চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণ, অর্থদণ্ড স্থগিত

0
141

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাত বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল ও জামিন চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি আজ।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ৪ নম্বরে রাখা হয়েছে মামলাটি।

খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী একেএম এহসানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। আজ আপিল ও জামিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর নিম্ন আদালতের সাত বছরের সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আজ এ মামলায় খালেদা জিয়ার খালাস চাওয়ার পাশাপাশি তার জামিনও চাইবেন বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতের বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার অপর তিন আসামিকেও একই দণ্ডাদেশ দেন আদালত।

এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের ব্যক্তিগত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং বিএনপি নেতা সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ব্যক্তিগত সহকারী সচিব মনিরুল ইসলাম। তাদের প্রত্যেককে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ট্রাস্টের নামে ঢাকা শহরে থাকা ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রায়ত্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

হারিছ চৌধুরী পলাতক থাকলেও কারাগারে থাকা অপর দুই আসামি জিয়াউল ও মনিরুলকে আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় রায় পড়া শুরু করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।

এ সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

প্রসঙ্গত গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়।

একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত।

রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। পরে আপিলে এই মামলায় খালেদা জিয়ার ১০ বছর কারাদণ্ড হয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শপথ নেয়ার প্রশ্নে যা বললেন মির্জা ফখরুল


একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির নির্বাচিত ৫ জনপ্রতিনিধি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন। বাকি আছেন শুধু মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি শপথ নেবেন কিনা সেটি নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছেন দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মী।

মির্জা ফখরুল কি শেষ পর্যন্ত শপথ নিচ্ছেন-এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও গতকাল শপথ না নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এ জনপ্রতিনিধি।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব জানান, দলীয় সিদ্ধান্তেই তিনি শপথ নেননি।

আওয়াজ নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন আয়োজিত ‘উন্নয়নের মৃত্যুকূপে জনজীবন/নুসরাত একটি প্রতিবাদ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি শপথ নেইনি। এটিও দলীয় সিদ্ধান্ত ও আমাদের কৌশল।’

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার জন্য সময় বাড়াতে সংসদে কোনো আবেদন করেননি জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে আমি নাকি সময় চেয়ে আবেদন করেছি। আসলে আমি কোনো চিঠিই দিইনি। সময়ও চাইনি। এটিও আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। এটি আমাদের কৌশল।

বিভিন্ন মিডিয়ার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু সংবাদমাধ্যম বলেছেন- আমি নাকি আজকে শপথ নেব। তারা এখন কী লিখবেন।’

সাংবাদিকদের একটি চিরকুট দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে একটি চিরকুট এসেছে। এতে লেখা আছে- এত অস্থির কেন আপনারা? আমরা গতবার আমাদের সংবাদ বিবরণী সম্মেলনে স্পষ্ট করে যা বলেছি, আমি ধন্যবাদ জানাই ঠিক যা বলেছি আপনারা তা উপস্থাপন করেছেন আপনাদের পত্রিকায়, আপনাদের চ্যানেলে। একই সঙ্গে আমি খুব অবাক হয়েছি, বিস্মিত হয়েছি। কিছু কিছু পত্রিকা, কিছু কিছু চ্যানেল সেটাকে আবার একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন, যেটা আমরা বলিনি, যেটা আমরা করিনি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘খুব জোরেশোরে চ্যানেল থেকে বলা হচ্ছে, আমি (মির্জা ফখরুল) ব্যক্তিগতভাবে বগুড়া থেকে নির্বাচিত হয়েছিলাম, আমি শপথ নেয়ার জন্য সময় চেয়েছি, আবেদন করেছি, যা একটি ভয়াবহ মিথ্যা। সোজাসাপ্টা ও সরল কথা হচ্ছে- আমি কোনো চিঠি দিইনি, কোনো সময় চাইনি। আমি বোঝাতে পেরেছি?’

