সেহেরির সময় ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারীর হামলা (ভিডিও সহ)।

0
122

সেহেরির সময়ে ঢাবির রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তারকে ডেকে নিয়ে তার উপরে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানি! ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের ওপর হামলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জেরে শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই পদবঞ্চিত।

এ ঘটনায় টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়েছেন হামলার শিকার নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

ভিডিওঃ  ‘সেহেরির সময় ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারীর হামলা (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তারা অভিযোগ করেন, রোকেয়া হল ছাত্রলীগ সভাপতি বিএম লিপি আক্তার, সুফিয়া কামাল হলের সাধারণ সম্পাদক সারজিয়া শারমিন চম্পা ও কেন্দ্রীয় সংসদের উপ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদারকে মারধর করেন গোলাম রাব্বানী। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান বলেন, আমাদের সঙ্গে তারা বসেছিলেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাব্বানী ভাই লিপি, সম্পা ও তিলোত্তমা আপুর গায়ে হাত তোলেন। আমরা এর নিন্দা জানাই।

এ হামলার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন লাঞ্ছিত নেত্রীরা ও পদবঞ্চিতরা। তিনি বলেন, আমরা এখন রাজুতে (রাজু ভাস্কর্য) অবস্থান নিয়েছি। এ ঘটনার বিচার চাই। আর কতদিন এভাবে মার খেতে হবে ছাত্রলীগের মেয়েদের।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌দেশে প্রয়োজনের চেয়ে ধান উৎপাদন বেশি হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী


কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, দেশে ধানের দাম অস্বাভাবিক কম। তবে দ্রুত সমাধান কঠিন। এ সংকট নিরসনে সীমিত পর্যায়ে চাল রপ্তানির চিন্তা করা হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর আইইডিবি সম্মেলন কক্ষে ‘জলবায়ু পরিবর্তন : কৃষিখাতের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, গোটা বিশ্বে এখন চ্যালেঞ্জিং ইস্যু বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন। এ কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কৃষিখাত। তবে নানা সমস্যা থাকলেও বাংলাদেশে প্রয়োজনের চেয়ে ধান উৎপাদন বেশি হচ্ছে।

ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইডিবি), কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) এবং বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের (বিসিজেএফ) যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান বা চাল কেনা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, সারাদেশ থেকে চাষীদের নির্বাচন করা সহজ নয়। বাংলাদেশে কৃষিখাতে বিপ্লব হয়েছে। ফ্রান্সের মতো এদেশের চাষীরাও এখন ড্রামভর্তি দুধ রাস্তায়, ট্রাকভর্তি টমেটো হাইওয়েতে ফেলে দেয়। আমরা সবসময় চাই খাবার ও চালের দাম কম থাকুক। দেশে অধিক ধান উৎপাদন এখন বিড়ম্বনা হয়েছে।

ধানের দাম কম হওয়ায় ক্ষেতে কৃষকের আগুন দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকজন আবেগের বশে ধানক্ষেতে আগুন দিয়েছে। আমি মনে করি, মানুষ দায়িত্বশীল। তারা নিজের ক্ষেত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলবে। এটা হতে পারে না।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, যে সমস্যা হয়েছে আমরা অবশ্যই এর সমাধান করবো। কৃষিকে আধুনিকীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে সমাধান হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষতি থেকে কৃষকদের রক্ষার্থে করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যা সমাধানে আপাতত সমাধান হলো বিদেশের বাজারে রপ্তানি। তবে বাংলাদেশ বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কোনো কারণে ধান নষ্ট হলে খাদ্যঘাটতি হবে। বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে। বিভিন্ন ঝুঁকি বিবেচনার পরও সীমিত পর্যায়ে রপ্তানির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। রপ্তানির বাজারে যাওয়াও কঠিন। এক্ষেত্রে আমাদের ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে।

আইডিইবির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমানের সভাপতিত্বে ও বিসিজেএফ সভাপতি কাওসার রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. খলীকুজ্জামান আহমদ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ নিজেদের নেতার চার আঙুল কেটে নিল


দা দিয়ে সাতক্ষীরা কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জি এম তুষারের ডান হাতের চারটি আঙুল কেটে দিয়েছেন তারই সংগঠনের নেতারা।

শনিবার দুপুরে কলারোয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে বিকালে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়।

কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু জানান, আজ (শনিবার) সকালে কলারোয়ার মুরারিকাঠি গ্রামে বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে যান ইলেকট্রনিক্স দোকানি ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জি এম তুষার। সেখানে তার সঙ্গে বচসা হয় ছাত্রলীগের পলাশ, সিজান ও মন্টুর।

একপর্যায়ে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে দুইপক্ষই কমবেশি আহত হন। পরে আহত তুষার কলারোয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান।

মারধরের বিষয়টি নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ সাগর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান নাইস তাদের সঙ্গীদের নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তুষারের ওপর হামলা করেন।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শফিকুল ইসলামের সামনেই নাইস তার কাছে থাকা ধারালো দা দিয়ে মাথায় আঘাত করতে গেলে তুষার ডান হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাতের চারটি আঙুল কেটে পড়ে যায়। সেখান থেকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

