চীনের কাছে ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার !

0
393

বন্ধু প্রতীম চীনের কাছে পাঁচ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের আট প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন সরকারের কাছে ইতিমধ্যে প্রকল্প তালিকা পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সম্ভাব্য চীন সফরে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাবে বলে আশা করছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় ২৭ প্রকল্পের জন্য সাড়ে ২২ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা চুক্তি হয়। সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এসব প্রকল্পের ঋণ অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পসহ পাঁচ প্রকল্পে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে অর্থছাড় হয়েছে ৫০ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুৎ খাতের দুটি প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে ঋণ চুক্তি হওয়ার কথা হয়েছে। এ দুটি প্রকল্পে ২৯০ কোটি ডলার ঋণের প্রস্তাব রয়েছে। ডিপিডিসি এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম আওতায় ওভারলোডেড ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার পরিবর্তনে এ দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ঋণের শর্ত নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এ কারণে ঋণচুক্তিও বিলম্বিত হচ্ছে।

ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, নতুন করে দ্রুত ঋণ অনুমোদনের জন্য আটটি অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পে চীনের কাছে ১১৫ কোটি ৫১ লাখ ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবর চীনের কাছে এ প্রকল্পের প্রাথমিক ঋণ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের আনোয়ারার ৭৮৩ একর জমিতে চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে ২২ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০১৭ সালের জুন মাসে। জি টু জি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) প্রকল্পটি বাস্তাবায়ন হবে। চীন সরকার এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য চায়না ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য গত বছরের নভেম্বরে চীন সরকারের কাছে ঋণ আবেদন করা হয়েছে।

তালিকায় রয়েছে রেলের দুই প্রকল্প। এর মধ্যে আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত মিটার গেজ রেললাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তর প্রকল্পে ঋণ চাওয়া হয়েছে ১২৭ কোটি ডলার। ১০৪ কোটি ডলার ঋণ প্রস্তাব করা হয়েছে জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডবল লাইন ও ডবল গেজ রেললাইন নির্মাণে। এ ছাড়া বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) পাটকলগুলো আধুনিকায়নে (২৪ কোটি ডলার), ডিজিটাল সংযোগ প্রকল্পে ৮৪ কোটি ডলার, রাজশাহী পানি শোধনাগার নির্মাণে ৩৫ কোটি ডলার এবং বিটিভির ছয়টি নতুন স্টেশন নির্মাণে প্রস্তাব করা হয়েছে ১২ কোটি ৫১ লাখ ডলার।

জানা গেছে, বর্তমানে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগ আছে ৩৮ শ’ কোটি ডলারেরও বেশি। এই অর্থের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতামূলক অবকাঠামো প্রকল্পে ২৪৬৫ কোটি এবং যৌথ উদ্যোগী খাতে ১৩৬০ কোটি ডলার। এ ছাড়া ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং সফরের সময় ২০০০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হয়েছে।

পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়ে ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ও শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান হারে চীনা বিনিয়োগ হচ্ছে। অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতে চীনা বিনিয়োগ আবার আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক এবং বিদেশ নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী টানেলসহ ছোট-বড় প্রজেক্ট এলাকা ছাড়াও ঢাকার উত্তরা, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা, ডিওএইচএস এলাকাসমূহ ও অন্যান্য শিল্পাঞ্চলসহ পুরান ঢাকার বাজার এবং অন্যান্য স্থানের সরকারি ও বেসরকারি অফিসে চীনাদের উপস্থিতি/যাতায়াত চোখে পড়ে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ার জন্য চীনে যাচ্ছে। অর্থাৎ ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও বিভিন্ন বৈদেশিক কারণে উভয় দেশের মানুষের জন্য যোগাযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী দিনে এই ধারা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও পাকিস্তানেও প্রচুর চীনা বিনিয়োগ হচ্ছে। উল্লিখিত ৬টি দেশ (বাংলাদেশসহ) ছাড়াও ভিয়েতনাম, লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, (২০১৪ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাঁচটি দেশকে ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করে) ও মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশসমূহে চাইনিজ বিনিয়োগ/ঋণ আছে। পাশাপাশি উগান্ডা, মোজাম্বিক, কেনিয়া, সুদান, জাম্বিয়া, কঙ্গো, মিসর, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, জিবুতি, জামাইকা, ক্যামেরুন, মালি ইত্যাদিসহ অধিকাংশ আফ্রিকান দেশেও করা হয়।#

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত


বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে। কিছু ঘটনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, দেশের চলমান শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসন্ন। কারণ প্রচলিত শাসন ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় জনগণ তাদের অংশীদারিত্বের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অনাগ্রহের মধ্য দিয়ে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কেমন ছিল সেটা আমরা জানি। তারপর শুরু হয় উপজেলা নির্বাচন। সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ ধাপের এই নির্বাচনে ইতোমধ্যে চারটি ধাপের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সবখানেই ভোটারদের জন্য হাহাকার লক্ষ করা গেছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে এমনো দেখা গেছে, যেখানে ভোটগ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তাকর্মচারীর সংখ্যার চেয়েও কম সংখ্যক ভোট পড়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচন ছিল একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত প্রায় সকল দলই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ফলে শুরুতে জনগণের মধ্যে একটি সাড়া ফেলেছিল। কিন্তু নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসতে থাকে ততই অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ নিয়ে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে টিকতে পারেনি বিরোধী মতের প্রার্থীরা। এখানেই শেষ নয়, নির্বাচনের আগের রাতে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের প্রতীকে সিল মেরে ভোটের বাক্স ভরাট করার ছবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ছাপা হয়েছে। ভোটের দিন নানা কৌশলে বিরোধী দলের এজেন্টমুক্ত রাখা হয় নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো।

