১৪ বাংলাদেশিসহ ভূমধ্যসাগরে ২৯০ অভিবাসী উদ্ধার

0
190

ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূল থেকে ১৪ বাংলাদেশিসহ ২৯০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির নৌবাহিনী। শুক্রবার এক বিবৃতিতে লিবিয়ার নৌবাহিনী জানায়, ইউরোপগামী তিনটি নৌকা থেকে এই অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার জার্মানির একটি দাতব্য সংস্থা লিবিয়ার নৌবাহিনীকে সাগরে তিনটি নৌকা অকেজো হয়ে পড়ার খবর জানায়। বৃহস্পতিবার লিবিয়ার কোস্ট গার্ড একটি রাবারের নৌকা ডুবে যাওয়ার খবর পায়। এতে করে নৌকায় থাকা যাত্রীরা সাগরে ভেসে ভেড়াচ্ছিলেন।

শুক্রবার লিবীয় নৌবাহিনীর ফেসবুকে পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নৌকাটিতে ৮৭ জন অভিবাসী ছিলেন। এদের মধ্যে ছয় জন নারী ও এক শিশু রয়েছে।

এর আগে লিবীয় কোস্ট গার্ড আরও দুটি রাবারের নৌকা থেকে ২০৩ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে বলে পৃথক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

তিনটি নৌকাতে থাকা বেশির ভাগ যাত্রীই আরব ও আফ্রিকান দেশের নাগরিক। এদের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধারের পর মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে লিবিয়ার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারান ৩৭ বাংলাদেশি নাগরিক। এরপর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে সবার সামনে আসে। নিহতদের সঙ্গে থাকা ১৫ জন বাংলাদেশি নৌকাডুবি থেকে বেঁচে যান। ২১ মে তিউনিশিয়া থেকে দেশে ফেরেন তারা।

উৎসঃ ‌‌‌দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

আরও পড়ুনঃ ‌বদরের চেতনায় ভোটারহীন সরকারেরর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে – চরমোনাই পীর


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, বদরযুদ্ধ অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে হকের লড়াই। বদর যুদ্ধের চেতনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ভোটারহীন সরকারেরর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে। ইসলাম একটি সাধারণ সৃষ্টির স্বাধীনতাও নিশ্চিত করেছে।

অথচ বর্তমান সময়ে মানুষেরও স্বাধীনতা নেই। মানুষের বাক-স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হলে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, কৃষি প্রধান দেশে আজ কৃষকরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষির এই অর্থনৈতিক সেক্টরের অস্তিত্ব আজ বিলীন হবার পথে।

এক শ্রেণির সিন্ডিকেটদের হাত আজ এই সেক্টর জিম্মী হয়ে আছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে রাজধানীর কাজী বশির মিলনায়তনে

‘ঐতিহাসিক বদরের চেতনা ও মুসলিম বিশ্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মহিফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী,

মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম,

নগর উত্তর সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, ছাত্রনেতা এম হাসিবুল ইসলাম, ডা. শহিদুল ইসলাম, প্রকৌশলী জোবায়ের হোসেন, হুমায়ূন কবীর, মুফতী শেখ নূরউন নাবী, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, এইচ এম সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌ইনসাফ

আরও পড়ুনঃ ‌আন্দোলন করতে হলে আগে ঘরের ইঁদুর সামলাতে হবে: হাসান সরকার


গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার বলেছেন, আন্দোলন সংগ্রাম করতে হলে আগে ঘরের ইঁদুর সামলাতে হবে। ঘরের ইঁদুর সামলাতে না পারলে আন্দোলন ব্যর্থ হবে।

তিনি বলেন, যারা এখনো এদিক-সেদিক করছেন মেহেরবানি করে তারা ফিরে আসুন। দেশনেত্রী ও মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। এই গাজীপুর থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল। আবার এই গাজীপুর থেকেই গণতন্ত্রের মুখপাত্র দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই।

শুক্রবার গাজীপুর মহানগর বাসন থানা বিএনপির আলোচনা-দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সাগর সৈকত কনভেনশন হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন কর হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব উদ্দিন।

বাসন থানা বিএনপির আহ্বায়ক বসির আহাম্মেদ বাচ্চুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব গাসিক কাউন্সিলর মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী মুসার সঞ্চালনায় আলোচনায় বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আফজাল হোসেন কায়সার, আহমদ আলী রুশদী, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হোসেন সরকার, মহানগর ওলামা দলের সভাপতি মোস্তফা জামান খোকন, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী শাহাজ উদ্দিন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী রফিকুল ইসলাম দাদা ভাই, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলাম খোকন বিশ্বাস, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ তালুকদার, যুবদল নেতা মোবারক হোসেন, শওকত হোসেন বাবু, খাইরুল ইসলাম মোল্লা, ছাত্রদল নেতা নাহিদ চৌধুরী বাবু, শরিফ আজাদ, বেলায়েত হোসেন মোড়ল প্রমুখ।

মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মুজিবুর রহমান আনসারী।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মোদির জয় বাংলাদেশের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারেঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান


ভারতের লোকসভা নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি যে ব্যাপক বিজয় পেয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে বলে মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক রওনক জাহান বলেন, বহু বছর ধরে উপমহাদেশে ভারতের পরিচিতি ছিল ‘ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির’ একটি মডেল হিসেবে।

তবে তিনি মনে করেন যে ভারতে ‘পরপর দুটো নির্বাচনে বিজেপির জয় বাংলাদেশের সেক্যুলার রাজনীতি যারা করতে চায়, তাদেরকে চিন্তায় ফেলবে।’

অধ্যাপক জাহানের মতে, বাংলাদেশ সরকার চাইবে ভারত সরকারের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার। কিন্তু ভবিষ্যতে সে সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, সেটি নির্ভর করছে বিজেপি সরকারের মনোভাবের উপর।

‘ভারতে যদি সেক্যুলার রাজনীতি না চলে, এবং তারা যদি আমাদের চারিদিকে বিদ্বেষের রাজনীতি নির্বাচনে জেতার জন্য আরম্ভ করে দেন, তখন সরকারের পপে সে জিনিসটা ম্যানেজ করা আরো অসুবিধা হবে’, বলছিলেন রওনক জাহান।

হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি ভারতে যেভাবে দিনকে দিন শক্তিশালী হচ্ছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের উপরে থাকবে বলে অনেকে মনে করেন। কারণ বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা ভারতের রাজ্যগুলোতে এবারের নির্বাচনে বিজেপি বেশ ভালো ফলাফল করেছে।

ভারতে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির উত্থান হলে, বাংলাদেশ সরকার চাইলেও কি ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নাও হতে পারে? – এমন এক প্রশ্নে তেমন আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেননি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান।

তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের বৃহৎ প্রতিবেশী। বাংলাদেশের সব সরকারই চাইবে যে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকুক।

তবে বাংলাদেশের সরকারকে দেশের জনগণের মনোভাবের দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোন কনসেশন বা ছাড় পাচ্ছে না বলে মনে করেন অধ্যাপক জাহান। এ ক্ষেত্রে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের অনাগ্রহকে একটি বড় উদাহরণ হিসেবে তিনি মনে করেন।

সাম্প্রতিক বছরে ভারতের আসাম রাজ্যে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ায় বলা হয়েছে যে ৪০ লাখ মানুষ ‘অবৈধভাবে’ সেখানে বসবাস করছে, যাদের বেশিরভাগ মুসলমান।

বিভিন্ন সময় বিজেপির সিনিয়র নেতারা বলেছেন যে ‘অবৈধভাবে’ যারা আসামে বসবাস করছেন, তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

নির্বাচনের প্রচারণার সময় বিজেপি প থেকে বলা হয়েছে যে আসামের মতো ‘নাগরিকত্ব যাচাইয়ের’ কাজ পশ্চিমবঙ্গেও তারা করতে আগ্রহী।

এ প্রসঙ্গে রওনক জাহান বলেন, ‘তাদের নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য মুসলমানদের উপরে কিংবা বাঙালিদের উপরে তারা যে ধরণের শ্লোগান ব্যবহার করছেন, এগুলো হলে আমাদের সাধারণ মানুষ তো খুব বিক্ষুব্ধ থাকবে। কিন্তু আমাদের সরকার তো কখনোই চাইবে না ভারতের সাথে সম্পর্ক বিরূপ হোক। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের সেন্টিমেন্টকে তো তাদের দেখতে হবে।’

এ বিষয়টি বাংলাদেশে সরকারের জন্য এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে বলে মনে করেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।

ভারতে বিজেপি যদি মুসলিম-বিরোধী কথাবার্তা জোরালো করে, তাহলে সে বিষয়টি বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উৎসঃ ‌‌‌ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে নয়াপল্টনে মহিলা দলের বিক্ষোভ মিছিল


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র সহসভাপতি জেবা খান, মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভানেত্রী পেয়ারা মোস্তফা, শামসুন্নাহার বেগম, শাহজাদী কহিনুর, মিনা বেগম, নাজনীন, গুলশান আরা মিতা, নিলুফা ইয়াসমিন নিলু, সাবিনা ইয়াসমিনসহ কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন।

