পাক-ভারত উত্তেজনা বিপর্যস্ত কাশ্মীরের অর্থনীতি

0
238

চলমান উত্তেজনায় ব্যবসায় প্রতিদিন ১৫০ কোটি রুপি ক্ষতি * বিদেশি পর্যটকের মধ্যে কাশ্মীরে ঘুরতে যাওয়ায় বাংলাদেশ তৃতীয়

পুলওয়ামা হামলা ও তার জেরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধাবস্থায় বিপর্যস্ত কাশ্মীরের অর্থনীতি। আতঙ্কে স্থবিরতা নেমে এসেছে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে। এতে লোকসান গুনছেন এ অঞ্চলের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা।

অনেকটা পর্যটন নির্ভরশীল হওয়ায় বিপর্যয় নেমে এসেছে কাশ্মীরের সার্বিক অর্থনীতিতে। পর্যটক আগমন শূন্যের কোটায় দাঁড়িয়েছে। কর্মসংস্থানের তীব্র সংকটে থাকা এ রাজ্যে পর্যটন খাতকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করে অনেক মানুষ। পর্যটক আগমনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে এ অঞ্চলের অর্থনীতি। বর্তমানে পর্যটক আগমন শূন্যের কোঠায় নেমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চরম বিপর্যয়ে পড়বে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি।

কাশ্মীর ইকোনমিক অ্যালান্সের মুখ্যসচিব সিরাজ আহমেদ জানিয়েছেন, কেবল পর্যটন শিল্পে নয়, ব্যবসাতেও প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। তার দাবি, চলমান উত্তেজনায় প্রতিদিন ১৫০ কোটি রুপি ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসায়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ পরিস্থিতিতে বিদেশি নাগরিকদের কাশ্মীরে না আসার পরামর্শ দিচ্ছে বিভিন্ন দেশের সরকার। এটিও পর্যটন শিল্পে ভাটা পড়ার অন্যতম একটি কারণ বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের। ২০১২ সাল থেকে কাশ্মীরে আসা নিয়ে নেতিবাচক পরামর্শ দেয়া বন্ধ করেছিল জাপান, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য।

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরকে যেন প্রকৃতি সাজিয়েছে তার নিজের মতো করে। সুন্দর এ রাজ্য সারা বিশ্বের মানুষের কাছে ভ্রমণের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় স্থান। শুধু ভারতের মুকুট হিসেবেই নয়, সারা বিশ্বের মানুষের কাছে ভূ-স্বর্গ হিসেবে পরিচিত জম্মু-কাশ্মীর। দেশটির উত্তরাঞ্চলের এ রাজ্যটি পাহাড়, ঝরনা ও তুষারপাতের জন্য পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হলেও অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও বিমোহিত করে তাদের।

অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছর শত শত পর্যটক আসেন এখানে। বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছেও এটি অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকের মধ্যে কাশ্মীরে ঘুরতে যাওয়ায় বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। শীতপরবর্তী এ সময়ে আরও বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে ভূ-স্বর্গ। হরেক পসরা সাজিয়ে প্রকৃতি স্বাগত জানায় ভ্রমণপ্রেমীদের। তাই এ সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় উপত্যকায়।

আর সেদিকে তাকিয়েই প্রতীক্ষা করে থাকেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে অশান্তির জেরে পর্যটন ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছিল। এর পরের দুই বছর মোটামুটি শান্তি বজায় ছিল কাশ্মীরে। শান্তির হাত ধরেই সমৃদ্ধি আসছিল পর্যটন শিল্পে। মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল উপত্যকার অর্থনীতি। গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যার পর জম্মু-কাশ্মীরের পর্যটন শিল্পে ধস নামে। সে ধস কাটিয়ে উঠতে এবার আশায় বুক বেঁধেছিলেন রাজ্যের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ১৪ ফেব্রুয়ারির পর সব পাল্টে গেছে।

মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের সব বুকিং বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কাশ্মীরের ‘ট্র্যাভেল এজেন্ট’ সংগঠনের সভাপতি আবদুল খলিফ ওয়াংনু। তিনি বলেন, এবার অনেক বেশি পর্যটক আশা করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পর্যটক আগমন শূন্যের কোঠায় দাঁড়িয়েছে। অন্যবার এ সময় শ্রীনগরগামী বিমানের আসন ভর্তি থাকে, এবার সব খালি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনেকেই কাশ্মীরে আসতে চাইছেন না।

