“বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে কংগ্রেসম্যান ও মার্কিন জেনারেলের ভিডিও বার্তা”

0
498

“বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় তাহলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা বাঞ্ছনীয়; সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সকলের অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য করতেই হবে”

ইউএস করেসপন্ডেন্ট: বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সকলের অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য করতে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির দুই প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট ও মার্কিন জেনারেল স্কট পেরি।

ভিডিও বার্তার শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (এশিয়া অ্যান্ড দ্যা প্যাসিফিক) কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান ও রিপাবলিকান-ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট বলেন, বাংলাদেশ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য এবং সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বর্তমান ক্ষমতাশীন হাসিনা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

ভিডিওঃ  ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট ও কংগ্রেসম্যান জেনারেল স্কট পেরি’র ভিডিও বার্তা’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কংগ্রেসম্যান শ্যাবোট বলেন, যুক্তরাস্ট্রের সাথে বাংলাদেশের জনগনের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের এবং গভীর। বাংলাদেশের জনগণের জন্য তার হৃদয়ে উষ্ণ অবস্থান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচন যে প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে তা বিতর্কিত হওয়ায় বাংলাদেশের জনগনের ভেতর প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে জন্য বর্তমান ক্ষমতাশীন হাসিনা সরকারকে নিশ্চিত করতেই হবে।

উল্লেখ্য, মার্কিন কংগ্রেসে ওহাইয়ো প্রথম ডিস্ট্রিক থেকে নির্বাচিত প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবোট কংগ্রেসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির জৈষ্ঠ সদস্য। স্টিভ শ্যাবট কংগ্রেসের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সাব-কমিটির দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান থাকা কালে বিগত ৫ জানুয়ারীর বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নভেম্বরে বাংলাদেশ সফর করেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সিরিজ বৈঠকে করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য কংগ্রেসম্যান স্কট পেরি তার ভিডিও বার্তায় বলেন, দুরারোগ্য ব্যাধীতে আক্রান্ত বাংলাদেশের চলমান রাজনীতি, বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশের জনগণই গুরুত্বপূর্ণ। সকলের অংশগ্রহণমূলক জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নিতে হবে। ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসম্যান স্কট পেরি, কংগ্রেসম্যানের দায়িত্বের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ সামরিক জেনারেল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একান্ত বিশ্বস্ত কংগ্রেসম্যান পেরি মার্কিন কংগ্রেসের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির জৈষ্ঠ সদস্যও। যিনি ইরাক এবং সিরিয়াসহ বিশ্বব্যাপী আইএসআইএস দমনে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারনীতে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। যার নাম যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হবার শীর্ষে রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা এলাকার মার্কিন কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্বকারী প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান ড্যারেন সোটো তার ভিডিও বার্তায় বলেন, গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য করছে যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সহঅবস্থানের ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে ঐতিহ্যতগতভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে, যেখানে সবাই ভোট দিতে পারে। বাংলাদেশ যদি সত্যিকার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায় তাহলে দেশটিতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা আবশ্যক।

উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর ১১৫তম কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির ৬ জন কংগ্রেসম্যান বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা প্রদানের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মার্কিন কংগ্রেসে একটি বিলটি উপস্থাপন করেন। পরবর্তিতে গত ১২ ডিসেম্বর, বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের ফ্লোরে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির এশিয়া অ্যান্ড দ্যা প্যাসিফিকের চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান টেড ইয়োহো, কংগ্রেসম্যান ইলিয়ট এঙ্গেল, কংগ্রেসম্যান ব্র্যাড শেরম্যান, কংগ্রেসম্যান স্টীভ শ্যাবট, কংগ্রেসম্যান জেরি কনলি, কংগ্রেসম্যানের ড্যারেন সোটো ও কংগ্রেসম্যান বিল কিটিং এই বিলটি উপস্থাপন করেন। উল্লেখ্য, ছয়জন কংগ্রেসম্যানের প্রত্যেকেই মার্কিন কংগ্রেসের ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রভাবশালী সদস্য।

এদিকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিদ্যমান পরিবেশ ও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে গত ১১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের আর্মড সার্ভিস কমিটির চেয়ারম্যান ও হাউজ অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য জু উইলসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর কাছে এ চিঠি পাঠায় কংগ্রেসম্যান জু এর দফতর। জু উইলসন উল্লেখ করেন, সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রকাশিত মানবাধিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যকরভাবে বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণের যেকোনো উদ্যোগকে সরকারি দল ব্যাহত করতে পারে এমন উদ্বেগ থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বাংলাদেশে অবশ্যই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা বিরোধীদলের অস্তিত্ব বজায় রাখার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল ২১ ডিসেম্বর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মুখপাত্র রবার্ট পাল্লাদিনো ‘বাংলাদেশ সরকারের উপর হতাশা যুক্তরাষ্ট্র’ ব্যক্ত করে সেখানে বলা হয়, যেকোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য শান্তিপূর্ণ মতামত প্রদান ও সমাবেশ করার সুযোগ থাকতে হবে। স্বাধীন গণমাধ্যমকে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করতে দিতে হবে। প্রার্থীদের তথ্য জানার অধিকার আছে এবং কোনো ধরনের ভয়, হয়রানি ও সহিংসতা ছাড়াই তারা যেনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারে সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রত্যেক বাংলাদেশি যাতে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নিজের মতামত প্রকাশে বাংলাদেশ সরকারকে জনগণকে তাদের সেই স্বাধীনতা দিতে হবে।

এছাড়া, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র ও ভিসা প্রদান করে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের আসতে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ‘বাংলাদেশ সরকারের প্রতি হতাশা’ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here