তারপরও বিরোধী মতের ভোটাররা যেন তাদের প্রার্থীদের ভোট দিতে না পারে তার জন্য যা যা কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন তার সব কিছুই করা হয়েছে। দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাছাইকৃত ৫০টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যালোচনা করে ৪৭টিতেই ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টিআইবি। একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী মতের প্রার্থীদের অভিযোগগুলো যে অমূলক ছিল না, তা স্বীকার করেছে ক্ষমতাসীন দলের শরীকরাও। শুধু তাই নয়, খোদ নির্বাচন কমিশনও এটা যে ভালো করেই জানে সেটা বোঝা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এক বক্তব্যের মাধ্যমে। যেখানে তিনি বলেছেন, ইভিএম-এ ভোট হলে আগের রাতের ভোটের অভিযোগ উঠত না।

সে যাই হোক, দশম সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। কারণ সে নির্বাচনে বিরোধী জোট অংশ না নেয়ায় বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় ১৫৩ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাকি ১৪৭ আসনে নির্বাচন হলেও সেখানে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিপক্ষে শক্ত কোনো প্রতিদ্ব›দ্বী না থাকায় জনগণ খুব একটা আগ্রহী ছিল না ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে। বিষয়টি এতটাই দৃষ্টিকটু ছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেও তাতে বিব্রত হয়ে বলেছিলেন এমন নির্বাচন তিনি আর দেখতে চান না। সেকারণেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ দেখে আশার সঞ্চার হয়েছিল সবার মাঝে। ভোটাররাও রাষ্ট্রক্ষমতায় তাদের নিজেদের অংশীদারিত্বের জায়গাটি সম্পর্কে নতুনভাবে অনুধাবন করতে শুরু করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সে আগ্রহ-উদ্দীপনা ধুলিস্যাৎ হতে দেখে হতাশায় নিশ্চুপ হয়ে গেছে। তাদের সেই হতাশায় ডুবে থাকার প্রমাণ বহন করছে সিটি করপোরেশন, উপজেলা নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর ভোটারশূন্য কেন্দ্রগুলো। মাঝখানে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কিছুটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।

কারণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্ত শাসিত প্রতিষ্ঠান। আর নির্বাচনটি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই পরিচালনা করছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের সর্বোচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিদের দ্বারা নিশ্চয় এমন কিছু হবে না, যা দেখে মানুষ ছিঃ ছিঃ করবে। কিন্তু সেখানেও যখন রাতের আঁধারে ভোট, বিরোধী মতের ভোটারদের নানা কৌশলে ভোটদানে অনুৎসাহী করার ঘটনা প্রকাশ্যে চলে আসে তখন আশার শেষ প্রদীপটিও নিবু নিবু। সে আঁধারই এখন চলমান স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিরাজ করছে। প্রার্থীরা হাতে-পায়ে ধরেও কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারছে না ন্যূনতম সংখ্যক ভোটারকে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে শুধু যে বিরোধী মতের ভোটারদের মধ্যে অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে তা কিন্তু নয়। অনেক কেন্দ্রেই দেখা যাচ্ছে, সে কেন্দ্রের আওতাধীন সরকার দলীয় সমর্থকদের সংখ্যার চেয়ে কাস্ট হওয়া ভোটের সংখ্যা অনেক কম। ফলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে কখনো কখনো ঘোষণা দিয়ে বলতে হচ্ছে, কেন্দ্রগুলো ভোটারশূন্য থাকার দায় কমিশনের না। এ দায় প্রার্থীদের। কেন্দ্রগুলোতে ভোটারশূন্যতাসহ নির্বাচন নিয়ে ওঠা নানা অভিযোগ যে প্রধানমন্ত্রীকেও ভাবাচ্ছে তা আঁচ করা যায় তার সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে। যেখানে তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রবর্তিত শাসন ব্যবস্থা (বাকশাল) কার্যকর থাকলে নির্বাচন নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকত না, প্রশ্ন উঠত না।’

দেশের সরকার ব্যবস্থায় বিরোধীদল বা বিরোধী জোট বা বিরোধী মত শক্তির দিক থেকে কোনোভাবেই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার পর্যায়ে নেই, যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিষয়। কিন্তু ক্ষমতার এই ভারসাম্যহীনতা একদিনে তৈরি হয়নি। ধীরে ধীরেই এটা তৈরি হয়েছে। কোথা থেকে এবং কীভাবে এর শুরু সেটা হয়তো সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। এমনকি এককভাবে এর জন্য কাউকে দায়ী করা যায় কিনা সেটাও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের ব্যাপার। তবে ওয়ান-ইলেভেনের সরকার এবং তাদের কর্মকান্ড যে, এর ভিত গড়ে দিয়ে গেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। রাজনীতিবিদ না হয়েও তারা রাজনীতিবিদদের পেছনে লাগতে গিয়ে যে ভুলগুলো করে গেছে, তার ধারাবাহিকতা আর কতদিন চলতে থাকবে সেটা ভবিষ্যতই বলতে পারবে। আর শুধু তাদের ওপর দায় চাপিয়েই বিষয়টির ইতি টানাও সম্ভব না। কারণ, বিরোধী দল এবং ক্ষমতাসীন দলের মধ্যকার সহিষ্ণুতার অভাব ও মতোবিরোধও এটাকে আজকের এ অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে, যা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির পথে অন্তরায় হয়ে আছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য একাদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির পদ্ধতি এবং রূপরেখা কেমন হতে পারে তা-ও তারা জানিয়েছেন। তাতেও যে দেশের মানুষের মনোভাবে তেমন কোনো পরিবর্তন এসেছে, সেটা বলা যায় না। এটা ক্ষমতাসীনদের জন্যও একঘেয়েমিপূর্ণ এক অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাই ধারণা করছি, চলমান শাসন ব্যবস্থা বদলানোর একটা আওয়াজ উঠতে পারে।