মিছিল শেষে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক পথসভায় রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের শেষ চিহ্নটুকু মুছে ফেলেছেন। ক্ষমতায় চিরস্থায়ীভাবে থাকার জন্যই ৩০ ডিসেম্বর মধ্যরাতের নির্বাচন করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে রেখেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা নিরাপদ করার জন্য তাদের ভয়াবহ দুঃশাসন নিয়ে কেউ যেন টু শব্দ করতে না পারে সেই কারণেই নির্দোষ খালেদা জিয়াকে বন্দি করে এখন বাকশালের গুণকীর্তন শুরু করেছেন।

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, শেখ হাসিনার একটাই লক্ষ্য- কীভাবে খালেদা জিয়াকে কষ্ট দিয়ে তিলে তিলে নিঃশেষ করে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করা যায়। কিন্তু বর্তমান সরকারের অপশাসন জনগণ সব শক্তি দিয়ে রুখে দেবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে এখন সংগ্রামী জনতা রাজপথে নেমে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নিজের সিদ্ধান্তে অনড় আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া


১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন। চাহিদা অনুয়ায়ী চিকিৎসাও পাচ্ছেন না। ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ায় কোন কিছু খেতেও পারছেন না। কিন্তু এতো কিছুর পরও মনোবলের দিক দিয়ে বিন্দু মাত্র টলানো যাচ্ছে না রাজপথের আন্দোলনে আপসহীন নেত্রীর খেতাব পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে।

২০১৪ সালে যে কারণে নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। নিজের শারীরিক অসুস্থতা, কারাবন্দি, দলে নেতাদের নানা নাটকীয় সিদ্ধান্তসহ এতো প্রতিক‚লতার মধ্যেও সেই একই কথাতেই অবিচল রয়েছেন তিনি। নিজের নীতিবিরোধী কোনো প্রস্তাবেই রাজী করানো যাচ্ছে না তাকে।
গত ১৪ এপ্রিল দলের সিনিয়র তিন নেতাকে সরাসরি না করে দিয়েছেন নিজের প্যারোলে মুক্তি ও নির্বাচিত এমপিদের শপথের বিষয়ে। এবার উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে ক্ষোভ ঝেড়েছেন দলের নেতাদের প্রতি। দল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নেতাদের নাটকীয় সব সিদ্ধান্তে নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়লেও প্রেরণা খুঁজছেন বেগম জিয়ার অনড়-আপসহীন মনোবলেই।

নির্দলীয় সরকার ছাড়া শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একই দাবিতে ওই সরকারের বাকীটা সময় আন্দোলন চালিয়ে গেছেন তিনি। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রæয়ারি কারাবন্দি হওয়ার আগ পর্যন্তও একই কথা বলে গেছেন। দলটির নেতারাও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলেছেন নির্দলীয় সরকার ও বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোন নির্বাচন হতে দেবেন না এবং শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচনে তারা যাবেন না।

কিন্তু নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত বদলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। নির্বাচনের আগের দিন রাতে ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করে দলটির সিনিয়র নেতারা। নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির এমপিরা শপথ নেবেন না বলেও ঘোষণা দেয়া হয়। বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে যাবে না জানিয়ে বছরের শুরুর দিকে উপজেলা নির্বাচনও বর্জন করে বিএনপি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাদের বহিষ্কারও করা হয়। কিন্তু নানা নাটকীয়তায় গতমাসে বিএনপি মহাসচিব ছাড়া বাকীরা সংসদে গিয়ে শপথ গ্রহণ করেন। বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল শপথ না নেয়ায় সেই আসন শূণ্য ঘোষণা করে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগের অবস্থান থেকে সরে এসে সংসদে শপথ নেয়ায় বিস্মিত হন দলটির নেতাকর্মীরা।

তবে সর্বশেষ ২০ দলীয় জোটের এক সভায় বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংসদে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেবে বিএনপি। একইসাথে বগুড়ার উপনির্বাচনেও অংশ নেবে দলটি। দলের এমন সিদ্ধান্তে সিনিয়র নেতাদের অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেন। ক্ষোভ নিরসনে স্থায়ী কমিটির বৈঠকও ডাকা বন্ধ করে দেয়া হয়। এই উপ-নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াসহ ৫জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ায় খালেদা জিয়াকে প্রার্থী করার জন্য দলের একটি মনোনয়ন ফরম বুধবার সকালে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার কাছে পাঠানো হয়। তিনি এই ফরমে স্বাক্ষর না করেই ফিরিয়ে দেন এবং নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর বিএনপির সংসদে যাওয়া এবং দলটির এমপিদের শপথ গ্রহণের বিষয়ে মত ছিল না বিএনপি চেয়ারপারসনের। কারণ এ সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তও তার কাছ থেকে আসে। দলের সিনিয়র নেতাদের অনেকে মনে করেন বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনের পর যেখানে দল উপজেলা নির্বাচন ঘোষণা দিয়ে বর্জন করেছে। সেখানে দলের মহাসচিবের শূণ্য আসনে অংশগ্রহণ করা ঠিক নয়।