তিনি বলেন, ‘এখন আপনারা অনেকে প্রশ্ন করেন যে, আপনার দলের সিদ্ধান্ত হলো আপনি শপথ নিলেন না কেন? এটিও আমার দলের সিদ্ধান্ত।’

সাংবাদিকতার নীতি বজায় রেখে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি পত্রিকা লিখেছে- মির্জা ফখরুলের সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমি যদি শপথ না নিই সে ক্ষেত্রে কী হবে? আপনার সাংবাদিকতা কোথায় যাবে? তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ- রিপোর্ট করার আগে জার্নালিস্ট ইথিকস বজায় রাখবেন। সঠিক সংবাদ প্রকাশ করবেন।

শপথ নেয়ার বিষয়ে বিদেশিদের চাপ নেই জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলে নয়, বিশ্ব রাজনীতি দেখে আমরা সংসদে গিয়েছি। কথা বলার ন্যূনতম যে সুযোগ এটা কাজে লাগাতে দানবকে পরাজিত করার জন্য শপথ নিয়েছি।

‘আমাদের সুযোগ ন্যূনতম কাজে লাগাতে চাই। সময়ের প্রয়োজনে অনেক কিছু হয়। সময় ঠিক করে দেবে আমাদের সিদ্ধান্ত ভুল না ঠিক’-যোগ করেন তিনি।

সরকারের সঙ্গে কোনো আপস হয়নি জানিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, সমঝোতা করলে অনেক আগেই করতেন। খালেদা জিয়া সমঝোতা করলে এখন প্রধানমন্ত্রী থাকতেন। তিনি কখনই নীতির প্রশ্নে আপস করেননি।

তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে কোনো আপস কিংবা সমঝোতার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটির প্রশ্নেই ওঠে না। সেটি যদি হতো, তবে কিছুদিন আগেও আমার নামে নতুন করে যে মামলা দেয়া হয়েছে সেটি নিশ্চয়ই হতো না। আমাদের কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাদের বিনাবিচারে জেলে থাকতে হতো না।

তিনি বলেন, গতকাল থেকে রাজনীতি গরম হয়ে গেছে। এটা নিঃসন্দেহে চমকের মতো সংবাদ। ইউটার্ন মনে করতে পারেন। আমাদের সিদ্ধান্ত অন্যরকম ছিল। ৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচন হয়নি প্রহসন হয়েছে। খুব খারাপ সিদ্ধান্ত বলে মনে করি না।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে, আমরা মনে করি যে সেটা কোনো নির্বাচনই ছিল না। ২৯ ডিসেম্বর রাতেই নির্বাচনের ভোট চুরি হয়ে গেছে। পুরোপুরিভাবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে, জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে শাসক দল যারা অর্থাৎ যারা রাষ্ট্রক্ষমতা ধরেছিল তা তাদের দিকে নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এবং এর সঙ্গে যারা জড়িত তারা সবাই এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে জনগণকে বঞ্চিত করেছে। তখন জনগণের যে ক্ষোভ ছিল সেই ক্ষোভের ধারাবাহিকতায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমরা সংসদে শপথগ্রহণ করব না।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহিদা রফিক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শপথ নিতে সময় চেয়ে আবেদন করিনি: মির্জা ফখরুল


শপথ নেয়ার জন্য স্পিকারের কাছে সময় চেয়ে কোনো আবেদন করেননি বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বগুড়া থেকে নির্বাচিত এ জনপ্রতিনিধি বলেছেন, যারা এ ধরণের সংবাদ পরিবেশন করছেন তারা আমার সঙ্গে কথা না বলেই করছেন।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

গণমাধ্যমের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, পত্রিকায় দেখলাম আমি নাকি শপথ নেয়ার জন্য সময় চেয়ে সংসদে আবেদন করেছি। বিষয়টি সঠিক নয়। আমি কোনো আবেদন করিনি।

সাংবাদিকতার নীতি বজায় রেখে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটি পত্রিকা লিখেছে- মির্জা ফখরুলের সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমি যদি শপথ না নিই সে ক্ষেত্রে কী হবে? আপনার সাংবাদিকতা কোথায় যাবে? তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ- রিপোর্ট করার আগে ‘জার্নালিস্ট ইথিকস’ বজায় রাখবেন। সঠিক সংবাদ প্রকাশ করবেন।

তিনি বলেন, একটি গণমাধ্যম গতকাল আমার সঙ্গে কথা বলেছে। আমি যে বক্তব্য দিয়েছি সেটি ছেপেছে। আবার এও লিখেছে যে, আমি শপথ নিতে পারি। এটিকে আপনি কি বলবেন? হয় অজ্ঞতা না হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

