চীন-ভারতে অবাধ গুম খুন সরকারি বাহিনীর

0
182

ভারতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ অবাধে গুম-খুন অব্যাহত রেখেছে দেশটির সরকার ও এর নিরাপত্তা বাহিনীগুলো। পুলিশি হেফাজতে চলছে নির্যাতন-নিপীড়ন ও ধর্ষণ। অব্যাহত রয়েছে অবাধ গণগ্রেফতার, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ।

যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্ট-২০১৮-এ দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটির ভয়াবহ মানবাধিকার পরিস্থিতির এ চিত্র উঠে এসেছে।

রিপোর্টে ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশ চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রায় একই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে শুরুতেই চীনকে স্বৈর রাষ্ট্রের তকমা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেই অভিযুক্তদের নিখোঁজ করে দেয় দেশটির সরকারি বাহিনী।

গত এক বছরে শিংজিয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণগ্রেফতার অভিযান আরও জোরদার করেছে দেশটির সরকার। জাতিগত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে ফেলতে উইঘুরদের পাশাপাশি ওই কাজাখ জাতিগোষ্ঠী ও অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর অন্তত ৮ লাখ সদস্যকে বন্দিশিবিরে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতি বছর মার্কিন কংগ্রেসের কাছে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ দেশ ও অঞ্চলের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও শ্রম অধিকার সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।

বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রস্তুতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং এতে উপস্থাপিত তথ্য মার্কিন কংগ্রেস, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ প্রামাণিক উপাত্ত হিসেবে গ্রহণ করে।

বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর উপস্থাপন করা ‘কান্ট্রি রিপোর্ট অন হিউম্যান রাইটস প্রাক্টিস’ শীর্ষক রিপোর্টে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে ভারত ও চীনের ভয়াবহ মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

রিপোর্ট মতে, ভারতে গত এক বছরে সন্দেহভাজন আসামি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ ঢালাও ও বেআইনি খুন-গুম ও গণগ্রেফতার চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০১৭-১৮-এর উপাত্ত অনুযায়ী, ভারতজুড়ে ৫৯ জনকে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করা হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা আরও বেশি।

অলাভজনক সংস্থা ইন্সটিটিউট ফর কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট চালিত সাউথ এশিয়ান টেররিজম পোর্টালের মতে, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১৫২ বেসামরিক নাগরিক, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত ১৪২ ও ৩৭৭ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী। পুলিশ বা সরকারি বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা আরও বেশি এবং সেটা অব্যাহত রয়েছে।

গত বছরের ১৪ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭-এর এপ্রিল থেকে ২০১৮-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে এক হাজার ৬৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের এক রিপোর্ট মতে, ওই সময়ে প্রতিদিন ৫ জনের বেশি মানুষ পুলিশ হেফাজতে মারা গেছে।

ভারতের অন্য রাজ্যের তুলনায় অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ‘রিপোর্ট অন দ্য সিচুয়েশন অব হিউম্যান রাইটস ইন কাশ্মীর’ শীর্ষক রিপোর্টে জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, ২০১৬-এর জুন থেকে ২০১৮-এর এপ্রিল পর্যন্ত ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১৪৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। অন্যদিকে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে নিহত হয়েছে ২০ জন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে চীনের নিন্দা জানিয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, চীন মুসলিমদের সঙ্গে যে আচরণ করছে তা দেশটিতে ১৯৩০ সালের পর সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।’

রিপোর্টে চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিরোধীদের অবাধ ও বেআইনি গ্রেফতার, গুম ও বন্দিশিবিরে লাখ লাখ মানুষকে নির্যাতন, ব্যাক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ প্রভৃতি চালাচ্ছে সরকার ও এর নিরাপত্তা বাহিনীগুলো।

সাংবাদিক, আইনজীবী, লেখক, ব্লগার্স ও সরকারের সমালোচক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর হচ্ছে শারীরিক আক্রমণ। ফাসানো হচ্ছে মামলায়। সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, শান্তিপূর্ণ র‌্যালি সমাবেশে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানে আবারও ভারতীয় ড্রোন ভূপাতিত


ভারতীয় একটি ড্রোন বিমান ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃসংযোগ অধিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক জেনারেল আসিফ গফুর শনিবার ভূপাতিত ড্রোনের ছবি তার টুইটারে শেয়ার করেছেন। খবর ডন ও জি নিউজের।

আইএসপিআর মুখপাত্র জানান, সীমান্তে ঢুকে যাওয়া ভারতীয় ড্রোনটি পাকিস্তানের সীমানার ১৫০ মিটারের ভেতরে ঢুকে যায়। ওই ড্রোনটির মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার ভিডিও সংগ্রহ করা হচ্ছিল। সীমান্তরেখার ভেতরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতীয় ড্রোনটি সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়।

গত মাস থেকে চলমান পাক-ভারত উত্তেজনা কিছুটা শান্ত হওয়ার পরই শনিবার ভারতীয় ড্রোনটি ভূপাতিত করেছে পাকিস্তান।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধাসামরিক বাহিনীর অন্তত ৪৯ জন সদস্য নিহত হন। এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ। ভারত এ হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে বলে দাবি করে আসছে।

এ হামলার জেরে ২৬ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। হামলায় ২০০ থেকে ৩০০ জঙ্গি নিহত হয় বলে ভারত দাবি করলেও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে।

এরপর পাকিস্তান সীমান্তে ভারতীয় দুই যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করেন পাকিস্তানি সেনারা। এ সময় ভারতীয় এক পাইলটকে আটক করে পাকিস্তান। পরে শান্তির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বন্দি পাইলটকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর থেকে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মসজিদে হামলা: শুনানির সময় আদালতে হাসছিলেন হামলাকারী


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন ও আহত হন ৪৮ জন।

শুক্রবার ওই হামলাঘটনার পরদিনই হামলাকারী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে ক্রাইস্টচার্চ ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয়।

নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় গণমাধ্যমে আদালতের শুনানিকালে হামলাকারীর ছবি প্রকাশ হয়েছে। সেই ছবিতে দেখা গেছে এমন মৃত্যুর পাহাড় তৈরি করেও অনুতপ্ত নয় ওই ব্যক্তি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুনানির সময় তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, তার মধ্যে কোনও অনুশোচনার লেশমাত্র নেই।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুনানির সময় যখন সংবাদিকরা তার ছবি তুলছিলেন তখন তিনি নির্বিকারভাবে তাদের দিকে তাকিয়ে হেসে যাচ্ছিলেন। কোনো কথাই বলেননি। চুপ করেই হেসে হেসে কৃতকর্মের বর্ণনা শুনে যাচ্ছিলেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, ব্রেন্টন ট্যারেন্টের পক্ষের আইনজীবী তার জামিন বা ঘটনা অন্যদিকের ঘোরানোর কিংবা অভিযুক্তের নাম ধামাচাপা দেয়ার কোনো চেষ্টাই করেননি। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড আরও জানিয়েছে, আগামী ৫ এপ্রিল আদালতে পরবর্তী হাজিরা দেয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্ত হামলাকারীর রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে মুসল্লিদের ওপর স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে হামলা চালান ব্রেনটন।

