ছাত্রলীগ হলো গুজবের সংগঠন: ডাকসু ভিপি নুর(ভিডিও সহ)

0
121

বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে গুজবের সংগঠন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর।

এছাড়া ঢাবি প্রশাসনকে ছাত্রলীগের অপকর্মের সহযোগী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের তিনি এ মন্তব্য করেন।

নুর বলেন, ছাত্রলীগ হলো একটা গুজবের সংগঠন। তারা সব সময় শুধু গুজব ছড়ায়।

ডাকসু নির্বাচনের সময় যারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানান কোটা সংস্কার আন্দোলনের এ নেতা।

ভিডিওঃ ‘ছাত্রলীগ হলো গুজবের সংগঠন: ডাকসু ভিপি নুর(ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডাকসু ভিপি বলেন, ডাকসুর ভিপি এবং সমাজসেবা সম্পাদক পদ ছাড়া বাকি সব পদে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে। ডাকসুর ভিপি এবং শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে কীভাবে সেই নির্বাচন করা যায় তা নির্ধারণে প্রয়োজনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসা হবে।

তিনি বলেন, কারচুপি তো অনেক হয়েছে। ডাকসু ফল ঘোষণা নিয়ে অনেক নাটক হয়েছে। আমি ঘোষণা দিচ্ছি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ছাত্রলীগ একটা সদস্য পদেও জয়ী হতে পারতো না।

ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদ ছাড়া বাকি পদগুলোতে যদি পুনরায় সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আর সেখানে ছাত্রলীগ একটি পদেও জয় লাভ করে তাহলে ভিপি পদ থেকে পদত্যাগ এবং ঢাবির ছাত্রত্ব প্রত্যাহারেরও ঘোষণা দেন তিনি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ক্যাম্পাসে ফিরে যা বললেন নব-নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর(ভিডিও সহ)

বক্তব্য রাখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। ছবি: যুগান্তর

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮ বছর পর যে নির্বাচনটা হচ্ছে, সে নির্বাচনের দিকে সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে ছিল। যখন ভোট ডাকাতি কিংবা ভোট না দিতে দেয়ার কারণে জাতীয় নির্বাচনের প্রতি মানুষের অনাস্থা ঢুকে গেছে, নির্বাচন নিয়ে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়েছে, সেই জায়গা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল, এর মধ্য দিয়ে তাদের অনাস্থা কিংবা বিরূপ ধারণার পরিবর্তন হবে।

ভিপি নির্বাচিত হয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে রাজ ভাস্কর্যের সামনে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দলকানা প্রশাসন তাদের নীল নকশা অনুযায়ী নির্বাচন করেছে। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনকে জয়ী করতে যত রকম কারচুপি করা যায়, সেগুলোর প্রত্যেকটি তারা করেছে।

ভিডিওঃ ‘ক্যাম্পাসে ফিরে যা বললেন নব-নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

‘কারচুপ ও অনিয়ম করে তারা আমাকে এবং আখতারকে আটকাতে পারেনি; কিন্তু বাকিদের আটকাতে পেরেছে। আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন- শামসুন্নাহার হলে স্বতন্ত্র প্যানেল বিজয়ী হয়েছে। বেগম সুফিয়া কামাল হলেও স্বতন্ত্র প্যানেল নির্বাচিত হয়েছে। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো, প্রত্যেকটি হলে ক্ষমতাসীন দলের বাইরে যারা ছিল, তারাই বিজয়ী হতো।’

তিনি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বললাম যে, আমাদের ভিসি স্যার যদি সুষ্ঠু নির্বাচন দেন, ছাত্রলীগ একটি সদস্য পদও পাবে না। যদি পদ পায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব এবং ছাত্ররা আমাকে যে ভিপি বানিয়েছেন, সেই পদ ত্যাগ করে চলে যাব।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের এই নেতা বলেন, আমার চাওয়া একটিই- অসংখ্য অনিয়মের ঘটনা আমরা তুলে ধরেছি, কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তাভরা ব্যালট পেপার আমরা দেখিয়েছি, সুফিয়া কামাল হলে রাত ২টার সময় ব্যালটবাক্স ঢোকানো হয়েছে, সেগুলো আমরা দেখিয়েছি এবং রোকেয়া হলে যে ব্যালটবাক্স ভরা ছিল, সেগুলো উদ্ধার করতে গিয়ে আমি ছাত্রলীগের লেডি সন্ত্রাসী ও ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভনের নেতৃত্বে হামলার শিকার হয়েছি।

‘আজকে যখন ছাত্রদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে এখানে এসেছি, তখনও সেই হাতুড়ি, হেলমেট বাহিনীর সন্ত্রাসীরা টিএসসিতে আমাদের ওপর হামলা করেছে।’

তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে বলতে চাই- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। এ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নিয়ে খেলবেন না, পুড়ে ছারখার হয়ে যাবেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রীদের যৌন হয়রানিসহ সব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নুরুল হক নুর বলেন, আমরা প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছি। এত কারচুপির পরও ছাত্রদের ম্যান্ডেট পেয়ে আমি বিজয়ী হয়েছি। কিন্তু ভিপি হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ছাত্রসমাজকে নিয়ে আমি তীব্র আন্দোলন করব।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ একটি গুজব সংগঠন; তারা নিজেরা গুজব ছড়ায়। নির্বাচন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অথচ এনএসআই, ডিজিএফআইসহ সব ধরনের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন এই নির্বাচনে জড়িত ছিল।