কলারোয়া থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত রেজাউল ইসলাম নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌‘খালেদা জিয়া ছাড়া আমাদের বেঁচে থেকে লাভ হবে না’


দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাড়া আমাদের বেঁচে থেকে কোনো লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, এই স্বৈরাচারী সরকার থেকে রেহাই পাব না।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়া দুই তিন দিন ধরে কিছু খেতে পারছেন না।

শনিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজনে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসানের সুস্থতা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল সরদারের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

নজরুল ইসলাম বলেন, দেশনেত্রীর জিহবায় কামড় লেগে ঘা হয়ে গেছে। ডায়াবেটিস থাকায় ঘা শুকাচ্ছে না। গত দুই তিন দিন ধরে কিছু খেতে পারছেন না। বেঁচে থাকার জন্য মাঝে মাঝে জাও ভাত খাচ্ছেন।

শ্রমিক দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি কাজী আমির খসরুর সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ। এছাড়া শ্রমিক দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে সংবাদ পাঠিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ

তানিশা, ফারজানা করিম, শবনম ও সঙ্গীতাসহ সংবাদ পাঠিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে

চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে সংবাদ পাঠিকা এবং নারী কর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, যৌন নিপীড়ন এবং নানা রকম হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। যা নারী নির্যাতন এবং কর্মস্থলে পরিবেশ লংঘনের শামিল বলে জানা গেছে। নারীদের সঙ্গে তিনি কুৎসিত অরুচিকর আচরণ করছেন বলে সেখান থেকে চাকরি ছেড়ে দেওয়া একাধিক নারী সংবাদ পাঠিকা অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাকরি ছাড়তে তাদের বাধ্য করা হয়েছে।

এদের মধ্যে রয়েছেন তানিশা, ফারজানা করিম, শবনম ও সঙ্গীতা। এরা সবাই জনপ্রিয় সংবাদ পাঠিকা। যারা বাদ পড়েছেন তারা বলেছেন যে, আমরা নারী নির্যাতন নিয়ে কথা বলছি, যৌন হয়রা্নির বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছি। অথচ চ্যানেল আইয়ে শাইখ সিরাজ যা করছেন তার বিচারের কি হবে? সেটারও তদন্ত হওয়া উচিত। নারীদের এক হওয়া উচিত। এটারও বিচার হওয়া উচিত। শাইখ সিরাজের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে চ্যানেল আই এখন অনিরাপদ কর্মস্থলে পরিণত হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌বাংলা ইনসাইডার

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ


দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব বিএনপি চেয়ারপান বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিতে গতকাল ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি।

শুক্রবার সকালে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিজয়নগর থেকে শুরু হয় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে কয়েকশত নেতাকর্মী মিছিলে যোগ দেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহসভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মিছিল থেকে ‘আমার নেতা তোমার নেতা শহীদ জিয়া শহীদ জিয়া, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই দিতে হবে দিতে হবে’, ‘স্বৈরাচারের পতন হবেই এবার নিশ্চয়’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

মিছিল পূর্ব সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে টিএস আইয়ুব বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এই দেশের মানুষ বারবার জীবন দিয়েছে। কিন্তু আজ দেশ থেকে গণতন্ত্র বিতাড়িত করে দেয়া হয়েছে। তাই গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে, মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হলে গণতন্ত্রের মূর্তপ্রতিক বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতেই হবে।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌কারাবিধি মোতাবেক ইফতার করবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা


রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মানে আগামী ২৮ মে রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করছে বিএনপি। সেখানে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে কারাবিধি মোতাবেক দেয়া ইফতারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইফতার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। জনপ্রতি ৩০ টাকা করে ইফতার করবেন তারা।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে বলেন, ২৮ মে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করেছে বিএনপি। সেখানে সম্মানিত অতিথি ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়াকে কারাবিধি মোতাবেক দেয়া ইফতার এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইফতার করবেন। দলের চেয়ারপারসনকে ইফতারের জন্য যে বরাদ্দ তার সমান অর্থাৎ জনপ্রতি ৩০ টাকার বেশি নেতাকর্মীরা ইফতার খাবেন না।

এর আগে বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক ইফতার মাহফিলে জনপ্রতি ৩০ টাকার ইফতার করার ঘোষণা দেন ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ- সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবিধি মোতাবেক দেয়া ইফতারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইফতার মাহফিল-২০১৯’ শিরোনামে ওই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনপ্রতি ৩০ টাকার ইফতার করার উদ্যোগকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারম্যান তারেক রহমানের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। শুধু কেরানীগঞ্জের নেতাকর্মী নয়, সারাদেশের নেতাকর্মীদের বলব, আমরা শপথ নেই আজ থেকে আমরা কেউ ৩০ টাকার বেশি ইফতার খাব না।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী ঘোষণা দেন, কেরানীগঞ্জের নেতাকর্মীরা জনপ্রতি ৩০ টাকার বেশি ইফতার খাবেন না।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ধান কিনে দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই সরকারের: কৃষিমন্ত্রী


