বিমানে টিকিট কেলেঙ্কারি ফাঁস

0
423

দুর্নীতিবাজ চক্র প্রতিদিন পকেটস্থ করেছে ২০-২৫ লাখ টাকা : মন্ত্রণালয়ের সভায় পরিচালক আশরাফের স্বীকারোক্তি * ওএসডি হলেন লন্ডন কার্গো কেলেঙ্কারির হোতা শফিকসহ দুই কর্মকর্তা

বিমানের টিকিট ব্লক করে কালোবাজারে বিক্রির মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি চক্র কোটি কোটি টাকা পকেটস্থ করেছে।

বিমান মন্ত্রণালয় অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হয়েছে চক্রটি এ প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যার নেতৃত্বে ছিলেন বিমানের পরিচালক (মাকেটিং অ্যান্ড সেলস) আশরাফুল আলম। অপরদিকে তার সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা হলেন সাবেক জেনারেল ম্যানেজার আতিকুর রহমান চিশতী, লন্ডনের সাবেক কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম, জিএম আরিফুর রহমান, হংকংয়ের কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, কার্গো শাখার মাহফুজুর রহমান, জেটি খান, আবদুল্লাহ, মার্কেটিং শাখার মুসফিক বাবু, জিয়া, জাহিদ বিশ্বাস, এনায়েত হোসেন প্রমুখ।

সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত এক সভায় টিকিট দুর্নীতির ভয়াবহ তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়। একপর্যায়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী ও সচিব মহিবুল হকের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত আশরাফুল আলম টিকিট দুর্নীতির বিষয়টি স্বীকার করেন।

বুধবার আশরাফকে ওএসডি করে এমডির দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। সভায় ১১ দফা সিদ্ধান্ত নিয়ে বলা হয়েছে, শিগগিরই এ চক্রের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিমানের পরবর্তী বোর্ড সভায় আলোচনা হবে। একই সঙ্গে যেসব ট্রাভেল এজেন্ট ও সিন্ডিকেট সদস্য সিট ব্লকের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করার জন্য সিটা থেকে এক বছরের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে তদন্তপূর্বক পরবর্তী বোর্ড সভায় উপস্থাপনের জন্য বিমান এমডি’কে নির্দেশ দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী যুগান্তরকে বলেন, বিমানের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে অনিয়ম আর অস্বচ্ছতা। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিমান সম্পর্কে একটি নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। সম্প্রতি বিমানের রিজার্ভেশন এবং টিকিট বিক্রি ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিমান সচিব মহিবুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

২৪ মার্চ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের টিকিট বিক্রি ব্যবস্থাপনার নানামুখী অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় কার্যবিবরণীতে বিস্তর তথ্য তুলে ধরা হয়। দুর্নীতির ১০টি ধাপ উল্লেখ করে বিমান সচিব সভায় বলেন, বিমানের রিজার্ভেশন বা টিকিট বিক্রি কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বাস্তবে সামান্য কিছু টিকিট অনলাইনে সচল রেখে বাকি টিকিট ব্লক করে রাখা হয়। অথচ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দিলে টিকিট পাওয়া যায়। এভাবে টিকিট বিক্রি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। অনেক সময় অনেক সিট খালি রেখে বিমান যাত্রা করে। দীর্ঘদিনের এমন অভিযোগ সামনে নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও মন্ত্রণালয় ব্যাপক অনুসন্ধানে নামে। এর ভিত্তিতে টিকিট দুর্নীতির বহু প্রমাণিত তথ্য বেরিয়ে আসে।

এ বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র যুগান্তরকে জানায়, প্রতিদিন বিমানের বিভিন্ন ফ্লাইটে প্রায় ৮ হাজার টিকিট থাকে। এর মধ্যে চক্রটি টার্গেট অনুযায়ী সর্বনিু দামের কয়েকশ’ টিকিট ব্লক করে রাখে। যেগুলো বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে বেশি মূল্যে বিক্রি করে। এভাবে তারা প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পকেটস্থ করে।

সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, অনলাইনে টিকিট বিক্রির জন্য বিমান ২০১৩ সালে ‘জেপ ওয়েস’ নামে একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু তাদের সফটওয়্যারের মাধ্যমে মাত্র ৫ শতাংশ টিকিটি বিক্রি করা হয়। অথচ এ সামান্য টিকিট বিক্রির জন্য প্রতিমাসে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ২৭ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া তাদের সফটওয়্যার আপডেট বাবদ এ পর্যন্ত ১২ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। সঠিকভাবে তদন্ত হলে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তাদের সফটওয়্যারের মাধ্যমে কেবল ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা যায়। এছাড়া বিক্রি করা টিকিট পরিবর্তন কিংবা তারিখ সংশোধন করা যায় না। তাদের অদক্ষতার কারণে এসআইটিএ’র মাধ্যমে কিছুদিন টিকিট বিক্রি করা হয়। ফলে বিমানের ৬-৭ কোটি টাকা ক্ষতি হয়।

জেপ ওয়েস থেকে যাত্রীদের খুদে বার্তা দেয়ার কথা থাকলেও তারা দেয় না। কিন্তু এজন্য প্রতিমাসে মোটা অঙ্কের টাকা পায়। চুক্তিবদ্ধ এ কোম্পানির কাছে বিমানের এ যাবৎকালের সব ডাটা সংরক্ষিত আছে। কিন্তু এসব তথ্য পেতে হলে তাদের ৫০ হাজার ডলার দিতে হয়। অনুসন্ধান টিম মনে করে, ইচ্ছাকৃতভাবে অসম চুক্তি করায় এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।

বলা হয়েছে, কিছু সংখ্যক ট্রাভেল এজেন্ট বিমানের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিয়মবহির্ভূত টিকিট বুকিং দিয়ে অর্থ ভাগাভাগি করে। মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের মাধ্যমে অযাচিতভাবে টিকিট ব্লক করে রাখে। কিছু কর্মচারী তাদের কাছে থাকা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিমানের লন্ডন ও মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইটগুলোয় সিট ব্লক করে থাকে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে ২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব টিকিট ব্লক করে সাদিয়া ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে বিক্রি করা হয়। এছাড়া রয়েল, স্টার, ভার্সেটাইল, ভিক্টোরি নামে কতিপয় ট্রাভেল এজেন্সিও বিমানের টিকিট নিয়ে এ অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তারাও এ সিন্ডকেটকে প্রতিমাসে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দেয়। অভিযোগ আছে, এসব ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে নামে-বেনামে মালিকানা রয়েছে এই সিন্ডিকেট সদস্যদের।

সভায় জানানো হয়, দুর্নীতি ঠেকাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এখন থেকে বিমানের সব টিকিট অনলাইনে উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। জেলা পর্যায়ে অনলাইন টিকিট বুকিং ভালোভাবে সচল করাসহ বিশেষ অ্যাপ খোলা হবে। অপরদিকে বিমানের টিকিট বুকিং দেয়ার জন্য গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস) কোম্পানির সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, তা-ও বিমানের স্বার্থবিরোধী।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ৩০০ আসনের একটি ফ্লাইটে ২ থেকে ৩ হাজার বুকিংও হয় অনেক সময়। যার অধিকাংশ বুকিং বাতিল হয় বা যাত্রী যাত্রার তারিখ বদল করেন। প্রতিটি বুকিং ও বাতিলের জন্য জিডিএস কোম্পানিকে একটি মাশুল দিতে হয় বিমানকে। সম্প্রতি এক মাসে জিডিএস কোম্পানির বিল ছিল ১৪ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা)। এ বিল ২২ লাখ ডলারও হয়েছে কোনো কোনো মাসে। অভিযোগ আছে, শুধু জিডিএসের বিল বাড়াতে কিছু ট্রাভেল এজেন্সি প্রচুর টিকিট বুকিং দেয় আবার বাতিলও করে দেয়। যার বিনিময়ে ওইসব এজেন্সি জিডিএস কোম্পানি থেকে কমিশন পায়।

মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনেও এসেছে, জিডিএস কোম্পানিকে যাচাই ও প্রত্যয়ন ছাড়াই টিকিট বিক্রি, বুকিং ও বাতিল ফি দেয়ায় বছরে প্রায় শতকোটি টাকার অনিয়ম হচ্ছে বিমানে।

বিমানেরই একটি সূত্র বলছে, এমিরেটসের মতো বিমান সংস্থা সাশ্রয়ের জন্য এখন আর জিডিএস ব্যবহার না করে ইন্টারনেট বুকিং ইঞ্জিন ব্যবহার করছে। বিমানেরও ইন্টারনেট বুকিং ইঞ্জিন আছে, যা ব্যবহার করলে বিপুল অঙ্কের আর্থিক সাশ্রয় হবে। কিন্তু এ নিয়ে বিমানের কোনো চিন্তা, উদ্যোগ নেই। আবার যে টিকিট বিক্রি হয়েছে (ফ্লোন প্যাসেঞ্জারের), শুধু তার ওপর মাশুল নির্ধারণ করে চুক্তি করলেও বিমান লাভবান হবে।

