বলকান গণহত্যার স্মৃতি ধরেই ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলা

0
129

বন্দুকধারী শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি যখন গণহত্যার জন্য নিউজিল্যান্ডের মসজিদে প্রবেশ করেন, তখন তার হেলম্যাটে রাখা লাইভ ক্যামেরার ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে সার্ব জাতীয়তাবাদী গান বাজছিল।

শুক্রবার জুমা পড়তে আসা মুসল্লিদের হত্যার সময় তিনি এ নারকীয় দৃশ্য সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেন।

শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির অস্ত্রের গায়ে সার্ব জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের নাম খোদাই করা ছিল। এতে বলকান সহিংসতা নিয়ে অপ্রত্যাশিত আগ্রহ তৈরি হয়েছে সর্বত্র। সে সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটিতে রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিল।

দুটি মসজিদে ওই অস্ট্রেলীয় সন্ত্রাসী গুলি করে অর্ধশত লোককে হত্যার পর নিউজিল্যান্ডে বসনীয় রাষ্ট্রদূত স্থানীয় টেলিভিশনে গিয়ে হত্যার ব্যাকগ্রাউন্ড দৃশ্যে সংগীত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মসজিদে ঢুকে এই শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী যখন এক এক করে মুসল্লিদের হত্যা করছিলেন, তখন ভিডিওর অন্তরালে সার্ব জাতীয়তাবাদী সংগীত শোনা গেছে।

বসনীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি সার্বীয় জাতীয়তাবাদী সংগীত, যাতে যুদ্ধাপরাধী রাদোভান কারাদজিচের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাকে সার্বসদের নেতৃত্ব দিতে আহ্বান করা হয়েছে।

১৯৯২-৯৫ সালের যুদ্ধে বসনীয় সার্বসদের নেতৃত্ব দেয়া রাদোভান যুদ্ধাপরাদের দায়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাকে দেয়া ৪০ বছরের সাজার চূড়ান্ত রায় শুনতে চলতি সপ্তাহে তিনি জাতিসংঘের আদালতে গিয়েছিলেন।

স্রেব্রেনিকা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা এবং বসনিয়ায় জাতিগত সংঘাতের সময় অন্যান্য অপরাধের দায়ে তাকে এ কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এতে এক লাখের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।

বসনীয় কূটনীতিক জানিয়েছেন, ওই গানে বলা হয়েছে- তুর্কিদের অবশ্যই হত্যা করতে হবে। বসনীয় মুসলমানদের কথা উল্লেখ করে সার্ব জাতীয়তাবাদীরা এখনও নিয়মিতভাবে এমন কথা বলে যাচ্ছেন।

১৯৯০ দশকের যুদ্ধের মতোই ক্রাইস্টচার্চের হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় সন্ত্রাসী এ গানটি বাজিয়েছিলেন। এমনকি উগ্র ডানপন্থীরা সম্প্রতি এ গানটি মিম বা ছবি ক্যাপশন আকারেও ইন্টারনেট জগতে ছড়িয়ে দেয়।

কিন্তু মসজিদে ট্যারেন্টের এই হত্যাযজ্ঞ বলকান ইতিহাসের শিকরের গভীরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ডানপন্থী উগ্ররা তার এই ঘৃণায় ভরা ইশতেহারকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন।

উসমানীয় সাম্রাজ্যের ঘোর

জঙ্গি ট্যারেন্টের অস্ত্রে যেসব ঐতিহাসিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ ছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন সার্ব জাতীয়তাবাদী আইকন রয়েছেন।

সার্ব লোকগাঁথার একজন নাইট মিলোস অবিলিক ও চতুর্দশ শতকের সার্বীয় প্রিন্স স্টিফান লাজারসহ উসমানীয় খেলাফতের বিরুদ্ধে লড়াই করা যোদ্ধাদের নামও ছিল।

মন্টিনেগ্রিয়ান জেনারেল মার্কো মিলজেনোভের নামও রয়েছে বন্দুকে। এই বলকান সামরিক নেতা ১৯ শতকে উসমানীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন।

উসমানীয় শাসনামলে বলকানে মুসলিম ও খ্রিস্টান বিশ্বের মধ্যে প্রায়ই যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছিল। অতি উগ্রজাতীয়তাবাদী সার্বদের মধ্যে সেই ইতিহাসের ছায়া এখনও রয়ে গেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেন, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে জঙ্গি ট্যারেন্ট সেখানে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে মন্টেনিগ্রো, সার্বিয়া, বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া হয়ে বুলগেরিয়ায় যান এই শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি। তিনি তুরস্কও ভ্রমণে গিয়েছিলেন।

সার্ব জাতীয়তাবাদের অনুপ্রেরণা

বসনিয়ার সারাজেভোতে মুসলিম সম্প্রদায় জানিয়েছে, এটি সত্যিই ভয়ের কথা যে, বসনিয়ার যুদ্ধাপরাধকে মহিমান্বিত করে গাওয়া একটি সংগীত দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছে। এই শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী একই উগ্র মতাদর্শ ও ঘৃণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন, যা ১৯৯০ দশকে ঘটেছিল।

কাজেই এ হামলাকারী যখন তার হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় বলকানকে টেনে এনেছেন, তখন তা কেবল কসোভোর সেই ভয়ার্ত স্মৃতিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

সাবেক সার্বীয় প্রদেশের অধিকাংশ মুসলমান এবং নৃতাত্ত্বিক আলবেনীয়রা ১৯৯৮-৯৯ সালে গেরিলা যুদ্ধে জড়ে পড়েন। এ যুদ্ধে ১৩ হাজার আলবেনীয় নিহত হয়েছিলেন।

টুইটারে কসোভোর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেট্রিক সেলিমি বলেন, এই অস্ট্রেলীয় সন্ত্রাসী সার্বীয় শিকড় গজানো শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী একটি বিশেষ দল থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, কসোভো ও বসনিয়ায় সার্বীয় মতাদর্শীরা যে যুদ্ধ ও গণহত্যা চালিয়েছিলেন, তা বিশ্বব্যাপী উগ্রডানপন্থী খ্রিস্টানদের উৎসাহ হিসেবে কাজ করেছে।-খবর এএফপির।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে শিবিরের বিক্ষোভ (ভিডিওসহ)


