বগুড়ায় নুরের ওপর হামলায় সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ নেতাদের যারা নেতৃত্বে ছিল

0
707
বাম থেকে— নাইমুর রাজ্জাক তিতাস, তাকবির ইসলাম খান, মো. মুকুল ইসলাম এবং আব্দুর রউফ

বগুড়ায় ভিপি নুর সহ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নেতাদের উপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ও হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের নাম ঘোষণা করে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। তবে হামলার বিষয়ে শিবিরের উপর দোষ চাপাচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগ।

হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— জেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবির ইসলাম খান, প্রচার সম্পাদক মো. মুকুল ইসলাম এবং বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ।

হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোববার বিকালে ভিপি নুর সহ অন্যান্যরা উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিলেন। এসময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পাবলিক লাইব্রেরির মূল ফটক দিয়ে ঢুকে অতর্কিতভাবে তাদের উপর হামলা চালায়। প্রথমে জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ‍মো. মুকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবির ইসলাম খান এবং বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ দাঁড়িয়ে থাকা ভিপি নুর সহ অন্যদের মারধর করতে শুরু করে। এসময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস পাশে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও মারধরে অংশগ্রহণ করে। মারধরের একপর্যায়ে গুরুতর আহত ভিপি নুর মাটিতে লুটে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। এছাড়া ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ যুগ্ম-আহবায়ক ফারুক হাসান, রাতুল, মশিউর সহ আরও কয়েজন আহত হন।

সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বগুড়ায় হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।’ হামলায় জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিচারের আওতায় আনার জন্য আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। একইসঙ্গে দোষীদের বিচার করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে নামার হুশিয়ারি দেয়া হয়।

সমাবেশে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহবায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপির উপর হামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত যত হামলা হয়েছে, তার কোনো বিচার হয়নি। বগুড়ায়ও ফের এমন হামলার ঘটনা ঘটলো।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নিকট আহবান জানাচ্ছি হামলাকারীদের চিহ্নিত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার করার। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তাদের চিহ্নিত করে বিচার করা না হলে ছাত্র সমাজকে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

যুগ্ম আহবায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন বলেন, ‘একের পর এক হামলা হলেও বিচার হচ্ছে। ৩০জুন নুরের উপর হামলারে পর লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো বিচার হয়নি। আরও অনেক হামলার লিখিত দেওয়া হলেও কোন বিচার আমরা পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের বিচার না হওয়ায় তারা হামলা করেই যাচ্ছে। বগুড়ায়ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে। রোজার মাসেও সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। নুর, ফারুকসহ সবাইকে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ভিপির উপর আঘাত করা মানে ঢাবির উপর আঘাত করা। এদের বিচার না হলে ছাত্রসমাজ চুপ করে বসে থাকবে না।’

এদিকে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস ভিপি নুরের উপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, উডবার্ণ পাবলিক গ্রন্থাগারের পাশের অপর একটি অডিটোরিয়ামে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে বিকেলে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে যায়। এসময় হট্টগোলের আওয়াজ পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে দেখি ভিপি নুর শিবিরের ইফতার মাহফিলে যোগ দিচ্ছেন।

তিতাস আরো বলেন, আমরা নুরকে শিবিরের সাথে ইফতার করার কারণ জিজ্ঞেস করলে নুর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এসময় তাদের সাথে আমার কর্মীদের সামান্য ধস্তাধস্তি হয়েছে। তাদের উপর হামলার খবরটি ভুয়া বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, বগুড়ার মাটিতে স্বাধীনতাবিরোধী কোন চক্রের স্থান হবে না। শিবিরের সাথে ইফতার মাহফিল করার কোন প্রমাণ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন ছবি আমাদের কাছে নেই। এছাড়া বেসরকারি টিভি চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের ফটোগ্রাফারকে মারধরের অভিযোগের বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন তিনি।

উৎসঃ ‌‌ দি ডেইলি ক্যাম্পাস

আরও পড়ুনঃ ‌রমজান মাসে কি সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ কুত্তা পাগল হয়ে গেছে!

ভোট ডাকাতির ডাকসু নির্বাচনের বৈধতা পাওয়ার জন্যই মূলত সরকারের চাপে রাতের আধারে ফলাফল পরিবর্তন করে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজোয়ানুল হক শোভনকে বাদ দিয়ে নুরুল হক নুরকে ভিপি ঘোষণা করেছিলেন ঢাবি ভিসি ড. আখতারুজ্জামান।

নুরকে ধরে ছাত্রলীগ সভাপতির কোলাকুলি ও গণভবনে ডেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিনন্দন জানানো ছিল একটি বড় ধরণের প্রতারণা। এসব ছিল শুধুই মানুষ দেখানোর জন্য। মন থেকে তারা নুরকে ভিপি হিসেবে মেনে নেয়নি। শুধু ভোটডাকাতি চাপা দিতেই একটা কৌশল নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যা প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে। ডাকসুতে কর্মচারী নিয়োগসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত ভিপিকে ছাড়াই গ্রহণ জিএস ও ছাত্রলীগ সেক্রেটারি গোলাম রাব্বানি। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ডাকসুর গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু ভিপি নুরকে কিছুই জানাচ্ছেন না। ভিপি নুর এখন ডাকসুতে খেলার পুতুল মাত্র।

লক্ষণীয় বিষয় হলো-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নির্বাচিত ভিপিকে তারা এখন কোথায় সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। এমনকি পবিত্র রমজান মাসে ইফতার মাহফিলও করতে দিচ্ছে না। শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ভিপি নুরকে ইফতার মাহফিল করতে দেয়নি ছাত্রলীগ। ওই খানে তারা নুরের ওপর হামলা করারও চেষ্টা করেছে। পরে পুলিশ এসে নুরসহ তার সকল সঙ্গীদেরকে উদ্ধার করেছে।

এরপর, নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে বগুড়ায়। রোববার সাধারণ ছাত্র পরিষদের একটি ইফতার মাহফিল ছিল বগুড়ায়। ইফতারে অংশ নিতে বগুড়ায় গিয়েছিলেন ভিপি নুরসহ আরও কয়েকজন। কিন্তু ইফতারে যোগদানের আগেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের এই নৃশংস হামলায় নুরসহ কমপক্ষে ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পবিত্র রমজানের এই ইফতারে হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

দেখা গেছে, এই রমজান মাস আসার পরই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কুত্তার মতো পাগল হয়ে গেছে। রমজানের শুরুতেই তারা পদবাণিজ্য নিয়ে তাদেরই নেতাকর্মীদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে।

শুধু এখানেই শেষ নয়। এই রমজান মাসেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। গত সপ্তাহে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দেন ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস আহমদ লেলিন। কুপ্রস্তাবে গৃহবধূ রাজি না হওয়ায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে ওই ছাত্রলীগ নেতা।

এরপর, কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় নিজেদের দুই কর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছে ছাত্রলীগের অপর একটি গ্রুপ। এছাড়া চাদা না দেয়ায় সাতক্ষীরার কলারোয়ায় এক ব্যবসায়ীর হাতের চার আঙুল কেটে নিয়েছে এক ছাত্রলীগ নেতা।

পবিত্র এই রমজান মাসেও তারা একের পর এক হামলা-নির্যাতন, চুরি-ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।

ছাত্রলীগের এসব কর্মকা- নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন-কুত্তা পাগল হয় ভাদ্র মাসে আর ছাত্রলীগ পাগল হয় রমজান মাসে।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেমের যত কুকীর্তি

ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। কিছু দিন আগেই নুসরাত হত্যাকাণ্ড ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে তাকে । গতকাল তার বিরুদ্ধে করা নুসরাত জাহান রাফি হত্যায় সব অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নুসরাত হত্যার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও ফুটেজ। যেখানে দেখা গেছে, থানায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ওসি মোয়াজ্জেমের সামনে আতংকিত অবস্থায় কথা বলছেন নুসরাত জাহান রাফি। রাফির এসব আকুতির কোনোটিই আমলে না নিয়ে ওসি মোয়াজ্জেম উল্টো তার ভিডিও ধারণ করে তাকে হয়রানি করছেন।

