দেশে প্রচুর ধান চাষের পরও বিদেশ থেকে চাল আমদানি কেন?

0
179

দেশে প্রচুর ধান চাষ হওয়া সত্ত্বেও বিদেশ থেকে চাল আমদানি করায় তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছেন হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মজিদ খান।

শুক্রবার সকালে বানিয়াচং উপজেলায় অভ্যন্তরীন বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

সংসদ সদস্য বলেছেন, দেশে চাহিদার তুলনায় বেশি ধান-চাল রয়েছে। ধানের দাম কম থাকায় কৃষকের ঘরে কান্নার রোল পড়েছে। মনপ্রতি ধানে ২০০ টাকা লোকসান গুনছেন কৃষকেরা।

এমপি আবদুল মজিদ খান বলেন, ‘জাতীয় পত্রিকায় সংবাদে দেখলাম, গেল দশ মাসে দেশে ২ লাখ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার টন চাল। দেশে উদ্বৃত্ত থাকার পরও বাহির (বিদেশ) থেকে চাল আমদানি কেন? এটি কিসের বলে? আমি সরকারের লোক হলেও চাল আমদানিতে সাধারণ কৃষকের মতো আমিও চরম ক্ষুদ্ধ-বিক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছি। বিদেশ থেকে চাল আমদানি বন্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, কৃষক যদি ফসলের ন্যায্য মূল্য না পান, উপকৃত না হন একদিন ধান চাষ ছেড়ে দেবেন। এটি দেশের কৃষির জন্য ক্ষতিকর হবে। সরকারকে অবশ্যই কৃষি ও কৃষককে নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

এমপি বলেন, জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে ১০-১৫ মিনিট যতটুকু সময় পাই কৃষি ও কৃষককে নিয়ে কথা বলব। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে মাঠ পর্যায়ের এই কথাটা সরকারের কাছে পৌঁছাতে হবে। প্রকৃত কৃষক যেন গুদামে ধান দিতে পারেন সেদিকে খেয়াল রাখতে প্রশাসনকে নিদের্শ দেন এমপি মজিদ খান।

ইউএনও মো.মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মো. খালেদ হোসাইনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.সফিকুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হারুণ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, জয়নাল আবেদীন, মিজানুর রহমান খান, নজরুল ইসলাম, স্মৃতি চ্যাটার্জি কাজল, ব্যবসায়ী ছামির আলী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আশরাফ সোহেল, ছাত্রলীগ সভাপতি এজেডএম উজ্জ্বল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ঘুষ না দেয়ায় পৌনে তিন লাখ টাকার ডিম রাস্তায় ফেলে দেয়ার ঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড


ঘুষ না দেয়ায় পৌনে তিন লাখ টাকার ডিম রাস্তায় ফেলে দেয়ার ঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তাদের হাইও‌য়ে বগুড়া রি‌জিয়ন সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত তদ‌ন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয় পু‌লিশ সদস্যকে ক্লোজড ক‌রা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি জানার পরপর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডি‌মের মা‌লিকের সঙ্গে যো‌গা‌যোগ ক‌রেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী এক‌টি অভিযোগ দায়ের করেন।

সেই অভিযো‌গের ভিত্তিতে বিষয়‌টি তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হাইওয়ে পু‌লিশের এস‌পি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দা‌য়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানান এআইজি মো. সোহেল রানা।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে একটি পিকআপ ভ্যানে ৩৫ হাজার একশ’ ডিম নিয়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থেকে নাটোর যাচ্ছিল। পথে আগ্রান সূতিরপাড় এলাকায় পিকআপের চাকা পাংচার হয়ে গেলে সেটি পাশের ফিডার রোডে নেমে যায়।

খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পিকআপ উদ্ধারের জন্য রেকার ভাড়াসহ ২০ হাজার টাকা দাবি করে।

কিন্তু চালক এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যরা পিকআপে ডিমের খাঁচি বাঁধার রশি চাকু দিয়ে কেটে দেয়। এতে ডিমের খাঁচি রাস্তায় পড়ে অধিকাংশই ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় নারীরা রাস্তায় পড়ে থাকা ভাঙাচোরা ডিম কুড়িয়ে নিচ্ছেন। রাস্তাজুড়ে ভাঙা ডিমের হলুদ কুসুম ছড়িয়ে রয়েছে।

ট্রাকের চালক-হেলপার ভাঙা ডিম ফেলে প্লাস্টিকের খাঁচিগুলো সংগ্রহ করছেন। রাস্তায় যত্রতত্র কেটে ফেলা রশিগুলো পড়ে রয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পুকুরের পাহারাদার শহীদুল ইসলাম ও আতাহার আলী জানান, চালক-হেলপার বারবার অনুরোধ করা স্বত্ত্বেও পুলিশ পিকআপের রশিগুলো কেটে দিয়েছে। রশি না কাটলে ডিমগুলো নষ্ট হতো না। পুলিশ ডিমসহ পিকআপটি রেকারে করে থানায় নিয়ে গেলে কী এমন ক্ষতি হতো?