নিউজিল্যান্ডের আল নূর মসজিদে উগ্র খৃস্টান সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলার ঘটনায় তিন বাংলাদেশিসহ ৫০ জনের বেশি নিহত হওয়ার নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

ইসলামী শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসেন ও সেক্রেটারী জেনারেল সিরাজুল ইসলাম এক যৌথ বার্তায় বলেন, নিউজিল্যান্ডে মসজিদে ঢুকে নামাজরত মুসল্লীদের উপর নির্বিচারে গণহত্যায় আমরা গভীর ভাবে শোকাহত এবং ছাত্রশিবির এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এ হামলা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এতে মুসলিম বিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও ফ্যাসিবাদী আচরণের বহি:প্রকাশ ঘটেছে অত্যন্ত নৃশংসভাবে। এ ঘটনা বিশ্বে শান্তিপ্রিয় মানুষকে ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত করেছে।

ভিডিওঃ নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে শিবিরের বিক্ষোভ (ভিডিওসহ)

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর বসুন্ধরা গেটে থেকে রামপুরা রোডে বিক্ষোভ-মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তর।

উক্ত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ছাত্রনেতা সালাউদ্দিন আইয়ুবী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রনেতা আজিজুল ইসলাম সজিব, মোস্তাফিজুর রহমান, ডা. কেরামত আলী, এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ , হাফেজ ওমর ফারুক, তরিকুল ইসলাম প্রমুখ ।

উৎসঃ sangbad247

আরও পড়ুনঃ গুলি খেয়েও মুসল্লিদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন যে বৃদ্ধ


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে ঝরে গেছে ৫০ প্রাণ। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অন্তত ৪৮ জন, এদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকজন।

মুসল্লিদের ওপর নামাজরত অবস্থায় এমন নৃশংস হামলায় আরও কয়েক প্রাণ শেষ হয়ে যেত পারত। হামলার সময় কয়েকজনের সাহসী ভূমিকায় বেঁচে যান অনেকে।

সাহসী ভূমিকা রাখাদের একজন দাউদ নবী (৭১)। বন্দুকধারীর গুলির সময় দাউদ নবী অন্য মুসল্লিদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন দাউদ নবী। গুলি খেয়েও অন্যদের বাঁচাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যান এই বৃদ্ধ।

দাউদ নবীর ছেলে ওমর নবীরও সেই মসজিদে থাকার কথা ছিল। কিন্তু কাজ থাকায় হামলার সময় মসজিদে যাওয়া হয়নি তার।

ওমর নবী জানান, তার বাবা একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী ছিলেন। আফগানিস্তান থেকে ১৯৮০ সালে নিউজিল্যান্ডে অভিবাসী হন।

ঘটনার কথা শুনেই ওমর তার বাবাকে ফোন দিতে থাকেন। কিন্তু কেউ ফোন রিসিভ করেনি তখন।

মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসির খবরে বলা হয়, দাউদ নবী নিউজিল্যন্ডে আগত সব শরণার্থীর প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতেন।

ওমর নবী বলেন, শরণার্থীরা আসার সময় তার বাবা বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানাতে যেতেন। যে কোনো দেশেরই হোক না কেন।

প্রসঙ্গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ৫০ জন মারা যান। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৮ জন। এই সন্ত্রাসী হামলার সময় আল নূর মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। তারা মসজিদে ঢোকার কিছুক্ষণ আগে এক পথচারীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ফিরে আসেন। ফলে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ক্রিকেটাররা। এ ঘটনায় বাংলাদেশের তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ হামলার ২ মিনিট আগে জঙ্গির ইশতেহারটি হাতে পাই: জাসিন্দা


নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান বলেছেন, শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর কাছ থেকে তার অফিস একটি ইশতেহার পেয়েছে। শুক্রবার মসজিদে হামলার কয়েক মিনিট আগেই তারা সেটি হাতে পেয়েছিলেন।-খবর এএফপি

জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে ওই হামলায় অর্ধশত মুসল্লিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যে ৩০ ব্যক্তি ওই ইশতেহার পেয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনি একজন। হামলার অন্তত ৯ মিনিট আগে তার কাছেই ওই জঙ্গি ইশতেহারটি মেইল করেছিলেন।

তিনি বলেন, এতে স্থানের কথা উল্লেখ করা হয়নি। সুনির্দিষ্টভাবে বিস্তারিত তথ্যও দেয়া হয়নি। এটি গ্রহণের দুই মিনিটের মাথায় তা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে পাঠানো হয়েছিল।

জাসিন্দা বলেন, তিনি দীর্ঘ ইশতেহারটি পড়েছেন। যার মধ্যে উগ্র-ডানপন্থীর ষড়যন্ত্রে ভরা ছিল। ঘটনা হচ্ছে, উগ্র দৃষ্টিভঙ্গি সম্বলিত একটি আদর্শিক ইশতেহার সেটি। যা এই হামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সত্যিই এটা বিরক্তিকর।

বন্দুকধারী শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি যখন গণহত্যার জন্য নিউজিল্যান্ডের মসজিদে প্রবেশ করেন, তখন তার হেলেমেটে রাখা লাইভ ক্যামেরার ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে সার্ব জাতীয়তাবাদী গান শোনা গেছে। হত্যার সময় তিনি এ নারকীয় হত্যার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেন।

শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির অস্ত্রের গায়ে সার্ব জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের নাম খোদাই করা ছিল। এতে বলকান সহিংসতা নিয়ে অপ্রত্যাশিত আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটিতে যখন রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছিল।

দুটি মসজিদে এই অস্ট্রেলীয় সন্ত্রাসী গুলি করে অর্ধশত লোককে হত্যার পরে নিউজিল্যান্ডে বসনীয় রাষ্ট্রদূত স্থানীয় টেলিভিশনে গিয়ে হত্যার ব্যাকগ্রাউন্ড দৃশ্যে সঙ্গীত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মসজিদে ঢুকে এই শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী যখন একেবার এক লোককে হত্যা করছিলেন, তখন ভিডিওর অন্তরালে সার্ব জাতীয়তাবাদী সঙ্গীত বাজছিল।

বসনীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, এটা সার্বীয় জাতীয়তাবাদী সঙ্গীত, যাতে যুদ্ধাপরাধী রাদোভান কারাদজিচের নাম উল্লেখ রয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ক্রাইস্টচার্চ হামলা: মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ায় সিনেটরের মাথায় ডিম ভাঙলেন তরুণ (ভিডিও সহ)


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে প্রাণঘাতি হামলার দায় মুসলিম অভিবাসীদের ওপর চাপিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ে। এমন মন্তব্যের পর তার মাথায় ডিম ভেঙে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক তরুণ।

ক্রাইস্টচার্চ হামলার একদিন পরই শনিবার (১৬ মার্চ) মেলবোর্নে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন অ্যানিং।

সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ঠিক তার পেছনে দাঁড়িয়ে এক তরুণ মোবাইলে ভিডিও করার সময় অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভেঙে দেন। এসময় উঠে দাঁড়িয়ে ওই তরুণের নাকেমুখে চড় কষিয়ে দেন অ্যানিং। দুজনের মধ্যে চলে হাতাহাতি। পরে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাদের সরিয়ে নেন।

ভিডিওঃ অস্ট্রেলিয়ার সিনেটরের মাথায় ডিম ভাঙলেন তরুণ

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

গতকাল হামলার পরপরই সংবাদমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে অ্যানিং বলেছিলেন, এ হামলা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে মুলসলমান অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাড়তে থাকা আতঙ্কেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অ্যানিং তার বিবৃতিতে কুইন্সল্যান্ডের সিনেটর অ্যানিং মসজিদে হত্যাযজ্ঞের জন্য নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন নীতিকেও দায়ী করেন।

তিনি বলেন, ‘মুসলিম অভিবাসীরা অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডবাসীর মধ্যে এক ধরনের ‘ভয়’ সৃষ্টি করছে। যে কারণেই আজকের এ হামলা। ক্রাইস্টচার্চে হামলায় দেশের জাতীয়তাবাদকে দায়ী করা যাবে না। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের অভিবাসী পদ্ধতি এ হামলার দায় এড়াতে পারবে না।’

সিনেটর বিশ্বে বিগত হামলার কথা উল্লেখ করে স্পষ্ট বলেন, ‘এখন মুসলিমদের ওপর হামলা হয়েছে। এছাড়া মুসলমানরাইতো সব সময় হামলা করেন।’

এর আগে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হন।

হামলাকারীর নাম ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। যাকে গ্রেফতারের পর শনিবার আদালতে তোলা হয়েছে।

ভিডিওঃ অস্ট্রেলিয়ার সিনেটরের মাথায় ডিম ভাঙলেন তরুণ

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন হামলাকারীকে ‘একজন উগ্র ডানপন্থি নৃশংস সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করেছেন।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ চীন-ভারতে অবাধ গুম খুন সরকারি বাহিনীর


ভারতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ অবাধে গুম-খুন অব্যাহত রেখেছে দেশটির সরকার ও এর নিরাপত্তা বাহিনীগুলো। পুলিশি হেফাজতে চলছে নির্যাতন-নিপীড়ন ও ধর্ষণ। অব্যাহত রয়েছে অবাধ গণগ্রেফতার, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ।

যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্ট-২০১৮-এ দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটির ভয়াবহ মানবাধিকার পরিস্থিতির এ চিত্র উঠে এসেছে।

রিপোর্টে ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশ চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রায় একই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে শুরুতেই চীনকে স্বৈর রাষ্ট্রের তকমা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেই অভিযুক্তদের নিখোঁজ করে দেয় দেশটির সরকারি বাহিনী।

গত এক বছরে শিংজিয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণগ্রেফতার অভিযান আরও জোরদার করেছে দেশটির সরকার। জাতিগত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে ফেলতে উইঘুরদের পাশাপাশি ওই কাজাখ জাতিগোষ্ঠী ও অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর অন্তত ৮ লাখ সদস্যকে বন্দিশিবিরে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতি বছর মার্কিন কংগ্রেসের কাছে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ দেশ ও অঞ্চলের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও শ্রম অধিকার সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।

বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রস্তুতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং এতে উপস্থাপিত তথ্য মার্কিন কংগ্রেস, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ প্রামাণিক উপাত্ত হিসেবে গ্রহণ করে।

বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর উপস্থাপন করা ‘কান্ট্রি রিপোর্ট অন হিউম্যান রাইটস প্রাক্টিস’ শীর্ষক রিপোর্টে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে ভারত ও চীনের ভয়াবহ মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

রিপোর্ট মতে, ভারতে গত এক বছরে সন্দেহভাজন আসামি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ ঢালাও ও বেআইনি খুন-গুম ও গণগ্রেফতার চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০১৭-১৮-এর উপাত্ত অনুযায়ী, ভারতজুড়ে ৫৯ জনকে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করা হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা আরও বেশি।

অলাভজনক সংস্থা ইন্সটিটিউট ফর কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট চালিত সাউথ এশিয়ান টেররিজম পোর্টালের মতে, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১৫২ বেসামরিক নাগরিক, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত ১৪২ ও ৩৭৭ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী। পুলিশ বা সরকারি বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা আরও বেশি এবং সেটা অব্যাহত রয়েছে।

গত বছরের ১৪ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭-এর এপ্রিল থেকে ২০১৮-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে এক হাজার ৬৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের এক রিপোর্ট মতে, ওই সময়ে প্রতিদিন ৫ জনের বেশি মানুষ পুলিশ হেফাজতে মারা গেছে।

ভারতের অন্য রাজ্যের তুলনায় অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ‘রিপোর্ট অন দ্য সিচুয়েশন অব হিউম্যান রাইটস ইন কাশ্মীর’ শীর্ষক রিপোর্টে জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, ২০১৬-এর জুন থেকে ২০১৮-এর এপ্রিল পর্যন্ত ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১৪৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। অন্যদিকে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে নিহত হয়েছে ২০ জন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে চীনের নিন্দা জানিয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, চীন মুসলিমদের সঙ্গে যে আচরণ করছে তা দেশটিতে ১৯৩০ সালের পর সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।’