কাছের লিনউড মসজিদে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আল নুর মসজিদে ৪১ জন ও লিনউড মসজিদে সাতজন মুসল্লি নিহত হন। একজন হাসপাতালে মারা যান।

ওই হামলাঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে যান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। পরদিন ভোরে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল, যা বাতিল হয়ে যায়।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সেই মসজিদে হামলায় নিহত নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলের খেলোয়াড়

সন্তানকে কোলে নিয়ে ছবিতে পোজ দেয়া আতা এলায়েন এখন শুধুই স্মৃতি। ছবি: সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বন্দুকধারীর হামলায় বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা বেঁচে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি আতা এলায়েনের। ৩৩ বছর বয়সী এলায়েন ছিলেন নিউজিল্যান্ডের জাতীয় ফুটসাল (ইনডোর ফুটবল) দলের সদস্য।

কুয়েতি বংশোদ্ভূত এলায়েন ছিলেন একজন গোলরক্ষক। সম্প্রতি তিনি সন্তানের বাবা হয়েছেন। আদরের সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ে তোলার আগেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

এলায়েন ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের কারিগরি শিল্পের জনপ্রিয় একজন সদস্য ছিলেন। এছাড়াও এলডব্লিউএ সফিউশন নাকে একটি কোম্পানির পরিচালক ছিলেন।

শুক্রবার হ্যাগলি পার্কে মসজিদ আল নূরে জুমার নামাজ আদায় করতে যাওয়া মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এতে নিহত হন প্রায় অর্ধশতাধিক। সেই মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলে বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা। কয়েক মিনিট আগে তারা সেখানে পৌঁছলে বড় কিছু ঘটতে পারত।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ একসঙ্গে এতগুলো লাশের জানাজা ও দাফন নিয়ে আরেক সংকটে পড়েছে প্রবাসী মুসলিম সম্প্রদায়


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ থেকে একে একে বের করা হয়েছে ৪৯টি লাশ। কিন্তু একসঙ্গে এতগুলো লাশের জানাজা ও দাফন নিয়ে আরেক সংকটে পড়েছে দেশটির প্রবাসী মুসলিম সম্প্রদায়।

এটা একরকম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের জন্য। স্বজন হারানোর বেদনায় মুষড়ে পড়েছে পরিবারগুলো। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিতও তারা।

এ পরিস্থিতিতে লাশগুলোর গোসল দেয়া, এতগুলো কবর খোঁড়া, লাশ কবরস্থানে নেয়া ও জানাজা পড়ার মতো দাফন প্রক্রিয়া তাদের জন্য কঠিনই বটে। দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তার জন্য ফেসবুকে আবেদন জানানো হয়েছে।

শনিবার এ খবর জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ হামলায় মোট ৪৯ জনকে মৃত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আল নূর মসজিদে নিহত ৪১ জন ও লিনউড মসজিদের ভেতর সাতজন মারা যান। হাসপাতালে মারা যান আরও একজন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ও নারীসহ শিশুও রয়েছে। তবে পুরুষের সংখ্যাই বেশি।

নিউজিল্যান্ডের একজন প্রখ্যাত ইসলামী পণ্ডিত জাইন আলি বলেন, একসঙ্গে এতগুলো লাশের দাফনের আয়োজন করতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ক্রাইস্টচার্চ মুসলিম সম্প্রদায়। চ্যালেঞ্জের প্রধান কারণ হিসেবে লোকবলের অভাবের পাশাপাশি পরিবারগুলোর বর্তমান ‘মানসিক, বাস্তবিক ও আধ্যাত্মিক’ অবস্থার কথা জানিয়েছেন তিনি।

জাইন আলি বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় যখন কোনো মুসলিম মারা যান, তখন সাধারণত পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তার লাশ ধোয়া হয় এবং দাফনের জন্য কবরস্থানে নেয়া হয়।

ইসলামী প্রথা হচ্ছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লাশ সমাধিস্থ করা। এটা সাধারণত মৃতু্যর দিনই সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু যে ঘটনা ঘটে গেছে তা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এ অবস্থায় দাফন প্রক্রিয়ার আয়োজন আমার কাছেও অসম্ভব লাগছে।

উৎসঃ যুগান্তর,নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড

আরও পড়ুনঃ হিজাব মাথায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সবখানেই তাকে দেখা যাচ্ছে বিমর্ষ অবয়বে

সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মুসলমানদের সঙ্গে কথা বলছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্ন। ছবি: সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বারবার গণমাধ্যমের সামনে এসে নিজেই তথ্য জানাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্ন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে আহতদের দেখতে যাওয়া, তাদের খোঁজখবর নেয়া- সবখানেই নিজে যাচ্ছেন। যেখানেই যাচ্ছেন, যার সঙ্গেই কথা বলছেন, সবখানেই তাকে দেখা যাচ্ছে বিমর্ষ অবয়বে।

শোক প্রকাশে শুধু কালো পোশাকই পরেননি, মসজিদে নামাজরত মুসলিমদের হামলার ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের মুসলিমদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশে মাথায় ওড়না জড়িয়ে রয়েছেন।

আরদার্নের আচরণ আর চেহারার অভিব্যক্তিতেই বোঝা যাচ্ছে, শোক শুধু তার বক্তব্যে নেই, ভয়াবহ এ হামলার শোক তার মনেও আঘাত হেনেছে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর এমনই কিছু ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমগুলোতে।এর মধ্যে ওপরের ছবিটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে।

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, কালো পোশাকের সঙ্গে কালো ওড়না মাথায় জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন জাসিন্দা। চোখে যেন স্বজন হারানোর করুণ দৃষ্টি। দেখে মনে হচ্ছে হয়তো এক্ষুণি কেঁদে ফেলবেন। কিন্তু হাত দুটো একসঙ্গে শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছেন তিনি, যেন দেশের এই ভয়ানক শোকের দিনে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছেন।

জাসিন্দা আরদার্ন তার পোশাকের মধ্য দিয়ে দেশের শোকাহত মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ছবিতে তার দাঁড়ানোর ভঙ্গি আর চোখের দৃষ্টিই মনকে নাড়িয়ে দেয়ার মতো। এই ছবি শেয়ার করে অনেকেই বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যেন এর মধ্য দিয়ে শুধু নিজের শোক নয়, পুরো দেশের শোককে তুলে ধরেছেন।

পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজিল্যান্ডের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীকে মুসলিমদের উদ্দেশে কথা বলতে দেখা গেছে। সেখানেও তিনি বলেছেন, এটি আমাদের দেশের জন্য বিশাল এক শোকের ঘটনা। আপনারাই আমরা, আর তাই যা ঘটেছে তার কষ্ট আমরা মনের গভীরে অনুভব করতে পারছি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিহতদের সমবেদনা জানাতে নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট


শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে চালানো হামলায় নিহতদের সমবেদনা জানাতে নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত উকতাই ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু। তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের পক্ষে ভয়াবহ এ হামলার পরবর্তী অবস্থা জানতে দেশটিতে যাচ্ছেন তারা।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। খবর টিআরটি ও ডেইলি সাবাহ।

নিউজিল্যান্ড রওনা হওয়ার আগে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত উকতাই সাংবাদিকদের বলেন, ভয়াবহ এ হামলার পর আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ইসলামের বিরুদ্ধাচরণকারীদের হাত থেকে বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের রক্ষার করার বিষয়টি এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছি। নিউজিল্যান্ডের সম্প্রতি এ হামলার বিষয়ে আমরা তাদের সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত। এ হামলা আবারও প্রমাণ করেছে, সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের নির্ধারিত কোনো সীমরেখা নেই। তাদের কালোহাত সব দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে।

এ জন্য আমরা ইসলামবিদ্ধেষ, ঘৃণাচর্চা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি।

নিউজিল্যান্ড সফরের বিষয়ে ফুয়াত উকতাই বলেন, ইসলামি সহযোগী সংস্থার বর্তমান চেয়ারম্যান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের পক্ষ থেকে নিহত মুসলিমদের সমবেদনা জানাতে নিউজিল্যান্ড সফর করছি। নিউজিল্যান্ড সরকারের কাছে আমরা প্রেসিডেন্টর শোকবার্তা পৌঁছিয়ে দেব।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান নিউজিল্যান্ডের গভর্নর প্যাটসি রেড্ডির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘হামলার ঘটনায় বেঁচে যাওয়া সর্বশেষ ব্যক্তি বোধহয় আমি’: রমজান আলী (ভিডিও সহ)


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অনেকে। তাদের মধ্যে আবার অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ হামলায় বেঁচে যাওয়া সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের অন্যতম ও সর্বশেষ ব্যক্তি রমজান আলী।

স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ৬২ বছর বয়সী রমজান আলী জানান, শুক্রবার মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে আমার আশপাশে অনেকেই মারা গেছেন। ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া সম্ভবত আমিই শেষ ব্যক্তি। আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে বের করে এনেছেন।

রমজান আলী আরো বলেন, আমরা নিয়মিতই হ্যাগলি পার্কের ওই মসজিদে জুমার নামায আদায় করে থাকি। ঘটনার সময় মসজিতে অন্তত তিনশ মুসল্লি ছিলেন। হঠাৎ আমি দেখি সবাই মসজিদের দরজা লক্ষ করে ছুটছেন। অথচ এতো মানুষের একসঙ্গে মাত্র ওই দুইটি দরজা দিয়ে বের হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আবার বন্দুকধারী প্রধান দরজা দিয়ে গুলি করতে করতে ভেতরে ঢুকছে।

আলী বলেন, এ অবস্থায় আমি লুকানোর জন্য একটি বেঞ্চের পিছনে লাফ দিই, তবে এরপরও আমার পা দেখা যাচ্ছিল। তখন হামলাকারী লাগাতার গুলি করে যাচ্ছিল। আমার চাচাত ভাই আমার পেছনে বসে পড়ে এবং তার পায়ে আঘাত পায়।

একপর্যায়ে সে গুলি রিলোড করার জন্য কয়েবার থামে। কিন্তু এর পরপরই আবারো গুলিবর্ষণ করতে থাকে। আমি তখন কেবল প্রার্থনা করছিলাম, তার গুলি যেন শেষ হয়ে যায়।

ভিডিওঃ ‘হামলার ঘটনায় বেঁচে যাওয়া সর্বশেষ ব্যক্তি বোধহয় আমি’: রমজান আলী

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

পাশে একজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলে হামলাকারী আমার সামনেই ওই ব্যক্তির বুকে পুনরায় গুলি করে। আমি তখন আমার চারপাশে তখন কেবল লাশ দেখেছি। পরে তিনি জানালা দিয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে এসে হ্যাগলি পার্কের দিতে চলে যান।

রমজান জানান, তিনি এ ঘটনায় বেঁচে গেলেও ওই সময় তার পেছনে থাকা চাচাতো ভাই নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া হামলায় তার চাচাতো বোনের জামাই ও এক বন্ধু গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি এখন তাদের খুঁজে ফিরছেন।

ফিজির বংশোদ্ভূত রমজান আলী ১৯৮৯ সালের নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান। তবে গত পাঁচ বছর ধরে বসবাস করছেন প্রায় চার লাখ মানুষের শহর ক্রাইস্টচার্চে। বর্তমানে তিনি সেখানে হালাল খাবার কোম্পানিতে কাজ করছেন।

নিউজিল্যান্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানকার লোকেরা খুবই ভালো। আমি এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারে। তারা খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন।

উৎসঃ নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চের ফুটপাতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা সেই নারী বাংলাদেশের হুসনে আরা পারভীন

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন। এ হামলা সংক্রান্ত যে কয়েকটি ছবি সবচেয়ে বেশি আলোচিত তার মধ্যে একটি হল ফুটপাতে মুখ থুবড়ে পড়া এক নারীর। হামলার পর ক্রাইস্টচার্চের ফুটপাত থেকে ছবিটি তোলা হয়। ছবিতে যে নারীকে দেখা গেছে তিনি বাংলাদেশি হুসনে আরা পারভীন (৪২)।

অসুস্থ স্বামীকে মসজিদে খুঁজতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে প্রাণ হারান পারভীন। সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি নিহত হলেও অন্যদের সহযোগিতায় বেঁচে গেছেন তার প্যারালাইজড স্বামী ফরিদ উদ্দিন। হুসনে আরা নিহতের খবরে সিলেটে তার গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহত হুসনে আরা সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালহাটা গ্রামের মৃত নূর উদ্দিনের মেয়ে ও একই জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামের ফরিদ উদ্দিনের স্ত্রী। হুসনে আরা পারভীন দম্পতি প্রায় ২০ বছর আগে নিউজিল্যান্ড পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে হুসনে আরা এবং তার এক বোন ও এক ভাই নিউজিল্যান্ডে থাকতেন। এর মধ্যে এক বছর আগে বড় ভাই সেখানেই মারা যান। হুসনে আরা পারভীনের একমাত্র মেয়েও নিউজিল্যান্ডে বসবাস করেন।

