সামনে ব্যাংকিং খাতের আরো দুর্দিন: সালেহ উদ্দিন আহমেদ

0
309

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা অনাকাঙ্খিত। দিনে দিনে এই খাতটি খারাপের দিকে যাচ্ছে। এই খাতে খেলাপী ঋণ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বেড়ে গেছে, কর্মদক্ষতা কমে গেছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নিয়ে চুপচাপ বসে আছে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যেই নিজস্ব র্দুবলতা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের টপ ম্যানেজমেন্ট এবং বোর্ড অব ডিরেক্টররা যারা আছেন, তারা যে শক্তভাবে ডিরেক্টশন দেবেন সেটা না করে তাদের মধ্যে মন্থরগতি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সবার এমনভাব- যেভাবে চলছে চলুক। এর কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ব্যাংকগুলোতে আছে, বিভিন্ন ফিন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানে আছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও আছে। ব্যাংকগুলো কিভাবে চলছে সেটা তো দেখার দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের।

সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক ব্যাংকের অব্যবস্থাপনার কথা জেনেও কোন অ্যাকশন না নিয়ে বসে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখনই কিছু পজেটিভ অ্যাকশন নিলে এ অবস্থা কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে। তা নাহলে সামনে ব্যাংকিং খাতের আরো দুর্দিন। সরকারী ব্যাংক থেকে শুরু করে প্রাইভেট ব্যাংক সবখানেই অনাস্থা রয়েছে। এখন আবার লিজিং কোম্পানীগুলোতেও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। আর শেয়ার বাজারে তো সবসময় অস্থির অবস্থা দেখা যাচ্ছে। দিনে দিনে সবখানে অস্থিরতা বিস্তার লাভ করছে। গ্রাহকরা সবদিক দিয়ে বঞ্চিত হচ্ছে।

জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানো মোটেও ঠিক হয়নি বলে মনে করেন সাবেক এই গভর্নর। তিনি বলেন, মানুষ কোথায় বিনিয়োগ করবে এই নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছে। এই অবস্থায় জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানো ঠিক হয়নি। ব্যাংকগুলো যদি তাদের শক্ত অবস্থান তৈরী করতে না পারে তবে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি যতখানি এগিয়েছিল, গত এক বছর ধরে তার শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে। এখন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়াটাই বিরাট চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনাকে মানু‌ষের চাওয়ার দি‌কে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ এমাজউদ্দীনের


শেখ হাসিনাকে মানুষের চাওয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক ভিসি ড. এমাজউদ্দীন আহমদ। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন।

আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের’ উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত অনশন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার উদ্দেশে এমাজউদ্দীন বলেন, ‘আপ‌নি অনেক চালাক। আপনার যতটুকু বু‌দ্ধিমত্তা আছে তা দি‌য়ে স‌ঠিক সময়ে স‌ঠিক কাজটা ক‌রুন। যারা ক্ষমতা‌কে অন্যায় ভা‌বে আক‌ড়ে ধ‌রে তা‌দের প‌রিণতি ইতিহাসের বি‌ভিন্ন জায়গায় যেমন হ‌য়ে‌ছে আপনার প‌রিণতি তেমন হ‌বে। আপনার ন্যা‌য় নী‌তি যতটুকু আছে, তা দি‌য়ে সাধারণ মানু‌ষের চাওয়ার দি‌কে অগ্রসর হোন।’

তিনি আরো ব‌লেন, ‘এবা‌রের নির্বাচন‌কে ৩০ ডি‌সেম্বর না ব‌লে ২৯ ডি‌সেম্বর বল‌াই ভা‌লো। এবার নির্বাচ‌নের না‌মে মস্তবড় প্রহসন ঘ‌টে‌ছিল, জা‌তি তা দে‌খে‌ছে। সে‌দিন এক দুঃস্বপ্ন জা‌তি দে‌খে‌ছে।’

খা‌লেদা জিয়ার বন্দীদশা নি‌য়ে প্রবীণ এই শিক্ষক ব‌লেন, ‘আমরা দে‌খি দুই কো‌টি টাকা‌কে কেন্দ্র ক‌রে বেগম জিয়া‌কে আট‌কে রাখা হ‌য়ে‌ছে। ওই দুই কো‌টি টাকার এক‌টি টাকাও অপচয় হয়‌নি। বরং এই টাকা বে‌ড়ে সাত কো‌টি হ‌য়ে‌ছে। অথচ হাজার হাজার কো‌টি টাকা যারা মে‌রে‌ছে তা‌দের সা‌থে নি‌য়ে প্রধানমন্ত্রী চল‌ছেন। এ ভয়ংকর প‌রি‌স্থি‌তি থে‌কে জা‌তি‌কে মু‌ক্তি দিন।’