রিপোর্টে চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিরোধীদের অবাধ ও বেআইনি গ্রেফতার, গুম ও বন্দিশিবিরে লাখ লাখ মানুষকে নির্যাতন, ব্যাক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ প্রভৃতি চালাচ্ছে সরকার ও এর নিরাপত্তা বাহিনীগুলো।

সাংবাদিক, আইনজীবী, লেখক, ব্লগার্স ও সরকারের সমালোচক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর হচ্ছে শারীরিক আক্রমণ। ফাসানো হচ্ছে মামলায়। সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, শান্তিপূর্ণ র‌্যালি সমাবেশে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সেই মসজিদে হামলায় নিহত নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলের খেলোয়াড়

সন্তানকে কোলে নিয়ে ছবিতে পোজ দেয়া আতা এলায়েন এখন শুধুই স্মৃতি। ছবি: সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বন্দুকধারীর হামলায় বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা বেঁচে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি আতা এলায়েনের। ৩৩ বছর বয়সী এলায়েন ছিলেন নিউজিল্যান্ডের জাতীয় ফুটসাল (ইনডোর ফুটবল) দলের সদস্য।

কুয়েতি বংশোদ্ভূত এলায়েন ছিলেন একজন গোলরক্ষক। সম্প্রতি তিনি সন্তানের বাবা হয়েছেন। আদরের সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ে তোলার আগেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

এলায়েন ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের কারিগরি শিল্পের জনপ্রিয় একজন সদস্য ছিলেন। এছাড়াও এলডব্লিউএ সফিউশন নাকে একটি কোম্পানির পরিচালক ছিলেন।

শুক্রবার হ্যাগলি পার্কে মসজিদ আল নূরে জুমার নামাজ আদায় করতে যাওয়া মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এতে নিহত হন প্রায় অর্ধশতাধিক। সেই মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলে বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা। কয়েক মিনিট আগে তারা সেখানে পৌঁছলে বড় কিছু ঘটতে পারত।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘হামলার ঘটনায় বেঁচে যাওয়া সর্বশেষ ব্যক্তি বোধহয় আমি’: রমজান আলী (ভিডিও সহ)


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অনেকে। তাদের মধ্যে আবার অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ হামলায় বেঁচে যাওয়া সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের অন্যতম ও সর্বশেষ ব্যক্তি রমজান আলী।

স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ৬২ বছর বয়সী রমজান আলী জানান, শুক্রবার মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে আমার আশপাশে অনেকেই মারা গেছেন। ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া সম্ভবত আমিই শেষ ব্যক্তি। আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে বের করে এনেছেন।

রমজান আলী আরো বলেন, আমরা নিয়মিতই হ্যাগলি পার্কের ওই মসজিদে জুমার নামায আদায় করে থাকি। ঘটনার সময় মসজিতে অন্তত তিনশ মুসল্লি ছিলেন। হঠাৎ আমি দেখি সবাই মসজিদের দরজা লক্ষ করে ছুটছেন। অথচ এতো মানুষের একসঙ্গে মাত্র ওই দুইটি দরজা দিয়ে বের হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আবার বন্দুকধারী প্রধান দরজা দিয়ে গুলি করতে করতে ভেতরে ঢুকছে।

আলী বলেন, এ অবস্থায় আমি লুকানোর জন্য একটি বেঞ্চের পিছনে লাফ দিই, তবে এরপরও আমার পা দেখা যাচ্ছিল। তখন হামলাকারী লাগাতার গুলি করে যাচ্ছিল। আমার চাচাত ভাই আমার পেছনে বসে পড়ে এবং তার পায়ে আঘাত পায়।

একপর্যায়ে সে গুলি রিলোড করার জন্য কয়েবার থামে। কিন্তু এর পরপরই আবারো গুলিবর্ষণ করতে থাকে। আমি তখন কেবল প্রার্থনা করছিলাম, তার গুলি যেন শেষ হয়ে যায়।

ভিডিওঃ ‘হামলার ঘটনায় বেঁচে যাওয়া সর্বশেষ ব্যক্তি বোধহয় আমি’: রমজান আলী

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

পাশে একজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলে হামলাকারী আমার সামনেই ওই ব্যক্তির বুকে পুনরায় গুলি করে। আমি তখন আমার চারপাশে তখন কেবল লাশ দেখেছি। পরে তিনি জানালা দিয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে এসে হ্যাগলি পার্কের দিতে চলে যান।

রমজান জানান, তিনি এ ঘটনায় বেঁচে গেলেও ওই সময় তার পেছনে থাকা চাচাতো ভাই নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া হামলায় তার চাচাতো বোনের জামাই ও এক বন্ধু গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি এখন তাদের খুঁজে ফিরছেন।

ফিজির বংশোদ্ভূত রমজান আলী ১৯৮৯ সালের নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান। তবে গত পাঁচ বছর ধরে বসবাস করছেন প্রায় চার লাখ মানুষের শহর ক্রাইস্টচার্চে। বর্তমানে তিনি সেখানে হালাল খাবার কোম্পানিতে কাজ করছেন।

নিউজিল্যান্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানকার লোকেরা খুবই ভালো। আমি এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারে। তারা খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন।

উৎসঃ নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হত্যাযজ্ঞঃ নরেন্দ্র মোদির মুখে কুলুপ!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব সময় সক্রিয় থাকেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্বের কোথাও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে তার নিন্দা জানান। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

রক্তাক্ত এ হামলার পর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে টুইট করলেও ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ঘটনায় এখনো নিশ্চুপ মোদি।

নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় সমবেদনা জানাচ্ছেন বিশ্ববাসী। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব দেশের নেতারা এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, কেউবা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন নিজের দেশ ও সরকারের অবস্থান।

কিন্তু এত বড় একটি হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চুপ থাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

কারণ বিশ্বের কোথাও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গেই তার নিন্দা জানিয়ে থাকেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের বাইরে কাবুল, কায়রো, নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস- এসব শহরে বিগত বছরগুলোতে যেসব সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে তাতে টুইটারে সরব ছিলেন মোদি।

