বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির লাশ ফেরত দিল ভারতীয় পুলিশ

0
164

মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আবদুর রউফের লাশ ফেরত দিয়েছে ভারতের আসাম পুলিশ।

রোববার বিকাল ৫টায় বড়লেখার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির বোবারথল এলাকার সীমান্ত পিলার নং ১৩৮০(৪এস) সংলগ্ন স্থানে লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি থানা পুলিশ ও বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানা পুলিশ।

এ সময় বিজিবি ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং উভয় দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৭টায় বড়লেখা পুলিশ স্বজনদের নিকট রউফের লাশ হস্তান্তর করেছে।

জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার সদর ইউপির বিওসি কেছরিগুল (উত্তর) গ্রামের সাজ্জাদ আলীর ছেলে ৩ সন্তানের জনক আবদুর রউফ শুক্রবার রাতে অবৈধ অনুপ্রবেশকালে ভারতের ফুলকান্দি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে নিহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তার লাশ ভারতের আসাম রাজ্যের পাথারকান্দি থানায় সোপর্দ করে। বিজিবির ৫২ ব্যাটালিয়নের তৎপরতায় বিএসএফ বাংলাদেশি যুবকের লাশ ফেরত দিতে সম্মত হয়।

শনিবার পাথারকান্দি পুলিশ নিহত আব্দুর রউফের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। রোববার বিকালে সীমান্ত পিলার নং ১৩৮০(৪এস) সংলগ্ন স্থানে আসামের পাথারকান্দি থানার ওসি সীমান্ত বড়ুয়া, বড়লেখার থানার ওসি (তদন্ত) মো. জসিম, করিমগঞ্জ জেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখর ও বড়লেখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শুভ্রাংশু শেখর দের নেতৃত্বে লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বিকাল ৫টায় নিহত আব্দুর রউফের লাশ হস্তান্তর করলে তার বড়ভাই গনি মিয়া ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিনসহ স্বজনরা তার লাশ শনাক্ত করেন।

এ সময় বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের এডি মো. মমিনুল ইসলাম, বিএসএফের ১৩৪ ব্যাটালিয়নের এসি সন্তোষ কুমার, আসাম পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবজীত, বড়লেখা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ লুৎফুর রহমান, ইউপি মেম্বার ইসলাম উদ্দিন, তাজউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বড়লেখা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসিম জানান, ময়নাতদন্ত করেই ভারতীয় পুলিশ বিএসএফের গুলিতে নিহত আবদুর রউফের লাশ হস্তান্তর করেছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সন্ধ্যা ৭টায় লাশ নিহতের স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ দুদকে ৬ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যা বললেন মাহী


অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন মাহী বি চৌধুরী এমপি। এ বিষয়ে আগামী ২৭ বা ২৮ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার প্রায় ৬ ঘণ্টা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ সব কথা বলেছেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যুগ্ম-মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী।

সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদ।

মাহী বি চৌধুরী বলেন, আমার নামে দুদকে একটি অভিযোগ এসেছে। সে অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমার বক্তব্য গ্রহণ জরুরি ছিল। সে কারণে আমাকে দুদক ডেকেছে।

তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহী বলেন, ‘কিছু লোক তো আছেই যাদের আর কোনো রাজনীতি থাকে না, যাদের কোনো রাজনৈতিক অবস্থান থাকে না, দেশের জন্য দেয়ার মতো রাজনীতিও থাকে না, শুধু ষড়যন্ত্রের ওপর নির্ভর করে সে সব রাজনীতিক টিকে থাকার চেষ্টা করেন। এটা তাদেরই ষড়যন্ত্র।’

অভিযোগ সম্পর্কে আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহী বলেন, এখানে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের কোনো সুযোগই নেই, মানি লন্ডারিংয়ের কোনো সুযোগই নেই। বাংলাদেশের বাইরে আমার যদি কোনো আয় ও ব্যয় থাকে সেটা বাংলাদেশের বাইরে আমার বৈধ আয় থেকে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, রোববার মাহীর সঙ্গে তার স্ত্রী আশফাহ্ হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও অসুস্থতার জন্য তিনি হাজির হতে পারেননি।

দুদক সূত্র জানায়, মাহী ও তার স্ত্রী বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ এসেছে।

এতে আরও বলা হয়, অজ্ঞাত খাত থেকে আয়ের টাকা তারা কৌশলে বিদেশে নিয়ে গেছেন। বিএনপি সরকারের সময়সহ বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছেন তিনি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সরকারের ব্যর্থতায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো যায়নি: মির্জা ফখরুল


