‘নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্বের বিচারে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে দিতে যাচ্ছে’

0
164

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) বলেছেন যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে সারাদেশে কোথাও কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

যদিও সারাদেশে ক্ষমতাসীন এবং বিরোধীদলের প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বেশ কিছু দৃষ্টান্ত দ্য ডেইলি স্টারের নজরে এসেছে।

নির্বাচন উপলক্ষে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণদানের ওই অনুষ্ঠানে সিইসি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটি প্রতিযোগিতামূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।”

এ বিষয়ে আজ (৩০ নভেম্বর) ডেইলি স্টার অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এবং টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “আমরা দেখেছি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে প্রার্থীরা প্রকাশ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। সিলেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গাড়িবহর ও মিছিল নিয়ে তার ভাইয়ের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব দেখেও, নির্বাচন কমিশনকে তার দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।”

“এখনই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের শক্ত হাতে ধরা উচিত। নির্বাচন কমিশন তাদের তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দিতে পারে, শাস্তি দিতে পারে। এতে প্রার্থীরা ভয় পেয়ে কিছুটা হলেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন এসব দেখেও না দেখার ভান করে আছে। এটাই হচ্ছে তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব অবহেলা,” মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক এই সচিব বলেন, “এখনও বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তার করছে। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যতোই বলা হোক না কেনো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি তো হয়নি, সম্ভাবনাও নেই।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাজ-কারবার এতোটাই বিরক্তিকর হয়ে গেছে যে, আমি এগুলো নিয়ে এখন আর কথা বলি না এবং বলা পছন্দও করি না।”

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “কয়েকদিন আগে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মূর্তির ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন তারা নিজেই যেন বোবা-অন্ধ হয়ে গেছে। শোভাযাত্রা করে মনোনয়নপত্র জমাদানে যে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে কমিশন নিজের নির্দেশিত পথেই হাঁটছে।”

তিনি বলেন, “পুলিশ এবং প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা সত্ত্বেও সংস্থাটি ভুয়া মামলা ও গ্রেপ্তার ঠেকাতে পারছে না। এর মধ্য দিয়ে শুধু যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতেই ব্যর্থ হয়েছে তা নয়, কমিশন তার ক্ষমতারও অপব্যবহার করছে।”

এবারের নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্বের বিচারে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে দিতে যাচ্ছে বলে মনে করেন ইফতেখারুজ্জামান। তার মতে, “আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হওয়ার জন্য যদি কাউকে দায়ী করা হয়, সেটি হবে নির্বাচন কমিশন।”

উৎসঃ thedailystar

আরও পড়ুনঃ বিএনপির নেতা-কর্মীরা এখনো আদালত, থানা আর কারাগারেই চক্কর কাটছেন

সারা দেশে এখন নির্বাচনী হাওয়া। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এখনো আদালত, থানা আর কারাগারেই চক্কর কাটছেন। দলের টিকিট পেলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তায় বিএনপির বহু নেতা।

তাঁদের কেউ কেউ সম্প্রতি দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে। আবার একই মামলায় অন্যদের জামিন হলেও বিএনপির প্রার্থীদের কারাগারে যাওয়ার ঘটনাও আছে। কেউ পুরোনো নাশকতার বা দুর্নীতির মামলার দণ্ড নিয়ে কারাগারে। আর অনেকে উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন সাজা স্থগিতের আশায়।

এখনো পর্যন্ত একজন ছাড়া বাকিরা দণ্ড ও সাজা স্থগিতের জন্য উচ্চ আদালতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার যশোর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানার দণ্ড ও সাজা স্থগিতের আবেদন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে সাবিরার কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। সাবিরা যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান।

এর আগে ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ দুর্নীতির পৃথক পাঁচ মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে বিএনপির পাঁচ নেতার আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। যেখানে পাঁচ নেতার ৮ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ছিল। ওই পাঁচজন হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান, ড্যাব নেতা চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সাবেক সাংসদ ওয়াদুদ ভূঁইয়া, আবদুল ওহাব ও মশিউর রহমান। দ্বৈত বেঞ্চের ওই আদেশে বলা হয়, সংবিধান অনুসারে দুই বছর বা তার বেশি সাজার রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

