প্রশংসার ফাঁদ পেতেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় আনতে তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন। এজন্য তিনি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অতীতের ভালো কিছু ভূমিকা তুলে ধরার কৌশল গ্রহণ করেছেন। এমনটিই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে। যুগান্তরকে তারা বলেন, সিইসির কাজ আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমনে আস্থা তৈরি করা। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যেসব বাধা আছে তা দূর করতে কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগী হওয়া। কিন্তু এভাবে এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর মতো চটুল বক্তৃতা দেয়ার কাজ সিইসির নয়।

প্রসঙ্গত, সোমবার বিএনপির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন সিইসি কেএম নুরুল হুদা। এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেরও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি সরকারের দীর্ঘ নয় বছরের শাসনামলেরও ব্যাপক প্রশংসা করেন সিইসি। বিষয়টিকে রীতিমতো প্রশংসার ফাঁদ বলেই মনে করছেন রাজনীতিক ও সুশীল সমাজের বিশ্লেষকদের অনেকে। আওয়ামী লীগ অবশ্য এ ঘটনাকে সিইসির ‘বিএনপিকে খুশি করার কৌশল’ হিসেবে দেখছে। ওদিকে বিএনপিতে পক্ষ-বিপক্ষ দুই মতই কাজ করছে। তবে অন্যরা মনে করছেন, দলের প্রশংসা করার কাজ সিইসির নয়। কোনো দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশন থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেয়া হয় না। এটি একটি নজির সৃষ্টি হল। বিশেষ করে বিএনপি এটিকে দীর্ঘদিন ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।

জনতার মঞ্চের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যুগ্মসচিব থাকা অবস্থায় বর্তমান সিইসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। পরে আদালতের রায়ে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেয়ে সচিব হন কেএম নুরুল হুদা। আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করার পর তাকে সিইসি হিসেবে নিয়োগ দেয়। সে সময় কেএম নুরুল হুদার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে বিএনপি। এখন সেই সিইসির মুখে বিএনপির ব্যাপক প্রশংসা সবাইকে রীতিমতো হতবাক ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ফেলে দিয়েছে। বিষয়টি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি হিসেবে পরিণত হয়েছে বললেও ভুল বলা হবে না। তবে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সোমবার সিইসির সংলাপ থেকে ওয়াকআউট করেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী। জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা বলায় সিইসির সঙ্গে সংলাপে বসেও শেষ সময়ে তা বয়কটের ঘোষণা দিয়ে বের হয়ে আসেন তিনি। কাদের সিদ্দিকী এ সময় সিইসির পদত্যাগও দাবি করেন।

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here