চীনের দমনপীড়নে দিশেহারা মুসলিমরা, রেহাই পাচ্ছেন না কাজাখরাওঃ ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

0
177

প্রায় সময় রাতের মধ্য ভাগে চীনা নাগরিক যাহারকেনবেক ওটান তার স্ত্রী শেইনার কেলেশেভার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। কাজাখস্তানের বাসিন্দা শেইনার কেলেশেভা জানান, তার স্বামী স্মৃতিভ্রম হয়েছে এবং মাঝে মধ্যে তিনি কাজাখস্তানের সবচেয়ে বড় শহর আলমাটির রাজপথে দৌড়ে বেরিয়ে যান।

যখন যাহারকেনবেক ওটানের পরিবার তাকে খুঁজে পায়, তখন তিনি তাদের কাউকে চিনতে পারেন নি এবং নিজ গৃহে ফেরত আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

যাহারকেনবেক ওটান নামের ৩১ বছর বয়সী এই রন্ধনশিল্পী কাজাখস্তানের পার্শ্ববর্তী দেশ চীনের জিয়ানজিয়াং প্রদেশে তথাকথিত রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে অন্তত দু’বছর আটক ছিলেন।

আর যখন ২০১৮ সালে যাহারকেনবেক ওটান মুক্তি পেয়ে তার স্ত্রীর সাথে সীমান্ত পার হচ্ছিলেন তখনই তার স্ত্রী বুঝতে পারেন যে, তার স্বামী আর পূর্বের মানুষটি নেই।

আর চীন নামক দেশটিতে যাহারকেনবেক ওটানের মত অনেকেই এরকম নির্যাতনের শিকার। বেইজিং দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘুদের উপর নির্মম অত্যাচার চালানোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকেই এরকমটি ঘটে চলেছে।

কিন্তু সম্প্রতি পরিস্থিতি আরো বেশী বদলে গিয়েছে। এর পূর্বে চীন এবং কাজাখস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষজন দুদেশে যাতায়াত করতেন এবং এর ফলে তাদের অনেকেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।

বর্তমানে হাজার হাজার কাজাখ চীনা কর্তৃপক্ষ দ্বারা আটকের শিকার হয়েছেন এবং এদের মধ্যে অনেকেই ওটানের মত করে কাজাখস্তানের অনেক নারীকে বিয়ে করে দেশটিতে বৈধ বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছিলেন।

২০১৬ সালে ওটান তার দেশ চীনে গিয়েছিলেন কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে যাতে করে তিনি কাজাখস্তানের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু চীনা কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে এবং তার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে এবং তাকে ২০১৭ সালে রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে প্রেরণ করে।

এসব দীক্ষা দান কেন্দ্রে আটক সবাই ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং সেখানে তাদেরকে জোর পূর্বক ইসলাম ধর্মের রীতিনীতি চর্চা থেকে বিরত থাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। চীন এর পূর্বে নিজ দেশের মুসলিমদের এখানে আটক করে রাখত আর বর্তমানে এখানে অনেক কাজাখ নাগরিককেও আটক রাখা হয়েছে এবং তা কাজাখস্তানের স্বাধীনতার প্রতি মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ঠিক কতজন মুসলিম জিয়ানজিয়াং এর আটক কেন্দ্রে আটক রয়েছেন তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয় কিন্তু কিছু বেসরকারি হিসেবে মতে সেখানে আট লাখ থেকে ২মিলিয়ন মুসলিম আটক রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জিনজিয়াং বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিয়ান থুম বলেন, চীনের আটক কেন্দ্রে উইঘুর মুসলিমদের সাথে কাজাখ মুসলিমদের আটকাবস্থা দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। কারণ ইতোপূর্বে চীন কাজাখ মুসলিমদের তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচনা করতো না এবং দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির নিকট কাজাখ মুসলিমদের গ্রহণযোগ্যতা ছিল।

চীনের জিয়ানজিয়াং প্রদেশে অন্তত ১.৫ মিলিয়ন কাজাখ বাস করে যারা সেখানকার উইঘুর জনগোষ্ঠীর পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠী। থুম বলেন, কাজাখদের উপর বর্তমানের দমন পীড়ন উইঘুরদের উপর দমন পীড়নের মতই এবং তা ‘ইসলাম-ভীতি দ্বারা’ প্রভাবিত।

জিনজিয়াং এ আটক ছিলেন এমন ৬০ জন বন্দীর সাক্ষাৎকার নিয়ে সেখানকার ভয়ানক পরিস্থিতির কিছুটা আঁচ করা যায়।

