ক্যাসিনো খালেদের সঙ্গে সাংবাদিক শাবান মাহমুদের সম্পর্কের নেপথ্যে

0
274

রাজধানীতে হঠাৎ করেই যেন বিস্ফোরণ ঘটলো। এ বিস্ফোরণের মধ্যদিয়ে বেরিয়ে আসছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অপরাধের চিত্র। গত দুইদিনে র‌্যাবের অভিযানে যা বেরিয়ে আসছে তা দেখে শুধু দেশবাসী নয়, বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিক ও কূটনীতিকরাও বিস্মিত হয়েছেন। পুরো রাজধানীই যেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষকলীগ নেতাদের অপরাধের স্বর্গরাজ্য।

এখন সাধারন মহলে প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা না হয় টাকার বিনিময়ে অপরাধীদেরকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু, জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকরা কি কারণে এসব গোপন করে রাখছে?

এসব প্রশ্নের অনেকটা উত্তর মেলে সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদের সঙ্গে ক্যাসিনো খ্যাত খালেদা মাহমুদের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর। এখন এনিয়ে তোলপাড় চলছে। অনেকেই আবার শেখ হাসিনার একান্ত অনুগত হিসেবে পরিচিত আওয়ামী পন্থী সাংবাদিক বলে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।

সূত্র বলছে, বিগত ১০ বছরে যেসব সাংবাদিক নেতা শেখ হাসিনার কাছ থেকে বেশি সুবিধা নিয়েছে তাদের মধ্যে শাবান মাহমুদ একজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাস ও ক্যাসিনো খালেদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক শাবান মাহমুদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি তাদের এ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।

শাবান মাহমুদের কর্মস্থল বাংলাদেশ প্রতিদিনের একাধিক সাংবাদিক ও কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্যাসিনো খালেদের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জুয়া ও মদের আসর থেকে কোটি কোটি আয়ের বিষয় শাবান মাহমুদ জানেন। অন্যদের মতো শাবান মাহমুদকেও এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো রিপোর্ট না করার শর্তে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা দিতেন ক্যাসিনো খালেদ। যার কারণে জানা সত্ত্বেও এসব নিয়ে শাবান মাহমুদ কখনো মুখ খুলেননি। এমন টকশোতেও তিনি কখনো এসব নিয়ে কথা বলেননি।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ শোভন-রাব্বানী আর ক্যাসিনো সম্রাটকেও নির্দোষ করার চেষ্টা চলছে!


একজন নির্দোষ মানুষ খুব সহজেই যিনি খুনি বানাতে পারেন আবার একজন সৎ মানুষকেও খুব সহজে অপরাধী বাানতে পারেন, তেমনি একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী, চাদাবাজি, টেন্ডারবাজ, দখলদারকেও সৎ ও পবিত্র মানুষ হিসেবে ঘোষণা দিতে পারেন। এ কাজগুলোতে যিনি খুবই পারদর্শী তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন এদেশে একজন দুর্নীতিবাজ হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। পদ্মাসেতু কেলেংকারির সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। দেখা গেছে, একটা সময়ে শেখ হাসিনার অনুগত দুদক তাকে সততার সার্টিফিকেট দিলেন। এরপর, ইয়াবার গডফাদার হিসেবে এদেশে পরিচিত কক্সবাজারের এমপি আব্দুর রহমান বদি। মানুষ যাকে ইয়াবা বাবা হিসেবেই ডাকে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পর সরকার তাকে গ্রেফতার না করে সততার সার্টিফিকেট দিল।

বর্তমানে দেশে আলোচিত তিন চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ হলো ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হজ চৌধুরী শোভন, সাবেক সেক্রেটারি গোলাম রাব্বানী ও যুবলীগ সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন সম্রাট। ছাত্রলীগ সভাপতি-সেক্রেটারিকে শত কোটি চাঁদাবাজির কারণে পদ থেকেই সরিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তারা এখন সরকার ঘোষিত দুর্নীতিবাজ। তাদেরকে শুধু পদ থেকেই সরালেন, চাঁদাবাজির কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না শেখ হাসিনা। বরং শোভন-রাব্বানী পবিত্র ঘোষণারও প্রক্রিয়া চলছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

গত শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করেছেন জাবি ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। সাক্ষাতের পর ভিসি ফারজানা গণমাধ্যমকে কিছু বলেননি। তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেছেন, জাহাঙ্গীরনগরের ঘটনা পদ্মসেতুর মতো।