এদিকে উপত্যকায় বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছেন অনেক পর্যটক। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, আটকা পড়েছেন অন্তত কয়েকশ পর্যটক। তাদের বিনা খরচে থাকার সুযোগ দিতে দরজা খুলে দিয়েছেন উপত্যকার হোটেল মালিক থেকে সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য, পুলওয়ামায় ১৪ ফেব্রুয়ারি আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৪২ জন ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করে বলে ভারতের দাবি। এর জবাব দিতেই মঙ্গলবার ভোরে পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে অভিযান চালায় ভারত।

ভারতের ভাষ্য অনুযায়ী ওই অভিযানে ৩০০ জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে ভারতের দাবি নাকচ করে আসছে পাকিস্তান। এরপর মঙ্গলবার দিনের প্রথমদিক থেকে বুধবার পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পরস্পরের দাবি অনুযায়ী, ভারতের দুটি ও পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এর মধ্যে অভিনন্দন নামে একজন ভারতীয় পাইলট পাকিস্তানি সেনাদের হাতে আটক হন। শুক্রবার তাকে ফেরত দিলেও দুই দেশের মধ্যে এখনও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ইমরান খানকে কাতার আমিরের অভিনন্দন


ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে ফেরত দেওয়াসহ চলমান উত্তেজনার শান্তিপূর্ণ সমাধান করায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি।

রোববার টেলিফোন করে এ অভিনন্দন জানান কাতার আমির। খবর ডন ও জি নিউজের।

কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, মুসলিম বিশ্বের এ দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা চলমান পাক-ভারত সমস্যা ও বিশ্বব্যাপী এর নেতিবাচক প্রভাব বিষয়ে কথা বলেছেন। কাতারের আমির উভয়দেশকেই সহনশীল আচরণের অনুরোধ জানান।

পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডা. মোহাম্মদ ফায়সাল এক টুইটবার্তায় বলেছেন, পাক-ভারত চলমান উত্তেজনা নিরসনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের টেলিফোনে কথা হয়েছে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ভারতের সঙ্গে চলমান যুদ্ধাবস্থা দ্রুত বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন।

টুইটবার্তায় তিনি বলেন, এ সময় ইমরান খান পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে ভারতের বিমান হামলাসহ যাবতীয় বিষয় কাতারের আমিরকে অবহিত করেন। কাতারের আমির উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষত পাকিস্তানের গ্রেফতার হওয়া ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে মুক্তি দিয়ে পাকিস্তান শান্তির আবহ তৈরি করেছে বলে জানান কাতারের আমির।

পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ও ইমরান খান পাক-ভারত বিষয় ছাড়াও দু’দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সীমান্তে পাক-ভারত উত্তেজনা পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকিতে এশিয়া?

নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের প্রায় ৮০ কিলোমিটার ভেতরে হামলা চালায় ভারতীয় বিমানবাহিনী। কয়েক ঘণ্টা না যেতেই ভারতের ভেতরে পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তানি বিমানবাহিনী। দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে ছড়িয়ে পড়ে চরম উত্তেজনা।

এ উত্তেজনা পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটিকে ভয়াবহ সংঘাত ও একটি পূর্ণ যুদ্ধের এতটা কাছে নিয়ে যায়, যা দুই দশকে আর দেখা যায়নি। এশিয়ায় উঁকি দেয় পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কাও।

সীমান্তে চরম উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে দুই দেশের পরমাণু অস্ত্রের কথা পরিষ্কার করে উল্লেখ করেন। বলেন, আমি ভারতকে বলছি, আপনাদের যে অস্ত্র আছে, আমাদেরও সেটি আছে।

তা হলে কি আমরা ভুল হিসাব কষতে পারি? আটক ভারতীয় এক পাইলটকে শুক্রবার দেশে ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তে সেই চরম পরিস্থিতি কিছুটা হলেও শান্ত হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বুধবার সকাল থেকে চলা উভয়পক্ষের সেনাদের অবিরাম গোলাবর্ষণ থেমে গেছে।

কিন্তু পরিস্থিতি যে কোনো সময় খারাপ হতে পারে। কেননা দশকের পর দশক এভাবেই চলে আসছে। ফলে পরমাণু যুদ্ধের খক্ষ ঝুলেই থাকছে পাকিস্তান ও ভারতের ওপর। শনিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এমন শঙ্কার কথা উঠে এসেছে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করার পর থেকে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক।

৭০ বছরে চারটি বড় যুদ্ধে জড়িয়েছে দুই পক্ষ। সর্বশেষ ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ। যাতে বিতর্কিত ভূখণ্ডের কাশ্মীর সীমান্তে কয়েক হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। সর্ব সংঘাতের পর থেকে উভয় দেশই সন্তর্পণে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

