চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আরও ২ বাংলাদেশি নিহত

0
47

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ওয়াহেদপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ওয়াহেদপুর সীমান্তের ১৬/৫ সীমান্ত পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর হঠাৎপাড়ার সাইফুদ্দীন লাওয়ার ছেলে সাদ্দাম ওরফে পটল (২২) ও একই উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের দোভাগী গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে রয়েল (২৩)।

এ ঘটনায় আহত একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে কয়েকজন রাখাল গরু আনার জন্য ওয়াহেদপুর সীমান্তের ১৬/৫ সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে ভারতে ঢোকে। এ সময় জাহাঙ্গীর পাড়া মাঠ এলাকায় ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন চাঁদনিচক ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

এতে সাদ্দাম ও রয়েল ঘটনাস্থলেই মারা যায়। অন্যান্য রাখালরা সাদ্দামের লাশ নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। রয়েলের লাশ ভারতের মধ্যেই পড়ে আছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব জানান, ওয়াহেদপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হতাহতের ঘটনা তিনি শুনেছেন। খোঁজখবর নেয়ার পর এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে জানান।

এ ঘটনার মাত্র চারদিন আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কিরণগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুলাল (২০) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন।

এদিকে যশোরের বেনাপোলে বিএসএফের গুলিতে ইসরাফিল হোসেন (৩০) নামে এক বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী গুরুতর জখম হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে বেনাপোলের পুটখালী সীমান্তে ভারত থেকে গরু নিয়ে দেশে ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় হাইকমিশনের বক্তব্য: এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশন দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ২৫-৩০ জনের একদল গরু চোরাকারবারী দেশীয় বোমা, দা, হাসুয়া, লাঠি ও টর্চ নিয়ে যশোরের বেনাপোল থানাধীন পুটখালী ২১ বিজিবি বিওপির বিপরীতে অবস্থিত বিওপি আংরাইলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) টহল দলের ওপর হামলা চালায়। বিএসএফ টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করলেও তারা বাংলাদেশের দিকে এগোতে থাকে।

ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, জীবনের ঝুঁকি টের পেয়ে বিএসএফ কনস্টেবল আনিসুর রহমান পাম্প অ্যাকশন গান (প্রাণঘাতী নয়) দিয়ে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। কিন্তু চোরাকারবারীরা তার ওপর দেশীয় বোমা দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় কনস্টেবলের ডান হাত কব্জি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। তার শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক।

ভারতীয় হাইকমিশনের দাবি, একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে বিএসএফের প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহারের নীতির সুযোগ নিচ্ছে চোরাকারবারীরা। ফলে সীমান্তে নিয়োজিত বিএসএফ সদস্যরা গুরুতর হামলার শিকার হচ্ছে।

সীমান্ত নিহত নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: এদিকে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আগের তুলনায় সীমান্তে নিহত অনেকটা কমে এসেছে। তিনি সংসদকে জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গত ১০ বছরে (২০০৯-২০১৮) সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে ২৯৪ জন নিহত হয়েছে।

এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৬৬ জন, ২০১০ সালে ৫৫ জন, ২০১১ সালে ২৪ জন, ২০১২ সালে ২৪ জন, ২০১৩ সালে ১৮ জন, ২০১৪ সালে ২৪ জন, ২০১৫ সালে ৩৮ জন, ২০১৬ সালে ২৫ জন, ২০১৭ সালে ১৭ জন এবং ২০১৮ সালে ৩ জন।

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here