এ ভিডিও প্রকাশের পর সারা দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় ওঠে। এরপর নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

শুধু কি নুসরাত হত্যা! অতীতে কেমন ছিলেন এই ওসি? গণমাধ্যমে বেরিয়ে আসছে ওসি মোয়াজ্জেমের একের পর এক কুকীর্তির ঘটনা।

অ্যানালাইসিস বিডির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওসি পদে যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই টাকার পেছনে ছুটেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। এর জন্য দায়িত্বে অবহেলাসহ নিজের মহান পেশাকে কলঙ্কিত করতেও দ্বিধাবোধ করেননি তিনি।

অনুসন্ধান বলছে, ঘুষ কেলেঙ্কারি, স্বর্ণচুরি, ভুয়া মামলা দিয়ে অর্থ আদায়, স্কুলছাত্রের ওপর নির্যাতন, নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর হামলা, ব্যবসায়ীসহ মুচি-কামার-কুমার থেকে চাঁদাবাজির হাজারো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অপকর্ম চালাতো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক প্রভাবশালী নেতার বদৌলতে।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানুষকে হয়রানির অভিযোগ। সোনাগাজীতে এসেও একই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় ওসি পদে যোগ দেন মোয়াজ্জেম। সেখানে ব্যাপক ধড়পাকড় ও টাকা নিয়ে আসামী ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার ওপর। এমন অভিযোগের পর তাকে কুমিল্লা জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়। সে সময় আওয়ামী লীগের কুমিল্লা (উত্তর) জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোয়াজ্জেম হোসেনকে মুরাদনগর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

এর কিছুদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন তদবির করে মুরাদনগর উপজেলার নতুন থানা ভাঙ্গুরা বাজার থানায় ওসি পদে যোগদান করেন। সেখানে গিয়ে তিনি আবারও অসৎ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সে সময় ওসি মোয়াজ্জেম ভাঙ্গুরায় সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির মাধ্যমে অর্থ আদায় করতেন।

এভাবে ওসি মোয়াজ্জেম ভাঙ্গুরার আকুপুর ইউনিয়নের বলিগড় গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে ৬৪টি মিথ্যা মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গুরায় মোয়াজ্জেম দায়িত্বে থাকাকালীন এক প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের ঘটনায় আটক হন এক স্থানীয় প্রভাবশালী। কিন্তু পরে সেই প্রভাবশালীকে ছেড়ে দেয়া হয়। অভিযোগ, মোয়াজ্জেম মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি দফারফা করেন।

এরপর ঘটনাটি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলে বিষয়টি উচ্চ আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়। উচ্চ আদালত ওসি মোয়াজ্জেম ভাঙ্গুরা থানা থেকে সরিয়ে নিয়ে ফের ফেনী জেলার একটি থানায় ওসির দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশ দেয়।

প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশের এমন মহান, পেশায় বারবার এতোসব কুকীর্তি করে কীভাবে বহাল তবিয়তে টিকেছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম?

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মোয়াজ্জেম নিজেকে বরাবরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক প্রভাবশালী নেতার ভাগ্নে বলে পরিচয় দিয়ে কার্যসিদ্ধি করতেন।

যে কারণে দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন পুলিশ লাইনসে গিয়েও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাপক তদবিরের মাধ্যমে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ফেনীর সোনাগাজী থানায় সর্বশেষ পোস্টিং নিয়েছিলেন। এখানে এসেই অধ্যক্ষ সিরাজউদৌলার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে তার।

জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে ৩২টি স্বর্ণের বারসহ ফটিকছড়ির মোর্শেদকে আটক করে ওসি মোয়াজ্জেম। ১২টি স্বর্ণের বার জব্দ তালিকায় দেখিয়ে ২০টি বার আত্মসাত করার চেষ্টা চালান তিনি। পরে ওই ঘটনা পুলিশ প্রশাসনের তোলপাড় শুরু হয়। ওসি মোয়াজ্জেম স্বর্ণ চুরির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

এরপর সেপ্টেম্বর পশ্চিম দেবপুরে বোমা বিস্ফোরনে শিশু আলম আহতের ঘটনায় উল্টো তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ‍দিয়ে নিরীহ শিশুর পরিবারকে হয়রানি করে। যা পত্রিকায় প্রকাশের পুলিশ সুপারের নজরে পড়লে তার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল হক সরেজমিন তদন্ত করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে। একপর্যায়ে আহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে দেয়া মামলা নিতে বাধ্য হয় ওসি।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌কৃষকের সাথে সরকারের তামাশাঃ লটারিতে কৃষক বাছাই করে ধান ক্রয়!

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সরাসরি ধান কিনতে কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে লটারি করা হয়েছে। সরকারের বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য সাড়ে ৫ হাজারের বেশি আগ্রহী কৃষক থেকে ৪৫১ জনকে বাছাই করে তালিকা চূড়ান্ত করতে এই লটারি করা হয়।

রোববার (২৬ মে) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সময় ধরে উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম মাগফুরুল হাসান অব্বাসীর উপস্থিতিতে তার অফিস কক্ষে এ লটারি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন ও শাহানারা বেগম মীরা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অমূল্য কুমার সরকার, কৃষি দপ্তরের উপ-সহকারি উদ্ভিদ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ মণ্ডল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম মাহমুদুর রহমান রোজেন ও কৃষক প্রতিনিধি ইকরামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অমূল্য কুমার সরকার জানান, এই উপজেলায় ৪৫১ মে. টন ধান সংগ্রহ করা হবে। উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ মে. টন করে ধান কেনা হবে। এ জন্য আবাদকৃত জমির ওপর ভিত্তি উপজেলার ১০ ইউনিয়ন থেকে সর্বনিম্ন ৩২ জন এবং সর্বোচ্চ ৬৪ জন করে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদার রহমান জানান, উপজেলায় এবার ৭০ হাজারের মতো কৃষক প্রায় ১৬ হাজারের মতো কৃষক বোরো আবাদ করেছেন। এ জন্য মাইকিং করে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য আগ্রহী কৃষকদের নাম গত বৃহস্পতিবার ( ২৩ মে) পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়। এতে ৫ হাজার ৬০০ জন কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের তালিকা করে শনিবার (২৫ মে) উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেই তালিকা থেকে লটারি করে ৪৫১ জন কৃষকের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌সময় টিভি/strong>

আরও পড়ুনঃ ‌হাসিমুখে যানজট মেনে নিতে ঢাবি উপাচার্য আখতারুজ্জামানের পরামর্শ

রাজধানীর যানজটকে উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ আখ্যায়িত করে হাসিমুখে তা মেনে নিতে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান।

রোববার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু পরিষদের ইফতার অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

ঢাবি উপাচার্য বলেন, আজকের বাংলাদেশ যে অবস্থানে আছে, আজকে আপনি রাস্তায় আসলে যে এক দুই- ঘণ্টা আপনার দেরি হচ্ছে, এগুলো হচ্ছে কী জানেন? এগুলো হল চীন-জাপান আজকের যে অবস্থানে এসেছে অথবা ইউরোপ এবং আমেরিকা যে উন্নত বিশ্ব যাদের কথা বলি, তারা যে অবস্থায় আছে, তাদেরও এমন একটি অবস্থান ছিল।

তিনি বলেন, আজকে আমরা যে অবস্থায় আছি তারাও সেই অবস্থায় ছিল। এগুলোকে অর্থনীতির ভাষায় এবং সমাজবিজ্ঞানীর ভাষায় বলা হয়, চ্যালেঞ্জ অব ডেভেলপমেন্ট।

আর এই কারণে এগুলো আমরা হাসিমুখে মেনে নেব বলে জানিয়েছেন আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো কিন্তু এখন মানুষকে বলা দরকার। কেননা এই সুবাদে কিছু কিছু রাজনৈতিক অপশক্তি আছে, কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা একটি অপপ্রয়াস থেকে এই যে মানুষের এতো ভোগান্তি এগুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, আজকে আপনি চীন-জাপানের অবস্থা যদি দেখেন, আজ থেকে ৪০-৫০ বছর পূর্বে, যারা এই দেশগুলোতে গেছেন, আমাদের অনেক মুরুব্বিরা গেছেন, তখন তারা একপ্রকার কথাগুলো বলে থাকেন যে, ওই সময় তাদেরও ভোগান্তির কোনো শেষ থাকে নাই।

‌‘কিন্তু আজকে যখন আমরা সেখানে যাই, মনে হয় যেন আমরা একটা ভিন্ন গ্রহে আসলাম, একটি ভিন্ন জগতে আসলাম,’ বললেন আখতারুজ্জামান।

আওয়ামী লীগ সমর্থক এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বলেন, আমরা কিন্তু সেই ধরনের একটি অবস্থায় পদার্পণ করছি। আমরা একটি লাল কার্পেটে কেবল পা রাখব- সেই অবস্থানে আছি।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেক সভাপতিত্ব করেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর/strong>

আরও পড়ুনঃ ‌ড. কামালের গণ‌ফোরা‌মের ইফতা‌র পার্টিতে অংশ নিয়েছে আওয়ামী লীগ!

জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের অন্যতম জোট শরিক গণফোরামের ইফতার পার্টিতে অংশ নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফ‌ট্যানেন্ট কর্নেল ফারুক খান এতে অংশ নেন।

রবিবার (২৬ মে) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ঈসা খাঁ হোটেলে গণফোরামের পক্ষে দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন এই ইফতারের আয়োজন করেন।

একাদশ নির্বাচনের আগে গত অক্টোবরে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর এই প্রথম কোনও অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি অংশ নিলেন।

ইফতারে বিএনপি নেতা আবদুল আবদুল মঈন খান, ফজলুর রহমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের হাবিবুর রহমান তালুকদার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর শাহ আহমেদ বাদল, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মিলু চৌধুরী প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনও ইফতার পার্টিতে অংশ নেন।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমেদ, আফসারী আমিন আহমেদসহ নেতৃবৃন্দ ইফতারে অংশ নেন।

ইফতারে ফারুক খান বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এই মহতি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগকে দাওয়াত করার জন্য। এখানে আমি আসার আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত এবং স্বাস্থ্যগত কারণে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাকে তার পক্ষ থেকে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের পক্ষে থেকে আপনাদেরকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ আজকের এই ইফতার মাহফিলে আমরা দোয়া করব- মহান সৃষ্টিকর্তা যেন আমাদের সকলকে আরও ভালোভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে এবং দেশের জনগণের জন্য কাজ করার তওফিক দান করেন। সবাইকে রমজানুল মোবারক ও ঈদ মোবারক।’

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে ড. কামাল হোসেন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ইফতারে অংশ নেয়ায় ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌আমি নিহত সাংবাদিক ফাগুন রেজার পিতা বলছি ……

সাংবাদিক হিসাবে আমার চেয়ে কঠিন কাজটি বোধহয় আর কাউকে করতে হয়নি। নিজের সন্তানের মৃত্যু নিয়ে লিখতে হচ্ছে। তাও কোন স্বাভাবিক মৃত্যু নয় খুন হবার কথা। একজন পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ নাকি সবচেয়ে ভারি বোঝা, আমি সে বোঝা বয়েছি। উপরি হিসাবে লিখেছি নিজ প্রাণপ্রিয় সন্তানের মৃত্যু বিষয়ক কলাম।

হ্যাঁ, আমি দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত তরুণ সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুনের পিতা বলছি। সেই ফাগুন, যার বয়স মাত্র একুশ বছর। যে অনার্স পড়ার পাশাপাশি যোগ দেয় সাংবাদিকতায়। যোগ দেয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রিয় ডটকমের ইংরেজি বিভাগে।

ঈদের পর ওর যোগ দেয়ার কথা ছিলো অন্য আরেকটি নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজের ইংরেজি বিভাগে। কিন্তু ওর আর যোগ দেয়া হলো না। চলে গেলো আমাকে ছেড়ে, আমাদের ছেড়ে। চলে গেছে বললে ভুল বলা হবে, তাকে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।

ঢাকা থেকে ট্রেনে বাড়ি আসার পথে জামালপুরের নান্দিনায় নির্মমভাবে হত্যা করে রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয়েছিলো ফাগুনকে। গত ২১ মে’র ঘটনা এটা। কিন্তু এখনো সেই হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। গ্রেপ্তার হয়নি খুনিদের কেউ।

আমার ছেলে তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলো, I’d rather die like a man, than live like a coward….। সে কাওয়ার্ড হিসাবে হয়তো বাঁচতে চায়নি। কারণ সে তার স্বল্প সময়ের সাংবাদিকতার জীবনে কখনো আপোষ করেনি।

বাচ্চা একটি ছেলেকে প্রলোভন দেখানো হয়েছিলো একটি খবরের ব্যাপারে। বলা হয়েছিলো, খবরটি নামিয়ে দিতে। সে নামিয়ে নেয়নি খবরটি। অবলীলায় লোভনীয় সে প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করেছিলো ফাগুন। তারপর তাকে শাসানো হয়েছিলো দেখে নেবার। তাতেও সে ভয় পায়নি, কারণ সে কাওয়ার্ড হিসাবে বেঁচে থাকতে চায়নি।

অথচ ওর বয়েসি কেনো, অনেক ধাড়ি’রই ওই লোভ সামলানো সম্ভব নয়। হ্যাঁ, আমি এমনি এক সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুনের বাবা। শোকে ভেঙে পড়া একজন মানুষ, সঙ্গে গর্বিতও। গর্বিত এই ভেবে যে, আমার শিক্ষাটা বৃথা যায়নি। ফাগুন তাঁর ক্ষুদ্র জীবনে যতদিন বেঁচেছে মানুষের মতন বেঁচেছে, কাপুরুষের মতন নয়। এখন আসি এমন মৃত্যুর ব্যাপারে। আমার ছেলেতো চলে গিয়েছে। জানি, সে আর ফিরবে না। কিন্তু ওর বয়সই অন্যরাতো রয়েছে। ওর বয়সই অসংখ্য ছেলেমেয়ে ঘুরে বেড়ায় চোখের সমুখে। ওর বন্ধুরা ঘুরে বেড়ায়, ওদের দেখলে আমার ফাগুনের কথা মনে হয়।

মনে হয়, ওরা নিরাপদ তো। মাসকাওয়াথ আহসান লিখেছেন, ‘মৃত্যু উপত্যকায় ফাগুনের মৃতদেহ’। সত্যিই, দেশটা ক্রমেই মৃত্যু উপত্যকা হয়ে উঠছে। প্রতিদিন মৃত্যু, নিখোঁজ, খুন এসব শুনতে শুনতে আমরা ক্রমেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি!

কিন্তু এই অভ্যস্ততা আমাদেরও কি ক্রমেই অমানুষ করে তুলছে না! এই যে মুখ নিচু করে থাকার সংস্কৃতি চালু হয়েছে, তাতে কি হন্তারকদেরই আস্কারা দেয়া হচ্ছে না? তাদের আরেকটা হত্যার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে না?

আমরা কি বসে আছি আরেকটি লাশ বুকে তুলে নেয়ার জন্য? আমাদের মতন আরও দুর্ভাগা বাবা-মা’র ভেঙে যাওয়া বুক আর ভেসে যাওয়া চোখ দেখার জন্য? এই প্রশ্নটা অত্যন্ত জরুরি আমাদের বেঁচে থাকা সন্তানদের জন্য, আর আমাদের ক্রমে মরে যাওয়া দেশটার জন্য। অনেকে বলেন, এমন অনিরাপদ পরিবেশে আপনার ছেলেকে কেনো সাংবাদিকতায় দিলেন। জানি, তাদের এই বলা আমার ভালোর জন্যই। কিন্তু আমরা সবাই যদি ভয়ের সংস্কৃতি, কথা না বলার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি তাহলে ভয় আমাদের ওপর জেঁকে বসবে।

আতংক আমাদের কুড়ে কুড়ে খাবে, আমরা মরার আগেই মরে যাবো। তবে কি মরার আগে মরে যাবার জন্যই আমাদের দেশটা স্বাধীন হয়েছিল, মানুষ রক্ত দিয়েছিলো?