প্রসঙ্গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফল বর্জন করা বিএনপি প্রথমে সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সোমবার শপথ নেয়ার শেষ দিনে এসে বিএনপি থেকে নির্বাচিত চার জনপ্রতিনিধি সংসদে যোগ দিয়েছেন। এর আগে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান শপথ নেন। শপথ প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে বিএনপির কোনো সমঝোত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের সঙ্গে কোনো আপস কিংবা সমঝোতার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটির প্রশ্নেই ওঠে না। সেটি যদি হতো, তবে কিছুদিন আগেও আমার নামে নতুন করে যে মামলা দেয়া হয়েছে সেটি নিশ্চয়ই হতো না। আমাদের কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাদের বিনাবিচারে জেলে থাকতে হতো না।

সংসদে যোগ দেয়ার যুক্তি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ন্যূনতম সুযোগ কাজে লাগাতেই সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সংসদে, সংসদের বাইরে- সব জায়গায় প্রতিবাদের সুযোগ কাজে লাগাতে আমাদের এ সিদ্ধান্ত।

দানবকে পরাজিত করতেই বিএনপির এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সংসদে, সংসদের বাইরে সরকারের সব অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাব। আপনারা দেখেছেন, গতকাল শপথ নিয়েই আমাদের একজন এমপি (হারুন-উর রশিদ) সংসদে গিয়ে কথা বলেছেন, গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিদেশিদের চাপে বিএনপি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে দলটির মহাসচিব বলেন, না, বিদেশিদের কাছ থেকে আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। আমরা তাদের সঙ্গে চলমান রাজনীতি নিয়ে নিয়মিতই কথা বলছি। আমরা বিশ্ব রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করছি। আঞ্চলিক রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করছি। সব মিলিয়ে এই (সংসদে যাওয়ার) সিদ্ধান্ত।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও ১ বছর বাড়াল ইইউ


মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি রাখাইন, কোচিন ও শান রাজ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর যৌন এবং হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত থাকায় দেশটিতে অস্ত্র বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

সেই সঙ্গে দেশটির ১৪ সিনিয়র সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও এক বছর বাড়ানো হয়েছে।

ইউরোপীয় কাউন্সিল সোমবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। খবর আলজাজিরার।

সোমবার ব্রাসেলস থেকে পাঠানো ২৮ সদস্য দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে গঠিত ইউরোপীয় কাউন্সিলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল মিয়ানমারের ১৪ সিনিয়র সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সোমবার ইউরোপীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে ওই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়াল।

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে অস্ত্র বিক্রির পাশাপাশি মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দেয়া থেকে বিরত থাকবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ ছাড়া ইইউর কোনো দেশে এসব কর্মকর্তার কোনো সম্পদ থাকলে তা জব্দ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে রাখাইন থেকে নতুন করে আরও সাড়ে সাত লাখ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকারের সঙ্গে আপস করিনি: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। (ফাইল ছবি)

সরকারের সঙ্গে আপস করে বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একাদশ সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ নেয়ার জন্য স্পিকারের কাছে সময় চেয়ে তিনি কোনো আবেদন করেননি বলেও জানিয়েছেন বগুড়া থেকে নির্বাচিত এ জনপ্রতিনিধি।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের সঙ্গে কোনো আপস কিংবা সমঝোতার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটির প্রশ্নেই ওঠে না। সেটি যদি হতো, তবে কিছুদিন আগেও আমার নামে নতুন করে যে মামলা দেয়া হয়েছে সেটি নিশ্চয়ই হতো না। আমাদের কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাদের বিনাবিচারে জেলে থাকতে হতো না।

সংসদে যোগ দেয়ার যুক্তি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ন্যূনতম সুযোগ কাজে লাগাতেই সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সংসদে, সংসদের বাইরে- সব জায়গায় প্রতিবাদের সুযোগ কাজে লাগাতে আমাদের এ সিদ্ধান্ত।