পিক-আপের চালক সিরাজগঞ্জ সদরের মজনু মিয়া জানান, আমার গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে ফিডার রাস্তা নেমে গেলেও কোনো ডিম পড়েনি। কিন্তু পুলিশের দাবিমতো ঘুষ না দেয়ায় তারা রাগে ডিম বাঁধার রশি কেটে দেয়ায় সব ডিম রাস্তায় পড়ে গেছে।

ডিমের মালিক বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, আমি চালকের মোবাইল দিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং রশি না কাটার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শুনেনি। এতে আমার পৌনে তিন লাখ টাকার ডিম নষ্ট হয়ে গেল।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌‘দিদি’ ডাকায় লাথি দিয়ে দোকানির মাছ ড্রেনে ফেলে দিলেন এসিল্যান্ড


‘দিদি’ ডাকায় লাথি দিয়ে মাছ বিক্রেতার মাছ ড্রেনে ফেলে দিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি)।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ১২ মে (রোববার) সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে।

এসিল্যান্ডের এমন কাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে।

সূত্র জানায়, গত রোববার সকাল বেলা এসিল্যান্ড কার্যালয়ের গেটের পাশে বসে মাছ বিক্রি করছিলেন কয়েকজন মাছ বিক্রেতা।

এ সময় গাড়ি নিয়ে অফিসে প্রবেশ করছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সঞ্চিতা কর্মকার।

অফিসের প্রবেশ পথে গাড়ি থামিয়ে দেন সঞ্চিতা কর্মকার। গাড়ির ভেতরে বসেই এক ব্যবসায়ীকে মাছের ঝুড়ি সরাতে বলেন।

এ সময় লায়েক আহমেদ নামের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‌‌দিদি সরিয়ে নিচ্ছি।

আর এ কথা শোনার পরেই ক্ষেপে যান এসিল্যান্ড সঞ্চিতা কর্মকার।

গাড়ি থেকে নেমে বলেন, ‘আমি কিসের দিদি! এর পরই লাথি দিয়ে লায়েক আহমেদ ও তার সঙ্গী হাসান মিয়ার মাছের ঝুড়ি পাশের ড্রেনে ফেলে দেন।

সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার এমন আচরণে লায়েক মিয়াসহ অন্যান্য মাছ ব্যবসায়ীরা হতভম্ব হয়ে যান।

এসিল্যান্ডের এমন আচরণে উপজেলাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ‘মাছ ব্যবসায়ীরা কেউ এসিল্যান্ড কার্যালয়ের ভেতরে বসে মাছ বিক্রি করছিল না। সেটা করলে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারতেন। অথচ এভাবে লাথি মারার মতো কাজটি করে তিনি মাছ বিক্রেতাদের রুজি-রুটিতে লাথি মারলেন। এমন বিরূপ আচরণ তার মতো উর্ধ্বতন কর্মকর্তার থেকে একেবারে কাম্য নয়। ’

এ ঘটনায় এসিল্যান্ড সঞ্চিতা কর্মকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু বিষয়টির কোনো সন্তোষজনক সমাধান না হওয়ায় পরদিন (১৩ মে) উপজেলার সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচিত হয়।

সভায় স্থানীয় সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজি বদরুদ্দোজা বলেন, ‘মাছ বিক্রেতাদের সঙ্গে এসিল্যান্ডের এই দুর্ব্যবহারের বিষয়টি আমি আলোচনায় তুলেছিলাম। তবে এসিল্যান্ডের পক্ষ থেকে মাছ বিক্রেতাদের সান্তনা দিতে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি।’

এদিকে লাথি দিয়ে মাছ বিক্রেতার মাছ ফেলে দেয়া স্বীকার করেছেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সঞ্চিতা কর্মকার।

এ ব্যাপারে তার অভিযোগ, ‘তারা মাছ নিয়ে আমার অফিসের ভেতরে ঢুকে যায়। বারবার নিষেধ করা হলেও তারা মানেন নি। ’

এসব মাছ বিক্রেতার নিয়ে আসা মাছের দুর্গন্ধে অফিসে কাজ করতে কষ্ট হয় বলে জানান তিনি।

এরপর স্থানীয়দের তুমুল সমালোচনার পর সঞ্চিতা কর্মকার বলেন, ‘সেদিন কোনোভাবেই আমি তাদের সরাতে না পেরে বেশ রেগে গিয়েছিলাম। তখনই লাথি দিয়ে মাছ ফেলে দিই। ’

বিষয়টি ঠিক হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এজন্য আমি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে রাজি আছি।’

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে: নেতাকর্মীদের দুদু


গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য এদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। নিজের অধিকার যদি অর্জন করতে হয় তাহলে ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। গণতন্ত্রের আন্দোলন বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে এখন একাকার হয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষের পাশে ন্যায়ের সংগ্রামে পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাঙালি থাকুক না কেন তারা সব সময় দেশের মানুষের পাশে থাকে। জনগণের কাছে আজ পরিষ্কার বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়।’

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের মেহমান খানা রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সময় বিকেলে মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে টেলিকনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ স্পেন শাখার উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এই মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রোজাদারদের জন্য দেশীয় ইফতারি ও পরিবেশন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজন্ম মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দেন বলে আজকে তাকে অবৈধ সরকার মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি করেছে। এ সরকার ক্ষমতা দখলকারী সরকার, যারা ভোটের নামে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সঙ্গে তামাশা করেছে। এই সরকারকে যদি ক্ষমতা থেকে অপসারণ না করা সম্ভব হয় তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা গণতন্ত্র বিপন্ন হবে।’

আয়োজক সংগঠনের আহবায়ক মাহবুবুর রহমান ঝন্টুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা জাকিরুল ইসলাম জাকি’র পরিচালনায় বক্তব্য দেন অলইউরোপ সাবেক ছাত্রদল অর্গানাইজেশন’র আহবায়ক আবু জাফর রাসেল, আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম-আহবায়ক ফখরুল হাসান, এমদাদ হাওলাদার, ব্যবসায়ী সমিতি স্পেনের সভাপতি আবুল হোসেন, কমিউনিটি নেতা আবু সায়েম, আব্দুল মুত্তাকিন মুজাক্কির, আব্দুল মুত্তালিব বাবুল, জেন্স শিপার, হুমায়ূন কবির রিগ্যান, জাকির চৌধুরী, মাঈনুদ্দীন, আল মামুন, আরাফাত হোসেন, আবু বক্কর, আমিনুল ইসলাম, আকতার হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌সরকারি ফ্ল্যাটে বালিশের মূল্য দেখে চোখ কপালে দেশবাসীর


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনের জন্য কেনা বালিশের মূল্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে দেশবাসীর।

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ভবনের জন্য ১ হাজার ৩২০টি বালিশ কেনা হয়েছে। এদের প্রতিটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর সেই প্রতিটি বালিশ নিচ থেকে ভবনের ওপরে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা!