পুনশ্চ: আমার নিজের সাংবাদিকতার জীবনে কখনো আপোষ করিনি। অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ায়নি। সঙ্গে অযথা কারোর ক্ষতিরও কারণ হইনি। যদি আপোষ করতাম তাহলে হয়তো এখন অনেক বড় জায়গায় থাকতাম, যেখানে বসে আছেন অনেক ‘হোমড়া-চোমড়া’রা।

যাদের চোখে ফাগুন রেজা’র মতন একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ড চোখে পড়ে না, যারা একজন সাংবাদিকের সন্তানের হত্যাকাণ্ডে গা করেন না, তাদের কান-মাথা নড়ে না।

তাদের বলি, ফাগুন হঠাৎ করেই সাংবাদিকতায় আসেনি, সে সাংবাদিক প্রজন্মের চতুর্থ পুরুষ। তার বাবা, দাদা, নানা, তারও পূর্বপুরুষ সাংবাদিকতায় ছিলেন। সে উড়ে এসে জুড়ে বসা কোনো উড়ো খই নয়। কেউ যদি ভেবে থাকেন, ফাগুন রেজা’র মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার আদর্শ খই হয়ে উড়ে যাবে, তাহলে ভুল ভেবেছেন। আদর্শ কখনো মরে না, মানুষ মরে যেতে পারে।

লেখক: ‌‌ কাকন রেজা, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুনঃ ‌সংবাদ প্রকাশের কারণেই কি খুন হলেন সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন?

জামালপুরের রেল লাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় তার লাশ। তরুণ সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুনের এমন মৃত্যু নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। কী কারণে হত্যা করা হলো তাকে?

মঙ্গলবার রাতে ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন নামের তরুণ সাংবাদিকের লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে থানা পুলিশ। ফাগুন অনলাইন নিউজপোর্টাল প্রিয় ডটকমে কাজ করতেন। রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন তিনি। তার বাবা কাকন রেজা এনটিভির শেরপুর জেলা প্রতিনিধি।

ফাগুনের মাথায় আঘাতের চিহ্ন এবং গলা ফোলা ছিল। তা থেকে পুলিশের ধারণা, তাকে হয়ত গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে রেললাইনের পাশে ফাঁকা জায়গায় একটি ছেলেকে পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে আসেন গ্রামবাসী। তখনও দেহে প্রাণ ছিল। গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে মাথায় পানিও দিয়েছে। কিন্তু বেশিক্ষণ বাঁচিয়ে রাখা যায়নি। মৃত্যুর আগে কিছু বলেও যেতে পারেনি ফাগুন। মাথায় আঘাতের কারণে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে মৃত্যু সেই রক্তক্ষরণের কারণেই হয়েছে, নাকি গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে, সেটি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।

প্রিয় ডটকম ছেড়ে ঈদের পরই জাগো নিউজে যোগদানের কথা ছিল ফাগুনের। মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় এসে জাগো নিউজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে চাকরি চূড়ান্ত করেছেন তিনি। ওই দিনই ট্রেনে করে গ্রামের বাড়ি শেরপুরে যাচ্ছিলেন। পথের মধ্যে মিলল তার লাশ। শুক্রবার এই ঘটনায় জামালপুর থানায় একটি হত্যা-মামলা হয়েছে। কাকন রেজার দুই ছেলের মধ্যে ফাগুন ছিল বড়। নিজের বড় ছেলে মেধাবী ও বিনয়ী ছিল বলে জানান কাকন রেজা।

মৃত্যুর নেপথ্যে কি সেই সংবাদ?
ফাগুনের বাবা কাকন রেজা বলেন, ‘‘প্রিয় ডটকমের ইংরেজি বিভাগে কাজ করত ফাগুন। মাঝে মধ্যে বাংলায়ও রিপোর্ট লিখত, যদিও তার পদবী ছিল সহ-সম্পাদক। কিছুদিন আগে একটি ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে সংবাদ লিখেছিল ফাগুন। ওই সংবাদের পর ডেভেলপার কোম্পানি তাকে হুমকি দিয়েছিল। এমনকি আপোষের প্রস্তাবও দিয়েছিল। ফাগুনকে নেপাল ভ্রমণের খরচ ও একটি আইফোন টেন কিনে দিতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফাগুন সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। পরে প্রিয় ডটকম কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় সমঝোতা হয়। সেখানে ডেভেলপার কোম্পানির এমডি এসে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। এমনিতে ফাগুনের কোনো শত্রু ছিল না। তবে আমার নিজের সাংবাদিকতার কারণে কেউ আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ছেলেকে হত্যা করে থাকতে পারে। কারণ, পারিবারিক কোনো শত্রুতাও ছিল না আমার পরিবারে।’’

কী ছিল সেই রিপোর্টে? ঘটনাটিই বা কী ছিল? জানতে চাইলে প্রিয় ডটকমের সম্পাদক জাকারিয়া স্বপন বলেন, ‘‘ওই ঘটনা তো ৮ থেকে ১০ মাস আগের। ডেভেলপার কোম্পানির মালিক নিজে এসে ক্ষমা চেয়ে গেছেন। পরে আমরা রিপোর্টটি প্রত্যাহার করে নেই। বাংলাদেশে সবকিছুই হতে পারে। তবে ওই নিউজের কারণে এতদিন পর এসে হত্যাকাণ্ড, সেটা ঠিক আমার কেমন যেন লাগছে।

কারণ, ওই রিপোর্টের কারণে ডেভেলপার কোম্পানির কোনো জমি বাতিল হয়নি, তাদের তেমন কোনো ক্ষতিও হয়নি, তাহলে কেন তারা এমন করবে? তারপরও আমি বিষয়টি আরো ভালোভাবে খতিয়ে দেখবো?” কোম্পানিটির নাম জানতে চাইলে স্বপন বলেন, ‘‘যেহেতু ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তাই এই মুহূর্তে আমি তাদের নাম বলতে পারি না। যদি কখনো তাদের সংশ্লিষ্টতা আসে, তাহলে নাম বলবো।’’

কীভাবে ফাগুনের মৃত্যু?
জাগো নিউজে সাক্ষাৎকার দিয়ে মঙ্গলবারই শেরপুরে ফিরছিলেন ফাগুন। বেলা ৪টার দিকে শেরপুরগামী একটি ট্রেনে ওঠেন তিনি। তখনও বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। রাত ৮টায় সর্বশেষ কথা হয়েছে।

তখন তিনি বাবাকে জানান, ময়মনসিংহের কাছাকাছি আছেন। এরপরই ফাগুনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কোনোভাবেই ছেলের সন্ধান পাচ্ছিলেন না কাকন রেজা। বুধবার সকালে তিনি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন। পুলিশ ফাগুনের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে দেখে সর্বশেষ তার অবস্থান ছিল ময়মনসিংহের একটি গ্রামে। কিন্তু ওই জায়গায় ফাগুনের যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। পরে বুধবার সন্ধায় জামালপুরে অজ্ঞাত পরিচয় লাশের সন্ধান পাওয়ার কথা জেনে কাকন রেজা গিয়ে দেখেন সেটি তার ছেলের লাশ।

জামালপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাপস চন্দ্র পণ্ডিত বলেন, ‘‘গ্রামবাসী আমাদের খবর দেয়, জামালপুরের নুরুন্দি এলাকায় রেললাইনের পাশে এক তরুণকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।’’
মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাপস চন্দ্র পণ্ডিত বলেন, ‘‘লাশ দেখে মনে হচ্ছে, কয়েকভাবে তার মৃত্যু হতে পারে। প্রথমত ট্রেন থেকে কেউ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে পারে। অন্য জায়গায় হত্যার পর লাশ নুরুন্দি এলাকায় রেখে যেতে পারে। কারণ ওই এলাকাটি অনেকটাই ফাঁকা। মানুষের চলাচল অনেক কম। আর রাতের বেলায় তো কেউ ওখানে যায়ই না।’’

রেলওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
ফাগুনের বাবা কাকন রেজা অভিযোগ করেছেন, ‘‘মঙ্গলবার রাত ১২টায় লাশ উদ্ধারের পর বুধবার দুপুরের পর থেকেই লাশটি অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে দাফনের চেষ্টা শুরু করে রেলওয়ে থানা পুলিশ। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসটিগেশন (পিবিআই)-র বিরোধিকার কারণে তারা তা করতে পারেনি। তাদের এই তড়িঘড়ি দেখে আমার সন্দেহ হয় এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশের কোনো-না-কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে।’’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি তাপস চন্দ্র পণ্ডিত বলেন, ‘‘বুধবার সকালে জামালপুর সদর হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। আমি নিজে পিবিআইকে ডেকে এনেছি ছেলেটির ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়ার জন্য। কারণ, আমরা যেসব লাশ উদ্ধার করি, তার সবগুলোর ফিঙ্গার প্রিন্ট রেখে দেই, যাতে এনআইডি সার্ভারের সঙ্গে মিলিয়ে পরে দরকার হলে পরিচয় জানা যায়। সব কার্যক্রম শেষে আমরা লাশটি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের কাছে দেওয়ার উদ্যোগ নিই। কারণ, জামালপুর সদর হাসপাতালে লাশ সংরক্ষণের জন্য রেফ্রিজারেটরের কোনো ব্যবস্থা নেই। ২৪ ঘণ্টা গেলে লাশ ফুলে ওঠে, গন্ধ ছড়াতে থাকে। ফলে এভাবেই আমরা কাজটি করি। তারপরও বুধবার সন্ধ্যায় পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে আমি জানতে পারি, শেরপুরের একজন সাংবাদিকের ছেলে মিসিং আছে। তখন তার কাছ থেকে কাকন রেজার নম্বর নিয়ে আমি নিজেই তাকে ফোন করি।

তিনি ভাইবারে আমাকে ছবি পাঠাতে বলেন, আমি সেটাও পাঠিয়েছি। এরপর তিনি নিশ্চিত করেন যে লাশটি তার ছেলে। তিনি এসে লাশ শনাক্ত করেন। তার ছেলের লাশ অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করে আমাদের লাভ কী? বরং আমি নিজে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ছেলের লাশের সন্ধান দিয়েছি।’’

সাংবাদিক হত্যার বিচারে গড়িমসি
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনিসহ এ পর্যন্ত কোনো সাংবাদিক হত্যারই বিচার হয়নি। এই বিচারের ক্ষেত্রে গড়িমসির অভিযোগ অনেক দিনের। একইভাবে তরুণ সাংবাদিক ফাগুনের বিচারও কি পাবে তার পরিবার?

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-র সাধারণ সম্পাদক সাবান মাহমুদ বলেন, ‘‘যুগ যুগ ধরে সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশের কারণে কখনো সরকারের, কখনো প্রভাবশালীদের রক্তচক্ষুর শিকার হয়েছেন। অনেককে জীবন দিতে হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই আমরা সরকারের গাফিলতি দেখেছি। আবার সাংবাদিকদের নেতা হিসেবে আমি বলতে পারি, আমাদের দায়ও কম নয়। আমরা হয়ত সেই ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলতে পারিনি বা সরকারকে বাধ্য করতে পারিনি। তবে যেখানে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, সেখানে সরকার দুর্বল হয়ে পড়ে। গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়।’’

উৎসঃ ‌‌ ডয়চে ভেলে বাংলা dw

আরও পড়ুনঃ ‌আবারও বাংলাদেশ সরকারকে ব্যবহারকারীর গোপন তথ্য দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে আবারও কয়েকজন ব্যবহারকারীর তথ্য দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে বাংলাদেশের ১৫টি পাতা-একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক।

এর আগে গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ১৪৯টি অনুরোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মোট ১৯৫টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা ব্যবহারকারীর তথ্য চাওয়া হয়েছিল।

ফেসবুকের সর্বশেষ ‘ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট’ এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারকে এরি মধ্যে ৪৪ শতাংশ তথ্য দিয়েছে।

এর মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৯টি অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছিল সরকার। আর ১৩০টি অ্যাকাউন্টের বিষয়ে ছিল ‘জরুরি’ অনুরোধ।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাওয়া অনুরোধের ১৬ শতাংশ তথ্য তারা সরকারকে সরবরাহ করেছে। আর সরকারের জরুরি অনুরোধের ক্ষেত্রে ৪৮ শতাংশ তথ্য দিয়েছে।

বরাবরের মতই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের এই প্রতিবেদনে কোন দেশের সরকার কতগুলো কী ধরনের তথ্য চেয়েছে সেই সংখ্যাই কেবল প্রকাশ করেছে। যেসব অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়েছে বা যেসব অ্যাকাউন্টের তথ্য দেওয়া হয়েছে সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি।

কখনও কখনও আইনি প্রক্রিয়া শুরুর জন্য কোনো অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণের অনুরোধেও সাড়া দেয় ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ।

গত জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে এরকম ৩১টি অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণের অনুরোধ পাওয়ার কথা ফেসবুকের ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর নাম বা কনটেন্ট সম্পর্কে কোনো তথ্য ফেসবুকের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংস্থাকে ব্যবহারকারীদের কতোটা তথ্য দিচ্ছে তা বছরে দুই বার প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে ২০১৩ সাল থেকে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের এ ধরনের অনুরোধ ২০১৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমবার ফেসবুকের সাড়া পায়।

তথ্য দেওয়া শুরু করার পর থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সবচেয়ে বেশি অনুরোধ পেয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এক বছরে।

এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মোট ১৫২টি অনুরোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২০৫টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা ব্যবহারকারীর তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ তথ্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সরকারকে দিয়েছে।

ফেসবুকের ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদন বলছে, ব্যবহারকারীদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন দেশের সরকারের তরফ থেকে অনুরোধের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে।

উৎসঃ ‌‌ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বাংলাদেশে নিউজ ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করছে কারা? বিটিআরসি কোন জবাব দিচ্ছে না!

জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকাসহ ৫৮টি পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি

বাংলাদেশে সম্প্রতি দু’টি নিউজ ওয়েবসাইট এবং একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ৫৪ টি নিউজ ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হলেও কারা বন্ধ করছে এবং কী কারণে বন্ধ করছে তা কিছুই জানা যাচ্ছেনা৷ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনও (বিটিআরসি) কোনো জবাব দিতে পারছেনা৷ তাহলে বন্ধ করছে কারা?

গত রবিবার সকাল ১১টার পর থেকে ৯ বছরের পুরনো নিউজ পোর্টাল পরিবর্তনডটকম-এ বাংলাদেশ থেকে অনেকেই ঢুকতে পারছেন না৷ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সুফিয়ান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের ডেমেইন ব্লক করা হয়েছে৷ আমরা এরপর বিটিআরসিসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করে যাচ্ছি, কিন্তু কেউ কোনো সদুত্তর দিচ্ছেন না৷”

সুফিয়ান বলেন, ‘‘তবে, আমরা আমাদের সূত্র থেকে জানতে পেরেছি ‘‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ” নামের একটি সংগঠনের বিজ্ঞাপন নিয়ে আমরা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করায় এই ঘটনাটি ঘটতে পারে৷ বিভিন্ন পত্রিকায় ওই সংগঠনের নামে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপন তাদের নয় বলে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা জানায়৷ আমরা এরপর একটি প্রতিবেদন করি ‘‘তাহলে বিজ্ঞাপনটি কারা দিয়েছে?” শিরোনামে৷”

তিনি বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যজনক হলো, কেন বন্ধ করা হলো, কারা বন্ধ করলেন তাও আমরা জানতে পারছিনা৷ আমাদের কোনো খবরের ব্যাপারে যে কারুর কোনো কথা থাকতে পারে৷ কোনো প্রতিবাদ বা ব্যাখ্যা থাকতে পারে৷ কিন্তু সেসব না জনিয়ে নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া সরাসরি স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ৷ আর এই স্বাধীনতা আমাদের সংবিধান দিয়েছে৷”

সুফিয়ান বলেন, ‘‘ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে করে দেয়ার পর আমরা কর্মীরাও কোনো হয়রানির মুখে পড়ি কিনা সেই আতঙ্কের মধ্যে আছি৷ আর ঈদের আগে আমাদের দেড় শতাধিক কর্মীর বেতন ভাতা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে৷”

বাংলা রিপোর্টও কি নিষিদ্ধ?

