আবারও ছাত্রকে জিম্মি করে চাঁদা নিল ছাত্রলীগের ৪ নেতা

0
114

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে শিবির আখ্যা দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের ঘটনা তিনমাস আগের। এবার এক শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী ও ছাত্রদল কর্মী আখ্যা দিয়ে দশ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের সেই নেতা শাফিউর শাফিসহ ছাত্রলীগের তিন নেতার বিরুদ্ধে।

গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি চাওর হয়।

ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন, শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্ত, সহ-সম্পাদক আরমান কায়সার আবির, শফিউর সাফি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আল ওয়াসী জীম।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য, সোমবার সন্ধ্যায় আবির, জীম ও সফি ইমরানকে বৃত্তের সঙ্গে দেখা করতে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর তাকে মাদক ব্যবসায়ী ও ছাত্রদল কর্মী আখ্যা দিয়ে বিশ হাজার টাকা দাবি করে বৃত্ত। টাকা না দিলে তাকে মারধর ও পুলিশে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়।

পরে সেখান থেকে ইমরান চলে আসার পর সফি, আবির ও জীম বৃত্তকে টাকা দেয়ার জন্য বারবার চাপ দেয়। একপর্যায়ে সে দুই হাজার টাকা বিকাশ করে পাঠায় এবং বাকি টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে বৃত্ত তাকে মারধর করেন। পরে ইমরান তার কয়েকজন বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিয়ে দশ হাজার টাকা বৃত্তের হাতে দেন।

তবে অভিযুক্তরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি-ইমরানের সঙ্গে তার এক বন্ধুর ঝামেলা হয়েছিল। সেই ঝামেলা মিমাংসা করার জন্য ইমরানকে ডেকে কথা বলা হয়েছে কিন্তু মারধর ও চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে শাফিউর শাফির বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর হস্তক্ষেপে টাকা ফিরে পায় ওই শিক্ষার্থী।

আবারও একই ঘটনার জন্ম দেয়ার বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। রাতে আমরা ওই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিঃ মহাজোটের শরীক জাসদের স্বীকারোক্তি!


ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার কথা কবুল করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। এজন্য প্রশাসনে অতি উৎসাহী একটি অংশ দায়ী বলে মনে করছে দলটি।

গত ১লা ও ২রা ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ জাসদ-এর জাতীয় কমিটির সাধারণ সভায় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে এভাবে মূল্যায়ন করা হয়। পরে এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জাসদ তাদের সভার মূল্যায়ন তুলে বলে, দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি। এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রশাসনের এক শ্রেণির অতি উৎসাহী অংশ ভোটের পূর্ব রাত্রেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের জয় এই নির্বাচনে ‘নিশ্চিত’ ছিল উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাসদ বলেছে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে ১৪ দল তথা মহাজোটের নিশ্চিত বিজয় জেনেও যে মহল বিশেষ এ অপকর্ম সংঘটিত করেছে, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কেননা এ কলঙ্কিত ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এ কলঙ্কের দাগ মুছতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে দলটি।

ঢাকার তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, মোহাম্মদ খালেদ, আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, নাসিরুল হক নওয়াব, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সহ-সভাপতি আবু মো. হাশেম, কলন্দর আলী, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদার, আবুল কালাম আজাদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল হক খোকন, বীণা শিকদার, হোসাইন আহমদ তফসির প্রমুখ।

সভায় দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদসহ সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানানো হয়। এ দাবিতে বাংলাদেশ জাসদ আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারী দেশব্যাপী মানববন্ধন, সভা, শোভাযাত্রা, মত বিনিময় প্রভৃতির মাধ্যমে দলীয় মার্কামুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিবস পালন করবে।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারী দলের প্রয়াত নেতা কাজী আরেফ স্মরণে ‘কাজী আরেফ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ। সভা থেকে আগামী অক্টোবরের আগে জেলা সম্মেলন এবং নভেম্বররে কেন্দ্রীয় সম্মেলন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটি।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‘রাতের ভোট নিয়ে জাসদের বক্তব্যের কী জবাব দেবেন কাদের’


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্সভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার কথা স্বীকার করে জাসদ যে বক্তব্য দিয়েছে তার কী জবাব দেবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) বলেছে, ২৯ তারিখ রাতেই ব্যালটবক্স ভরা হয়। এখন আওয়ামী লীগের ‘ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি’ ওবায়দুল কাদের কী জবাব দেবেন।

