শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালের সুপার ওভারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড

0
161

এর চেয়ে রোমাঞ্চকর ফাইনাল আর হতে পারে না। বলতে গেলে ফাইনাল বিশ্বকাপের মতোই হয়েছে। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল ম্যাচটির ভাগ্য নির্ধারিত হলো সুপার ওভারে।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের রোমাঞ্চকর ফাইনালে রোববার দুই দলকে আলাদা করল কেবল বাউন্ডারির হিসাব। বেশি বাউন্ডারি মেরে প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতল ইংল্যান্ড। ক্রিকেটের জন্মভূমি, ওয়ানডের জন্ম যেখানে সেই দেশ অবশেষে বিশ্বকাপ জিতল নিজেদের আঙিনায়।

লর্ডসে সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬ রান। জবাবে নিউজিল্যান্ড করেছে ১৫ রান। আবার ম্যাচটি টাই হয়। কিন্তু বাউন্ডারি ব্যবধানে ইংল্যান্ড জিতে যায় ম্যাচটি।

বিশ্বকাপের ফাইনালে লর্ডসে রোববার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ডকে ৫০ ওভারে ২৪১ রানে আটকে রাখে ইংল্যান্ড। এক সময় শঙ্কায় পড়ে যাওয়া ইংল্যান্ডকে জয়ের পথে রাখেন বেন স্টোকস। শেষ ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ বলের ঠিক ২৪১ রানেই অল আউট হয় স্বাগতিকরা। ম্যাচ গড়ায় তাই সুপার ওভারে।

তীরে গিয়ে তরী ডোবার অবস্থা হয় ইংল্যান্ডের। জয়ের জন্য শেষ ১০ বলে প্রয়োজন ছিল ২২ রান। এমন অবস্থায় জেমি নিশামের ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ট্রেন্ট বোল্টের ক্যাচে পরিণত হন। কিন্তু ক্যাচ তালুবন্দি করে ব্যালেন্স রাখতে পারেননি বোল্ট।

তার পা বাউন্ডারি রশি স্পর্শ করলে আম্পায়ার ছক্কার নির্দেশ দেন। তখন বেন স্টোকস আউট হলে ম্যাচের ভাগ্য অন্যরকম হতে পারত।

তারপরও খেলায় ছিল নিউজিল্যান্ড। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। প্রথম দুই বল ডট দেন ট্রেন্ট বোল্ট। ঠিক পরের বলে ছক্কা হাঁকান বেন স্টোক। তার পরের বলে ডাবল রান নেয়ার চেষ্টা করেন বেন স্টোকস ও আদিল রশিদ।

কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডার সঠিক জায়গায় বল থ্রো না করায় অতিরিক্ত আরও চার রান পেয়ে যায় ইংল্যান্ড।

শেষ দুই বলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৩ রান। পঞ্চম বলে রান আউট হন আদিল রশিদ। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান। বেন স্টোকস ও মার্ক উড দৌড়ে সেই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন বেন স্টোকস।

রোববার ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৪১ রান করে নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন হেনরি নিকোলস। এছাড়া ৪৭ রান করেন টম লাথাম।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৮৬ রানে জেসন রয়, জো রুট, জনি বেয়ারস্টো ও অধিনায়ক ইয়ন মরগানের উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।

এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলকে খেলায় ফেরান বেন স্টোকস ও জস বাটলার। পঞ্চম উইকেটে তারা ১১০ রানের জুটি গড়েন। এরপর ৭ রানের ব্যবধানে বাটলার ও নতুন ব্যাটসম্যান ক্রিস ওকসের উইকেট হারিয়ে ফের চাপের মধ্যে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে অনবদ্য ব্যাটিং করে যান বেন স্টোকস।

এর আগে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯ রানে ওপেনার মার্টিন গাপটিলের উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। গত বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান করে যাওয়া কিউই এ ওপেনার এবারের আসরে চরম ব্যর্থ। ১০ ম্যাচ খেলে মাত্র ১৮৬ রান করেন।

এরপর ওয়ান ডাউনে নামা কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি গড়েন হেনরি নিকোলস। বিশ্বকাপে ধারাবাহিক রান করে যাওয়া নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ৫৩ বলে ৩০ রান করে ফেরেন।

ইনিংসের শুরু থেকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া হেনরি নিকোলস লিয়াম প্ল্যাঙ্কেটের গতির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। তার আগে ৭৭ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৫৫ রান করেন তিনি।

এরপর ২৩ রানের ব্যবধানে ফেরেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক রস টেইলর। বিশ্বকাপে কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান করে যাওয়া টেইলর এদিন সুবিধা করতে পারেননি। ৩১ বলে ১৫ রানে ফেরেন তিনি।