এদিকে, গত ২৩ এপ্রিল থেকে আরেকটি নিউজ পোর্টাল বিএনডটবাংলাডটরিপোর্ট-এ বাংলাদেশে প্রবেশ করা যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে৷ তবে, ডয়চে ভেলের কয়েকজন পাঠক ফেসবুকে জানিয়েছেন যে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাইটটিতে প্রবেশ করতে পারছেন৷

বাংলা রিপোর্ট সম্পাদক রফিকুল রঞ্জু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘২১ ও ২২ এপ্রিল সোনারগাঁও হোটেলে বিপিও সামিট হয়৷ টাঙ্গাইল থেকে একজন প্রতিবন্ধী হুইল চেয়ারে করে ওই সামিট-এ যোগ দিতে এসেছিলেন৷ তিনি আইটিনির্ভর কিছু করতে চান৷ সেজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সাথে দেখা করে কথা বলতে চেয়েছিলেন সহযোগিতার জন্য৷ কিন্তু সেটা তিনি পারেননি৷”

তিনি বলেন, ‘‘এই নিয়ে আমরা ২২ এপ্রিল রাত সোয়া ১১টার দিকে ভিডিওসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করি৷ যার শিরোনাম ছিল ‘‘হতাশা নিয়ে ফিরে গেলেন কামরুল”৷ এই সংবাদ প্রকাশের কয়েকঘণ্টা পরই আমাদের পোর্টালটি বন্ধ হয়ে যায়৷ আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি৷ বিটিআরসিসহ সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি৷ কিন্তু কেউই বলতে পারছেন না কারা বন্ধ করেছেন৷”

রঞ্জু বলেন, ‘‘আমরা সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছি৷ তারাও চেষ্টা করেছেন নানা দিক দিয়ে যাতে সাইটটি চালু হয়৷ কিন্তু হয়নি৷”

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমরা কোনো আইন লঙ্ঘন করিনি৷ আমরা সংবিধান ও আইন মেনেই কাজ করছি৷ তারপরেও আমাদের পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া হলো৷ আর কিভাবে কারা দিলো, কেন দিলো তাও বলা হচ্ছেনা৷ আমার দাবি হচ্ছে সরকার ও তথ্যমন্ত্রণালয়ের এই বিষয়গুলো পরিস্কার করা উচিত৷ আমরা অন্ধকারে আছি৷”

তাঁর মতে, বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম, বিশেষ করে অনলাইন চাপের মুখে আছে৷ আর আবু সুফিয়ান বলেন, ‘‘পোর্টালগুলো বন্ধ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে খবর প্রকাশ করলেও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে তেমন গুরুত্ব দিয়ে খবর প্রকাশ হয়না৷ এথেকে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপের বিষয়টি বোঝা যায়৷”

এদিকে, শনিবার বিটিআরসিতে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট কারো বক্তব্য জানা যায়নি৷ তবে ইন্টারন্টে সার্ভিস প্রোভাইডার এসাসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ওই দু’টি নিউজ পোর্টাল বন্ধে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা ছিলনা৷ আমরা বন্ধও করিনি৷ তবে এখন নানাভাবে আমাদের ছাড়াও ওয়েবসাইট বন্ধ করা যায়৷ এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকম্যুনিকেশন মনিটরিং সেন্টার) সবগুলো আইআইজিতে (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) তাদের নিজস্ব মনিটরিং ডিভাইস বসিয়েছে৷ তবে তারা বন্ধ করেছে কিনা তা আমরা বলতে পারবনা৷”

তিনি বলেন, ‘‘আরো কয়েকজন সাংবাদিক এর আগে জানতে চাওয়ায় আমি নিজেও বিটিআরসিতে ফোন করেছিলাম বিষয়টি জানতে৷ আসলে তারাও কিছু জানেনা৷”

‘স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ’

এদিকে, এই পরিস্থিতিকে সাংবাদিক নেতারাও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ বা চাপ হিসেবে দেখছেন৷ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কোনো স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিউজ পোর্টালগুলো বন্ধ করা হয়নি৷ পুরো বিষয়টিই অস্বচ্ছ এবং রহস্যাবৃত৷ এই আমাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বড় ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি করছে৷”

তিনি বলেন, ‘‘সরকার এটার জন্য কতটা দায়ী সেটা বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে আমি বলবো বিষয়গুলো জানার পরে সরকারের ব্যবস্থা নেয়া উচিত৷ কারণ গণতন্ত্রিক সরকারের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি বিষয়৷ যদি কোনো অদৃশ্য কারণে গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে যায় আমরা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি সেটা গণতন্ত্রের জন্য, সরকারের জন্য বা গণমাধ্যমের জন্য কোনো শুভ খবর নয়৷”

তিনি আরো বলেন, ‘‘ঈদের আগে এভাবে গণমাধ্যম বন্ধ হওয়া অমানবিক৷ কোনো অদৃশ্য হাতের ইশারায় যদি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত হয়, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়৷ তবে সংবাদ মাধ্যমকেও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে৷”

উৎসঃ ‌‌ ডয়চে ভেলে বাংলা dw

আরও পড়ুনঃ ‌‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১ হাজার সাংবাদিকের বিবৃতি’

খালেদা জিয়াবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ১ হাজার ১৭ জন সাংবাদিক। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই তার বন্দিত্ব অবসানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হোক।

রবিবার (২৬ মে) ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ের (একাংশ) সভাপতি কাদের গণি চৌধুরীর সই করা বিবৃতিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে সই করা সাংবাদিক বাছির জামাল এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

বিবৃতিতে সাংবাদিকরা বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন। তার স্বাস্থ্যের এমন অবনতি হয়েছে যে তিনি স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত করতে পারছেন না।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অসুস্থ অবস্থায় এক বছরের বেশি সময় আগে তাকে জেলে নেওয়া হয়। এরপর চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তার অসুখের মাত্রা বেড়ে যায়। একপর্যায়ে খালেদা জিয়া নিজেই আদালতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানাতে বাধ্য হন।’

বিবৃতিতে সাংবাদিকরা দাবি করেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে করা মামলাটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। তাছাড়া যে ২ কোটি টাকা নিয়ে মামলা, তার একটি টাকাও নষ্ট হয়নি। ইতোমধ্যে সেই টাকা ব্যাংকে তিন গুণ বেড়ে ৬ কোটির বেশি হয়েছে।

বিবৃতিতে সই করেছেন রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, আমানুল্লাহ, আলমগীর মহিউদ্দিন, আবুল আসাদ, অধ্যাপক আবদুল গফুর, শওকত মাহমুদ, রুহুল আমিন গাজী, ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, কবি আল মুজাহিদী, মোবায়েদুর রহমান, ফজলুর রহমান মুন্সী, মোস্তফা কামাল মজুমদার, সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, কামাল উদ্দিন সবুজ, এম এ আজিজ, এম আবদুল্লাহ, কবি আবদুল হাই শিকদার, এরশাদ মজুমদার, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, আবদুস শহিদ, গোলাম তাহাবুর, ছড়াকার আবু সালেহ, মাশুক চৌধুরী, খায়রুল আনোয়ার মুকুল, বাকের হোসাইন, শহিদুল ইসলাম, সৈয়দ মেজবাহ, কবি হাসান হাফিজ, কবি মাহমুদ শফিক, এ ইউ এম ফখরুদ্দিন, শেহাব উদ্দিন আহমেদ নাফা, চিন্ময় মুৎসুদ্দী, জিয়াউল হক, রীটা রহমান, মাহমুদা চৌধুরী, মমতাজ বিলকিস বানু, রোজী ফেরদৌস, মুন্সী আবদুল মান্নান, কাজী রওনাক হোসেন, নূরুল হুদা, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ইলিয়াস হোসেন, শফিউল আলম দোলন, সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, বদিউল আলম, নূরুল হাসান খান, বখতিয়ার রানা, গোলাম মোস্তফা, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, জাহিদ চৌধুরী, কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, শাহ আহমদ রেজা, ড. আবদুল হাই সিদ্দিক প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ ‌‘আন্দোলন করতে ভয় পান? জেলে রিজিক থাকলে জেল খাটতেই হবে’: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, আন্দোলন করতে ভয় পান? ভয় পেয়ে লাভ কি? আন্দোলন না করেওতো কত মানুষ জেল খেটেছে। ভয় করে লাভ নেই, জেলে রিজিক থাকলে জেল খাটতেই হবে।