প্রসঙ্গত, জাসদের জাতীয় কমিটির সাধারণ সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এতে বলা হয়, ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্সভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার কথা কবুল করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

গত ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাসদের জাতীয় কমিটির সাধারণ সভা হয়। এতে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে এভাবে মূল্যায়ন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত সভার মূল বিষয় নিয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জাসদ তাদের সভার মূল্যায়ন তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়েছে দেশের সব রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি।

এর মূল কারণ হিসেবে প্রশাসনের একটি অংশকে দায়ী করে বলা হয়, প্রশাসনের একশ্রেণির অতি উৎসাহী অংশ ভোটের আগের রাতেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্সভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে।

উৎসঃ ‌jugantor

আরও পড়ুনঃ ছাত্রদল করায় ৩ চিকিৎসককে পুলিশে দিল ছাত্রলীগ


ছাত্রদল করায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩ ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হলেন, খুলনার ফুলতলা এলাকার ফজলুল হকের ছেলে রাফসান জনি আবির, একই এলাকার কাজী আহসানুল হকের ছেলে কাজী আবু তালহা ও যশোরের ঝিকরগাছা এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে মাহফুজুর রহমান শিমুল।

আটক চিকিৎসকদের মধ্যে আবির মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, শিমুল সহসভাপতি এবং তালহা সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে ক্যাম্পাস সূত্র। তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ৪৪তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, মেডিকেল কলেজের ৪৬ ব্যাচের ছাত্র ছাত্রলীগ নেতা ফেরদৌস ও সজল পান্ডের নেতৃত্বে আরও কয়েকজন কর্মী আবির, শিমুল ও তালহার ওপর হামলা চালান। এ সময় পিটিয়ে তাদের ৩ জনকে আহত করেন। পরে পুলিশে সোপর্দ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সজল পান্ডে বলেন, শিমুল একসময় শিবিরের রাজনীতি করলেও এখন ছাত্রদলে যোগ দিয়েছে। এছাড়া বিএনপির আমলে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অনেক অত্যাচার নির্যাতন করেছিল আটক ওই তিনজন। তারা দির্ঘদিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিল। দুপুরে তাদের ক্যাম্পাসে পেয়ে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের রোষাণল থেকে বাঁচাতে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম জানান, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সরকারবিরোধী নানা অপপ্রচার চালানোরও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় নেই বাংলাদেশ


নাগরিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারের বিচারে তৈরি মুক্ত গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশকে ‘আংশিক মুক্ত’ গণতন্ত্রের দেশহিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউস। সংস্থাটির ‘ফ্রিডম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড-২০১৯’ শীর্ষক রিপোর্টে দেখা যায়, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১০০ পয়েন্টের মধ্যে ৪১ পয়েন্ট লাভ করেছে।

সুনির্দিষ্টভাবে রাজনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ৭ স্তরবিশিষ্ট নিম্নমুখী সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম স্তরে। একই ভাবে নাগরিক স্বাধীনতার সূচকেও বাংলাদেশ পঞ্চম অবস্থানে। আর সামগ্রিকভাগে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ৭ স্তর বিশিষ্ট নিম্নমুখী সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম স্তরে। আর ১০০ স্তরবিশিষ্ট সূচকে বাংলাদেশ পেয়েছে ৪১ পয়েন্ট। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ন চালিয়েছে।

তারা নন্দিত ব্যক্তিদেরকে গ্রেপ্তার ও ভীতি প্রদর্শন করেছে। আর ব্যাপক অনিয়মের কারণে ওই নির্বাচন চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সহিংসতা ঘটেছে। যাতে এক ডজনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

শুধু বাংলাদেশই না, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলেও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি ঘটছে। ফ্রিডম হাউসের গবেষণা রিপোর্ট বলছে, টানা ১৩ বছর ধরে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অবনতি দেখছে বিশ্ব। সুপ্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশ থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে থাকা দেশ পর্যন্ত, সব খানেই গণতন্ত্রের স্বাধীনতাসূচক নিম্নমুখী। এর কারণ হিসেবে সংস্থাটি মনে করে, বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মেরূকরণের কারণেই পূর্বের তুলনায় অধিক দেশ এখন কর্তৃত্ববাদের প্রতি ঝুঁকছে। আর এতে গণতন্ত্র পিছু হটছে।