সুপ্রীম কোর্টের সি‌নিয়র আইনজীবী ও বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘দেশে ন্যায়বিচার আজ ভূলুণ্ঠিত। মিথ্যা মামলা দিয়ে জুলুম-নির্যাতন করা হচ্ছে। আইনের শাসন ও মানবাধিকার লংঘন করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আইনজীবীদের দায়িত্ব রয়েছে।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘খা‌লেদা জিয়ার না‌মে যে মিথ্যা মামলা দি‌য়ে‌ছেন, তা প্রত্যাহ‌া‌র ক‌রে তা‌কে মু‌ক্তি দিন। অন্যথায় দে‌শে একটা বড় গণবি‌স্ফোরণ হ‌বে। সেই বিস্ফোর‌ণে সরকা‌রের পতন হ‌বে। আজ‌কের অনশন সারা বাংলার মানু‌ষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। আমি দা‌বি জানাই, তার সকল মামলা স্থগিত করা হোক এবং তার সু‌চি‌কিৎসার ব্যাবস্থা করা হোক।’

সংগঠনের চেয়ারম্যান তৈমূর আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে অনশনে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, বিকল্প ধারার সভাপতি ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী, সংগঠনের সুপ্রীম কোর্ট ইউনিটের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদের, মহাসচিব এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, বিকল্প ধারার মহাসচিব শাহ আহমেদ বাদল, সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান আবেদ রাজা, ঢাকা বারের সাবেক সম্পাদক খোরশেদ মিয়া আলম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সংগঠনের সুপ্রীম কোর্ট ইউনিটের সম্পাদক আইয়ুব আলী আশরাফী, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব আনিছুর রহমান খান, কো-চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান ড. ওয়াছিল উদ্দিন বাবু, মো: কামাল হোসেন, মনির হোসেন, আবদুল মতিন মন্ডল, নাছির উদ্দিন খান সম্রাট, নাজমুল হাসান, আবুল খায়ের খান, নাহিদ জুলতানা, মো: শাফিউর রহমান শাফি, মো: ইসমাইল হোসেন, মো: মুজিবুর রহমান, একেএম মুকতার হোসেন, মোস্তফা কামাল, মাহমুদুল হাসান সুমন, আজমেরী বেগম ছন্দা, আবু আল ইউসুফ খান টিপু, শামসুজ্জামান খোকা, আজাদ মাহবুব প্রমুখ।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘সরকারের পছন্দমতো রায় না লেখায় আমাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল’: এস কে সিনহা


জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করতেই ক্ষমতাসীন সরকার দুর্নীতির মামলা দায়ের করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

ঢাকায় সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হওয়ার একদিন পর ওই মামলা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ভিত্তিক মুক্ত গণমাধ্যম বেনারকে তিনি এই কথা বলেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম- রুল অব ল, হিউমেন রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’র সূত্র ধরে তিনি তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া অবিচারের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, “আমাকে ১৫ দিন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল।”

আত্মজীবনীতে সরকারের পছন্দমতো রায় লিখতে রাজি না হওয়ায় শেখ হাসিনা ও তাঁর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা এবং চাপ দিয়ে দেশত্যাগ ও পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন এস কে সিনহা।

বর্তমান সরকারের অধীনে ন্যায়বিচার আশা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি । “এটি অনৈতিক, অন্যায়। তারা আমাকে জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায়,” বেনারকে বলেন বিচারপতি সিনহা।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে সরকারের সাথে মতবিরোধ সৃষ্টি হয় এস কে সিনহার। এরই জের ধরে ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর প্রথমে ছুটি নিয়ে বিদেশ যান তিনি। পরে সেখান থেকেই রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত বিচারপতি সিনহা গত কয়েক দিন ধরে নিজের ছোট মেয়েকে দেখতে স্ত্রীসহ কানাডায় রয়েছেন। সেখান থেকে টেলিফোনে বেনারের সাথে কথা বলেন তিনি।

দুর্নীতি মামলা হওয়ার সংবাদটি তাঁর স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে তাঁকে বলেছেন জানিয়ে বিচারপতি সিনহা বলেন, “আমি হাসব না কাঁদব, সেটাই ভাবছি!”

ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে এই মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার সংস্থাটির জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ এ সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

বাংলাদেশে সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা এটাই প্রথম।

“আপনার কি মনে হয় আপনি এই মামলায় ন্যায়বিচার পাবেন?” বেনারের এমন প্রশ্নে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, “যখন আমি কর্মরত প্রধান বিচারপতি ছিলাম, তখনই ন্যায়বিচার পাইনি। তাহলে এখন কীভাবে আশা করব?”

তাঁকে চাপ ও হুমকি দেওয়ার জন্য সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও (ডিজিএফআই) আত্মজীবনীতে অভিযুক্ত করেন তিনি।

“শেষ পর্যন্ত, আমার পরিবারের ওপর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর চাপ ও হুমকির মুখে আমি দেশের বাইরে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেই,” আত্মজীবনীর ভূমিকায় জানিয়েছেন বিচারপতি সিনহা।

তবে তাঁর অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেছে সরকার।

আত্মজীবনী প্রকাশের প্রায় এক বছরের মাথায় তাঁর বিরুদ্ধে বুধবার দুর্নীতির দায়ে মামলা দায়ের করল দুদক। যদিও মামলাটি এখনো প্রাথমিক স্তরে রয়েছে বলে বেনারকে জানান দুদকের আইনজীবী খুরশেদ আলম খান।

“এটা একটা মানি লন্ডারিং মামলা। এটা তথ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই হয়েছে। এটা খুব ইনিশিয়াল স্টেজে আছে। এখন তদন্ত হবে, তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এটা সময়ের ব্যাপার,” বেনারকে বলেন খুরশেদ আলম।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বেনারকে বলেন, “আমরা আশা করব সাবেক প্রধান বিচারপতি ন্যায় বিচার পাবেন। ন্যায় বিচারে মাধ্যমেই তিনি দোষী কিংবা নির্দোষ সাব্যস্ত হবেন।”

দুর্নীতি মামলা

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে এ অনুসন্ধান শুরু হয়। ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে। পরে দায়িত্ব পেয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থার পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত দল। এর পরে দুদকের অনুমতিতে এই মামলাটি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

“দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন সাবেক বিচারপতি দুর্নীতি মামলার মুখোমুখি হলেন, এটা ভালো লক্ষণ নয় এবং বিচারব্যবস্থার জন্য এটা হুমকি,” বেনারকে বলেন সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, এসকে সিনহা নিজেই বলেছেন যে, তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়েননি। তাই এই মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

“দুদকের মানি লন্ডারিং মামলাগুলো সাধারণত তথ্য এবং রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে হয়। তাই এই মামলার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, এটা বলার সুযোগ নেই,” বেনারকে বলেন দুদক আইনজীবী খুরশেদ আলম।

উৎসঃ justnewsbd

আরও পড়ুনঃ ‘বিচারকদের আতঙ্কে রাখতেই সিনহার বিরুদ্ধে মামলা’


বিচারকদের আতঙ্কে রেখে স্বাধীনভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করতে না দেয়ার উদ্দেশ্যেই সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করা হয়েছে। এটা একটি থ্রেট বা হুমকি, যাতে সরকারের বাইরে বিচার বিভাগ যেতে না পারে এমনটি মনে করেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক দু’জন সভাপতি ও বর্তমান সম্পাদক। তারা সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদকের এ মামলার তীব্র নিন্দা জানান। সেইসাথে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত করতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিচারপতি এস কে সিনহা একটি দেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়। সেটা অনেক দিন আগের ঘটনা। এখন তার বিরুদ্ধে যা করা হচ্ছে তা মানুষ বিশ্বাস করছে না। তারা মনে করছে এটা প্রতিহিংসার কারণে করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, এটা একটি থ্রেট বা হুমকি, যাতে সরকারের বাইরে বিচার বিভাগ যেতে না পারে। অতীতে একজন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এত দিন তার বিরুদ্ধে কী দুর্নীতি পেল তা প্রকাশ করা হয়নি। এর কিছুই আমরা জানি না।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় সরকারের পক্ষে রাখার জন্য এবং বিচারপতিরা যাতে স্বাধীনভাবে রায় দিতে না পারে তাদের মনে ভীতি সঞ্চার করার জন্যই সরকার প্রভাব খাটিয়ে এ মামলা করেছে। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদকের এ মামলার তীব্র নিন্দা জানান। সেইসাথে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত করতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিলের রায় নিয়ে মূলত সরকারের সাথে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে তার কিছু পর্যবেক্ষণও ভালোভাবে নেয়নি সরকার। সরকারি দল ও জোটের নেতারা সংসদে এস কে সিনহাকে উদ্দেশ করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। পরে রাষ্ট্রযন্ত্র জোরপূর্বক গৃহবন্দী করে তাকে অসুস্থ বলে দেশ ত্যাগে বাধ্য করে।

