‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ছাড়পত্র দিতে চাপ, খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ভয়ঙ্কর চক্রান্ত’

0
89

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘তাঁর চিকিৎসার জন্য আদালতের নির্দেশনা ও মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশকে লঙ্ঘন করে সরকার দেশনেত্রীকে আজ হাসপাতাল থেকে কারাগারে প্রেরণ করেছে। তাঁর চিকিৎসা শুরুই হয়নি, কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, আর সেই মূহূর্তে দেশনেত্রীকে কারাগারে প্রেরণ করার উদ্যোগ শুধু মনুষ্যত্বহীন কাজই নয়, এটি সরকারের ভয়ঙ্কর চক্রান্ত।’

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার ডাক্তার ও তাঁর জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য সৈয়দ আতিকুল হকের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন, ডাক্তার আতিক বেগম জিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছুটির ছাড়পত্র দেননি এবং মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাক্তার জলিলুর রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে, এমতাবস্থায় সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেগম জিয়ার ছাড়পত্র দিতে বাধ্য করতে চাপ সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ বেগম জিয়ার জীবনকে বিপন্ন করার অথবা শারীরিকভাবে চিরতরে পঙ্গু করার চক্রান্ত সরকারের কুৎসা সঞ্চারিত মনের বিকার।’

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া সুস্থ হোক, এটি বিদ্বেষপ্রবণ সরকার কখনো চায় না। বেগম জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে লাগামছাড়া ক্রোধে এই অবৈধ শাসকগোষ্ঠী এখন তাঁর জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এটি শেখ হাসিনার হিংস্র আচরণেরই চরম বহিঃপ্রকাশ। অহংকার, উন্মত্ততা, হিংসা ও দখলকৃত ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নির্লজ্জ লড়াই চালাতেই বিচার বুদ্ধি হারিয়ে সরকার বেগম জিয়ার জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের সৌজন্যবোধ ও হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছে বলেই দেশের বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী বেগম জিয়ার ওপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নিপীড়ন।’

রিজভী বলেন, ‘সরকারের পাতানো পথে বিরোধী দলকে নির্বাচন করতে বাধ্য করানোর জন্যই সরকার দেশনেত্রী বেগম জিয়াকে নিয়ে নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে। তাঁর চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারকেও কেড়ে নিয়েছে সরকার। চিকিৎসা শেষ না করেই পিজি হাসপাতাল থেকে দেশনেত্রীকে কারাগারে প্রেরণের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

এসয় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘দেশনেত্রীর চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি রাখতে হবে, অন্যত্থায় জনগণ আর বসে থাকবে না, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিপর্যস্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করতে এবারে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে হলেও প্রতিরোধ করবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে সংলাপকালে কথা দিয়েছিলেন-নতুন মামলা দেয়া হবে না, গ্রেফতার করা হবে না এবং প্রকৃত রাজবন্দিদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের কোনো প্রমাণ মেলেনি।’

‘গতকালের সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমিও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের চিরুনী অভিযান চালিয়ে ছেঁকে ধরা হয়েছে, তার জন্য।’

এসময় বিএনপির এই মুখপাত্র প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সংলাপ কি তাহলে চূড়ান্ত আক্রমণের পূর্বে কিছুটা সময়ক্ষেপণ? তা না হলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করার অঙ্গীকার করার পরও এতো তাণ্ডব, এতো পাইকারী গ্রেফতার! সরকার কি তাহলে প্রতারণা ফাঁদ তৈরি করেছে? প্রধানমন্ত্রী অতিতের মতো বলেন একটা, কিন্তু কাজ করেন অন্যটা।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মো. আবু জাফর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুত্রঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ বেগম খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ থেকে কারা আদালতে নেয়া হয়েছে!

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে নেওয়া হয়েছে।।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে কালো রঙের একটি গাড়িতে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বের করা হয়। ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে কারাগারে ঢোকে খালেদাকে বহনকারী গাড়ি।

এর আগে কারাসূত্র জানিয়েছিল, আজ তার আদালতে হাজিরা আছে। হাসপাতাল থেকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। হাজিরা শেষ হলে তাকে কারাগারে নেয়া হতে পারে।

গত ৬ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর থেকে কেবিন ব্লকের ৬১২ নম্বর কক্ষে ছিলেন তিনি।

গত ৪ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গত ৩০ অক্টোবর এই মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

উৎসঃ purboposhimbd

আরও পড়ুনঃ কিছুক্ষণের মধ্যে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে

চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হতে পারে কিছুক্ষণের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকেই হাসপাতাল ও কারাগারের চারপাশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়।। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে নেয়া হতে পারে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

রাজধানীর শাহবাগের বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সামনে ও ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিএসএমএমইউ হাসপাতাল ও কারাগারের সামনের সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিএনপি প্রধানকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরুর হাইকোর্টের নির্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসনকে গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গঠন করা হয় ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। খালেদা জিয়া ওই হাসপাতালের ছয়তলার ৬১২ নম্বর কেবিনে অবস্থান চিকিৎসাধীন বলেন।

তাকে সেখানে রেখে এক মাসের অধিক সময় চিকিৎসা দেয়া হলো। তবে বিএনপি অভিযোগ ছিল- দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়নি। তাকে বিএসএমএমইউতে যে ফিজিওথেরাপি দেয়া হয়, সেটিও পর্যাপ্ত নয়। তাকে অনুন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামাদি দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। অথচ এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ছিল।

সুত্রঃ ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here