শিবির কার্যালয় ঘিরে রেখে ককটেল বিষ্ফোরণের নাটক করেছে পুলিশঃ সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত (ভিডিও সহ)

0
693

চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার চন্দরপুরা ডিসি রোডে শিবির কার্যালয় ঘিরে রেখে ব্লকরেইড অভিযানের নামে ককটেল বিষ্ফোরণের নাটক সাজিয়েছে পুলিশ। এমনটি দাবি করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত। তিনি আরও বলেনঃ ‘এই ধরনের ষড়যন্ত্র আর নাটক আওয়ামীলীগের জন্য বুমেরাং হবে। ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার চন্দরপুরা ডিসি রোডে পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে ব্লকরেইড অভিযানের নামে এলাকায় প্রবেশ করে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতের তাৎক্ষনিক বক্তব্যের ভিডিওঃ

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে ▷ বাটনে ক্লিক করুন]

পুলিশ বলছে, ব্লক রেড দেয়ার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ শুনেন তারা। এরপর শিবির কার্যালয়ের চারতলা ভবন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে কার্যালয়টি ঘিরে ফেলে। কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশ কার্যালয়ে ঢুকে ভাংচুর করে। পরে নিজেরাই ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ও বিষ্ফোরণ ঘটায়।

সূত্র জানায়, গত ২৮ অক্টোবর পুলিশের উপকমিশনার হিসেবে যোগ দেন মেহেদি। এর আগে ২০১৩ সালে ১৮ দলীয় জোটের আন্দোলনের সময় এই উপ কমিশনার মেহেদী হাসান বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে সেখান থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ডজন খানেক কেন্দ্রীয় নেতাকে ধরে নিয়ে কার্যালয় থেকে ১০টি ককটেল ও বোমা উদ্ধারের নাটক সাজায়। তাছাড়াও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে তান্ডব চালিয়ে সাধারন ছাত্রদের বিতারিত করার অভিযোগও আছে এই ডিসির বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কার্যালয়টি দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ এবং পুলিশি পাহারায় রয়েছে। কিছু দিন আগে পুলিশ ঐ একই কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে কিছুই পায়নি। অথচ আজ পুলিশ সেখানে রহস্যজনক ভাবে সেখনে ককটেল ও বিষ্ফোরক উদ্ধারের দাবি করছে।

এদিকে পুলিশের ককটেল নাটকের প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, অফিস বন্ধ অবস্থায় রাতের আঁধারে হীন উদ্দেশ্যেই নাটক সাজানোর জন্যই এই অভিযান পরিচালনা করেছে। অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী সরকারের আজ্ঞা পালন করতে গিয়ে পুলিশ দেশের স্বাভাবিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, কর্মসূচি পালন করতে আইনি কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকার তাদের দলীয় সন্ত্রাসী ও দেশের খেটে খাওয়া শ্রমিকের ঘাম ঝরা টাকায় লালিত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ছাত্রশিবিরের পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে। যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অতি নিচু মানসিকতার পরিচায়ক।

উল্লেখ্য পুলিশের এই বোমা নাটকের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরী উত্তর, ঢাকা মহানগরী পশ্চিম, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রশিবির। এ সময় চট্টগ্রামে শিবির কার্যালয়ে পুলিশি হামলা ও বোমা নাটকের প্রতিবাদে স্লোগান দেয় তারা।

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন]

-শীর্ষ নিউজ ও সংবাদ ২৪৭

দেশকেই একটা কারাগারে পরিণত করেছে সরকার; জামায়াতের কোন ক্ষতি করতে পারেনিঃ ডা. শফিক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতেই বিরোধী দলগুলোর ওপর জুূলুম-নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। তারা পুরো দেশকেই একটা কারাগারে পরিণত করেছে। কারাগারে বাইরেও মানুষ স্বস্তিতে নেই।

কারণ, ‘ঘরে থাকলে খুন আর বাইরে থাকলে গুম’ এই অবস্থায় এখন সাধারণ মানুষকে তাড়া করে ফিরছে। দেশ ও জাতির এই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে বাঁচাতে হলে সব পেশা ও শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শনিবার রাজধানীতে ‘স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা’ মিরপুর ও কাফরুল শাখার যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে মেডিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ঢাকা মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান ও ছাত্রনেতা সালাহউদ্দীন আইয়ুবী প্রমূখ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দেশ সাংবিধানিকভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্রের দেশ হলেও সরকার জনগণের জন্য রাজপথ বন্ধ করে দিয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচেছ। বাদ যাচ্ছেনা মৃত, বৃদ্ধ ও প্রবাসীরাও।

সরকার আমাদের সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের এক পথ বন্ধ করে দিলেও আল্লাহ আমাদের জন্য ১০ পথ খুলে দিয়েছেন। মূলত সরকার আমাদের কোন ক্ষতি করতে পারেনি আর পারবেও না বরং বিজয় আমাদের জন্য অবধারিত।

তিনি আরো বলেন, আর্ত-মানবতার সেবা মূলত হক্কুল ইবাদ। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের দরদী মন ও আন্তরিকতা নিয়ে গণমানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। এজন্য সেবাদানকারীকে বিনয়ী ও হাস্যজ্জল হতে হবে।

মানুষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আন্তরিকতা, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার সাথে সমাধান দিতে হবে। তিনি আত্মমানবতার কল্যাণে কাজ করতে স্বাস্থ্যকর্মী সহ সমাজের সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রতি আহবান জানান।

মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশ ও জাতি এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। বর্তমান ক্রান্তিকাল থেকে উত্তরণের জন্য মানুষ বিকল্প শক্তিকে খুঁজছে। আমরা যদি উন্নতর আদর্শ নিয়ে গণমানুষে পাশে দাঁড়াতে পারি তাহলেই জনগণ আমাদেরকে বিকল্প শক্তি হিসেবে গ্রহণ করবে। তিনি দেশ ও জনগণের সেবায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহবান জানান।

সুত্রঃ দেশজনতা

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন]

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here