নিউজিল্যান্ডের আত্মীয় স্বজনের বরাত দিয়ে সিলেটে অবস্থানরত হুসনে আরার চাচাতো ভাই এইচ আর শাকিল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় নারী ও পুরুষের জন্য পাশাপাশি আলাদা মসজিদ রয়েছে। হামলার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে হুসনে আরা তার স্বামীকে হুইল চেয়ারে করে পুরুষদের মসজিদে রেখে তিনি নারীদের মসজিদে নামাজ পড়তে যান। এর কিছুক্ষণ পর পুরুষদের মসজিদে গোলাগুলির শব্দ শুনে হুসনে আরা তার স্বামীকে খুঁজতে পুরুষ মসজিদের দিকে যান। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

শাকিল আরও জানান, গোলাগুলি শুরুর পরই কয়েকজন মুসল্লি ফরিদ উদ্দিনকে হুইল চেয়ারে করে মসজিদ থেকে বের করে নিলে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। বর্তমানে তিনি ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় তার বাসায় আছেন। তবে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে হুসনে আরা পারভীন ও ফরিদ উদ্দিনের বিয়ে হয়। এর কয়েক বছর পর তারা নিউজিল্যান্ড চলে যান। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন। এই দম্পত্তির ১৮ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। গত প্রায় ৮ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় প্যারালাইসড হয়ে যান হুসনে আরা পারভীনের স্বামী ফরিদ উদ্দিন। হুসনে আরা সেখানে একটি কোম্পানীতে চাকুরি করতেন।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হত্যাযজ্ঞঃ নরেন্দ্র মোদির মুখে কুলুপ!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব সময় সক্রিয় থাকেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্বের কোথাও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে তার নিন্দা জানান। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

রক্তাক্ত এ হামলার পর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে টুইট করলেও ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ঘটনায় এখনো নিশ্চুপ মোদি।

নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় সমবেদনা জানাচ্ছেন বিশ্ববাসী। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব দেশের নেতারা এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, কেউবা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন নিজের দেশ ও সরকারের অবস্থান।

কিন্তু এত বড় একটি হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চুপ থাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

কারণ বিশ্বের কোথাও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গেই তার নিন্দা জানিয়ে থাকেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের বাইরে কাবুল, কায়রো, নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস- এসব শহরে বিগত বছরগুলোতে যেসব সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে তাতে টুইটারে সরব ছিলেন মোদি।

কিন্তু শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৪৯ জন মুসলমান নিহত হলেও এ ঘটনা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী কোনো টুইট করেননি।

ধারণা করা হচ্ছে, মুসলমান নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশকে তার উগ্রবাদী দল ও ভক্তরা হয়তো ভালোভাবে নেবে না এবং এর প্রভাব পড়বে ভোটে- এমনটা ভেবেই তিনি হয়তো চুপ রয়েছেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভক্তদের সামনে নীরব থাকলেও হামলার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা এক চিঠিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মোদি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সেই হামলাকারী ব্রেনটন ট্যারেন্টের কড়া বাঁধা হাতেও বর্ণবাদের প্রশস্তি

কড়া বাঁধা হাতেও বর্ণবাদের প্রতীক দেখালেন নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের খুনি ব্রেন্টন ট্যারেন্ট, যার গুলিতে ৩ বাংলাদেশিসহ অন্তত ৪৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

শুক্রবার দুটি মসজিদে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগ এনে ট্যারেন্টকে একদিন বাড়ে ক্রাইস্টচার্চের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয়। বিচারক তাকে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত আটক রাখতে বলেছেন।

ট্যারেন্টকে আদালতে নিয়ে যায় দুজন পুলিশ সদস্য, এসময় তার দেহে ছিল বন্দিদের পোশাক, হাতকড়ায় বাঁধা ছিল হাত।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট দেখিয়েছে, হাতকড়ার মধ্যে আঙুল দিয়ে ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের’ বর্ণবাদী প্রতীক দেখাচ্ছিলেন ট্যারেন্ট।

মানুষের মধ্যে শেতাঙ্গরা শ্রেষ্ঠ- এটা যারা মনে করেন, তারা আঙুলের মাধ্যমে বিশেষ চিহ্ন তৈরি করে প্রতীক হিসেবে তার প্রকাশ ঘটিয়ে থাকেন।

এক্ষেত্রে বৃদ্ধা ও তর্জনি আঙুল বৃত্তাকারে একসঙ্গে যুক্ত করলে তা ‘চ’ এর আকৃতি নেয়, যা দিয়ে চড়বিৎ বা শক্তি বোঝানো হয়। আর বাকি তিনটি আঙুল তখন ‘ড’ এর রূপ নেয়, যা দিয়ে বোঝানো হয় ডযরঃব বা সাদা।

২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় ট্যারেন্টও বন্দি হওয়ার পরও তার বর্ণবাদী মনোভাব এভাবে তুলে ধরেন।

হত্যাযজ্ঞের পুরো ঘটনা ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন ট্যারেন্টন, ইন্টারনেটে ছড়িয়েছেন বর্ণবাদী, অভিবাসী বিদ্বেষী, উগ্র ডানপন্থি বার্তা।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলা চালানোর আগে ট্যারেন্ট তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ৭৩ পৃষ্ঠার একটি কথিত ‘ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি নিজেকে বর্ণনা করেছেন ভাষায়, সংস্কৃতিতে, রাজনৈতিক বিশ্বাস আর দর্শনে, আত্মপরিচয়ে এবং বংশপরিচয়ে একজন ইউরোপীয় হিসেবে।

ট্যারেন্ট তার তথাকথিত ‘ম্যানিফেস্টোতে’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

হামলার উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে নিজের অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন ট্যারেন্ট। এক জায়গায় তিনি নিজেকে ‘এথনোন্যাশনালিস্ট এবং ফ্যাসিস্ট’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