রিপোর্টে গণতান্ত্রিক অবস্থার ভিত্তিতে বিশ্বের দেশগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো মুক্ত, আংশিক মুক্ত ও মুক্ত না। পূর্ববর্তী কয়েক বছরের মতো এবারো বাংলাদেশের ঠাঁই হয়েছে আংশিক মুক্ত ক্যাটাগরিতে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও মিয়ানমারও আংশিক মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে ভারত মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় রয়েছে। দেশটির স্কোর ৭৫। বৈশ্বিক পর্যায়ে গণতান্ত্রিক সূচকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সুইডেন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। ইউরোপের এই দেশগুলো ১০০ পয়েন্টের মধ্যে পুরো পয়েন্ট অর্জন করেছে। মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশটির গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ফ্রিডম হাউস।

উৎসঃ ‌ফ্রিডম হাউসের রিপোর্ট

আরও পড়ুনঃ কাদেরকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ডাক রুহুল কবির রিজভীর


বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ওবায়দুল কাদের এখন স্বেচ্ছায় বিএনপির উপদেষ্টা হতে চলেছেন। খামাখা আওয়ামী লীগে থেকে তাঁর লাভ কী? বরং ওবায়দুল কাদেরকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, বিএনপির দরজা খোলা আছে।’ আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রতিনিয়ত বিএনপিকে উপদেশ দিচ্ছেন। সভা-সমিতি, মঞ্চ, গণমাধ্যম ও ব্রিফিংয়ে বিএনপির কী করা উচিত, বিএনপির পরিণতি কী হবে, বিএনপি নির্বাচনভীতিতে ভুগছে, বিএনপি সংসদে যোগ দেবে ইত্যাদি নানা কথার ‘খই ফুটাচ্ছেন’ প্রতিদিন। তিনি বলেন, সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের ‘শালীনতা’, ‘ভব্যতার গুণমান’ বিবেচনা না করে বিএনপির বিরুদ্ধে ক্রমাগত উপদেশের ভাঙা টেপ রেকর্ড বাজিয়েই চলেছেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, ‘অনাচারের’ পাহাড়সমান স্তূপে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ভীতসন্ত্রস্ত, কখন কী হয় আতঙ্কে তাঁদের সারা দিন কাটে। বিভিন্ন এলাকায় তাঁরা তলেতলে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা শুরু করেছেন। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আওয়ামী নেতা-কর্মীরা আসলেই উদ্বিগ্ন। ক্ষমতার বৃক্ষ ‘উপড়ে’ যাওয়ার পর অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা গভীর দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সে জন্য স্বেচ্ছায় বিএনপির উপদেষ্টার আসনে বসতে চাইছেন ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য নেতারা।

এ সময় রিজভী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সংসদে না গেলেও প্রতিনিয়ত বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে নিয়ে সংসদে বিষোদ্‌গার করছেন প্রধানমন্ত্রী। সবার বাক্‌স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে একাই লাগামহীন কথাবার্তা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী দলকে কারাগারে ঢুকিয়ে নির্বাচনী ময়দান শূন্য করার পর বিজয় তো প্রত্যাশিত হবেই।’

খালেদা জিয়ার বিষয়ে রিজভী বলেন, পথের কাঁটা সরানোর জন্য খালেদা জিয়ার মতো বিপুল জনপ্রিয় একজন জাতীয় নেত্রীকে এক বছর ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। দাগি খুনিদের মুক্তি দিয়ে নির্দোষ ব্যক্তি জাহালমকে তারা জেল খাটায়। বাহুবলে বিরোধী শক্তিকে তারা নির্মূল করার চেষ্টায় লিপ্ত। জাতীয় থেকে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত দুর্নীতির বিস্তার, নারী-শিশু নির্যাতনের ভয়ংকর প্রকোপ, সড়কে মৃত্যুর মিছিল, গুম ও খুনের ভয়াবহ আধিপত্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণসহ দেশব্যাপী গণতন্ত্র এখন হাহাকার করছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নীতির প্রতি যারা অবাধ্য, তাদের ঠিকানা হচ্ছে কারাগার।

বিএনপি নেতা রিজভী আরও বলেন, ‘আজ বিএনপির চেয়ারপারসন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, গণমানুষের নেত্রী, গণতন্ত্রের প্রতীক ও গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকে প্রতিহিংসা পূরণের সাজা দেওয়ার এক বছর পূর্ণ হলো। চরম অবিচার আর অন্যায়ের আঘাতে খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করা হয়েছে। এটি ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সাজা।’ তিনি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চান।

এ ছাড়া খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সারা দেশে বিএনপির বন্দী নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার বেলা আড়াইটায় ঢাকার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর বাদে দেশব্যাপী একই দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে বলেও জানান রিজভী।

উৎসঃ ‌prothomalo

আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে, দুদক যাচ্ছে প্রাইমারি স্কুলে!