বালিশের পেছনে এমন অসংঙ্গতিপূর্ণ ব্যয়ের কথা গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, শুধু বালিশের বিষয়েই নয় প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তোলার ব্যয়ে অসংঙ্গতি পাওয়া গেছে।

সরকারি আসবাপত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের এমন অসংঙ্গতির ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা জেলার পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে হচ্ছে গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রেটির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ১১টি ২০ তলা ও ৮টি ১৬ তলা ভবন করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ২০ তলা ৮টি ভবন ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এই ৯টি ভবনে তৈরি হয়েছে ৯৬৬টি ফ্ল্যাট।

সেই ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কিনেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে ২০ তলা একটি ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

ওই ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য কেনা টিভি, ফ্রিজ ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রো ওয়েভ কেনা হয়েছে। সেসব আসবাবের ক্রয় মূল্য ও সেগুলোকে ফ্ল্যাটে তুলতে যে ব্যয় দেখানো হয়েছে তা রীতিমতো অস্বাভাবিক।

প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা করে ১১০টি টেলিভিশন ক্রয় করা হয় যার মোট মূল্য ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকায়। আর সেসব টিভি ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

৯৪ হাজার ২৫০ টাকায় ১১০টি ফ্রিজ ক্রয় করতে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ সাড়ে ৭ হাজার টাকা। সেগুলোর প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। সে হিসাবে ফ্রিজ ওঠাতে মোট খরচ ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩১০ টাকা।

একইভাবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা দরে মোট এক কোটি ৫০ লাখ টাকায় ক্রয় করা ১১০টি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

প্রতিটি ইক্রোওয়েভ ওভেন কেনা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭৪ টাকায় যার প্রতিটি ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার ৮৪০ টাকা করে।

এছাড়াও প্রতিটি কেটলি ভবনে ওঠাতে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা, প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ফ্ল্যাটে ওঠাতে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

এরপর প্রতিটি চুলার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৭৪৭ টাকা। তা আর তা ওঠানোর খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার ৬৫০ টাকা।

খাট, সোফা, টেবিল, তোশক, চেয়ারসহ জন্য অন্যান্য আসবাব ক্রয় ও এসব আসবাব ফ্ল্যাটে তোলার ক্ষেত্রেও বিপুল অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি খাট ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকায় কিনে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। আর প্রতিটি খাট ওপরে ওঠানের পেছনে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা।

প্রতিটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, আর তা ওঠাতে খরচ হয় ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকায় ক্রয় করা প্রতিটি সেন্টার টেবিল ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ২ হাজার ৪৮৯ টাকা।

ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের একেকটি সেট ক্রয় করা হয় ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়, আর প্রতিটি ডাইনিং টেবিল ওঠানোর খরচ দেখনো হয় ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা।

একেকটি ওয়ারড্রব কিনে ফ্ল্যাটে ওঠাতে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

৩৩০টি মেট্রেস ও তোশকের ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। প্রতিটি তোশক ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়ে ৭ হাজার ৭৫২ টাকা করে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বালিশের ক্রয়মূল্য ও এসব বালিশ ওপরে তুলতে যে খরচ হয়েছে সে বিষয়টি।

নথিপত্রে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা দরে। মোট ১৩২০টি বালিশ কেনার পর প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৭৬০ টাকা।

সব মিলে ২০ তলা ওই ভবনটির আসবাবপত্র ক্রয় ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

এমন অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়ে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিধিবিধান মেনেই কাজ করে থাকি। এখানে উন্মুক্ত দরপত্র দিয়ে মালামাল কেনাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই করা হয়েছে।’

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার আগেই এসব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। ’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো: শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘ বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে পড়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। এরপর তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বিষয়ে এখনও জানতে পারিনি। বিষয়টির দ্রুত খোঁজ নেয়া হচ্ছে।’

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌চীনে রোজায় নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ


চীনে রোজাদার মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন ও মসজিদ ভাঙ্গা এবং পীযূষ বন্দোপাধ্যায় কর্তৃক ইসলাম নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে সংগঠনটির ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে কেবলমাত্র রোজা রাখার কারণে মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন করছে চীনা সরকার। উইঘুরে ১০ লাখ মুসলমানকে বিশেষ কারাগারে বন্দি রেখে নির্যাতন এবং ধর্মান্তরিত করছে চীন। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে দেয়া হয় না। বিগত তিন বছরে কমপক্ষে ৩০টি মসজিদ ভেঙ্গে দিয়েছে।

আল্লাহর ফরজ বিধান রমজানে রোজা রাখার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে তা সকল মুসলিম ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের শামিল। অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা এবং নির্যাতন বন্ধে বিশ্বমুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সংগঠনটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, ছাত্রনেতা এম হাসিবুল ইসলাম, আলহাজ আলতাফ হোসেন, আলহাজ আনোয়ার হোসেন, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, আলহাজ আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ডা. শহিদুল ইসলাম, মুহা. হুমায়ূন কবির, মাসউদুর রহমান প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, চীনে মুসলমানদের রোজা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা, ফিলিস্তিনে মুসলমানদের ওপর বর্বর নির্যাতন এবং পীযূষ বন্দোপাধ্যায় কর্তৃক সাম্প্রদায়িক উস্কানী সহ্য করা যায় না। বৈশ্বিক মুসলিম নির্যাতনরোধে জাতিসংঘ বার বার ব্যর্থ হয়েছে। সম্প্রীতি বিনষ্টকারী পীযূষদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এই পীযূষরা বার বার ইসলামকে তাদের লক্ষ্যস্থলে পরিণত করেছে, ইসলামকে কলঙ্কিত করতে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে।