সরকারের ব্যর্থতায় দুই বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার বিকালে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেছেন, গত দুই বছর ধরে রোহিঙ্গারা এ দেশে এসেছে। এই দুই বছরে সরকার এতই ব্যর্থ হয়েছে যে, দিনক্ষণ তারিখ ঠিক করেও সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারেনি সরকার। অর্থাৎ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পুরোপুরিভাবে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

সরকারের ‌‌ ‘দুঃশাসনে’ দেশের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সারা দেশে তারা (সরকার) একটা লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে। যেখানেই যাবেন সেখানে দেখবেন আওয়ামী লীগের লোকেরা লুটপাট ছাড়া আর কোনো কিছু করছে না। যার ফলে আজকে সবকিছু ভেঙে পড়ছে, শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। আজকে দুঃশাসন দেশে একটা অসহ্য, অস্বাভাবিক দুঃসহনীয় পরিবেশ বিরাজ করছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই সরকার খুব সুপরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। শুধু গণতন্ত্র নয়, রাজনীতিকেই ধ্বংস করছে। ১/১১তে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত হয়েছিল বিরাজনীতিকরণের সেই ধারাই এখন চলছে। পুরোপুরিভাবে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে তাদের প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে তাদের একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করা। দেশে বিচারব্যবস্থা, আইনের শাসন, ন্যায়-নীতি বলতে কিছুই নেই। এখন শুধু একদল একনীতি একটাই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

আন্দোলন গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই, ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আজকে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়েই এই যে মনোস্টার দানবকে সরাতে হবে। তা না হলে একাত্তর সালে যে চেতনা নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই চেতনা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সর্বত্রভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। হাজার হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। সম্পূর্ণ এই সরকারের অব্যবস্থা ও তাদের অযোগ্যতার কারণে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন যে, বিএনপি একটি খুনির দল। উনি ভুলে গেছেন যে, উনারা ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই খুন শুরু করেছিলেন। বিএনপি কিন্তু খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। বিএনপি কখনও খুনের দায়ে পড়েনি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘ব্যারিস্টার সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ’।

সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে ও সদস্য শামসুজ্জামান মেহেদীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা সিরাজুল হক, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রশিদ-উজ-জামান মিল্লাত, নিলোফার চৌধুরী মনি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, হাবিবুর রশীদ হাবিব, ওয়ারেছ আলী মামুন, সুজাত আলী, সালাম তালুকদারের জামাতা এম হাসান ও ভাতিজী সাদিয়া হক বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে প্রয়াত আবদুস সালাম তালুকদারের স্ত্রী মাহমুদা সালামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আমীর খসরুসহ বিএনপি-জামায়াতের ৪৫৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মিথ্যা অভিযোগ গঠন


আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিএনপি-জামায়াতের ৪৫৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মিথ্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কাজ শুরু হল।

রোববার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল হালীমের আদালতে শুনানি শেষে এ অভিযোগ গঠন করা হয়।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সহ-সভাপতি মো. এনামুল হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলম এবং জামায়াতের সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে ২০১৫ সালে চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়িসংলগ্ন নাসিমন ভবনের সামনে সমাবেশ ডাকে ২০ দলীয় জোট।

ওই দিন সভা চলাকালে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি হয় নেতাকর্মীদের। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসলাম চৌধুরীসহ ৩০২ জনকে গ্রেফতার করে। আসামিদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এখনও কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, বিস্ফোরক আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশ বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৪ জুলাই চট্টগ্রাম আদালতে পৃথক তিনটি চার্জশিট দেয় পুলিশ। ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন।

উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আসামিদের অভিযোগ পড়ে শোনান এবং পরে ৪৫৩ আসামির বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ যেকোনও সময় সরকারের পতন: কর্নেল (অব.) অলি আহমদ


নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশবাসীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়ে জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহবায়ক ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ‘নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্যই সরকারের পতন হবে। সেটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

শনিবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে এলডিপি কার্যালয়ে এলডিপিতে যোগদান উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এদিন কুরআনিক পার্টি বিলুপ্ত করে দলের সব নেতাসহ বেশ কয়েকজন পেশাজীবী নেতা এলডিপিতে যোগ দেন।