বাংলাদেশের সে বদলে যাওয়া শাসন ব্যবস্থা বা শাসন কাঠামো কেমন হবে, সেটা এখনি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব না। তবে যে আলামত বা ইঙ্গিতগুলো দৃশ্যমান, সেগুলোই আমরা তুলে ধরতে পারি। প্রথম ইঙ্গিতটি আমরা নিতে পারি প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্য থেকে। সম্প্রতি জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শেষ মেয়াদ। তিনি আর প্রধানমন্ত্রী হবেন না। নতুনদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে চান।’ বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে ডয়চে ভেলে। সাক্ষাৎকারে ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা আমার তৃতীয় মেয়াদ। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী হয়েছি (১৯৯৬-২০০১)। সব মিলিয়ে চতুর্থবার। আমি আর চাই না। একটা সময়ে এসে সবারই বিরতি নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি, যেন তরুণ প্রজন্মের জন্য জায়গা করে দেওয়া যেতে পারে।’

চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন শেষে বিরতি নেয়ার কথা বলে তিনি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো উত্তর আমাদের জানা নেই। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে, এক. তিনি কি রাজনীতি থেকেই বিরতি নেবেন?

দুই. প্রধানমন্ত্রী কি চলমান মেয়াদ শেষে ভারতীয় কংগ্রেস দলের সোনিয়া গান্ধীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন? তিন. নাকি তিনি পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ দলের অন্যকারো হাতে ছেড়ে দিতে চান? প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি ছেড়ে দেবেন, এমন কোনো আলামত দৃশ্যমান নেই। তবে ভারতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকার পরও সোনিয়া গান্ধী যে ভূমিকা নিয়েছিলেন, সেই একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দলের নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা করে দিতে পারেন আমাদের প্রধানমন্ত্রীও। যেমনটা করেছেন তিনি একাদশ সংসদের মন্ত্রিসভা গঠনের সময়। পুরাতন অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ এবং সাবেক মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা সাজিয়েছেন অপেক্ষাকৃত তরুণদের সমন্বয়ে। এখানে একটি বিষয় অবশ্য আছে, আর সেটি হলো ভারতের প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এক নয়। সেক্ষেত্রে তৃতীয় অপশনটির সম্ভাবনাই উজ্জ্বল হয়ে উঠে। আমাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের মেয়াদ ২০২৩ সালের শুরুর দিকে শেষ হওয়ার কথা। বতর্মান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষে আজকের প্রধানমন্ত্রী যদি সে পদ অলঙ্ককৃত করেন তাতে অবাক হওয়ার কিছু দেখি না। যদিও এটা কেবল একটি ধারণা, তারপরও সেটা যদি ঘটেই তাহলে প্রশ্ন আসবে, আজকের শাসন ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের যে গুরুত্ব এবং দায়দায়িত্ব সেদিনও কি এটা তেমনই থাকবে? যদি তাই থাকে, তাহলে কিছু বলার নেই। আর যদি সেটি না থাকে তাহলে আমরা ধরে নিতেই পারি যে এটা শুধু পদ পরিবর্তন হবে না, হবে তার চেয়েও বেশি কিছু। সেই বেশি কিছুর মধ্যেই লুকায়িত থাকতে পারে আমাদের আগামী দিনের বদলে যাওয়া শাসন ব্যবস্থা বা শাসন কাঠামো।

লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি দাবি ড. কামালের


‘ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের’ মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম? কী ধরনের বাংলাদেশ থাকবে এটা সংবিধানে লেখা আছে। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন। এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত থাকতে পারে?’ আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছিলাম, স্বৈরাচার থেকে মুক্ত হয়েছিলাম, এগুলো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফসল ছিল। আজও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জন করব।’

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মহান স্বাধীনতা দিবসের এক আলোচনা সভায় ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তির দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ সবাই বলেছেন যাদের অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে তাদের মুক্তি দেয়া হোক। এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। সেই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যকে সুসংহত করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আপনারা দেখুন আমরা সব অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেন আমরা বিজয়ী হয়েছি, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আমরা বিজয়ী হয়েছি এবং ২০০৮ সালে আমরা যেভাবে অগ্রসর হতে পেরেছি সবকিছু ঐক্যের ফসল।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, আজ যে দাবিগুলো এখানে এসেছে আমি পুরোপুরি তাকে সমর্থন করি এবং মনে করি যে, সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে এটা অবশ্যই আমরা অর্জন করতে পারব। প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব।

সেটা হলে জনগণ দেশের মালিক হিসেবে ভ‚মিকা রাখতে পারবে। এসব দাবি বাস্তবায়ন করতে হলে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সব দলকে এক হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যারা আজ বাকশালের কথা নতুন করে ভাবছেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন করে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করবার সমস্ত আয়োজন সমাপ্ত করেছেন তারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। ভয় পায় এজন্য যে, তিনি যদি বাইরে বেরিয়ে আসেন বা বাইরে থাকেন তাহলে জনগণকে আর কখনই আটকিয়ে রাখা যাবে না, প্রতিরোধ বন্ধ করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের লোকজনের ঘুম নেই। আজকে তাদের এত দুশ্চিন্তা বিএনপিকে নিয়ে বিএনপি নিয়েই সব সময় কথা বলছেন। বিএনপি যদি ব্যর্থ না হয়ে থাকে, বিএনপি যদি আপনাদের সামনে কোনো প্রতিপক্ষই না হয় তবে তাদের নিয়ে এত কথা বলছেন কেন?’