দানবকে পরাজিত করতেই বিএনপির এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সংসদে, সংসদের বাইরে সরকারের সব অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাব। আপনারা দেখেছেন, গতকাল শপথ নিয়েই আমাদের একজন এমপি (হারুন-উর রশিদ) সংসদে গিয়ে কথা বলেছেন, গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিদেশিদের চাপে বিএনপি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে দলটির মহাসচিব বলেন, না, বিদেশিদের কাছ থেকে আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। আমরা তাদের সঙ্গে চলমান রাজনীতি নিয়ে নিয়মিতই কথা বলছি। আমরা বিশ্ব রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করছি। আঞ্চলিক রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করছি। সব মিলিয়ে এই (সংসদে যাওয়ার) সিদ্ধান্ত। শপথ নেয়ার জন্য সময় চেয়ে সংসদে কোনো আবেদন করেননি জানিয়ে বগুড়া থেকে নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম আমি নাকি শপথ নেয়ার জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেছি। বিষয়টি সঠিক নয়। আমি কোনো আবেদন করিনি।

সাংবাদিকতার নীতি বজায় রেখে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি পত্রিকা লিখেছে- মির্জা ফখরুলের সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমি যদি শপথ না নিই সে ক্ষেত্রে কী হবে? আপনার সাংবাদিকতা কোথায় যাবে? তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ- রিপোর্ট করার আগে জার্নালিস্ট ইথিকস বজায় রাখবেন। সঠিক সংবাদ প্রকাশ করবেন।

প্রসঙ্গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফল বর্জন করা বিএনপি প্রথমে সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সোমবার শপথ নেয়ার শেষ দিনে এসে বিএনপি থেকে নির্বাচিত চার জনপ্রতিনিধি সংসদে যোগ দিয়েছেন। এর আগে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান শপথ নেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণঃ অভিনেত্রী শমী কায়সারের বিরুদ্ধে মামলা


ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনায় অভিনেত্রী শমী কায়সারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার অতিরিক্ত ঢাকা মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে মামলার আবেদনটি করেন স্টুডেন্টস জার্নাল বিডির সম্পাদক মিঞা মো. নুজহাতুল হাসান।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদেশ পরে দেবেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত ২৪ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ই-কমার্সভিত্তিক পর্যটনবিষয়ক সাইট ‘বিন্দু ৩৬৫’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী শমী কায়সার। অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষ করে কেককাটার সময়ই হঠাৎ করে তিনি জানান, তার স্মার্টফোন দুটি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ফোন দুটিতে কল দিয়ে তখনও সচল পাচ্ছিলেন তিনি।

শমী কায়সারের এমন মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই মিলনায়তনের মূল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় তার নিরাপত্তাকর্মী সবার দেহ তল্লাশি করতে চাইলে তাতে সম্মতি জানান উপস্থিত সংবাদকর্মীরা।

তল্লাশির সময় অনেকে বের হতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মী সাংবাদিকদের ‘চোর’ বলে ওঠেন। এতে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে আসা সাংবাদিকরা। এ ঘটনায় অনুষ্ঠানের আয়োজকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডাও হয় সাংবাদিকদের।

পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক নিয়ে আসা লাইটিংয়ের এক কর্মী স্মার্টফোন দুটি নিয়ে গেছেন।

ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ দেখার পর সাংবাদিকদের প্রতি ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেন শমী কায়সার।

এর পরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শমী কায়সারকে নিয়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। নানা বয়স ও পেশার মানুষেরা সাংবাদিকদের প্রতি শমী কায়সারের এমন আচরণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌‘শেখ হাসিনার শাসনামল খুন-ধর্ষণ, ব্যাংক ডাকাতি-ভোট ডাকাতির স্বর্ণযুগ’


বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার এই শাসন আমল হলো ধর্ষণ, খুন, ভোট ডাকাতি, ব্যাংক ডাকাতির স্বর্ণযুগ। ইতিহাসবিদরা যদি কখনো এই শাসন আমলের পর্যালোচনা করেন তাহলে এই শাসনামলকে খুন-ধর্ষণের স্বর্ণযুগ বলে অভিহিত করবেন।’