‘আপনারা দেখেছেন, ফল ঘোষণা নিয়ে কী নাটক করা হয়েছে। রাত ৩টার সময় ফল ঘোষণা করা হয়েছে। আর একটি পদে যখন আমরা বিজয়ী হয়েছি, তখন সেটিকে বিতর্কিত করতে তারা স্লোগান দিয়ে বেড়াচ্ছে।’

ঢাবি প্রশাসনকে ছাত্রলীগের অপকর্মের সহযোগী আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, যখন আমাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, তখন তাদের কাছ থেকে বিচার পাইনি। ঢাবি প্রশাসনকে বলছি- ছাত্রদের অধিকার নিয়ে খেলবেন না।

ভিডিওঃ ‘ক্যাম্পাসে ফিরে যা বললেন নব-নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর(ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

‘বেগম রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ, যিনি ভোট কারচুপির সঙ্গে জড়িত, তিনি নাকি আমার ও লিটন দাসহ ছাত্র প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন। আমরা ভিপি ও সমাজসেবা পদ ছাড়া বাকি পদগুলোতে ফের নির্বাচন দাবি করছি। ছাত্রদের দাবি ছিল- সুষ্ঠু নির্বাচন। যেহেতু সেটি হয়নি, সেহেতু তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমি আন্দোলন করব।’

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ গণরুম, গেস্টরুমের যাদের রাখে, তাদের জোর করে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল। কে ভোট দিয়েছে, কে দেয়নি, তার কোনো চিহ্ন দেয়া হয়নি।

‘যারা ভোট দিয়েছে, তারাই আবার লাইনে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারেনি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে প্রতিটি স্বতন্ত্র প্যানেল- এমনকি কেন্দ্রীয় ডাকসুতেও আমাদের পুরো প্যানেল জয়ী হতো। প্রশাসন কারচুপি করে ছাত্রলীগকে জিতিয়ে দিয়েছে’।

তিনি আরও বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য চারটি দাবি করা হয়েছিল। তার একটিও মানা হয়নি।

উৎসঃ ‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ নুরুল হক নুরের বিজয় নিয়ে যা বললেন অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। শত অনিয়ম ও কারচুপির মধ্যেও নুরের বিজয়ে অভিনন্দন ও ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে নিজের মতামত জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, বিশাল আকারে কারচুপি করেও কেবল জনপ্রিয়তার কারণে নুরুল হক নুরকে পরাজিত করতে পারেনি সরকারদলীয়রা। পাশাপাশি নবনির্বাচিত নুরের মধ্যে তরুণ বঙ্গবন্ধুর ছায়া দেখছেন বলেও জানিয়েছেন ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে কোটা আন্দালনের আরো অনেকে জয়লাভ করতো বলেও মনে করেন তিনি।

ড. আসিফ নজরুল আরো বলেন, যেখানে কারচুপির সুযোগ ছিলো না সেখানে পুরো প্যানেলেই পরাজিত হয়েছে ছাত্রলীগ। উদাহরণ হিসেবে তিনি কুয়েত-মৈত্রী হলের নির্বাচনের ফলাফলের কথা উল্লেখ করেন।

ড. আসিফ নজরুলের পুরো স্ট্যাটাসটি তুলে দেয়া হলো-

‘নূরের বিজয়, নূরের শপথ

কুয়েত মৈত্রী হলের নির্বাচনের ফলাফল ভালো করে লক্ষ্য করুন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ব্যালট ভরা বাক্স উদ্ধারের পর সাধারণ ছাত্রীরা তুমুল প্রতিবাদে ফেটে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দিতে হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপির কোনো সুযোগ ছিল না সেখানে। ফলাফল? ১৩টির সব আসনে পরাজিত ছাত্রলীগ।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হলে ডাকসু ও বাকী সব হলের ফলাফল হয়তো তাই হতো। ডাকসুতে শুধু নুর আর আখতার না, জিততো কোটা আন্দালনের আরো অনেকে। বিভিন্ন আলামত দেখে এটা মনে হয় যে, কোটার অনেককে কারচুপি করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু নুর আর আখতারের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যবধান এতো বিশাল ছিল যে, কারচুপি করেও তাদের হারানো যায়নি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে নুরের কি ডাকসু’র ভিপি পদ গ্রহন করা উচিৎ? আমার মতে কোটা আন্দোলনের নেতারা সবাই যদি রাজী থাকে তাহলে তার ডাকসু’র ভিপির পদ গ্রহণ করা উচিত। ডাকসু’র ভিপি হিসেবেই হয়তো ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরো বেগবান করা সম্ভব। তবে নুরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোটা আন্দোলনের নেতাদের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে। বাম বা ছাত্রদলের মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ হতো, যদি তারা কোটার নেতাদের সাথে একসাথে নির্বাচন করতো। তারা এটি করেনি।

নুরের মধ্যে আমি দেখি তরুণ বয়েসের বঙ্গবন্ধুর ছায়া। সাধারণ ছাত্রদের নির্যাতনকারীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কোনোভাবেই নেই।’