পদ্মাসেতুর উদাহরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুঝাতে চাচ্ছেন যে, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে যেমন দুর্নীতির পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছিল, শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধেও উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কমিশন চাওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। আসলে তারা এমনটা করেনি।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের আলোকেই তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট তৈরি করবে। রিপোর্টে শোভন-রাব্বানীকে হালকা ধমক দিয়ে নির্দোষ ঘোষণা করা হবে। এরপর তাদেরকে আবারো ছাত্রলীগে ফিরিয়ে আনা হবে।

এরপর, শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যদি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের বিরদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।

রাজধানীতে যে কয়জন শীর্ষ চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলদার আছে তাদের মধ্যে শীর্ষ হলেন যুবলীগ সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন সম্রাট। বর্তমানে যে ক্যাসিনো সম্রাট হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। বর্তমানে রাজধানীতে যে ক্যাসিনো বিস্ফোরণ ঘটেছে এসব নিয়ন্ত্রণের মূল হোতা হলেন সম্রাট। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আজ বললেন-যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।

সচেতন মানুষ বলছেন, ইয়াবার গডফাদার বদির মতোই ক্যাসিনো সম্রাটকে নির্দোষ ও পবিত্র ঘোষণা দেয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। এত কিছুর পরও যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন-যদি অভিযোগ সত্য, এরমানে আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই নিয়ন্ত্রককে তারা গ্রেফতার করবেন না।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ সেই জি কে শামীমের দলীয় পরিচয় নিয়ে আওয়ামী লীগ যুবলীগে বিভ্রান্তি!


সাত দেহরক্ষীসহ র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমের দলীয় পরিচয় দিতে চাচ্ছে না কেউ। আটকের সময় তার দলীয় পরিচয় যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা জানা গেলেও তা অস্বীকার করছে যুবলীগ।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর নিকেতনের কার্যালয় থেকে শামীমকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় শামীমের কার্যালয় থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ নগদ ১ কোটি ৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট) জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি টাকা ও ২৫ কোটি টাকা তার নামে। এছাড়াও ৭টি শর্টগান, বিদেশি মুদ্রা ও মাদক উদ্ধার করা হয়।

জিকে শামীম আটক হওয়ার পরই তার দলীয় পরিচয় নিয়ে শুরু হয় বিভ্রান্তি। যুবলীগ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন জিকে শামীম যুবলীগের নয়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা। আর আওয়ামী লীগ জানিয়েছে আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে জিকে শামীম নেই।

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী রাজধানীর এক দলীয় সভায় বলেন, ‘জি কে শামীম যুবলীগের কেউ নয়। শামীমের সঙ্গে যুবলীগের কোনো সম্পর্ক নেই। সে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি’।

পরে গণমাধ্যমকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, ‘জি কে শামীম আমাদের কমিটির কেউ না। সে জেলা আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে ছিল না। এমনকি প্রস্তাবিত কমিটিও ছিল না। তাকে তো আমরা চিনি না। সে যদি সক্রিয় কর্মী হতো তাহলে আমরা তাকে চিনতাম’।

তিনি আরও বলেন, ‘সে আমার কমিটিতে কোনো পদে নেই। জেলা কমিটিতে থাকার বিষয়ে যে নিউজ প্রকাশিত হচ্ছে আমরা এ বিষয়ে আশ্চার্য হয়েছি। আমরা প্রথমে গণমাধ্যমের বরাতে জানতে পারলাম সে যুবদল থেকে এখন যুবলীগের নেতা’।

এদিকে জিকে শামীম আওয়ামী লীগ নাকি যুবলীগ নেতা এমন বিভ্রান্তির প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে দলের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জানান, আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আটক হওয়া জিকে শামীমের অস্তিত্ব নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলা বা মহানগর আওয়ামী লীগের তালিকায় জিকে শামীম নামের কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব নেই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির অনুমোদন হয় ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট।

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ওই কমিটির একটি অনুলিপি দেখিয়ে বলেন, এখানে জিকে শামীম নামের কোনো ব্যক্তির নাম নেই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার নতুন মডেলের দুর্নীতির চিত্র!