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রয়াত সুনীল গুপ্ত স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে সুনীল গুপ্তের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করতে না পারলে স্বৈরশাসকের পতন হবে না, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না, দেশের মানুষের অধিকার ফিরে পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান ক্ষমতা দখলকারী সরকারের নেতারা বলেন- বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। তাদের এ কথা শুনলে হাসি পায়। যে দেশের রাজধানীতে জনগণ বিশুদ্ধ পানি পায় না। একটু বৃষ্টি হলে নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা হয়। যে দেশের প্রতিটি ব্যাংক ডাকাতি হয়েছে। যে দেশের প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই শিশু, নারী ধর্ষণ, খুন এর খবর পাওয়া যায় সেই দেশ নাকি উন্নয়নের রোল মডেল?’

এ সময় তিনি যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘১৯৭১ সালে কোনও রাজনীতি দল বাংলাদেশ স্বাধীন করে নাই। দেশ স্বাধীন করেছিল ছাত্র, যুবকরা। আজ বাংলাদেশের স্বৈরাশাসকের হাত থেকে মুক্ত করতে হলে যুবকদের কে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্রদেরকে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া, কবি আব্দুল হাই শিকদার, মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে রাজধানীসহ সারাদেশে অস্বাভাবাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ধর্ষণ!


আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে রাজধানীসহ সারাদেশে অস্বাভাবাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ধর্ষণ। নারীর নিরাপত্তা যেন দুর্লভ বস্তুতে পরিণত হয়েছে। শুধু বয়স্ক নারী নয়, ছোট্ট শিশু ও কিশোররাও রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষকদের ধারালো থাবা থেকে। আগে বখাটেরা ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকলেও এখন শিক্ষক, চিকিৎসক এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের কাছেও নিরাপদ নয় নারী। চলতি বছর প্রথম চারমাসে দেড়শ’র বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যদিও অনেকে লোক লজ্জা ও মান-সম্মানের ভয়ে এসব ঘটনা প্রকাশ করেন না।

ধর্ষণের ঘটনায় শাস্তির সংখ্যাও খুবই কম। যদিও চলতি বছর ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজনের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। গতকালও চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক অভিযুক্ত কোচিং শিক্ষক র‌্যাবের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযুক্তদের যথাযথ শাস্তি না হওয়া, আইনের শিথিলতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, নারীর প্রতি পরিবার ও সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও নৈতিক অবক্ষয়, পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীললতার ব্যপক প্রসার ও সহজলভ্যতাসহ নানা কারণে ধর্ষণের মতো মহামারী বেড়েই চলেছে।

গত ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ মাদরাসার প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে প্রিন্সিপালের পরিকল্পনায় ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টার করে তার অনুসারীরা। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত। এ ঘটনায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ইতোমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। এর আগে নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীকে গণধর্ষণ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিরোধী দলকে ভোট দেওয়ায় স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অপরাধের তথ্য রীতিমতো গাঁ শিউরে ওঠার মতো। তাদের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত পাঁচ বছর সারা দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৯ হাজার। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে শিশুরাই বেশি ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে বলে ওই পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ১৫০ জন নারী ও শিশু। এক তথ্যে দেখা যায়, গত জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে ২৩টি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের ১৫ জনই শিশু-কিশোরী। এর মধ্যে দুই বছর বয়েসী শিশুও আছে। চারজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আরেকজন ধর্ষণের পর অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। বেসরকারি সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের তথ্যে দেখা যায়, চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে সারা দেশে ৪৭ শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। পুরো মাসে এ সংখ্যা শ’খানিকের মতো।

গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার উত্তর আমিরাবাদ এলাকায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযুক্ত এক কোচিং শিক্ষক র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল সকালে ওই ছাত্রীর বাসায় গিয়ে তাকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে বলে তার মা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন। ধর্ষণের অভিযোগে ১৫ এপ্রিল লোহাগাড়া থানায় মামলাটি করা হয়।

বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত ১০ এপ্রিল সেতু মন্ডল (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীকে লঞ্চের কেবিনে নিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ করে প্রেমিক সজল। পরে বিয়ে না করায় অপমানে ১৭ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ এলাকায় নিজের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে এই ছাত্রী। এ ঘটনায় গত শনিবার হযরত আলী ওরফে সজলকে (২৭) গ্রেফতার করলে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। নিজের পরিচয় গোপন করে ভিন্ন নামে ওই মেয়ের সাথে সম্পর্ক তৈরি করেছিল সজল।