সামরিক পাল্লা দিতে গিয়ে গত দুই দশকে জঙ্গিবিমান, সেনাসংখ্যা, ট্যাঙ্ক ও হেলিকপ্টারের সংখ্যার দিক দিয়ে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ভারত। ভারতের সেনাসংখ্যা যেখানে ৩০ লাখ, সেখানে পাকিস্তানে মাত্র ১০ লাখ। ইসলামাবাদের চেয়ে নয়াদিল্লির সামরিক বাজেটও কয়েকগুণ বেশি। গত বছরও পাকিস্তানের সামরিক বাজেট যেখানে ছিল ১১ বিলিয়ন ডলার, ভারতের ৬৪ বিলিয়ন।

১৯৯৮ সাল থেকে পাক-ভারত পাল্লা দিয়ে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, ২০১৭ সালের শুরুতে ভারতের ১৩০টি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল।

আগের বছরে যেখানে ১১০টি ছিল, সেখানে এক বছরের মাথায় ২০টি বাড়িয়েছে। পক্ষান্তরে পাকিস্তানের ভাণ্ডারে রয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০টি পরমাণু অস্ত্র। ভারতের কাছে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক ত্রয়ী রয়েছে। অর্থাৎ স্থল, বিমান ও সমুদ্র থেকে তারা পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করতে পারবে। দেশটির ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৩ আওতা হচ্ছে দুই হাজার মাইল।

ভারতের মতো না হলেও পাকিস্তানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১ হাজার ২০০ মাইল। রাশিয়ার সঙ্গে মিলে ভারত ক্রজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রাহমোস নির্মাণ করেছে, যা ভূমি, আকাশ ও সমুদ্র থেকে নিক্ষেপ করা সম্ভব। পক্ষান্তরে পাকিস্তান নিজেরাই তৈরি করছে জঙ্গিবিমান। চীনের নকশা করা অত্যাধুনিক জেএফ-১৭এস মডেলেরে বেশ কয়েক বিমান তাদের হাতে রয়েছে।

বুধবার পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতের দুটি বিমান ভূপাতিত করে এ যুদ্ধবিমান দিয়েই। সমুদ্রপথে কৌশলগত দিক দিয়ে পাকিস্তানের চেয়ে ভারতই এগিয়ে। দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত ছয় হাজার টনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাবমেরিন রয়েছে। তবে পাকিস্তানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম সাবমেরিন নেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সবসময় সংখ্যায় বেশি থাকলেও প্রকৃত চিত্র উঠে আসে না। যে জায়গায় ভারত পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে সেটা হচ্ছে পরমাণু অস্ত্র। অস্ট্রেলীয় বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে গ্রিফিথ এশিয়া ইন্সটিটিউটের গবেষণা ফেলো পিটার লেটন বলেন, কোনো কারণে প্রতিকূল পরিস্থতিতে ইসলামাবাদ পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার করতে পারে। পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের কৌশলগত নীতি হচ্ছে- উপযুক্ত নিুস্তরের কমান্ডাররাও অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন, যদি তারা সঠিক মনে করেন।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভারতের কঠোর সমালোচনায় ওআইসি


ভারত সরকারের কাশ্মীর নীতির কঠোর সমালোচনা করে একটি প্রস্তাবনা অনুমোদন দিয়েছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)। শনিবার আবুধাবিতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

শুক্রবার ওআইসির সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ যোগ দেয়ার পরদিনই ওই প্রস্তাব অনুমোদন করে ইসলামিক দেশগুলোর সর্ববৃহৎ সংস্থা ওআইসি। তবে ওআইসির এ প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কাশ্মির ইস্যু একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

পাকিস্তানের প্রবল আপত্তি ও বয়কট সত্বেও প্রথমবারের মতো এবারের ওআইসি সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। প্রতিবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ কোরেশী এ বৈঠকে অংশ নেন নি ।

শুক্রবার ওআইসি’র সভায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সুষমা স্বরাজ প্রতিবেশী পাকিস্তানের ব্যাপক সমালোচনা করেন। সরাসরি নাম না নিলেও পাকিস্তানকে কড়া আক্রমণ করে সুষমা বলেন, যে সব দেশ সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় তাদের বিরুদ্ধে অন্য দেশ গুলির ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত।

