বিদেশি গণমাধ্যমে পেন্সিলে আঁকা খালেদা জিয়ার কারাজীবন! ( ছবি সহ )

0
632

কথিত দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এক বছরেরও বেশি সময় কারাগারে রয়েছেন। এবার তার সেই কারাজীবন নিয়ে পেনসিলের আঁকা বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যম বেনার নিউজ।

খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তাতে বাধা দিয়েছেন। কারাগারে যাওয়ার পর ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার কোনো আলোকচিত্র কিংবা ছবি প্রকাশ করা হয়নি।

শারীরিক দুর্বলতার জন্য মাঝে মাঝে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন খালেদা জিয়া।

বেনার নিউজ দাবি করছে, বিএনপি এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে খালেদা জিয়ার কারাজীবন নিয়ে স্কেচ তৈরি করেছেন ইলাস্ট্রেটর রেবেল পেপার।

পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি হচ্ছেন একমাত্র খালেদা জিয়া। একসময় সেখানে কয়েক হাজার বন্দি ছিলেন। কারাগারে তার পাশের কক্ষেই থাকেন তার ব্যক্তিগত পরিচারিকা ফাতেমা।

২০১৮ সালে তারা পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। এর বছর দুয়েক আগে ২০১৬ সালে সেটি খালি করে বন্দিদের একটি নতুন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কারাগারে প্রশাসনিক ভবনের প্রথম ফ্লোরেই খালেদা জিয়ার থাকার জায়গা। তিনি ১০ ফুট লম্বা ও আট ফুট চওড়া একটি কক্ষে থাকেন।

কারাগারটি একজন সাবেক উপপরিদর্শক বেনার নিউজকে বলেন, সেখানে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে একটি টেবিল, দুটি চেয়ার দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি গ্লাস, পিরিচ, চিরুনি, টুথব্রাশ, টুথপ্লেট, সাবান ও শ্যাম্পুসহ অন্যান্য জিনিসও রয়েছে তার জন্য।

২০১৮ সালের জুনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে খুবই নোংরা পরিবেশে রাখা হয়েছে। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারটি পরিত্যক্ত। এতে বড় বড় ইঁদুর থাকে।

তিনি বলেন, আপনারা শুনে অবাক হবেন, খালেদা জিয়া যে কক্ষে থাকেন, সেই কক্ষটিতে একটি বিড়াল ইঁদুর শিকার করেছে।

কিছু কছু বিরোধী নেতা অভিযোগ করেন, কক্ষটিতে পোকামাকড়ের উপদ্রুব রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, তারা ডাহা মিথ্যা বলছেন। খালেদা জিয়াকে বিশেষ বন্দির মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তাকে খাট, বিছানা, বালিশ, ফ্রিজসহ অন্যান্য আসবাবপত্র দেয়া হয়েছে।

‘কিন্তু সেখানে কীটপতঙ্গের উপদ্রব কেমনে হয়? কক্ষটি খুবই পরিচ্ছন্ন।’

খালেদা জিয়ার বন্দিত্ব নিয়ে বিএনপির নেতারা রাজনীতি করছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি কারাকর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

প্রতিদিনের রুটিন অনুসারে খালেদা ফল দিয়ে সকালের নাস্তা করেন এবং পত্রিকা পড়েন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে স্বাভাবিক সুপ দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারাকর্মকর্তা বেনার নিউজকে বলেন, তিনি পেঁপে ও অন্যান্য ফলের জুস পছন্দ করেন। আমাদের দেয়া ফল তিনি খাচ্ছেন।

খালেদা জিয়াকে তার পছন্দ অনুসারে একটি পত্রিকা দেয়া হয়। এ ছাড়া কারাকক্ষে তাকে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন দেখার সুযোগ দেয়া হয়।

সরকার কারাগারের ভেতর বিশেষ জজ আদালত বসিয়েছেন। যেটা তার কক্ষ থেকে খুব দূরে নয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মামলার শুনানির সময় তাকে আনা হয়।