উৎসঃ শীর্ষ কাগজ

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের খুনি আদালতে হাসছিল

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী ব্রেনটন হ্যারিসন ট্যারেন্টকে হাতকড়া পরিয়ে খালি পায়ে আদালতে হাজির করা হয়। শনিবার স্থানীয় সময় সকালে ২৮ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত যুবককে ক্রাইস্টচার্চ ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয়। এ সময় হাসছিলেন তিনি।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে জুমার নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে হামলা চালান ব্রেনটন। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে বেঁচে যান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। কাছাকাছি লিনউড মসজিদে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। দুই মসজিদে হামলায় নিহত ৪৯ জন। এর মধ্যে আল নুর মসজিদে ৪১ জন ও লিনউড মসজিদে সাতজন নিহত হন। একজন হাসপাতালে মারা যান। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ৪০ জন। এর মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের অনলাইন সংস্করণে বলা হয়, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছেন ব্রেনটনকে। তিনি নিউজিল্যান্ডের ডুনেডিনের অ্যান্ডারসনস বে এলাকার বাসিন্দা। আদালতে যখন ব্রেনটনকে হাজির করা হয়, তখন তাঁর পরনে ছিল বন্দীদের সাদা পোশাক, হাতে হাতকড়া এবং খালি পা। ডকে তাঁর ছবি তোলার সময় তিনি আলোকচিত্রীদের দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন। তাঁর পাশেই ছিলেন দুই পুলিশ সদস্য। ৫ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আদালতে দায়িত্বরত আইনজীবী রিচার্ড পিটারস জানান, এর মধ্যে তাঁর জামিনের কোনো আবেদন হচ্ছে না। তাঁর নাম গোপন রাখারও কোনো আবেদন ছিল না।

তবে বিচারক পল কেলার হামলাকারী ব্রেনটনের ছবি তোলা ও ফুটেজ নেওয়ার অনুমতি দিলেও তিনি বিচার সম্পর্কিত অধিকার বজায় রাখতে ব্রেনটনের ছবি প্রকাশের সময় মুখ ঝাপসা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

অভিযোগে ব্রেনটনের কোনো পেশার কথা উল্লেখ করা হয়নি। আদালত কক্ষে সাধারণ লোকজনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৪৯ জনকে হত্যা করেন ট্যারেন্ট, আহত হন আরও ৪৮ জন। নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন।

দুপরে প্রথম হামলাটি হয় ক্রাইস্টচার্চের ডিনস এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদে। সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হামলাকারী গাড়ি চালিয়ে মাইল তিনেক দূরের লিনউড মসজিদে যায় এবং একই কায়দায় গুলি শুরু করে।

নিউ জিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড় আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন।

একটি মসজিদে হামলার পুরো ঘটনা হেলমেটে লাগানো ক্যামেরায় ইন্টারনেটে সরাসরি সম্প্রচার করে হামলাকারী। হামলাকারী এ হত্যাযজ্ঞের পুরো ঘটনা ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন, ইন্টারনেটে ছড়িয়েছেন বর্ণবাদী, অভিবাসী বিদ্বেষী, উগ্র ডানপন্থি বার্তা।

হামলা চালানোর আগে ট্যারেন্ট তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ৭৩ পৃষ্ঠার একটি কথিত ‘ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করেন। হামলার উদ্দেশ্য ও নিজের পরিকল্পনার বিষয়ে সেখানে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন তিনি।

উৎসঃ ‌শীর্ষ কাগজ

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলাকারী ব্রেনটন ট্যারেন্ট সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ব্লাক সান’ এর সদস্য

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে শুক্রবার (১৫ মার্চ) জুম্মার নামাজের সময় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নব্য নাৎসিবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ব্লাক সান’ জড়িত বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রেন্টন টারান্ট নামের ওই হামলাকারী কুখ্যাত ব্লাক সানের সদস্য। হামলার আগে টুইটারে তার প্রকাশিত এক ইশতেহারে ব্লাক সানের সঙ্গে তার সম্পর্ক পরিষ্কার করেন। টুইটারে তিনি ৮৭ পৃষ্ঠার একটি ইশতেহার দিয়েছিলেন। যেখানে হামলার পূর্বাভাসও দেয়া হয়েছিল।

২০১১ সালে নরওয়েতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা থেকে ব্রেন্টন টারান্ট অনুপ্রাণিত হয়েছেন বলে টুইটে দাবি করেন। নরওয়েতে সেই ভয়াবহ হামলায় ৭৭ জন নিহত হয়েছিল।

ব্রেন্টন টারান্ট টুইটারে যে ইশতেহার প্রকাশ করেছিলেন তার প্রচ্ছদে ব্লাক সানের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ‘ব্লাক সান’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আবার হইচই শুরু হয়েছে।

ব্লাক সান কী?

জার্মানির উত্তরাঞ্চলে ওয়েলসবার্গ নামক দুর্গ নির্মাণ হয় ১৬০৩ সালে। ১৬০৯ সালে সেটি উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন শাসকের দুর্গপ্রাসাদ হিসেবে এটি ব্যবহার হতো। জার্মান শাসক হিটলারের সময় থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এই দুর্গটি হিটলারের বাহিনীর (এসএস) জেনারেলদের জন্য ব্যবহার হতো।

ওয়েলসবার্গ দুর্গের মেঝেতে ১৯৩৩ সালে হিটলারের সময়ে একটি লোগো স্থাপন করা হয়। লোগোতে কালো গোলাকৃতির মধ্যে ১২টি সাদা রঙের ফাঁকা অংশ রয়েছে। তৎকালীন জার্মানিতে হিটলারের পরে দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল হেনরিক হিমলারের নেতৃত্বে এই লোগোটি বসানো হয়, যা দেখতে অনেকটা চাকার মতো। লোগোটি নাৎসি বাহিনীর দলীয় লোগোর সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ব্লাক সান ওয়েলসবার্গের ওই চিহ্নটিই তাদের লোগো হিসেবে ব্যবহার করছে।

হেনরিক হিমলার ওই দুর্গটির ডিজাইনও পরিবর্তন করেন। পরিবর্তিত ডিজাইনেই পরে লোগোটি স্থাপন করা হয়। এটিকেই মূলত ব্লাক সান বলা হয়। তৎকালীন ব্লাক সানের অনুসারীরাই বর্তমান ব্লাক সান নামক সংগঠন পরিচালনা করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনটিকে নব্য নাৎসিবাদীদের সংগঠন হিসেবে সজ্ঞায়িত করা হয়ে থাকে।

১৯৯১ সালে লেখক রাসেল ম্যাক ক্লাউড এ বিষয়ে একটি বই প্রকাশ করেন। তার ‘জার্মান দ্য ব্লাক সান অব তাসি লুনপো’ নমের বইটিতে ব্লাক সানের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রথম লিখিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। ওই সময় বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। খ্যাতিমান লেখক নিকোলাস গডরিক ক্লার্ক বইটিকে ‘অকাল্ট নাৎসি থ্রিলার’ হিসেবে সজ্ঞায়িত করেন।