বর্তমানে বিমান বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় তারা সাবারি, গ্যালিলিও, অ্যামাডিউস ইত্যাদি জিডিএস ব্যবহার করে থাকে। অভিযোগ আছে, কোনো ট্রাভেল এজেন্সি এই জিডিএস ব্যবহার করে টিকিট বুকিং দিলেই ওই টিকিট বিক্রি হোক আর না হোক, সংশ্লিষ্ট জিডিএস কোম্পানিকে এজন্য নির্ধারিত হারে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় বিমান বছরে শতকোটি টাকা ব্যয় করছে। এছাড়া সিটার দুটি বুকিং চ্যানেল ব্যবহার করেও প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকার টিকিট দুর্নীতি করা হয়।

এ অবস্থায় বুধবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের পরিচালক আশরাফুল আলম ও লন্ডন থেকে আসা কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলামকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার এক দাফতরিক আদেশে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, লন্ডন থেকে আসা কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আড়াই হাজার ফ্রি টিকিট বিক্রি করে ১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। শফিকুল ইসলামের চার বছরের মেয়াদে লোকাল স্টেশন থেকে ২ হাজার ৪৭২টি ফ্রি টিকিট ইস্যু করা হয়েছে। যাদের সবাই লন্ডন থেকে ঢাকা এসে আবার লন্ডনে ফেরত গেছেন। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাসের যাত্রী ছিলেন ১ হাজার ১৩৬ জন এবং ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী ১ হাজার ৩৩৬ জন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ফ্রি টিকিটে বিজনেস ক্লাসের যাত্রী ১ হাজার ১৩৬ এবং ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী ১ হাজার ৩৩৬ জন- এই অঙ্ক সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে না। আর সার্কুলার মতে যারা বিজনেস ক্লাসের যোগ্য, তাদের নামে টিকিটগুলো ইস্যু করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে এমন প্রমাণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকদিনের মধ্যে একটি দল লন্ডনে পাঠানো হবে। লন্ডন স্টেশনে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি খাতে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে, সেগুলোও তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, টিকিট নিয়ে দুর্নীতির বিষয়ে জানার জন্য সম্প্রতি বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দিক আহম্মেদ ও পরিচালক আশরাফুল আলমকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে নেয়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে বিমান এমডি বলেন, সিট রিজার্ভেশন বা টিকিট বিক্রির মতো এত সূক্ষ্ম বিষয়ে তিনি অবহিত নন। এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। পুরোটাই মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের ওপর তিনি ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জানান। তিনি প্রায়ই টিকিট বিক্রি যাতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে, সেজন্য নির্দেশনা দিতেন।

পরিচালক মার্কেটিং আশরাফুল আলম প্রথমে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি অস্বীকার করে। এ পর্যায়ে তার সামনে যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপন করে টিকিট নিয়ে দুর্নীতি ও লুটপাটের তথ্য-উপাত্ত প্রমাণ করে দিলে তিনি একপর্যায়ে স্বীকার করতে বাধ্য হন। পরে আশরাফুল আলম ভবিষ্যতে এ প্রক্রিয়ায় আর অংশগ্রহণ করবেন না বলেও জানান।

এ প্রসঙ্গে ওএসডি হওয়া পরিচালক আশরাফুল আলম যুগান্তরকে জানান, টিকিট নিয়ে তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করেননি। বিমানের প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে কিছু কর্পোরেট কোম্পানির জন্য টিকিট ব্লক করেছিলেন। এটা সত্য কথা। কিন্তু এর সঙ্গে কোনো দুর্নীতি ও অর্থ হাতিয়ে নেয়ার কারসাজি ছিল না।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন : সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি


গণতন্ত্র ও জনগণের স্বাধীনতার স্বার্থে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কামনা করেছেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের বিদায়ী সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সমিতির বিদায়ী কমিটির সংবাদ সম্মলনে তিনি এ মুক্তির দাবি জানান।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকারের সদিচ্ছা নেই। রাজনৈতিক মামলা দিয়ে তাকে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। তাকে দিন দিন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আগাম জামিনের বিষয়ে নিজের সফলতা তুলে ধরে জয়নুল আবেদীন বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় যেন সর্বোচ্চ আদালত জামিন দিতে পারে সেজন্য প্রধান বিচারপতির সাথে দেনদরবার করেছি এবং আজকে সকল বেঞ্চেই আগাম জামিন দিচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থী মানুষ বিচার পাচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো মামলায় খালেদা হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে বার বার জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের জন্য কাজ না করে সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করছেন।

এদিকে প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলছেন, খালেদা জিয়া এবং তার পরিবার কোনো আবেদন করেনি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও প্যারোলে মুক্তি দিতে কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়নি। প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি শুধু গণমাধ্যমেই আমরা জেনেছি।

খোকন বলেন, বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতে এটা একটা কৌশল হতে পারে। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্ট বারের বিদায়ী সভাপতি তার শেষ বক্তব্যে বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় দীর্ঘদিন জেলখানায় কারাবন্দি আছেন। তিনি দিন দিন শারীরিকভাবে অসুস্থ হচ্ছেন। তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি পিজিতে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন আছেন। তাই আজ বিদায় প্রাক্কালে গণতন্ত্র, আইন এবং বিচার জনগণের স্বাধীনতার স্বার্থে খালেদা জিয়ার আশু মুক্তি কামনা করছি।

সভাপতি থাকাকালে বিচারবিভাগের ওপর হওয়া অনেক হামলা প্রতিহত করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ছিলো ঐতিহাসিক। পরবর্তীতে ষোড়শ সংশোধনী রায়ের কারণে বিচার বিভাগের ওপর আরো কঠিন হামলা এসেছে। তখন প্রধান বিচারপতিকে জোর করে দেশের বাইরে পাঠানো এবং পদত্যাগ করানোর মাধ্যমে সেই সময়কার হামলা সকলের মনে আছে। তবুও এত কিছুর মধ্যেও আইনজীবী সমিতির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে এগিয়ে গিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির বিদায়ী সহ-সভাপতি ড. মো: গোলাম রহমান ভূঁইয়া ও এম. গোলাম মোস্তফা, কোষাধ্যক্ষ নাসরিন আক্তার, সহ-সম্পাদক কাজী জয়নুল আবেদীন ও মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, সদস্য মাহফুজ বিন ইউসুফ, সাইফুর আলম মাহমুদ, ব্যারিস্টার আশরাফুল হাদী, শাহানা পারভীন, শেখ মোহাম্মদ মাজু মিয়া, মো: আহসান উল্লাহ ও মোহাম্মদ মেহদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি সরকারের কৌশল


বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয় নিয়ে তিনি ও তার পরিবারের কেউ কোনো আবেদন করেননি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন।

বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সমিতির বিদায়ী কমিটির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার খোকন এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, “প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি শুধু গণমাধ্যমেই আমরা জেনেছি। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতে এটা সরকারের একটা কৌশল হতে পারে। সরকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।”

আইনজীবী সমিতির বিদায়ী সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, অসুস্থ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকারের সদিচ্ছা নেই। রাজনৈতিক মামলা দিয়ে তাকে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। তাঁকে দিন দিন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জয়নুল আবেদীন বলেন, কোনো মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের জন্য কাজ না করে সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহসম্পাদক কাজী জয়নাল আবেদীন, কোষাধ্যক্ষ নাসরিন আক্তার, সদস্য মো. আহসান উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গত সোমবার দুপুর পৌনে ১টায় ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়।

উৎসঃ ‌‌পালাবদল

আরও পড়ুনঃ এক জায়গায় দাঁড়ান, এক দাবি তুলুন নেতাকর্মীদেরঃ শামসুজ্জামান দুদু


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ইস্যুতে দলটির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের ‘এক জায়গায় দাঁড়িয়ে এক দাবি তোলার’ আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেছেন, ‘আজ দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সবাইকে একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে একটাই দাবি তুলতে হবে। আসুন, সবাই আজ এক জায়গায় দাঁড়ান, এক দাবি তুলুন- ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, দিতে হবে’। এই জায়গাটায় আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।’

বুধবার (৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লা‌বের মিলনায়ত‌নে ৯০’র ডাকসু ও সর্বদ‌লীয় ছাত্র ঐক্যর উদ্যোগে “বেগম খা‌লেদা জিয়ার অবৈধ সাজা বা‌তিল ও নিঃশর্ত মু‌ক্তি এবং তা‌রেক রহমা‌নের সাজা বা‌তিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহা‌রের দা‌বি‌তে” আ‌য়ো‌জিত সমা‌বে‌শে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

‘রাজপথকে সবকিছুর মীমাংসা’ উল্লেখ করে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে দুদু বলেছেন, ‘সবকিছুর মীমাংসা হচ্ছে রাজপথ। এখানে যারা বসে আছেন অতীতে বহুবার তারা সেই প্রমাণ দিয়েছেন। দেশটাকে ধ্বংসের হাত থেকে জালিম সরকারের হাত থেকে বাঁচাতে, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে আর একটিবার রাজপথে নামুন। ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’

তি‌নি ব‌লেন, ‘দেশ একটি মর্মান্তিক পরিবেশে উপনীত হয়েছেন। এখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে খুনিকে, যার ফাঁসি হওয়ার কথা সে যদি আওয়ামী লীগের কেউ হয় তবে তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে, বিনা দ্বিধায় বিদেশে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। মহাচোর, যারা ব্যাংক ফাঁকা করে ফেলেছে শেয়ার মার্কেট লুট করে নিয়েছে সেই ব্যক্তিরা সম্মানিত আসনে বসে দেশে ও বিদেশে ঘুরে বেরাচ্ছে। অথচ যিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একেবারে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন মামলায় কারাগারে বন্দি করে রেখেছে সরকার। সেই মামলায় নিম্ন আদালত দিয়েছে পাঁচ বছর এবং হাইকোর্ট দিয়েছে ১০ বছরের সাজা। এটা দেশ নাকি জঙ্গল?’