এ মুহূর্তে ধান কিনে দাম বাড়ানোর সুযোগ সরকারের হাতে নেই বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। তবে ধানের ন্যায্যমূল্য বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এটা নিয়ে তিনি খুবই চিন্তিত।’

শনিবার (১৮ মে) রাজধানীর আইডিইবি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম (বিসিজেএফ) আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন: কৃষিখাতের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের কৃষকদের আশ্বস্ত করে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘ধানের দাম নিয়ে যে সমস্যা হয়েছে তা দ্রুতই সমাধান করা হবে। কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য দেয়া হবে।’

কৃষকরা ধানের দাম না পেয়ে ক্ষোভে-দুঃখে ধান ক্ষেত জ্বালিয়ে দিচ্ছেন- এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এমন ঘটনা দেশের দু-একজন কৃষক করেছেন। সারা দেশে কিন্তু এমনটি হচ্ছে না।’

আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, ‘কৃষকদের ধানের দাম নিয়ে যে সমস্যা তার তাৎক্ষণিক সমাধান হচ্ছে, ধানের রপ্তানি বাড়ানো। আমরা সে চেষ্টা করছি। হারভেস্ট হয়ে গেলে সিদ্ধান্ত নেবো। এ সমস্যার সমাধান করবো।’

দেশের ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি, মিল মালিকেরা আমন চাল বিক্রি করতে পারেনি বলেই ধান দামেও কিছুটা কম বলে মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়ার কারাগার বদল সরকারের ষড়যন্ত্র: ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ


চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়ার উদ্যোগ সরকারের একটি অংশের ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত ‍অসুস্থ।তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় তাকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।এটি মেনে নেয়া হবে না। এটি মানবতাবিরোধী কাজ।

‘আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন সম্ভব না, আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে’, বারবার এমন বক্তব্য দেয়ার পরও আন্দোলন কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না কেন— এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং দ্রুত মুক্তির বিষয় নিয়ে এখানে লিখিত বক্তব্য দিয়েছি। আমরা আজ এর মধ্যেই থাকতে চাই। আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গেলে আজকের বিষয়টি ডাইভার্ড হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা করা হবে।
খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি বিএনপি চায় না উল্লেখ করে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আমরা প্যারোল চাইব না। তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ্য তার চিকিৎসা দরকার।এজন্য তার মুক্তি দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সরকার পাগল হয়ে গেছে বলেই কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছে না: আ স ম আবদুর রব


সরকার পাগল হয়ে গেছে বলেই কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেছেন, আমার মনে হয়, এ সরকার পাগল হয়ে গেছে। যার কারণে কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছে না।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জেএসডি আয়োজিত ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গভবন-গণভবনে ফসল উৎপাদিত হয় না উল্লেখ করে আবদুর রব বলেন, বঙ্গভবনে, গণভবনে, সচিবালয়ে ফসল উৎপাদন হয় না। উৎপাদন হয় ক্ষেত-খামারে। আর সেই উৎপাদন যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে দেশ চলবে কীভাবে? দেশের মানুষ বাঁচবে কীভাবে? কৃষক না বাঁচলে দেশ বাচবে কী করে? কৃষক না বাঁচলে দেশের জনগণ বাঁচবে না।

তিনি বলেন, আন্দোলন না করলে কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন না। আর দেশে গণতন্ত্রও ফিরে আসবে না।

কৃষকদের আন্দোলনেই সরকারের পতন হবে মন্তব্য করে রব বলেন,আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বর্তমান অবৈধ সরকারকে পদত্যাগ করিয়ে দেশটাকে নতুন করে গড়তে হবে।

মন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীরা কী ভুলে গেছেন তাদের বাড়ি কোথায় ছিল? তাদের পূর্বপুরুষ কী ছিল? এই সরকার বুঝতে পারছে না। দেশে আগুন জ্বলে যাবে। যেভাবে কৃষকদের ন্যায্য মূল্য দেয়া হচ্ছে না, কৃষকরা যদি একবার ক্ষেপে যায় তাহলে দেশের মানুষ না খেয়ে মরবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌জেল-জুলুম যাই হোক খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়


জেল-জুলুম উপেক্ষা করে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে প্রস্তুত হওয়ার জন্য বিএনপির নেতকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, সাজা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’তে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

গয়েশ্বর বলেন, আমরা যদি আপসহীনভাবে রাস্তায় নামতে পারি তাহলে সরকার খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রাখতে পারবে না। সেজন্য আমাদের নেতাকর্মীদের অঙ্গীকার করতে হবে, জেল-জুলুম যাই হোক-বেগম জিয়াকে মুক্ত করার জন্য যেকোনো ধরনের আন্দোলন-সংগ্রাম করতে আমরা প্রস্তুত, আমরা মাঠে নামব।

প্রধানমন্ত্রীই খালেদা জিয়ার মুক্তিতে একমাত্র বাধা অভিযোগ করে তিনি বলেন, জামিনে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কোনো বাধা নেই, একমাত্র বাধা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, রোজা রেখে বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য দোয়া করবেন। আর এরপরে রাজপথে নেমে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি পথ প্রশস্ত করবেন।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভাইরাল হওয়া একটি ফোনালাপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আদালতের কাছে কোনো ক্ষমতা নেই। সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপরে নির্ভর করে বেগম জিয়ার মুক্তি কিংবা জেলে থাকা! তাই এদেশের আইন ও আদালতের ওপরে মানুষের ভরসা করার কোনো জায়গা নাই!