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নিয়মিতই বলে থাকেন এসবের মধ্যে তার গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা হলো-বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। রাষ্ট্রের সম্পত্তি লুটপাট, আত্মসাত ও দুর্নীতি করতে তারা ক্ষমতায় আসে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। জনগণ উন্নত জীবন পায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বাড়ে। তার আরেকটি কথা হলো-আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আমার বাবা দেশ স্বাধীন করেছে। দুর্নীতি-লুটপাটের জন্য আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে না। আমাদের অর্থ-সম্পদের দরকার নাই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি বন্ধ করেছে। দেশে এখন আর কোনো দুর্নীতি। এভাবেই প্রতিদিন শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতারা সভা-সমাবেশে গিয়ে জনগণের সামনে কথিত উন্নয়নের ভাঙ্গা রেকর্ড শুনিয়ে নিজেদের দুর্নীতিকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

আর শেখ হাসিনার বিগত ১১ বছরের শাসনামল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে দুর্নীতি-লুটপাটের এত মহোৎসব অতীতে আর হয়নি। শেয়ারবাজার ও ব্যাংক লুটের ঘটনা অতীতে ঘটেনি। আর বাণিজ্যিক খাতের প্রত্যেকটি ব্যাংক সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসব ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বাণিজ্যিক খাতের ব্যাংকগুলো এখন চরম অর্থসংকটে ভুগছে। এছাড়া রাষ্ট্রের এমন কোনো সেক্টর নেই যেখান থেকে ক্ষমতাসীনরা অর্থ আত্মসাত করেনি।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো-কথিত উন্নয়ন প্রকল্পের নামে শেখ হাসিনা এখন সারাদেশে দুর্নীতির সম্প্রসারণ করেছে। আর এসব লুটপাট-দুর্নীতিও চলছে এখন নতুন মডেলে। এ রকম স্টাইলের দুর্নীতি দেশ কখনো হয়নি। এসব লুটপাট-দুর্নীতির দিকে তাকালে নিসন্দেহে বলা যায়-বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দুর্নীতিতে নতুন মডেল। কারণ, পৃথিবীর কোথাও নতুন মডেলে দুর্নীতি হয়নি।

পাঠকদের জন্য এখানে শেখ হাসিনার নতুন মডেলের কিছু দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হলো:

পর্দা কেলেংকারি
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পর্দা কেলেংকারি নিয়ে সারাদেশ এখন তোলপাড়। হাসপাতালটির ১১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬৫ টাকার মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনাকাটায় বিল দেখানো হয়েছে ৫২ কোটি ৬৬ লাখ ৭১ হাজার ২০০ টাকা। এই একটি কেনাকাটাতেই মেসার্স অনিক ট্রেডার্স বাড়তি বিল দেখিয়েছে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৭ টাকা।

আইসিইউতে ব্যবহৃত একটি পর্দার দাম ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড়াও একটি অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। একটি ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার, একটি বিএইইস মনিটরিং প্ল্যান্ট ২৩ লাখ ৭৫ হাজার, তিনটি ডিজিটাল ব্লাড প্রেসার মেশিন ৩০ লাখ ৭৫ হাজার, আর একটি হেডকার্ডিয়াক স্টেথোসকোপের দাম ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। এমন অবিশ্বাস্য দামে ১৬৬টি যন্ত্র ও সরঞ্জাম কিনেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বই কেলেংকারি
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য বই কিনেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। এই বই কেনাতেও করা হয়েছে সাগর চুরি। জানা গেছে, যে বইয়ের দাম ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। সে বইয়ের কেনার বিল করা হয়েছে ৪৩ হাজার টাকা। যে বইয়ের দাম ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা। সে বই কেনা হয়েছে ২০ হাজার ৪৮০ টাকায়। যে বইয়ের দাম ৪ থেকে পাঁচ হাজার টাকা। সে বই কেনা হয়েছে ১৪ হাজার ১৭৫ টাকা করে। যে বইয়ের বাজার মূল্য ২৯ হাজার টাকা। সে বই কেনা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা করে। যে বইয়ের বাজার মূল্য ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা। সে বই কেনা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৫ টাকা করে।

ঢেউ টিন কেলেংকারি
আরেক মহা কেলেংকারির ঘটনা ঘটেছে খাগড়াছড়ির এপিবিএন কার্যালয়ের ঢেউ টিন কেনায়। এখানে একটি টিন কেনা হয়েছে এক লাখ টাকায়। যা বর্তমান বাজার মূল্যের তুলনায় ১০০ গুণেরও বেশি। ওই মেরামতকাজে মাত্র দুই বান টিনের দাম দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। এছাড়াও কাজ শুরুর মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই বাজেটের ৭১ লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়। অথচ মেরামত কমিটির সদস্য সচিবের দেয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থেকে জানা যায়, চার মাসে মাত্র ১৫ ভাগ কাজ হয়েছে।

