাম অনেক কম। শুধুমাত্র সিএনপি আমাদের ৪৩ টাকা আর ভারতে ৪৪ রুপিজ তাহলে ভারতে দাম কমলো কিভাবে? তারাও কিন্তু গ্যাসে ভর্তুকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের গ্যাস ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। আগে শিল্প মালিকরা বলেছেন, আমাদের আগে গ্যাস দেন, যত টাকা লাগে দেবো। এখন গ্যাস দেয়ার পর যারা আন্দোলন করছেন তারা প্রকৃত অবস্থা চিন্তা করছেন না। তিনি বলেন, বিদ্যুতেও আমাদের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সেটার পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকা। সেটাতো আমরা মানুষের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি না। এভাবে বিরাট অংকের ভতূর্কি দিয়ে আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। ফলে গ্যাসের ব্যবহারে আমাদের সচেতন হতে হবে। আমরা প্রিপ্রেইট মিটারের চিন্তা করছি যাতে অপচয় রোধ করা যায়।

শেখ হাসিনা চাকুরির বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি প্রসঙ্গে বলেন, এখন যে শিক্ষা ব্যবস্থা তাতে ২৩ বছরে একজন শিক্ষাজীবন শেষ করে বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারে। এরপর ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিবার পরীক্ষা দিতে পারে। পৃথিবীর কোন দেশে এতো বার পরীক্ষা দিতে পারে না। তিনি শিক্ষাখাতে সরকারি ভতুর্কির কথা উল্লেখ করে বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে শিক্ষাখাতে এতো ভর্তুিক দেয় না। তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাথাপিছু শিক্ষার্থীদের ভতুকি প্রদানের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে এক সময় অস্ত্রের ঝনঝনানি ছাড়া কিছু ছিল না। এখন সেটা হয় না। আস্তে আস্তে এই পরিবেশ আমরা আরো উন্নত করতে পারবো। তিনি কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, ভিসির বাসায় যে আগুন দেয়ার মতো ঘটনা এর আগে দেখিনি। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বিচার করা দরকার যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে সাহস না করে। তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে যত টাকা লাগে আমরা দিয়ে যাচ্ছি।

সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, শিশুদের ওপর অত্যাচার হচ্চে। কথায় কথায় মানুষ খুন করা হচ্ছে। এগুলো মিডিয়ায় আসে। পত্রিকায় খবর আসার পর এসব অপরাধ আরো বৃদ্ধি পায়। আমি আশা করবো যারা এসব অপরাধ করে তাদের ছবি যেন দেখানো ও প্রকাশ করা হয় বার বার যাতে অন্যরাও এই ধরণের অপরাধ করতে সাহস না পায়। আর আইনটা আরো কঠোর করার দরকার। পুরুষরা এইসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে পুরুষদেরও সোচ্চার হতে হবে।

ডেঙ্গুজ্বর প্রসঙ্গে বলেন, এসব মশা ভদ্র জায়গায় থাকে। স্বচ্ছ পানিতে এগুলো জম্মায় বাড়ির আঙ্গিনা, টব, এসির পানি সব পরিস্কার রাখতে হবে যাতে পানি না জমায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে দেশকে আরো সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবো আমরা। বাংলাদেশকে ২০৪১ সালে মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সব থেকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করবো।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here