হুইলচেয়ারে বসে তিনি যখন আদালতে যান, তখন দুই নারী পুলিশ থাকে তার সঙ্গে। মাঝে মাঝে তিনি শুনানিতে আসতে অস্বীকার করেন।

গত ১ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় তাকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন- খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার মতো নয়। কাজেই স্বাস্থ্যের জটিলতা নিয়ন্ত্রণ করেই তাকে বেঁচে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আর্থ্রাইটিস ও হাঁটুতে সমস্যা আছে। তার পেশি সক্রিয় রাখতে আমরা দুজন ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ দিয়েছি। প্রতিদিন তাকে থেরাপি দেয়া হয়।

‘এ ছাড়া তার মেডিকেল চেকআপের জন্য একজন নারী চিকিৎসক রয়েছেন। চিকিৎসক তার রক্তচাপ, রক্তের শর্করার রেকর্ড রাখেন।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌দলের সাথে বেঈমানি করার কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হচ্ছেন জাহিদুর


দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩ (রানীশংকৈল) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান।

বুধবার দুপুর ১২টায় সংসদ ভবনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে শপথ নেন তিনি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

জাহিদুর রহমানের শপথের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের কেউ-ই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা জানিয়েছেন, আজ বিকালে এ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

জানা গেছে, জাহিদুর রহমানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলবেন। তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটিই চূড়ান্ত।

বিএনপি নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, একাদশ সংসদে বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত দলের সর্বোচ্চপর্যায় থেকে আসা। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি একাধিক বৈঠকে সর্বোতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওইসব বৈঠকে যারা এ সিদ্ধান্ত না মেনে শপথ নেবেন, তাদের বহিষ্কারের বিষয়েও নেতারা একমত পোষণ করেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে জাহিদুর রহমানের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে জানানো হতে পারে। কিংবা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।

এদিকে জাহিদুর রহমানের শপথের বিষয়ে বিএনপি কিছুই জানে না বলে দলটির একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে বলেন, জাহিদুর রহমান শপথের বিষয়ে দল কিছু জানে না। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

আজ শপথ নেয়ার আগে ও পরে কয়েক দফা জাহিদুর রহমানের মুঠোফোনে কল করা হয়। কিন্তু ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

জাহিদুর রহমানের শপথ নেয়ার পর ঢাকার এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যারা শপথ নিচ্ছেন তারা বেঈমান। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এর আগেও বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সতর্ক করে বলেছিলেন- শপথ নেয়া তো দূরের কথা সংসদের আশপাশেও যাওয়া যাবে না।

সম্প্রতি বিএনপির নির্বাচিতরা দলের মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করে শপথ নেয়ার বিষয়ে আগ্রহের কথা জানালেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্ত না মানলে শাস্তি কি হতে পারে সেদিকেও ইঙ্গিত করেন।

বিএনপির অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গত শুক্রবার সুপ্রিমকোর্ট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেই আমরা সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই এ বিষয়ে আর কোনো কথা নয়। এমনকি খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিনিময়েও বিএনপি শপথ নেবে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নির্বাচিতদের শপথ না নেয়ার বিষয়ে দলের সুদৃঢ় অবস্থানের কথা বারবার ব্যক্ত করেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচিত সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানের শপথের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল। সুলতান মনসুরকে জাতীয় বেঈমান আখ্যা দেন। মোকাব্বির খানকে সিলেটে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে স্থানীয় বিএনপি।

এতদসত্ত্বেও জাহিদুর রহমান আজ শপথ নিয়েছেন। তাকে বহিষ্কারাদেশ অনিবার্য মনে করছেন বিএনপি নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, দল থেকে বারবার সতর্ক করার পরও জাহিদুর শপথ নিয়েছেন। তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বিএনপির রাজনীতি বলতে কিছুই থাকবে না। এমনকি জাহিদের পথ অনুসরণ করে অন্যরাও শপথ নিতে পারেন।

জাহিদুর রহমানসহ আরও কয়েকজন শপথ নিতে পারেন এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল কয়েক দিন ধরেই। আজ সেটিই সত্যি হলো।