উৎসঃ ‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ক্যাম্পাসে ঢুকেই ছাত্রলীগের হামলার শিকার ডাকসুর নব-নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর(ভিডিও সহ)


ক্যাম্পাসে ঢুকেই হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে নির্বাচিত সহ সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম ক্যাম্পাসে ঢুকেই হামলার শিকার হলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের এই নেতা।ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের।

ভিডিওঃ ‘ভিপি পদে জয়ী হওয়া নুরুল হক নুর আবারও ছাত্রলীগের হামলার শিকার(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

হামলায় নুর অক্ষত থাকলেও তাকে বাঁচাতে গিয়ে মাথা ফেটেছে এক ছাত্রদল নেতার।পরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন ‍নুরসহ পুন:তফসিল দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা।মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি বলেন, আমরা ভিপি ও সমাজসেবা পদে পুনঃনির্বাচন দাবি করছি।

২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক ছাড়া অন্য সব পদে ছাত্রলীগের প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে।ডাকসুর সর্বোচ্চ পদে চমক দেখিয়েছেন নুরুল হক নুর। চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল থেকে নির্বাচন করা এ নেতা জয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটে।

ডাকসু নির্বাচনে নুরের প্রাপ্ত ভোট ছিল ১১ হাজার ৬২টি । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হেভিওয়েট প্রার্থী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১৯৩৩ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হন নুর।

আগের দিন সোমবার ডাকসু নির্বাচনে ভোট কারচুপির প্রতিবাদ করতে গিয়ে রোকেয়া হলে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন নুরুল হক নুর। সেখান থেকে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।হাসপাতাল বিছানায় শুয়েই ভিপি পদে জয়ের সংবাদ পান নূর।

হাসপাতাল থেকে আজ বেলা ২টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন ডাকসুর নবনির্বাচিত এই ভিপি।টিএসসিতে যাওয়া মাত্রই তার ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচন করা তৌহিদুর রহমান।লাঠিশোঠার হামলায় তৌহিদের মাথা ফেটে যায়।

টিএসসিতে সকাল থেকেই অবস্থান করছিলেন ডাকসু ভোট বর্জন করে পুন:তফসিল দাবিতে আন্দোলনকারীরা।আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করতে গিয়েছিলেন ডাকসু নির্বাচনে নবনির্বাচিত ভিপি নুর।

নুর ব্রিফ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এসময় একদল যুবক লাঠিশোঠা নিয়ে টিএসসিতে ঢুকে নুরের দিকে তেড়ে যায়।নুর বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ছাত্রদল, বামজোটসহ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা।

এসময় হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে আহত হন ছাত্রদল নেতা তৌহিদুর রহমান।

পরে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে ভিসি কার্যালয়ের দিকে যায়।মিছিলে প্রহসনের ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

মিছিলে অংশ নিচ্ছেন ডাকসু নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর, বাম জোটের নেতা লিটন নন্দী প্রমুখ। ছাত্রদল নেতারাও মিছিলে রয়েছেন।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তৃতা করেন নুর। তিনি বলেন, ভিপি ও সমাজসেবা পদ ছাড়া ডাকসুর সব পদে পুনঃনির্বাচন দাবি করছি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভিপি পদে জয়ী হওয়া নুরুল হক নুর আবারও ছাত্রলীগের হামলার শিকার(ভিডিও সহ)


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে জয়ী হওয়া নুরুল হক নুর আবারও হামলার শিকার হয়েছেন। সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয়ী হওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম ক্যাম্পাসে ঢুকেই হামলার শিকার হলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের এই নেতা। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে হামলা করেছে বলে অভিযোগ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের।

আগের দিন সোমবার ডাকসু নির্বাচনে ভোট কারচুপির প্রতিবাদ করতে গিয়ে রোকেয়া হলে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন নুরুল হক নুর। সেখান থেকে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল বিছানায় শুয়েই ভিপি পদে জয়ের সংবাদ পান নুর।

হাসপাতাল থেকে আজ বেলা ২টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন ডাকসুর নবনির্বাচিত এ ভিপি। টিএসসিতে যাওয়া মাত্রই তার ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচন করা তৌহিদুর রহমান। লাঠিসোটার হামলায় তৌহিদের মাথা ফেটে যায়।

ভিডিওঃ ‘ভিপি পদে জয়ী হওয়া নুরুল হক নুর আবারও ছাত্রলীগের হামলার শিকার(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

টিএসসিতে সকাল থেকেই অবস্থান করছিলেন ডাকসু ভোট বর্জন করে পুনঃতফসিল দাবিতে আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করতে গিয়েছিলেন ডাকসু নির্বাচনে নবনির্বাচিত ভিপি নুর।

নুর ব্রিফ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় একদল যুবক লাঠিসোটা নিয়ে টিএসসিতে ঢুকে নুরের দিকে তেড়ে যায়। নুরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ছাত্রদল, বামজোটসহ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা।

এ সময় হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে আহত হন ছাত্রদল নেতা তৌহিদুর রহমান।

পরে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে ভিসি কার্যালয়ের দিকে যায়। মিছিলে প্রহসনের ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