অলি আহমদ বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন আসছে। আপনারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া দেশে শান্তি আসবে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হননি। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের সময়ে জনগণ বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও অত্যাচারিত হয়েছে। কারণ দেশ স্বাধীন হয়েছে, জনগণ স্বাধীন হয় নাই। তাই আমাদের সবাইকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে।’

২০ দলীয় জোটের এই সমন্বয়ক বলেন, ‘ আইনের শাসন, সুশাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত, দলীয়করণ মুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে হবে। আমরা একে অপরকে দোষারোপ করে কখনো দেশকে তার অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছাতে পারব না। সবাইকে সত্য উপলব্ধি করতে হবে, ন্যায়ের পক্ষে থাকতে হবে।’

এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, ভাইস চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান, ড. নিয়ামুল বশির, যুগ্ম মহাসচিব তমিজুদ্দিন টিটু, প্রচার সম্পাদক বিল্লাল হোসেন মিয়াজী ও তথ্য গবেষণা সম্পাদক অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার মুক্তি মানে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মুক্তি : সেলিমা রহমান


দেশে বিচার বলতে কোনো কিছু নেই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা জামিনযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তার জামিন হচ্ছে না। কারণ বিচার বিভাগ আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে বন্দি। তাদের রায় দেয়ার বা জামিন দেয়ার কোন স্বাধীনতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। তিনি আরো বলেন, বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী আদালতের দরজায় দৌড়াচ্ছে, অথচ তাদেরকে মিথ্যা মামলায় জামিন না দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে আজকে আমাদেরকে কি করতে হবে? আমাদের একটি কথাই মনে রাখতে হবে বেগম খালেদা জিয়া বলে গিয়েছিলেন তোমরা ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলন করো। যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ জাগরিত হয়।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন বেগম সেলিমা রহমান। মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চলনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন- মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী নূরে আরা সাফা, মহিলা দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

মানববন্ধনে বেগম সেলিমা রহমান বলেন, আজকে আমরা পত্রিকার পাতা খুললেই দেখতে পাই- চামড়ার দামে ধস নেমেছে, রড দিয়ে হামলা চলছে, খুন-গুম-হত্যা চলছে, শিশু-নারী হত্যা চলছে। আজকে মানুষ কথা বলার সাহস পাচ্ছে না, কারণ তারা জানে আজকে যদি তারা কথা বলে তবে তাদের উপর সন্ত্রাসী বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়বে। দেশে আজ গণতন্ত্র নেই। কারণ বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার মধ্যরাতের নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য তারা গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জোর করে কারাগারে আটক করে রেখেছে। শুধু তাই নয় তারা জনগণের উপর অত্যাচারের স্টিমরোলার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জনগণকে কথা বলতে দিচ্ছে না বিশেষ করে নারী ও শিশুর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। জাতীয়ভাবে আমাদের শুধু নারী ও শিশু নির্যাতন দিবস পালন করলে চলবে না। আমাদের সকল নারী সমাজকে রাজপথে নেমে আসতে হবে।

বেগম সেলিমা রহমান বলেন, আজকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা অপেক্ষা করছে কখন রাজপথে নামবে কখন এই সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করবে? তারা সাহস পাচ্ছেন না, কারণ তাদের সন্তানকে, তাদের কন্যা সন্তানকে, তাদের কিশোরী সন্তানকে, তাদের শিশু সন্তানকে রাজপথে নামলেই আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী কিংবা প্রশাসনের সন্ত্রাসী বাহিনী ধর্ষণ করবে না হয় হত্যা করবে। তিনি বলেন, আজকে একের পর এক ধর্ষণ চলছে। এই তো দুদিন আগে আমরা দেখলাম ট্রেনের বগির মধ্যে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। মাদারীপুরে আমরা দেখেছি নৌকা থেকে নামিয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে।

বেগম সেলিমা রহমান বলেন, আপনারা দেখেছেন যে মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর জন্য সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছিলো, সেই মিন্নিকে অন্যায়ভাবে আটক করে তার ওপর পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে তাকে দিয়ে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। ক্ষমতায় থেকে যারা এই সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করেছে তাদেরকে যাতে কোনো দোষ দিতে না হয় সেজন্য তারা নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আজকে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগের এক এমপি নিজেই বলেছেন, ডেঙ্গু আমাদের উপর গজব হিসেবে নেমেছে, নমরুদের গজব। তাদের যে পাপ, তাদের যে অত্যাচার তারা তা উপলব্ধি করতে পেরেছে। তারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে নাই। তারা উন্নয়নের বুলি দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে খুশি রাখার চেষ্টা করছে। তারা শুধু উন্নয়নের বুলি উড়িয়ে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছে।

বেগম সেলিমা রহমান বলেন, আমাদের একটিই লক্ষ্য আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। কারণ খালেদা জিয়ার মুক্তি মানে গণতন্ত্রের মুক্তি, খালেদা জিয়ার মুক্তি মানেই স্বাধীনতার মুক্তি। তাই আমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো ইনশাআল্লাহ।

উৎসঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: শুধু সুন্দরবন নয়, প্রতি বছর দেশের ৫০০০ কোটি টাকা ক্ষতি!