উল্লেখ্য, ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এস কে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই বুধবার দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।

বিচারপতি এস কে সিনহা ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো: শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

ফারমার্স ব্যাংকের দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির ‘প্রমাণ’ পাওয়ার কথা গত বছর অক্টোবরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। পরে বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বলে ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ঋণ জালিয়াতির টাকা বিদেশে পাচার


বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট, দুর্নীতি দমন কমিশন ও এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর তদন্ত করছে * টাকা পাচার বন্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ব্যাংকগুলোর প্রতি অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ * অর্থ ফেরানোর সুযোগ আছে, উদ্যোগ নেই

ব্যাংকিং খাতে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকার বড় অংশই বিদেশে পাচার হয়েছে। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় এসব অর্থ পাচার করেছেন।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে হলমার্ক গ্রুপ ৪৬ কোটি টাকা, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, ক্রিসেন্ট গ্রুপ ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, প্যাসিফিক গ্রুপ ৭৩০ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংক থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান ১৭৫ কোটি টাকা, ইমাম গ্রুপ ৮৮ কোটি টাকা পাচার করেছে।

এছাড়া আমদানির পণ্য দেশে না এনে, আমদানি পণ্যের মূল্য বেশি দেখিয়ে, রফতানির মূল্য দেশে না এনে, শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির নামে এসব অর্থ পাচার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, টাকা পাচারের ঘটনাগুলো প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে। বর্তমানে এগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর আলাদাভাবে তদন্ত করছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো সংস্থার তদন্তে অর্থ পাচারের ঘটনা ধরা পড়লে তা আরও সুনির্দিষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও মাঠে নামে।

পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদনগুলো বিএফআইইউ ও দুদকে পাঠাতে হয়। তারা সেগুলো আরও বিশদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়। এছাড়া শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকেও ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, টাকা পাচারকারীরা নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যাংকিং খাতকে বেছে নিয়েছে। আমদানি-রফতানি দুইভাবেই টাকা পাচার হচ্ছে। এর মানে, এসবের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে কাজ করছে না। যে কারণে টাকা পাচার হচ্ছে। এগুলো বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় অর্থনীতি রক্তশূন্য হয়ে যাবে।

বিএফআইইউ’র এক কর্মকর্তা বলেন, তারা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। গত ছয় মাসে টাকা পাচারের প্রায় অর্ধশতাধিক ঘটনা তদন্ত হয়েছে। আরও তদন্ত চলছে।

সূত্র জানায়, হলমার্ক গ্রুপ সোনালী ব্যাংকসহ ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। এর মধ্যে তারা যুক্তরাজ্যে সোনালী ব্যাংকের মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেড থেকে ৬৫ কোটি টাকার একটি এলসির দেনা শোধের নামে পাচার করেছে।

সোনালী ব্যাংকের গ্যারান্টিতে পণ্য আমদানির এলসি খোলা হয়েছিল যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকে। পণ্য দেশে না আসায় দেনা শোধ করছিল না সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক দায়, সে কারণে ব্যাংকের ইমেজের স্বার্থে পরিশোধ করতেই হবে। এ কারণে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ওই সময়ে সোনালী ব্যাংক ইউকে’কে দেনা পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়। এই নির্দেশ মোতাবেক ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ূন কবির এ নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি দুদক তদন্ত করছে।

৫টি ব্যাংক থেকে বিসমিল্লাহ গ্রুপ জালিয়াতি করে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর পুরোটাই তারা বিদেশে পাচার করেছে। ওই টাকায় দুবাইয়ে তারা হোটেল ব্যবসা করছে বলে তথ্য পেয়েছে বিএফআইইউ।