নাৎসিবাদীরা ব্লাক সান লোগো নিজেদের ঐতিহাসিক আদর্শের প্রতীক বলে মনে করে। হিটলারের আদর্শ থেকেই তারা নিজেদের সংগঠনের নাম দেয় ব্লাক সান। সংগঠনের লোগো হিসেবেও ব্লাক সান ব্যবহার করে।

তবে তাদের এই সংগঠন কবে কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা জানা যায় না। সম্পূর্ণ গোপন এই সংগঠন বিশ্বজুড়ে হিটলারের আদর্শের অনুসারীদের নিয়ে কাজ করে।

উৎসঃ শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলা নিয়ে বিশ্বের মুসলিম নেতারা যা বললেন

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৪৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে মুসলিম বিশ্ব। মুসলিমবিদ্বেষ ও অভিবাসীদের প্রতি ঘৃণা থেকে জন্ম এ হামলায় বিশ্বজুড়ে ঘৃণা, ভয়, ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার ওই হামলার আগে টুইটারে ইসলামফোবিয়া ও মুসলিমবিদ্বেষী নানা বক্তব্যে ইশতেহার প্রকাশ করে ভয়ংকর সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট। বিভিন্ন দেশের মুসলিম নেতাদের বক্তব্য ও বিবৃতিতে ফুটে উঠেছে সেই ক্ষোভ। শুক্রবারের ওই হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই এর কড়া নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে গণহত্যার শিকার হচ্ছে মুসলিমরা। কিন্তু মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা গুরুত্বহীনভাবে বিবেচনা করছে বিশ্ব। মুসলমানদের যে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করার ঘটনা ঘটত, সেটা ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সীমান্ত ছাড়িয়ে গণহত্যায় রূপ নিয়েছে।’

হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এটাকে ইসলামফোবিয়ার ফল অভিহিত করে ইমরান খান বলেন, সন্ত্রাসবাদ কখনও ধর্ম হতে পারে না। নিহত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আল আজহার মসজিদের প্রধান ইমাম শেখ আহমেদ আল-তায়েব লোমহর্ষক এই গণহত্যার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। বলেছেন, লোমহর্ষক এই সন্ত্রাসী হামলা দেশে দেশে ক্রমবর্ধিষ্ণু ইসলামফোবিয়া, মুসলিম বিদ্বেষের কথা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ আশা করছেন নিউজিল্যান্ড শিগগিরই এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করবে এবং আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

মালয়েশিয়ার বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দল ক্ষমতাসীন জোট পাকাতান হারাপানের নেতা খ্যাতনামা নেতা আনোয়ার ইবরাহিম আলজাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চ সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে মালয়েশীয়দের হৃদয়। বিশ্ব মানবতা ও শান্তির জন্য এটাকে এক ট্র্যাজেডি হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

গুলি করে নিরীহ মানুষকে হত্যার ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেছেন, ‘আমরা এই ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।’

এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বলেছেন, ‘ইন্দোনেশিয়া সরকার হত্যার শিকার ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে।’ এ হামলার সময় আল নূর মসজিদের ভেতরে ছয় ইন্দোনেশীয় মুসল্লি ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ক্রাইস্টচার্চ হামলা: জীবন বাজি রেখে হামলাকারীর বন্দুক কেড়ে নেয়ার চেষ্টায় হিরো নাইম রশিদ

নাইম রশিদ। নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হত্যাযজ্ঞের সময় তিনি নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকান নি। হামলাকারী যখন নির্বিচারে মুসল্লিদের গুলি করে হত্যা করছিল পাখির মতো, তখন তিনি দেখিয়েছেন অসীম সাহসিকতা। জাপটে ধরে হামলাকারীর বন্দুক কেড়ে নেয়ার জন্য ধস্তাধস্তি করেন। ততক্ষণে লাশের সারিতে যোগ হয়েছে তারই ছেলে তালহা (২১)-এর দেহ। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে, নিজেকে শক্ত করে, জীবন বাজি রেখে তিনি লড়াই চালিয়ে যান হামলাকারীর সঙ্গে। তা না হলে নিহতের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি হতে পারতো। যে নাইম রশিদ নিজের জীবন বাজি রাখলেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, মুসলিম ভাইদের রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত তিনিই বাঁচতে পারলেন না।

তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলো। কিন্তু সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তাই বিশ্ব মিডিয়া তাকে হিরো বা নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তার ছবি দিয়ে আলাদা রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে গিয়েছিলেন নাইম রশিদ ও তার ছেলে তালহা। মসজিদ তখন কানায় কানায় পূর্ণ। অকস্মাৎ সেখানে সিনেমার ভিলেনদের মতো এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট (২৮)। নাইম রশিদের চোখের সামনে লুটিয়ে পড়তে থাকে মুসল্লি ভাইদের দেহ। রক্তে ভেসে যেতে থাকে মসজিদের মেঝে। চারদিকে আর্ত চিৎকার। দিকভ্রান্ত মানুষ। ছুটাছুটি করছে। তার সামনে লুটিয়ে পড়ছেন মানুষ। তার মধ্যে রয়েছেন তার ২১ বছর বয়সী ছেলে তালহাও। একজন পিতা হিসেবে সেই দৃশ্য তার হৃদয়ে যে কম্পন তোলার কথা, যে ঝড়ে তার ভেঙে পড়ার কথা, তিনি তার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন। নিজেকে স্থির করলেন। অস্ট্রেলিয়ান হামলাকারী ব্রেনটন টেরেন্টের কাছ থেকে তার অস্ত্র কেড়ে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলেন। এই ধস্তাধস্তিতে যে সময়টা লেগেছে তার মধ্যে অনেক মুসলিম মসজিদ থেকে বেরিয়ে যেতে পেরেছেন। তা না হলে আরও কি ভয়াবহতা ঘটতে পারতো তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। তাই তিনি হয়ে উঠেছেন হিরো।

লন্ডনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ লিখেছে, নামাজ আদায় করতে যাওয়া ভাইদের রক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লেন রশিদ। তিনি হামলাকারী ব্রেনটনের অস্ত্র কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন রশিদ। এক পর্যায়ে হামলাকারী মসজিদ থেকে বেরিয়ে পালায়। সঙ্গে সঙ্গে অন্য মুসলিমরা রশিদকে উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে যান হাসপাতালে। কিন্তু যিনি অন্য মুসলিমদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনকে বাজি ধরলেন, তিনিই বাঁচতে পারলেন না। শুক্রবার রাতের শেষভাগে তিনি মারা যান।

নাইম রশিদের বাড়ি পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে। পাকিস্তানে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন। কিন্তু একজন শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেয়ে যান নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। সেখানে গিয়ে জীবনযাপন শুরু করেন।