বিএনপি স‚ত্র জানা গেছে, কারাবিধি অনুযায়ী বিএনপি চেয়াপারসনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র হস্তান্তর করেন। সেখান থেকে তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) পাঠানো হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া মনোনয়নপত্র দেখেই ক্ষুব্ধ হন।

ক্ষুব্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিলো? আমি তো কিছুই জানি না। আমাকে কেন বিষয়টি জানানো হয়নি? এদিকে খালেদা জিয়া সম্মত না হওয়ায় এ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দলের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে চেয়ারপারসন নির্বাচন করতে আগ্রহী নন, সেখানে দল যাওয়াটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে? বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অধিকাংশই বগুড়া নির্বাচনে যাওয়ার বিপক্ষে বলে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার বলেন, বেগম জিয়ার কাছে মনোনয়নপত্র পাঠানো হলেও তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। তিনি নির্বাচনে করতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন। শায়রুল কবির খান বলেন, বগুড়ার নেতাদের দাবির মুখে খালেদা জিয়ার নামে ফরম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ম্যাডাম ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে অসম্মতি জানায়। এ কারণে বাকী চারজনের মনোনয়ন ফরম জমা দেবেন।

এদিকে সপ্তাহখানেক ধরে স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বগুড়া উপ-নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঠিক হবে কি-না জানতে চান। তবে সিনিয়র নেতাদের অধিকাংশই নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন। যদিও দলের গুরুত্বপ‚র্ণ এক নেতার সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নেন তারেক রহমান। সে অনুযায়ী গত মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বগুড়া জেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে স্কাইপির মাধ্যমে বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দেন। খালেদা জিয়াসহ দলের ৫ নেতা মনোনয়নপত্র জমা দেবেন বলেও সিদ্ধান্ত হয়।

উৎসঃ ‌‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আমরা ক্রমেই সঙ্কুচিত করে ফেলছি : সাখাওয়াত হোসেন


সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, উদার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আমরা ক্রমেই সঙ্কুচিত করে ফেলছি। এর ফলে সংক্রামকের মতো উগ্রবাদের উত্থান ঘটতে পারে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে করায়ত্ত করে ফেলা হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

‘কোন দলের কেমন ইশহেতার’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, আগের রাতে কেউ ভোট না দিতে পারে সেজন্য ভোট সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হওয়া দরকার এবং ভোটের দিন সকালেই ব্যালট বক্স কেন্দ্রে পাঠানো দরকার।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা মনে করি, আইন-কানুন সঠিকভাবে কাজ করলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের পর্যালোচনা করে দেখা দরকার, আইন-কানুন সঠিকভাবে প্রণয়ন হচ্ছে কি-না, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর কি-না এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে কি-না।

তিনি বলেন, আমাদের শাসন-ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। তাই শাসন-ব্যবস্থা ঠিক করা তথা রাষ্ট্রকে মেরামতের জন্য আমাদের রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে সদিচ্ছা প্রদর্শন করবেন, যাতে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো যায়।

ড. হামিদা হোসেন বলেন, আইয়ুব খানের সময়েও আমরা অনেকটা স্বাধীনভাবে লিখেছি, এরশাদের সময়ে আমরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছি। অথচ আজকে আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাও স্পষ্ট করে বলতে পারি না, নানান ধরনের চাপের মধ্যে থাকতে হয়। আজকে নির্বাচনের ওপর আমরা অনেক জোর দিচ্ছি। অথচ আমাদের দলগুলোর মধ্যেই গণতন্ত্র নেই। আর দলের মধ্যে গণতন্ত্র না থাকলে সংসদে কীভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে?