গত ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে এক পোশাক কারখানার শ্রমিককে ধর্ষণ করে উবার চালক বাদশা (২৪)। কারখানা ছুটির পর মেয়েটিকে তার প্রাইভেট কারে করে ঘুরতে নিয়ে যায়। পরে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গাড়ির ভেতরে রেখেই একাধিকবার ধর্ষণ করে। এসময় মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় মেয়েটির পরিবার আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করলে গত শনিবার নগরীর পাঠানটুলি এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বাদশা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

একইদিন ২৩ এপ্রিল রাতে রাজধানীর দক্ষিণখানে একটি ক্লিনিকে ১৩ বছর বয়েসী এক শিশুকে হাত-পা বেধে ধর্ষনের অভিযোগ ওঠে এক পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মেয়েটির পরিবার মামলা করলে পুলিশ গত শনিবার বিজয় কৃষ্ণ তালুকদার নামের ওই চিকিৎসককে গ্রেফতার করে। যদিও ওই চিকিৎসক ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

গত ২৪ এপ্রিল রাঙামাটিতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ইউপি সদস্যকে ধর্ষণ করে তার চাচাতো ভাই। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চাচাতো ভাই ঝন্টু চাকমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই নারীর অভিযোগ, তাকে মিথ্যা কথা বলে নগরীর একিট হোটেলে নিয়ে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। চেতনা ফিরলে তিনি নিজেকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পান এবং তখন তার ভাই পাশেই শোয়া ছিল।

এদিকে, গত শনিবার ও গত রোববার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দুই ছাত্রীকে নিপীড়ণ ও হয়রানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় কলাভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের এক ছাত্রী তার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছেলেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হকের নেতৃত্বে সাতজনের একটি দল তাকে র‌্যাগ দিতে গিয়ে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া রোববার থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী তার সহপাঠীদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেন। দুটি ঘটনাতেই ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করেছেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, চলতি বছর শুধু জানুয়ারি মাসে দেশে ৫২টি ধর্ষণ, ২২টি গণধর্ষণ এবং ৫টি ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২০১৮ সালে সারা দেশে ৯৪২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে তারা জানায়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সারা দেশে প্রায় ১২৩ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে সারাদেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪৩৩ শিশু। এর মধ্যে মারা গেছে ২২ জন। ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছিল ৫৩ জন শিশুর ওপর। আর ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, হত্যা ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে মারা গেছে ২৭১ জন শিশু। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৬ জন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন বলেছে, বিচারহীনতার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে চলেছে। শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে সারা দেশে ২৮ প্রতিবন্ধী শিশুসহ ৫৭১ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪ শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৬ শিশু ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে। একই বছরে ৮১২ শিশু বিভিন্ন ধরনের যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

আইনজ্ঞদের মতে, ধর্ষণের মামলার সঠিক তদন্ত ও বিচারিক কাজ দ্রুত শেষ করা হলে এসব ঘটনা অনেক কমে আসতো।

এ বিষয়ে সাবেক আইজিপি সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন, যৌন হয়রানির ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও ভয়ংকর। এই ধরনের অপরাধ দমনে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম তথা এলাকার জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক বৈঠক করা যেতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নেহাল করিম ইনকিলাবকে বলেন, সম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের ঘটনা বেশি সামনে আসার পেছনে মূলত দুটি কারণ। প্রথমত অন্যান্য সময়ের চাইতে বর্তমানে ঘটনাগুলো বেশি ঘটছে। দ্বিতীয়ত প্রিন্ট ও ইলেকক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সংখ্যা বাড়ায় বিষয়গুলো খুব সহজেই আমাদের সামনে আসছে। তিনি বলেন, সাইকোলজিকালি সমাজের মানুষগুলো বেশি অসহিষ্ণু ও হিংস্র হয়ে ওঠায় ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে চলেছে। তিনি মাদরাসাসহ বিভিন্ন কারিকুলামে নারী সংক্রান্ত বিষয়গুলা অর্ন্তভূক্ত করার মত প্রকাশ করেন।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌অবশেষে কামাল-জাফরুল্লাহদের ষড়যন্ত্রই সফল হলো!