একই সময়ে উগ্র জাতীয়তাবাদের ধারণা চীনাদেরকে আরো বেশি আগ্রাসী করে তুলেছে। এর ফলে দেশটির সংখ্যালঘুদের সংস্কৃতির উপর দমন পীড়ন চালানো হচ্ছে বিশেষত ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের উপর।

এসব রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে আটক মুসলিমদের জোর পূর্বক ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হয়, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গীত শেখানো হয় এবং তাদেরকে শূকরের মাংস খেতে বাধ্য করা হয়।

চীনে ধর্ম বিশেষত ইসলাম ধর্মকে তাদের জাতীয় পরিচয়ের সাথে বৈরী বলে মনে করা হয় এবং দেশটির কর্মকর্তাগণ অনেক খোলাখুলিই ইসলাম ধর্মকে চীনের স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে এক করার ঘোষণা দেন। একই সাথে তারা ইসলাম ধর্মকে সমাজতন্ত্রের সাথে এক করার পক্ষে মত দেন।

গুলজারিয়া অউয়েলখানকেইজ নামের চীনা নাগরিক যিনি তার স্বামীর সাথে কাজাখস্তানে বসবাস করেন তিনি রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে ১৫ মাস আটক ছিলেন। তিনি বলেন- ‘তারা বলেছিলো যে, আমি একজন বিশ্বাসঘাতক কারণ আমি কাজাখস্তানে বসবাস করি।’

গুলজারিয়া অউয়েলখানকেইজ এখনো দীক্ষা দান কেন্দ্রে আটক থাকার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন- ‘সেখানে আটক অনেকেরই আমার মত সন্তান রয়েছে। কিন্তু আমরা আটক থাকা অবস্থায় আমাদের সন্তানদের দেখতে পারতাম না এবং তাদের কে খেয়াল রাখবে এমন চিন্তা করে অস্থির থাকতাম।’

তিনি আরো বলেন- ‘জিনজিয়াং একটি এতিমদের শহরে পরিণত হয়েছে।’

চীনে বসবাসরত কাজাখ গণ এর পূর্বে চীন এবং কাজাখস্তানের মধ্যে আসা যাওয়া করত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এবং ১৯৯১ সালে কাজাখস্তানের স্বাধীনতার পর অন্তত ১৮ মিলিয়ন চীনা নাগরিক দেশটির স্বাধীনতা লাভ করে।

কিন্তু চীনে তাদের আত্মীয়দের কাছে যাওয়ার জন্য সীমান্তে আসা যাওয়ার কারণে তাদের এখন বৈষম্যের চোখে দেখা হয়। Human Rights Watch এর মতে, জিনজিয়াং এর মুসলিম অধিবাসীদের সাথে বিদেশীদের সাথে যোগাযোগ রাখাকে এখন শাস্তি যোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।

গেনে বুনিন নামের রাশিয়ান-আমেরিকান লেখক এবং অনুবাদক যিনি ‘Xinjiang Victims Database’ নামের একটি সংগঠন পরিচালনা করেন তিনি বলেন, জিনজিয়াং কর্তৃপক্ষ ২৬টি বিদেশী রাষ্ট্রের একটি তালিকা করেছে আর এর মধ্যে কাজখাস্তান অন্যতম।

হাজার হাজার কাজাখ বংশোদ্ভূত চীনা নাগরিক এমনকি কাজাখস্তানের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রাপ্ত অনেক চীনা নাগরিক তথাকথিত এসব রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে আটক রয়েছে এবং তাদের ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। অন্যদিকে গুলজারিয়া অউয়েলখানকেইজ এবং যাহারকেনবেক ওটানের মত কিছু সংখ্যক বন্দীর মুক্তি পাওয়া কিছুটা ব্যতিক্রমী ব্যাপার।

ওরাল জাহানবিল নামের একজন বলেন, তার পিতা তুরান মুখামেতকেন একজন চীনা নাগরিক যিনি কাজাখস্তানে বসবাস করেন এবং তিনি ২০১৭ সালে জিনজিয়াং এ তার পেনশনের অর্থ উত্তোলন করতে গেলে চীনা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আটক হন।

জাহানবিল এখনো তার পিতার আটক হওয়ার কারণ জানেন না তবে আটক থাকার এক বছর পর মুখামেতকেন মুক্তি পান কিন্তু তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয় এবং তিনি এখনো চীন থেকে কাজাখস্তানে ফেরত আসতে পারেন নি।

আসকার আজাতবেক যিনি জিনজিয়াং প্রদেশের সাবেক একজন কর্মকর্তা ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি কাজাখস্তানের নাগরিক। তাকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজাখস্তানের চীনা সীমান্তবর্তী একটি মুক্ত বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে আটক করা হয়।