অবিলম্বে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার দায়ে পীযুষকে গ্রেফদার করে কঠোর শাস্তি দিতে ব্যর্থ হলে তৌহিদী জনতা রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট থেকে জিরোপয়েন্ট, পল্টন মোড়ে গিয়ে মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত করা হয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌২০দল-ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির কোনো দূরত্ব নেই: আলাল


বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব তৈরি হয়েছে— বিষয়টি ঠিক নয়। বরং এটি থেকে আপনাদের প্রশংসা করা উচিত, বিএনপির সঙ্গে ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রচর্চা আছে। শেখ হাসিনার মতো মুখের ওপরে ধমক দিয়ে এখানে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয় না।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম নামে একটি সংগঠন এ সভার আয়োজন করে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের সমালোচনা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘নাসিম সাহেবের মতো লোক বললেন— ‘পয়সা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেনা যায়, এমনকি বিচার-আদালত কেনা যায়।’ আজকে আদালত অবমাননা নিয়ে হাইকোর্ট পারে না একটি রুল দিতে? অথচ খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে খুব বীরত্ব দেখাতে পারে।

তিনি বলেন, নাসিম সাহেব যখন স্বীকারই করেছেন যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টাকা দিয়ে কেনা যায়, তখন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দল থেকে পদত্যাগ করে একটা দৃষ্টান্ত দেখান যে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে আমি পদত্যাগ করলাম।

আওয়ামী লীগের আগের মর্যাদা নেই উল্লেখ করে আলাল বলেন, ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং শেখ মুজিবুর রহমানের যে আওয়ামী লীগ, সেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে এই আওয়ামী লীগ যায় না। সেই আওয়ামী লীগের একটা সম্মান ছিল, গৌরব ছিল, মর্যাদাবোধ ছিল।’

প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় নদীপথে আবহাওয়া খারাপ হয়। তখন নৌযানগুলো যেন বিভ্রান্ত না হয়, তার জন্য মোহনাগুলোতে লাইট হাউস (বাতিঘর) থাকে। যেখান থেকে সিগন্যাল দেয়া হয় এই পথে না, আপনি ওই পথে যাবেন। সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ সাহেব ছিলেন জাতির জন্য তেমনই একজন মানুষ।’

স্মরণসভায় শ্রমিক দল সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌জাতির প্রয়োজনেই ঐক্যফ্রন্টের প্রতিষ্ঠা: আবদুল্লাহ আল নোমান


একাদশ নির্বাচনের আগে জাতির প্রয়োজনে একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম নামে একটি সংগঠন এ সভার আয়োজন করে।

বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে কোনো বিভেদ নেই উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আমাদের প্রয়োজনে, জাতির প্রয়োজনে, একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে গঠিত হয়েছে। তাই বলে আমাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সব কর্মসূচি এক হবে বিষয়টি তেমন নয়।

পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা জানিয়ে বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, সারা দেশের পাটকল শ্রমিকরা বকেয়া মজুরি-ভাতার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। রাস্তায় নামার পরও এ নিয়ে তাদের সঙ্গে সরকারের কোনো কথা হচ্ছে না। কিন্তু সরকার কী করছে, যারা ব্যাংক লুট করেছে, যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের অর্থ, ঋণ- সবকিছু স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখছে। এই সরকার গরিব, শ্রমিক, কৃষক, মেহনতী মানুষের সরকার নয়। আমরা চাই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হোক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব তৈরি হয়েছে— বিষয়টি ঠিক নয়। বরং এটি থেকে আপনাদের প্রশংসা করা উচিত, বিএনপির সঙ্গে ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রচর্চা আছে। শেখ হাসিনার মতো মুখের ওপরে ধমক দিয়ে এখানে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয় না।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের সমালোচনা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘নাসিম সাহেবের মতো লোক বললেন— ‘পয়সা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেনা যায়, এমনকি বিচার-আদালত কেনা যায়।’ আজকে আদালত অবমাননা নিয়ে হাইকোর্ট পারে না একটি রুল দিতে? অথচ খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে খুব বীরত্ব দেখাতে পারে।

তিনি বলেন, নাসিম সাহেব যখন স্বীকারই করেছেন যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টাকা দিয়ে কেনা যায়, তখন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দল থেকে পদত্যাগ করে একটা দৃষ্টান্ত দেখান যে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে আমি পদত্যাগ করলাম।

আওয়ামী লীগের আগের মর্যাদা নেই উল্লেখ করে আলাল বলেন, ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং শেখ মুজিবুর রহমানের যে আওয়ামী লীগ, সেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে এই আওয়ামী লীগ যায় না। সেই আওয়ামী লীগের একটা সম্মান ছিল, গৌরব ছিল, মর্যাদাবোধ ছিল।’

প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় নদীপথে আবহাওয়া খারাপ হয়। তখন নৌযানগুলো যেন বিভ্রান্ত না হয়, তার জন্য মোহনাগুলোতে লাইট হাউস (বাতিঘর) থাকে। যেখান থেকে সিগন্যাল দেয়া হয় এই পথে না, আপনি ওই পথে যাবেন। সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ সাহেব ছিলেন জাতির জন্য তেমনই একজন মানুষ।’

স্মরণসভায় শ্রমিক দল সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌তিন কোটি টাকার রাস্তা টিকলো না তিন দিনও


চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় চার কিলোমিটারের একটি কাঁচা রাস্তা পাকা করার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই কারটেটিং উঠে গেছে। গত মঙ্গলবার রাস্তাটি পাকা করার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসী দেখেন, পিচ ঢালাই রাস্তা কারপেটের মতো উঠে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কচুয়া-কাশিমপুর সড়কের মনপুরা গ্রামের ভেতরে চার কিলোমিটার রাস্তা পাকা করার টেন্ডার হয় ২০১৫ সালে। প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় রাস্তাটি করার জন্য। রাস্তাটির কাজ ২০১৫ সালে শুরু হলেও দুবছর ফেলে রাখা হয়। এরপর ২০১৯ কাজ শুরু হয়ে চলতি মাসে তা শেষ হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুরু থেকেই নানা অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করা হয়। প্রায় দুই বছর রাস্তার কাজ সম্পন্ন না করে ফেলে রেখে দেওয়ায় পথচারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সাকিবসহ অন্যরা বলেন, রাস্তা তৈরিতে ব্যবহৃত ইট, বালু, পাথর সবই নিম্নমানের। রাস্তার দুপাশের রেলিং এর ক্ষেত্রে ভালো মানের ইট ব্যবহার না করে ব্যবহার করা হয় পিকেট, যা মাটি দিয়ে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়।

ওই বাসিন্দারা আরও বলেন, পিচ ঢালাই দেওয়ার আগে রাস্তা পাকা করায় বিটুমিন না দিয়েই পিচ ঢালাই দেওয়া হয়।

তবে বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন কাজের ঠিকাদার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুমন প্রধানীয়া। তিনি দাবি করেন, এলাকার লোকজন হাত দিয়ে পিচ ঢালাই উঠে ফেলছে।

এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে আমি এক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখেছি। কাজ নিম্নমানের হওয়ায় পুণরায় এ কাজ করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ জাকির হোসেনকে নির্দেশ দিয়েছি।’

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলীমা আফরোজ বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলীকে বলেছি, নিম্নমানের কাজ বন্ধ করতে। গতকাল কাজ বন্ধ করার পর আজ শুক্রবার আবার সেই নিম্নমানের কাজ শুরু হওয়ার খবর পেয়ে আবার নির্দেশ দিয়েছি, ‘রাস্তার কাজ ঠিকমতো করুন, নইলে এ কাজের বিল বন্ধ থাকবে।’

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌আমরা বাইরে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ : আসিফ নজরুল


বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, মওলানা ভাসানীদের আমলে আমরা ছিলাম মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার তাগিদে স্বাধীন জাতি। এখন আমরা স্বাধীনতার নামে লেজ গুটিয়ে রাখা, মাথা গুটিয়ে রাখা একটা দাস জাতিতে পরিণত হয়েছি। এটা আমরা নদীর পানির দিকে এবং বিভিন্ন সেক্টরের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি। আসলে আমরা বাইরে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ।

শুক্রবার মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে জামালপুর জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের আয়োজনে শহরের হুমায়রা কমিউনিটি সেন্টারে ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, প্রতিনিয়ত সীমান্তে আমাদের ভাইদের হত্যা করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকেও হত্যা করা হচ্ছে। আমরা যখন দেখি বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে, ১০০ টাকার প্রকল্প যখন এক হাজার টাকার প্রকল্পে পরিণত করা হচ্ছে, জনগণের ট্যাক্সের টাকা, ভ্যাটের টাকা ও আমাদের কষ্টের টাকা নিয়ে এই সরকার কি নয়-ছয় করছে এবং দুর্নীতিমূলক কাজ করছে।

যখন ১৬ কোটি মানুষের ভোটের অধিকার আগের রাতে ছিনিয়ে নেয়া হয়। তখন আমার সত্যিই মনে হয়, আজকে মাওলানা ভাসানীর মত একজন মানুষের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। তিনি স্টংলি বলতে পারতেন, ‘খামস’। যার খামস শুনে ভয় পেত- দেশ প্রেমিকহীন অত্যাচারী মানুষ। বাংলাদেশে বর্তমানে এমন এক শাসন ব্যবস্থা চলতে, ‘‘বাইরের মানুষের কাছে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ’। এই অবস্থায় আমাদের দেশে একজন বাঘের প্রয়োজন ছিল, যিনি দেশের মানুষের জন্য মহামানব আর বাইরের মানুষের কাছে বাঘের মত। মূলত মাওলানা ভাসানী ছিলেন প্রচন্ড দেশ প্রেমিক, জনবান্ধব ও প্রচন্ড সৎ একজন মানুষ। কোন ভয় দেখিয়ে তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি।

জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাহমুদুল হক সানু, ভাষানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার নঈম জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রশীদ বাবু।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌সরকার মুক্ত মতের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান চালাচ্ছে: এইচআরডব্লিউ


বাংলাদেশ সরকার নতুন করে মুক্ত মত প্রকাশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গতকাল বৃহস্পতিবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘সাধারণত ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে কথা বললে বা সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বললে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

যাদেরকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- মানবাধিকারকর্মী আব্দুল কাইয়ুম, বিশিষ্ট কবি হেনরী স্বপন, আইনজীবী ও লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদ।

এদের তিনজনকেই তথ্য প্রযুক্তি আইনের আওতায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিতর্কিত আইসিটি অ্যাক্ট বা তথ্য প্রযুক্তি আইনটি ২০১৮ সালে পাশ করা হয়।’’

আইনজীবী, কবি কিংবা মানবাধিকারকর্মীদের তাদের স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য গ্রেপ্তার করার তীব্র সমালোচনা করেছেন সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড এডামস।