মিছিলে অংশ নিচ্ছেন ডাকসু নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর, বামজোটের নেতা লিটন নন্দী প্রমুখ। ছাত্রদল নেতারাও মিছিলে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদ ছাড়া সব পদে ছাত্রলীগের প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় পায়। সর্বোচ্চ পদে চমক দেখিয়েছেন নুরুল হক নুর। চাকরিতে কোটাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল থেকে নির্বাচন করা এ নেতা জয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটে।

ডাকসু নির্বাচনে নুরের প্রাপ্ত ভোট ছিল ১১ হাজার ৬২টি । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হেভিওয়েট প্রার্থী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১৯৩৩ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হন নুর। শিক্ষার্থীরা বলছেন ভিপি পদে নীরব ভোট বিপ্লব হয়েছে।

হাসপাতালের বেডে শুয়েই ভিপি পদে জয়ের খবর পান নুর। ‘প্রহসনের ভোটে’ প্যানেলের সব প্রার্থীর পরাজয়ের মাঝে ভিপি পদে এ জয় যে তাকে খুব একটা খুশি করতে পারেনি সেটি বোঝা গেল তার কথায়।

সোমবার রাত ৩টার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় নুর বলেন, এ রকম নির্বাচন আমাদের কারোরই প্রত্যাশা ছিল না। প্রায় তিন যুগ পর এই নির্বাচন হলো। সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে ছিল এই ভোটে। কিন্তু প্রত্যাশিত ভোট হয়নি। ডাকসু নির্বাচন কলংকের ইতিহাস সৃষ্টি করল।

‘জাতীয় নির্বাচনের পর নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছিল— আমরা ভেবেছিলাম সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সেখানে আশার আলোর সঞ্চার করা হবে’-যোগ করেন নুর।

কারচুরি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রশাসনের সহায়তায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ যে কারচুপি করেছে তা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয় পুরো দেশকে হতাশ করেছে। আমরা মনে করি, ১১ মার্চের নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।

ডাকসু নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি, জালভোট, ব্যালটবাক্স ছিনতাই ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোটের দিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বর্জনের ঘোষণা দেয় নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন প্যানেল। বর্জন করা ভোটেই জয় পান নুর।

রাতে ঘোষিত ফলে দেখা গেল প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে প্রায় দুই হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে ডাকসুর সহসভাপতি হয়েছেন নুর। ভোট বর্জনকারী নুর শেষ পর্যন্ত ভিপি পদে শপথ নেবেন? এই প্রশ্ন এখন শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে।

শিক্ষার্থীরা যাকে এত আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নেতা নির্বাচিত করলেন, তিনি শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নেবেন কিনা সেটি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ তিনি আগেই ভোট বর্জন করেছেন। বর্জন করা ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি নুর ডাকসুর ভিপি হিসেবে শপথ নেবেন কিনা সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শপথ নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক নুর বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন বাদে বাকি সব সংগঠন এই নির্বাচন বর্জন করেছে। তাই তাদের সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে ভিপি পদে জয়ী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা নুরুল হক নুরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ।

সোমবার দিবাগত রাতে নুরকে ভিপি ঘোষণার পর উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের কাছে এ দাবি জানান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

ডাকসুর ভিপি হিসেবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’ বলে চিৎকার করতে থাকেন তারা।

ছাত্রলীগকর্মীদের বিক্ষোভ, হইচই-এ ফল ঘোষণায় বিরতি দিতে বাধ্য হন উপাচার্য।

একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত ছাত্রলীগ সভাপতি ও সংগঠনটির প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের ইশারায় বিক্ষোভে বিরতি দেন সংগঠনটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

এর পর সাধারণ সম্পাদকসহ বাকি পদগুলোতে ভোটের ফল ঘোষণা করেন উপাচার্য। সাধারণ সম্পাদকসহ বাকি ২৪টি পদের একটি বাদে অন্যগুলোতে ছাত্রলীগের প্যানেলের (সম্মিলিত শিক্ষার্থী পরিষদ) প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন।

ফল ঘোষণা শেষ হলে আবারও বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রলীগকর্মীরা। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘এ ফলাফল মানি না, মানব না’ ‘নুরের চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন। এতে অডিটরিয়ামে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

প্রায় আধা ঘণ্টা বিক্ষোভের পর ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী উপাচার্যের পাশে যান। এ সময় উপাচার্যের কাছে নুরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি করেন রাব্বানী।

তিনি বলেন, একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও কোটা আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়েছে।

দিনে ডাকসুর ভোটগ্রহণ চলার সময় রোকেয়া হলে ‘ব্যালট উদ্ধার’র নামে নাটক সংঘটিত করে প্রাধ্যক্ষকে আক্রমণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাব্বানী।

ওই ঘটনায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থী নুরসহ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে জানিয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি করেন।

গোলাম রাব্বানী বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইমোশনকে ব্যবহার করে রোকেয়া হলের প্রভোস্টের ওপর হামলা চালিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা মামলা করেছে। আমরা ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

উপাচার্যকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী নিষিদ্ধ। আমরা এই ভোট পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।

এ সময় উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ‘বহিষ্কার চাই’, ‘বহিষ্কার চাই’ স্লোগান দেন।