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে যে ভোট হওয়ার কথা সেই ভোট না হয়ে আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। এরকম পরিস্থিতি এশিয়া মহাদেশের কোথাও হয়নি। সেই তথাকথিত ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীরা বলেন- এই সময়ের মতো আইনি শাসন, গণতন্ত্র নাকি অন্য যেকোনও সময়ের চে‌য়ে ভা‌লো। এটা তো দেশ না, জঙ্গল।’

কৃষক দ‌লের এই আহ্বায়ক ব‌লেন, ‘এই দেশ মুক্তিযুদ্ধকে ত্যাগ করেছে, এই রাষ্ট্র ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি করেছে। এই রাষ্ট্রকে বন্য রাষ্ট্রে রূপা‌ন্তরিত করেছে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা। ‌দে‌শ আজ বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। এই রাষ্ট্রে গণতন্ত্র তো দূরে থাক মানুষের ন্যূনতম অধিকারও নাই। এটা পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।’

এ সময় তিনি শ্রমিক, ছাত্র ও যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘নিজেকে নিজের সামনে দাঁড় করাতে হবে। নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে ভাবতে হবে। যেটা করার ছিল সেটা করতে পেরেছেন কিনা- নিজেকেই সেই প্রশ্ন করতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে অতীতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ করেছি, গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছি। তবে এখন পারছি না কেন? এই কথাটা নিজের কাছে নিজে প্রশ্ন করতে হবে। যদি না পারি তাহ‌লে সরে দাঁড়াতে হবে। অন্যকে আসতে দিতে হবে। এটা হল পরিষ্কার কথা। জায়গাও ছাড়বো না, কিছু করবোও না- এটা হতে পারে না।’

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সাবেক এই ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এখনও বেঁচে আছেন। যদি কোনও কারণে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে তখন সরকারকে যতই দোষারোপ করেন না কেন আফসোসের কিন্তু সীমা থাকবে না।’

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রে‌কিং‌নিউজ

আরও পড়ুনঃ চুরি-ছিনতাই করে শেখ মুজিবের স্বপ্ন পূরণ করছে ছাত্রলীগ!


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হল দখল, জমি দখল, ধর্ষণ, ভর্তি বাণিজ্য, ছিনতাই, চুরি, খুন-হত্যা, নির্যাতন ও ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের লাঞ্ছিত করার মাধ্যমে তাদের অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে যাচ্ছে। বলা যায়-শেখ মুজিবের সৈনিক পরিচয় দিয়ে এমন কোনো অপকর্ম বাদ নেই যা তারা করছে না। সব কিছুর আগেই তাদের স্লোগান হলো- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন। এখন স্বাভাবিকভাবেই সচেতন মানুষের মনে এখন প্রশ্ন জাগে শেখ মুজিব কি সারাদিন চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, দখল-বাণিজ্য আর খুন-হত্যার স্বপ্নই দেখতেন?

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এমন কোনো দিন নেই যেদিন পত্রিকার পাতায় ছাত্রলীগের অপকর্মের নিউজ থাকে না। বিশেষ করে দখল-বাণিজ্য নিয়ে নিজেরা মারামারি করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোকে তারা রণাঙ্গনে পরিণত করেছে। তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তাদের সীমাহীন অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ছাত্রলীগকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে ভিসি বলেছেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর ছোট হলেও ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে বারবার গণমাধ্যমের শিরোনাম হতে হয় আমাদের। ছাত্রলীগ নামধারীরা কিছুদিন আগে রাজীবের ওপর চাপাতি দিয়ে হামলা করেছে, আঘাত করেছে। এরা ছাত্র নয়, ছাত্র নামধারী জঙ্গি। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করতে চায়, তাদের স্থান এই বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে না। তিনি বলেন, তোমরা কখনও শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আসো নাই। এসেছো উন্নয়ন কাজে ভাগ বসাতে, উন্নয়ন কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে। তোমরা মারামারি, হানাহানি থেকে বের হয়ে আসো। শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আসো। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

ভিসির এই বক্তব্যের পর ছাত্রলীগের খুন-হত্যা, ধর্ষণ, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে আর বেশি কিছু বলার থাকে না। তারপরও এই প্রতিবেদনে ছাত্রলীগের সর্বশেষ ৩টি অপকর্মের ঘটনা উল্লেখ করা হলো-

প্রথমত: মাগুরা আদর্শ কলেজের নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ব্যবস্থা করে দেয়ার নামে টাকা নিয়েছিলেন কলেজ ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না করে ওই টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন তাঁরা। গত রোববার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওই কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা ছাত্রলীগ।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় মাগুরা আদর্শ কলেজ থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারছে না কলেজের শতাধিক নিয়মিত শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে কলেজ ছাত্রলীগের নেতারা টাকা নিয়েছিলেন। ওই কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়া হয় রোববার। অন্যদের সঙ্গে প্রবেশপত্র নিতে এসেছিল মানবিক বিভাগের ছাত্র রিয়াজ হোসেন। রিয়াজ জানতে পারে, অন্য বন্ধুদের প্রবেশপত্র এলেও তার টা আসেনি। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার ফরমই পূরণ হয়নি, প্রবেশপত্র আসবে কোত্থেকে। যদিও ফরম পূরণের জন্য সে টাকা দিয়েছিল কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের কাছে।

এ বিষয়ে রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি ও আমার দুই বন্ধুর কাছ থেকে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হুদা ১৬ হাজার ৬০০ টাকা নিয়েছেন। কথা ছিল, ফরম পূরণ করে দেবেন তাঁরা। তবে আমাদের প্রবেশপত্র আসেনি। দুই দিন হলো ফোনও ধরছেন না ওই নেতা।’ ওই শিক্ষার্থীরাসহ ৩০ জনের টাকা ওই নেতা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করে রিয়াজ।

একই অভিযোগ মানবিক বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ইমন হোসেনেরও। ইমন বলে, ‘পরীক্ষার ফরম পূরণের কথা বলে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হুদা ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমিন হোসেন আমার কাছ থেকে দুই দফায় ৮ হাজার ৩০০ টাকা নিয়েছেন। ফরম পূরণে নির্ধারিত ফি যেখানে ২ হাজার ৫০০ টাকা, সেখানে ছাত্রলীগের নেতার কাছে ফরম পূরণের জন্য এত টাকা দিয়েছ কেন জানতে চাইলে ইমন হোসেন বলে, নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। আর প্রতিবছর কিছু টাকা বেশি নিয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করিয়ে দেন ছাত্রলীগের নেতারা। ছাত্রলীগের নেতারা আশ্বাস দিয়েছিলেন, এবারও তাদের পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা করে দেবেন। তাই তাঁদের কাছে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত করে অর্থ দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এভাবে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে জানায় ইমন হোসেন।

দ্বিতীয়ত: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত এক ব্যক্তিকে মারধর ও তার কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের দায়ে ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ছাত্রলীগের ওই পাঁচ কর্মীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাময়িক বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের কর্মীরা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। এ ছাড়া ছিনতাই ও মারধরের বিষয়টি তাঁদের পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। সাময়িক বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের কর্মীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সঞ্জয় ঘোষ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মোহাম্মদ আল-রাজি, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের রায়হান পাটোয়ারী, দর্শন বিভাগের মোকাররম শিবলু ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শাহ মুশতাক সৈকত। তাঁদের মধ্যে সঞ্জয় ঘোষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম ব্যাচের ও বাকিরা ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, গত শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িচালক আলমগীর হোসেনের জামাতা মনির হোসেন তাঁর কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বিশমাইল এলাকার সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের কর্মীরা তাঁকে আটক করে মুঠোফোন, নগদ টাকাসহ মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন। একপর্যায়ে মনির হোসেন পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে ধরে ইজিবাইকে করে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে নিয়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। সেখানে তাঁরা মনির হোসেনকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে তাঁরা মনিরের স্ত্রীর কাছে মুঠোফোনে এক লাখ টাকা দাবি করেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ঘটনাস্থলে যান। এ সময় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা পালানোর চেষ্টা করেন। কর্মচারীরা তাঁদের মধ্যে তিনজনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন।

সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলে ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় এক শিক্ষার্থীরা পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে যাওয়ায় ডাসকু ভিপি নুরুল হক নুর ও সামসুন্নাহার হলের ভিপি ইমিকে লাঞ্চিত ও তাদের ওপর ডিম নিক্ষেপ করেছে তারা।

এভাবে তারা প্রতিদিন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রদের ওপর নির্যাতন করছে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ দেশে শিক্ষিত বেকার বাড়ছেই!


দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ কলেজ গ্রাজুয়েট ট্রেসার স্টাডির তথ্য উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক বলছে, কলেজ গ্রাজুয়েট পুরুষদের ৬৬ শতাংশই বেকার থাকছে। নারীদের মধ্যে এ হার আরো বেশি, ৭৭ শতাংশ। শহর-গ্রামভেদেও এ হারে পার্থক্য রয়েছে। মেট্রোপলিটন এলাকার কলেজ গ্রাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৫৫ শতাংশ হলেও গ্রামাঞ্চলে তা ৭২ শতাংশ। এ হারে পার্থক্য আছে বিভাগভিত্তিক কলেজ গ্রাজুয়েটদের মধ্যেও। মানবিক বিভাগের ৭৪ শতাংশ কলেজ গ্রাজুয়েট বেকার থাকলেও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের গ্রাজুয়েটদের মধ্যে এ হার ৭১ শতাংশ। এছাড়া বিজ্ঞানের ৬৬ শতাংশ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৬৯ শতাংশ কলেজ গ্রাজুয়েট বেকার থাকছেন।

প্রতি বছর ২০ লাখের মতো নতুন মুখ দেশের শ্রমশক্তিতে যুক্ত হচ্ছে। মোট শ্রমশক্তিতে বাড়ছে উচ্চশিক্ষিতদের অংশগ্রহণ। যদিও এদের বড় অংশই বেকার থাকছে। এর মধ্যেও বেশি পিছিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ গ্রাজুয়েটরা। ডিগ্রি সম্পন্নের পর চাকরি খুঁজতেই তিন বছর চলে যাচ্ছে ৪৬ শতাংশ কলেজ গ্রাজুয়েটের। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের ওপর জরিপ চালিয়ে এ তথ্য দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সেখানে কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি ও কলেজ গ্রাজুয়েটদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি এ চিত্রকে তারা উদ্বেগজনকও বলছে। দেশে দুই ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ মিলছে বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি-বেসরকারি কলেজ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, এর অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ২ হাজার ৩০০। প্রতি বছর কলেজের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) হিসাব মতে, সারা দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লাখের বেশি, যা মোট উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারীর ৬৮ শতাংশ। প্রতি বছর শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে গ্রাজুয়েট বের হচ্ছেন ৫০ হাজারের মতো।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পড়ালেখা শেষ করে মাত্র ১ শতাংশ কলেজ গ্রাজুয়েট স্বকর্মসংস্থানে যুক্ত হচ্ছেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর তিন বছর ধরে চাকরির সন্ধান করতে হচ্ছে ৪৬ শতাংশ কলেজ গ্রাজুয়েটকে। তাদের মধ্যে বেকারত্বের হারও সবচেয়ে বেশি ৭১ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষক সংকট, মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ ও বাজারমুখী কারিকুলামের অভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য চাকরির বাজার প্রস্তুত না থাকার কারণেও চাকরি পেতে বেশি সময় লেগে যাচ্ছে তাদের। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হেলাল ইনকিলাবকে বলেন, দেশে শিক্ষিত বেকার বাড়ার পিছনে মূলত কাজ করছে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন না হওয়া এবং সেক্টর অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া। বাংলাদেশে বিভিন্ন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পাশ করে বের হচ্ছেন তাদের সেক্টরগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। এক্ষেত্রে সরকারি কিছু উদ্যোগ থাকলেও বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ খুবই কম। ফলে তারা সরকারি সেক্টরগুলোতে ঢুকলেও বিষয় অনুযায়ী বেসরকারি সেক্টরে কর্মসংস্থান পাচ্ছে না। অন্যদিকে এখানে শিক্ষার গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, গুণগত শিক্ষার মান নিশ্চিত করা গেলে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হলেও বিদেশে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু শিক্ষিতের হার অনুযায়ী দক্ষ জনগোষ্ঠি তৈরী না হওয়ায় পড়ালেখা শেষেও নাগরিকদের একটি বড় অংশকে বেকার থাকতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে সংস্কার ও শিক্ষা ব্যবস্থাতে পরিবর্তন নিয়ে আমাদের আরও ভাবার বিষয় রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, একাধিক গ্রাজুয়েটের চাকরি খুঁজতেই তিন-চার বছর লেগে যাচ্ছে। এদেরই একজন নীলফামারীর রুদ্র তালুকদার। ২০১৪ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিলেও চাকরি হয়নি তার। চাকরি খুঁজতে খুঁজতে কেটে গেছে চার বছরের বেশি সময়। অবশেষে চলতি বছরের শুরুতে একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে প্রতিনিধির চাকরি পেয়েছেন এ কলেজ গ্রাজুয়েট।

অন্যদিকে পড়াশোনা শেষ করার পর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চাকরি জোটেনি ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী সাইদুর রহমানের। অর্থনীতি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি না পেয়ে এখন টিউশনি করে চলতে হচ্ছে তাকে। পাশাপাশি চলছে চাকরি খোঁজার চেষ্টা।

সর্বশেষ কলেজ গ্রাজুয়েট ট্রেসার স্টাডির তথ্য উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক বলছে, গ্রাজুয়েটদের বড় অংশেরই দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। তাদের ওপর জরিপ চালিয়ে সংস্থাটি বলছে, এক-তৃতীয়াংশ চাকরিজীবী গ্রাজুয়েট মনে করেন, কলেজে শেখা জ্ঞান ও দক্ষতা তারা কাজে লাগাতে পারছেন। অধিকাংশ কলেজ গ্রাজুয়েটই তাদের কলেজে শেখা জ্ঞান কাজে লাগাতে পারেন না। বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতি ১০ জনের মধ্যে মাত্র একজন জানিয়েছেন, কলেজে শেখা আইসিটি জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারছেন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নেহাল করিম ইনকিলাবকে বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পাবার পেছনে অনেকাংশে দায়ী এখানকার সরকারের নীতি ও আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি। বিশ্ব ব্যাংক থেকে শুরু করে অন্যান্য দাতা সংস্থা ও দেশগুলোর এখানে বৃহৎ কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য আশানুরূপ বিনিয়োগ করেন না। তাই এখানে চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়নি। অন্যদিকে, শিক্ষিত জনগোষ্ঠির মধ্যে বেকারত্বের হার বাড়ার পেছনে সরকারের নীতি অনেকাংশে দায়ী। দেশের তরুণদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার মত উদ্যোগ সরকার থেকে গ্রহণ করা হয়নি। সরকার জানেনই না অধীনস্ত বিভাগ ও দফতরসমূহে কত পদ খালি পড়ে আছে। এসব বিষয়গুলোতে আরও সুষ্ঠু তদারকি করা হলে বেকারত্বেও তীব্রতা কিছুটা হলেও কমে আসবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও বাজারের চাহিদা অনুযায়ী গ্রাজুয়েট তৈরিতে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীরা যাতে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পায়, সে বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের যৌথ অর্থায়নে সাড়ে ১৬ হাজার কলেজ শিক্ষকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে দেশের ভেতরে ও বাইরে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ব্যাপকসংখ্যক শিক্ষার্থীকে আইটি শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ বিতর্কে নাঈম-জয়


বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের সময় রীতিমতো নায়ক হয়ে উঠে শিশু নাঈম ইসলাম। অগ্নিকাণ্ডের দিন ফায়ার সার্ভিসের একটি লিকেজ পাইপে পলিথিন পেঁচিয়ে তাতে পা দিয়ে চেপে পানি আটকে মানুষের বিবেক জাগ্রত করেছিল। এমন দৃশ্যের ছবি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় নেট দুনিয়ায়।

সর্বমহলে প্রশংসায় ভাসতে থাকে ৮ বছর বয়সী নাঈম। তার পরের ঘটনাগুলো শিশু নাঈম আর তার পরিবারের জন্য অনেকটা বিব্রতকর। অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় নাঈমের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে। এর পরই শুরু হয় বিতর্ক। ওই সাক্ষাৎকার প্রচার করে জয় নিজেই ফেঁসে গেছেন। সাক্ষাৎকারে নাঈমের কাছে অভিনেতা জয় জানতে চান, তাকে অনেকেই পুরস্কার দিতে চাইছে।

পুরস্কারের টাকা সে কি করবে? জবাবে নাঈম জানায়, টাকা সে এতিমখানায় দিয়ে দেবে। নাঈম এও বলে যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা লুট করেছেন।

এ সাক্ষাৎকার প্রচারের পর অপর একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ওই সাক্ষাৎকারে নাঈম জানায়, এমন জবাব দিতে তাকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল। এ ভিডিও প্রচারের পর থেকে সমালোচনার কেন্দ্রে শাহরিয়ার নাজিম হয়। সমালোচনা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আক্রমনের শিকার হয়ে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে জিডিও করেছেন অভিনেতা জয়। এছাড়া অন্য একটি আইডি থেকে শাহরিয়ার নাজিম জয় ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার ব্যাখ্যাও দেন। বলেন, এখন আমি আপনাদের কিছু কথা বলব। কথাগুলো অত্যন্ত জরুরি। কারণ আপনারা সবাই আমার ওপর ক্ষিপ্ত। আমাকে আপনারা ফোন দিচ্ছেন, থ্রেট দিচ্ছেন, আমার ফেসবুক হ্যাকড হয়েছে, আমাকে গালাগালি করছেন। আমি একটা কথা আপনাদের খুব দৃঢ়ভাবে বলতে চাই নাঈম ছেলেটির আমি যে ইন্টারভিউ নিয়েছি। আমি সব সময় ইন্টারভিউ প্রোগ্রাম করি। কিন্তু আমি আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি আমি কোন কথা তাকে শিখিয়ে দেই নাই। নাঈম যে বক্তব্য দিয়েছে সেটা সে কোথা থেকে শিখে এসে দিয়েছে সেটা আমি জানি না।