তিনি বাংলাদেশ সরকারকে শিগগিরই এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানান এবং মুক্ত মত প্রকাশে বাধা দেয়ার আইন পরিবর্তন করতে বলেন।

উল্লেখ্য, ১১ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় বরিশালের কবি হেনরী স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খ্রিষ্টান ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর ১৫ মে ঠিক একই আইনের মামলায় আইনজীবী ও লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিভায় প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ অনুমোদিত হওয়ার পর দেশ-বিদেশে এই আইনের ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। ২০১৬ সালে এই আইন প্রস্তাব হিসেবে উপস্থাপনের পর যেসব সমালোচনা হয়েছিল, বিভিন্ন বৈঠকে যেসব নেতিবাচক দিক চিহ্নিত করা হয়েছিল, সরকার কার্যত সেগুলো আমলে নেয়নি।

উৎসঃ ‌‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ‌উন্নয়নের কাজে ঘুমানোর জন্য তোশকের দাম ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা!


আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক, কোনো কোনোটিতে ৭৫ শতাংশ।

দেশ রূপান্তরের একটি প্রতিবেদনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের নথিপত্র ঘেঁটে অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয়ের এ হিসাব তুলে ধরা হয়।

ওই প্রতিবেদনে দেখানো হয়, এক কেজির মতো ওজনের একটি বৈদ্যুতিক কেটলি নিচ থেকে ফ্ল্যাটে তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। জামা-কাপড় ইস্ত্রি করার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ওপরে তুলতেও খরচ হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ টাকা।

প্রায় আট হাজার টাকা করে কেনা প্রতিটি বৈদ্যুতিক চুলা ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতে খরচ দেখানো হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকার বেশি। প্রতিটি শোবার বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় এক হাজার টাকা করে। আর একেকটি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি।

কেবল ভবনে ওঠানোর ক্ষেত্রেই নয়, আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। প্রতিটি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা করে। এ হিসাবে ৩৩০টি চাদর কিনতে খরচ হয়েছে ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৩৮০ টাকা। ৩৩০টি বালিশের ক্ষেত্রেও দেখানো হয়েছে কাছাকাছি ব্যয়। কাপড় পরিষ্কারের জন্য ১১০টি ওয়াশিং মেশিনের প্রত্যেকটি কেনা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা করে। ১১০টি টেলিভিশনের প্রত্যেকটি কেনা হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৬০ টাকায় এবং সেগুলো রাখার জন্য টেলিভিশন কেবিনেট কেনা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৮ টাকা করে।

সরকারি টাকায় এমন আকাশছোঁয়া দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে তৈরি হয়েছে গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য এগারোটি ২০তলা এবং আটটি ১৬ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

এরইমধ্যে আটটি ২০ তলা ও একটি ১৬ তলা ভবনের নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ২০ তলা ভবনে ১১০টি ও ১৬ তলা ভবনে ৮৬টি ফ্ল্যাট থাকবে। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া নয়টি ভবনের ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কেনা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

২০ তলা ওই ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা করে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা করে কেনা প্রতিটি রেফ্রিজারেটর ওপরে ওঠাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দরে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা করে। একেকটি ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ২১ হাজার ২১৫ টাকায়, আর ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৯১০ টাকা করে। ৫ হাজার ৩১৩ টাকা দরে একেকটি ইলেক্ট্রিক কেটলি কেনার পর তা ভবনে ওঠানো হয়েছে ২ হাজার ৯৪৫ টাকায়। এছাড়া রুম পরিষ্কার করার মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ১৮ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা।

প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ২০ তলা ওই ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা দরে ১১০টি টেলিভিশন কেনা হয়েছে ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকায়। টেলিভিশনগুলো ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা দরে মোট ১১০টি ফ্রিজ কিনতে খরচ হয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ সাড়ে সাত হাজার টাকা। সেগুলোর প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে খরচ হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা।

একইভাবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা দরে মোট এক কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা ১১০টি ওয়াশিং মেশিন ফ্ল্যাটে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। ৩৮ হাজার ২৭৪ টাকা দরে কেনা মাইক্রোওয়েভ ওভেন ফ্ল্যাটে পৌঁছাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৮৪০ টাকা করে। প্রতিটি কেটলি ৫ হাজার ৩১৩ টাকা দরে কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা।

প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা দরে ১১০টি খাট কিনতে খরচ হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। খাটগুলোর প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটে নিতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা করে। একেকটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা দরে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা।

ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের একেকটি সেট কেনা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়, ভবনে তুলতে লেগেছে ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা করে। ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা দরে ওয়ারড্রব কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা করে। ৩৬ হাজার ৫৭ টাকা দরে ৩৩০টি মেট্রেস ও তোশক কেনা হয়েছে মোট এক কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যার প্রতিটি ভবনে ওঠাতে খরচ করা হয়েছে সাত হাজার ৭৫২ টাকা করে।

৫ হাজার ৯৫৭ টাকা দরে এক হাজার ৩২০টি বালিশ কেনার পর তার প্রত্যেকটি ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৩৩০টি বিছানার চাদরের প্রত্যেকটি ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা দরে কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। এক লাখ ৯৪ হাজার ৬৬৯ টাকা ব্যয়ে কেনা একটি কনফারেন্স টেবিল ভবনে ওঠাতে ব্যয় করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯১০ টাকা। এর একেকটি চেয়ার ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৮ টাকা। ৪৫ হাজার ৭৯১ টাকা দরে কেনা মিনি কেবিনেটের প্রত্যেকটি ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ৭ হাজার ৭৫২ টাকা। ৩৩০টি বেডসাইট টেবিলের প্রত্যেকটি কিনতে খরচ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৫৬ টাকা। আর প্রতিটি ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৫০১ টাকা।