এ বিষয়ে কিছু না বলে কিছু সময় পর সিনেট ভবন থেকে বেরিয়ে যান উপাচার্য। তার পেছন পেছন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ডাকসুর ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনঃভোট দাবি ছাত্রদলের


জাল ভোট, ব্যালট বক্স ছিনতাই, কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদের নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তারা ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

মঙ্গলবার সকালে ডাকসু নির্বাচন বাতিল দাবিতে পূর্বঘোষিত ধর্মঘট কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল।বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তৃতা করেন ডাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে নির্বাচন করা নেতারা। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও বিশ্ববিদ্যালয় নেতারাও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ডাকসুর ফল প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটা ষড়যন্ত্রের নির্বাচন।ফল পরিকল্পিত। তাই এ ফল প্রত্যাখ্যান করছি।

তিনি আরও বলেন, সোমবার ডাকসুতে ভোট ডাকাতির যে নির্বাচন হয়েছে, সে নির্বাচনকে বাতিলের দাবি জানাচ্ছি আমরা। ভিসিসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সব শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করছি। ডাকসু নির্বাচন পরিচালনায় যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি পুনর্গঠন করে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।

পরে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে টিএসসির দিকে চলে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী, ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচনের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী খন্দকার আনিছুর রহমান (অনিক), সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী খোরশেদ আলম সোহেলসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নানা অনিয়মের অভিযোগ এবং অধিকাংশ প্যানেল প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা নুরুল হক নুর।নির্বাচনে ভিপি ও একটি সম্পাদকীয় পদ ছাড়া অন্য সব পদে জয় পায় ছাত্রলীগ। ছাত্রদল কোনো পদেই জয় পায়নি।

১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে ভিপি নির্বাচিত হন নুর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পান ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সামাদ, চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এসএম মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

এ ছাড়া জিএস পদে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান পান ৬ হাজার ৬৩ ভোট।

এজিএস পদে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ১৫ হাজার ৩০১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ফারুক হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৯৬ ভোট।

এ ছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন সাদ বিন কাদের চৌধুরী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন আরিফ ইবনে আলী। কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন লিপি আক্তার।

আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন শাহরিমা তানজিম অর্নি। সাহিত্য সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন মাজহারুল কবির শয়ন। সংস্কৃতি সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন আসিফ তালুকদার।

ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন শাকিল আহমেদ তানভীর। ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন শামস-ঈ-নোমান। সমাজসেবা সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন আখতার হোসেন।

ডাকসু নির্বাচনের ২৫টি পদের একটি বাদে অন্যগুলোতে ছাত্রলীগের প্যানেল প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন। শুধু সমাজসেবা সম্পাদক পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আখতার হোসেন জয়ী হয়েছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ উচ্ছিষ্টের লোভে ঢাবি ভিসি যা করেছে, শিক্ষার্থীরা তা উম্মোচন করে দিয়েছে: আলী রীয়াজ


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্রে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় কোনো দ্বীপ নয়- এর স্থান বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্রে। আজ সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ তার পোস্টে লেখেন, গত রাতে উপাচার্য এবং তার পাইক-পেয়াদারা সুবিধার উচ্ছিষ্টের লোভে কিংবা মানসিক দাসত্বের বাধ্যবাধকতায় যা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা আজ দিবালোকে উন্মোচন করে দিয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের পেটোয়া বাহিনীর সামনে তারা দাঁড়িয়েছে। গত রাত ও আজকের সকাল-দুপুর পেছনে ফেলে শিক্ষার্থীদের জন্যে এখন সিদ্ধান্তের বিষয় হচ্ছে আগামী দিনগুলোতে তারা সম্মিলিতভাবে কিভাবে অগ্রসর হবে।

ডাকসু নির্বাচন কেবল ভোট দেয়া-নেয়ার বিষয় নয়, এর কাজ হচ্ছে আগামীর পথরেখা নির্ধারণ এবং নেতৃত্ব তৈরী করা – এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া একটি যৌথ নেতৃত্বের, সম্মিলিত নেতৃত্বের জায়গা তৈরি করেছে। সেই নেতৃত্বকে বুঝতে হবে তার দায়িত্ব কি, নিশ্চয় তারা তাঁদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে বুঝতে পারেন শিক্ষার্থীর ভোটের অধিকার এবং নাগরিকের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা অবিভাজ্য। শিক্ষার অধিকার ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ের মধ্যে চীনের প্রাচীর নেই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো দ্বীপ নয় – এর স্থান বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্রে।

উৎসঃ ‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ মেননের ইসলামমেননের ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিলেন কাজী ফিরোজ রশীদ!(ভিডিও সহ)


কওমি মাদ্রাসার পরিবেশ সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত জানিয়ে কাজী ফিরোজ রশীদ সংসদে বলেছেন, কওমি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত। মাদক, ইয়াবা, গাজা,ফেনসিডিল এখানে নিষিদ্ধ। ধূমপান এখানে চলে না। এগুলো কোথায় চলে? আমাদের স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটি ও বাড়িঘরে এই মাদক ঢুকে পড়েছে। কিন্তু কওমি মাদ্রাসায় ঢুকতে পারে না।