আমার অনুষ্ঠানে এসে নিজের দায়িত্বে এসব বলেছে। তিনি বলেন, কোন জাতীয় নেতা নিয়ে মন্তব্য করার সাহস আমার নাই। এবং আমি করতেও চাই না। কারন সবাই সম্মানিত। জাতীয় নেতা যারা, একসময় যারা ক্ষমতায় ছিলেন বা এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তারা সবাই সম্মানিত। আমার মত ক্ষুদ্র মানুষ তাদের নিয়ে আলোচনা সাজে না। জয় বলেন, হ্যাঁ আমি কোন বিশেষ দলের সমর্থক হতে পারি। কিন্তু আমি অন্য দল নিয়ে বা অন্য দলের নেতা নিয়ে কটুক্তি করার অধিকার রাখি না। আমি সেটা করিওনা। নাঈম যেটি বলেছে সেটি আমি নিজে শুনেও হতবাক হয়েছি।

আমি তাকে দ্বিতীয় বার জিজ্ঞাসা করেছি। আমার ইন্টারভিউতে এ রকমভাবে উত্তর আশা করি নাই। কিন্তু উত্তর হয়ে গেছে। আমি একটি দায়িত্ব নিতে পারি কেন আমি সেটা প্রচার করেছি। কিন্তু আমি মানুষ যা বলে সবকিছু দর্শকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করি। আপনারা যারা আমাকে ভুল বুঝছেন তাদের কাছে আমি একটা রিকুয়েস্ট করতে পারি আপনারা আমাকে মিছি মিছি ভুল বুঝছেন। আমার ফেসবুক হ্যাকড করেছেন, আমাকে অপমান করছেন, থ্রেট দিচ্ছেন আমার জীবন হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন। কিন্তু আমি বলব আমি এটার জন্য দায়ী না।

জয় বলেন, যদি কখনও কেউ প্রমাণ করতে পারে যে আমি তাকে শিখিয়ে দিয়েছি তবে আমি আর কোন দিন উপস্থাপনা করব না। আপনারা না চাইলে আমি উপস্থাপনা ছেড়ে দিব। আপনারা আমাকে অপমান অপদস্ত থ্রেট দিবেন না। আমি বাঁচতে চাই, কাজ করতে চাই, আমি খুবই সাধারণ একজন মানুষ আমার ক্ষতি করবেন না।

পুরো বিষয়টি জানতে গতকাল করাইল বস্তিতে কথা হয় নাঈমের মা নাজমা বেগমের সঙ্গে। এর আগে টেলিফোনে দেখা করার কথা বলতেই নাজমা বলেন নাঈম অসুস্থ। সে তার নানা বাড়ি সাভার চলে গেছে। দুই সপ্তাহ পরে আসবে। কিন্তু নাঈমদের কড়াইল বস্তির বাসায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে নাঈমের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়। তাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়ের কাছে সাক্ষাৎকার দেয়ার পর তারা অনেকটা চাপের মধ্যে আছেন। আগে সচরাচর সবার সঙ্গে কথা বললেও এখন এড়িয়ে যান। স্থানীয়রা মনে করছেন কোন মহল থেকে তাদের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা থেকে দুরে রাখা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় নাঈম ও তার মা নাজমা বেগমের সঙ্গে কথা বলার উদ্দেশ্য তাদের বাসায় গেলে।

বাসায় তাদের খোঁজ নিতেই নাঈমের ছোট বোন কাজল জানায় তার মা নাঈমকে নিয়ে কোথাও চলে গেছেন। পরে নাজমা বেগমের কাছে ফোন দিলে জানান, তিনি অনেক দুরে আছেন বাসায় আসতে অনেক দেরি হবে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা কথা বলেন নাঈমের মা নাজমা বেগমের সঙ্গে। তাদের অনুরোধে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হন নাঈম ও তার মা। নাজমা বেগম মানবজমিনকে বলেন, আমি লজ্জিত, অনুতপ্ত। জয় ভাইয়ের ইন্টারভিউতে আমার ছেলে একটা কথা বলে ফেলছে। এই কথাটা তাকে কেউ শিখিয়ে দেয়নি। সে নিজে থেকে এই কথাটা বলছে।

এজন্য মা হয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী, খালেদা জিয়া ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছি। সবাই যেন আমার ছেলেকে ক্ষমা করে দেয়। আবার নাঈমও খালেদা জিয়ার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। সে বলেছে, ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে সে বুঝে উঠতে পারে নাই। সে যা বলেছে ভুল বলেছে। এটা বলা তার ঠিক হয়নি।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইস্যুতে ক্ষুব্ধ বিএনপির তৃণমূলের নেতারা


জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইস্যুতে ক্ষুব্ধ বিএনপির তৃণমূলের নেতারা। বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর ২০ দলীয় জোট গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। একই সাথে বিএনপিও তার নিজস্ব রাজনৈতিক স্বকীয়তা থেকে দূরে সরে গেছে। মঞ্চে বসে ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারা যখন বঙ্গবন্ধু-জয়বাংলা ইত্যাদি বলে মুখে ফেনা তোলেন অথচ চেয়ারপার্সনের মুক্তির কথা বলতে ভুলে যান তখন বিএনপির রাজনৈতিক স্বকীয়তা কোথায় থাকে? শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শ নিয়ে বিএনপি গঠন করেছেন তার বিপরীত আদর্শের ¯েøাগান যেখানে উচ্চকিত সেখানে নিজস্ব চেতনা কি ¤øান হয়ে যায় না? তৃণমূলের অনেক নেতাই এ ভাবে তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রয়োজনে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। ফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামের দুই সদস্য সরকারের সাথে আঁতাত করে জাতীয় বেঈমানে পরিণত হয়েছে। যারা জাতীয় বেঈমান, সরকারের তাবেদার-দালাল তাদের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া জরুরি। বিএনপির এখন দ্রæত নিজস্ব রাজনীতিতে ফিরে আসা উচিত। দলকে পুর্ণগঠন করে চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবি নিয়ে রাজপথে নামাই এখন প্রধান লক্ষ হতে হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিএনপির তৃণমুলের ক্ষোভ বিরাজ করছে। নির্বাচনের আগে ঐক্যফ্রন্ট যে সব দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপ করেছিল তার কোনটিই পূরণ হয়নি। তারপরও কেন ঐক্যফ্রন্ট অনেকটা চুপচাপ নির্বাচনে অংশ নিল এ বিষয়টি তৃণমূলের অনেক নেতার মনেই বিরাট প্রশ্ন হয়ে রয়েছে। এরপর নির্বাচনে ন্যাক্কারজনকভাবে যে ভোট ডাকাতির ঘটনা ঘটলো, ভোটের আগেরদিন রাতেই নৌকা মর্কায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হলো তারও কোন জোরালো প্রতিবাদ বা আন্দোলন হলো না কেন? এসব প্রশ্নের কোন সদোত্তর আজও পায়নি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের পর সারা দেশের নেতাকর্মীরা বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষনার দাবি জানায়। তাদের দাবির পর ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজও কোন কর্মসূচী ঘোষিত হয়নি। চেয়াপার্সনের মুক্তির দাবিতে জোরালো আন্দোলন কর্মসূচি না দেয়ায় ঐক্যফ্রন্টের প্রতি বিএনপির নেতাদের ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। আর গণফোরামের দুইজন সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ নেয়ার পর সে ক্ষোভ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। অনেকের প্রশ্ন করছেন, যে গণফোরামকে নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করতে গিয়ে ২০দলীয় জোটকে উপেক্ষা করা হলো তারাইতো আজ বেঈমানী করছে। যাকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা করা হলো সেই গণফোরামের সদস্যরাই তার কথা শুনছেনা। তাহলে এই নেতাকে নিয়ে সফলতা কতটুকু আশা করা যায়?