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে। সুদক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। জনগণকে ক্ষমতাহীন করে ফেলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, মানুষ রাস্তায় নামছে না। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো কি জনগণের দাবিগুলোকে সামনে নিয়ে মানুষকে সংগঠিত করে তুলতে পারছে? এই অবস্থার উত্তরণে আমি মনে করি, জনগণকে ক্ষমতায়িত করে তুলতে হবে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অনু্ষ্ঠানে জনকল্যাণমূখী রাজনীতি ফিরিয়ে আনার জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন বলে দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, গত বছর নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়ে আমাদের তরুণরা ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ দাবি তুলেছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, রাষ্ট্র মেরামতের বিষয়টি এখন সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠানে সংস্কার প্রস্তাবে ১৯টি বিষয় তুলে ধরেন তিনি।

সুজনের সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম, সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য ড. সিআর আবরার, ব্যারিস্টার রুহিন ফারহানা, আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি রতন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌পরিবর্তন

আরও পড়ুনঃ ‌বাংলাদেশে ধানক্ষেতে কোন কৃষক আগুন দেয় নাই; ঐটা ভারতের ঘটনাঃ মাহবুব-উল আলম হানিফ


আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র এখনও থামেনি। সুযোগ পেলেই তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। সর্বশেষ তারা ধানক্ষেতে আগুন দেয়া নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও নারীর অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : শেখ হাসিনার অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘বাংলাদেশে ধানক্ষেতে কোন কৃষক আগুন দেয় নাই। বাংলাদেশ কৃষকের ধানক্ষেতে আগুন দেয়ার যে ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে সেটা বাংলাদেশের কোনো ঘটনা নয়। ভারতের পাঞ্জাবের একটি গমক্ষেতে অনেক আগে আগুন দেয়া হয়েছিল। সেই আগুনের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য যে, টাঙ্গাইলে ধানের দাম কম ও দিনমজুর না পাওয়ায় ধানক্ষেতে আগুন লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছিলেন টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক সিকদার। তিনি তার রোপণকৃত ধানে আগুন ধরিয়ে এমন প্রতিবাদ করেছিলেন।

টাঙ্গাইলে ধানের দাম কম ও দিনমজুর না পাওয়ায় ধানক্ষেতে আগুন লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের আব্দুল মালেক সিকদার।

ঘটনাটি সত্য এবং সারাদেশে আলোচিত হয়েছিল। এরপর সারা দেশে এইরকম প্রতিবাদের একাধিক ঘটনা ঘটে। কিন্তু আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ঘটনাটি অস্বীকার করে।

হানিফ আরো বলেন, আর জুটমিল শ্রমিকদের কীভাবে খুলনার একজন বিএনপি নেতা উসকিয়ে দিয়েছেন তা সবার জানা রয়েছে।

ধানক্ষেতে আগুন লাগার অপপ্রচার যারা চালাচ্ছে এবং পাটকল শ্রমিকদের যারা উসকিয়ে দিচ্ছে তাদের গ্রেফতার করে অবিলম্বে শাস্তির ব্যবস্থা করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের এই নেতা।

হানিফ বলেন, ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশে আজ নারীরা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। গ্রামে-গঞ্জে নারীরা আজ নানা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সফল হচ্ছেন। স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা অংশ নিচ্ছেন এবং নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে তারা নেতৃত্বে আসছেন।’ এসবই শেখ হাসিনার অবদান। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শ ধারণ করে সব নেতাকর্মীকে রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপিকা সুলতানা সফির সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, সাবেক নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, আওয়ামী লীগের নেত্রী জাকিয়া হাসান, ফজিলাতুনন্নেসা ইন্দিরা ও যুব মহিলা লীগের সভাপাতি নাজমা আক্তার প্রমুখ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

উৎসঃ ‌‌বাসস

আরও পড়ুনঃ ‌জিয়াউর রহমান না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না : আবদুল্লাহ আল নোমান


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ -আল নোমান বলেছেন, জিয়াউর রহমান না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা হতো না। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এদেশের কৃষক-মজুর সর্বশ্রেণির নেতা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও মাহে রমজান উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।

সংগঠনের সভাপতি এম. গিয়াস উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু,সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, এখন কৃষক ধানের উৎপাদন খরচ না পেয়ে ধানে আগুন দিচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। কারণ তিনি উপলব্ধি করতেন, এদেশের কৃষক বাঁচলে এদেশ বাঁচবে, এদেশের মানুষ বাঁচবে।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) ১৮ সংস্কার প্রস্তাব


রাজনৈতিক সংস্কৃতি, নির্বাচনপদ্ধতি, সংবিধান সংশোধন, বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ ১৮টি প্রস্তাব দিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