আমরা যদি এক হাজার মাদরাসা ছাত্রের রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করি, আর অন্য ছাত্রদের রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করি, তাহলে দেখা যাবে মাদরাসা ছাত্রদের রক্ত পিওর এখানে কোন মাদকের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। আর অন্য ছাত্রদের রক্ত ৫০ শতাংশ পিওর পাব না। এতো মাদক ঢুকছে।

রোববার (১০ মার্চ) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সংসদে দেয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ এসব কথা বলেন।

পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসা, হেফাজতে ইসলাম ও আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সংসদে দেয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘ধৃষ্টতা’ আখ্যায়িত করে তা এক্সপাঞ্জ করারও দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এ সাংসদ।

ভিডিওঃ ‘মেননের ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিলেন কাজী ফিরোজ রশীদ!(ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কওমি মাদ্রাসা আদর্শ নাগরিক গড়ে তুলছে জানিয়ে সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ সংসদে বলেছেন, ‘ বাংলাদেশে ২০ হাজার কওমি মাদ্রাসা আছে। ২০ লাখ ছাত্র এ মাদ্রাসাগুলোতে কোরআন-হাদিস নিয়ে পড়াশোনা করেন। কঠিন ইসলামিক ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে তাদের চলতে হয়। রাত সাড়ে তিনটার সময় তাদের ঘুম থেকে ওঠতে হয়।

প্রথমে তারা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে। তারপর কোরআন শরীফের হিফজ করে। এভাবে তাদের দিন শুরু হয়। রাত ১০টার মধ্যে তাদের ঘুমিয়ে যেতে হয়। রাতজেগে ফেসবুক বা ইন্টারনেটে তারা সময় পার করে না। স্কুল-কলেজের ছাত্রদের মতো ঘি-মাখন-রুটি-পরাটা খেয়ে স্কুলে যায় না। যা জোটে তা-ই খায়।

ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য, যিনি আগে মন্ত্রী ছিলেন, এই সংসদে ধান ভানতে শিবের গীত গেয়েছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। কওমি মাদ্রাসা নিয়ে তিনি অনেক বেহুদা কথা বলেছেন। কওমি মাদ্রাসা নাকি একটা বিষবৃক্ষ! অথচ এই সংসদে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি দিতে সর্বসম্মতক্রমে আইন পাস করেছি।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সবাই মিলে এ সংসদে তা করেছি। এটা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এটা একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এজন্য সব কওমি মাদ্রাসার পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দনও জানানো হয়েছে। এখানে তো কোনও মোল্লাতন্ত্র সৃষ্টি বা দেশ দখলের ষড়যন্ত্র হয় না। ’

প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অংশ নিয়ে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি প্রদান, হেফাজতে ইসলাম ও আল্লামা আহমদ শফীর কঠোর সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি কওমি শিক্ষাকে বিষবৃক্ষ ও আলেমদের মোল্লাতন্ত্র বলে মন্তব্য করেন। রাশেদ খান মেননের এমন বক্তব্যে দেশজুড়েই সমালোচনার ঝড় ওঠে।

হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী দলগুলো মেননের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। অনতিবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার না কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। বিষয়টি এতদিন রাজপথে থাকলেও রোববার তা সংসদে তুলেন জাতীয় পার্টির সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদ।

ইসলাম বিরোধী বক্তব্য দেয়া বামপন্থীদের রাজনৈতিক ফ্যাশন উল্লেখ করে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘কিছু বামপন্থী নেতা রয়েছেন তারা ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলাটাকে ফ্যাশন মনে করেন। ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বললেই বোধ হয় আলট্রা মর্ডান হয়ে গেলাম! মানুষ মনে করবে, আমি সব থেকেই বড় বিপ্লবী বামপন্থী কমরেড হয়ে গেলাম!’

আল্লামা শফীর মতো একজন বৈশ্বিক ধর্মীয় নেতাকে নিয়ে সংসদে কটাক্ষ করে দেশের শান্ত পরিস্থিতি বিনষ্ট করা হচ্ছে জানিয়ে জাপার এ সাংসদ বলেন, ‘হেফাজতের আমির, তিনি একজন বর্ষীয়ান নেতা। সারাজীবন মাদ্রাসায় শিক্ষাকতা করেছেন। তাদের অনেক ছাত্র-ভক্ত রয়েছে। তাকে নিয়ে এই সংসদে কটাক্ষ করে কথা বলা হয়েছে।

‘তেঁতুল হুজুর’ বলে তাকে কটাক্ষ করা হয়েছে। বিদ্রুপ করা হয়েছে। আমরা মনে করি এ ধরনের ধৃষ্টতা সংসদে উচিত নয়। সংসদে নেই, সংসদে কথা বলতে পারেন না, সংসদে আসতে পারেন না। তাদের নিয়ে সংসদে আমরা এ ধরনের কথা কেন বলবো? দেশ তো শান্ত আছে, শান্তিতে আছে। এখন তো কোথাও অশান্তি দেখিনা না। আমরা কেন শান্তির মধ্যে একটি অশান্তির ঢিল ছুড়ে দেবো?’