ব্যাটিংয়ে নেমে ভালোই খেলছিলেন জেমস নিশাম। ২৫ বলে ১৯ রান করেন প্ল্যাঙ্কেটের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন টম লাথাম। তার ৫৬ বলের ৪৭ রানের সুবাদে ২৪১ রান তুলতে সক্ষম হয় নিউজিল্যান্ড।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপ জয়ের পর ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক যা বললেন


বিশ্বকাপের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ইয়ন মরগান বলেন, আমি কেইন ও তার দলের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে চাই।

তিনি বলেন, আমি মনে করি কঠিন উইকেটে আজকের খেলাটি ছিল খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এমন পিচে খেলা কষ্টকর বলেই ভেবেনিয়েছিলাম। কিন্তু এটা তার চেয়েও কঠিন হয়েছে। আমরা আজ খুবই আনন্দিত যে শিরোপাটা নিজেদের করে নিতে পেরেছি।

সত্যিকার অর্থে এর চেয়ে রোমাঞ্চকর ফাইনাল আর হতে পারে না। বলতে গেলে ফাইনাল বিশ্বকাপের মতোই হয়েছে। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল ম্যাচটির ভাগ্য নির্ধারিত হলো সুপার ওভারে।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের রোমাঞ্চকর ফাইনালে রোববার দুই দলকে আলাদা করল কেবল বাউন্ডারির হিসাব। বেশি বাউন্ডারি মেরে প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতল ইংল্যান্ড। ক্রিকেটের জন্মভূমি, ওয়ানডের জন্ম যেখানে সেই দেশ অবশেষে বিশ্বকাপ জিতল নিজেদের আঙিনায়।

লর্ডসে সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬ রান। জবাবে নিউজিল্যান্ড করেছে ১৫ রান। আবার ম্যাচটি টাই হয়। কিন্তু বাউন্ডারি ব্যবধানে ইংল্যান্ড জিতে যায় ম্যাচটি।

বিশ্বকাপের ফাইনালে লর্ডসে রোববার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ডকে ৫০ ওভারে ২৪১ রানে আটকে রাখে ইংল্যান্ড। এক সময় শঙ্কায় পড়ে যাওয়া ইংল্যান্ডকে জয়ের পথে রাখেন বেন স্টোকস। শেষ ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ বলের ঠিক ২৪১ রানেই অল আউট হয় স্বাগতিকরা। ম্যাচ গড়ায় তাই সুপার ওভারে।

তীরে গিয়ে তরী ডোবার অবস্থা হয় ইংল্যান্ডের। জয়ের জন্য শেষ ১০ বলে প্রয়োজন ছিল ২২ রান। এমন অবস্থায় জেমি নিশামের ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ট্রেন্ট বোল্টের ক্যাচে পরিণত হন। কিন্তু ক্যাচ তালুবন্দি করে ব্যালেন্স রাখতে পারেননি বোল্ট।

তার পা বাউন্ডারি রশি স্পর্শ করলে আম্পায়ার ছক্কার নির্দেশ দেন। তখন বেন স্টোকস আউট হলে ম্যাচের ভাগ্য অন্যরকম হতে পারত।

তারপরও খেলায় ছিল নিউজিল্যান্ড। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। প্রথম দুই বল ডট দেন ট্রেন্ট বোল্ট। ঠিক পরের বলে ছক্কা হাঁকান বেন স্টোক। তার পরের বলে ডাবল রান নেয়ার চেষ্টা করেন বেন স্টোকস ও আদিল রশিদ।

কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডার সঠিক জায়গায় বল থ্রো না করায় অতিরিক্ত আরও চার রান পেয়ে যায় ইংল্যান্ড।

শেষ দুই বলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৩ রান। পঞ্চম বলে রান আউট হন আদিল রশিদ। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান। বেন স্টোকস ও মার্ক উড দৌড়ে সেই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন বেন স্টোকস।

রোববার ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৪১ রান করে নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন হেনরি নিকোলস। এছাড়া ৪৭ রান করেন টম লাথাম।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৮৬ রানে জেসন রয়, জো রুট, জনি বেয়ারস্টো ও অধিনায়ক ইয়ন মরগানের উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।

এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলকে খেলায় ফেরান বেন স্টোকস ও জস বাটলার। পঞ্চম উইকেটে তারা ১১০ রানের জুটি গড়েন। এরপর ৭ রানের ব্যবধানে বাটলার ও নতুন ব্যাটসম্যান ক্রিস ওকসের উইকেট হারিয়ে ফের চাপের মধ্যে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে অনবদ্য ব্যাটিং করে যান বেন স্টোকস।