রংপুর বিভাগের মধ্যে জাহিদুর রহমানই একমাত্র বিএনপির প্রার্থী, যিনি জয়ী হতে পেরেছেন।বিএনপি নেতা হিসেবে জাহিদই প্রথম একাদশ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

এর আগে বিএনপির এক নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দু’জন এমপি শপথ নিতে পারেন আমাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে। এদের মধ্যে একজন এবারই প্রথম নির্বাচিত হয়েছেন। আরেকজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী। আমরা তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথাও বলেছি। আশা করছি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা যাবেন না। এর আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর একাদশ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।তাকে অনুস্মরণ করে শপথ নেন সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান।

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৮ জনপ্রতিনিধি জয়ী হন।ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে ঐক্যফ্রন্ট এই নির্বাচনে ফল বর্জন করে। সেই সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রতিনিধি সংসদে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌যারা সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিয়েছে ও নিবে তারা জাতীয়তাবাদী শক্তির দুশমন : গয়েশ্বর


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, একাদশ সংসদে ধানের শীষের প্রতীকে নির্বাচিত কেউ শপথ নিবেন না বলে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে। যারা এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদে শপথ নিয়েছে এবং শপথ নিবেন তারা জাতীয়তাবাদী শক্তির দুশমন। তারা এদেশ ও জাতীর দুশমন।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণমাধ্যম বিরোধী কালো আইন বাতিল, সাংবাদিক হত্যার বিচার, বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না তারা গণতান্ত্রিক সরকার হতে পারে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, যেভাবেই হোক শেখ হাসিনা এখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি একজন নারী। সংসদের স্পিকারও একজন নারী। কিন্তু এদেশে নারীদের এখন কোনো নিরাপত্তা নেই। বাসস্ট্যান্ড থেকে বিমানবন্দর এখন কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাখাওয়াত ইবনে মঈনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই চন্দ্র রায়, আব্দুল্ আউয়াল মিন্ট, শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এ এম আব্দুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ ‌দলের সাথে গাদ্দারি করে শপথ নিল বিএনপির জাহিদুর


শীর্ষ নেতারা সংসদে না যাওয়ার কথা বারবার বলে এলেও বিএনপি থেকে নির্বাচিত ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান শপথ নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে তিনি শপথ নিয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাহিদুর রহমানের শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুর ১২টায় সেই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে জাহিদুর রহমান শপথ নেয়ার বিষয়ে তার আগ্রহের কথা জানিয়ে স্পিকার ড. শিরীর শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দেন।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদের অনুরোধেই শপথের এ আয়োজন করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে (পীরগঞ্জ–রানীশংকৈল) তিন সাবেক সাংসদকে হারিয়ে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুর রহমান নির্বাচিত হন।

জাহিদুর রহমান ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচন করছেন। দীর্ঘ ২৭ বছর পর মানুষের সহানুভূতির কারণে তিনি এবার জয়ী হতে পেরেছেন।

জাহিদুর রহমান (ধানের শীষ) ৮৮ হাজার ৫১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমদাদুল হক। তিনি ৮৪ হাজার ৩৮৫ ভোট পান।

রংপুর বিভাগের মধ্যে জাহিদুর রহমানই একমাত্র বিএনপির প্রার্থী, যিনি জয়ী হতে পেরেছেন।

এর আগে বিএনপির অপর এক নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দুজন এমপি শপথ নিতে পারেন আমাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন এবারই প্রথম নির্বাচিত হয়েছেন। আরেকজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী। আমরা তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথাও বলেছি। আশা করছি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা যাবেন না।

সূত্র জানায়, দলের চাপে নির্বাচিতরা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শপথ নিতে না পারলে সময় বৃদ্ধির জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন করতে পারেন। স্পিকার চাইলে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শপথ নেয়ার সময় বৃদ্ধি করতে পারেন।

শপথগ্রহণের সময় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক যুগান্তরকে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কারও সদস্যপদ শূন্য ঘোষণা করা না করার পুরো এখতিয়ার একমাত্র স্পিকারের। ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে কোনো সদস্য শপথ না নিলে তিনিই করণীয় ঠিক করবেন। এ ক্ষেত্রে স্পিকার নির্বাচিত সদস্যকে শপথ নেয়ার জন্য আবারও সময় দিতে পারেন, নাও পারেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে দাবিদার কে এই শমী?