ক্রিসেন্ট গ্রুপ জনতা ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। এর মধ্যে তারা ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে তথ্য পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। তারা আরও তদন্ত করছে। এ পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এদিকে তাদের পাচার করা অর্থের ব্যাপারে বিএফআইইউ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশের কাছে পাচার করা অর্থ সম্পর্কে তথ্য চাইতে হলে বিএফআইইউর তদন্তে তা প্রমাণিত হতে হয়। এর ভিত্তিতে বিএফআইইউ বিভিন্ন দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে পারে। কিন্তু বিএফআইইউ থেকে সে রকম জোরালো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

প্যাসিফিক গ্রুপ কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে এবি ব্যাংকের গ্যারান্টিতে বেসরকারি খাতের ১২টি ব্যাংক থেকে সিটিসেল ঋণ নিয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্যাসিফিক মোটরস নিয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থের মধ্যে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বেসিক ব্যাংক জালিয়াতি করে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের দুটি শাখা থেকে আমদানি ও রফতানির মাধ্যমে ১৬টি প্রতিষ্ঠান ১৭৫ কোটি টাকা পাচার করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাচার করা হয়েছে ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে। শান্তিনগর শাখা থেকে তুলনামূলকভাবে কম পাচার হয়েছে। ছোট ছোট এলসির মাধ্যমে এই টাকা পাচার হয়।

সূত্র জানায়, ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার গ্রাহক রিয়াজুল ইসলাম দুবাইভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী। তার ব্যবসায়িক অংশীদার হচ্ছেন শাহরিয়ার খান জয়।

তিনি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর ছোট ভাই পান্নার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এ কারণে বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হলে ফাইল তৈরির কাজ পড়ত জয়ের ওপর।

যেসব ফাইল জয়ের প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি ওইগুলোর ঋণ দ্রুত পর্ষদে পাস হয়ে যেত। এমনই একটি প্রকল্পের বন্ধকি জমির প্রকৃত মূল্য আড়াই কোটি টাকা।
ব্যাংকে এর মূল্য দেখানো হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণ দেয়া হয়েছে ২৯ কোটি টাকা। ঋণের পুরো টাকাই বিদেশে পাচার করে দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের একই শাখা থেকে ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য লোন এগেনস্ট ট্রাস্ট রিসিপ্টি (এলটিআর) সুবিধা নেয়। কথা ছিল ওই অর্থে আমদানি করা ভোগ্যপণ্য বিক্রি করে ব্যাংকের দেনা শোধ করবেন।

ওই অর্থে তিনি ভোগ্যপণ্য আমদানি করেছেন এমন কোনো তথ্য পায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদিকে তিনি ওইসব ঋণও পরিশোধ করেননি। এ খাতে তার বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। ফলে ওই অর্থও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এ বিষয়গুলোএখন দুদক থেকে সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত হচ্ছে।

সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখা থেকে কয়েকটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে পাচার হয়েছে ২২২ কোটি টাকা।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সোনালী ব্যাংকের একজন ডিজিএম দেশ ছেড়ে কানাডা চলে গেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ডিজিএমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এই প্রথম সোনালী ব্যাংক নিজে বাদী হয়ে তার কোনো ডিজিএমের বিরুদ্ধে মামলা করল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক ৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য চট্টগ্রামের চারটি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় এলসি খোলে। এসব এলসির বিপরীতে ১৭৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করা হয়েছে।

কিন্তু দেশে কোনো শিল্পের কাঁচামাল আসেনি। যেসব কনটেইনারে এসব এলসির বিপরীতে পণ্য এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে শিল্পের কাঁচামালের পরিবর্তে পাওয়া গেছে ইটের গুঁড়া, আবর্জনাময় বালি, বিভিন্ন পণ্যের পোড়া অংশের ছাই, গুঁড়া পাথর ও সিমেন্টের ব্লক।

চট্টগ্রামের এবি অ্যান্ড ডি কর্পোরেশন, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম, এসআর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, এসএল স্টিল, এলএসআই, ইয়াছির এন্টারপ্রাইজ ও সেবা এন্টারপ্রাইজের নামে এলসিগুলো খোলা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, যেহেতু ব্যাংকের মাধ্যমে দেনা শোধ করা হয়েছে, কিন্তু পণ্য আসেনি- এর মানে হচ্ছে ওই সব টাকা পাচার করা হয়েছে। এ ঘটনাটি এখন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকে তদন্ত হচ্ছে।