সুষমার যোগ দেয়ার পরদিনই ওআইসির সভায় গৃহীত প্রস্তাবে ভারতের কাশ্মীর নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকে কাশ্মীরে ভারতীয় বর্বরতার তীব্রতা বেড়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ আটক ও গুম বেড়েছে বলে জানানো হয় ওআইসির প্রস্তাবে। ভারত নিরীহ কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে নির্বিচার বলপ্রয়োগ করছে বলেও অভিযোগ আনা হয় ওআইসির প্রস্তাবে।

সুষমার বক্তব্যের পরদিনই ওআইসির গৃহীত প্রস্তাবে ভারতের কঠোর নিন্দা জানানো হলেও আটক ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে ফিরিয়ে দেওয়ায় পাকিস্তানের প্রশংসা করা হয়। গত বুধবার ভারত-পাকিস্তান বিমান যুদ্ধের পর পাকিস্তানে আটক হন ওই ভারতীয় পাইলট। যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রশংসা করা হয় ওআইসি’র পক্ষ থেকে।

ওআইসির গৃহীত প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন করে প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

এ দিকে ওআইসির গৃহীত প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাশ্মীর ইস্যুতে আমাদের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সর্বজনবিদিত। আমরা আবারও নিশ্চিত করতে চাই যে জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিভাজ্য অংশ এবং এটা ভারতের একান্তই নিজস্ব বিষয়।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে শুক্রবার ওআইসির সভায় যোগ দিয়ে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওআইসি’র দেশগুলোকে এক যোগে কাজ করার আহ্বান জানান সুষমা স্বরাজ। তার ১৭ মিনিটের ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মানবতা রক্ষা করতে চাই, তাহলে অবশ্যই সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও অর্থ দেওয়া রাষ্ট্রগুলোকে সেসব দেশে থাকা সন্ত্রাসী আস্তানার অবকাঠামো ধ্বংস এবং অর্থায়ন বন্ধ করতে বলতে হবে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন: কাশ্মীরে এখন কেন বোমা হামলা ঘটছে?

ভারতের কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমার স্বামী। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমার স্বামী প্রশ্ন রেখে বলেছেন, এখন কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলা ঘটছে কেন? কেন তারা বাবা এইচডি দেব গৌড়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এমনটি ঘটেনি?

তিনি বলেন, দেব গৌড়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বিদ্রোহীরা বিস্ফোরণ ঘটাননি কিংবা কাউকে হত্যা করেননি? কিন্তু এখন কেন ঘটছে? এ নিয়ে ভারতীয়দের ভাবতে আহ্বান জানান তিনি।

তারা বাবা দেব গৌড়া ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কাশ্মীরে কোনো বিস্ফোরণ কিংবা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন কুমার স্বামী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কাশ্মীরে যেতে হলে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী লাগে। কিন্তু ভারতে যদি কোনো প্রধানমন্ত্রী থেকে থাকেন, যিনি একটি খোলা জিপে চড়ে জম্মু-কাশ্মীরের পাক-ভারত সীমান্তে যেতে পারতেন, তা হলে তিনি হচ্ছেন দেব গৌড়া।

কাজেই এ ঘটনা ভুলে না যেতে সবার কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাক-ভারত উত্তেজনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কুমার স্বামী বলেন, এটি কোথায় গিয়ে ঠেকে, তা তিনি বলতে পারছেন না।

কর্নাটক মুখমন্ত্রী বলেন, তারা এমনভাবে বিজয় পতাকা উড়াচ্ছেন, যেন বিমান উড়িয়ে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে গিয়ে বোমা মেরে আসছেন। বরং একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতিকে অপব্যবহার করছেন বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

‘বিজেপির দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার এমন যে তারা একাই গিয়ে দেশকে উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়া কেউ না। তারা মানুষের নিরপরাধ মানসিকতার অপব্যবহার করছেন।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ : গণভোট নাকি গণহত্যা


কাশ্মিরের অতীত এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সবাই অবগত, তাই সরাসরি মূল আলোচনায় চলে যাবো। কাশ্মির নিয়ে পাক-ভারত উত্তেজনা বহুদিনের। কিন্তু কাশ্মিরিরা চায় স্বাধীনতা। কিন্তু পাকিস্তান ও ভারতের টানাটানির কাছে কাশ্মিরের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাটি চাপা পড়ে যায় বারবার। কাশ্মিরিরা মুসলিম হওয়ায় পাকিস্তান তাদের কাছে কিছুটা প্রিয়, যদিও তারা পাকিস্তানের অধিন হতে চায় না। অন্যদিকে কাশ্মিরিরা ভারতকে একেবারেই পছন্দ করেনা কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষমতার লোভের কারণে তাদেরকে ভারতের শাসন মেনে নিতে হয়। আর যখনই তারা স্বাধীনতা চায় তখনই তাদের উপর নেমে আসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অত্যাচার। কাশ্মিরিরা কোনভাবেই ভারতীয় আধিপত্য মেনে নিতে চায় না। কিন্তু এখানে বিদ্রোহ মানেই ‘জঙ্গি’। বৈশ্বিক রাজনীতির অংশ হিসেবে ‘জঙ্গি’ তকমাটা ভারত ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। কাশ্মিরে কিছু ঘটলেই পাকিস্তানকে টেনে আনাটা খুবই লাভজনক, তাতে কাশ্মিরিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাটাকে চাপা দেওয়া যায়।