এছাড়া, ৩৫ হাজার ৭৫৭ টাকা করে ৩৩০টি ড্রেসিং টেবিল কিনে প্রতিটি ভবনে ওঠাতে আট হাজার ৯১১ টাকা করে ব্যয় করা হয়েছে। আয়রন টেবিল ২০ হাজার ৪৫৮ টাকা দরে কিনে প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৬৭৯ টাকা। ৮ হাজার ৩১৩ টাকা দরে মিনি সেন্টার টেবিল কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২ হাজার ১৪ টাকা করে। এছাড়া ৪০ হাজার ৮৯৩ টাকা দরে ডিভাইন কিনে প্রতিটি ফ্ল্যাটে তুলতে পাঁচ হাজার ৩৯৬ টাকা করে ব্যয় দেখানো হয়েছে। সব মিলে ২০ তলা ওই ভবনটির আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে উঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

তবে দেশরূপান্তরের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই এসব কেনাকাটা করা হয়েছে।

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিধিবিধান মেনেই কাজ করে থাকি। এখানে উন্মুক্ত দরপত্র দিয়ে মালামাল কেনাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই করা হয়েছে।’
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এসব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই খোঁজখবর না নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। যদি কোনো সমস্যা থাকে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘এ ধরনের একটি বিষয় আমাদের দৃষ্টিতে আসার পর দরদাম ও অন্যান্য বিষয়াদি দেখার জন্য কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। এরপর তারা কী করেছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’

উৎসঃ ‌‌দেশরূপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌পয়সায় আইন-আদালত কেনা যায়, তবে ক্ষমতা ছেড়ে দিন: নাসিমকে আলাল


আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘পয়সা হলে যদি আইন-আদালত সবকিছু কিনে ফেলা যায় তবে আপনারা সরকারে আছেন কেন? ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিন।’

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা আকরাম খাঁ হলে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল-এর উদ্যোগে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপল‌ক্ষে কৃষক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নাসিমকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে গতকাল বুধবার প্রেসক্লাবে দেয়া এক বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, ‘এদেশে পয়সা দিয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কেনা যায়। এমন কি আইনজীবী, আদালত পর্যন্ত কিনে ফেলা যায়। যেহেতু টাকার বিনিময়ে অনেক কিছুই কিনে ফেলা যায় তাই বলতে চাই, ধর্ষণের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনাল করে দ্রুত বিচার করুন। তাহলে দেখবেন এইসব অপরাধ কমে গেছে। কারণ এইসব অপরাধীরা বিএনপি-জামাতের চেয়েও ভয়ঙ্কর।’

আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতার এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘উনার (নাসিম) বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়- বর্তমানে দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা কতটা নাজুক। ঢাকাইয়া ভাষায় বলতে হয়- গণতন্ত্র পড়েছে মাইনকা চিপায়। এই মাইনকা চিপা হতে আমরা কেউ বেরোতে পারছি না।’

আলাল বলেন, ‘বর্তমান সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা যখন যা খুশি বলছেন। উল্টাপাল্টা কথা বলে মানুষকে বিনোদন দিচ্ছেন। সরকারের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যখন হাতিরঝিলের উপর দিয়ে যাই মনে হয় প্যারিস দিয়ে যাচ্ছি। আরেক মন্ত্রীর কাছে কুড়িল ফ্লাইওভার দিয়ে যাওয়ার সময় নাকি লসঅ্যাঞ্জেলসের কথা মনে হয়। রানা প্লাজা ধসে পড়লে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা বলেন এটা নাকি বিএনপি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। আমরা নই শুধু, গোটা দেশ জাতি এখন এই অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এবং কৃষক দলের সদস্য এসকে সাদীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, কৃষকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মাদ জসিম, নাজিম উদ্দীন মাস্টার, জামাল উদ্দীন খান মিলন, সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌জামায়াত নয়, বেঈমানির জন্য জাফরুল্লাহর ক্ষমা চাওয়া উচিত


গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা, কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও বিএনপির পরামর্শক হিসেবে পরিচিত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে নিয়ে এর আগে অ্যানালাইসিস বিডিতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জাফরুল্লাহ চৌধুরী যে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর বাংলাদেশি এজেন্ট এটাও তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করার জন্য জাফরুল্লাহ চৌধুরী দুই বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে, জাফরুল্লাহ চৌধুরী একাধিকবার খালেদা জিয়াকে বলেছেন-জোট থেকে জামায়াতকে বের করে দেয়ার জন্য। কিন্তু খালেদা জিয়াকে তিনি কোনোভাবেই ম্যানেজ করতে পারেন নি।

এরপর কথিত দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তিনি তার মুক্তির জন্য রাস্তা-ঘাটে মায়া কান্না করছেন। তলে তলে ড. কামালকে নিয়ে কথিত ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য গণআন্দোলনের কথা বলে জাফরুল্লাহ বিএনপিকে এই কথিত ঐক্যফ্রন্টে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে কোনো দাবি আদায় না করেই নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। শুধু নির্বাচনে নয়, এক পর্যায়ে তারা ভোট ডাকাতির অবৈধ সংসদেও যেতে বিএনপিকে বাধ্য করে। এই জাফরুল্লাহকে দিয়েই ভারত ও আওয়ামী লীগ তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।

তবে, ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত থেকে জাফরুল্লাহরা এখনো বিরত থাকেনি। আওয়ামী লীগের মতো জাফরুল্লাহও কথিত যুদ্ধাপরাধের ইস্যুতে জামায়াতকে কোনঠাসা করার চেষ্টায় লিপ্ত আছেন। বুধবার এলডিবির একটি অনুষ্ঠানে জাফরুল্লাহ বলেছেন- জামায়াত যদি সত্যিকার অর্থে খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় তাহলে জাতির কাছে তাদেরকে ক্ষমা চাইতে হবে।