খালেদা জিয়াকে কারাগারে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে- অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) খ্বুই অসুস্থ। কিছুক্ষণ আগে আমি পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) খবর নিয়েছি। তার জন্য যে মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে সেই বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে অবিলম্বে দেশনেত্রীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা দরকার। তার চিকিৎসাটা অত্যন্ত বেশি প্রয়োজন হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘সেই নেত্রীকে আটক করে রাখা হয়েছে। তাকে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও নিয়মিত দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। তার সুচিকিৎসা না করে তার যে প্রাপ্য আইনগত অধিকার যে জামিন তা না দিয়ে আজকে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।’ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য সুদৃঢ় আছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সত্যিকার অর্থে আজকে আমরা জনগণের সঙ্গে নিয়ে মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধার করার জন্য এই ফ্রন্ট গঠন করেছি। আজকে সরকার চেষ্টা করছে এই ঐক্যকে ভেঙে ফেলার জন্য। এ ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’

জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের প্রতি এই সরকারের কোনো মায়া-মমতা নেই, তাদের দায়বদ্ধতা নেই। এরা দায়িত্বহীন। বাকশালের কথা বলছেন, এটা তো দলীয় শাসন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরে আওয়ামী লীগ নামে কোনো দল ছিল না এখানে। বঙ্গবন্ধু মারা গেছেন বাকশাল করার কারণে।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বাকশাল কইরা জনগণ থেকে শেখ মুজিবকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আর শেখ হাসিনা ২৯ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতি করে আওয়ামী লীগকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির প্রসঙ্গ টেনে নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি বলতে চাই, আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। যদি মনের মধ্যে কোনো দ্বিধা থাকে, কারও যদি নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে হিসাব থাকে করে ফেলেন। নিজেদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি যদি থাকে সেটা মিটিয়ে নেন। ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে যদি প্রশ্ন থাকে সেটারও নিষ্পত্তি করেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালামের পরিচালনায় আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, ড. রেজা কিবরিয়া, কাজী হাবিব, বিকল্পধারার অধ্যাপক নুরুল আমিন, শাহ আহমেদ বাদল, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের হাবিবুর রহমান তালুকদার, ইকবাল সিদ্দিকী, গণদলের গোলাম মাওলা চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভায় বক্তৃতা দেয়ার সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাহাসে ড. কামাল : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলার জন্য গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় জিয়ার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান নিয়ে কথা বলেন ড. কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন বক্তব্য শুরু করলে, দর্শক সারি থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া- লও লও লও সালাম’। এ সময় তিনি বক্তব্য থামিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন।

এ সময় দর্শক সারির শুরুতে থাকা বিএনপির একজন নেতা তাকে উদ্দেশ করে বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, এ কথা বলতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই নেতাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন। তবে এরপরও কয়েক সেকেন্ড স্লোগান চলে।

এর মিনিট চারেক পর গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু ড. কামালের কাছে এসে তার কানে কানে কিছু কথা বললে তিনি মন্টুকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘কেন কথা বলছ, আমি যা বলেছি, তাই বলব। এর বাইরে একটি কথাও বলব না। আর আমি তো সকল বক্তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছি।’ তবে মন্টু ড. কামাল হোসেনের কানে কানে কী কথা বলেছেন তা জানা যায়নি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ স্বাধীনতা দিবসকেও শিকলবন্দি করেছে সরকার: হাসান সরকার


গাজীপুর জেলা মহিলা দলকে অফিস চত্ববে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা করতে না দেয়ার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও গাজীপুর মহানগরের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার।

তিনি বলেছেন, সরকার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসকেও শিকলবন্দী করে রেখেছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ৪০ বছর পর রুমানিয়ার এক প্রেসিডেন্টকে জনতা টেনে হেঁচড়ে নামিয়ে ছিল। সময় বেশি দূরে নয়, এ সরকারের অবস্থাও তাই হবে।

রোববার বিকালে রাজবাড়ী রোডস্থ দলের জেলা কার্যালয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গাজীপুর জেলা মহিলা দলের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের জেলার সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গোলনাহারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব উদ্দিন, সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন কায়সার, হুমায়ূন কবীর মাস্টার, আহাম্মেদ আলী রুশদী, আনোয়ারা বেগম, সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, সাখাওয়াত হোসেন সবুজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ মোল্লা, হাসান আজমল ভূইয়া, ফিরোজা বেগম, সাইফুল ইসলাম টুটুল, জিয়াউল হাসান স্বপন, অ্যাডভোকেট মনির হোসেন, বীনা চৌধুরী, কোহিনূর সুলতানা, জাহানারা বেগম, অ্যাডভোকেট হামিদা পারভীন শৈলী, অ্যাডভোকেট পারভীন, রাবেয়া আক্তার, শাহানাজ আক্তার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বনানী ট্রাজেডি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই তাসভীর-উল-ইসলামকে গ্রেফতারঃ মির্জা ফখরুল


সম্প্রতি রাজধানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভীর-উল-ইসলামকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতায় জনমনে যে ধিক্কার উঠেছে সেটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই তাসভীর-উল-ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবাদ বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাসভীর-উল-ইসলাম ওই ভবনের মালিকও নন কিংবা ডেভেলপারও নন। তিনি ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বা বিল্ডার্সের কাছ থেকে ফ্লোর কিনেছেন মাত্র। সুতরাং তিনি কোনোভাবেই দায়ী হতে পারেন না। সম্পূর্ণরূপে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাসভির-উল-ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে- শুধুমাত্র জনগণের নিকট বিএনপিকে দোষী করার জন্য।