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কথিত দুর্নীতির মামলায় কারাগারে নেয়ার পর থেকেই বিএনপিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিতে একটি মাস্টার প্ল্যান করেছিল আওয়ামী লীগ। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকার বেছে নিয়েছিল ড.কামাল হোসেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদকে। এনিয়ে অ্যানালাইসিস বিডির একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রত্যেকটা প্রতিবেদনেই সরকার কখন কাকে দিয়ে কি করছে এসবের সবিস্তারে বর্ণনা দেয়া আছে।

এক্ষেত্রে সরকারের দুইটি পরিকল্পনা ছিল। প্রথম পরিকল্পনা ছিল বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসা। এজন্য ড. কামাল ও জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে দিয়ে গঠন করিয়েছিল কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তাদের পাল্লায় পড়েছিল বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ড. এমাজউদ্দিন আহমদ। এই তিনজনে মিলেই মূলত বিএনপিকে আন্দোলন বাদ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে কুপরামর্শ দিয়েছিল।

দেখা গেছে, ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল ৭ দফা দাবি না মানলে তারা নির্বাচনে যাবে না। দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামবে। কিন্তু, সরকারের পক্ষ থেকে দুই দফা সংলাপে দাবি না মানা সত্ত্বেও ড. কামাল নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর এতে সম্মতি দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এরপর, ব্যাপক ভোট ডাকাতির নির্বাচনের পর সিদ্ধান্ত হলো তারা সংসদে যোগ দেবেন না। কিন্তু লোকোচুরি করে শপথ নেন ড. কামালের দলের দুই এমপি। পরে জানা গেল ড. কামালের সম্মতিতেই তারা শপথ নিয়েছেন।

এরপর, গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলো খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তারা আন্দোলনে যাবে। সরকারকে বৈধতা দেয়ার জন্য তারা সংসদে যাবেন না। কিন্তু দেখা গেল, ড. কামাল আর জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্ররোচনায় পড়ে বিএনপির নির্বাচিত এমপিরাও সোমবার শপথ নিলেন। হয়তো মঙ্গলবার মির্জা ফখরুলও শপথ নিবেন। তাদের এই শপথের মধ্যদিয়ে সরকারের পুরো চক্রান্তই সফল হলো। কামালের ষড়যন্ত্র থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারলো না বিএনপি।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন- এই শপথের মধ্যদিয়ে বিএনপি নামক একটি বৃহত্তর দলের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটলো। এই দলটি আর নিজস্ব শক্তি নিয়ে কখনো মাঠে দাঁড়াতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়া বিচারিক নয় রাজনৈতিক কারণে বন্দি: আমীর খসরু


মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বরাত দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণেই বন্দি করে রাখা হয়েছে, বিচারিক সিদ্ধান্তে নয়। সিলেটের স্থানীয় একটি হোটেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াছ আলীর গুমের ৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন তিনি। আমীর খসরু বলেন, খালেদা জিয়া কোনো অপরাধ করেননি, তার বিরুদ্ধে মামলা জামিনযোগ্য।

সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায় বলেই বন্দি করে রাখা হয়েছে। সিলেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। জিয়া পরিবারের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ফরমায়েশি সাজা দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে পুলিশের পাহারায়। এদিন থাকবে না, পরিবর্তন হবেই। আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব। এ জন্য দরকার একটি গণআন্দোলন। এ আন্দোলন গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে দিতে হবে।

ইলিয়াছ আলীর সঙ্গে ৭ বছর আগে গুম করা হয় ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনেদ আহমদ ও গাড়িচালক আনসার আলীকে। ‘কারান্তরীণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, গুম নামক অপরাজনীতির ভয়াবহতা ও অবরুদ্ধ গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কাহির চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ সিলেট জেলা সভাপতি ডা. শামীমুর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আমীর খসরু বলেন, আ’লীগের ক্ষমতায় থাকার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে গুম, খুন, হত্যা ও গায়েবি মামলা। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে দুর্বল দল আওয়ামী লীগ। দলটি নানা ফন্দিতে আজীবন ক্ষমতায় থাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে স্বৈরাচারী সরকারের মতো নৈরাজ্য চালাচ্ছে দেশজুড়ে। বিএনপি নেতাদের মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করে ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রকল্পকে পাকাপোক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মন্ত্রীরা বিদেশি চাপে বারবার খালেদার প্যারোলে মুক্তির কথা বলছেন। তারা বলছে, বিএনপি চাইলে তারা খালেদা জিয়ার প্যারোল বিবেচনা করবে। কিন্তু আমরা তো খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি চাইনি।

অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান মান্না নিজের কারাবরণের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি ২৩ ঘণ্টা গুম ছিলাম। সরকারের বাহিনীগুলো আমাকে গ্রেফতারের পর ২৩ ঘণ্টা স্বীকার করেনি। ডাকসুর সাবেক ভিপি মান্না বলেন, ভোট চুরির ৪ মাস অতিবাহিত হলেও আমরা কোনো আন্দোলন করতে পারিনি। আমাদের রাজনৈতিক শক্তি দেখাতে পারিনি। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নির্ভয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করছে। নইলে তারাও ভাবত এক মাঘে শীত যায় না, ভোট চুরিতে সহযোগিতা করত না। মান্না বলেন, দেশে প্রহসনের ভোট হয়েছে। সরকার এখন দুর্নীতিতে লিপ্ত। রুখে দাঁড়ানোর সময় এখনও আছে, মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে। সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস, ইফতেখার আহমদ দিনারের বাবা ডা. মঈনুদ্দিন, জুনেদ আহমদের ছোট ভাই হাসান মঈনুদ্দিন আহমদ ও আনসার আলীর স্ত্রী মুক্তা বেগম এ সময় আবেগঘন বক্তৃতা করেন। সভায় বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ ও বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তাদের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে বিএনপির শপথ !


সম্প্রতি বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমানের দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে শপথ নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই সোমবার দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ গ্রহণ করেছেন দলের আরও চার সাংসদ।

হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্নের খানিকটা উত্তর মেলে দলটির মহাসচিবের বক্তব্যে। মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা, মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অংশ হিসাবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে আমাদের দল সংসদে যাচ্ছে। তবে নিজের শপথ গ্রহণের কথা জানতে চাইলে অনেকটা এড়িয়ে যান এ নেতা। তিনি বলেন, অপেক্ষা করুন জানতে পারবেন।

তাহলে কি খালেদা জিয়ার মুক্তির স্বার্থেই তারেক রহমানের এমন সিদ্ধান্ত? সূত্র বলছে, দলীয়প্রধানের জামিনে মুক্তির পর জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিলো বিএনপির নির্বাচিতদের। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকারের চাপে দলীয় প্রধানের মুক্তির শর্তে সিনিয়র নেতারা তাৎক্ষণিক ভাবে নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্য একটি সূত্র বলছে, এর আগে গত ৩১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তি, বিএনপির নেতাদের শপথের বিষয়ে আলোচনা হয়। এরপর ১ এপ্রিল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের একটি বৈঠকেও এ নিয়ে চুলচেরা পর্যালোচনা হলেও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি নেতারা।

এদিকে জাহিদুর রহমানের শপথ নেয়ার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিজয়ী ব্যক্তিরা যাতে শপথ নেন, সে জন্য সরকার হুমকি-ধামকি ও নানাভাবে চাপ তৈরি করছে এবং তাঁদের নজরদারিতে রেখেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এক দিকে সরকারের পরিকল্পনা বিএনপি নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণে বাধ্য করবে, তাই তাদেরকে কোন চিঠি পাঠানো হয়নি। অন্যদিকে রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ‘ধীরে চলো নীতি’ অবলম্বন করছিলেন বিএনপি। কিন্তু আইন অনুযায়ী, সংসদ বসার তিন মাসের মধ্যে শপথ নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ হিসেবে ৩০ এপ্রিলের আগেই শপথ নিতে হবে ঐক্যফ্রন্টের সকল বিজয়ী প্রার্থীদের। তাই সরকারের চাপে ও খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে দলীয় নীতি ভেঙে তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিএনপি।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here