গতকাল সাবিরার সাজা ও দণ্ড স্থগিতের পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ওই আবেদনের (সাবিরা সুলতানা) কপি সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিপরীতে যদি কোনো একক বেঞ্চে এমন আদেশ হয়, তাহলে অবশ্যই আপিল বিভাগে যেতে হবে।

একই মামলায় অন্যদের জামিন

এদিকে নরসিংদীতে পুলিশের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সদর আসনে বিএনপির মনোনীত একক প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে খায়রুলকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ২৭ জন বিএনপি নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে বিশেষ নিরাপত্তা আইনে মামলা করে পুলিশ। এজাহারে খায়রুলের নাম ছিল না। ২৫ নভেম্বর এই মামলায় ২৭৩ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সেই অভিযোগপত্রের ৮৭ নম্বর আসামি তিনি। গতকাল বিকেলে খায়রুলসহ জেলা যুবদলের সভাপতি মোহসীন হোসাইন ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির সেই মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত বাকি দুজনের জামিন মঞ্জুর করলেও খায়রুলের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

খায়রুল কবিরের আইনজীবী আবদুল বাছেদ ভূঁইয়ার অভিযোগ, খায়রুল কবিরকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব করা হচ্ছে।

রিমান্ডে ঢাকা-৭–এর প্রার্থী

মনোনয়ন জমা দিয়ে ফেরার পথেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন ওরফে খোকন। গত সেপ্টেম্বরে দায়ের হওয়া একটি নাশকতার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাগ থানার পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মোশাররফকে দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন।

বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোশাররফকে। আদালত সূত্র বলছে, মামলায় মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মোশাররফের ঘনিষ্ঠজন হায়দার আলী বলেন, বুধবার ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে শাহবাগে আসার পর এটিএম বুথে টাকা তোলার জন্য গাড়ি থেকে নামেন মোশাররফ। তখন সাদাপোশাক পরা কয়েকজন লোক তাঁকে তুলে নিয়ে যান।

জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে মাগুরা-১–এর প্রার্থী

মাগুরা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খানকে ২০১৫ সালের একটি মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ২০১৫ সালে ২১ মার্চ দেশব্যাপী ২০–দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে সদর উপজেলায় একটি ট্রাকে পেট্রলবোমা হামলায় পাঁচ বালুশ্রমিক নিহত হন। ওই ঘটনায় হওয়া মামলার দুই নম্বর আসামি বিএনপির এই নেতা।

আলোচিত ওই মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মনোয়ার দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে ছিলেন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। নির্বাচন করতে সম্প্রতি দেশে এসে সুপ্রিম কোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন নেন তিনি। পরে সেই জামিন বাতিল হওয়ায় গতকাল মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন তিনি।

খোকার ছেলে–মেয়েকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও মেয়েকে চার সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। খোকার ছেলে ইসরাখ হোসেন ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।

সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় দুদকের করা পৃথক মামলায় আগাম জামিন চেয়ে তাদের করা পৃথক আবেদন নিষ্পত্তি করে গতকাল একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে হাজির হয়ে ইসরাখ ও তাঁর বোন সারিকা সাদেক আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিনের আরজি জানিয়েছিলেন।

জামিন পেলেও মুক্তি পাননি

রাজবাড়ীতে আদালত থেকে জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি বিএনপির ২৯ জন নেতা-কর্মী। গত মঙ্গলবার একটি মামলায় আদালত তাঁদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করার পর তাঁদের আরও তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এই ২৯ জনের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি রকিবুল ইসলাম, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম সবুর শাহীন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আহসানুল করিম প্রমুখ।

(তথ্য দিয়েছেন নরসিংদী, মাগুরা ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি)

উৎসঃ prothomalo

আরও পড়ুনঃ ভোটে নেই মাহবুবুর-নজরুল-সালাহউদ্দিনসহ ডজন হেভিওয়েট নেতারা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সারাদেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে সবগুলো দলের মধ্যে সর্বাধিক বিএনপির প্রার্থীরাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

২৯৫ আসনে বিএনপির ৬৯৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ২৫৭টিতেই ২-৫ জন করে প্রার্থী আছেন। একক প্রার্থী রয়েছে ৩৮ আসনে।