তিনি বলেন, বহুতল ভবন নির্মানের ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি অনুসরণে সরকারের গাফিলতি এবং আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের দৈন্যদশায় দেশে একের পর এক আগুনে পুড়ে মানুষের মৃত্যুতে যে ট্র্যাজেডির সৃষ্টি হচ্ছে সেটির দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে সরকার নির্দোষ সাজতে চাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যে সরকারের আমলে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ কাজ হয়, ভবন নির্মাণের পর হেলে যায়, ভবনের টেকনিক্যাল উপযোগিতা যাচাই না করে মানুষের বসবাস ও বানিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয় এবং ইমারত নির্মান বিধিমালা ও ফায়ার সেফটি কোড অনুসরণ করা হয় না সেই সরকারের আমলে মানুষের জীবন যে ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। এগুলির সম্পূর্ণ দায় সরকারের।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই সরকারের আমলে অন্তত মানুষের নিশ্চিন্তে মৃত্যুর সুযোগ নেই। অপঘাত, দুর্বিপাক, দুর্ঘটনা ও অস্বাভাবিক মৃত্যুরই এখন জয়জয়কার। চকবাজারের চুড়িহাট্টা, বনানীর এফআর টাওয়ার, শনিবার গুলশানের কাঁচা বাজারে আগুনসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডে মানুষের প্রাণহানীতে চারিদিকে শুধু ট্র্যাজিডিরই পুণরাবৃত্তি ঘটছে।

তিনি বলেন, গণবিচ্ছিন্ন জবাবদিহিহীন আওয়ামী সরকার দেশে সুশাসনের পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত বলেই জনস্বার্থের বিষয়টি সবসময় তাচ্ছিল্য করছে। ফলে নানা দূর্ঘটনায় প্রায় প্রতিদিনই মানুষের অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারী আকাশ-বাতাস ভারি করে তুলছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে সরকার সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ হওয়ার জন্যই ‘উদোর পিন্ডি বুধো’র ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আর সেই অপচেষ্টার শিকার কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভীর-উল-ইসলাম। এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অন্যায়ভাবে তাকে জড়িয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে-এটি সম্পূর্ণরুপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি তাকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি’ দাবি


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলেও বিএনপির অনেক সমর্থকরা রোববার ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হন ও ভোট দেন।

এদের মধ্যে একজন ভোটার ভোট না দিয়ে ব্যালট পেপারে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’ ও ‘আমার মা জেলে কেন শেখ হাসিনা জবাব চাই’ লিখে ফেসবুকে পোস্ট করে দিয়ে নির্বাচনী মাঠ গরম করে দেন।

তবে বিএনপি আলোচনায় আসতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রে এমন ঘটনা সৃষ্টি করেছে বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকরা এমন অভিযোগ করেন।

রোববার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সোনারগাঁ উপজেলার বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এভাবে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যালটে লিখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনেক কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল না দিয়ে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি সমর্থীত ভোটাররা। তারা সেই ব্যালট পেপার বাক্সে না ফেলে পকেটে করে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে দেয়।

ব্যালট পেপারে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’ ও ‘আমার মা জেলে কেন শেখ হাসিনা জবাব চাই’ ডিজিটাল তৈরিকৃত সিল মেরে এভাবে নিরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আর প্রচারে সোনারগাঁ উপজেলার ছাত্রদল লিখে বিএনপির অনেকে নেতাকর্মীদের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া ফেসবুকে রুহুল আমিন নামের এক আইডিতে বেশ কয়েকটি সিল মারা ব্যালট পেপার পোস্ট করা হয়। রুহুল আমিন জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। আর তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। তবে রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর জানান, নির্বাচনের ব্যালট পেপারে ভোট না দিয়ে কে বা কাহারা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সিল মেরেছে তা আমার জানা নাই। তবে কেউ যদি ব্যালট পেপারে সিল মেরে থাকে তাহলে অবশ্যই ক্ষোভে নিরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমার জানা নেই। যদি এমন ঘটে থাকে তাহলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কালবৈশাখী ঝড়ে রাজধানীতে দুইজন নিহত, ব্যাপক ক্ষতি


রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড় এলাকায় ঝড়ে ভবনের ইট পড়ে ও সংসদ ভবন এলাকায় গাছ চাপা পড়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন পুরুষ ও অপর জন নারী।

রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুরানা পল্টন মোড় মল্লিক কমপ্লেক্সের নিচে ভবনের ইট ধসে এক চা দোকানী মারা যান।

নিহত হানিফ (৫০) বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ থানা উলানিয়া গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে। বর্তমানে ১০৮ দক্ষিণ মুগদা পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পুলিশ জানায়, ঝড়ের সময় ওই ভবনটির ইট ধসে পড়ে চা দোকানী আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পল্টন থানার এসআই সুজন কুমার তালুকদার জানান, ঝড়ের সময় ওপর থেকে শরীরে ইট ধসে পড়ে তিনি মারা গেছেন। বর্তমানে লাশ ঢামেক মর্গে রয়েছে।

এদিকে সংসদ ভবন এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে এক নারী মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, শেরে বাংলা থানার ডিউটি অফিসার এসআই জোনায়েদ। তবে ওই নারীর পরিচয় জানা যায়নি।

এছাড়াও রাস্তায় থাকা বিভিন্ন যানবাহন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। রাজধানীর গুলশানে বয়ে যাওয়া ওই কালবৈশাখী ঝড়ে গুলশান এভিনিউয়ে বিল্ডিংয়ের কাঁচ পড়ে একটি গাড়ির ওপর। ওই গাড়ির (ঢাকা-মেট্টো ক-১৩-০৪৭৫) মালিকের নাম ইঞ্জিনিয়ার সালাহউদ্দিন। দুর্ঘটনার সময় তিনিও ওই গাড়িতে থাকায় আহত হন।

এদিকে হঠাৎ ঝড়ে রমনা পার্কের সামনে গাছ ভেঙে সিএনজি ও প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানা গেছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আবার আসছে শেখ মুজিবের সেই বাকশাল?