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন-মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, জেবা খান, হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আ’লীগকে কথা শোনানোর ব্যবস্থা করব: মির্জা আব্বাস


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা করা হবে বলে হুশিয়ার করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আন্দোলন না করে এভাবে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার মুক্তি জানালে ক্ষমতাসীন দল ব্যবস্থা নেবে কিনা সাংবাদিকদের-এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা আমরা এক সময় করব। এত চিন্তা করে লাভ নেই।’

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি বিএনপি চায় না উল্লেখ করে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আমরা প্যারোল চাইব না। তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ্য তার চিকিৎসা দরকার।এজন্য তার মুক্তি দাবি করছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হাসপাতালে খালেদা জিয়া পায়েশ নয়, জাউ খাচ্ছেন: ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার


কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতালে পায়েশ নয় জাউ খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘তিনি (বেগম জিয়া) আয়েশ করে পায়েস খাচ্ছেন। তিনি অসুস্থতার নামে নাটক করছেন।’ দেশের একজন বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের অসুস্থতা নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী যে ধরনের বিদ্রুপ ও রসিকতা করেছেন তা নজিরবিহীন। এধরনের দৃষ্টান্ত সভ্য দেশ ও সমাজে একেবারেই বিরল।

বিএনপির এ নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, এই ক্ষতের জন্য মুখে প্রচণ্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়েছে; যার কারণে তিনি স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না, কোনো রকম জাউ খেয়ে জীবন ধারণ করছেন।

‘অথচ সরকার প্রধান থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যা শুধু অমানবিকই নয়, নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনেরও বহিঃপ্রকাশ।’

জমির উদ্দিন সরকার আরও বলেন, খালেদা জিয়ার নিউমোনিয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রবল হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও কারাগারে থাকার সময় সেখানকার পরিবেশের জন্য ভয়ংকর মাত্রার ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামের শুন্যতা দেখা দিয়েছে; যা তার হাড়ের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

তিনি বলেন, এমনিতেই অনেক আগে থেকেই তিনি (খালেদা জিয়া) বাম কাঁধ ও হাতের ব্যথায় ভুগতেন। এখন সেই ব্যথা ডান কাঁধ ও হাতেও সম্প্রসারিত হয়ে মারাত্মক রুপ ধারণ করেছে। তিনি এখন দুই হাতেই নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছেন।

‘সর্বশেষ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, ইনস্যুলিন ব্যবহারের পরেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। কারাগারের দূষণযুক্ত পরিবেশে তার স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও জীবন সবই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বেগম জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, বেগম জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য একজন বন্দির মানবাধিকারকে অবজ্ঞা করার শামিল এবং এ বক্তব্য কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিষ্ঠুর রসিকতায় একটি স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ রুপটিই ফুটে ওঠে বলে মন্তব্য করেন জমির উদ্দিন সরকার।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌কিছু নেতা চান না খালেদা জিয়া মুক্তি পাক: কর্নেল (অব.) অলি আহমদ


বিএনপিতে কিছু নেতা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চান না বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

শুক্রবার রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে এলডিপির ইফতার মাহফিলে এ মন্তব্য করেন তিনি। অলি আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কারণ কিছু ব্যক্তি চায় না খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাক।

কারও নাম উল্লেখ না করে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেয়াল যদি নিচু হয়, ছাগল লাফ দিয়ে অনেক সময় দেয়ালের উপরে উঠে যায়। তখন পাশে হয়ত মালিক দাঁড়িয়ে থাকেন। দেখা যায় অনেক সময় ছাগলের উচ্চতা মালিকের উচ্চতা থেকে অনেক বেশি হয়। ফলে ছাগল মনে করে হয়ত আমি মালিকের থেকে বেশি উঁচু। এ ধরনের রাজনীতিতে অনেক ছাগল আছে। আর ছাগলগুলো মনে করে খালেদা জিয়ার থেকেও তারা বড় নেতা। সুতরাং খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হলে অনেকের অসুবিধা হতে পারে।

২০ দলের শরিক এলডিপি প্রধান আরও বলেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলা হবে। কারণ আমরা মনে-প্রাণে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।

এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমের পরিচালনায় ইফতারপূর্ব আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতাদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, শওকত মাহমুদ, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত; ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে জামায়াতের আবদুল হালিম, খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এমএম আমিনুর রহমান, জাতীয় পার্টির (জাফর) জাফরুল্লাহ লাহরী, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, মো. ফরিদউদ্দিন, জমিয়তের মহিউদ্দিন ইকরাম, বিএমএলের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, আবু মহি মুসা, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, এনডিপির ক্বারী আবু তাহের প্রমুখ। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে: নেতাকর্মীদের দুদু


গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য এদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। নিজের অধিকার যদি অর্জন করতে হয় তাহলে ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। গণতন্ত্রের আন্দোলন বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে এখন একাকার হয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষের পাশে ন্যায়ের সংগ্রামে পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাঙালি থাকুক না কেন তারা সব সময় দেশের মানুষের পাশে থাকে। জনগণের কাছে আজ পরিষ্কার বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়।’

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের মেহমান খানা রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সময় বিকেলে মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে টেলিকনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ স্পেন শাখার উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এই মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রোজাদারদের জন্য দেশীয় ইফতারি ও পরিবেশন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজন্ম মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দেন বলে আজকে তাকে অবৈধ সরকার মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি করেছে। এ সরকার ক্ষমতা দখলকারী সরকার, যারা ভোটের নামে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সঙ্গে তামাশা করেছে। এই সরকারকে যদি ক্ষমতা থেকে অপসারণ না করা সম্ভব হয় তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা গণতন্ত্র বিপন্ন হবে।’

আয়োজক সংগঠনের আহবায়ক মাহবুবুর রহমান ঝন্টুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা জাকিরুল ইসলাম জাকি’র পরিচালনায় বক্তব্য দেন অলইউরোপ সাবেক ছাত্রদল অর্গানাইজেশন’র আহবায়ক আবু জাফর রাসেল, আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম-আহবায়ক ফখরুল হাসান, এমদাদ হাওলাদার, ব্যবসায়ী সমিতি স্পেনের সভাপতি আবুল হোসেন, কমিউনিটি নেতা আবু সায়েম, আব্দুল মুত্তাকিন মুজাক্কির, আব্দুল মুত্তালিব বাবুল, জেন্স শিপার, হুমায়ূন কবির রিগ্যান, জাকির চৌধুরী, মাঈনুদ্দীন, আল মামুন, আরাফাত হোসেন, আবু বক্কর, আমিনুল ইসলাম, আকতার হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌সরকারি ফ্ল্যাটে বালিশের মূল্য দেখে চোখ কপালে দেশবাসীর


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনের জন্য কেনা বালিশের মূল্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে দেশবাসীর।

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ভবনের জন্য ১ হাজার ৩২০টি বালিশ কেনা হয়েছে। এদের প্রতিটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর সেই প্রতিটি বালিশ নিচ থেকে ভবনের ওপরে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা!

বালিশের পেছনে এমন অসংঙ্গতিপূর্ণ ব্যয়ের কথা গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, শুধু বালিশের বিষয়েই নয় প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তোলার ব্যয়ে অসংঙ্গতি পাওয়া গেছে।

সরকারি আসবাপত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের এমন অসংঙ্গতির ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা জেলার পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে হচ্ছে গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রেটির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ১১টি ২০ তলা ও ৮টি ১৬ তলা ভবন করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ২০ তলা ৮টি ভবন ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এই ৯টি ভবনে তৈরি হয়েছে ৯৬৬টি ফ্ল্যাট।

সেই ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কিনেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে ২০ তলা একটি ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

ওই ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য কেনা টিভি, ফ্রিজ ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রো ওয়েভ কেনা হয়েছে। সেসব আসবাবের ক্রয় মূল্য ও সেগুলোকে ফ্ল্যাটে তুলতে যে ব্যয় দেখানো হয়েছে তা রীতিমতো অস্বাভাবিক।

প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা করে ১১০টি টেলিভিশন ক্রয় করা হয় যার মোট মূল্য ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকায়। আর সেসব টিভি ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

৯৪ হাজার ২৫০ টাকায় ১১০টি ফ্রিজ ক্রয় করতে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ সাড়ে ৭ হাজার টাকা। সেগুলোর প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। সে হিসাবে ফ্রিজ ওঠাতে মোট খরচ ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩১০ টাকা।

একইভাবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা দরে মোট এক কোটি ৫০ লাখ টাকায় ক্রয় করা ১১০টি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

প্রতিটি ইক্রোওয়েভ ওভেন কেনা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭৪ টাকায় যার প্রতিটি ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার ৮৪০ টাকা করে।

এছাড়াও প্রতিটি কেটলি ভবনে ওঠাতে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা, প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ফ্ল্যাটে ওঠাতে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

এরপর প্রতিটি চুলার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৭৪৭ টাকা। তা আর তা ওঠানোর খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার ৬৫০ টাকা।

খাট, সোফা, টেবিল, তোশক, চেয়ারসহ জন্য অন্যান্য আসবাব ক্রয় ও এসব আসবাব ফ্ল্যাটে তোলার ক্ষেত্রেও বিপুল অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি খাট ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকায় কিনে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। আর প্রতিটি খাট ওপরে ওঠানের পেছনে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা।