ঐক্যফ্রন্টের দুই নেতার সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ নেয়ার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এরা বেঈমান। জনগণের সাথে বেঈমানি করেছে, প্রতারণা করেছে। এটা নিজের দলের সাথে, জনগণের সাথে এবং ঐক্যফ্রন্টের সাথে প্রতারণা।

নেতাকর্মীদের এই ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ইতোমধ্যে ঘটতে শুরু করেছে। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন উপস্থিত কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে ড. কামাল হোসেন যখন বক্তব্য দিতে থাকেন তখন উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন আমরা এসব শুনতে চাই না, স্বাধীনতার ঘোষকের কথা বলুন? তখন ড. কামাল তার বক্তব্য বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকেন। এরপর এক পর্যায়ে তিনি রাগে বেশ উত্তেজিত হয়ে যান। এর আগে দলীয় এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিবও নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। ঐক্যফ্রন্ট বিএনপিকে ভুল পথে চালিত করছে সেখানে নেতাকর্মীরা এমন দাবি তুলেন।

বিএনপির এক প্রবীন কেন্দ্রীয় নেতা মনে করেন, এখন দল পুর্নগঠনে মনোযোগি হওয়া খুবই জরুরি। দলের স্থায়ী কমিটির শূন্যপদগুলো দ্রæত পূণ করা উচিত। বছরের পর বছর স্থায়ী কমিটির অনেক পদ শূন্য রয়েছে। এগুলো ৭দিনের মধ্যে পূরণ করা যায়। দলের অন্যান্য কমিটি এবং সহযোগি ও অঙ্গ সংগঠগুলো দ্রæত পুর্নগঠন করে আন্দোলনে যেতে হবে। আর আন্দোলনে বিজয়ী হতে হলে শুধু শক্তি দিয়ে নয় বুদ্ধি দিয়েও নানা কৌশলে অগ্রসর হতে হবে।

শেরপুর জেলা বিএনপির নেতা মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে বিএনপির কোন লাভ হয়নি, উল্টো বিএনপি তার নিজস্ব স্বকীয়তা হারাতে বসেছে। ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে আমাদের নানা প্রশ্ন শুনতে হচ্ছে। সবার জিজ্ঞাসা, ভোটের আগের দিন ২৯ ডিসেম্বরের রাতের নৌকা মার্কায় সিল মেরে বাক্স ভরার ঘটনা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানোর পর কেন কোন কর্মসূচি নেয়া হয়নি? তাহলে কি এর পিছনে অন্য কোন ষড়যন্ত্র আছে? এত প্রশ্নে মধ্যে সব চেয়ে বড় প্রশ্ন আমাদের প্রাণ প্রিয় নেত্রী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি। তাকে মুক্তির জন্য কেন কোন কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে না।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ এখন বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি কারাগারে আবদ্ধ : মির্জা ফখরুল


গণতন্ত্রকে বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতাসীন সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা পুনরায় প্রবর্তনের চক্রান্ত করছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ রাষ্ট্র থেকে গণতন্ত্রকে চিরতরে বিসর্জন দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালুর আয়োজন প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি একটা কারাগারে আবদ্ধ রয়েছে। বুধবার বিকেলে এক আলোচনা সভায় দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, আজকে দেশে যে সঙ্কট তা শুধু বিএনপির নয়, এটা জাতির সঙ্কট, রাষ্ট্রের সঙ্কট।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, সরকারের এ ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে হবে। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের আন্দোলনে নামতে হবে। গণবিচ্ছিন্ন হয়ে কখনো কোনো আন্দোলন সফল হয় না, হবে না। জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য আমাদেরকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব আশাবাদী মানুষ। আমি মনে করি, কখনো অন্যায়ের কাছে ন্যায়ের পরাজয় হতে পারে না। যেটা হয় সেটা সাময়িক হতে পারে। ন্যায়ের জয়, সত্যের জয় অবশ্যই হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল ও নি:শর্ত মুক্তি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা বাতিল, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সাবেক ছাত্র নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের নিচতলার মিলনায়তনে এ সমাবেশ হয়। ‘৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য’ এ সমাবেশের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নিহত নেতাকর্মীদের স্মরণে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও বিএনপি নেতা এবিএম মোশারফ হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, কামরুজ্জামান রতন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নব্বই দশকের ছাত্রনেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের এজমল হোসেন পাইলট সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন, মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল খান, তকদির হোসেন মোহাম্মদ জসিম, ছাত্রদলের ইখতিয়ার রহমান কবির, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজীদ আরেফিন, আব্দুর রহিম, রাজীব আহসান পাপ্পু সহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে: মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সঠিকভাবেই আমাদের অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠনের ও সক্রিয় করার কাজ শুরু করেছেন। বিএনপির সাংগঠনিক জেলাগুলোকে সক্রিয় করার কাজ শুরু করেছেন। আমার বিশ্বাস, অতি অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। অনেক ঝড় গেছে, অনেক সমস্যার মধ্যেও বিএনপি সবসময় উঠে দাঁড়িয়েছে ।

তিনি বলেন, অনেকে হতাশায় ভোগেন। হতাশায় ভুগলে বিজয় অর্জন করা সম্ভব নয়। বিএনপি এ দেশের জনগণের জন্য রাজনীতি করে। এদেশের মানুষ হচ্ছে বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। এ শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে, অতীতে আমরা তা লাগিয়েছি। কুচক্রীরা বার বার বিএনপিকে ভেঙে ফেলতে চেয়েছে, নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছে কিন্তু বিএনপি ঠিকই উঠে দাঁড়িয়েছে সমস্ত বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করে, বিএনপি আবার উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। দেশনেত্রীর মুক্তিই আমাদের কাছে প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। তার মুক্তির জন্য আমাদেরকে সংগঠিত হয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগুতে হবে। তার মুক্তি হলে তখন গণতন্ত্রেরও মুক্তি হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে দুর্বার আন্দোলনে যেতে হবে।

‘মিডিয়া নিয়ন্ত্রিত’: মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, আমাদের মিডিয়া এখন নিয়ন্ত্রিত। আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন, এখানে বিরোধী দলের খবর এখন সবচেয়ে কম ছাপা হয়-তৃতীয় কিংবা চতুর্থ পৃষ্ঠায়। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কয়েক সেকেন্ড খবর দেয়া হয়। কারণটা কী? মিডিয়া হচ্ছে একটা বড় মাধ্যম, যে মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছানো যায়। সে কারণে এ সরকারের অপচেষ্টা হচ্ছে, জনগণকে বিভ্রান্ত করে, যারা জনগণের শক্তি নিয়ে এগুতে চায় তাদেরকে বিভ্রান্ত করা।

আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে বিভিন্নভাবে। আমাদের দলের ত্যাগী-লড়াকু সৈনিকদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের উচিত হবে, এসমস্ত বিভ্রান্তিতে না পড়ে, দল ঐক্যবদ্ধ থেকে যাতে যে কোনো লড়াইয়ে অংশ নিতে পারে সেজন্য নিজেকে তৈরি করা। অতীতে আমরা দেখেছি, জনগণের শক্তির কাছে কোনো শক্তি জয়ী হতে পারে না, সম্ভব নয়। আমাদেরকে জনগণের ওপরই নির্ভর করতে হবে, তাদের কাছেই যেতে হবে এবং তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের এই অপশক্তিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য প্রয়োজনে আমরা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবো। হয় আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো নাহলে আমরা সকলে জেলে থাকব-এটাই আজ আমাদের শপথ হোক। কারাগারে দীর্ঘদিন আটক আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, গিয়াস কাদের চৌধুরী, আসলাম চৌধুরী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, মীর সরফত আলী সপু, শহিদুল ইসলাম বাবুল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ইসহাক সরকার, মামুনুর রশীদসহ সকল নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবিও জানান তিনি।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কৃষকলীগ নেতা কর্তৃক শিশু বলাৎকার


লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ১২ বছরের এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে জেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি মো. শাহীদুল ইসলাম শাহীনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে শিশুর বাবা মো. ইকবাল বাদী হয়ে কমলনগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত শাহীন উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরলরেন্স এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি স্থানীয় মাতাব্বর শিপন মাঝির নেতৃত্বে ১৫হাজার টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাতে উপজেলার চরলরেন্স বাজার থেকে জেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি শাহীদুল ইসলাম শাহীন চরলরেন্স এলাকার ইকবালের শিশুপুত্রকে ফুসলিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক বলাৎকার করে। পরদিন সকালে শিশুটি মা-বাবাকে ঘটনাটি খুলে বললে তারা ঘটনাটি স্থানীয়দের জানায়। পরে শনিবার রাতে স্থানীয় গ্রাম্য মোড়ল শিপন মাঝির নেতৃত্বে একটি সালিস বৈঠক হয়। বৈঠকে মাতাব্বর শিশুর বাবাকে ১৫হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করে। বৈঠকে ছেলের বাবা টাকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করলে মাতাব্বর ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

ভুক্তভোগী ছেলের বাবা মো. ইকবাল জানান, শাহিন তার ছেলের সর্বনাশ করেছে। বিষয়টি সে সবাইকে জানালে শিপন মাঝি জোরপূর্বক তাকে সালিসে বসায় এবং ১৫ হাজার টাকা দিয়ে বলে যেন বিষয়টি গোপন থাকে। টাকা না নিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ছেলের বাবা।

জেলা কৃষকলীগের সভাপতি হিজবুল বাহার রানা জানান, শাহীদুল ইসলাম শাহীন কোন অপকর্ম করলে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। সে কৃষকলীগের কেউ নন। আর সে জেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে যে ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহার করছে সেটাও ভুয়া।

এ বিষয়ে শাহীদুল ইসলাম শাহীনের সঙ্গে মুঠোফোন যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কমলননগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উৎসঃ ‌দ্যা ডেইলি স্টার

আরও পড়ুনঃ হেলিকপ্টারে আসে ইয়াবা !