সেই ১৯৮৮ সাল থেকে শুরু করে কাশ্মির কখনো স্থির থাকেনি। ‘জঙ্গি’ তকমা আর পাকিস্তানি ইন্ধনের অযুহাত কাশ্মিরিদের স্বাধীনতাকে বিলম্বিত করলেও ভারত কখনো স্বস্তি পায়নি। বিগত বছরগুলোতে কাশ্মিরের অস্থিরতা আরও বেড়েছে, সেই সাথে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাও বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই স্বাধীনতাকামীদের হত্যা করেও বিদ্রোহীদের মনোবল দমানো যায়নি, আরও বেড়েছে। অতি সম্প্রতি সশস্ত্র কাশ্মিরি বা স্বাধীনতাকামীদের পক্ষ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের হামলা এবং কমপক্ষে ৪৪ জনের মৃত্যু কাশ্মিরিদের শক্তি এবং মনোবল সম্পর্কে ভারতকে ভাবাচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদি এক ঢিলে দুই পাখি মারতে গিয়ে বিপদে পড়ে গেছেন। বিমান হামলার মাধ্যমে ৩০০ ‘জঙ্গি’ হত্যার এক আজগুবি দাবি নিয়ে মোদি ভারতকে বেশ ভালোভাবেই নাড়া দিয়েছিলেন, এই ‘সফলতা’কে পুঁজি করে সারা ভারত চষে বেড়াবার পরিকল্পনা করার সময়েই দুইটি মিগ বিধ্বস্ত এবং একজন পাইলট আটকের খবরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।

সামনে নির্বাচন উপলক্ষে জনগণকে পক্ষে আনার এটাই উত্তম সুযোগও বটে। তাই নরেন্দ্র মোদি এক ঢিলে দুই পাখি মারতে গিয়ে বিপদে পড়ে গেছেন। বিমান হামলার মাধ্যমে ৩০০ ‘জঙ্গি’ হত্যার এক আজগুবি দাবি নিয়ে মোদি ভারতকে বেশ ভালোভাবেই নাড়া দিয়েছিলেন, এই ‘সফলতা’কে পুঁজি করে সারা ভারত চষে বেড়াবার পরিকল্পনা করার সময়েই দুইটি মিগ বিধ্বস্ত এবং একজন পাইলট আটকের খবরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।

এই পরিস্থিতিতে পাক ভারত যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছে অনেকেই। দুটি দেশের হাতেই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এবং অস্ত্র কী করতে পারে সে সম্পর্কে সবাই অবগত আছেন। আর পারমাণবিক অস্ত্রের কারণেই দেশ দুটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়াতে হয়তো চাইবে না। কিন্তু যুদ্ধের সম্ভাবনা একেবারেই ফেলে দেয়া যাবে না।

আপাত দৃষ্টিতে ভারতকে খুবই আক্রমণাত্মক মনে হলেও ভারত পাকিস্তানের উপর ঐভাবে হামলা করবে না। কারণ ভারত এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক ডক্টোরিন ভিন্ন। ভারতের পারমাণবিক ডক্টোরিন হলো, তারা আগে থেকে আক্রান্ত না হলে তারা পারমাণবিক হামলা চালাবে না। আর পাকিস্তানের ডক্টোরিন হলো, অন্য কেউ আক্রমণের আগেই তারা পারমাণবিক আক্রমণ করবে।

পাকিস্তানের এই ডক্টোরিনের কথা মাথায় রেখেই ভারত উত্তেজনা প্রশমিত করতে বাধ্য হবে। আর যদি পাকিস্তান পারমাণবিক হামলা চালাতে বাধ্য হলে এমনভাবে হামলা করবে যাতে ভারত পারমাণবিক হামলা না করতে পারে। আজ ভারতকে যতই আক্রমণাত্মক মনে হোক না কেন এগুলো হুমকি ধমকির মধ্য সীমাবদ্ধ থাকবে। ভারত ইতোমধ্যেই বড় ভুল করে ফেলেছে। এই ভুলের মাশুল তাদের বছরের পর বছর ধরে দিতে হবে।

কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ভারত কিভাবে কাশ্মিরকে ডিল করবে তার উপর। ভারতের সাম্প্রদায়িক এবং বিভেদের রাজনীতি কাশ্মিরিদেরকে ইতোমধ্যেই ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘কাশ্মির বিস্ফোরণ’কে কেন্দ্র করে ভারত জুড়ে কাশ্মিরিদেরকে এমনভাবে ট্রিট করা হয়েছে তাতে কাশ্মিরিরা ভাবতে বাধ্য হবে যে তারা ভারতের নাগরিক নয়। হিন্দু অধ্যুষিত ভারতীয়দের মনোভাবে মনে হয় তারাও কাশ্মিরিদেরকে ভারতের নাগরিক মনে করেনা। ভারত জুড়ে কাশ্মিরিদের প্রতি এই বিদ্বেষকে কংগ্রেস এবং বিজেপির সমর্থকরা সমানতালে অংশীদার। কাশ্মিরিদের প্রতি ভারতীয়দের এই মনোভাব কাশ্মিরের ভবিষ্যত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কাশ্মিরের নতুন প্রজন্ম কোনভাবেই ভারতকে মেনে নেবেনা। কাশ্মিরিদের প্রতি ভারতের রাজনীতি এবং জনগণের মনভাবের পরিবর্তন না হলে কাশ্মিরের স্বাধীনতাকে ঠেকানোর সম্ভাবনা খুব কম।

কাশ্মিরি মুসলমানদেরকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করতে এথনিক ক্লিনজিংও হতে পারে। অথবা পলিটিকাল মাইগ্রেশনের মাধ্যমেও কাশ্মিরি মুসলমানদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করা হতে পারে। অতীতে অনেক দেশই বিদ্রোহ দমনের জন্য এই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

কাশ্মির নিয়ে পাক ভারত উত্তেজনা যাবে, হয়ত মাঝে মাঝে বাড়বে। কিন্তু কাশ্মিরের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত হবে। ভারতের রাজনীতিক এবং থিংকট্যাংক এটা খুব ভালো করেই জানে। ভারত কাশ্মিরকে কীভাবে ডিল করবে এইটা তাদের উপর নির্ভর করছে। তারা সদাশয় হয়ে জাতিসংঘের অধিনে গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দ্বায়িত্ব তাদের হাতেই ন্যাস্ত করতে পারে। কিন্তু এই ধরনের পরিপক্ব এবং ইতিবাচক রাজনীতি ভারতের কাছ থেকে আশা করা যায় না।

ভারত যে কোন উপায়ে কাশ্মিরকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে। কাশ্মিরকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কাশ্মিরিদের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে কাশ্মিরে প্যালেট গান ব্যবহৃত হচ্ছে। ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল ভারতকে সর্বাত্মক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। এর অনেক অর্থ হতে পারে।

কাশ্মিরি মুসলমানদেরকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করতে এথনিক ক্লিনজিংও হতে পারে। অথবা পলিটিকাল মাইগ্রেশনের মাধ্যমেও কাশ্মিরি মুসলমানদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করা হতে পারে। অতীতে অনেক দেশই বিদ্রোহ দমনের জন্য এই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতি মায়ানমারের দিকে তাকালে আমার যুক্তিগুলোর প্রমাণ পাওয়া যাবে। আরো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো ভারত মায়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার ব্যাপারে সমর্থন দিয়েছে। তবে যাই করা হোক না কেন কাশ্মিরের স্বাধীনতাকে আটকে রাখা যাবে না!

উৎসঃ ‌জবান

আরও পড়ুনঃ ইমরান খানের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের


আক্রমণ চালাতে এসে পাল্টা আক্রমণের মুখে পড়ে যুদ্ধবিমান হারিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর নিকট আটক হয় ভারতীয় বিমান বাহিনীর সৈনিক উইং কমান্ডার অভিনন্দন। এ ঘটনায় হতভম্ব ভারত হয়ে পড়ে আতঙ্কিত। কিন্তু আবারো শান্তির বাণী নিয়ে সামনে আসেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বৃহস্পতিবার বিকেলে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের যৌথ অধিশেনে দেয়া এক ভাষণে আটককৃদত ভারতীয় পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে শুক্রবার মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি যুদ্ধ ও উত্তেজনার পথে না গিয়ে ভারতকে আহ্বান জানান শান্তির পথে আসতে।