প্রার্থী বেশি হলেও বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।একই আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।মনোনয়ন পাননি অনেক পোর খাওয়া নেতারাও।

অনেকে মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচন করছেন না।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্তত ৩জন সদস্য এবার ভোট করছেন না।ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যেও কেউ কেউ নির্বাচন করছেন না।কেউ কেউ মনোনয়নই পাননি।

ভোটে না থাকার তালিকায় রয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টারাও। বাদ নেই যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের নেতারাও।

ভোটে না থাকা নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ মনোনয়ন পাননি।কেউ মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচন করছেন না, কাঙিক্ষত আসন না পাওয়া। আবার কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেও শেষ পর্যন্ত মাঠ ছেড়ে দাঁড়িয়েছেন।

এমন নেতাদের মধ্যে রয়েছেন-দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.)মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ।

রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, গাজীপুরের সাবেক মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। এ জেড এম জাহিদ হোসেন মনোনয়ন পেলেও সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় ভোট করতে পারছেন না।গিয়াস কাদেরের আসনে তার ছেলেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে রয়েছেন-অধ্যাপক মামুন আহমেদ। আমান উল্লাহ আমান ও মশিউর রহমান মনোনয়ন পেলেও হাইকোর্টের রায়ে নির্বাচন করতে পারছেন না।

যুগ্ম মহাসচিবদের মধ্যে রয়েছেন-রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব-উন নবী খান সোহেল।তারা সবাই একাদশ সংসদ নির্বাচনে দর্শক।

বিএনপির রাজনীতিতে এদের সবারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।দলের সঙ্কটে সামনে থেকে দলের নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন।

এদের বেশিরভাগেরই নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।বাকিরা আগে নির্বাচন না করলেও এবার করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

দলের চার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকও মনোনয়ন নিয়ে ক্ষুব্ধ।তারা হলেন- মাহবুবুল হক নান্নু, আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান, সেলিমুজ্জামান সেলিম ও মাশুকুর রহমান।

মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন-সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমদ (লক্ষ্মীপুর-১) ও হারুন অর রশিদও (চাঁদপুর-৪)। তারা দু’জনই ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন।

দলের মনোনয়নপত্র নেননি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী। মনোনয়নপত্র তুলেও নির্বাচন করছেন না যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল। আবার সাবেক এমপিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েক নেতাকে মনোনয়ই দেয়া হয়নি। নজরুল ইসলাম নির্বাচন না করলেও তাকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্বাচন না করা প্রসঙ্গে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আমার কখনই নির্বাচন করার শখ ছিল না। পরিবারের মধ্যে আমার বাবা-ভাই নির্বাচন করেছেন। অতীতে আমি কখনও নির্বাচনে অংশ নেইনি। এখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। দলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা গ্রেফতার-মামলা-হয়রানির মুখে পড়ছেন প্রতিনিয়ত।

এরকম অবস্থায় আমি মনে করেছি, নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেয়ে নির্বাচন পরিচালনায় আমার সময় ও অবদান রাখা উচিত। সেজন্য দলের বৃহত্তর স্বার্থে আমি নির্বাচন না করে দলের নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কারণ নির্বাচন পরিচালনায় দলে এখন পর্যাপ্ত ও অভিজ্ঞ লোকজনের অভাব রয়েছে। সেজন্য আমি মনে করছি, দলের এরকম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নির্বাচন করার চেয়ে নির্বাচনী কাজে সময় ও শ্রম দেয়া জরুরি। তিনি বলেন, দলও মনে করে যে নির্বাচন পরিচালনার কাজে আমি সম্পৃক্ত থাকি। আমর মনোনয়নপত্র দাখিল নিয়ে যেসব খবর গণমাধ্যমে আসছে তা সঠিক নয়। এ নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. মাহবুবুর রহমানও নির্বাচন করছেন না। তিনি দিনাজপুর-২ আসন থেকে দু’বার দলের মনোনয়ন পান। একবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন। নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তাই নির্বাচন করছি না।

বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ মান্নান চেয়েছিলেন গাজীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে।গত সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত মান্নানকে সংসদ নির্বাচনও মূল্যায়ন করা হয়নি। তবে তার ছেলে মঞ্জুরুল আলম রনিকে যৌথভাবে ওই আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