ইয়াবা পাচারের অনেক খবর প্রকাশ হয়েছে গণমাধ্যমে। তবে এরকমটি শোনা যায়নি আগে কখনো। ইয়াবা পাচারের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে বেসরকারি হেলিকপ্টারকে। এ খবর পেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, কক্সবাজার থেকে হেলিকপ্টারে করে মাদক চোরাচালানের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য দিয়েছে। যেহেতু হেলিকপ্টারের যাত্রীদের তেমন কোনো নিরাপত্তাবলয়ের মাধ্যমে যেতে হয় না এবং পণ্য পরিবহনের সময় স্ক্যানিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা নেই, তাই এত দিন ব্যাপারটি কারও নজরে আসেনি।

এ তথ্য জানার পর বুধবার সকালে সচিবালয়ে বেসরকারি আটটি প্রতিষ্ঠানের হেলিকপ্টারের মালিক ও তাদের প্রতিনিধি, বিমান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছে স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়। মাদক পরিবহন প্রতিরোধে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে মাদক পরিবহন হচ্ছে। স্ক্যানিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক মাদক ব্যবসায়ী এ সুযোগ পাচ্ছে। এ জন্য হেলিকপ্টার মালিকদের ডেকেছিলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিতে আমরা একটি কমিটি করে দিয়েছি।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকেও মাদক পরিবহন প্রতিরোধে হেলিকপ্টার ব্যবহারে সতর্কতা জারি করতে বলা হয়।

বিমান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এত দিন তাঁরা খবর পেয়েছেন, অভ্যন্তরীণ রুটের বিমানে যাত্রীদের দিয়ে মাদক আনা-নেওয়া করা হয়। কিন্তু এখন খবর আসছে তারা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার করছে। এ অভিযোগ যারা ভাড়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে তাদের ক্ষেত্রে। বিমানের একজন কর্মকর্তা জানান, হেলিকপ্টার ওড়ার ছয় ঘন্টা আগে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অনুমতি নেওয়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগই নেন না।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘খালেদা জিয়া বা তার পরিবার কোনও আবেদন করেননি’


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তিনি কিংবা তার পরিবার কোনও আবেদন করেননি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও প্রস্তাব দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

বুধবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে বর্তমান কমিটির বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি শুধু গণমাধ্যম থেকেই আমরা জেনেছি। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতে এটা একটা কৌশল হতে পারে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আইনজীবী সমিতির বিদায়ী সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন অসুস্থ খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকারের সদিচ্ছা নেই। রাজনৈতিক মামলা দিয়ে তাকে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে।’

তাকে দিন দিন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘কোনও মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের জন্য কাজ না করে সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করছেন।’

আগাম জামিনের বিষয়ে নিজের সফলতা তুলে ধরে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় যেন সর্বোচ্চ আদালত জামিন দিতে পারে, সে জন্য প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি। এখন সব বেঞ্চই আগাম জামিন দিচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থী মানুষ বিচার পাচ্ছে।’

আইনজীবী সমিতির বিদায়ী এই সভাপতি তার শেষ বক্তব্যে বলেন, ‘তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় দীর্ঘদিন কারাবন্দি আছেন। তিনি দিন দিন শারীরিকভাবে অসুস্থ হচ্ছেন। তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তাকে পিজিতে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন আছেন। তাই আজ বিদায়ের প্রাক্কালে গণতন্ত্র, আইন, বিচার ও জনগণের স্বাধীনতার স্বার্থে খালেদা জিয়ার আশু মুক্তি কামনা করছি।’ সভাপতি থাকাকালে বিচার বিভাগের ওপর হওয়া অনেক হামলা প্রতিহত করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে এবং ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ছিল ঐতিহাসিক। পরবর্তীতে ষোড়শ সংশোধনী রায়ের কারণে বিচার বিভাগের ওপর আরও কঠিন হামলা এসেছে। তখন প্রধান বিচারপতিকে জোর করে দেশের বাইরে পাঠানো এবং পদত্যাগ করানোর মাধ্যমে… সেই সময়কার হামলা সবার মনে আছে। তবুও এত কিছুর মধ্যেও আইনজীবী সমিতির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে এগিয়ে গিয়েছি।’

এ সময় সমিতির বিদায়ী সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, এম. গোলাম মোস্তফা, অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন, ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান, নাসরিন আক্তার, কাজী জয়নুল আবেদীন, মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, শেখ মোহাম্মদ মাজু মিয়া, মো. আহসান উল্লাহ ও মোহাম্মদ মেহদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মোকাব্বির বেইমান, ওর সভায় ১০ জন লোকও হতো না: লুনা


জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেয়ায় সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানকে বেইমান বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা।

মঙ্গলবার দুপুরে একাদশ সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান। তিনি যে আসন থেকে নির্বাচন করেছেন, সেটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সিলেট বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এম ইলিয়াস আলী এ আসন থেকে একাধিকবার এমপি হন। তিনি নিখোঁজ থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনাকে। তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। পরে মোকাব্বিরকে সমর্থন দেন বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত ছিল ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে নির্বাচিত কেউ শপথ নেবেন না। সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেন মোকাব্বির। এ বিষয়ে তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, ‘মোকাব্বির বেইমান। তাকে কেউ চিনত না। তার কোনো ভোট নেই। সে আমার বাসায় এসে, আমার কাছে বলেছিল সে ইমানদার।’

নির্বাচনের আগে মোকাব্বিরের কোনো সমর্থন ছিল না উল্লেখ করে লুনা বলেন, মোকাব্বিরের সভায় ১০ জন লোকও হতো না। আমাদের সমর্থন নিয়েই সে এমপি হয়েছে। তার যোগ্যতা থাকলে সে যেন আবার প্রার্থী হয়।

এদিকে মঙ্গলবার শপথ নেয়ার পর মোকাব্বির খান বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। আপনারা জানেন ঐক্যফ্রন্ট আমাকে মনোনয়ন না দেয়ায় পরে যিনি (ইলিয়াসপত্নী লুনা) মনোনীত হয়েছিলেন, উনাকে আমি আশীর্বাদ জানিয়ে ইংল্যান্ডে চলে গিয়েছিলাম। উনি মনোনয়ন পাওয়ার পর আইনি জটিলতায় নির্বাচন করতে পারেননি। তখন আমার দল (গণফোরাম) আমাকে বারবার ফোন করেছে। আমি আমার দলের অনুরোধে এসেছিলাম এবং এটিকে সৌভাগ্য বলেন আর যেটাই বলেন আমার মনোনয়নটা আমি প্রত্যাহার করতে পারিনি। আর এই না পারাটা সৌভাগ্যের ব্যাপার ছিল।’

এর আগে ৭ মার্চ শপথ নেয়ার কথা থাকলেও শপথ নেননি মোকাব্বির। সেদিন গণফোরাম থেকে বলা হয়েছিল মোকাব্বির দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে শপথ নেবেন না। এর পর শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত কেমন করে এলো- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোকাব্বির বলেন, ‘এর আগে ৭ মার্চ আমার শপথ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমার দলের প্রেসিডিয়াম সভায় সিদ্ধান্ত হলো যে ৭ মার্চ শপথ না নিয়ে অন্য যে কোনো দিন আমি যেন শপথ নিই। সেদিন দলের যে প্যাডে যে প্রক্রিয়ায় আমি স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলাম, সেই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবারও প্রেসিডিয়ামের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে যোগদান করেছি।’

সংসদে তার ভূমিকা কী হবে এমন প্রশ্নে মোকাব্বির বলেন, সংসদে আমি শতভাগ বিরোধী দলের ভূমিকা নেব। জনগণের কথা বলব। গণফোরামের যে বক্তব্য সেগুলো তুলে ধরব। দেশের জনগণের চিন্তাভাবনা আমার মুখ থেকে যেন সবাই শুনতে পায় সেই হিসেবে কাজ করব।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ঢাকায় ডাকাতি


ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডাকাতি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা এখন কারাগারে আছেন। তেজগাঁও থানা-পুলিশ ঢাকার আদালতকে জানিয়েছে, ডাকাতি মামলার এক নম্বর আসামি হলেন হুমায়ুন কবির (৩৭)। তিনি কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একজন পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ডাকাতির মামলায় কাউন্টার টেররিজমের পরিদর্শক হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের আদেশ তিনি কারাগারে আছেন।

তবে পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের আইনজীবী লিখিতভাবে আদালতের কাছে দাবি করেছেন, ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে হুমায়ুন কবির জড়িত নন। তাঁকে ষড়যন্ত্র করে এ মামলায় জড়িত করা হয়েছে। হুমায়ুন কবীর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ডাকাতির কবল পড়েন বাংলাদেশ ফিল্ম প্রডাকশনের সহকারী ব্যবস্থাপক শাহজাহান সরকার। ডাকাত দলের সদস্যরা শাহজাহানকে মারধর করে তাঁর মোটরসাইকেল কেড়ে নেয়। একই সঙ্গে এটিএম কার্ডের গোপন পিন নম্বর এবং বিকাশের গোপন পিন নম্বর জেনে নেয় ডাকাতরা। এ ঘটনায় শাহজাহান সরকার বাদী হয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