প্রতিটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, আর তা ওঠাতে খরচ হয় ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকায় ক্রয় করা প্রতিটি সেন্টার টেবিল ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ২ হাজার ৪৮৯ টাকা।

ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের একেকটি সেট ক্রয় করা হয় ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়, আর প্রতিটি ডাইনিং টেবিল ওঠানোর খরচ দেখনো হয় ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা।

একেকটি ওয়ারড্রব কিনে ফ্ল্যাটে ওঠাতে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

৩৩০টি মেট্রেস ও তোশকের ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। প্রতিটি তোশক ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়ে ৭ হাজার ৭৫২ টাকা করে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বালিশের ক্রয়মূল্য ও এসব বালিশ ওপরে তুলতে যে খরচ হয়েছে সে বিষয়টি।

নথিপত্রে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা দরে। মোট ১৩২০টি বালিশ কেনার পর প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৭৬০ টাকা।

সব মিলে ২০ তলা ওই ভবনটির আসবাবপত্র ক্রয় ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

এমন অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়ে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিধিবিধান মেনেই কাজ করে থাকি। এখানে উন্মুক্ত দরপত্র দিয়ে মালামাল কেনাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই করা হয়েছে।’

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার আগেই এসব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। ’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো: শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘ বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে পড়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। এরপর তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বিষয়ে এখনও জানতে পারিনি। বিষয়টির দ্রুত খোঁজ নেয়া হচ্ছে।’

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌জাতির প্রয়োজনেই ঐক্যফ্রন্টের প্রতিষ্ঠা: আবদুল্লাহ আল নোমান


একাদশ নির্বাচনের আগে জাতির প্রয়োজনে একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম নামে একটি সংগঠন এ সভার আয়োজন করে।

বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে কোনো বিভেদ নেই উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আমাদের প্রয়োজনে, জাতির প্রয়োজনে, একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে গঠিত হয়েছে। তাই বলে আমাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সব কর্মসূচি এক হবে বিষয়টি তেমন নয়।

পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা জানিয়ে বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, সারা দেশের পাটকল শ্রমিকরা বকেয়া মজুরি-ভাতার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। রাস্তায় নামার পরও এ নিয়ে তাদের সঙ্গে সরকারের কোনো কথা হচ্ছে না। কিন্তু সরকার কী করছে, যারা ব্যাংক লুট করেছে, যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের অর্থ, ঋণ- সবকিছু স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখছে। এই সরকার গরিব, শ্রমিক, কৃষক, মেহনতী মানুষের সরকার নয়। আমরা চাই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হোক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব তৈরি হয়েছে— বিষয়টি ঠিক নয়। বরং এটি থেকে আপনাদের প্রশংসা করা উচিত, বিএনপির সঙ্গে ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রচর্চা আছে। শেখ হাসিনার মতো মুখের ওপরে ধমক দিয়ে এখানে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয় না।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের সমালোচনা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘নাসিম সাহেবের মতো লোক বললেন— ‘পয়সা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেনা যায়, এমনকি বিচার-আদালত কেনা যায়।’ আজকে আদালত অবমাননা নিয়ে হাইকোর্ট পারে না একটি রুল দিতে? অথচ খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে খুব বীরত্ব দেখাতে পারে।

তিনি বলেন, নাসিম সাহেব যখন স্বীকারই করেছেন যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টাকা দিয়ে কেনা যায়, তখন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দল থেকে পদত্যাগ করে একটা দৃষ্টান্ত দেখান যে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে আমি পদত্যাগ করলাম।

আওয়ামী লীগের আগের মর্যাদা নেই উল্লেখ করে আলাল বলেন, ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং শেখ মুজিবুর রহমানের যে আওয়ামী লীগ, সেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে এই আওয়ামী লীগ যায় না। সেই আওয়ামী লীগের একটা সম্মান ছিল, গৌরব ছিল, মর্যাদাবোধ ছিল।’

প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় নদীপথে আবহাওয়া খারাপ হয়। তখন নৌযানগুলো যেন বিভ্রান্ত না হয়, তার জন্য মোহনাগুলোতে লাইট হাউস (বাতিঘর) থাকে। যেখান থেকে সিগন্যাল দেয়া হয় এই পথে না, আপনি ওই পথে যাবেন। সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ সাহেব ছিলেন জাতির জন্য তেমনই একজন মানুষ।’

স্মরণসভায় শ্রমিক দল সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আমরা বাইরে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ : আসিফ নজরুল


বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, মওলানা ভাসানীদের আমলে আমরা ছিলাম মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার তাগিদে স্বাধীন জাতি। এখন আমরা স্বাধীনতার নামে লেজ গুটিয়ে রাখা, মাথা গুটিয়ে রাখা একটা দাস জাতিতে পরিণত হয়েছি। এটা আমরা নদীর পানির দিকে এবং বিভিন্ন সেক্টরের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি। আসলে আমরা বাইরে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ।