এর আগে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯ রানে ওপেনার মার্টিন গাপটিলের উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। গত বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান করে যাওয়া কিউই এ ওপেনার এবারের আসরে চরম ব্যর্থ। ১০ ম্যাচ খেলে মাত্র ১৮৬ রান করেন।

এরপর ওয়ান ডাউনে নামা কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি গড়েন হেনরি নিকোলস। বিশ্বকাপে ধারাবাহিক রান করে যাওয়া নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ৫৩ বলে ৩০ রান করে ফেরেন।

ইনিংসের শুরু থেকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া হেনরি নিকোলস লিয়াম প্ল্যাঙ্কেটের গতির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। তার আগে ৭৭ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৫৫ রান করেন তিনি।

এরপর ২৩ রানের ব্যবধানে ফেরেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক রস টেইলর। বিশ্বকাপে কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান করে যাওয়া টেইলর এদিন সুবিধা করতে পারেননি। ৩১ বলে ১৫ রানে ফেরেন তিনি।

ব্যাটিংয়ে নেমে ভালোই খেলছিলেন জেমস নিশাম। ২৫ বলে ১৯ রান করেন প্ল্যাঙ্কেটের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন টম লাথাম। তার ৫৬ বলের ৪৭ রানের সুবাদে ২৪১ রান তুলতে সক্ষম হয় নিউজিল্যান্ড।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপ ফাইনালে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ বেন স্টোকস


রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে সমাপ্তি ঘটল বিশ্বকাপ মঞ্চের। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বললেও কম বলা হয়ে যাবে।

টার্গেট ছুঁতে শেষ দিকে প্রতিটি বল নিয়েই যেন কাব্য লেখা যাবে। প্রতিটি রানের সঙ্গেই জড়িয়েছিল স্বপ্ন জয় বা দীর্ঘশ্বাসের টান।

খেলায় জয়-পরাজয় নির্ধারণ হচ্ছিলই না। তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে সুপার ওভার পর্যন্ত। তাতেও শান্তি নেই কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারির দর্শক ও টিভি সেটের সামনে বসে থাকা বিশ্ববাসীর। সুপার ওভারেও টাই হয়ে গেল।

আর খেলাকে চরম উত্তেজনার পর্যায়ে যিনি নিয়ে গেলেন তিনি ইংল্যান্ড শিবিরের অলরাউন্ডার বেন স্টোকস।

৯৮ বলে ৮৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে কিউইদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন ম্যাচটি। সুপার ওভারেও বাটলারের সঙ্গে নেমে ১৫ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেন।

আর সেখানেই হেরে বসেন কেন উইলিয়ামসনরা।

যে কোন দিক থেকেই বোঝা যায় ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ফাইনালের হিরো – বেন স্টোকই।

দলকে সামনে তেকে নেতৃত্ব দিয়ে ক্রিকেটের জন্মভূমির দশকে এনে দিলেন শিরোপা।

প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে উচ্চারিত হলো বেন স্টোকসেরই নাম। বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যান ওব দ্য ম্যাচ হলেন তিনি।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের রোমাঞ্চকর ফাইনালে রোববার দুই দলকে আলাদা করল কেবল বাউন্ডারির হিসাব। বেশি বাউন্ডারি মেরে প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতল ইংল্যান্ড। ক্রিকেটের জন্মভূমি, ওয়ানডের জন্ম যেখানে সেই দেশ অবশেষে বিশ্বকাপ জিতল নিজেদের আঙিনায়।

বিশ্বকাপের ফাইনালে লর্ডসে রোববার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ডকে ৫০ ওভারে ২৪১ রানে আটকে রাখে ইংল্যান্ড। এক সময় শঙ্কায় পড়ে যাওয়া ইংল্যান্ডকে জয়ের পথে রাখেন বেন স্টোকস। শেষ ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ বলের ঠিক ২৪১ রানেই অল আউট হয় স্বাগতিকরা। ম্যাচ গড়ায় তাই সুপার ওভারে।

তীরে গিয়ে তরী ডোবার অবস্থা হয় ইংল্যান্ডের। জয়ের জন্য শেষ ১০ বলে প্রয়োজন ছিল ২২ রান। এমন অবস্থায় জেমি নিশামের ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ট্রেন্ট বোল্টের ক্যাচে পরিণত হন। কিন্তু ক্যাচ তালুবন্দি করে ব্যালেন্স রাখতে পারেননি বোল্ট।

তার পা বাউন্ডারি রশি স্পর্শ করলে আম্পায়ার ছক্কার নির্দেশ দেন। তখন বেন স্টোকস আউট হলে ম্যাচের ভাগ্য অন্যরকম হতে পারত।