রাশেদ খান মেননের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকারকে উদ্দেশ করে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বলে আলেম সমাজের নেতা আল্লামা শফী সাহেবের বিরুদ্ধে কথা বলে উনাকে অপমান করা হয়েছে। অথচ এই সংসদেই আমরা তাদের জন্য আইন পাস করেছি। এখানে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার দরকার ছিল না। এই কথাগুলো একপাঞ্জ করবেন। তাহলে অশান্ত পরিবেশ থেকে আমরা মুক্তি পাবো।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভিপি হয়েও নির্বাচনকে ‘কলঙ্কজনক’ বললেন নূর


২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে বিজয়ী হয়ে চমক দেখালেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নূর। তবে নিজে বিজয়ী হলেও এই নির্বাচনে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না নূর। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি গতকাল অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ বলে আখ্যায়িত করেন। এই নির্বাচন পুরো দেশবাসীকে হতাশ করেছে বলেও মনে করেন তিনি।

গতকাল নির্বাচন চলাকালে একটি হলে হামলার শিকার হন নূর। এরপর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে ফলাফল ঘোষণার পর একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন নূর।

নিজের বিজয় প্রসঙ্গে নূর বলেন, ‘এ রকম নির্বাচন আমাদের কারোরই প্রত্যাশা ছিল না। ২৮ বছর পর এই নির্বাচন হয়েছে। সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে ছিল। জাতীয় নির্বাচনের পর নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছিল— আমরা ভেবেছিলাম সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সেখানে আশার আলোর সঞ্চার করা হবে। কিন্তু প্রশাসনের সহায়তায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন যে কারচুপি করেছে তা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয় পুরো দেশকে হতাশ করেছে।’

কোটা আন্দোলনকারী প্যানেলসহ বিরোধী প্যানেলগুলো গতকাল ডাকসু নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। এর মধ্যে অনেকটা চমকের মতো নূর ভিপি নির্বাচিত হলেন। এবার তিনি কী করবেন? এমন প্রশ্নে নূর জানান, তারা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

নুরুল হক নূর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক তিনি। গত বছর কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তিনি বারবার হামলার শিকার হয়ে আলোচনায় আসেন।

উৎসঃ ‌ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নুরুল হক নুর নির্বাচিত

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা নুরুল হক নুর

নানা অনিয়মের অভিযোগ এবং অধিকাংশ প্যানেল প্রার্থীদের ভোট বর্জনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা নুরুল হক নুর।

১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে ভিপি নির্বাচিত হন নুর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পান ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সামাদ, চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

এছাড়া জিএস পদে ছাত্রলীগের কেন্দ্রী সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান পান ৬ হাজার ৬৩ ভোট।

এজিএস পদে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ১৫ হাজার ৩০১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ফারুক হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৯৬ ভোট।

এছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন সাদ বিন কাদের চৌধুরী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন আরিফ ইবনে আলী। কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন লিপি আক্তার।

আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন শাহরিমা তানজিম অর্নি। সাহিত্য সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন মাজহারুল কবির শয়ন। সংস্কৃতি সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন আসিফ তালুকদার।

ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন শাকিল আহমেদ তানভীর। ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন শামস-ঈ-নোমান। সমাজসেবা সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন আখতার হোসেন।

ডাকসু নির্বাচনের ২৫টি পদের একটি বাদে অন্যগুলোতে ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন। শুধু সমাজসেবা সম্পাদক পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আখতার হোসেন জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে ২২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৩ জন।

এছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন। এর বাইরে ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে ৮৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ছাত্রলীগকে জেতাতে ঢাবি ভিসিকে সরকারের নির্দেশ!


দীর্ঘ ২৯ বছর পর আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন। ২৯ বছর ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসে যে ধরণের উৎসব বিরাজ করার কথা ছিল তা নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যকোনো প্যানেল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কোনো আনন্দ লক্ষ্য করা যায়নি। সবার মধ্যেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিয়ে একটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

এর আগেও অ্যানালাইসিস বিডিতে একাধিক অনুসন্ধ্যান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডাকসু নির্বাচনটা একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতোই হবে। আওয়ামী লীগকে জেতাতে সিইসি নুরুল হুদা যে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছিলেন, ঢাবি ভিসি ড. আখতারুজ্জামানও ছাত্রলীগের প্যানেলকে জয়ী করতে ঠিক সেই পরিকল্পনা মাফিক সব কিছু করেছেন। যেমন-তড়িগড়ি তফসিল ঘোষণা, বিরোধী প্যানেলের সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থীদের প্রার্থীতা বাতিল, নির্বাচনী প্রচারে সুযোগ না দেয়া, অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীদের প্রচারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করলেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়া। মূলত ছাত্রলীগের বিপক্ষের কোনো প্যানেলের প্রার্থীদের অভিযোগকে পাত্তাই দেননি ঢাবি ভিসি।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় ছিল, হলে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করে অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীদেরকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারে বাধ্য করেছে ছাত্রলীগ। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে ঢাবি প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাবি ক্যাম্পাসে সব কিছুই ছিল ছাত্রলীগের অনুকূলে। সবই ছিল ছাত্রলীগকে জেতাতে ঢাবি প্রশাসনের মাস্টার প্লান।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রলীগের প্যানেলকে জয়ী করতে যা যা করার দরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন করেছে।

প্রথমত: ভোট হবে হলে আর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবে ক্যাম্পাসে। হলগুলো এমনিতেই ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে। ভোটগ্রহণের সময় ছাত্রলীগ যা খুশি তাই করতে পারবে। এখানে বাধা দেয়ার মতো সাহস কেউ দেখাতে পারবে না।