বিশেষজ্ঞ মতামত ও সকল জনমতকে উপেক্ষা করেই ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনের অতি নিকটবর্তী রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে সরকার। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন মারত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন হবে। শুধু সুন্দরবনই ধ্বংস হবে না, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে ওই এলাকার কৃষি জমির ওপরও এটার মারাত্ম প্রভাব পড়বে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকার ১৮৩০একর ধানী জমি অধিগ্রহণ করেছে। এর ফলে ৮ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হয়ে যাবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মসংস্থান হতে পারে সর্বোচ্চ ৬০০ জনের। ফলে উদ্বাস্তু এবং কর্মহীন হয়ে যাবে প্রায় ৭৫০০ পরিবার। শুধু তাই নয়, এর ফলে প্রতি বছর হারাতে হবে কয়েক কোটি টাকার কৃষিজ উৎপাদন। এইতো গেল কৃষকের দুর্ভোগের কথা। এবার দেখুন পরিবেশের কি ক্ষতি হবে?

কয়লাভিত্তিক যেকোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে অন্য যে কোনো প্রকল্পের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। বিশেষত ভষ্মিভূত কয়লার ছাই এবং উৎপন্ন গ্যাসের ফলে বায়ু ও পানি দূষণের যুগপৎ প্রভাবের কারণে এই ক্ষতি হয়। এ ধরনের প্রকল্প এলাকার আশেপাশের অঞ্চলে এসিড বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে যা বৃক্ষ এবং বনাঞ্চলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে ভয়ানক মাত্রায়। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায় যে, ২০১০ সালে দেশটির মোট কার্বন ডাই অক্সাইডের ৮১ ভাগ উদগীরণ করেছে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলো, যা থেকে মোট শক্তির মাত্র ৪১ ভাগ পাওয়া গেছে। এই সকল বিবেচনায় পৃথিবী ব্যাপি সকল দেশেই কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

সাম্প্রতিককালে এই ধরনের প্রকল্প এড়িয়ে চলার চেষ্টাটাই বেশি চোখে পড়ে। এ ধরনের কয়লাভিত্তিক প্রকল্প প্রতি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রায় ২.২ বিলিয়ন গ্যালন পানির প্রয়োজন হয়। রামপালের প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা নিঃসন্দেহে মেটানো হবে পশুর নদী থেকে। পশুর নদীর পানি নোনা ও মিঠা জলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের প্রয়োজন মেটাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই নদীটির সাথে ওই গোটা অঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্রের সংযোগ রয়েছে। এটি ওই অঞ্চলের জনবসতির ক্ষেত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী। কিন্তু এই প্রকল্প তৈরি করতে গিয়ে সেই নদীর অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে ফেলা হচ্ছে।

সবমিলিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে সুন্দরবন ও রামপাল এলাকায় এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। এছাড়া এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে যে লাভের কথা প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং লাভ হলে সেটা যাবে ভারতের পকেটে। আর লস হলে পুরো দায় নিতে বাংলাদেশকে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র মোটেও কোনো ভূমিকা রাখবে না। বরং ভারতের স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে গিয়ে এক সময় রাষ্ট্রের রাজস্ব খাত থেকে টাকা দিয়ে এর ভর্তুকি মিটাতে হবে।

রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে দুই দেশের সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি নামে একটি কোম্পানিও গঠন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অর্থায়ন করবে ১৫% পি ডি বি, ১৫% ভারতীয় পক্ষ আর ৭০% ঋণ নেয়া হবে। যে নীট লাভ হবে সেটা ভাগ করা হবে ৫০% হারে। আর প্রকল্পে যদি লস হয় তাহলে এর পুরো দায় নিতে বাংলাদেশকে। ভারতের শুধু লাভের অংশ নেবে, কোনো লস তারা নেবে না।

উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে পি ডি বি। বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত হবে একটা ফর্মুলা অনুসারে। কী সে ফর্মুলা? যদি কয়লার দাম প্রতি টন ১০৫ ডলার হয় তবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ এর দাম হবে ৫ টাকা ৯০ পয়সা এবং প্রতি টন ১৪৫ ডলার হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৮ টাকা ৮৫ পয়সা। অথচ দেশীয় ওরিয়ন গ্রুপের সাথে মাওয়া, খুলনার লবন চড়া এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে যে তিনটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের যে চুক্তি হয়েছে পি ডি বির সাথে সেখানে সরকার মাওয়া থেকে ৪ টাকায় প্রতি ইউনিট এবং আনোয়ারা ও লবন চড়া থেকে ৩টাকা ৮০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে।

কিন্তু, সরকার ১৪৫ ডলার করে রামপালের জন্য কয়লা আমদানির প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এরফলে ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দিয়ে পি ডি বি এখান থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে।

আরও মজার বিষয় হলো-১৪৫ ডলার করে যে কয়লা কিনা হবে সেটাও আনবে ভারত থেকে। বিশ্ববাজারে যে কয়লার দাম কোয়ালিটি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০- ৮০ ডলারের কাছাকাছি। আর ৭০% বিদেশী ব্যাংক থেকে যে ঋণ আনা হবে, ওই ঋনের সমস্ত সুদ বহন করবে বাংলাদেশ। এছাড়া ঋণের টাকাও নাকি নেয়া হবে তাদের কাছ থেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যদি ২০ ঘণ্টা করে ৩০ বছর চালু থাকে এবং ইউনিট প্রতি ৪.৮৫ টাকা আর্থিক ক্ষতি ধরা হয় কেবল তাহলেই অঙ্কটা দাঁড়াবে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা! এ হিসাবে প্রতি বছল বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

দেশের স্বার্থে নয়, শুধু ভারতকে খুশি করতেই শেখ হাসিনা দেশের এমন সর্বনাশী পরিকল্পনা করছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ যারা হিন্দুদের শত্রু তারা বাংলাদেশ ও জাতির শত্রুঃ ওবায়দুল কাদের


দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের শত্রুরা জাতিরও শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের শত্রু যারা তারা বাংলাদেশেরও শত্রু। তারাই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানী পলাশীর মোড়ে র‌্যালি মিছিল উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষবৃক্ষকে উৎটনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের আহ্বান জানান সেতুমন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার মাইনরিটি বান্ধব সরকার। এ সরকার যতদিন আছে আপনাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। অন্যান্য ধর্মীয় আচার ও উৎবগুলোও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এইদিক দিয়ে আপনারা নিরাপদ।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যত দিন পর্যন্ত বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভায়ের কোনো কারণ নেই।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সর্বকালের সেরা সময় পার করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় উন্নিত। আমাদের প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের কোনো টানাপোড়েন নেই।

এ সময় আগামী অক্টোবরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করবেন বলেন জানান তিনি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাব। এ সফরের পর আমাদের কনস্ট্রাকটিভ পার্টনারশিপ আরও নতুন উচ্চতায় উন্নতি হবে এবং আমাদের দেশের বিরাজমান অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাব।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পুকুর ও দীঘি পুনঃখননেও বিদেশে প্রশিক্ষণঃ উন্নয়নের নামে ১২৮ কোটি টাকা লোপাট!


বাংলাদেশের অনেক পুকুর, জলাশয় ও দীঘি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে প্রায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে এগুলোর পানি ধারণক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। সরকার এসব পুকুর ও দীঘি পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশে যাবেন ১৬ জন কর্মকর্তা। এ জন্য মাথাপিছু ব্যয় হবে ৮ লাখ টাকা।

প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, পুকুর পুনঃখননে প্রতি লাখ ঘন মিটারে ব্যয় হবে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং দীঘী পুনঃখননে ব্যয় হবে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদশে খাল খননের ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করার নজির রয়েছে, সে দেশ থেকে পুকুর ও দীঘি পুনঃখননের প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশে যাওয়া রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়। বিদেশী ঋণের এবং জনগণের দেয়া রাজস্বের অর্থ উন্নয়নের নামে অপচয় করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনের জন্যই এসব ব্যয়ের খাত তৈরি করা হয়েছে।