এখন প্রশ্ন হলো- খালেদা জিয়ার মুক্তির সঙ্গে জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার সম্পর্ক কি? খালেদা জিয়া কারাবন্দি হয়েছেন মাত্র এক বছর হলো। আর জামায়াতের সঙ্গে জোট করে একসঙ্গে আন্দোলন করছেন প্রায় ২০ বছর ধরে।

দেখা গেছে, বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই ২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার জন্য সরকার শুধু জামায়াতের ওপরই জুলুম-নির্যাতন করেনি।শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ নেতারা জামায়াত ছাড়ার জন্য খালেদা জিয়াকেও সভা-সমাবেশে অশালীন ভাষায় গালি দিচ্ছে। নিজেরা ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে সরকার আন্তর্জাতিক মহলকে দিয়েও জামায়াত ছাড়ার জন্য খালেদা জিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

কিন্তু খালেদা জিয়া কারো চাপের মুখেই তিনি জামায়াতকে জোট্ থেকে বাদ দেয়ার চিন্তা করেনি নি। দেখা গেছে, জোট ভাঙ্গার জন্য সরকার যত বেশি চাপ দিয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিএনপির অন্যান্য নেতারা বিষয়টি না বুঝলেও খালেদা জিয়া ঠিকই বুঝতেন যে, কথিত যুদ্ধাপরাদের অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে জোট থেকে বের করতে চাচ্ছে। কারণ, ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামীলীগ-জামায়াত জোট হয়ে আন্দোলন করেছে তখন জামায়াত যুদ্ধাপরাধী ছিল না। এখন বিএনপির সঙ্গে জোট করার কারণেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধী হয়ে গেছে। এজন্য দেশি-বিদেশি চাপ থাকার পরও খালেদা জিয়া জামায়াতকে ছাড়েননি।

আর বিগত ২০ বছরে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে খালেদা জিয়া এমন কিছু পায়নি যা বিশ্বাসঘাতকতার পর্যায়ে পড়ে। এমনকি কোনো কোনো সময় দলের নেতাকর্মীদের চেয়ে খালেদা জিয়া জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর বেশি আস্থা রাখতেন। এসবের যথেষ্ট প্রমাণও আছে। ২০১৩ সালে একটি হরতাল সফল করতে ছাত্রদলকে বাদ দিয়ে শিবিরের সভাপতি-সেক্রেটারি সঙ্গে রাতে খালেদা জিয়া গোপনে একটি বৈঠক করেছিল এমন তথ্যও আছে। বিগত দিনগুলোতে খালেদা জিয়া একদিনও জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে বলেননি।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ মনে করেন, জাতির কাছে ক্ষমা যদি চাইতে হয় তাহলে বেইমানির জন্য জাফরুল্লাহকে চাইতে হবে। কারণ, জাফরুল্লাহ গোটা জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে। কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামে জাফরুল্লাহ সরকারের এজেন্ট হয়ে কাজ করেছে। কথা ছিল-খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৭ দফা দাবি না মানলে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু, দাবি মানা ছাড়াই জাফরুল্লাহরা কৌশলে বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়েছে। এরপর অবৈধ সংসদকে বৈধতা দিতে তারা বিএনপিকে সংসদেও নিয়েছে।

জাফরুল্লাহ এখানেই থেমে থাকেনি। এখন তিনি বিএনপি থেকে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকেও বাদ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এনিয়ে তিনি বিভিন্ন টকশোতে একাধিকবার প্রকাশ্যে বক্তব্যও দিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ভাঙ্গন ধরানোর জন্য যে জাফরুল্লাহ সরকারের এজেন্ট হয়ে কাজ করছেন এটা এখন প্রমাণিত। সুতরাং, জামায়াত নয়, বেইমানির জন্য জাফরুল্লাহকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে: জুনাইদ বাবুনগরী


দাড়ি রাখা, টাখনুর ওপর কাপড় পরা ‘জঙ্গি লক্ষণ’ বলে প্রচারিত ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামক সংগঠনের বিজ্ঞাপনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী।

গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ দেশের কোটি কোটি মানুষ টাখনুর ওপরে পোশাক পরেন এবং সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক মানুষ আল্লাহর রাসুলকে ভালোবেসে তার সুন্নাতের অনুসরণ করে মুখে দাড়ি রাখেন।

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামের একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অসৎ উদ্দেশ্যে রাসুল (সা.)-এর সুন্নত ও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান দাড়ি রাখা ও টাখনুর ওপর কাপড় পরিধান করাকে জঙ্গিপনার লক্ষণ বলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী আরও বলেন, কথিত জঙ্গি ইন্ডিকেটর বিষয়ে তাদের হিংসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি, আক্রমণাত্মক বয়ান ও বিস্তৃত কর্মকাণ্ডের ধরন দেখে সহজেই বোঝা যায় রাসুলের সুন্নত দাড়ি ও ইসলামের বিধান টাখনুর ওপর কাপড় পরিধানকে তারা জেনে-বুঝেই আক্রমণ করেছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে যত সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, যত রকমের কথিত জঙ্গি গ্রেফতার বা নিহত হয়েছে, তারা সবাই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া। সুন্নতে রাসুলের পরিপূর্ণ অনুসারী কোনো আলেম বা ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। পীযূষরা বাংলাদেশের সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে নাস্তিকবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। সম্প্রীতি বাংলাদেশ নামক সংগঠনের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিজ্ঞাপন প্রচার করে ইসলাম ও মুসলমানের হৃদয়ে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

আল্লামা বাবুনগরী অবিলম্বে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার কারণে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here