ইমাম গ্রুপের ঋণের পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা। যার পুরোটাই খেলাপি। এর মধ্যে একটি ব্যাংকের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ইমাম ট্রেডার্সকে ১৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। এর ১০০ কোটি টাকা এলসির বিপরীতে এবং ৭৫ কোটি টাকা এলটিআর। এসব ঋণের টাকায় পণ্য আমদানি করার কথা। বাস্তবে বেশির ভাগ পণ্যই দেশে আসেনি। এসব অর্থও বিদেশে পাচার হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ গ্যাসের দাম আরো বাড়ানো প্রয়োজন ছিল, মানুষের কথা চিন্তা করে বাড়াইনিঃ শেখ হাসিনা


শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্যাসের দাম যেটা বৃদ্ধি করার প্রয়োজন ছিল সেটা করা হয়নি।৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির দরকার ছিল সেখানে মাত্র ৩২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিরাট অংকের ভর্তুকি দিয়ে আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরববরাহ করছি। যারা এখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন তারা প্রকৃত অবস্থা চিন্তা করছেন না। তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি আমাদের এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে এখন মিশ্রিত গ্যাসের জন্য যে খরচ পড়ছে তার পুরোটা জনগণের কাছ থেকে নেয়া উচিত সেটাতো আমরা নিচ্ছি না। তিনি গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা প্রি-পেইড মিটারের চিন্তা করছি, যাতে অপচয় রোধ করা যায়।

জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন।

গত ১১ জুন শুরু হওয়া অধিবেশনটি ২১ কার্যদিবসে বৃহস্পতিবার শেষ হয়। এতে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট পেশ ও পাস হয়। এছাড়াও ৭টি বিল পাস হয়্ বাজেটের ওপর ২৬৯ জন সদসপ্রায় ৫৫ ঘন্টা ৩৬ মিনিট বক্তব্য রাখেন।

শেখ হাসিনা তার সমাপনী বক্তব্যে বাজেট আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদকে প্রাণবন্ত করেছেন। শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করা হয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পুণতা অর্জনসহ নানা ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করে।এরপর আবার কলো অধ্যায়ের সূচনা হয় এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গত এক দশকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহীসোপানে যাত্রা শুরু করেছে। এখন বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেলে পরিণত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট দেয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমরা এখন ৯৯ ভাগ আমাদের নিজেদের অর্থায়নে করতে পারি। এবার আমর ৯৪ ভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আমরা নিজেদের স্বাবলম্বী করতে চাই, কারো কাছে হাত পেতে নয়। সেটা আমরা আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছি। তিনি দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলারে উন্নীত করতে পারবো। তিনি দেশের মানুষের গড় আয়ু পুরুষের ৭২.৮বছর এবং নারীর ৭৩ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে বলেন, খাদ্যে ভেজালের কথাও শুনতে হচ্ছে। তারপরও গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে সরকারের সার্বিক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, আর্থসামাজিকভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, গ্যাসের দাম নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। ভারতে গ্যাসের দাম নাকি কমানো হয়েছে। দাম বাড়ানোর প্রয়োজন কেনো হলো তা ব্যখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, গ্যাসের চাহিদার কারণে আমাদের প্রাকৃতি গ্যাসের পাশাপাশি এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। এ কারণে যেখানে ৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির দরকার ছিল সেখানে মাত্র ৩২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ঘনলিটার গ্যাসের দাম নেয়া হচ্ছে ৯.৮০ টাকা। অথচ এই গ্যাস খাতে প্রতিবছর সরকারকে ৩০ হাজার কোটি টাকা দেয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই হিসেবে দাম যেটা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল সেটা করা হয়নি। আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। প্রতি ঘনলিটার গ্যাসের দাম যেখানে পড়ে ৬১.১২ টাকা সেখানে নেয়া হচ্ছে ৯.৮১ টাকা অথ্যাৎ ৫১.৩২ টাকা সরকার আর্থিক সহায়তা করছে। এই হিসেবে এখনো বছরে ১৯ হাজার ১০ কোটি টাকা ভর্তূকি দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন পেট্রোবাংলা ১০২ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিল। দামতো আরো বাড়ানো যেতো, কিন্তু আমরা বাড়াইনি মানুষের কথা চিন্তা করে। তিনি বলেন, আমাদের প্রাকৃতি গ্যাস অপ্রতুল । ফলে এলএনজির সংমিশ্রন করে গ্যাস দিতে হয়। এতে খরচের ব্যাপার আছে।

গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ না নেয়ার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা গ্যাস অনুসন্ধ্যান অব্যাহত রেখেছি। ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন গ্যাস রপ্তানীর প্রস্তাব দিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আমি তখন বলেছিলাম আমাদের ৫০ বছরের গ্যাস মজুদ রাখার পর যদি থাকে তাহলে চিন্তা করা যেতে পারে। কিন্তু তার আগে আমাকে জানতে হবে আমার কত গ্যাস আছে। এরপর তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আবারো মুচলেকা নিতে চেয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দিয়ে ক্ষমতায় আনতে হবে সেই রাজনীতি করি না। আমি মুচলেকা দেইনি, খালেদা জিয়া দিয়েছিল। সেজন্য সেবার আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সংসদ নেতা আবারো বলেন, এখানে আমাদের আমাদে খরচটাতো বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদের এনার্জি ছাড়াতো চলবে না। খরচের পুরোটাইতো জনগণের কাছ থেকে নেয়া উচিত, সেটাতো আমরা নিচ্ছি না। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে গ্যাসের দামের তুলনামূলক একটি চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদেরতো ভারতের তুলনায় দাম অনেক কম। শুধুমাত্র সিএনপি আমাদের ৪৩ টাকা আর ভারতে ৪৪ রুপিজ তাহলে ভারতে দাম কমলো কিভাবে? তারাও কিন্তু গ্যাসে ভর্তুকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের গ্যাস ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। আগে শিল্প মালিকরা বলেছেন, আমাদের আগে গ্যাস দেন, যত টাকা লাগে দেবো। এখন গ্যাস দেয়ার পর যারা আন্দোলন করছেন তারা প্রকৃত অবস্থা চিন্তা করছেন না। তিনি বলেন, বিদ্যুতেও আমাদের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সেটার পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকা। সেটাতো আমরা মানুষের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি না। এভাবে বিরাট অংকের ভতূর্কি দিয়ে আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। ফলে গ্যাসের ব্যবহারে আমাদের সচেতন হতে হবে। আমরা প্রিপ্রেইট মিটারের চিন্তা করছি যাতে অপচয় রোধ করা যায়।

শেখ হাসিনা চাকুরির বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি প্রসঙ্গে বলেন, এখন যে শিক্ষা ব্যবস্থা তাতে ২৩ বছরে একজন শিক্ষাজীবন শেষ করে বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারে। এরপর ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিবার পরীক্ষা দিতে পারে। পৃথিবীর কোন দেশে এতো বার পরীক্ষা দিতে পারে না। তিনি শিক্ষাখাতে সরকারি ভতুর্কির কথা উল্লেখ করে বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে শিক্ষাখাতে এতো ভর্তুিক দেয় না। তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাথাপিছু শিক্ষার্থীদের ভতুকি প্রদানের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে এক সময় অস্ত্রের ঝনঝনানি ছাড়া কিছু ছিল না। এখন সেটা হয় না। আস্তে আস্তে এই পরিবেশ আমরা আরো উন্নত করতে পারবো। তিনি কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, ভিসির বাসায় যে আগুন দেয়ার মতো ঘটনা এর আগে দেখিনি। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বিচার করা দরকার যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে সাহস না করে। তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে যত টাকা লাগে আমরা দিয়ে যাচ্ছি।

সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, শিশুদের ওপর অত্যাচার হচ্চে। কথায় কথায় মানুষ খুন করা হচ্ছে। এগুলো মিডিয়ায় আসে। পত্রিকায় খবর আসার পর এসব অপরাধ আরো বৃদ্ধি পায়। আমি আশা করবো যারা এসব অপরাধ করে তাদের ছবি যেন দেখানো ও প্রকাশ করা হয় বার বার যাতে অন্যরাও এই ধরণের অপরাধ করতে সাহস না পায়। আর আইনটা আরো কঠোর করার দরকার। পুরুষরা এইসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে পুরুষদেরও সোচ্চার হতে হবে।

ডেঙ্গুজ্বর প্রসঙ্গে বলেন, এসব মশা ভদ্র জায়গায় থাকে। স্বচ্ছ পানিতে এগুলো জম্মায় বাড়ির আঙ্গিনা, টব, এসির পানি সব পরিস্কার রাখতে হবে যাতে পানি না জমায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে দেশকে আরো সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবো আমরা। বাংলাদেশকে ২০৪১ সালে মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সব থেকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করবো।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here