সরকারি জরিপের তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে পুকুর ও খাল নিয়ে জরিপ করার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর এলজিইডির পক্ষ থেকে সরেজমিন খাল ও পুকুর যাচাই-বাছাই করে জেলাভিত্তিক তালিকা করা হয়। সারা দেশে মোট ১৪ হাজার ৯১০টি খাস পুকুর, দীঘি, ৩ হাজার ৪৯৩টি প্রাতিষ্ঠানিক এবং ৬ হাজার ৫৩৬টি খাস খাল রয়েছে। এসব পুকুর, খালকে পুনঃখননের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ করে সেচসুবিধা সম্প্রসারণ করে বহুমুখী কাজে পানি ব্যবহার করা। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বরেন্দ্র অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কম। সেচকাজে মূলত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের ৪৩টি উপজেলায় পুকুর ও দীঘি পুনঃখননের প্রকল্প বাস্তবায়ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ৭১৫টি পুকুর ও ১০টি দীঘি পুনঃখনন, ৮৫টি সৌরচালিত লো লিফট পাম্প স্থাপন, ৮০টি ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ, ৮৫টি প্রিপেইড মিটার ক্রয়, ৯ হাজার মিটার ফিতা পাইপ ক্রয় এবং দেড় লাখ বৃক্ষ রোপণ অন্তর্ভুক্ত আছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পুকুর বা দীঘি পুনঃখননের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ করে তিন হাজার হেক্টর জমিতে সেচসুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। এতে করে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ১৮ হাজার ৩৪৮ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন ও মৎস্যচাষের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বহুমুখী কাজে পুকুরের পানি ব্যবহারের সুযোগ হবে।

ব্যয় বিভাজনে দেখা যায়, এ প্রকল্পে ১৮ জন কর্মকর্তা ও ৮ জন কর্মচারী কাজ করবেন। তাদের বেতন ধরা হয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকার বেশি। তাদের ভাতা যাবে সোয়া ৭ কোটি টাকা। এখানে দুই ব্যাচে ১৬ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হবে। যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ফলে জনপ্রতি ব্যয় হবে ৮ লাখ টাকা। এখানে ৭২৫টি পুকুর ও দিঘির জরিপে ব্যয় হবে সাড়ে ৭৩ লাখ টাকা। ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণের জন্য ইউপিভিসি পাইপ কেনা হবে এক হাজার মিটারের ৮৫টি, যাতে খরচ ধরা হয়েছে ৬ কোটি টাকা। ফলে প্রতিটি পাইপের মূল্য পড়ছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। আর এই পাইপ প্রতিটি বসাতে ব্যয় হবে ৪ লাখ টাকা। ৮০টি পাইপ বসাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চলমান এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সারা দেশে পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের ২৪ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সেখানে তাদের জনপ্রতি ব্যয় ৬ লাখ টাকা। বিদেশে প্রশিক্ষণ, বিদেশ ট্যুর, স্টাডি ট্যুর খাত প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পেই থাকতে হবে। আর সেগুলোতে সদস্য তালিকায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরিকল্পনা কমিশন, তার কার্যক্রম বিভাগ, ইআরডি, আইএমইডির প্রতিনিধি রাখার জন্য মূল্যায়ন কমিটির পক্ষ থেকে সব সময়ই সুপারিশ করা হয়।

এ দিকে, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক মো: আলমগীর কবীরের মতে, বাংলাদেশের মতো একটি নদীমাতৃক দেশে পুকুর বা দিঘি খননের মতো কাজের জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণ নেয়া হবে একটা হাস্যকর ঘটনা। একটা স্কুলের ছাত্রও বলতে পারবে কিভাবে পুকুর বা দিঘি খনন করতে হবে। এখানে বিদেশে প্রশিক্ষণের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এটা প্রকল্পের অর্থ তছরুপ এবং লুটপাটের একটা খাত। সরকারি কর্মকর্তা বা আমলাদের মনোরঞ্জনের জন্যই এ ধরনের ব্যয়ের খাত রাখা হয় উন্নয়ন প্রকল্পে। এসবের কোনো যুক্তি নেই।

পুকুর ও দিঘি খননে বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, উন্নয়নের নামে অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এ কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েই চলছে। তিনি বলেন, সরকার যদি এ দিকে নজর না দেয় তাহলে জাতি হিসেবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এসবসহ অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এই সবের মাধ্যমে লুটপাট ও দুর্নীতি হচ্ছে।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে শেখ হাসিনা জোর করে জিততে চান না, ভোট ডাকাতি করে!