হঠাৎ করেই রাজনীতিতে আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসছে শেখ মুজিবের সেই বাকশাল। দীর্ঘদিন ধরেই এদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে গালি দিতে গিয়ে যেসব শব্দ ব্যবহার করছেন, তার মধ্যে একটি হলো বাকশালী। দীর্ঘ ৪৫ বছর শেখ হাসিনা এখন আবার নতুন করে সেই বাকশালের ফজিলত, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরছেন। এখনো সেই বাকশাল থাকলে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা যেতো বলেও মনে করেন শেখ হাসিনা।

হঠাৎ করেই শেখ হাসিনা বাকশাশের বিষয়টিকে কেন সামনে নিয়ে আসলেন? এনিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই মনে করছেন, শেখ মুজিবের মতো ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার দিকেই এগুচ্ছেন শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে তিনি তার বাবার সেই বাকশাল গঠনের বিষয়টি হয়তো চিন্তা করছেন। যেই কারণে ইদানিং প্রায় প্রতিদিনই সভা সমাবেশে তিনি বাকশালের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দেখাচ্ছেন।

তবে, বাকশালের বিষয়টিকে কিন্তু শেখ হাসিনা হঠাৎ করেই আলোচনায় আনেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পরই শেখ হাসিনার মাথায় ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার চিন্তা আসে। এরপর থেকেই বিরোধীদলকে দমন পীড়নের মাধ্যমে কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠে শেখ হাসিনা। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর বার্ষিক রিপোর্টে পরিষ্কার ভাষায় বলা হয়েছে, সরকার ক্রমেই ‘কর্তৃত্বপরায়ণ’ হয়ে উঠছে। ৩০ ডিসেম্বরের আরেকটি ভোটডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে শেখ হাসিনা এখন সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন।

এখন প্রশ্ন হলো-শেখ হাসিনা বাকশালের পক্ষে এখন যেসব যুক্তি দেখাচ্ছেন সেগুলো কি আসলে সঠিক? ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বাকশালী শাসন শুরু হয়েছিল। সেদিন জাতীয় সংসদের মাত্র ১১ মিনিট স্থায়ী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের ইচ্ছা ও নির্দেশে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করা হয়েছিল। সংশোধনীর আগে পর্যন্ত শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সংশোধনী পাস করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। সে ছিল এক বিচিত্র অবস্থা। চতুর্থ সংশোধনীর ফলে প্রচলিত সংসদীয় পদ্ধতি বাতিল হয়ে যায়, রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি প্রবর্তিত হয় এবং সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে দেশে একটি মাত্র দল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই সংশোধনীর ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব ২৪ ফেব্রুয়ারি একমাত্র দল বাকশাল গঠন করেন। তার নির্দেশে তাকেই চেয়ারম্যান করে বাকশালের ১১৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয় ৬ জুন। সরকার নিয়ন্ত্রিত চারটি দৈনিক ছাড়া দেশের সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ হয়ে যায় ১৬ জুন।

সেই বাকশাল গঠনের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে অনেক যুক্তিই দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ শেখ মুজিব নাকি ‘মহৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে ‘জাতীয় প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে বাকশাল গঠন করেছিলেন!

কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। যে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’র যুক্তি দেখানো হয় তার জন্য দায়ী ছিল স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বব্যাপী দুর্নীতি, কালোবাজারি ও চোরাচালানসহ প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা, সরকারের রাজনৈতিক নির্যাতন ও হত্যাকা- এবং সবশেষে ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। বাকশাল প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংসদে দেয়া শেখ মুজিবের ভাষণেও এ সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

অথচ, পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দরকার যখন ছিল ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও নতুন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান কিংবা জরুরি ভিত্তিতে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠন করা, প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব তখন উল্টো রাজনৈতিক আন্দোলন ও সরকার বিরোধিতার সকল পথ বন্ধ করে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি প্রথমে ১৯৭৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। তারপর পর্যায়ক্রমে এগিয়েছিলেন বাকশালের একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার পথে।

সমগ্র এই প্রক্রিয়া ও কর্মকান্ডের একমাত্র উদ্যোক্তা, নির্দেশদাতা, নিয়ন্ত্রক ও লাভবান ব্যক্তি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। সর্বময় ক্ষমতাও তার হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। ‘জাতীয় প্ল্যাটফর্ম’ বলা হলেও বাকশাল বাস্তবে আওয়ামী লীগেরই নামান্তর মাত্র ছিল। কারণ, বাকশাল বলতে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ বোঝানো হয়েছিল, ‘আওয়ামী লীগ’ নামটিকে বাদ দেয়া হয়নি! অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে এর প্রমাণ পাওয়া যাবে যদি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ মিত্র দুই দল ন্যাপ (মোজাফফর) এবং সিপিবির শোচনীয় পরিণতির উল্লেখ করা হয়। স্বাধীনতার পর প্রাথমিক দিনগুলো থেকেই দল দুটি সরকারের লেজুড়বৃত্তি করে এসেছে, ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে দল দুটিকে নিয়ে শেখ মুজিব ‘ত্রিদলীয় ঐক্যজোট’ও গঠন করেছিলেন। কিন্তু বাকশালের ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেতৃত্বের অবস্থান পাননি এমনকি ‘কমরেড’ মনি সিংহ এবং অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মতো দলীয় প্রধানরাও।