আর এই ঘটনার পরই বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে টেলিফোন করে অভিবাদন ও প্রশংসা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। পাকিস্তানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এসময় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও প্রেসিডেন্ট এরদোগান সাম্প্রতিক পাকিস্তান-ভারত উত্তেজনা নিয়ে কথা বলেন।

এসময় ভারতের সাথে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উপর আস্থা আছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

পাকিস্তানের দ্য নিউজে প্রকাশিত খবরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, টেলিফোনে আলাপের একপর্যায়ে ইমরান খানের শান্তি প্রক্রিয়া ও ভারতকে দেয়া আলোচনার প্রস্তাবের উচ্চ প্রশংসা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আটককৃত ভারতীয় পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে শুক্রবার মুক্তি দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। ভারতের প্রতি শান্তির বার্তা হিসেবে আটককৃত পাইলটকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার পাকিস্তানী বিমান বাহিনীর হামলায় ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর পাইলট অভিনন্দনকে আটক করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ভারতীয় পাইলটকে মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সিদ্ধান্তের উচ্চ প্রশংসা করছেন একে অপরের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী উভয় দেশের নাগরিকরা।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ইমরান খানের সমালোচক ছিলাম, এবার ভক্ত হয়ে গেলাম: ভারতীয় বিচারপতি


ইমরান খানের বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মারকানডে কাটজু।

তিনি বলেন, আমি আগে ইমরান খানের সমালোচক ছিলাম। কিন্তু টেলিভিশনে তার (রাজনৈতিক) প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্যের কারণে তার ভক্ত হয়ে গেলাম।

ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে শুক্রবার পাকিস্তানের সংসদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বক্তব্যের প্রশংসায় ভারতীয় এ বিচারপতি এসব কথা বলেন।

পাক-ভারত উত্তেজনার মধ্যেই ভারতীয় পাইলটকে আটক করে পাকিস্তান। যুদ্ধের চেয়ে তখন পাইলট আটক হওয়ার ইস্যুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানে আটক পাইলটকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

ইমরান খানের এমন সিদ্ধান্তে অনেকেই হতবাক হয়ে যান। দ্রুত এমন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে এমন ধারণা ভারতীয়রা কল্পনাও করতে পারেনি।

খোদ ভারতীয়রাও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই দেশেরই সুশীল সমাজ ইমরান খানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন এরকম সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমন করতে সহায়ক হবে।

ইমরান খানের এ ঘোষণার পর ভারতজুড়ে স্বস্তি নেমে এসেছে। পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে টুইট করেন।

টুইট বার্তায় অমরিন্দর সিং বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। আমরা দাবি করছি যথাশীঘ্রই তাঁকে মুক্তি দেয়া হবে। আমি মনে করি এটি একটি ভালো উদ্যোগ এবং এটি বজায় থাকবে।’

পাক প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার নবজ্যুত সিধু এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘প্রত্যেক মহৎ কাজই তার নিজের জন্যই একটি রাস্তা বাতলে দেয়। ইমরান খান, তোমার শুভেচ্ছার নির্দশন (পাইলটের মুক্তি) কোটি জনতার জন্য ‘এক কাপ জয়’, একটি জাতির আনন্দ। আমি তার মা-বাবার জন্য আনন্দিত এবং তোমার (ইমরান খান) প্রতি ভালবাসা।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পাইলটকে মুক্তি দেয়া দুর্বলতা নয়: ইমরান খান

আটক ভারতীয় পাইলট উইং কমান্ডার ভি অভিনন্দন বর্তমানকে শুক্রবার মুক্তি দিচ্ছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার পাক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে এমন ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। খবর দ্য ডন।

আটক ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণার পর পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উত্তেজনা কমানোর এই পদক্ষেপকে দুর্বলতা ভাবা উচিত হবে না। ইমরান খান বলেন, শান্তির বার্তা দিতেই ভারতীয় পাইলটকে ফেরানো হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক সক্ষমতা এবং প্রবল কূটনৈতিক তৎপরতাতেই এটা সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয় কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ফেরালে যদি পাক-ভারত উত্তেজনা প্রশমিত হয়, তাতে আপত্তি নেই পাকিস্তানের। এ ব্যাপারে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলতে চান ইমরান খান।

ইমরান খান বলেন, সব সঙ্কটই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। কিন্তু কারতারপুর করিডর খোলা সত্ত্বেও আমরা ভারতের কোনো সাড়া পাইনি।