উৎসঃ jugantor

আরও পড়ুনঃ ৩০ ডিসেম্বরের ভোট মানুষের জন্য শেষ পরীক্ষা: মওদুদ

৩০ ডিসেম্বরের ভোট বাংলাদেশের মানুষের জন্য শেষ পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তবে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আশা না করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলন ও আদর্শ নাগরিক আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন মওদুদ আহমেদ।

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা এলে এই সরকারের পতন হবে। তবে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আশা করা যাবে না। ইলেকশন কমিশন তাদের কর্তব্য ও ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। ইলেকশন কমিশনের মুখে এক, বাস্তবে আরেক।

ইলেকশন কমিশন মুখে যাই বলুক না কেন তা দলীয় নেতা-কর্মীদের বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, রিটার্নিং অফিসার একজন আমলা। তিনি ইসির কর্মকর্তা নন, সরকারের কর্মকর্তা; তার মেইনস্ট্রিম ক্যারিয়ার-প্রোমোশন সবকিছু সরকারের আওতাধীন। তাই দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। দলীয় সরকার থাকলে সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করা সম্ভব হয় না।

সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যেমন হ্যালো পিএম প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার জীবনী নিয়ে ছবি বানানো হয়েছে। আপনারাও ছবি বানান। গ্রামে-গ্রামে পাড়ায়-পাড়ায় শিল্পীদের নিয়ে গান গেয়ে বেড়ান। গান তো বন্ধ করতে পারবে না সরকার।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মান্না বলেন, এই প্রশাসন নির্লজ্জ, নির্লজ্জ ইলেকশন কমিশন এবং তার চেয়েও নির্লজ্জ প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি সরকারের তল্পিবাহক, সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী।

দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানিয়ে মান্না বলেন, লড়াইটা ১০ কোটি ভোটারের। ভোট দিলে খালেদা জিয়া বাঁচবে, জেল থেকে বের হবে।

সেমিনারের বিশেষ অতিথি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সরকার মানুষের বাকরোধ করছে। আইনকে কতভাবে অপপ্রয়োগ করা যায় তা দেখিয়েছে সরকার। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না তবে সুষ্ঠু করার জন্য মাঠে থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অন্যান্য নেতাকর্মীদের মাঝে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহসহ বিএনপি, নাগরিক ঐক্য, জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলন ও আদর্শ নাগরিক আন্দোলনের নেতারা।

উৎসঃ বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ ভারতে প্রমোদ ভ্রমণে সেনাবাহিনীর বিতর্কিত ২৫ কর্মকর্তা

এ মুহূর্তে স্বস্ত্রীক ভারতে প্রমোদ ভ্রমণে রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৫ বিতর্কিত কর্মকর্তা। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের এ ভারত সফর ইতোমধ্যেই জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

গত ২৬ নভেম্বর ভারতের অর্থায়ন ও পূর্ণাংঙ্গ সহযোগিতায় স্বস্ত্রীক ভারতে যান এই ২৫ সেনা কর্মকর্তা। আগামী ২ ডিসেম্বর তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর দু’টি বিমানে করে তাদের বিশেষ মর্যাদায় ভারতে নিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশী সেনা কর্মকর্তাদের এ সফর জনমনে আরও বেশি সন্দেহ সংশয়ের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে এই ২৫ কর্মকর্তার পরিচয় গোপন রাখা ও বাহিনীতে তাদের অবস্থান কি সে সম্পর্কিত তথ্য কোন পক্ষ থেকেই প্রকাশ না করায় ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতীয় দূতাবাস থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিশেষভাবে নির্ধারিত এই দু’টি সামরিক বিমানে করেই ৫০ সদস্যের এ দলটি দিল্লী, আগ্রা, কলকাতা ও চুরুলিয়াতে ভ্রমণ করবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান এম এ আজিজের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়েই ভারত এই ভ্রমণের আয়োজন করেছে বলে তাদের দাবি।

