এবার ছাত্রলীগ নেতা তফিউজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে, ঢাবি ছাত্রীকে অপহরণের করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা

0
253

বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইন্সটিটিউটের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে।

বুধবার লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানার দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ওই শিক্ষার্থী জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় হাতিবান্ধা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তফিউজ্জামান জুয়েলকে প্রধান আসামি করে হাতিবান্ধা থানায় মামলা দায়ের করেছেন ওই শিক্ষার্থীর মা মাসুদা আখতার।

ছাত্রলীগ নেতা তফিউজ্জামান জুয়েল, তাকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছেন ওই শিক্ষার্থীর মা ছাত্রলীগ নেতা তফিউজ্জামান জুয়েল, তাকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছেন ওই শিক্ষার্থীর মা জুয়েলের সহযোগী ওমর ফারুক মানিক, মো. রানা, মো. ফেরদৌস এবং মাইক্রোবাস চালক মো. জহুরুলকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে জহুরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে হাতিবান্ধা থানার ওসি ওমর ফারুক জানিয়েছেন।

ঘটনার শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের ওই শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘আমরাই পারি’ নামে একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাজের অংশ হিসেবে দুটি মাইক্রোবাসে করে তারা ১৭ জন বন্ধু বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় হেলিপ্যাডে যান।

“ফেরার পথে জুয়েলসহ সাত-আটজন মাইক্রোবাসের পথরোধ করে অস্ত্র বের করে অন্যদের নামিয়ে দিয়ে আমার মুখ বেঁধে ফেলেন। এ সময় বন্ধু-বান্ধবীরা আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাদেরকেও ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করেন জুয়েল। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আমাকেও লাথি, কিল-ঘুষি মারা হয়। চিৎকার চেঁচামেচির ফলে স্থানীয় লোকজন চলে আসায় দৌঁড়ে পালিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলে করে বাড়ি চলে আসি।”

ওই ছাত্রী বলেন, “আমাকে অনেক দিন আগে থেকেই উনি বিরক্ত করতেন। এক বছর আগে আমাদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব দেন, আমরা সেটা রিফিউজ করে দেই। তারপর থেকে মেসেঞ্জারে নানাভাবে মেসেজ দিতেন, আমি দেখতামও না, পরে ব্লকড করে দিয়েছি। এরপরই উনি এই কাজটা করেছেন।

“এলাকায় হেন কোনো খারাপ কাজ নেই যা উনি করেন না। উনি একটা দুশ্চরিত্রের লোক। এলাকার অনেক মেয়েকেই উনি বিরক্ত করেন।”

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য তফিউজ্জামান জুয়েলের ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে হাতিবান্ধা থানার ওসি ওমর ফারুক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। আসামিদের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওই শিক্ষার্থীর বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের এমবিএ-এর ছাত্র এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক উপ-সম্পাদক। মামলার পাশাপাশি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি যেহেতু পারিবারিক পর্যায়ে ঘটেছে তাই প্রথমে সেখান থেকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সে যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাই আমরা তাকে সর্বাত্মক সহায়তা করব।

“তার নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিতে বলেছি, আর কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে ওকে আসতে বলেছি।”

সুত্রঃ ‌বিডিনিউজ

আরও পড়ুনঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা,ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তফিউজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ৩য় বর্ষের ছাত্রী সিথি কিবরিয়াকে অপহরনের দায়ে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার সকালে জহুরুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, ঢাবি ছাত্রী সিথি কিবরিয়া লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকতার গোলাম কিবরিয়ার মেয়ে। হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তফিউজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে এ মামলা হয়। সিথি কিবরিয়ার মা মাসুদা আখতার বানু বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আলী আকতার গোলাম কিবরিয়া হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন সরকারী কলেজের প্রফেসর। অপরদিকে তফিউজ্জামান জুয়েল নিলফামারী জেলার ডিমলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মামলা সুত্রে জানা যায়, সিথি কিবরিয়া তার সহপাঠীসহ ‘আমরাই পারি’ নামে একটি সংগঠনের অনুষ্ঠান শেষে গত বুধবার বিকেলে মাইক্রোবাস যোগে হাতীবান্ধা তিস্তা ব্যারাজ থেকে বাসায় ফিরছিলো। এমন সময় তফিউজ্জামান জুয়েলসহ কয়েকজন মাইক্রোবাসটি গতিরোধ করে সিথি কিবরিয়াকে অপহরন করেন।

এ সময় সিথি কিবরিয়ার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে জুয়েল ও তার সহযোগীরা সিথিকে রেখে পালিয়ে যায়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে তফিউজ্জামান জুয়েল কিছুদিন পূর্বে সিথি কিবরিয়ার পরিবারকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ওই প্রস্তাবে সিথির পরিবার রাজি হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা তফিউজ্জামান জুয়েল জানান, ঘটনার দিন আমি সকাল সন্ধ্যা সরকারী কাজে কর্মস্থলে ব্যাস্ত ছিলাম। সিথির পরিবারের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। আমি ওই পরিবারের কাছে টাকা পাই। পাওনা টাকা চাওয়ার অপরাধে একটি নাটক সাজিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

হাতীবান্ধা থানার ওসি ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাইক্রোবাসের চালক জহুরুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সুত্রঃ ‌ক্যাম্পাসলাইভ২৪

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here