কিন্তু শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৪৯ জন মুসলমান নিহত হলেও এ ঘটনা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী কোনো টুইট করেননি।

ধারণা করা হচ্ছে, মুসলমান নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশকে তার উগ্রবাদী দল ও ভক্তরা হয়তো ভালোভাবে নেবে না এবং এর প্রভাব পড়বে ভোটে- এমনটা ভেবেই তিনি হয়তো চুপ রয়েছেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভক্তদের সামনে নীরব থাকলেও হামলার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা এক চিঠিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মোদি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সেই হামলাকারী ব্রেনটন ট্যারেন্টের কড়া বাঁধা হাতেও বর্ণবাদের প্রশস্তি

কড়া বাঁধা হাতেও বর্ণবাদের প্রতীক দেখালেন নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের খুনি ব্রেন্টন ট্যারেন্ট, যার গুলিতে ৩ বাংলাদেশিসহ অন্তত ৪৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

শুক্রবার দুটি মসজিদে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগ এনে ট্যারেন্টকে একদিন বাড়ে ক্রাইস্টচার্চের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয়। বিচারক তাকে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত আটক রাখতে বলেছেন।

ট্যারেন্টকে আদালতে নিয়ে যায় দুজন পুলিশ সদস্য, এসময় তার দেহে ছিল বন্দিদের পোশাক, হাতকড়ায় বাঁধা ছিল হাত।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট দেখিয়েছে, হাতকড়ার মধ্যে আঙুল দিয়ে ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের’ বর্ণবাদী প্রতীক দেখাচ্ছিলেন ট্যারেন্ট।

মানুষের মধ্যে শেতাঙ্গরা শ্রেষ্ঠ- এটা যারা মনে করেন, তারা আঙুলের মাধ্যমে বিশেষ চিহ্ন তৈরি করে প্রতীক হিসেবে তার প্রকাশ ঘটিয়ে থাকেন।

এক্ষেত্রে বৃদ্ধা ও তর্জনি আঙুল বৃত্তাকারে একসঙ্গে যুক্ত করলে তা ‘চ’ এর আকৃতি নেয়, যা দিয়ে চড়বিৎ বা শক্তি বোঝানো হয়। আর বাকি তিনটি আঙুল তখন ‘ড’ এর রূপ নেয়, যা দিয়ে বোঝানো হয় ডযরঃব বা সাদা।

২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় ট্যারেন্টও বন্দি হওয়ার পরও তার বর্ণবাদী মনোভাব এভাবে তুলে ধরেন।

হত্যাযজ্ঞের পুরো ঘটনা ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন ট্যারেন্টন, ইন্টারনেটে ছড়িয়েছেন বর্ণবাদী, অভিবাসী বিদ্বেষী, উগ্র ডানপন্থি বার্তা।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলা চালানোর আগে ট্যারেন্ট তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ৭৩ পৃষ্ঠার একটি কথিত ‘ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি নিজেকে বর্ণনা করেছেন ভাষায়, সংস্কৃতিতে, রাজনৈতিক বিশ্বাস আর দর্শনে, আত্মপরিচয়ে এবং বংশপরিচয়ে একজন ইউরোপীয় হিসেবে।

ট্যারেন্ট তার তথাকথিত ‘ম্যানিফেস্টোতে’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

হামলার উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে নিজের অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন ট্যারেন্ট। এক জায়গায় তিনি নিজেকে ‘এথনোন্যাশনালিস্ট এবং ফ্যাসিস্ট’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

উৎসঃ শীর্ষ কাগজ

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের খুনি আদালতে হাসছিল

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী ব্রেনটন হ্যারিসন ট্যারেন্টকে হাতকড়া পরিয়ে খালি পায়ে আদালতে হাজির করা হয়। শনিবার স্থানীয় সময় সকালে ২৮ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত যুবককে ক্রাইস্টচার্চ ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয়। এ সময় হাসছিলেন তিনি।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে জুমার নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে হামলা চালান ব্রেনটন। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে বেঁচে যান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। কাছাকাছি লিনউড মসজিদে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। দুই মসজিদে হামলায় নিহত ৪৯ জন। এর মধ্যে আল নুর মসজিদে ৪১ জন ও লিনউড মসজিদে সাতজন নিহত হন। একজন হাসপাতালে মারা যান। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ৪০ জন। এর মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের অনলাইন সংস্করণে বলা হয়, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছেন ব্রেনটনকে। তিনি নিউজিল্যান্ডের ডুনেডিনের অ্যান্ডারসনস বে এলাকার বাসিন্দা। আদালতে যখন ব্রেনটনকে হাজির করা হয়, তখন তাঁর পরনে ছিল বন্দীদের সাদা পোশাক, হাতে হাতকড়া এবং খালি পা। ডকে তাঁর ছবি তোলার সময় তিনি আলোকচিত্রীদের দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন। তাঁর পাশেই ছিলেন দুই পুলিশ সদস্য। ৫ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আদালতে দায়িত্বরত আইনজীবী রিচার্ড পিটারস জানান, এর মধ্যে তাঁর জামিনের কোনো আবেদন হচ্ছে না। তাঁর নাম গোপন রাখারও কোনো আবেদন ছিল না।

তবে বিচারক পল কেলার হামলাকারী ব্রেনটনের ছবি তোলা ও ফুটেজ নেওয়ার অনুমতি দিলেও তিনি বিচার সম্পর্কিত অধিকার বজায় রাখতে ব্রেনটনের ছবি প্রকাশের সময় মুখ ঝাপসা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

অভিযোগে ব্রেনটনের কোনো পেশার কথা উল্লেখ করা হয়নি। আদালত কক্ষে সাধারণ লোকজনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৪৯ জনকে হত্যা করেন ট্যারেন্ট, আহত হন আরও ৪৮ জন। নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন।

দুপরে প্রথম হামলাটি হয় ক্রাইস্টচার্চের ডিনস এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদে। সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হামলাকারী গাড়ি চালিয়ে মাইল তিনেক দূরের লিনউড মসজিদে যায় এবং একই কায়দায় গুলি শুরু করে।

নিউ জিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড় আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন।