ওদিকে স্বাধীনতা সংগ্রামী জাতীয় নেতা মওলানা ভাসানীকে ১৯৭৪ সালের জুন থেকে সন্তোষে গৃহবন্দী রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ বিরোধী অন্য নেতারা ‘আন্ডারগ্রাউন্ডে’ যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, কয়েকজন পালিয়ে বিদেশেও চলে গিয়েছিলেন। সুতরাং ‘জাতীয় প্ল্যাটফর্ম’ গঠনের যুক্তিকে রাজনৈতিক অসততা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।

যেসব ব্যর্থতার কারণে শেখ মুজিব বাকশাল গঠন করেছিলেন, বর্তমানে শেখ হাসিনার শাসনামলেও দেশে তা বিরাজ করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কার্যত এখন দেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। র‌্যাব, পুলিশ আর সেনাবাহিনী ছাড়া শেখ হাসিনার সরকারকে আর কেউ সমর্থন দিচ্ছে না। শুধু ক্ষমতা ধরে রাখতেই শেখ হাসিনা এখন কথিত জাতীয় ঐক্যের নামে তার বাবার সেই বাকশাল গঠনের কথা চিন্তা করছেন।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

আরও পড়ুনঃ আনিসুলের অসমাপ্ত পোড়ার কাজ সমাপ্ত করছেন আতিকুল!

আবারো প্রতিহিংসার আগুনে সর্বশান্ত করে দিলো গুলশান-১ নম্বরের ডিএনসিসি মার্কেটের ব্যবসায়ীদেরকে। সব কিছু হারিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন পথে বসেছে। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের পাশে বসে তারা এখন কান্না আহাজারি করছেন। নি:শ্ব ব্যবসায়ীদের আর্তচিৎকারে শুধু গুলশান নয়, পুরো ঢাকা শহরের বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠছে। তাদের একটাই কথা-আমরা এখন কি করবো? আমাদের চলার জন্য এখন আর কিছুই বাকী নেই। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ভোররাতে কেন বার বার আগুন লাগছে? এ আগুন পরিকল্পিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরেই গুলশানের এই মার্কেটটি নিয়ে চক্রান্ত করে আসছে। ভাগ বাটোয়ারা করে খাওয়ার জন্য তারা এটিকে একটি বহুতল বিশিষ্ট ভবন করে শপিং মল করার চেষ্টা করে আসছে। এই চক্রের মূলহোতা হলেন বাড্ডার আওয়ামী লীগ নেতাও ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতা তালাল রেজভী। প্রথম থেকেই তাদের এই চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ঢাকা উত্তরের প্রথম মেয়র আনিসুল হক। পকিল্পনা বাস্তবায়ন করতেই তারা ২০১৭ সালে ভোররাতে গান পাউডার দিয়ে মার্কেটে আগুন লাগিয়েছিল। গান পাউডারের পরিমাণ এতই ছিল যে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছিল।

ওই আগুনে কয়েকশ ব্যবসায়ী একেবারে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিল। ব্যবসায়ীরা তখন সরাসরি আগুনের জন্য মেয়র আনিসুল হকসহ ব্যবসায়ী নেতাদেরকে দোষারোপ করেছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আতিকুল ইসলাম মেয়র হওয়ার পর ওই মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী যারা আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত, তারা কাঁচাবাজার ও মার্কেটটি ভেঙ্গে একটি বড় শপিং মল করার প্রস্তাব দেন। মেয়র আতিকুলও তাদের প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন। কিন্তু মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এতে রাজি হচ্ছিল না। আওয়ামী লীগ নেতা তালাল রিজভীসহ অন্যরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই শনিবার ভোরে আবারো আগুনে পুড়িয়ে দেয় মার্কেটটি।

আগুন যে পরিকল্পিত ছিল এটার প্রমাণ মিলেছে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বক্তব্য থেকেই। আগুন লাগার পর ঘটনা স্থলে এসে হানিফ বলেছেন, যেকোনো মূল্যে এটিকে ভেঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের শপিং মল করতে হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা বলছেন, তালাল রিজভীরা পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে। এর সঙ্গে মেয়র আতিকুলও জড়িত আছেন। তাদের টার্গেট হলো এখানে একটি বড় শপিং মল করে বাণিজ্য করা।

এনিয়ে আজ অনেকেই বলছেন যে, মেয়র আনিসুল হক পুড়ার যে কাজ শুরু করেছিলেন আতিকুল ইসলাম এসে তার সমাপ্তি ঘটাচ্ছে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

আরও পড়ুনঃ স্মার্টফোন দিয়ে কি আগুন নেভানো যায়?

হাসান রূহী

অগ্নিকান্ডের কাছে রাজধানীর মানুষগুলো কতটা অসহায় হয়ে পড়েছে তা বিশেষভাবে কোনো বিশ্লেষণের দাবি রাখে না। পুরান ঢাকার নিমতলী কিংবা চকবাজার থেকে শুরু করে অভিজাত বনানী পর্যন্ত আমাদের যে অভিজ্ঞতা, তা সত্যিই হতাশাব্যঞ্জক। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া বা বিপদগ্রস্থ মানুষকে উদ্ধার করতে যে আমরা কতটা পিছিয়ে আছি তা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে এসে হাজারও পেশায় যুক্ত হয় মানুষ। কিন্তু সেই মানুষকে নিরাপদ কাজের পরিবেশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। গতকাল বনানীর এফ আর টাওয়ার যদি আরও একটি রানা প্লাজা, তাজরীন কিংবা স্পেকট্রাম হতো তবে তার ভয়াবহতা দেখে হাহুতাশ করা ছাড়া আমাদের কিছুই করার ছিল না। সরকারি সংস্থার দেয়া তথ্য মতে এফ আর টাওয়ারে মৃতের সংখ্যা ২৫। বাস্তবিক অর্থে তা কতজন আল্লাহ ভালো জানেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করতেই হয় যে, বড় ধরনের বিপদ থেকে তিনি আমাদের হেফাজত করেছেন। ২২ তলা এই টাওয়ার ভেঙে পড়লে কিংবা পুরোটাতেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে এ সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না।