সেসময় আজাতবেক তার একজন বন্ধুর সাথে ছিলেন এবং চীন সীমান্ত থেকে দুটো গাড়ি এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। যদিও আজাতবেকের বন্ধু মুক্তি পেয়েছেন কিন্তু তিনি এখনো বন্দি অবস্থায় রয়েছেন আর তার পরিবার এখনো তার কোনো খোজ খবর জানে না।

তবে এতকিছু স্বত্বেও কাজাখস্তানের সরকার তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। চীন কাজাখস্তানের অন্যতম বিনিয়োগকারী এবং একই সাথে ‘ওয়ান বেল্ট এন্ড রোডের’ অন্যতম কৌশলগত মিত্র।

যদিও কূটনীতিকরা চীনের জিনজিয়াং এ আটক কাজাখ নাগরিকদের পরিবার সমূহকে তাদের আটক স্বজনদের সাথে দেখা করিয়ে দেয়ার জন্য উৎসাহ দেন কিন্তু কাজাখ কর্তৃপক্ষ চীনে আটক তাদের নাগরিকদের মুক্তির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে একেবারে বল শূন্য বলে মনে হচ্ছে।

কাজাখস্তানের সরকার এ বিষয়টি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা চীনা কর্তৃপক্ষ জিনজিয়াং এর মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের মুসলিম পরিচয় মুছে দেয়ার যে পদক্ষেপ নিয়েছে সে পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না।

কিন্তু যেসব রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্র কাজাখস্তানের পাশের দরজায় স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে কাজাখ নাগরিক, উইঘুর মুসলিমদের আটক করে রাখা হয়েছে তাতে করে সত্যিটা হচ্ছে যে, জিনজিয়াং হয়ত ভবিষ্যতে আরো বড় কোনো সমস্যার তৈরী করবে যাকে এখন উপেক্ষা করা হচ্ছে।

উৎসঃ ‌ওয়াশিংটনপোস্ট ডট কম।

আরও পড়ুনঃ ট্রাম্পের আমেরিকায় বসবাস করা খুবই ভয়ের: ধর্মান্তিত নারী স্টেসি নাভারেত


স্টেসি নাভারেত নামের ২৩ বছর বয়সী নারী যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তখন তার পরিবারের লোকজন এবং তার বন্ধুরা ভেবেছিল যে, তিনি তার মুসলিম স্বামীর মন পাওয়ার জন্য এমনটি করেছেন।

মেক্সিকো এবং পুয়ের্তো রিকান বংশোদ্ভূত নাভারেত বলেন, ‘আমার বন্ধু এবং আমার পরিবারের লোকজন ভেবেছিল আমি মগজ ধোলাইয়ের শিকার হয়েছি, কিন্তু আসলে এরকম কোনো কিছুই ঘটে নি। প্রথমে আমার পিতামাতা এ বিষয়টি বুঝতে পারে নি, কিন্তু আমি শুধুমাত্র মজা তথা আনন্দ করার জন্য ইসলাম গ্রহণ করিনি এমনটি জানতে পেরে তারা এখন এ বিষয়টি গ্রহণ করে নিয়েছেন।’

স্টেসি নাভারেত নামের এই নারী যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৩ মিলিয়ন মুসলিমের মত দেশটিতে বেড়ে উঠেছেন এবং সেখানকার সেন্ট লুইস নামক শহরে বসবাস করেন। তিনি একই সাথে দেশটির ৬ শতাংশ লাতিনো মুসলিমের একজন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে Pew গবেষণা কেন্দ্রের করা এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট মুসলিমের ২০ শতাংশ হচ্ছেন ধর্মান্তরিত মুসলিম। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো জানিয়েছে যে, গত শতাব্দীতে একমাত্র ইসলাম ধর্মই ছিল সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হওয়া একটি ধর্ম।

স্টেসি নাভারেত বলেন, ‘ট্রাম্পের আমেরিকায় বসবাস করা খুবই ভয়ের। আমি সাধারণত হিজাব পরিধান করি না যাতে করে লোকজন আমার পরিচয় সম্পর্কে জানতে না পারে। কিন্তু যখন আমি আমার স্বামী এবং সন্তানের সাথে থাকি তখন আমি এই ভয়ে থাকি যে, লোকজন হয়ত আমাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করবে।’

স্টেসি নাভারেত জানান, তিনি ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তার স্বামীর সাথে বাংলাদেশ ভ্রমণে আসেন। তিনি আরো বলেন, তার স্বামী চাইছিল ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পূর্বেই যাতে তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারেন।