শুক্রবার মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে জামালপুর জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের আয়োজনে শহরের হুমায়রা কমিউনিটি সেন্টারে ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, প্রতিনিয়ত সীমান্তে আমাদের ভাইদের হত্যা করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকেও হত্যা করা হচ্ছে। আমরা যখন দেখি বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে, ১০০ টাকার প্রকল্প যখন এক হাজার টাকার প্রকল্পে পরিণত করা হচ্ছে, জনগণের ট্যাক্সের টাকা, ভ্যাটের টাকা ও আমাদের কষ্টের টাকা নিয়ে এই সরকার কি নয়-ছয় করছে এবং দুর্নীতিমূলক কাজ করছে।

যখন ১৬ কোটি মানুষের ভোটের অধিকার আগের রাতে ছিনিয়ে নেয়া হয়। তখন আমার সত্যিই মনে হয়, আজকে মাওলানা ভাসানীর মত একজন মানুষের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। তিনি স্টংলি বলতে পারতেন, ‘খামস’। যার খামস শুনে ভয় পেত- দেশ প্রেমিকহীন অত্যাচারী মানুষ। বাংলাদেশে বর্তমানে এমন এক শাসন ব্যবস্থা চলতে, ‘‘বাইরের মানুষের কাছে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ’। এই অবস্থায় আমাদের দেশে একজন বাঘের প্রয়োজন ছিল, যিনি দেশের মানুষের জন্য মহামানব আর বাইরের মানুষের কাছে বাঘের মত। মূলত মাওলানা ভাসানী ছিলেন প্রচন্ড দেশ প্রেমিক, জনবান্ধব ও প্রচন্ড সৎ একজন মানুষ। কোন ভয় দেখিয়ে তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি।

জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাহমুদুল হক সানু, ভাষানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার নঈম জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রশীদ বাবু।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌সরকার মুক্ত মতের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান চালাচ্ছে: এইচআরডব্লিউ


বাংলাদেশ সরকার নতুন করে মুক্ত মত প্রকাশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গতকাল বৃহস্পতিবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘সাধারণত ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে কথা বললে বা সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বললে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

যাদেরকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- মানবাধিকারকর্মী আব্দুল কাইয়ুম, বিশিষ্ট কবি হেনরী স্বপন, আইনজীবী ও লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদ।

এদের তিনজনকেই তথ্য প্রযুক্তি আইনের আওতায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিতর্কিত আইসিটি অ্যাক্ট বা তথ্য প্রযুক্তি আইনটি ২০১৮ সালে পাশ করা হয়।’’

আইনজীবী, কবি কিংবা মানবাধিকারকর্মীদের তাদের স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য গ্রেপ্তার করার তীব্র সমালোচনা করেছেন সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড এডামস।

তিনি বাংলাদেশ সরকারকে শিগগিরই এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানান এবং মুক্ত মত প্রকাশে বাধা দেয়ার আইন পরিবর্তন করতে বলেন।

উল্লেখ্য, ১১ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় বরিশালের কবি হেনরী স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খ্রিষ্টান ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর ১৫ মে ঠিক একই আইনের মামলায় আইনজীবী ও লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিভায় প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ অনুমোদিত হওয়ার পর দেশ-বিদেশে এই আইনের ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। ২০১৬ সালে এই আইন প্রস্তাব হিসেবে উপস্থাপনের পর যেসব সমালোচনা হয়েছিল, বিভিন্ন বৈঠকে যেসব নেতিবাচক দিক চিহ্নিত করা হয়েছিল, সরকার কার্যত সেগুলো আমলে নেয়নি।

উৎসঃ ‌‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ‌উন্নয়নের কাজে ঘুমানোর জন্য তোশকের দাম ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা!


আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক, কোনো কোনোটিতে ৭৫ শতাংশ।

দেশ রূপান্তরের একটি প্রতিবেদনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের নথিপত্র ঘেঁটে অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয়ের এ হিসাব তুলে ধরা হয়।

ওই প্রতিবেদনে দেখানো হয়, এক কেজির মতো ওজনের একটি বৈদ্যুতিক কেটলি নিচ থেকে ফ্ল্যাটে তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। জামা-কাপড় ইস্ত্রি করার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ওপরে তুলতেও খরচ হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ টাকা।

প্রায় আট হাজার টাকা করে কেনা প্রতিটি বৈদ্যুতিক চুলা ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতে খরচ দেখানো হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকার বেশি। প্রতিটি শোবার বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় এক হাজার টাকা করে। আর একেকটি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি।

কেবল ভবনে ওঠানোর ক্ষেত্রেই নয়, আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। প্রতিটি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা করে। এ হিসাবে ৩৩০টি চাদর কিনতে খরচ হয়েছে ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৩৮০ টাকা। ৩৩০টি বালিশের ক্ষেত্রেও দেখানো হয়েছে কাছাকাছি ব্যয়। কাপড় পরিষ্কারের জন্য ১১০টি ওয়াশিং মেশিনের প্রত্যেকটি কেনা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা করে। ১১০টি টেলিভিশনের প্রত্যেকটি কেনা হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৬০ টাকায় এবং সেগুলো রাখার জন্য টেলিভিশন কেবিনেট কেনা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৮ টাকা করে।