২৬ এপ্রিল (রোববার) রাজধানীর বিজয় নগরে হোটেল অর্নেটে ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় লেবার পার্টি কতৃক আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান বলেন, মরণের ভয় করে লাভ নেই, জন্ম যেহেতু হয়েছে মৃত্যু অবশ্যই হবে। কিন্তু সেই মৃত্যু যেন হয় ঈমানী মৃত্যু।

তিনি বলেন, শুধু বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নয় গোটা দেশবাসীর মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বেগম জিয়ার মুক্তি প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, মৃত্যুর ভয় না করে দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা সার্বোভৌমত্ব রক্ষায় জালিমের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে শেষ করা যাবে না মন্তব্য করে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তারা জনগণের সরকার না, কতৃত্ববাদী সরকার। তাই এ সরকারকে আমরা যেভাবে মেনে নিতে পারিনি ঠিক একইভাবে এদেশের জনগণ মেনে নিতে পারেনি। এ সরকারের পতন না হলে দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতির সমাধান হবে না।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, জনগণের এখন গণতন্ত্রের উপর শ্রদ্ধাবোধ নেই কারণ এই সরকার গণতন্ত্রের উপর জনগণের আস্থা ধ্বংস করেছে। মানুষ এখন আর ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যায় না।

অধ্যাপক মুজিব বলেন, এই জালিম সরকারের পতন ঘটাতে হলে আন্দোলন করতে হবে। এই সরকারের পতন ছাড়া দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া যাবে না।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ইসহাক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এন.পি.পি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা রনি প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে ঝটিকা মিছিল

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতারা।

রোববার (২৬ মে) সন্ধ্যায় নয়াপল্টন এলাকায় তারা এ মিছিল করেন।

রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (রুনেসা) ব্যানারে অনুষ্ঠিত মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের পর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে আবার বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিলে রুনেসার সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে স্লোগান দেন। অবিলম্বে তারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন।

মিছিলে অন্যান্যের বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, জাসাস সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন ভুঁইয়া শিশির, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, রুনেসার সভাপতি বাহাউদ্দিন বাহার, জাসাস সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রিপন, জাসাস সহ-সভাপতি জাহেদুল আলম হিটো, মহানগর জাসাস আহ্বায়ক মীর সানাউল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, মাকসুদুর রহমান টিপু, রফিকুল ইসলাম স্বপন, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, মোকাম্মেল কবির প্রমূখ অংশ নেন।

উৎসঃ ‌‌ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বগুড়ায় ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের হামলা

এবার বগুড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুরসহ তার সঙ্গীদের ওপর সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভিপি নুরসহ অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার বিকাল ৫টার দিকে বগুড়া উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আন্দোলনের ইফতার ও দোয়া মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে ভিপি নুরকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আন্দোলনের বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান রাকিব অভিযোগ করে জানান, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বগুড়ায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন তারা। অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপিকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে এসে অবস্থান নেয়। এর আগে পুলিশকে দিয়ে অনুষ্ঠান না করার জন্য হুমকি দেয় তারা।

বিকাল ৫টার দিকে নুরকে বহনকারী মাইক্রোবাস অনুষ্ঠানস্থলে আসে। এ সময় ভিপি নুরসহ তার সফর সঙ্গীরা মাইক্রোবাস থেকে নামলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভিপি নুরসহ তার সফরসঙ্গীদের কিলঘুষি ও লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় হামলার দৃশ্য ভিডিওধারণ করায় যমুনা টিভির ক্যামেরাপার্সন শাহনেওয়াজকে মারধর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

পরে স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজ হাসান ভিপি নুরকে উদ্ধার করে রিকশায় হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ৩০-৪০ জন অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু তাৎক্ষণিক তাদের চেনা যায়নি।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা রুবেল গণমাধ্যমকে বলেন, সারা দেশে চলমান সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বগুড়াতে আমাদের ইফতার মাহফিল ছিল।

সেখানে অংশ নিতে ভিপি নুর, ফারুকসহ অন্যরা পৌর পার্কের সামনে অবস্থান নিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে নুর, ফারুকসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ফারুক হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, পৌর পার্ক মোড়ে একটি কমিউনিটি সেন্টারে আমাদের একটি ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়ার কথা ছিল। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সেখানে আমরা উপস্থিত হলে লাঠিশোটাসহ একদল ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমি, ভিপি নুর, রাতুল, আবিদ, রুবেলসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এরমধ্যে নুর সবচাইতে বেশি আঘাত পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি। কিন্তু সেখানেও ছাত্রলীগের হামলার আশঙ্কা থাকায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার পথে রওনা দিয়েছি।

উৎসঃ ‌‌শীর্ষকাগজ ২৪/strong>

আরও পড়ুনঃ ‌দুই হাসপাতালের কেনাকাটায় ১২ কোটি লোপাট, অস্তিত্ব নেই ৭ কোটি টাকার সফটওয়্যারের!

সদর হাসপাতালে ১০ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকার মালামাল নেই

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সদর হাসপাতালের জন্য ১৭ কোটি টাকার কেনাকাটায় প্রায় ১২ কোটিই লোপাট হয়েছে। পণ্য সরবরাহ ছাড়াই জাল স্বাক্ষরে বিল তুলে নিয়েছে এর সঙ্গে জড়িত চক্রটি। জড়িতদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ১৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৭ কোটি টাকা দামের একটি সফটওয়্যার এবং প্রায় ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। কাগজে-কলমে এসব কেনা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ যন্ত্রপাতির কোনো হদিস নেই। ৭ কোটি টাকার সফটওয়্যারের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া ১০ কোটি টাকার পণ্যের মধ্যে সন্ধান মেলেনি প্রায় ৫ কোটি টাকার পণ্যের। সব মিলিয়ে ১২ কোটি টাকাই লোপাট। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট একটি অসাধু চক্র যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই এ অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭ কোটি টাকা মূল্যমানের ‘পিকচার আর্কাইভিং কমিউনিকেশন সিস্টেম (পিএসিএস) নামের একটি সফটওয়্যার কেনা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে বিল জমা দিলে ৬ সেপ্টেম্বর তারিখে তত্ত্বাবধায়ক স্বাক্ষর করেন।

গত এপ্রিলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি পরিদর্শন কমিটি সেখানে পরিদর্শনে গেলে এই সফটওয়্যারের কোনো অস্তিত্ব পায়নি।

একজন উপ-সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি সফটওয়্যার দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী। এমনকি এটি কেন কেনা হয়েছে, কীভাবে ব্যবহার করা হবে- সে বিষয়েও বিস্তারিত বলতে পারেননি তিনি।

জানা গেছে, পিকচার আর্কাইভিং কমিউনিকেশন সিস্টেম (পিএসিএস) নামের এ সফটওয়্যারটি সাধারণত যে কোনো ধরনের ডিজিটাল ইমেজিং মেশিনে ছবি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। বিশেষ করে এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটিস্ক্যান, এমআরআই ইত্যাদি মেশিনে এটি ব্যবহার করলে দেশে বা দেশের বাইরে চিকিৎসার্থে গেলে নির্দিষ্ট রোগীর রিপোর্ট ও ইমেজ সেখানে পাওয়া যাবে। তবে এ ধরনের উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এখনও আমাদের দেশে গড়ে ওঠেনি।

এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির সিটিস্ক্যান বা এমআরআই মেশিনে এ ধরনের সফটওয়্যার ইনস্টল করা থাকে। তাই আলাদা করে কেনার প্রয়োজন নেই।

এ ধরনের মেশিন আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিএসিএস সফটওয়্যারের বাজারমূল্য এক লাখ থেকে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য এক থেকে সোয়া কোটি টাকা।

তারা জানান, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে দামে এই সফটওয়্যার কিনেছে সেই দামে একটি সাধারণ এমআরআই মেশিন এবং এর সঙ্গে দুই থেকে তিন কোটি যোগ করলে একটি আধুনিক প্রযুক্তির এমআরআই মেশিন কেনা সম্ভব।