বাংলাদেশের বিগত ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন নির্বাচনে ভারতের প্রকাশ্য সমর্থনকে দেশের মানুষ অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে। তাই এবারের নির্বাচনে ভারতের ভূমিকার দিকে সবাই সচেতনভাবেই নজর রাখছে। বাংলাদেশে যখন জাতীয় নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি চলছে তারই মধ্যে ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় কিছু সেনা কর্মকর্তার এই বিশেষ ভ্রমণ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সেনাবাহিনী দেশের মানুষের আস্থার স্থল। জাতীয় রাজনীতির এই সঙ্কটকালীন মূহুর্তে বৈরি আচরণ প্রদর্শনকারী ভারতের সাথে সেনা কর্মকর্তাদের এই দহরম মহরম বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যত নিয়ে স্বাধীনচেতা জনগণকে শঙ্কায় ফেলেছে। সেই সাথে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ভবিষ্যত কি তা নিয়েও নতুন করে ভাবনায় পড়েছে দেশের মানুষ।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশকে মরুকরণ, অব্যাহত সীমান্ত হত্যা, জনসমর্থনহীন অবৈধ সরকারকে সমর্থন, অস্ত্র ও মাদক পাচার, ব্যবসা-বাণিজ্যে হস্তক্ষেপসহ বাংলাদেশের সাধারন জনগণের সাথে নানাভাবে বৈরিতা করে আসছে প্রতিবেশী ভারত। শুধু যে বাংলাদেশের সাথেই এমনটি করছে তা নয়, প্রতিবেশী অন্যান্য রাষ্ট্রও ভারতের অপরাজনীতির শিকার। নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ এখন দেশে কোনো জামায়াত নেই, যারা আছেন তারা এদেশের নাগরিকঃকাদের সিদ্দিকী

ঐক্যফ্রন্টের শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতা আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘আসলে আমি জানি না, আপনি কোথা থেকে পেলেন জামায়াতকে। এখন দেশে কোন জামায়াত নেই। দেশের মানুষ যারা আছে, এদেশের নাগরিক, বয়স হলে তাদের যে কেউ নির্বাচন করতে পারে।’

বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন,

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আরো বলেন, ‘তারপরও যদি বলেন, জামাত না থাকলেও জামাতীরা আছে। আমি যখন একটা ট্রেনে উঠবো, তখন সে ট্রেনে টিকেট করে যে কেউ উঠতে পারে। আমার কোন অধিকার নেই যে আমি সেই ট্রেনে তাকে নেবো কি নেবো না। রিজার্ভ ট্রেন হলে কিছুটা চেষ্টা করা যায়। কিন্তু যাত্রীবাহী ট্রেনে সেই চেষ্টা করার কোন সুযোগ নেই।’

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আরেকটি নির্বাচনী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী এর আগে স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের কথা বললেও, বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার কথা জানায়।

তবে বিএনপি বলছে, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ছাড়া জামায়াতের অন্য নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক দেয়ায় তারা কোন সমস্যা দেখছে না।

বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে ২৫টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াত নেতারা। দলটির আরও ডজন খানেক প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

কয়েক বছর আগে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর তারা তাদের দলীয় প্রতীকও হারিয়েছে। তাদের দলীয়ভাবে নির্বাচন করারও কোন সুযোগ নেই।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলছিলেন, ধানের শীষ প্রতীকে তাদের নির্বাচন করার বিষয়ে তারা বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়েছেন।

‘যেহেতু আপাতত যেকোনভাবেই হোক, আমাদের নিবন্ধন বাতিল করে রাখা হয়েছে, সেকারণে আমরা দলের নামে এবং নির্দিষ্ট প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারছি না। তাই আপনি লক্ষ্য করবেন, জোটের সব দলই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। প্রতীক বড় নয়, বরং আমাদের ঐক্যটা বড়। এটাকে সম্মান করেই আমরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়েছি।’

এবার নির্বাচনে ধানের শীষের ওপর ভর করা ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর কোন উপায় নেই বলে বিশ্লেষকদেরও অনেকে মনে করছেন।

তারা বলছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার এবং ফাঁসি কার্যকর হওয়া ও আওয়ামী লীগ সরকারের চাপ- এসবের প্রেক্ষাপটে দলটি একটি প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ফলে জামায়াতে ইসলামী তাদের অস্তিত্বের স্বার্থে পদক্ষেপ নিয়েছে বলেই বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।