তিনি বলেন, তার ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা খুবই চ্যালেঞ্জের বিষয়। ইসলামে পুরুষ এবং নারীদেরকে শালীন পোশাক পরিধান করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন অনুযায়ী, নারীদেরকে তাদের চুল এবং বক্ষদেশ ঢেকে রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে নারীদের প্রতি আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্টেসি নাভারেত নামের ২৩ বছর বয়সী নারী যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তখন তার পরিবারের লোকজন এবং তার বন্ধুরা ভেবেছিল যে, তিনি তার মুসলিম স্বামীর মন পাওয়ার জন্য এমনটি করেছেন।

মেক্সিকো এবং পুয়ের্তো রিকান বংশোদ্ভূত নাভারেত বলেন, ‘আমার বন্ধু এবং আমার পরিবারের লোকজন ভেবেছিল আমি মগজ ধোলাইয়ের শিকার হয়েছি, কিন্তু আসলে এরকম কোনো কিছুই ঘটে নি। প্রথমে আমার পিতামাতা এ বিষয়টি বুঝতে পারে নি, কিন্তু আমি শুধুমাত্র মজা তথা আনন্দ করার জন্য ইসলাম গ্রহণ করিনি এমনটি জানতে পেরে তারা এখন এ বিষয়টি গ্রহণ করে নিয়েছেন।’

স্টেসি নাভারেত নামের এই নারী যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৩ মিলিয়ন মুসলিমের মত দেশটিতে বেড়ে উঠেছেন এবং সেখানকার সেন্ট লুইস নামক শহরে বসবাস করেন। তিনি একই সাথে দেশটির ৬ শতাংশ লাতিনো মুসলিমের একজন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে Pew গবেষণা কেন্দ্রের করা এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট মুসলিমের ২০ শতাংশ হচ্ছেন ধর্মান্তরিত মুসলিম। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো জানিয়েছে যে, গত শতাব্দীতে একমাত্র ইসলাম ধর্মই ছিল সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হওয়া একটি ধর্ম।

স্টেসি নাভারেত বলেন, ‘ট্রাম্পের আমেরিকায় বসবাস করা খুবই ভয়ের। আমি সাধারণত হিজাব পরিধান করি না যাতে করে লোকজন আমার পরিচয় সম্পর্কে জানতে না পারে। কিন্তু যখন আমি আমার স্বামী এবং সন্তানের সাথে থাকি তখন আমি এই ভয়ে থাকি যে, লোকজন হয়ত আমাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করবে।’

স্টেসি নাভারেত জানান, তিনি ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তার স্বামীর সাথে বাংলাদেশ ভ্রমণে আসেন। তিনি আরো বলেন, তার স্বামী চাইছিল ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পূর্বেই যাতে তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারেন।

তিনি বলেন, তার ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা খুবই চ্যালেঞ্জের বিষয়। ইসলামে পুরুষ এবং নারীদেরকে শালীন পোশাক পরিধান করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন অনুযায়ী, নারীদেরকে তাদের চুল এবং বক্ষদেশ ঢেকে রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে নারীদের প্রতি আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মোদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে বসতে বললেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি

Mehbooba Mufti

প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে বসতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানিয়েছেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি।

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় এক আত্মঘাতী হামলায় দেশটির একটি আধাসামরিক বাহিনীর ৪৪ জওয়ান নিহত হওয়ার পর পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

মেহবুবা মুফতি বলেন, ঘরোয়াভাবে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ প্রক্রিয়ার জোরালো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি আমি। যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু না করা হয়, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে বলে তিনি হুশিয়ারি করেন।-খবর রয়টার্সের।

ইতিমধ্যে ১৮ বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যার দাবি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। অস্ত্র সমর্পণ না করলে সব বিদ্রোহীকে নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার।

কাশ্মীরের সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর চলমান ধরপাকড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়বে।

নরেন্দ্র মোদির উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সমর্থনে ২০১৪ সালের শুরু থেকে সেই বছরের জুন পর্যন্ত কাশ্মীরের মুখমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মুফতি। পরে বিজেপি তার ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয়।

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পাকিস্তানের সঙ্গে বসতে বারবার অস্বীকার জানিয়েছে ভারত। গত মাসে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার বালাকোট শহরের বাইরে বোমা ফেলে এসেছিল ভারতীয় বিমানবাহিনী।

পর দিন দুই দেশের মধ্যে আকাশযুদ্ধে এক ভারতীয় পাইলটকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান। যদিও আটক পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে শান্তির নিদর্শন হিসেবে ভারতের কাছে ফেরত পাঠিয়েছিল পাকিস্তান।