রেলওয়েতে হরিলুট
রেলওয়ের কারিগরি প্রকল্পে একজন ক্লিনারের বেতন মাসে চার লাখ বিশ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। অবাক হলেও এমনই অবিশ্বাস্য বেতন ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অফিস সহায়কের বেতন ধরা হয়েছে ৮৪ হাজার টাকা। রেল মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাবনায় এমন বেতনের কথা বলা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্রে দেখা যায়, প্রকল্পে ক্লিনারের বেতন ধরা হয় মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর অফিস সহায়কের বেতন প্রতি মাসে ৮৩ হাজার ৯৫০ টাকা। বিদেশী পরামর্শকদের বেতন মাসে গড়ে ১৬ থেকে ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

নদীর তীর সংরক্ষণের নামে লুটপাট
নদী একটা, এলাকাও একটাই, কিন্তু তার তীর সংরক্ষণ ব্যয় তিন ধরনের। আর এই ব্যয় ব্যবধান ৯ থেকে ১৫ কোটি টাকা প্রতি কিলোমিটারে। প্রতিটি সাইনবোর্ড বানাতে ব্যয় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। স্ট্যাম্প ও সিল বাবদ খরচ ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর এই খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সন্দ্বীপ চ্যানেলের ভাঙনরোধে ৪.৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি ১১৮ কোটি ৩০ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে তীর সংরক্ষণের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পটি হলো নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সন্দ্বীপ চ্যানেলের ভাঙন থেকে মুসাপুর ক্লোজার, রেগুলেটর এবং সংলগ্ন এলাকা রক্ষার জন্য মুসাপুর রেগুলেটরের ডাইভারশন চ্যানেল ও সন্দ্বীপ চ্যানেলের বাম তীর প্রতিরক্ষা। এখানে ৪.৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি ৮৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ১.৩ কিলোমিটার রোড নির্মাণ ও কার্পেটিং খরচ ৩ কোটি ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা। প্রকল্পের পাঁচটি সাইনবোর্ড তৈরিতে ব্যয় হবে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা। সিল ও স্ট্যাম্প খাতে ব্যয় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

দেখা যায়, গড়ে প্রতি কিলোমিটার তীর সংরক্ষণে ব্যয় হবে ২২ কোটি ৯৩ লাখ ২ হাজার টাকা। একই নদীর একই এলাকায় তীর সংরক্ষণে ব্যয় হচ্ছে তিন ধরনের। মুসাপুর রেগুলেটরের ডাইভারশন চ্যানেলের ভাটিতে ১.৩ কিলোমিটারের জন্য ব্যয় ২২ কোটি ৮১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এখানে কিলোমিটারে ব্যয় হবে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। আর একই চ্যানেলের উজান তীরে ৬০০ মিটার বা আধা কিলোমিটারের একটু বেশির জন্য ব্যয় ১১ কোটি ২২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। অন্য দিকে চ্যানেলের ভাটির বাম তীরে আড়াই কিলোমিটারের জন্য খরচ ৬৬ কোটি ৮৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। এখানে কিলোমিটারে ব্যয় হবে ২৬ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।

বালিশ কাণ্ড
আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক, কোনো কোনোটিতে ৭৫ শতাংশ। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো- এক কেজির মতো ওজনের একটি বৈদ্যুতিক কেটলি নিচ থেকে ফ্ল্যাটে তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। জামা-কাপড় ইস্ত্রি করার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ওপরে তুলতেও খরচ হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ টাকা।

প্রায় আট হাজার টাকা করে কেনা প্রতিটি বৈদ্যুতিক চুলা ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতে খরচ দেখানো হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকার বেশি। প্রতিটি শোবার বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় এক হাজার টাকা করে। আর একেকটি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি। কেবল ভবনে ওঠানোর ক্ষেত্রেই নয়, আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। ২০ তলা ওই ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা করে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা করে কেনা প্রতিটি রেফ্রিজারেটর ওপরে ওঠাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দরে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা করে। একেকটি ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ২১ হাজার ২১৫ টাকায়, আর ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৯১০ টাকা করে। এছাড়া রুম পরিষ্কার করার মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ১৮ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা।

প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা দরে ১১০টি খাট কিনতে খরচ হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। খাটগুলোর প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটে নিতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা করে। একেকটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা দরে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা।

ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের একেকটি সেট কেনা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়, ভবনে তুলতে লেগেছে ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা করে। ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা দরে ওয়ারড্রব কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা করে। ৩৬ হাজার ৫৭ টাকা দরে ৩৩০টি মেট্রেস ও তোশক কেনা হয়েছে মোট এক কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যার প্রতিটি ভবনে ওঠাতে খরচ করা হয়েছে সাত হাজার ৭৫২ টাকা করে।

আরও জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় একজন গাড়িচালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের বেতনের সমান। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে রাঁধুনি আর মালির বেতন ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে সর্বসাকুল্যে ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। যা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানীর ছয়গুণেরও বেশি। প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালকের মাসিক বেতন মোট ৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। যা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানীর প্রায় পাঁচগুণ।

দুর্নীতির কারখানা তিতাস
সম্প্রতি দুদকের অনুসন্ধানে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে এসেছে তিতাসে। এখানে পদে পদে দুর্নীতি অনিয়ম হচ্ছে। আর খেসারত দিচ্ছে গ্রাহকরা। যেমন-অবৈধ সংযোগ, নতুন সংযোগে অনীহা এবং অবৈধ সংযোগ বৈধ না করা, অবৈধ লাইন পুনঃ সংযোগ, অবৈধ সংযোগ বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া, অদৃশ্য হস্তক্ষেপে অবৈধ সংযোগ, গ্যাস সংযোগে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করা, বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহককে শিল্প শ্রেণির গ্রাহক হিসেবে সংযোগ প্রদান, মিটার টেম্পারিং, অনুমোদনের অতিরিক্ত বয়লার ও জেনারেটর এ গ্যাস সংযোগ, মিটার বাইপাস করে সংযোগ প্রদান সংক্রান্ত দুর্নীতি, এস্টিমেশন অপেক্ষা গ্যাস সরবরাহ কম করেও সিস্টেম লস দেখানো, ইচ্ছাকৃতভাবে ইভিসি-ইলেকট্রনিক ভলিয়ম কারেক্টর না বসানো।

দুর্নীতির শিকার ওয়াশার গ্রাহকরা
ঢাকা ওয়াসার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সম্প্রতি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে টিআইবি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৬২ শতাংশ গ্রাহক ওয়াশা কর্মকর্তাদের দুর্নীতি অনিয়মের শিকার। এসব অনিয়মের মধ্যে- পানির সংযোগের জন্য ২০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। পয়:লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ৩০০-৪৫০০ টাকা, গাড়িতে জরুরি পানি সরবরাহের জন্য ২০০থেকে ১৫০০ টাকা, মিটার ক্রয়/পরিবর্তনের জন্য এক হাজার-১৫ হাজার, মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত কাজের জন্য ৫০ থেকে তিন হাজার এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়।

দুর্নীতির কারণে ধসে পড়েছে বিমান খাত
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ১৯ খাতে দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিমানের ৮ এবং বেবিচকের ১১ খাতে দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত হয়েছে।

বিমানের ৮ খাতের মধ্যে এয়ারক্রাফট কেনা ও লিজ নেয়া, রক্ষণাবেক্ষণ-ওভারহোলিং, গ্রাউন্ড সার্ভিস, কার্গো আমদানি-রফতানি, ট্রানজিট যাত্রী ও লে-ওভার যাত্রী, অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাৎ, টিকিট বিক্রি, ক্যাটারিং খাতের দুর্নীতি চিহ্নিত হয়েছে।

আর বেবিচকের ১১ খাতের মধ্যে আছে টাওয়ার বোর্ডিং ব্রিজসহ বড় বড় কেনাকাটা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, বিমানবন্দরের দোকান বিলবোর্ড ভাড়া, পরামর্শক নিয়োগ, কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণ, মন্ট্রিল কনভেনশন বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলট ফ্লাইং ইঞ্জিনিয়ার ও এয়ারক্রাফটের লাইসেন্স, ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্স ও সিডিউল অনুমোদন ও অপারেশনাল কাজে দুর্বলতা।

দুর্নীতির মহোৎসব স্বাস্থ্যখাতে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১টি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্রয়, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসা দেওয়া, চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইকুইপমেন্ট ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব খাতের দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা জড়িত। এসব দুর্নীতি ও লুটপাটের টাকা সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকদের পকেটেও যাচ্ছে। যার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here