সে যাইহোক, আজ কলম ধরেছি উৎসুক জনতার উদ্দেশ্যে। যারা কিছু ঘটার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এটি একটি মানবিক স্বভাব। কোন বিপদাপদ কিংবা দুর্যোগ-দূর্ঘটনার খবর শুনে ছুটে যাওয়া সম্পূর্ণ একটি মানবিক ব্যাপার। এতে দোষের কিছুই দেখি না। কিন্তু ছুটে যাওয়ার উদ্দেশ্য যদি হয় ফেসবুক লাইভ করা, ছবি, ভিডিও ধারণ কিংবা সেলফি তোলা, তাহলে তো অবশ্যই দোষের কিছু আছে।

মিডিয়ার উপর দখলদার সরকারের কড়া নজরদারির কারণে সামাজিক মাধ্যম আমাদের দেশের জনগণের কাছে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এমন অনেক তথ্য ও খবর রয়েছে যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঠিকই ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক সময় দেখা যায় যে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার কারণে গণমাধ্যম ওই ইস্যুটি আর এড়িয়ে যেতে না পেরে খবর প্রকাশ করে। কিন্তু এই ভাইরাল হওয়া যদি কারও নেশায় পরিণত হয়, অথবা মানবিক দায়িত্ব পালনে অনীহা সৃষ্টি করে তাহলে তার ফলাফল হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ।

এই শিশুর কাছে শিক্ষা নিক উৎসুক জনতা

বনানী এফ আর টাওয়ার অগ্নিকান্ডের অনেক মর্মান্তিক ছবি সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অত্যন্ত মর্মপীড়াদায়ক ছবি ও ভিডিওর ভীড়ে কিছু ছবি দেখে যথেষ্ট হতাশ ও মর্মাহত হয়েছি। দূর্ঘটনা ঘটলে দূর্গত মানুষের সহায়তা করতে যদি ছুটে যাওয়া যায় তবে এরচেয়ে মহৎ কিছু আর হতে পারে না। কিন্তু কেউ যদি দূর্ঘটনার খবর শুনে ফটোসেশন, মিডিয়া কভারেজ, কিংবা ফেসবুক লাইভ দিতে ছুটে যান তাহলে তা মানবতার সাথে এক নির্মম কৌতুক ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। ছবিতে দেখলাম বেশ কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে থেকে নিজেদের হাতগুলো উঁচু করে রেখেছেন। কিন্তু সে হাতগুলো সাহায্যের হাত ছিল না। তাতে দেখা যাচ্ছিল শত শত স্মার্টফোন। ছোটবেলায় গ্রামে কোথাও আগুন লাগার খবর পেলে গ্রামের মানুষকে দেখতাম যে যা পেরেছে তাই নিয়ে ছুটে যেত। বালতি, কলস, ঘড়া, ঘটি, দা, কাচি, খোন্তা… মোট কথা যার যা আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়া যাকে বলে। কিন্তু একি! সভ্যতায় ঘেরা শহরে মানুষ ছুটে এসেছে ঠিক, সবার হাতে একই জিনিস, স্মার্টফোন। স্মার্টফোন দিয়ে কি আগুন নেভানো যায়? তবে কেন এই অদ্ভূত আচরণ!

সবাই যে একই কাজ করেছে তা বলবো না। কিছু বিবেকবান তরুণকে দেখেছি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিরলস কাজ করে যেতে। ছোট্ট একটি শিশুকেও দেখেছি জীবনের সকল শক্তি দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের হোসপাইপের ছিদ্র হয়ে যাওয়া অংশ চেপে ধরতে। আরও অনেকেই অনেকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছেন। তাদের প্রতি হৃদয় নিংড়ানো কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আগুন নেভাতে স্মার্টফোন নয়, প্রয়োজন পানি, বালু। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের বনানীর আগুন নেভাতে যখন হিমশিম অবস্থা। বারবার শেষ হয়ে যাচ্ছিল পানি। উৎসুক মানুষের ভীড় ঠেলে যাতায়াতে বেগ পেতে হচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্স ও পানির গাড়িগুলোকে। ঠিক সে সময়ে যারা তারুণ্য ভরা হাত উচিয়ে স্মার্টফোন ধারণ করেছেন, তারা যদি এক বোতল করে পানি নিয়ে এসে পানির গাড়ির ট্যাংকে ঢেলে দিতেন কতই না ভালো হতো! যদি তারা আশে পাশে কোথাও থেকে শক্ত কাপড় বা ত্রিপল সংগ্রহ করে সবাই মিলে লাফিয়ে পড়া মানুষগুলোকে বাঁচাতে এগিয়ে যেতে পারতেন তবে হয়তো বেঁচে যেতে পারতো আরও কয়েকটি প্রাণ।

দূর্ঘটনার খবর সকলকে জানানোর দরকার। সাহায্য চাওয়া দরকার। যখন গণমাধ্যম সরাসরি লাইভ টেলিকাস্ট করছে, তখন উৎসুক জনতার লাইভ করার যৌক্তিকতা খুবই নগণ্য। তাই আসুন দূর্ঘটনা দেখলে স্মার্টফোন নয়, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে আমরা এগিয়ে আসি। মানুষ মানুষের জন্য। জীবন জীবনের জন্য।

লেখকঃ ‌হাসান রূহী (সাংবাদিক ও কলামিস্ট)

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here