তারপরও খেলায় ছিল নিউজিল্যান্ড। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। প্রথম দুই বল ডট দেন ট্রেন্ট বোল্ট। ঠিক পরের বলে ছক্কা হাঁকান বেন স্টোক। তার পরের বলে ডাবল রান নেয়ার চেষ্টা করেন বেন স্টোকস ও আদিল রশিদ।

কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডার সঠিক জায়গায় বল থ্রো না করায় অতিরিক্ত আরও চার রান পেয়ে যায় ইংল্যান্ড।

শেষ দুই বলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৩ রান। পঞ্চম বলে রান আউট হন আদিল রশিদ। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান। বেন স্টোকস ও মার্ক উড দৌড়ে সেই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন বেন স্টোকস।

রোববার ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৪১ রান করে নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন হেনরি নিকোলস। এছাড়া ৪৭ রান করেন টম লাথাম।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৮৬ রানে জেসন রয়, জো রুট, জনি বেয়ারস্টো ও অধিনায়ক ইয়ন মরগানের উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।

এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলকে খেলায় ফেরান বেন স্টোকস ও জস বাটলার। পঞ্চম উইকেটে তারা ১১০ রানের জুটি গড়েন। এরপর ৭ রানের ব্যবধানে বাটলার ও নতুন ব্যাটসম্যান ক্রিস ওকসের উইকেট হারিয়ে ফের চাপের মধ্যে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে অনবদ্য ব্যাটিং করে যান বেন স্টোকস। ফাইনাল ম্যাচ স্টোকসময় হয়ে থাকল।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ এটা বিপর্যয়কর: কিউই অধিনায়ক


বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ডকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বলেছেন, তারা (ইংল্যান্ড) চমৎকার খেলেছে। শিরোপাটা তাদের প্রাপ্য। এটা চ্যালেজিং একটা খেলা ছিল।

তিনি বলেন, আমরা যা প্রত্যাশা করেছিলাম, পিচ ছিল তার চেয়ে ভিন্ন। এখানে ৩০০ রানের বেশি স্কোর ছিল না। লড়াই করে যাওয়ার জন্য আমার দলকে অবশ্যই ধন্যবাদ। যদিও আজ এটা কোনো গুরুত্ব বহন করে না। খেলোয়াড়রা ভেঙে পড়েছেন, এটা বিপর্যকর।

তিনি বলেন, এটা ছিল ক্রিকেটের একটি চমৎকার খেলা। খেলাটা শেষ বল পর্যন্ত গড়িয়েছে। শেষ বলের পর আরেকটি ছোট ম্যাচে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। যা সত্যিই কঠিন। কিন্তু সব কৃতিত্ব ইংল্যান্ডের। এখানে আমাদের জন্য ইতিবাচক অনেক কিছু আছে।

এদিকে সাকিব আল হাসানকে বঞ্চিত করে বিশ্বকাপের প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট দেয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে।

এ পুরস্কারটি পাওয়ার দাবিদার ছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এবারের বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে ৬০৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতেও শিকার করেন ১১ উইকেট।

অথচ উইলিয়ামসনের রান ছিল মাত্র ৫৭৮ রান।

এ নিয়ে বাংলাদেশি সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কারণ, ব্যাটিং পারফরমেন্সের হিসেবে দিলেও তো উইলিয়ামসন সাকিবের পেছনে, আর বোলিং নৈপুণ্য ছিল সাকিবের বাড়তি পাওনা। তাই কপিল দেবসহ বিশ্বের কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা সাকিবকেই প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট বিবেচনা করেছিলেন।

বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি পাঁচটি ফিফটির সাহায্যে আট ম্যাচে ৬০৬ রান করেন। এছাড়া বল হাতে শিকার করেন ১১ উইকেট।

এর আগে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স বিবেচনায় সাকিব আল হাসান, জেসন রয়, রোহিত শর্মা, মিচেল স্টার্ক, ডেভিড ওয়ার্নার ও উইলিয়ামসন প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট হিসেবে সম্ভাব্য তালিকায় ছিলেন।

বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে রেকর্ড পাঁচটি সেঞ্চুরির সাহায্যে ৬৪৮ রান করেন ভারতীয় তারকা ওপেনার রোহিত শর্মা। তার চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে তিনটি সেঞ্চুরিতে ৬৪৭ রান করেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার।

মাত্র ৮ ম্যাচ খেলে দুই সেঞ্চুরি ও পাঁচটি ফিফটির সাহায্যে ৬০৬ রান করেন সাকিব আল হাসান।

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here