একটি মসজিদে হামলার পুরো ঘটনা হেলমেটে লাগানো ক্যামেরায় ইন্টারনেটে সরাসরি সম্প্রচার করে হামলাকারী। হামলাকারী এ হত্যাযজ্ঞের পুরো ঘটনা ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন, ইন্টারনেটে ছড়িয়েছেন বর্ণবাদী, অভিবাসী বিদ্বেষী, উগ্র ডানপন্থি বার্তা।

হামলা চালানোর আগে ট্যারেন্ট তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ৭৩ পৃষ্ঠার একটি কথিত ‘ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করেন। হামলার উদ্দেশ্য ও নিজের পরিকল্পনার বিষয়ে সেখানে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন তিনি।

উৎসঃ ‌শীর্ষ কাগজ

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলাকারী ব্রেনটন ট্যারেন্ট সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ব্লাক সান’ এর সদস্য

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে শুক্রবার (১৫ মার্চ) জুম্মার নামাজের সময় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নব্য নাৎসিবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ব্লাক সান’ জড়িত বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রেন্টন টারান্ট নামের ওই হামলাকারী কুখ্যাত ব্লাক সানের সদস্য। হামলার আগে টুইটারে তার প্রকাশিত এক ইশতেহারে ব্লাক সানের সঙ্গে তার সম্পর্ক পরিষ্কার করেন। টুইটারে তিনি ৮৭ পৃষ্ঠার একটি ইশতেহার দিয়েছিলেন। যেখানে হামলার পূর্বাভাসও দেয়া হয়েছিল।

২০১১ সালে নরওয়েতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা থেকে ব্রেন্টন টারান্ট অনুপ্রাণিত হয়েছেন বলে টুইটে দাবি করেন। নরওয়েতে সেই ভয়াবহ হামলায় ৭৭ জন নিহত হয়েছিল।

ব্রেন্টন টারান্ট টুইটারে যে ইশতেহার প্রকাশ করেছিলেন তার প্রচ্ছদে ব্লাক সানের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ‘ব্লাক সান’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আবার হইচই শুরু হয়েছে।

ব্লাক সান কী?

জার্মানির উত্তরাঞ্চলে ওয়েলসবার্গ নামক দুর্গ নির্মাণ হয় ১৬০৩ সালে। ১৬০৯ সালে সেটি উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন শাসকের দুর্গপ্রাসাদ হিসেবে এটি ব্যবহার হতো। জার্মান শাসক হিটলারের সময় থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এই দুর্গটি হিটলারের বাহিনীর (এসএস) জেনারেলদের জন্য ব্যবহার হতো।

ওয়েলসবার্গ দুর্গের মেঝেতে ১৯৩৩ সালে হিটলারের সময়ে একটি লোগো স্থাপন করা হয়। লোগোতে কালো গোলাকৃতির মধ্যে ১২টি সাদা রঙের ফাঁকা অংশ রয়েছে। তৎকালীন জার্মানিতে হিটলারের পরে দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল হেনরিক হিমলারের নেতৃত্বে এই লোগোটি বসানো হয়, যা দেখতে অনেকটা চাকার মতো। লোগোটি নাৎসি বাহিনীর দলীয় লোগোর সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ব্লাক সান ওয়েলসবার্গের ওই চিহ্নটিই তাদের লোগো হিসেবে ব্যবহার করছে।

হেনরিক হিমলার ওই দুর্গটির ডিজাইনও পরিবর্তন করেন। পরিবর্তিত ডিজাইনেই পরে লোগোটি স্থাপন করা হয়। এটিকেই মূলত ব্লাক সান বলা হয়। তৎকালীন ব্লাক সানের অনুসারীরাই বর্তমান ব্লাক সান নামক সংগঠন পরিচালনা করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনটিকে নব্য নাৎসিবাদীদের সংগঠন হিসেবে সজ্ঞায়িত করা হয়ে থাকে।

১৯৯১ সালে লেখক রাসেল ম্যাক ক্লাউড এ বিষয়ে একটি বই প্রকাশ করেন। তার ‘জার্মান দ্য ব্লাক সান অব তাসি লুনপো’ নমের বইটিতে ব্লাক সানের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রথম লিখিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। ওই সময় বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। খ্যাতিমান লেখক নিকোলাস গডরিক ক্লার্ক বইটিকে ‘অকাল্ট নাৎসি থ্রিলার’ হিসেবে সজ্ঞায়িত করেন।

নাৎসিবাদীরা ব্লাক সান লোগো নিজেদের ঐতিহাসিক আদর্শের প্রতীক বলে মনে করে। হিটলারের আদর্শ থেকেই তারা নিজেদের সংগঠনের নাম দেয় ব্লাক সান। সংগঠনের লোগো হিসেবেও ব্লাক সান ব্যবহার করে।

তবে তাদের এই সংগঠন কবে কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা জানা যায় না। সম্পূর্ণ গোপন এই সংগঠন বিশ্বজুড়ে হিটলারের আদর্শের অনুসারীদের নিয়ে কাজ করে।

উৎসঃ শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলা নিয়ে বিশ্বের মুসলিম নেতারা যা বললেন

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৪৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে মুসলিম বিশ্ব। মুসলিমবিদ্বেষ ও অভিবাসীদের প্রতি ঘৃণা থেকে জন্ম এ হামলায় বিশ্বজুড়ে ঘৃণা, ভয়, ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার ওই হামলার আগে টুইটারে ইসলামফোবিয়া ও মুসলিমবিদ্বেষী নানা বক্তব্যে ইশতেহার প্রকাশ করে ভয়ংকর সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট। বিভিন্ন দেশের মুসলিম নেতাদের বক্তব্য ও বিবৃতিতে ফুটে উঠেছে সেই ক্ষোভ। শুক্রবারের ওই হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই এর কড়া নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে গণহত্যার শিকার হচ্ছে মুসলিমরা। কিন্তু মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা গুরুত্বহীনভাবে বিবেচনা করছে বিশ্ব। মুসলমানদের যে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করার ঘটনা ঘটত, সেটা ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সীমান্ত ছাড়িয়ে গণহত্যায় রূপ নিয়েছে।’

হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এটাকে ইসলামফোবিয়ার ফল অভিহিত করে ইমরান খান বলেন, সন্ত্রাসবাদ কখনও ধর্ম হতে পারে না। নিহত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আল আজহার মসজিদের প্রধান ইমাম শেখ আহমেদ আল-তায়েব লোমহর্ষক এই গণহত্যার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। বলেছেন, লোমহর্ষক এই সন্ত্রাসী হামলা দেশে দেশে ক্রমবর্ধিষ্ণু ইসলামফোবিয়া, মুসলিম বিদ্বেষের কথা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ আশা করছেন নিউজিল্যান্ড শিগগিরই এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করবে এবং আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

মালয়েশিয়ার বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দল ক্ষমতাসীন জোট পাকাতান হারাপানের নেতা খ্যাতনামা নেতা আনোয়ার ইবরাহিম আলজাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চ সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে মালয়েশীয়দের হৃদয়। বিশ্ব মানবতা ও শান্তির জন্য এটাকে এক ট্র্যাজেডি হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

গুলি করে নিরীহ মানুষকে হত্যার ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেছেন, ‘আমরা এই ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।’

এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বলেছেন, ‘ইন্দোনেশিয়া সরকার হত্যার শিকার ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে।’ এ হামলার সময় আল নূর মসজিদের ভেতরে ছয় ইন্দোনেশীয় মুসল্লি ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ক্রাইস্টচার্চ হামলা: জীবন বাজি রেখে হামলাকারীর বন্দুক কেড়ে নেয়ার চেষ্টায় হিরো নাইম রশিদ

নাইম রশিদ। নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হত্যাযজ্ঞের সময় তিনি নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকান নি। হামলাকারী যখন নির্বিচারে মুসল্লিদের গুলি করে হত্যা করছিল পাখির মতো, তখন তিনি দেখিয়েছেন অসীম সাহসিকতা। জাপটে ধরে হামলাকারীর বন্দুক কেড়ে নেয়ার জন্য ধস্তাধস্তি করেন। ততক্ষণে লাশের সারিতে যোগ হয়েছে তারই ছেলে তালহা (২১)-এর দেহ। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে, নিজেকে শক্ত করে, জীবন বাজি রেখে তিনি লড়াই চালিয়ে যান হামলাকারীর সঙ্গে। তা না হলে নিহতের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি হতে পারতো। যে নাইম রশিদ নিজের জীবন বাজি রাখলেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, মুসলিম ভাইদের রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত তিনিই বাঁচতে পারলেন না।

তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলো। কিন্তু সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তাই বিশ্ব মিডিয়া তাকে হিরো বা নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তার ছবি দিয়ে আলাদা রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে গিয়েছিলেন নাইম রশিদ ও তার ছেলে তালহা। মসজিদ তখন কানায় কানায় পূর্ণ। অকস্মাৎ সেখানে সিনেমার ভিলেনদের মতো এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট (২৮)। নাইম রশিদের চোখের সামনে লুটিয়ে পড়তে থাকে মুসল্লি ভাইদের দেহ। রক্তে ভেসে যেতে থাকে মসজিদের মেঝে। চারদিকে আর্ত চিৎকার। দিকভ্রান্ত মানুষ। ছুটাছুটি করছে। তার সামনে লুটিয়ে পড়ছেন মানুষ। তার মধ্যে রয়েছেন তার ২১ বছর বয়সী ছেলে তালহাও। একজন পিতা হিসেবে সেই দৃশ্য তার হৃদয়ে যে কম্পন তোলার কথা, যে ঝড়ে তার ভেঙে পড়ার কথা, তিনি তার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন। নিজেকে স্থির করলেন। অস্ট্রেলিয়ান হামলাকারী ব্রেনটন টেরেন্টের কাছ থেকে তার অস্ত্র কেড়ে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলেন। এই ধস্তাধস্তিতে যে সময়টা লেগেছে তার মধ্যে অনেক মুসলিম মসজিদ থেকে বেরিয়ে যেতে পেরেছেন। তা না হলে আরও কি ভয়াবহতা ঘটতে পারতো তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। তাই তিনি হয়ে উঠেছেন হিরো।

লন্ডনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ লিখেছে, নামাজ আদায় করতে যাওয়া ভাইদের রক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লেন রশিদ। তিনি হামলাকারী ব্রেনটনের অস্ত্র কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন রশিদ। এক পর্যায়ে হামলাকারী মসজিদ থেকে বেরিয়ে পালায়। সঙ্গে সঙ্গে অন্য মুসলিমরা রশিদকে উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে যান হাসপাতালে। কিন্তু যিনি অন্য মুসলিমদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনকে বাজি ধরলেন, তিনিই বাঁচতে পারলেন না। শুক্রবার রাতের শেষভাগে তিনি মারা যান।

নাইম রশিদের বাড়ি পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে। পাকিস্তানে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন। কিন্তু একজন শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেয়ে যান নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। সেখানে গিয়ে জীবনযাপন শুরু করেন।

পাকিস্তানের এআরওয়াই নিউজকে ড. খুরশিদ আলম নিশ্চিত করেছেন নিহত নাইম রশিদ তার ভাই। তাকে ও তার ভাজিতা তালহাকে শুক্রবারের নৃশংস হামলায় হত্যা করা হয়েছে। এর আগে ওয়েলিংটনে পাকিস্তানের হাই কমিশন নিশ্চিত করেছে, হামলায় ৪ জন পাকিস্তানি আহত হয়েছেন। ৫ জন রয়েছেন নিখোঁজ।

হামলার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ মাজহারুদ্দিন। তিনি বলেছেন, আরেকজন মানুষ কিভাবে হামলাকারীকে মোকাবিলা করেছিলেন এবং তার একটি অস্ত্র কেড়ে নিয়েছিলেন। এ ঘটনা ঘটেছিল লিনউড মসজিদে। সেখানে তিনি দেখতে পান হামলাকারী প্রতিরক্ষামূলক ‘গিয়ার’ পরে আছে। মাতালের মতো গুলি ছুড়ছিল সে। তারপরই তাকে মোকাবিলা করতে একজন যুবক উদ্যোগ নেন। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে তিনি বলেছেন, ওই যুবক সুযোগ বুঝে হামলাকারীকে পাকড়াও করে ধরে এবং তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র কেড়ে নেয়। তারপরই ওই যুবক মসজিদে থাকা মুসল্লিদের সুরক্ষা দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি জানতেন না কিভাবে অস্ত্র চালাতে হয়।