দ্বিতীয়ত: গণমাধ্যমের ওপরও নিয়ন্ত্রণ করবে ঢাবি প্রশাসন। কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হলেও সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। বিষয়টা পরিষ্কার যে ভোট ডাকাতি চাপা দিতেই মূলত ঢাবি প্রশাসন গণমাধ্যমের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

তৃতীয়ত: বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নামে অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দিয়েই ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর সঙ্গে হলগুলোতে ব্যালট বাক্স পাঠানো হয়েছে রাতেই। বিরোধী প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা রাতেই ব্যালট দিয়ে বাক্স ভর্তি করতে পারে।

চতুর্থত: একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজনের কথা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সূত্রেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ছাত্রলীগকে জেতাতে হবে এটাই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ভিসি আখতারুজ্জামানকে বলে দেয়া হয়েছে আপনাকে এই পদে থাকতে হলে সরকারের নির্দেশ মতোই কাজ করতে হবে। ভিপি, জিএস, এজিএসসহ সব সম্পদক পদগুলোতে অবশ্যই ছাত্রলীগের নেতারা থাকতে হবে। আর সদস্য পদ কিছু চলে গেলে সমস্যা নেই।

জানা গেছে, ঢাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকার ও ছাত্রলীগকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তারা সব কিছুই ব্যবস্থা করেছেন। ছাত্রলীগকে বলে দেয়া হয়েছে তোমরা তোমাদের মত কাজ কর। বাকীটা আমরা দেখবো।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ডাকসু নির্বাচনকেও কলঙ্কিত করা হলো: বিএনপি


জাতীয় নির্বাচনের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকেও কলঙ্কিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি।

সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতের ভোটের সংস্কৃতি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বের হতে পারেনি। আজ ডাকসু নির্বাচনকেও কলঙ্কিত করা হলো।

‘গত রাতেও ব্যালটবাক্স ভরানো হয়েছে, যার প্রমাণ পাওয়া গেল আজ কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট।’

রিজভী বলেন, সাধারণ ছাত্রছাত্রীসহ বিরোধী ছাত্র সংগঠনের সমর্থকরা যাতে ভোট দিতে না পারে, সে জন্য পুলিশ অবিশ্বাস্য রকমের তৎপরতা শুরু করেছে। সব হলে হলে ছাত্রলীগের মহড়া চলছে। এ নির্বাচনের পরিণতি নিয়ে জনমনে সংশয় গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, ডাকসু একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। আমাদের ভাষা, স্বাধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্রসহ সব অধিকার আন্দোলনে ডাকসুর ভূমিকা ছিল অগ্রগামী। আজ ডাকসুর নির্বাচন। দেশে বিদ্যমান নাৎসিবাদী পরিকাঠামোর মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮ বছর পর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যরাতের ভোটের স্মৃতি ডাকসু নির্বাচনেও সাধারণ ছাত্রদের তাড়িত করছে। এ নির্বাচনে সাধারণ ছাত্রদের ন্যায্য অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নাৎসিবাদী গণতন্ত্রের নানারূপ এ ডাকসু নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রতিফলিত হয়েছে।

রিজভী আরও বলেন, ঢাবির ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে ১৮টি হলে। সব সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র দাবি করেছিলেন, দাবি করেছিলেন ভোটের সময় বাড়ানোর, স্টিলের ব্যালটবাক্সের বদলে স্বচ্ছ ব্যালটবাক্স দাবি করেছিলেন, রাতের ভোটের আতঙ্কে রাতে যেন ব্যালট বাক্স না নেয়া হয়, সে দাবিও প্রার্থীরা করেছিলেন। কিন্তু এসব দাবি নাকচ করা হয়েছে।

ডাকসু নির্বাচনে মিডিয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৮টি কেন্দ্রের জন্য টেলিভিশন মাধ্যমের চারটি ইউনিট ও প্রিন্ট মিডিয়ার দুজনকে ঢুকতে দেয়া হবে। অর্থাৎ সংবাদ সংগ্রহে কড়াকড়ি বিধিনিষেধ, তথ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। ডিজিটাল বাংলাদেশের উল্লাসে অস্থির ক্ষমতাসীনদের রাজত্বে এখন কি দশা হলো যে মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিকস ডিভাইস বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

‘আজ নির্বাচনের দিন সব ধরনের অনিয়মের প্রমাণ না রাখা। ইতিমধ্যে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৫ জন, যা ডাকসুর ইতিহাসে নজিরবিহীন। ছাত্রলীগের ভয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এ রকম বেশ কিছু প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।’

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, বিরোধী মতের শিক্ষকদের ডাকসু নির্বাচনে কোনো দায়িত্বে রাখা হয়নি। গত কয়েক দিনের সাধারণ ছাত্রদের জোর করে ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে সাধারণ ছাত্রদের হুমকি দিয়ে হলগুলো পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।

‘মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ডাকসু নির্বাচন সরকারেরই নীতি ও নীলনকশা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিনা। এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যাবতীয় আয়োজন ছাত্রলীগকে অবৈধপন্থায় বিজয়ী করার অনুকূলে।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here