এসব সংস্কার প্রস্তাবের আলোকে জাতীয় সনদ তৈরি করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দেশের চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এসব সংস্কার জরুরি বলে মনে করছে তারা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নাগরিক ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরে সুজন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংস্কার’ শিরোনামে প্রস্তাব পাঠ করেন সুজনের প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। এতে বলা হয়, ১৯৯০ সালে তিন জোটের রূপরেখা স্বাক্ষর সফল হলেও ব্যর্থ হয়েছে তার বাস্তবায়ন। তিন জোটের রূপরেখার আদলেই নতুন জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করতে উদ্যোগ নিতে হবে।

গোলটেবিলে অংশ নেওয়া সব বক্তাই সংস্কারের পক্ষে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। সবার শেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, রাষ্ট্রের মেরামত জরুরি হয়ে পড়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো কিছু একটা বের করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া সমস্যার সমাধান হবে না।

এম সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, উদার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে। সংক্রামক ব্যাধির মতো উগ্রপন্থীদের উত্থান ঘটছে বিশ্বজুড়ে। তাই এখানেও এমন শঙ্কা আছে।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শাসনব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তাই আলোচনার মতামতের ভিত্তিতে সংস্কার প্রস্তাব সংশোধন করে সারা দেশে জনমত তৈরি করা হবে।

মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন বলেন, আইয়ুব খানের সময়ও অনেকটা স্বাধীনভাবে লেখা হয়েছে। এরশাদের সময়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ হয়েছে। অথচ আজ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাও স্পষ্ট করে বলা যায় না। নানান ধরনের চাপের মধ্যে থাকতে হয়।

বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, কোনো ধরনের বিরুদ্ধমত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জনগণের মূল্যায়ন কমে গেছে। কিন্তু জনগণের মধ্যে অসন্তোষ থাকলে কোনো উন্নয়ন টেকসই হবে না।

গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সবার রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করতেই সংস্কার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক সি আর আবরার, সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রুমিন ফারহানা, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সদস্য জাহেদ উর রহমান, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল্লাহ আল ক্বাফি রতন প্রমুখ।

সুজনের সংস্কার প্রস্তাবে বলা হয়, মূল সংবিধানে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু সংবিধানের সেই অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ধরে রাখা যায়নি। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল একতরফা ও বিতর্কিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ব্যাপক কারচুপি ও মানুষের ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ উঠেছে। আইন সংশোধন ও নির্বাচনপদ্ধতির পরিবর্তন করতে হবে। সংখ্যাগত দিক থেকে বিরোধীদের শক্তি যত সীমিতই হোক, তাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া আবশ্যক। বিচার বিভাগের সত্যিকারের পৃথককরণ ও আইনের শাসন কায়েম করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার জন্য প্রয়োজন কমিশন গঠন, আইন প্রণয়ন ও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি, ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার দাবিও তোলা হয়েছে প্রস্তাবে। এতে আরও বলা হয়, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বিলুপ্ত করা, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে দলীয়করণের প্রভাবমুক্ত করা, ন্যায়পাল নিয়োগ করা, গণমাধ্যমের ওপর সব নিবর্তনমূলক বাধা-নিষেধের অবসান ঘটানো, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক সব ধারা সংশোধন করা এবং গুম, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অবসানের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতির অবসান করা। ঋণখেলাপিসহ লুটপাটকারীদের পৃষ্ঠপোষকতার পরিবর্তে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে সংস্কার প্রস্তাবে।

উৎসঃ ‌‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের ধান কাটার ঘোষণায় আতঙ্কে কৃষকরা


খুন, ধর্ষণ, হত্যা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, দখল-বাণিজ্য ও পদপদবী নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন সময় সমালোচিত হয়েছে ছাত্রলীগ। তাই এসব সমালোচনা থেকে মুক্তি ও দুর্নাম গোছাতে কৃষকের ধান কেটে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে এই সংগঠনটি।

ছাত্রলীগের ভাষায়-ধান কাটার জন্য কৃষকরা মজুর পাচ্ছে না আর পেলেও বেশি মজুরী দিতে হচ্ছে। তাই কৃষকদের এই সংকটে সারাদেশে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের এই ঘোষণা নিশ্চয় প্রশংসার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, আসলে এটাকেই বলে মানবসেবা। আর একটি ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণার গুরুত্বই আলাদা। কিন্তু সমস্যা হলো আস্থা-বিশ্বাস নিয়ে। ছাত্রীগের অতীত কর্মকাণ্ডে এমন কোনো রেকর্ড নেই যে তারা মানুষের সেবা করতে গিয়ে কোনো অপকর্ম করেনি। সহযোগিতার নামে ছাত্রলীগ মেয়েদের ধর্ষণ করেছে, জমি দখল করেছে, টাকা চুরি করেছে, ছিনতাই করেছে এমন ঘটনা অসংখ্য আছে।