অবশেষে সাংবাদিকদেরকেও চোর বানিয়ে ছাড়লেন শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে দাবিদার ও আওয়ামী লীগের উচ্ছিষ্ঠভোগী শমী কায়সার। অভিনেত্রী হিসেবে শমী কায়সার সবার কাছে পরিচিত। বিশেষ করে শহীদুল্লাহ কায়সারের নামের অংশ নিজের নামের শেষে যোগ করার কারণেই মুলত শমীকে মানুষ চিনে। তবে, আওয়ামীপন্থী মিডিয়ায় শমীর আগমন ঘটেছে এক নববুদ্ধিজীবী হিসেবে। বিভিন্ন টিভি টকশোতে গিয়ে সে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধারের চেষ্টা করে। তার বক্তব্য শুনলে মনে হয় যে, সে নিজেই একজন মুক্তিযোদ্ধা। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় তার জন্মই হয়নি।

শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে দাবিদার কে এই শমী কায়সার? কি তার বংশ পরিচয়? তার কি আসলেই কোনো বংশ পরিচয় আছে? তার মা-খালাদের পরিচয় পাওয়া গেলেও সত্যিকার অর্থে তার কোনো পিতৃ পরিচয় পাওয়া যায়নি। অনেকে মনে করে শমীর বাবার কোনো পরিচয় নেই। অ্যানালাইসিস বিডির অনুসন্ধানেও শমীর সঠিক বাবার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

উইকিপিডিয়ায় শমীর পরিচয় দেয়া হয়েছে- সে ১৫ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শহীদুল্লাহ কায়সার ও মাতার নাম পান্না কায়সার। তার মা পান্না একজন লেখক এবং সাবেক সংসদ সদস্য। শমীর একজন ছোট ভাই আছেন, অমিতাভ কায়সার। তার মা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দুজা চৌধুরীর স্ত্রী মায়া পান্নার বোন। ফলে, শমী এবং রাজনীতিবিদ মাহি বি. চৌধুরী খালাতো ভাই-বোন।

শমী ১৯৯৯ সালে ভারতীয় নাগরিক ব্যবসায়ী অর্নব ব্যানার্জী রিঙ্গোকে ছলেবলে কৌশলে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন। তবে পরবর্তীতে রিঙ্গো তার নিজের ধর্মে ফিরে যান। এর দুই বছর পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে তিনি ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের আরেক দালাল হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ এ আরাফাতকে বিয়ে করেন।

এবার আসা যাক শমীর বাবার বংশের দিকে। শমীর দাবি তিনি শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে। আসলে শহীদুল্লাহ কায়সার কি তার অর্জিনাল বাবা? শমী কি সেই প্রমাণ দেখাতে পারবেন? মোটেও না।

কারণ, ১৯৬৯ সালে বিয়ে হয় বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সার ও অধ্যাপিকা পান্না চৌধুরীর। তখন পান্না চৌধুরীর বয়স মাত্র ২২ বছর। শহীদুল্লাহ কায়সারকে গুম করা হয় ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর।

শহীদুল্লাহ কায়সারের সাথে তার স্ত্রীর সংসারের মেয়াদ প্রায় দুই বছর। এই দুই বছরে শহীদুল্লাহ কায়সারের দুইটি সন্তান হয়! এক, শমী কায়সার, জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে। দুই, অমিতাভ কায়সার প্রকাশ অমি কায়সার।

সবেচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- ১৯৬৯ সালে শহীদুল্লাহ কায়সার পান্না চৌধুরীকে বিয়ে করেন। ঐ সালের কোন মাসে বিয়ে করেন সেটা জানা যায়নি। যদি ধরে নেওয়া হয় ঐ বছরের জানুয়ারি মাসেই তিনি বিয়ে করেছেন, তাহলেও সেই মাসের ১৫ তারিখেই কীভাবে শমী কায়সার জন্মগ্রহন করতে পারেন? বিয়ের এক মাসেই কী করে সন্তান জন্ম নেয়? তাছাড়া, ১৯৬৯-১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে কিভাবে দুইটি সন্তান জন্ম দিতে পারে শহীদুল্লাহ কায়সার।

শমী শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে এটা কোনো যুক্তিতেই মিলে না। শমী তার মা পান্না চৌধুরীর গর্ভে এসেছিল শহীদুল্লাহ কায়সারের সঙ্গে বিয়ের আগেই। এখন শমীর আসল বাবার পরিচয় কি হবে সেটা গবেষণার দাবি রাখে।

কথিত আছে,পান্না কায়সার গর্ভবতী হয়েছিলো তার এক খিরিস্টান বয় ফ্রেন্ড দারা যার নাম ছিলে জন ম্যাথিও সে ডাবির আইন বিভাগের দ্বিতিয় বর্ষের ছাএ ছিলো সে শহিদুল্লা হলের ৫০৮ নং ( পাচ তলার আট) রুমে থাকতো।এ ইতিহাস বেশ লম্বা।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌পীরগাছায় ইয়াবা বিক্রির সময় ছাত্রলীগ নেতা শাহালম সিদ্দিকী আটক


রংপুরের পীরগাছায় ইয়াবা বিক্রির সময় এক ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ছাত্রলীগ নেতার নাম শাহালম সিদ্দিকী। তিনি উপজেলার ছাওলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাওলা ইউনিয়নের পাওটানা আদম গ্রামের আবুল হাশেম সিদ্দিকীর ছেলে।

জেলার কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের কারবালার মাঠ এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে ২৫ পিস ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানার ওসি আজিজুল ইসলাম জানান, শাহালম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে পীরগাছা থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

ওসি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রায়হান হোসেন নামে তার এক সহযোগীকে নিয়ে টেপামধুপুর ইউনিয়নের কারবালার মাঠ এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করছিল। এ সময় ২৫ পিস ইয়াবাসহ তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলায় ইয়াবাসহ মাদক ছেয়ে গেছে। পীরগাছা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সেক্রেটারি, আওয়ামী লীগের নেতার ছেলে ও পুলিশের এসআইসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা ইয়াবাসহ আটক হয়েছেন। তারা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌দেশে এখন আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে : ড. কামাল


জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ধর্ষণ মহামারী আকার ধারণ করেছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে। কোথাও এখন কারো জীবনের নিরাপত্তা নেই।

বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে নিজ চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, দেশে একের পর এক অনেক ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণ মহামারী আকার ধারণ করেছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি খুবই দৃশ্যমান। নারীর অধিকার এবং আইনের শাসন রক্ষা করার জন্য আন্দোলনকে জোরদার করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি যে, আমরা সক্রিয়ভাবে মাঠে নামব। কারণ মানুষ চায় সভ্যতা ফিরে আসুক, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক। আমরা এ লক্ষ্যে আজকের বৈঠকে কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা মনে করি ঐক্যবদ্ধ একটা উদ্যোগ নিয়ে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এখন জরুরি ভিত্তিতে করা প্রয়োজন বলে কর্মসূচি নিয়েছি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিষ্ক্রিয়। যারা আইন ভঙ্গ করছে তাদের ব্যাপারে তারা নিষ্ক্রিয়। তারা বিভিন্ন ধরনের অ্যাকশনে যাচ্ছে যারা মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে, পুলিশ তাদের ব্যাপারে তৎপরতা দেখাচ্ছে। কিন্তু যারা মানুষের বিরুদ্ধে, নাগরিকদের অধিকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে একটা নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করছি।’

পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার বিচারসহ নারী ধর্ষণ বন্ধের দাবিতে আগামী ৩০ এপ্রিল ঢাকায় জমায়েতের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘নুসরাত হত্যাসহ নারী ও শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন বন্ধের দাবিতে আগামী ৩০ এপ্রিল আমরা ঢাকার শাহবাগে বিকাল ৪টায় জমায়েত করব। এছাড়া গণশুনানির অংশ হিসেবে আমরা নোয়াখালী ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা শহরে যাব। নোয়াখালী ও রাজশাহী দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এর দিনক্ষণ আমরা পরে জানাব’।

একই সঙ্গে রমজানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঢাকায় একটি নাগরিক সমাবেশও করবে বলে জানান আ স ম রব।

বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে হয়রানিমূলক মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আমরা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নিঃশর্তভাবে তার মুক্তি চাই।’

শ্রীলংকায় বোমা হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে রব বলেন, ‘এই বোমা হামলায় আমাদের একজন শিশু জায়ান চৌধুরী মারা গেছে। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় জায়ানের বাবা আহত অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আমরা তার সুস্থতা কামনা করছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কেউ সংসদে শপথ নেবে না। আমাদের এই সিদ্ধান্ত অব্যাহত আছে।’ দুজন শপথ নিয়েছেন- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘যারা শপথ নিয়ে তাদেরকে তাদের দল বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

ড. কামালের সভাপতিত্বে বৈঠক আ স ম আবদুর রব ছাড়াও বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, আলতাফ হোসেন, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, আবু সাইয়িদ, ড. রেজা কিবরিয়া, আমসা আমিন, জগলুল হায়দার আফ্রিক, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির আবদুল মালেক রতন, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বগুড়ায় বিএনপি নেতা শাহীন হত্যায় যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলামকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর


বগুড়ায় বিএনপি নেতা ও পরিবহন ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলামকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিল্লাল হুসাইনের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। সিদ্ধান্ত অনুসারে অ্যাডভোকেটস বার সমিতির কোনো সদস্য তার পক্ষে দাঁড়াননি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আম্বার হোসেন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ৩ নম্বর গেট থেকে আমিনুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক, বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর প্যানেল মেয়র ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

তার বাবা আবদুল লতিফ মণ্ডল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি, বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও এরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।

আমিনুল বগুড়া সদর উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি বলে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের সভাপতি শহিদুল ইসলাম দুলু।

গত ১৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিশিন্দারা উপশহর এলাকায় দুর্বৃত্তরা সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, পরিবহণ ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনকে কুপিয়ে হত্যা করে। ১৬ এপ্রিল বিকালে নিহতের স্ত্রী আকতার জাহান শিল্পী সদর থানায় আমিনুল ইসলামসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে আমিনুল তার সহযোগীদের নিয়ে শাহীনকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে। পরদিন পুলিশ শহরের নিশিন্দারার বাড়ি থেকে সন্ধিগ্ধ আসামি রাসেল ও গাবতলীর আত্মীয় বাড়ি থেকে এজাহারভুক্ত আসামি পায়েল শেখকে গ্রেফতার করে। এরা দুজনই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আমিনুল ইসলামকে পুলিশের হেলমেট ও লাইফজ্যাকেট পরিয়ে কঠোর নিরাপত্তায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিল্লাল হুসাইনের আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আম্বার হোসেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

এ সময় আমিনুলের পক্ষে পূর্ব অঙ্গীকার অনুসারে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি। আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বুধবার বিকাল পর্যন্ত আর কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌‘আওয়ামী সরকারের মন্ত্রীরা যা বলেন, সঙ্গে সঙ্গে তার উল্টোটা ঘটে’


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীরা যা বলেন, সঙ্গে সঙ্গে তার উল্টোটা ঘটে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, কদিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রী ঘটা করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করেছিলেন- রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে না। তার পর দিনই হু হু করে দাম বেড়েছে প্রায় সব পণ্যের।

বিএনপির এ নেতা বলেন, গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবারেও পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি বিক্রয় হয় ২৫ টাকায়। এর এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ২০ টাকায়। গতকাল মঙ্গলবার সবকটি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৬ থেকে ২৭ টাকায়।