যদিও ইতিমধ্যেই বিএনপি ব্যাখ্যা দিয়েছে যে, তারা কোন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে ধানের শীষে মনোনয়ন দেয়নি।

এছাড়া নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী নামের কোন দল এখন নেই, এমন যুক্তিও দিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছিলেন, জামায়াত নেতাদের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার বিষয়কে তারা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

‘তাদের দলীয় প্রতীক নেই বা সেটাকে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে না, সেখানে ধানের শীষের প্রতীক তারা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। সেদিক থেকে অবশ্যই নেগেটিভ কিছু দেখছি না আমি।’

‘ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সাথে প্রাথমিকভাবে কথাও বলেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত জামায়াত নাম না থাকবে কিম্বা তাদের মার্কা না থাকবে, তাতে তারা খুব একটা আপত্তি করেনি। যে যুক্তিতে আমরা ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছি, সেই যুক্তিতেই বলছি, জামায়াতে ইসলামী যেহেতু নিবন্ধিত দল নয়, সুতরাং এ বিষয় নিয়ে খুব বেশি কথা বলার অবকাশ নেই।’

যদিও বিএনপির নেতারা বিষয়টিতে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরছেন,

গণফোরামেরই কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ঢাকার একটি আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তিনি বলছিলেন, জামায়াতের ধানের শীষ ব্যবহারের বিষয়টি বিএনপির ইস্যু বলে তারা মনে করেন।

‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে অন্যতম শরিক হচ্ছে বিএনপি, ঐক্যফ্রন্টে জামায়াত নাই। এখন বিএনপির প্রতীক অন্য কারা ব্যবহার করবে, আমরা তো সেই সিদ্ধান্ত দিতে পারি না।’

এই জোটের শরিক নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না এবিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।

তবে নিবন্ধন না থাকায় জামায়াতে ইসলামী নামে কোন দল এখন নেই বলে বিএনপি নেতারা যে যুক্তি দিচ্ছেন, ঐক্যফ্রন্টের অনেক নেতার যুক্তিও একইরকম।

উৎসঃ আরটিএনএন বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুনঃ গণগ্রেপ্তার থেকে রেহাই পাচ্ছে না প্রার্থীরাও, ইইউ প্রতিনিধি দলকে বিএনপি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এখন পর্যন্ত সারাদেশে ‘লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরী হয়নি।

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে নতুন নতুন মামলা দায়ের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনুকূল নির্বাচনী পরিবেশের প্রধান অন্তরায় বলে ইইউ প্রতিনিধিদলকে জানান তারা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইইউর নির্বাচন বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে দলটির নেতাদের পৌনে দুই ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে এসব বিষয় জানানো হয় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।

তবে বৈঠকের পর ইইউ প্রতিনিধি দল কিংবা বিএনপি নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে কিছু বলেননি।

ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজিং টিরিংকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ইইউর নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ডেভিড নোয়েল ওয়ার্ড ও ইরিনি মারিয়া গোনারি ছিলেন।

বিএনপি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক রুমিন ফারহানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল প্রমুখ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কূটনৈতিক শাখার এক সদস্য বলেন, বৈঠকে ইইউর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। জবাবে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে এ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট গ্রেফতার ও মামলার তথ্য জানানো হয়েছে। সারা দেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের গ্রেফতারের বিষয়েও অবহিত করেছেন তারা।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মামলা ও তার অসুস্থতার কথাও জানান বিএনপি নেতারা। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের কাছে বিতর্কিত পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রদবদলের জন্য তালিকা দেওয়া হলেও ইসি কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলেও তাদের অবহিত করেন বিএনপি নেতারা।

ইইউর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা নির্বাচনের সময় পর্যবেক্ষক পাঠাবেন না। তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় আছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো অনেক দূরে

হাউস অব কমন্সের প্রতিবেদন:

বাংলাদেশের রাজনীতি সব সময়ই উত্তেজনাকর। এ বছর শেষের দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে সেই উত্তেজনার পারদ ততই তুঙ্গে উঠছে। এখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো সমতা থেকে অনেক দূরে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক মিশন পাঠাচ্ছে না। যুক্তি দেয়া হয় যে, নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে সংশয় আছে এতে তারই প্রকাশ ঘটছে। এ ছাড়া কমনওয়েলথ এখনো পরিষ্কার করে নি, তারা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক মিশন পাঠাবে কিনা। বাংলাদেশের নির্বাচন ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে নভেম্বর মাসের আপডেট রিপোর্টে বৃহস্পতিবার এ কথা প্রকাশ করেছে বৃটিশ হাউস অব কমন্স লাইব্রেরি। ১৩ পৃষ্ঠার এ রিপোর্টের শিরোনাম ‘বাংলাদেশ: নভেম্বর ২০১৮ আপডেট’।

এতে বলা হয়েছে, বিএনপির দীর্ঘদিনের দাবি বা পূর্বশর্ত হলো বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে হবে, যাতে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এ ছাড়া আরেকটি দাবি ছিল নির্বাচন তদারকির জন্য একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু এসব দাবি আদায়ে সক্ষম না হলেও বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষক নির্বাচন নিয়ে যতটা প্রত্যাশা করেছিলেন তার চেয়ে ২০১৮ সালের নির্বাচন অধিক বিশ্বাসযোগ্য হবে। অনেকেই যুক্তি দেখান যে, এ জন্যই বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশির ভাগ রাজনৈতিক পণ্ডিতজন এখনো প্রত্যাশা করেন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হবে। কিন্তু এর আগে নির্বাচনের ফল যা প্রত্যাশা করা হয়েছিল তার চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও ব্যবধান কম হবে। ওই রিপোর্টে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের ইস্যুও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সরকারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জাতিসংঘ ও পশ্চিমাদের চাপে সেই প্রক্রিয়া থমকে আছে। বাংলাদেশ বার বার বলেছে, তারা জোর করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবে না। নতুন বছর না আসা পর্যন্ত নতুন করে প্রত্যাবর্তন শুরু নাও হতে পারে।

বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

এ পরিস্থিতিতে সমালোচকরা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত। চিন্তার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে মিথ্যা মামলা, আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম। সমপ্রতি কয়েক বছরের মধ্যে তুলনামূলক কম হলেও জঙ্গি হামলার যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। অক্টোবর মাসের শেষদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা আপিলের ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের সময় বৃদ্ধি করে ৫ বছর থেকে ১০ বছর করার রায় দেন আদালত। কিছুদিন আগে তাকে আরো একটি দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত করা হয় এবং এতে তার ৭ বছরের সাজা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে অক্টোবরে তাকে কারাগারের বাইরে চিকিৎসা সুবিধার অনুমোদন দিলে অনেকেই আশা করেছিলেন যে, তাকে হয়তো মুক্তি দেয়া হতে পারে। কিন্তু নভেম্বরে পুনরায় তাকে কারাগারে ফেরত পাঠালে এ আশা চূর্ণ হয়ে যায়। গত ২৮শে নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয় যে, বিচারিক আদালতে কারও বিরুদ্ধে দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

যতক্ষণ না, আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল, খালাস বা দণ্ড স্থগিত করে জামিন না দেয়। এর মাধ্যমে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সর্বশেষ সম্ভাবনাটিও নিভে গেছে। একই সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এর আগে অক্টোবর মাসে বিএনপি জানিয়েছিল, আগামী নির্বাচনে তারা অংশ নেবে না। পরিবর্তে তারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানায়। পর্যবেক্ষকদের অবাক করে দিয়ে অক্টোবরের শেষে এসে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে সম্মত হয়। এরপর ১১ই নভেম্বর বিএনপি জানায় যে, তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচনের সময় এক মাস পিছিয়ে দেয়ার জন্য আবেদন জানায়। নির্বাচন কমিশন এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিতে সম্মত হয়।

বিএনপি দাবি করেছে, নভেম্বর মাসে তাদের শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সপ্তাহে দলটির প্রধান কার্যালয়ের ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দেয়া হয়। অপরদিকে আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলনের সময় পুলিশের ওপর হামলার জন্য বিএনপি সমর্থকদের দায়ী করেছে।