মুফতি বলেন, কোনো আলোচনা নেই, কথা নেই- এই যুদ্ধংদেহী অবস্থার একটি খারাপ প্রভাব রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক রয়েছে, জম্মুতে অবশ্যই তার প্রভাব পড়ছে। আর এই বৈরিতার সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছি আমরা।

গত কয়েক সপ্তাহে কাশ্মীরের বহু বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে আটক করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বিজেপির প্রধান বলেছেন, সরকার তাদের পরিষ্কারভাবে বলছে- যদি তারা ভারতে থাকতে চান, তাদের ভারতের ভাষায় কথা বলতে হবে, পাকিস্তানের ভাষায় নয়।

মেহবুবা মুফতির বাবাও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বলেন, ভারতের কঠোর মনোভাবের কারণে ওপরে ওপরে কিছুটা শান্তি আসবে। গণতন্ত্রের ভেতরে ভিন্নমতের জায়গাটুকু যদি আপনি নষ্ট করে দেন, লোকজন মনে করবে, তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এতে আরও ভিন্নমত ও উত্তেজনা দেখা দেবে।

গত বছরের অন্তত ২৪৮ বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। গত এক দশকের যেটি সর্বোচ্চসংখ্যক।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মসজিদুল আকসার খুতবাঃ জেরুজালেমকে মুসলিমশূন্য করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে ইহুদীরা


পবিত্র মসজিদ আল-আকসা ও ফিলিস্তিনিদের রক্ষার্থে খুব শিগগির বিশ্বব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ব্শ্বি মুসলিমকে আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদের খতিব শায়েখ ইসমাইল নুওয়াহাজাহ।

শুক্রবার জুমায় আগত ৪০ হাজার মুসল্লির উদ্দেশে দেয়া খুতবায় তিনি এই আহ্বান জানান। খবর আনাদলু আরবির।

জুমার খুতবায় শায়খ ইসমাইল বলেন, মুসলমানরাই আল-আকসার প্রকৃত মালিক। ইহুদিবাদীরা আল-আকসা ও জেরুজালেমে মুসলমানদের ওপর যে ঘৃণ্য হামলা অব্যাহত রেখেছে, এটা গোটা বিশ্বের মুসলিমদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের শামিল।

শান্তি ও শান্ত পরিস্থিতি ফিরে পেতে দ্রুত আল-আকসা রক্ষা আন্দোলন জোরদারের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, দখলদাররা সব মাধ্যম এবং পদ্ধতি অবলম্বন করে জেরুজালেমকে মুসলিমশূন্য করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে, মুসলমানদের জীবনকে সংকীর্ণ করে তুলেছে।

জেরুজালেম ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ফারাস আদ-দুবস জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনীর বাধা ও ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি সত্ত্বেও এ সপ্তাহে ৪০ হাজার মুসল্লি জুমা আদায় করতে আল-আকসায় উপস্থিত হয়েছিলেন।

মুসল্লিদের ভিড়ে মসজিদ এলাকার বাইরেও শত শত মানুষ নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার ভোর থেকে ইসরাইলি পুলিশ আকসা প্রাঙ্গণে তল্লাশি বাড়িয়ে দেয়।

গত মাসে ১৬ বছর পর ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে পবিত্র আল আকসা মসজিদের বাব আল-রহমায় নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা।

২০০৩ সালের পর এই প্রথম ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে তারা আল আকসার এ অংশে প্রবেশ করেন।

এর জেরে জেরুজালেমের ওয়াকফ কাউন্সিলের পরিচালক শেখ আবদুল আজিম সালহাবকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইল পুলিশ। এমন উত্তেজনার মধ্যে এ সপ্তাহের জুমায় বিশ্বের প্রতিটি মসজিদের খতিবদের পবিত্র মসজিদ আল-আকসা ও ফিলিস্তিন সম্পর্কে খুতবা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক মুসলিম স্কলার্সদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন আল-ইত্তিহাদুল আলামিয়্যু লি-উলামায়িল মুসলিমিন (ওয়ার্ল্ড ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্স)।

এদিকে গত ৪ মার্চ জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের জন্য ব্যবহৃত মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে তা ইসরাইলি মিশনের সঙ্গে একীভূত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া আল আকসা মসজিদের বাবে রহমত ফটক নিয়েও সংঘর্ষ চলছে দু’সপ্তাহ পর্যন্ত।

১ মার্চ দখলদার ইসরাইল জেরুজালেম নগরীতে মুসলমানদের ওপর ধারাবাহিক যে নিপীড়নমূলক নির্যাতন চালাচ্ছে বলে মিসরের আল-আজহার ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকেও ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এর কঠোর নিন্দা জানানো হয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here