দেখা গেছে, বিভিন্ন দুর্যোগ সময়ে ত্রাণ সহযোগিতার নামে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সরকারি কোষাগারের মালামাল নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে গেছে। গরিবদের জন্য বরাদ্দ দুম্বার গোস্ত নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আছে।

তাই এসব কারণে, ছাত্রলীগের এই ধান কাটার ঘোষণায় শুধু শিক্ষাঙ্গন বা রাজনৈতিক অঙ্গন নয় কৃষকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ঘটানার পর কৃষকদের মধ্যে বড় একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে। ধান কাটার পর আবার সেই ধান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে বিক্রি করে টাকা নিয়ে যেতে পারে। অথবা পকেট খরচের কথা বলে ধানের একটি অংশও তারা নিয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্খা করছেন তারা।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ধানক্ষেতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত? কাদেরকে শেখ হাসিনার তদন্তের নির্দেশ!


ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনা কেন ঘটেছে তা তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অথচ, কৃষকরা কেন ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না -সেটা নিয়ে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বা আওয়ামীলীগের কোন নেতাকর্মীদের মাঝে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই। উল্টো তারা এখন সেই কৃষককেই সন্দেহ করছে।

বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এই তদন্তের নির্দেশনার কথা জানান।

এর আগে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ধানক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনাগুলো স্যাবোটেজ কিনা, কোনোভাবে এটা সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য কেউ বিষয়টা… কৃষক সংকট উদ্ভব হয়! কিন্তু এভাবে আগুন জ্বালিয়ে ধানক্ষেতে, এসব ঘটনাগুলো বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঘটছে কেন, এটা তদন্ত করে জানাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয়ভাবেও আমরা খোঁজ-খবর নেবো।

তিনি আরও বলেন, সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করতে হবে। একটা সমস্যা হয়েছে, আগুন জ্বালিয়ে, ধান পুড়িয়ে এ সমস্যার সমাধান তো হবে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার কখনও চাইবে না আমাদের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। কৃষকদের স্বার্থবিরোধী, কৃষকবান্ধব সরকার কখনও করবে না। শেখ হাসিনার সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক। এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এখানে যে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে, এর বাস্তবসম্মত সমাধানে উদ্যোগী সরকার।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হওয়ায় বাংলাদেশে অর্থসাহায্য ছাড়ে কংগ্রেসে আপত্তি


২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপকভিত্তিক কারচুপির অভিযোগ ও মানবাধিকার পরিস্থিতিতে অসন্তোষ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে মঙ্গলবার বিল উত্থাপিত হয়েছে। বিলটি উত্থাপন করেন নিউ ইয়র্ক থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস ওমেন ও হাউজ অ্যাপ্রিসিয়েসন কমিটির চেয়ারপারসন নিতা সুই ম্যালনিকফ লাউয়ি।

স্টেইট, ফরেন অপারেশন এবং রিলিটেড পোগ্রামস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল-২০২০ শিরোনামে উত্থাপিত বিলের ১১১ পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিগত নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে বিলে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ বিলটি পাশের ৪৫ দিনের মধ্যে ইউএসএইডের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে কমিটিতে বাংলাদেশের ২০১৮ সালের নির্বাচন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠাবেন।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের মানবাধিকায় সুরক্ষায় সরকারের সমর্থন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সরকার কি কাজ করছে এ বিষয়ে বিল পাশের ৪৫ দিনের মধ্যে কমিটিতে প্রতিবেদন পাঠাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেয়া হয়।

বিলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউএসএআইডির শীর্ষকর্তাকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হয় যে, মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিক, চিংড়ি ও মৎস শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়নে অর্থছাড়ের বিষয়ে বিলে নির্দেশ দেয়া হয়। বিলটি এ মাসের মধ্যেই পাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিলে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যেভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কমিটিতে প্রতিবেদন পাঠানোর কথা বলা হয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউএসআইডির মাধ্যমে যে অর্থ সাহায্য বাংলাদেশে বরাদ্দ ছিল তা ব্যাপক হারে কমে আসবে বলে মনে করছেন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকরা।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌রূপপুর প্রকল্পে মালির বেতন ৮০ হাজার, গাড়ি চালকের ৯৩ হাজার টাকা অকল্পনীয় লুট পাট!


দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে।

একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর সেই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ ৭৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি টাকায় আকাশ সমান দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয়ের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

শুধুমাত্র আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। এরই মধ্যে নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এই প্রকল্পের সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ।

এই প্রকল্পের প্রকল্প-পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, এজন্য আরও দুই লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানির ছয়গুণেরও বেশি পাবেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক।

পাশাপাশি গাড়ি চালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। রাঁধুনি আর মালির বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গাড়ি চালক, রাঁধুনি আর মালির এই পরিমাণ বেতন ধরা হয়েছে।

একইভাবে উপ-প্রকল্প পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকসহ অন্য সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ওঠার কথা রয়েছে। পাস হওয়ার পর ব্যয়ের দিক থেকে এটিই হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প, যা পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রায় চার গুণ।

প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতের অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। ১২ খাতে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট জবাবও চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

ডিপিপি অনুযায়ী, ৩৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও ভাতা হিসেবে ৬৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন ৩৬ শতাংশ এবং ভাতা ধরা হয়েছে ৬৪ শতাংশ। সরকারি বেতন কাঠামোর গ্রেড অনুসরণ না করে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালকসহ ১৬টি পর্যায়ে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা বেতন, যা সচিবের বেতনের প্রায় নয় গুণ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক পাবেন তিন লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তিনি প্রকল্পের স্টেশন ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এজন্য অতিরিক্ত এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পাবেন তিনি। এতে তার মোট বেতন দাঁড়াবে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, যা প্রধানমন্ত্রীর বেতনের প্রায় ৪ দশমিক ৭২ গুণ।

প্রকল্পের রাশিয়া অফিসের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে তিন লাখ ২১ হাজার টাকা করে। প্রকল্পের সাত বিভাগের সাতজন প্রধানের বেতনেও তিন লাখ ২১ হাজার টাকা। কারিগরি ও প্রশাসনিক অন্যান্য পদের বেতনও অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পদেও এসব ব্যক্তি কাজ করবেন। এজন্য তারা অতিরিক্ত বেতন-ভাতা পাবেন।

বেতনের বাইরে বার্ষিক সর্বোচ্চ তিন মাসের মূল বেতনের সমান চিকিৎসা ভাতা, মাসিক তিন থেকে ছয় হাজার টাকা যাতায়াত ভাড়া, মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার সন্তানদের শিক্ষাভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে মাসিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেজস্ক্রিয় ভাতা এবং ২০ শতাংশ হারে শিফট ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির কর্মকর্তা পর্যায়ে সর্বনিম্নে বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ তিন হাজার টাকা। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা প্রতি মাসে এ হারে বেতন পাবেন। এর বাইরে তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। অর্থাৎ তার মোট বেতনের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এতে তার বেতন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এমনকি রাষ্ট্রপতির চেয়েও বেশি পড়বে।

প্রকল্পটির গাড়ি চালকের বেতন ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। তবে প্রকল্পটির গাড়িচালকরা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন। এতে আরও ১৮ হাজার টাকা পাবেন গাড়িচালকরা। এতে তাদের বেতন দাঁড়াবে ৯১ হাজার ৭০৮ টাকা। প্রকল্পটির সর্বনিম্ন বেতন রাঁধুনি বা মালির। প্রকল্প থেকে তিনি বেতন পাবেন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। আর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন করলে অতিরিক্ত পাবেন ১৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার বেতন পড়বে ৭৯ হাজার ৭০৮ টাকা, যা সচিবের বেতনের চেয়েও বেশি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পটির বেতন-ভাড়া সরকারি স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ও অনিয়ন্ত্রিত। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যান্য ব্যয় নিয়েও এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাবতা যাচাই স্পষ্ট নয়, ইআইএ নিয়ে লুকোচুরি, স্পেন্ট ফুয়েল (অবশিষ্ট তেজস্ক্রিয় জ্বালানি) ইস্যুর সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগে প্রকল্পের ব্যয়সহ বিতর্কিত ইস্যুগুলো সমাধান করা দরকার। এর পর প্রকল্প অনুমোদন পর্যায়ে যাওয়া উচিত।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (মূল পর্যায়) প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ৯ বছর মেয়াদি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। রাশিয়ান ফেডারেশনের স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিট হিসেবে দেবে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকি ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা দেয়া হবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। এর মধ্যে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (প্রাথমিক পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, পরিকল্পনা কমিশন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে সংস্থাটির নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের কোনো খাতেই অযৌক্তিক ব্যয় ধরা হয়নি। আর কর্মকর্তাদের বেতন নিয়ে যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এখানে আকর্ষণীয় বেতন না দিলে কেউ চাকরি করতে আসবে না। সব দিক বিবেচনা করেই এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সব প্রশ্নের জবাব কমিশনে তুলে ধরা হবে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here