নির্বাচনে প্রত্যাশা

২০০৮ সালের পর বিএনপি আর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়নি। অনেকে যুক্তি দেখান যে, এবারের নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের অর্থ হলো নির্বাচন তুলনামূলক অধিক গ্রহণযোগ্য হবে। যদিও অনেক পর্যবেক্ষকই তেমনটি প্রত্যাশা করেন না। তাদের মতে, ‘প্লেয়িং ফিল্ড’ এখনো সমতা থেকে অনেক দূরে। এখনো বিরোধীরা প্রশাসনের হাতে ব্যাপকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সব জায়গায় দায়মুক্তির সুবিধা ভোগ করছে। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়েও দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। এবার জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার করা হচ্ছে। বিএনপি এর বিরোধিতা করেছে। এতে নির্বাচনী কার্যক্রমের ওপর দলটির আস্থা কমে গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই অনাস্থা নির্বাচনী প্রচারণার সময় বা ফল ঘোষণার পর সহিংসতা ও অস্থিরতা উস্কে দিতে পারে।

এবারের নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না। এর পরিবর্তে তারা দুই সদস্যের ‘এক্সপার্ট মিশন’ পাঠাচ্ছে। অনেকে এ যুক্তিও দিচ্ছেন যে, নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে এবারের নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংশয় ফুটে উঠেছে। পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায় নি কমনওয়েলথ।

নির্বাচনের আগে আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে বিএনপি তাদের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করে তুলেছে। দলটির ঘনিষ্ঠ মিত্র জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ হওয়ায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। যদিও আওয়ামী লীগের দাবি, স্বতন্ত্র ও ইসলামপন্থি প্রার্থীদের সমর্থন দেয়ার মাধ্যমে তারা গোপনে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আর আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোটের নেতৃত্বে রয়েছে। কিন্তু কট্টরভাবে ধর্মনিরপেক্ষ এই দলটি সম্প্রতি কিছু রক্ষণশীল ইসলামী দলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে।

প্রধান দুই দলেরই দাবি, তারা নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থনৈতিক ইস্যুর ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে চান। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরবে। বিপরীতে বিএনপি যুক্তি দেখাবে যে, বেপরোয়া দুঃশাসন ও শেখ হাসিনার ছত্রছায়ায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দেশকে আরো পেছনে নিয়ে গেছে। এখনো বেশির ভাগ বিশ্লেষকরা আওয়ামী লীগের বিজয় প্রত্যাশা করছে। তবে নির্বাচন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। বৃটিশ বিশ্লেষক মুশতাক খান সতর্ক করে বলেছেন যে, ২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে যদি আওয়ামী লীগ আবারো জয়লাভ করলে তা একদলীয় শাসনকে সুরক্ষিত করবে। একই সঙ্গে দেশ রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদের দিকে এগিয়ে যাবে।

অন্যান্য পরিস্থিতি

এ বছর আওয়ামী লীগ সরকার দেশে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। গত মে মাস থেকে পুলিশকে শ্যুট অ্যাট সাইট (সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীদের দেখামাত্র গুলি করার অনুমতি) অর্ডার দেয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের দাবি, এই অভিযান মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকে উস্কে দিয়েছে। জুনে তৎকালীন জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনার জায়েদ রা’দ আল হোসেন বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অনেকে বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের বিতর্কিত মাদক-যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। গত কয়েক বছরে দেশে উগ্রপন্থি জিহাদিদের হুমকি কমে গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সম্মিলিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তবে জঙ্গি হুমকি একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। মাঝে মাঝে এখনো জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে।

জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকার খসড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল অনুমোদন করে। সেপ্টেম্বরে তা পার্লামেন্টের অনুমোদন পেয়ে চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হয়। এরই মধ্যে সরকার গুজব শনাক্ত ও প্রতিরোধ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। যার কাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নজরদারি করা। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারাগুলো মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এ ছাড়া, হাউস অব কমন্সের ব্রিফিংয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, শহিদুল আলমের গ্রেপ্তার ও ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নিয়ে বৃটিশ সরকারের দেয়া বিবৃতিগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বৃটিশ সরকার বেশ কয়েকবার সপষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ সরকার ও বিরোধী দলগুলোর প্রতিও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

উৎসঃ মানবজমিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here