ভারতের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে অ্যাসেম্বলিতে নিজের দেশের গণমাধ্যমের প্রশংসা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। ইমরান বলেন, ভারতের গণমাধ্যম যুদ্ধের হিস্টিরিয়া তৈরি করেছে। কিন্তু আমাদের গণমাধ্যম একাত্বতা দেখিয়েছে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা বুঝতে পেরেছিলাম ভারত কিছু করবে। কিন্তু আমাদের অভিযান চালানোর উদ্দেশ্য ছিল শক্তি প্রদর্শন এবং আমরা সেটি করেছি।

ইমরান বলেন, আমরা ভারতের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটাতে চাইনি। সে জন্য দায়িত্বশীল উপায়ে কাজ করতে চেয়েছিলাম। আমি আগেই বলেছি, ভারত যদি কিছু করে, তাহলে আমরা তার জবাব দেব।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণে ভারতের ৪০ জনেরও বেশি জওয়ান নিহত হয়। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করে। এরপরই প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পাইলট আটক হওয়ায় মোদির সব পরিকল্পনা নস্যাৎ!

বুধবার সকালেও বেশ ফুরফুরে ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। পাকিস্তানের ভূখণ্ডে আক্রমণ করে দেশবাসীর কাছে হিরো সেজেছিলেন বিজেপির হয়ে জেতা এ প্রধানমন্ত্রী।

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ব্যালটবক্সের ভোট প্রায় নিশ্চিত করছিলেন তিনি। কিন্তু এর রেশ শেষ না হতেই পাকিস্তান ভূখণ্ডে ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের পাশাপাশি উইং কমান্ডার আটকের খবরে ভেস্তে যায় সাজানো পরিকল্পনা।

ভোটের আগে, দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে সরকার- বিরোধীদের রোষানলের পাশাপাশি সহ্য করতে হচ্ছে পাকিস্তানের নানা ট্রল (ব্যঙ্গ)।

ভারতের সামরিক বাহিনীর পূর্ব নির্ধারিত যৌথ ব্রিফিং স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় ওই ব্রিফিং করার কথা ছিল। ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ ব্রিফিং স্থগিত করা হয়েছে। এটি সন্ধ্যা ৭টায় করা হবে।

এদিকে পাকিস্তানে আটক পাইলটকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রশংসায় ভাসছেন। খোদ ভারতীয়রাও তার এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইমরান খানের এ ঘোষণার পর ভারতজুড়ে স্বস্তি নেমে এসেছে। পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে টুইট করেন।

টুইট বার্তায় অমরিন্দর সিং বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। আমরা দাবি করছি যথাশীঘ্রই তাঁকে মুক্তি দেয়া হবে। আমি মনে করি এটি একটি ভালো উদ্যোগ এবং এটি বজায় থাকবে।’

এদিকে পাকিস্তানিরাও ইমরান খানের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক টুইট বার্তায় পাকিস্তানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মাজহার আব্বাস বলেছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্ত একটি শুভ বার্তা বয়ে আনবে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুয়িদ পীরজাদা বলেন, এটা স্পষ্ট- লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই জম্মু-কাশ্মির নাটক সাজিয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০০২ সালেও প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সময় এ কৌশল অবলম্বন করেন। কিন্তু, উইং কমান্ডার ধরা পরায় পুরোপুরি ফেঁসে গেছেন।

এদিকে বিশ্লেষকদের অভিমত, পাকিস্তানের হাতে ঘুড়ির নাটাই থাকলেও; বেশ হিসাব-নিকাষ করে এগোচ্ছে ইমরান প্রশাসন।

নয়াদিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক সঞ্জয় কাক বলেন, পাকিস্তান সরকার নিরাপদ দূরত্বে থেকে পাশার দান দিচ্ছে। দৃশ্যতঃ পুরো খেলাটা এখন তাদের হাতে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আদনান নাসিমুল্লাহ বলেন, ভারত-পাকিস্তান দীর্ঘদিন ছায়াযুদ্ধ করছে। যার মূলে রয়েছে- কাশ্মির উপত্যকা। আপাতত, দু’দেশের মাঝে হামলা-পাল্টা হামলা বন্ধ থাকলেও; যে কোন মুহূর্তে পরিস্থিতি গড়াতে পারে ভিন্ন খাতে। খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে উভয়পক্ষকে। কারণ, সামান্য ত্রুটির কারণেও বেঁধে যেতে পারে আরেকটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।

এর আগে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পাকিস্তানে আটক রয়েছেন ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কুলভূষণ যাদব। নতুনভাবে, বুধবার আজাদ-কাশ্মিরে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের পর আটক হলেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here