ওই যুবককেও হিরো হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মাজহারুদ্দিন। তিনি বলেছেন, ওই ‘হিরো’ বন্দুক চালানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি বন্দুকের ট্রিগার খুঁজে পান নি। এ সময় হামলাকারীকে ধরতে পিছন থেকে দৌড়াতে থাকেন ওই ‘হিরো’। কিন্তু বাইরে তখন একটি গাড়িতে হামলাকারীর সহযোগীরা অপেক্ষা করছিল। হামলাকারী দৌড়ে গিয়ে তাতে উঠে পড়ে এবং পালিয়ে যায়।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‘মুসলমান! আজ তোদের সবাইকে খুন করব’: অস্ত্রধারী খুনি ব্রেনটন ট্যারেন্ট

হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া নাগরিক ব্রেনটন ট্যারেন্ট

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে হামলার সময় সেখানকার ছোট অজুখানায় ছিলেন আনোয়ার আল সালেহ। হাত ধোয়ার সময় হঠাৎ করেই গুলির আওয়াজ শোনেন তিনি। বাইরে প্রচণ্ড চিৎকার। আতঙ্কে ছোটাছুটি করছে মানুষ। এর মধ্যে শুনতে পান হামলাকারী আক্রোশে বলছে, ‘আজ তোদের সবাইকে খুন করব।’

ক্রাইস্টচার্চের স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য প্রেস ও নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ভয়ংকর দুপুরটির চিত্র।

১৯৯৬ সালে ফিলিস্তিন থেকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে এসে বাস করতে শুরু করেন আনোয়ার। শান্ত ছবির মতো এই শহরটিতে কখনো কোনো গন্ডগোলের খবর পাননি তিনি। শান্তিতেই বাস করছিলেন। তবে আজ দুপুরে হঠাৎ গুলির শব্দ যেন তার জগৎকে লন্ডভন্ড করে দেয়। নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানায় এখান থেকে বের হওয়া যাবে না। অজুর ঘরে বসেই জরুরি সেবায় ফোন করেন তিনি। কয়েকবার পুলিশকে ফোন দেন। তবে কাউকেই ফোনে পাননি। শেষে অ্যাম্বুলেন্স–সেবায় ফোন দিয়ে বিপদের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এখানে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড চলছে। দয়া করে সাহায্য করুন। পুলিশ পাঠান, তারা গুলি করেই যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বন্দুকধারী বলছে, মুসলমান তোদের আজ আমরা খুনই করে ফেলব।’

আনোয়ার জানান, গুলি খেয়ে আহত মানুষগুলো বন্দুকধারীর কাছেই বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন। তবে তাঁদের আবারও গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে বন্দুকধারী। তিনি বলেন, ঘটনার ২০ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। মাথার পেছনে হাত বেঁধে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। দেখতে পান অসংখ্য নারী-পুরুষের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। তিনি বলেন, ‘এদের সন্ত্রাসী বললে কম বলা হয়, এরা ঠান্ডা মাথার ভয়ংকর খুনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি জানান, সাত বছর আগে জর্ডান থেকে এখানে আসেন তিনি। শান্তিতে পরিবার নিয়ে বাস করার লক্ষ্যেই এখানে আসা। গোলাগুলির শব্দ শুনে প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, কোথাও বাজি ফুটছে। কারণ শান্ত এই শহরে কখনো এমন হয়নি। ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করে পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে পাঁচিল টপকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছান তিনি। দেখেন পান, সবাই প্রাণভয়ে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। পড়ে আছে নিথর দেহ।

তিনি জানান, নিহত কয়েকজনকে তিনি খুব ভালো করে চেনেন। তাঁদের একজন সিরিয়ান শরণার্থী আছেন, যিনি ছয় মাস আগে পরিবার নিয়ে এখানে এসেছেন। স্ত্রী আর তিনটে ফুটফুটে সন্তান আছে ওই সিরীয় ব্যক্তির। একজন ক্যান্টারবেরি মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক আছেন। জর্ডান থেকে আসা ওই ব্যক্তি সব সময় মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন, সৎ পরামর্শ দিতেন। সাত বছর বয়সী একটা ছেলে আছে তাঁর।

ভয়ংকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সবার জন্যই বেদনাদায়ক দিন। মানুষ মেঝেতে আহত হয়ে পড়ে আছেন। চারদিকে রক্ত। চিৎকার করে কাঁদছেন সাহায্যের আশায়। কিন্তু পুলিশ আমাদের ওখানে যেতে দিচ্ছে না। জায়গাটা এখনো নিরাপদ নয়। আমরা আমাদের ভাইদের জন্য কিছুই করতে পারিনি।’

১৪ বছরের এক কিশোর জানায়, তার চাচাকে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করে বন্দুকধারী। সে বলে, ‘আমরা মাত্র নামাজ আদায় শুরু করেছি, হঠাৎ করেই গুলির শব্দ। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, কোথাও নির্মাণের কাজ হচ্ছে। তখনই দেখলাম মানুষ চিৎকার করে দৌড়াচ্ছে।’

হিরমরটন হাইস্কুলের এই ছাত্র জানায়, তার চাচাসহ পরিচিত ছয়জন নিহত হয়েছেন। কীভাবে সেখান থেকে বের হতে পেরেছ? এমন প্রশ্নে সে বলে, ‘আমি কেবল দৌড়েছি, যত জোরে সম্ভব। কোথাও তাকাইনি। হ্যাগলি পার্কের বেড়া পার হয়ে তবেই থেমেছি।’

আজ স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে মসজিদে নামাজ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে একজন বন্দুকধারী সিজদায় থাকা মুসল্লিদের ওপর গুলি ছোড়ে। হামলাকারীর হাতে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ছিল। হামলা চালিয়ে বন্দুকধারী জানালার কাচ ভেঙে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জন নিহত হয়েছে বলে নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়। গুরুতর আহত হয়েছেন ২০ জন।

উৎসঃ ‌প্রথম আলো

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here