পাকিস্তানের এআরওয়াই নিউজকে ড. খুরশিদ আলম নিশ্চিত করেছেন নিহত নাইম রশিদ তার ভাই। তাকে ও তার ভাজিতা তালহাকে শুক্রবারের নৃশংস হামলায় হত্যা করা হয়েছে। এর আগে ওয়েলিংটনে পাকিস্তানের হাই কমিশন নিশ্চিত করেছে, হামলায় ৪ জন পাকিস্তানি আহত হয়েছেন। ৫ জন রয়েছেন নিখোঁজ।

হামলার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ মাজহারুদ্দিন। তিনি বলেছেন, আরেকজন মানুষ কিভাবে হামলাকারীকে মোকাবিলা করেছিলেন এবং তার একটি অস্ত্র কেড়ে নিয়েছিলেন। এ ঘটনা ঘটেছিল লিনউড মসজিদে। সেখানে তিনি দেখতে পান হামলাকারী প্রতিরক্ষামূলক ‘গিয়ার’ পরে আছে। মাতালের মতো গুলি ছুড়ছিল সে। তারপরই তাকে মোকাবিলা করতে একজন যুবক উদ্যোগ নেন। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে তিনি বলেছেন, ওই যুবক সুযোগ বুঝে হামলাকারীকে পাকড়াও করে ধরে এবং তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র কেড়ে নেয়। তারপরই ওই যুবক মসজিদে থাকা মুসল্লিদের সুরক্ষা দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি জানতেন না কিভাবে অস্ত্র চালাতে হয়।

ওই যুবককেও হিরো হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মাজহারুদ্দিন। তিনি বলেছেন, ওই ‘হিরো’ বন্দুক চালানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি বন্দুকের ট্রিগার খুঁজে পান নি। এ সময় হামলাকারীকে ধরতে পিছন থেকে দৌড়াতে থাকেন ওই ‘হিরো’। কিন্তু বাইরে তখন একটি গাড়িতে হামলাকারীর সহযোগীরা অপেক্ষা করছিল। হামলাকারী দৌড়ে গিয়ে তাতে উঠে পড়ে এবং পালিয়ে যায়।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাঃ যেসব শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করছে হামলাকারী

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার ঘটনা ফেসবুকে লাইভস্ট্রীমিং করেছিলেন ব্রেন্টন টারান্ট। আল নুর মসজিদে নির্বিচারে পুরুষ-নারী-শিশুদের ওপর তার গুলি চালানোর দৃশ্য এতটাই ভয়ংকর যে তা বেশিক্ষণ দেখা যায় না।

ব্রেন্টন টারান্ট এর আগে এক তথাকথিত ইশতেহার প্রকাশ করেন যেখানে তিনি তার সহিংস কট্টর দক্ষিণপন্থী মতাদর্শ তুলে ধরেছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের ভাষায়, ব্রেন্টন টারান্ট আসলে একজন ‘উগ্র দক্ষিণপন্থী সন্ত্রাসবাদী।’

হামলার ঘটনার যে ১৭ মিনিটের ভিডিও এবং তার আগে যে সুদীর্ঘ ইশতেহার ব্রেন্টন টারান্ট প্রকাশ করেছেন, তা থেকে তার চিন্তা ও মতাদর্শ সম্পর্কে কী ধারণা পাওয়া যায়?

ব্রেন্টন টারান্ট যখন অস্ত্র বোঝাই গাড়ি নিয়ে আল নুর মসজিদের দিকে যাচ্ছেন, তখন তার গাড়িতে যে গানটি বাজছিল, সেটি একটি সার্বিয়ান জাতীয়তাবাদী রণসঙ্গীত। ‘চেটনিকস’ নামে পরিচিত সার্বিয়ান প্যারামিলিটারি ইউনিট ১৯৯২-৯৫ সালের বসনিয়ান যুদ্ধের সময় এটিকে তাদের কুচকাওয়াজ সঙ্গীত হিসেবে ব্যবহার করতো।

এই সঙ্গীতে বসনিয়ান সার্ব নেতা রাদোভান কারাদযিচের প্রশংসা রয়েছে। গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে রাদোভান কারাদযিচ দোষী সাব্যস্ত হন।

মুসলিমদের এবং অভিবাসীদের হত্যার কারণে যেসব লোকের সাজা হয়েছে, তাদের অনেকের নাম লেখা আছে ব্রেটন টারান্টের আগ্নেয়াস্ত্রগুলিতে।

একটি বন্দুকের গায়ে লেখা ‘ফর রদারহ্যাম।’ যুক্তরাজ্যের রদারহ্যামে শিশুদের ওপর এশিয়ান মুসলিম পুরুষদের যৌন নিপীড়নের যে কেলেংকারির ঘটনা আলোড়ন তুলেছিল, সেই ঘটনাকেই এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া অটোম্যান সাম্রাজ্যের সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর ঐতিহাসিক অনেক লড়াইয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বিভিন্ন শব্দ লেখা ছিল তার অস্ত্রশস্ত্রে।

অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম খবর দিচ্ছে, ব্রেন্টন টারান্ট সিডনি থেকে প্রায় ছয়শো কিলোমিটার উত্তরের একটি শহর গ্রাফটনের লোক। তার সাবেক বস ট্রেসি গ্রে দাবি করছেন, ব্রেন্টনের মধ্যে তিনি কখনো কোন চরমপন্থী চিন্তাভাবনা বা পাগলামি আচরণ দেখেননি।

দীর্ঘ ইশতেহারে ব্রেন্টন টারান্ট লিখেছেন, ২০১৭ সালে ইউরোপ ঘুরে আসার পর তিনি এই হামলার পরিকল্পনা শুরু করেন। বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেছেন সুইডেনে একটি লরি চালিয়ে ইসলামিক স্টেটের সমর্থক এক ব্যক্তির চালানো একহামলার কথা। এছাড়াও আছে ফ্রান্সে ইমানুয়েল ম্যাক্রর মতো লোকের প্রেসিডেন্ট হওয়া এবং ফ্রান্সে যে জাতিগত বৈচিত্র, তা নিয়ে ক্ষোভ-হতাশার কথা।

ব্রেন্টন টারান্টের দীর্ঘ ইশতেহারটির শিরোণাম হচ্ছে ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’।

এতে যে ধরণের ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ তুলে ধরা হয়েছে, তা সাম্প্রতিককালে অনলাইনে দ্রুত প্রসার লাভ করছে। এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের একটি ব্যাপক আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীও তৈরি হচ্ছে।

এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মূল কথা হলো, ইউরোপীয়রা ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তাদের তুলনায় নিকৃষ্ট এবং বিপদজনক জাতি ও সংস্কৃতির দাপটে। মূলত মুসলিমদের নিয়ে ঘৃণা এবং ভীতি ছড়ানোর সাংকেতিক আলোচনা বলে মনে করা হয় এসব আলোচনাকে।

এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বে আরও বলা হচ্ছে, পশ্চিমা দুনিয়ায় যে অভিবাসীদের আসার হার বেড়েই চলেছে, এর পেছনেও রয়েছে ষড়যন্ত্র। বিশ্ব পুঁজিবাদকে টিকিয়ে রাখতে বড় বড় রাষ্ট্র এবং কর্পোরেশনগুলো ‘হোয়াইট জেনোসাইড’ বা ‘শ্বেতা্ঙ্গ গণহত্যায়’ উৎসাহ যোগানোর নীতি নিয়েছে। এই ইশতেহারে এন্টি সেমিটিক (ইহুদী বিদ্বেষী) এবং নব্য নাৎসীবাদী কথাবার্তাও আছে।

পশ্চিমা দুনিয়ায় যে উগ্র ডানপন্থী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে, তার পেছনে এ ধরণের ‘ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্বের’ বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নানা ধরণের গোপন গোষ্ঠী ফেসবুকে এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব প্রচারণা চালাচ্ছে জোরে-শোরে।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন, বিবিসি

আরও পড়ুনঃ ‘মুসলমান! আজ তোদের সবাইকে খুন করব’: অস্ত্রধারী খুনি ব্রেনটন ট্যারেন্ট

হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া নাগরিক ব্রেনটন ট্যারেন্ট

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে হামলার সময় সেখানকার ছোট অজুখানায় ছিলেন আনোয়ার আল সালেহ। হাত ধোয়ার সময় হঠাৎ করেই গুলির আওয়াজ শোনেন তিনি। বাইরে প্রচণ্ড চিৎকার। আতঙ্কে ছোটাছুটি করছে মানুষ। এর মধ্যে শুনতে পান হামলাকারী আক্রোশে বলছে, ‘আজ তোদের সবাইকে খুন করব।’

ক্রাইস্টচার্চের স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য প্রেস ও নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ভয়ংকর দুপুরটির চিত্র।

১৯৯৬ সালে ফিলিস্তিন থেকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে এসে বাস করতে শুরু করেন আনোয়ার। শান্ত ছবির মতো এই শহরটিতে কখনো কোনো গন্ডগোলের খবর পাননি তিনি। শান্তিতেই বাস করছিলেন। তবে আজ দুপুরে হঠাৎ গুলির শব্দ যেন তার জগৎকে লন্ডভন্ড করে দেয়। নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানায় এখান থেকে বের হওয়া যাবে না। অজুর ঘরে বসেই জরুরি সেবায় ফোন করেন তিনি। কয়েকবার পুলিশকে ফোন দেন। তবে কাউকেই ফোনে পাননি। শেষে অ্যাম্বুলেন্স–সেবায় ফোন দিয়ে বিপদের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এখানে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড চলছে। দয়া করে সাহায্য করুন। পুলিশ পাঠান, তারা গুলি করেই যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বন্দুকধারী বলছে, মুসলমান তোদের আজ আমরা খুনই করে ফেলব।’

আনোয়ার জানান, গুলি খেয়ে আহত মানুষগুলো বন্দুকধারীর কাছেই বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন। তবে তাঁদের আবারও গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে বন্দুকধারী। তিনি বলেন, ঘটনার ২০ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। মাথার পেছনে হাত বেঁধে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। দেখতে পান অসংখ্য নারী-পুরুষের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। তিনি বলেন, ‘এদের সন্ত্রাসী বললে কম বলা হয়, এরা ঠান্ডা মাথার ভয়ংকর খুনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি জানান, সাত বছর আগে জর্ডান থেকে এখানে আসেন তিনি। শান্তিতে পরিবার নিয়ে বাস করার লক্ষ্যেই এখানে আসা। গোলাগুলির শব্দ শুনে প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, কোথাও বাজি ফুটছে। কারণ শান্ত এই শহরে কখনো এমন হয়নি। ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করে পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে পাঁচিল টপকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছান তিনি। দেখেন পান, সবাই প্রাণভয়ে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। পড়ে আছে নিথর দেহ।

তিনি জানান, নিহত কয়েকজনকে তিনি খুব ভালো করে চেনেন। তাঁদের একজন সিরিয়ান শরণার্থী আছেন, যিনি ছয় মাস আগে পরিবার নিয়ে এখানে এসেছেন। স্ত্রী আর তিনটে ফুটফুটে সন্তান আছে ওই সিরীয় ব্যক্তির। একজন ক্যান্টারবেরি মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক আছেন। জর্ডান থেকে আসা ওই ব্যক্তি সব সময় মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন, সৎ পরামর্শ দিতেন। সাত বছর বয়সী একটা ছেলে আছে তাঁর।

ভয়ংকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সবার জন্যই বেদনাদায়ক দিন। মানুষ মেঝেতে আহত হয়ে পড়ে আছেন। চারদিকে রক্ত। চিৎকার করে কাঁদছেন সাহায্যের আশায়। কিন্তু পুলিশ আমাদের ওখানে যেতে দিচ্ছে না। জায়গাটা এখনো নিরাপদ নয়। আমরা আমাদের ভাইদের জন্য কিছুই করতে পারিনি।’

১৪ বছরের এক কিশোর জানায়, তার চাচাকে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করে বন্দুকধারী। সে বলে, ‘আমরা মাত্র নামাজ আদায় শুরু করেছি, হঠাৎ করেই গুলির শব্দ। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, কোথাও নির্মাণের কাজ হচ্ছে। তখনই দেখলাম মানুষ চিৎকার করে দৌড়াচ্ছে।’

হিরমরটন হাইস্কুলের এই ছাত্র জানায়, তার চাচাসহ পরিচিত ছয়জন নিহত হয়েছেন। কীভাবে সেখান থেকে বের হতে পেরেছ? এমন প্রশ্নে সে বলে, ‘আমি কেবল দৌড়েছি, যত জোরে সম্ভব। কোথাও তাকাইনি। হ্যাগলি পার্কের বেড়া পার হয়ে তবেই থেমেছি।’

আজ স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে মসজিদে নামাজ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে একজন বন্দুকধারী সিজদায় থাকা মুসল্লিদের ওপর গুলি ছোড়ে। হামলাকারীর হাতে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ছিল। হামলা চালিয়ে বন্দুকধারী জানালার কাচ ভেঙে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জন নিহত হয়েছে বলে নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়। গুরুতর আহত হয়েছেন ২০ জন।

উৎসঃ ‌প্রথম আলো

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here