সরকারের অনুগত দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দিন দিন ব্যাপক সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। দুর্নীতির অনুসন্ধানে তিনি সারাদেশ চষে বেড়াচ্ছেন। ছুটে চলছেন এক জেলা থেকে আরেক জেলা। তিনি এখন এমন ব্যক্তিদের পেছনে লাগছেন যাদের কাজে ফাঁকি দেয়ার কিছু সুযোগ আছে, কিন্তু দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক চাইলেও কোনো টাকা-পয়সা আত্মসাত করতে পারবেন না। কারণ, বেতন ছাড়াতো তাদের কাছে আর কোনো টাকা আসে না। তবে ক্লাস ফাঁকি দেয়ার একটা সুযোগ তাদের আছে। কিন্তু দুদক চেয়ারম্যান বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরছেন যেন রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম-দুর্নীতি শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই হচ্ছে।

রোববার চট্টগ্রামের ৩টি স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। একটি স্কুলে ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭ জনই অনুপস্থিত ছিল। এটা অবশ্যই বড় ধরণের অন্যায় ও শিক্ষার জন্য খুবই ভয়ঙ্কর বিষয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসলে শিক্ষার নামে কি হচ্ছে সেটা বেরিয়ে এসেছে।

এখন প্রশ্ন হলো-শুধু প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে দৌড়ানোই কি দুদকের মূল কাজ?

বিগত কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের লাখ লাখ কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া দরবেশ নামে খ্যাত সেই সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুটকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তির নির্দেশেই ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান সরাসরি এই রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত। অথচ এনিয়ে দুদক নীরব ভুমিকা পালন করছে।

রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় দুর্নীতির আখড়া হিসেবে খ্যাত। টিআইবির পক্ষ থেকে কয়েক মাস পর পরই রাষ্ট্রের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিভিন্ন অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজদের নিয়ে সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি দুদককে।

এছাড়া, প্রতিবছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টেগ্রিটির মতে, শুধু ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ২০১৬ সালেও সংস্থাটি এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তারপর পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতেও বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের নাম এসেছিল। কিন্তু এসব বিষয়েও দুদকের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলেও এসবের তদন্ত করার কোনো প্রয়োজনীয়তা মনে করছে না দুদক।

তবে, বিরোধীদলের কোনো নেতার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য পেলে সেটা নিয়ে আবার ডাকঢোল পিটিয়ে মাঠে নামে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছে, সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি চাপা দিতেই দুদক চেয়ারম্যান এখন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে লেগেছেন। প্রাইমারি স্কুলের তদারকির জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসই যথেষ্ট। দুর্নীতিবাজদের ধরার নামে দুদক চেয়ারম্যান আইওয়াশ করছেন।

কেউ কেউ বলছেন, দুদক চেয়ারম্যান এখন সরকারের দাসে পরিণত হয়েছেন। দাস যেমন মনিবের অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না, ইকবাল মাহমুদও ঠিক দাসের মতো সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে আর দুদক ব্যস্ত শিক্ষকদের নিয়ে: হাইকোর্ট


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যকলাপে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেছেন, ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে আর শিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুদক।

বৃহস্পতিবার কোচিং সেন্টার নিয়ে শুনানিকালে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ এ কথা বলেন।

আদালত বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বড় বড় রাঘববোয়ালদের ধরে এনে ছেড়ে দিয়ে স্কুলশিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুদক।

যেখানে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে, সেখানে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা স্কুলে যাচ্ছেন কি যাচ্ছেন না তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তারা।

দুদক দুর্নীতিবাজ রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না উল্লেখ করে আদালত বলেন, ছোট দুর্নীতির আগে বড় বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। তবেই দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে।

উৎসঃ ‌juganto

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here