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনা জোর করে নির্বাচনে জিততে চান না। জনগণকে খুশি করেই নির্বাচনে জিতেন। রাজধানীতে এক সমাবেশে দলের নেতাকর্মীদেরকে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিয়ে এসব কথা বলেন।

কিন্তু, বিগত দিনের সিটি নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যায়-শেখ হাসিনা শুধু জোর করেননি, নজিরবিহীন ভোটডাকাতির মাধ্যমে সিটি নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে দলের প্রার্থীদেরকে বিজয়ী করেছেন।

২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন এবং উত্তর সিটিতে প্রার্থী ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক। আর বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দক্ষিণে মির্জা আব্বাস ও উত্তরে তাবিথ আওয়াল।

সেই নির্বাচনের ভোটের দৃশ্যটা কেমন ছিল? এদেশের জনগণ নিশ্চয় সেদিনের ভয়াবহ ভোট ডাকাতির কথা ভুলে যাননি। সেদিন দলীয় প্রার্থীদেরকে জেতানোর জন্য শেখ হাসিনার গুন্ডা-পান্ডারা শুধু ভোট কেন্দ্রই দখল করেনি, বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের এজেন্টদেরকেও কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ ভোটাররাতো সেদিন ভোট কেন্দ্রের কাছেই যেতে পারেনি।

ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই, সাংবাদিকসহ বিএনপি-জামায়াতের এজেন্টদেরকে মারধর করাসহ এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল যে, বেলা ১১ টার পরই বিএনপির দুই প্রার্থী ভোট বর্জন করতে বাধ্য হন। এরপরও ওবায়দুল কাদের বললেন-তার নেত্রী শেখ হাসিনা নাকি নির্বাচনে জোর করে জিততে চান না। এর চেয়ে নির্লজ্জতা আর কী হতে পারে?

এরপর অনুষ্ঠিত হলো বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, গাজীপুর, রংপুর ও সিলেট সিটি নির্বাচন। এসব নির্বাচনে শেখ হাসিনার গুন্ডা-পান্ডারা প্রায় সব কেন্দ্রই দখল করে নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে শুধু বিএনপি নয়, মেয়র পদের প্রায় সব প্রার্থীই ভোট বর্জন করতে বাধ্য হয়েছিল।

এসব ভোট ডাকাতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিদেশিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। আর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের কথাতো না বললেই চলে।

তাই ওবাইদুল কাদেরের এমন উক্তিতে সচেতন মহল বলছেন, ওবায়দুল কাদের নির্লজ্জের মতো অবলিলায় বলে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা নাকি জনগণকে খুশি করে নির্বাচনে জিতে। ওই যে কথায় বলে-চুরের মায়ের বড় গলা। ভোট চুরি করে এখন তারা বড় গলায় কথা বলছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ গরিবের চামড়ায়ও কামড় দিলেন সেই দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান!


কুরবানির পশুর চামড়ার ব্যাপক দরপতন নিয়ে সারাদেশে এখনো তোলপাড় চলছে। মুসলমানরা তাদের কুরবানির পশুর চামড়া গরিব, মিসকিন ও এতিমদের মধ্যে বিতরণ করে দিয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এটা আল্লাহ ও তার নবীর নির্দেশ। প্রতিবছর কুরবানির পশুর চামড়ার টাকা গরিব, মিসকিন ও এতিমদের আয়ের একটি উৎস। আর দেশের হাজার হাজার এতিমখানার আয়ের প্রধান উৎস হলো কুরবানির পশুর এই চামড়ার টাকা।

এ বছর চামড়ার সঠিক দাম না পাওয়ায় দেশের বহু মাদরাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চামড়া নিয়ে এবার যা হয়েছে তা নজিরবিহীন। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এবার শুধু কম দামই নয়, অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে গর্ত করে মাটির নিচে চামড়া চাপা দিয়েছে। কেউ কেউ চামড়া কিনে বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে তোলপাড়। গণমাধ্যমগুলোতেও চামড়া পানিতে ফেলে দেয়ার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

চামড়ার এই তুঘলকি কাণ্ড নিয়ে সবাই বলছে এর পেছনে একটি সিন্ডিকেট জড়িত। কিন্তু এই সিন্ডিকেটে কারা জড়িত? গরিবের চামড়ায় কারা কামড় দিয়েছে? এ প্রশ্নের জবাব আসছে না। আর বিএনপি বলছে আওয়ামী লীগের এক বড় নেতা এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্ত, কে এই ব্যক্তি তার নাম বলেনি বিএনপি।

তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে গরিবের চামড়ার পেছনে সেই সেন্ডিকেটের পরিচয়। অনুসন্ধান বলছে, এই সেন্ডিকেটের মুল হোতা শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান। যিনি এর আগে দেশের শেয়ারবাজারসহ আরও বিভিন্ন খাতে কালো থাবা দিয়েছেন। যার কালো থাবায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে শেয়ারবাজারের হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর স্বপ্ন। সহায় সম্বল সব হারিয়ে যারা এখন পথে পথে ঘুরছেন। সেই দরবেশই আবারও উঠেপড়ে লেগেছে দেশের গরিব, মিসকিন ও এতিমদের চামড়া ছিনতাইয়ের কাজে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ট্যানারী ব্যবসায়ী বলেছেন, দরবেশই হলেন নাটেরগুরু। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর শক্তিশালী উপদেষ্টা হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্টরা মুখে তার নাম উচ্চারণ করতে পারছেন না। এদিকে গরমের কারণে ১০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে সালমান এফ রহমানের এমন মন্তব্যে হাস্যকর বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ​‘শেখ হাসিনা মিথ্যা বলেছেন, বিরোধী মতাবলম্বীদের ওপর বেশি নির্যাতন হচ্ছে’

বিরোধী মত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পুলিশের হেফাজতে ‍নির্যাতন-মৃত্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা তো আমার কাছে পরিস্কার যে, এখানে প্রধানমন্ত্রী সত্য কথা বলেননি। আমাদের পত্র-পত্রিকাগুলোতে মানবাধিকারের যে গ্রুপগুলো রয়েছে তাদের যে রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। এমনকি অ্যামিনেস্টি ইন্টান্যাশনাল, হিউম্যান রাইট ওয়াচ’র রিপোর্টে আমরা দেখেছি- প্রতিবছরে এখানে জুডিশিয়াল কাস্টিডিওতে মৃত্যু হয়েছে ৪শ’ থেকে ৭শ’। গতবছর বিশেষ করে ৪শ’ উপরে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে জডিশিয়াল কাস্টিডিও হত্যা হয়েছে।’

‘আর পুলিশ হেফাজতে যে টর্চার-এটা তো কমন ব্যাপার। পত্র-পত্রিকায় ছবিতে এসেছে- ফ্যান সিলিংয়ের সাথে ঝু্লিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের অনেক নেত-কর্মী আছেন যাদের পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। এটা ছবিতে চলে এসেছে। এগুলোতে আপনারা সবাই জানেন, পত্র-পত্রিকায় এসেছে। সুতরাং উনি (প্রধানমন্ত্রী) অবলীলায় অস্বীকার করলেন- এটা( হেফাজতে মৃত্যু) হয় না। আমরা মনে হয় এটা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রকৃত যে চিত্র নির্যাতন বাংলাদেশে নির্যাতন সরকারিভাবেই চলছে এবং সরকার বিরোধী মত ও যারা ভিন্নমত পোষন করে তাদের উপরে অত্যাচার-নির্যাতন আরও বেশি করে চালাচ্ছে। আপনারা দেখেছেন যে, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোকচিত্রী শিল্পী শহিদুল আলমকে গ্রেফতার করে অত্যাচার করা হয়েছে এবং কাস্টিডিওতে নেয়ার পরে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সাথে নির্মম আচরণ করা হয়েছে।’

সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার মতো বিএনপি চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না- এরকম প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার যখন মনে করে চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া তারা কোনো ন্যায়ের কাজ করবে না। তখন তো ওইটা ডিফিকাল্ট হয়ে যায়। ইট ইজ এ রেসপনসিবিলিটিজ দ্যা গর্ভমেন্ট, তাকে ডেঙ্গুর কাজ করতে হবে, বন্যা পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে, কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি করতে হবে। আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

সর্বক্ষেত্রে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, তাহলে আপনার সরকারই উস্কানি দিচ্ছে ভিন্নপথে যাওয়ার। যেটা আমরা মনে করি একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য কখনোই ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

সরকারি দল বলছে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মতো আন্দোলন বিএনপি পারছে না- এরকম প্রশ্নের মহাসচিব বলেন, ‘বিষয়গুলো আপেক্ষিক না। ফ্যাসিস্ট সরকার যখন থাকে তখন সেই মুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন কী জ্বালাও-পোঁড়াও করে সব পুঁড়িয়ে দিতে হবে নাকি? এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা আওয়ামী লীগের মধ্যে আছে যা এটা তারা চাচ্ছে।’

আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিয়মের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করছি। জনগণ যদি মনে করে যে, তারা অন্যভাবে দেখবেন- সেটা জনগণের ব্যাপার বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here