মামলায় শাহজাহান সরকার অভিযোগ করেন, সেদিন রাত ১২ টা ১০ মিনিটে নিজের মোটরসাইকেলে করে পুলিশ প্লাজা থেকে মহাখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ১২ টা ১৫ মিনিটে লিংক রোডের শান্তা ওয়েস্টার্ন টাওয়ারের সামনে আসলে এক লোক তাঁকে থামার জন্য নির্দেশ দেন। তাঁর বয়স ছিল ৩০ কিংবা ৩৫ বছর। শাহজাহান তখন দাঁড়ান। সেখান থেকে পাঁচ গজ দূরে দাঁড়ানো সাদা রঙের প্রাইভেটকার থেকে তিনজন লোক নেমে আসেন। এর মধ্যে একজনের বয়স ৩৫ কিংবা ৩৬ বছর। তাঁর গায়ের রং শ্যামলা। মাথার চুল ছোট। কোমরে ওয়ারলেস সেট ছিল। একটা কার্ড দেখিয়ে বলেন, তিনি পুলিশের লোক। ক্রাইমের স্পেশাল অফিসার। তখন ওই লোকটি তাঁর দুই সহযোগীকে নির্দেশ দেন, শাহজাহানের দেহ তল্লাশি করার জন্য।

মামলায় আরও বলা হয়, শাহজাহানের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকের এটিএম কার্ড, নগদ সাড়ে আট হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। তখন শাহজাহানকে প্রাইভেট কারে তোলার চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী শাহজাহান বাধা দেন। তখন ডাকাত দলের সদস্যরা মারধর করে তাঁকে প্রাইভেট কারে তোলে। পরে শাহজাহানের কাছে এটিএম কার্ডের গোপন নম্বর চায়। না দিতে চাইলে লাঠি দিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে এটিএম কার্ডের পিন নম্বর বলে দেন শাহজাহান। পরে ডাকাতরা মহাখালীর ডাচ বাংলার এটিএম বুথে যায়। ডাকাত দলের একজন সদস্য সেখানে ঢুকে আবার গাড়ির কাছে আসে। শাহজাহানকে বলে, কার্ড বুথে আটকে গেছে। তখন ডাকাত দলের সদস্যরা মারধর করে শাহজাহানের বিকাশ নম্বরের গোপন পিন নম্বর নিয়ে নেয়। তখন প্রাইভেটকারটি হাতিরঝিলে আসে। বিকাশ নম্বর থেকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে নেয়।

হাতিরঝিলে গাড়ি থেকে নামিয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা শাহজাহানকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘সোজামতো বাড়ি যাবি। কোথাও কোনো সাউন্ড করবি না। সাউন্ড করলে তোকে শেষ করে দেব। রাত বাজে তখন ২টা ৩০ মিনিট।’

শাহজাহান সরকার বলেন, ডাকাত দলের সদস্যরা মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়। পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডাকাতি করে। ডাকাত দলের সদস্যদের বয়স ২৫ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হুমায়ুন কবির ও মহরম নামের দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আদালতে হাজির করে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান। আদালতকে পুলিশ প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, মামলার এক নম্বর আসামি হুমায়ুন কবির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক বলে জানা যায়। এক নম্বর আসামি হুমায়ুন কবিরের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল বিকাশ নম্বর-এ ট্রানজেকশন (স্থানান্তর) করা। বিকাশের মোবাইল সেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স হুমায়ুন কবিরের কাছ থেকে জব্দ করা হয়। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের ঘটনার কথা স্বীকার করলেও বাদীর লুণ্ঠিত মালামাল ও সহযোগী অপরাপর আসামিদের কথা এড়িয়ে যায়। আদালত সেদিন হুমায়ুন কবির ও মহরমকে এক দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।

ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কাউছার ও মনিরুজ্জামান আরও দুজনকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে গত ১ মার্চ ঢাকার আদালতে হাজির করে পুলিশ। সেদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান আদালতকে এক প্রতিবেদন দিয়ে জানান, আসামি মহরমের তথ্য ও দেখানো মতে বাদী শাহজাহানের লুণ্ঠন করা মোটরসাইকেল কাউছারের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়। মনিরুজ্জামানের কাছে বাদীর মুঠোফোন জব্দ করা হয়। আদালত সেদিন কাউছার ও মনিরুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ৩ মার্চ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঢাকার আদালতে জবানবন্দি দেন আসামি কাউছার ও মনিরুজ্জামান।

তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ডাকাতির মামলায় হুমায়ুন কবিরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা এখন কারাগারে আছেন।

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ ওসিরা এত সাহস পায় কোথায়, দেশটা কি চোরের দেশ হয়ে গেছেঃ হাইকোর্টের প্রশ্ন


সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার ওসির কর্মকাণ্ডে থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন হাইকোর্ট। এক বিচারক বলেছেন, ওসিরা এত সাহস কোথায় পায়?

মামলা না নেয়ায় শ্যামনগরের ওসি হাবিল হোসেনের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির রিট আবেদনের শুনানিতে মঙ্গলবার বিচারপতি নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ থেকে এ মন্তব্য আসে।

জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি একদল দুর্বৃত্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার সোরা গ্রামের ফজলুল করিমকে মারধর করে এবং বেশকিছু মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানালে তিনি বিষয়টি গুরুত্বই দেননি। ফজলুল করিম এ বিষয়ে মামলা করতে চাইলে মামলাও নেননি। ওসি বরং চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে বিষয়টি মীমাংসা করার পরামর্শ দেন। এ কারণে মামলা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন ফজলুল করিম।

রিটের শুনানির শুরুতেই আদালত জানতে চাইলে ঘটনাটি আংশিক সত্য বলে উল্লেখ করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।

এ সময় আদালত বলেন, ‘ওসি মামলা নিলেন না কেন? আমরা রুল দিয়ে দেখি, কেন তিনি মামলা নিলেন না। ওসি সাহেবরা সব জায়গায় কোর্ট বসিয়ে দেন। তারা কি সালিশ করতে বসেছেন যে সুবিধামতো হলে মামলা নেবেন। অথচ টাকা ছাড়া থানায় একটা জিডিও হয় না। ওসিরা যেখানে-সেখানে কোর্ট বসায়, রাতে কোর্ট বসায়। এত সাহস তারা কোথায় পায়?’

আদালত আরও বলেন, ‘১৩ হাজার পুলিশ যারা থানায় বসেন, তাদের জন্য গোটা পুলিশের বদনাম হতে পারে না। অনেক পুলিশ খুব কষ্ট করে জীবন-যাপন করেন। অথচ অনেকের দেখি ৪-৫টা করে বাড়ি। দেশটা কি চোরের?’

আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শামসুল হক কাঞ্চন।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম যুগান্তরকে বলেন, আদালত শুনানিতে থানা পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ স্বর্ণালংকার লুট, হামলা, দরজা ভাঙার কোনো প্রমাণ পায়নি। কিন্তু পাঁচিল ভাঙার প্রমাণ পেয়েছে। কোর্টকে এটা জানানোর পর কোর্ট বলল, যেহেতু পাঁচিল ভাঙা পেয়েছে আংশিক সত্যতা তো পাওয়া গেছে। তাহলে পুলিশ কেন মামলা নেবে না?’

মামলাটি এক সপ্তাহের জন্য ‘স্ট্যান্ডওভার’ রেখে আদালত শ্যামনগর পুলিশকে এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মুকাব্বির বেঈমান ও প্রতারকঃ মির্জা ফখরুল ইসলাম


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী গণফোরামের মোকাব্বির খান জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদ সদস্যের শপথ নেয়ায় তাকে ‘বেঈমান ও প্রতারক’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খান । এর আগে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী গণফোরামের সুলতান মনসুর গত ৭ মার্চ একইভাবে দল ও জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেন।

সে সময় সুলতান মনসুরকেও প্রতারক ও বেইমান বলেছিলেন মির্জা ফখরুল। আজ মোকাব্বির শপথ নেয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এরা বেইমান। জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছে, প্রতারণা করেছে। এটা নিজের দলের সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে এবং ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রতারণা।’

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগে পুনর্নির্বাচন দাবি করছে এবং তাদের বিজয়ী আট সাংসদ শপথ নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়। গণফোরামের মোকাব্বির ও সুলতান মনসুর প্রথম দিকে এই সিদ্ধান্ত মেনে চলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে দুনোমনো চলতে থাকে। অবশেষে শপথই নিলেন তারা। দুজনেরই দাবি, তাদের শপথে দলের সায় রয়েছে।

আজ শপথ নেওয়ার পর মুকাব্বির জানান, তিনি দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ নিয়েছেন। তবে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলছেন, তিনি (মোকাব্বির) ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে শপথ নিয়েছেন। দলীয় প্যাড ‘চুরি’ করে তিনি স্পিকারকে দলের সিদ্ধান্তে শপথ নিচ্ছেন বলে চিঠি দেন।

গত ৭ মার্চ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর দল থেকে তাকে বহিষ্কার করে গণফোরাম। মুকাব্বিরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে শোনা গেছে।

উৎসঃ ‌ঢাকাটাইমস

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here