এত দামে এ ধরনের সফটওয়্যার কেনার কারণ জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী যুগান্তরকে বলেন, এটি আধুনিক প্রযুক্তির সফটওয়্যার। এটি সংযুক্ত হলে হাসপাতালের সব ডিজিটাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের ছবি সংরক্ষিত থাকবে।

রাজধানী ঢাকার কোনো সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের ব্যবস্থা না থাকলেও সাতক্ষীরায় তিনি কেন এ সফটওয়্যার কিনলেন- জানতে চাইলে ডা. শাহজাহান বলেন, এটা ওপরের নির্দেশে কেনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের জন্য কেনা হবে। এটা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে কেনা হল কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবই ওপর থেকে হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আমিনুল হাসান বলেন, অধিদফতর থেকে কোনো কিছুই কেনা হয় না। সবসময়ই স্থানীয় পর্যায়ে অর্থাৎ হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক বা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে যে ক্রয় প্রস্তাব আসে তার পরিপ্রেক্ষিতেই মালামাল কেনা হয়ে থাকে।

এদিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় দশ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়। দুটি আলাদা বিলে এ টাকা পরিশোধ করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান। একটি বিলে ১৬ আইটেমের ৩৬টি যন্ত্রপাতির বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার ৫০ টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৩টি আইটেমের ২০টি যন্ত্রপাতির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যার দাম এক কোটি ৬১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। বাকি যন্ত্রপাতির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে অপর বিলে ৩টি আইটেমের ৯টি যন্ত্রপাতির বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। যার মধ্যে রয়েছে ৪টি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন। এর প্রত্যেকটির দাম ধরা হয়েছে ৮৭ লাখ টাকা।

কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, সর্বাধুনিক আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের দাম ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। প্রতিটি মেশিন কিনতে অতিরিক্ত ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অর্থাৎ চারটি মেশিনে সরকারের গচ্চা গেছে ২ কোটি টাকা। এ ছাড়া কালার ডপলার আল্ট্রাসাউন্ড ৪ডি মেশিনের দাম ধরা হয়েছে এক কোটি ১২ লাখ টাকা; অথচ ১ কোটি টাকায় আধুনিক প্রযুক্তির উন্নত মানের মেশিন কেনা সম্ভব। সেদিক থেকে এখানে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ১২ লাখ টাকা।

একইভাবে এনেসথেশিয়া মেশিনের দাম ধরা হয়েছে এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা; যার প্রকৃত মূল্য ২২ লাখ টাকা, দুটি মেশিনের দাম পড়ে ৪৪ লাখ টাকা। এখানে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। ১৮টি নেবুলাইজার মেশিনের দাম ধরা হয়েছে এক লাখ ৮৯ হাজার টাকা। অথচ ভালো মানের নেবুলাইজার মেশিন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দামে কেনা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি মেশিন সাড়ে ৫ হাজার টাকা হলেও এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৯০ হাজার টাকা।

দ্বিতীয় বিলে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় প্রায় ৫ কোটি টাকাই বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে।

কেনাকাটার বিষয়ে কথা বলার জন্য সাতক্ষীরা জেলার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি বর্তমানে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা থেকে যোগাযোগ করা হয়, সাতক্ষীরায় তার সাবেক কর্মস্থলে গিয়েও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় কিন্তু কোনোভাবেই তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলার বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, ওই সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তবে মালামাল সরবরাহের আগেই বিল তুলে নিয়েছে ঠিকাদার। তাই মন্ত্রণালয় থেকে যখন পরিদর্শক দল এসেছে তারা যন্ত্রপাতির অস্তিত্ব পায়নি। তবে সরবরাহকারী ঠিকাদার কিছু কিছু করে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, ডা. তৌহিদুর রহমান কাউকে না জানিয়েই এসব কেনাকাটার তালিকা প্রস্তুত করেন। বিভাগীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই তাদের নাম ক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। কেনাকাটা সম্পন্ন হলে বিল দেয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অসুস্থ অবস্থায় ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে যাদের নাম রয়েছে তাদেরকে হাসপাতালে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এসব চিকিৎসক হাসপাতালে তাকে দেখতে গেলে তাদের দিয়ে কৌশলে বিভিন্ন ফাইলে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

এদিকে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি পরিদর্শন দল গত ৯ এপ্রিল সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যায়। সেখান থেকে ফিরে তারা কর্তৃপক্ষ বরাবর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকে ভারি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট অপারেশনাল প্ল্যান থেকে মোট ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ পায়।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৭২টি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য একটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়। যার ধারাবাহিকতায় বরাদ্দকৃত অর্থের সঙ্গে মিলিয়ে ৪,৯৯,৬০,০০০ টাকা এবং ৪,৯৯,৫০,০৫০ টাকার দুটি বিল পরিশোধ করা হয়। ওই টেন্ডার ও বিল পরিশোধ সম্পন্ন হয় ভূতপূর্ব সিভিল সার্জন, সাতক্ষীরা ডা. তৌহিদুর রহমানের সময়। হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট অপারেশনাল প্ল্যানের তৎকালীন লাইন ডিরেক্টর ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বিল পরিশোধের জন্য ব্যয় মঞ্জুরি প্রদান করেন।

প্রথম বিলের মাধ্যমে ৪টি পোর্টেবল এক্সরে মেশিন, ৪টি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন এবং ১টি ওটি লাইট ক্রয় করা হয়। যা বাক্সবন্দি অবস্থায় সিভিল সার্জন অফিসের বারান্দায় পাওয়া যায়। প্রতিটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের ক্রয়মূল্য ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যা বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

দ্বিতীয় বিলের মাধ্যমে মোট ১৬ ধরনের ৩৬টি মেশিনের মূল্য পরিশোধ করা হয়। সরেজমিন পরিদর্শনে ১টি পোর্টেবল এক্সরে মেশিন, ১টি কালার ডপলার আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন, ১৬টি নেবুলাইজার মেশিন, ১টি সাকশন মেশিন ব্যতীত অন্য কোনো মেশিন পাওয়া যায়নি।

যেসব মেশিন পাওয়া যায়নি তার মধ্যে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, এনেসথেশিয়া মেশিন উইথ ভেন্টিলেটর, হট এয়ার ওভেন, ইনকিউবেটর, সেন্টিফিউগেল মেশিন, অর্থোপেডিক সার্জারি, ইনস্ট্র–মেন্ট সেট, অপথালমস্কোপি, স্লিট ল্যাম্প, রেটিনোস্কপ, ডেন্টাল এক্সেসরিজ সেট, ব্লাড কালেকশন মনিটর, ওয়াটার বাথ। এসব মেশিনপত্রের মোট মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেন্ডারের মাধমে ক্রয়কৃত পণ্য বুঝে নিতে একটি সার্ভে কমিটি করা হয়। যার সদস্য হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফরহাদ জামিল, ডা. আসাদুজ্জামান এবং সার্জারি বিভাগের ডা. শরিফুল ইসলাম। ক্রয়কৃত যন্ত্রপাতি তারা চলমান অবস্থায় বুঝে পেয়েছেন লিখে স্বাক্ষর করেন বিলে।

পরিদর্শন কমিটি তাদের কাছে এসব যন্ত্রপাতির অস্তিত্ব জানতে চাইলে তারা ৩ জনই ব্যাপারটি জানেন না বলে পরিদর্শন টিমকে জানান। পাশাপাশি তারা জানান, বিলে তাদের স্বাক্ষর জাল করে কেউ বসিয়েছে। এ ক্রয় সংক্রান্ত কোনো কিছুই জানেন না এবং এ ধরনের কোনো কাগজেও তারা স্বাক্ষর করেননি।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আমিনুল হাসান বলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সদর হাসপাতালের কেনাকাটা সংক্রান্ত জটিলতার এ বিষয়টি তিনি জানেন। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিদর্শন কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেই আলোকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে তবে ছাড় পাবে না।

সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা অধিশাখা) বেগম জাকিয়া সুলতানা বলেন, সাতক্ষীরার এ বিষয়টিসহ আরও এমন একাধিক বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর/strong>

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here