সরকারি টাকায় এমন আকাশছোঁয়া দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে তৈরি হয়েছে গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য এগারোটি ২০তলা এবং আটটি ১৬ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

এরইমধ্যে আটটি ২০ তলা ও একটি ১৬ তলা ভবনের নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ২০ তলা ভবনে ১১০টি ও ১৬ তলা ভবনে ৮৬টি ফ্ল্যাট থাকবে। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া নয়টি ভবনের ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কেনা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

২০ তলা ওই ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা করে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা করে কেনা প্রতিটি রেফ্রিজারেটর ওপরে ওঠাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দরে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা করে। একেকটি ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ২১ হাজার ২১৫ টাকায়, আর ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৯১০ টাকা করে। ৫ হাজার ৩১৩ টাকা দরে একেকটি ইলেক্ট্রিক কেটলি কেনার পর তা ভবনে ওঠানো হয়েছে ২ হাজার ৯৪৫ টাকায়। এছাড়া রুম পরিষ্কার করার মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ১৮ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা।

প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ২০ তলা ওই ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা দরে ১১০টি টেলিভিশন কেনা হয়েছে ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকায়। টেলিভিশনগুলো ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা দরে মোট ১১০টি ফ্রিজ কিনতে খরচ হয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ সাড়ে সাত হাজার টাকা। সেগুলোর প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে খরচ হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা।

একইভাবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা দরে মোট এক কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা ১১০টি ওয়াশিং মেশিন ফ্ল্যাটে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। ৩৮ হাজার ২৭৪ টাকা দরে কেনা মাইক্রোওয়েভ ওভেন ফ্ল্যাটে পৌঁছাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৮৪০ টাকা করে। প্রতিটি কেটলি ৫ হাজার ৩১৩ টাকা দরে কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা।

প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা দরে ১১০টি খাট কিনতে খরচ হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। খাটগুলোর প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটে নিতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা করে। একেকটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা দরে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা।

ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের একেকটি সেট কেনা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়, ভবনে তুলতে লেগেছে ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা করে। ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা দরে ওয়ারড্রব কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা করে। ৩৬ হাজার ৫৭ টাকা দরে ৩৩০টি মেট্রেস ও তোশক কেনা হয়েছে মোট এক কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যার প্রতিটি ভবনে ওঠাতে খরচ করা হয়েছে সাত হাজার ৭৫২ টাকা করে।

৫ হাজার ৯৫৭ টাকা দরে এক হাজার ৩২০টি বালিশ কেনার পর তার প্রত্যেকটি ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৩৩০টি বিছানার চাদরের প্রত্যেকটি ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা দরে কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। এক লাখ ৯৪ হাজার ৬৬৯ টাকা ব্যয়ে কেনা একটি কনফারেন্স টেবিল ভবনে ওঠাতে ব্যয় করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯১০ টাকা। এর একেকটি চেয়ার ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৮ টাকা। ৪৫ হাজার ৭৯১ টাকা দরে কেনা মিনি কেবিনেটের প্রত্যেকটি ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ৭ হাজার ৭৫২ টাকা। ৩৩০টি বেডসাইট টেবিলের প্রত্যেকটি কিনতে খরচ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৫৬ টাকা। আর প্রতিটি ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৫০১ টাকা।

এছাড়া, ৩৫ হাজার ৭৫৭ টাকা করে ৩৩০টি ড্রেসিং টেবিল কিনে প্রতিটি ভবনে ওঠাতে আট হাজার ৯১১ টাকা করে ব্যয় করা হয়েছে। আয়রন টেবিল ২০ হাজার ৪৫৮ টাকা দরে কিনে প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৬৭৯ টাকা। ৮ হাজার ৩১৩ টাকা দরে মিনি সেন্টার টেবিল কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২ হাজার ১৪ টাকা করে। এছাড়া ৪০ হাজার ৮৯৩ টাকা দরে ডিভাইন কিনে প্রতিটি ফ্ল্যাটে তুলতে পাঁচ হাজার ৩৯৬ টাকা করে ব্যয় দেখানো হয়েছে। সব মিলে ২০ তলা ওই ভবনটির আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে উঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

তবে দেশরূপান্তরের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই এসব কেনাকাটা করা হয়েছে।

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিধিবিধান মেনেই কাজ করে থাকি। এখানে উন্মুক্ত দরপত্র দিয়ে মালামাল কেনাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই করা হয়েছে।’
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এসব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই খোঁজখবর না নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। যদি কোনো সমস্যা থাকে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘এ ধরনের একটি বিষয় আমাদের দৃষ্টিতে আসার পর দরদাম ও অন্যান্য বিষয়াদি দেখার জন্য কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। এরপর তারা কী করেছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’

উৎসঃ ‌‌দেশরূপান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here