‘একইভাবে এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হয়েছিল ৮০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। আলু প্রতি কেজি ১৬ থেকে বেড়ে ২০ টাকা হয়েছে। প্রতি কেজি চিনি ৫২ থেকে বেড়ে ৫৬ টাকা হয়েছে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৯০ থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯৮ টাকায়। এভাবে বেড়েছে ছোলা, ডাল, আদা, ময়দা, কাঁচামরিচসহ সবরকম নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।’

রিজভী বলেন, নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ক্রেতারা। মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। অল্প আয়ের মানুষ রমজানের আগে দিশেহারা।

পবিত্র রমজানের প্রাক্কালে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সরকারকে ধিক্কার জানান রিজভী।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে যারা ক্ষমতায় থাকে, তারা কখনই জনস্বার্থ দেখে না, জনকল্যাণ করতে পারে না।

ওয়াসার এমডির সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, সারা ঢাকা শহরে ওয়াসার দূষিত পানির সরবরাহে জনজীবন এখন ভয়ঙ্কর রকম সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নির্বিকার।

তিনি বলেন, বাড়িতে বাড়িতে টাইফয়েড, ডায়রিয়া, জ্বর মহামারী আকার ধারণ করেছে। একদিকে আনাজ-পাতির অগ্নিমূল্য, অন্যদিকে দূষিত পানি পান জনজীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ।

‘ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজে ওয়াসার পানি পান করেন না। অথচ তিনি বলছেন- ওয়াসার পানি ১০০ ভাগ বিশুদ্ধ। অবৈধ সরকার নিজে টিকে থাকার জন্য সারা জাতিকেই অসুস্থ বানাতে ওঠেপড়ে লেগেছে।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সংসদ নির্বাচন ছিল অশুভ আতাতের ফসল: ড. বদিউল আলম মজুমদার


বহুল আলোচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অশুভ আতাতের ফসল বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেছেন, ‘২০১৮ সালে সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে অত্যন্ত অশুভ একটি আতাত হয়েছিল নিবাচনকে একতরফাভাবে নিজেদের পক্ষে নেয়ার ক্ষেত্রে। এ কারণেই ভোট কেন্দ্রগুলো ভোটার শূন্য ছিল। জনগণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া তথা নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বর্তমান সময়ে মানুষ চরম অস্থিরতার মধ্যে বসবাস করছে। ন্যূনতম নাগরিক অধিকার নেই কারোই।’

আজ মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকালে সৈয়দপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সুজন সৈয়দপুর উপজেলা কমিটি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত কারো জন্যই শুভ নয়, এটি কোনো কল্যাণই বয়ে আনবে না। কোনো দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে সে দেশে নানা অনিয়ম ও অরাজকতার বিস্তার ঘটে। এর ফলে সার্বিক রাষ্ট্রযন্ত্র দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। যার সুযোগ নিয়ে বিপথগামী চক্র প্রভাব বিস্তার করে পুরো রাষ্ট্রকে করায়ত্ত্ব করতে তৎপর হয়।

সুজন সম্পাদক বলেন, এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনও ছিল একতরফা, যা দেশের ইতিহাসে কলংকময় অধ্যায় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। ইতোপূর্বেও অনেক নির্বাচন একতরফাভাবে হয়েছে। তবে সেগুলোতে নির্বাচিত সরকার পরবর্তীতে সকল দলের মতামতের ভিত্তিতে কিছুদিনের মধ্যেই আবারও নির্বাচন দিয়েছিল। কিন্ত ২০১৪ সালের নির্বাচনে গঠিত সরকার তা করেনি। বরং কথা দিয়েও তারা কথা রাখেনি। এ ধরনের দৃষ্টান্ত গণতন্ত্রের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।

গণতান্ত্রিক সুব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা না হয় তাহলে শ্রীলঙ্কার মতো ভয়াবহ ঘটনা আমাদের দেশেও পুনরাবৃত্তি ঘটার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। যা কারো জন্যই ভালো হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সুজন সৈয়দপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী (অব.) নুরুজ্জামান জোয়ারদার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‌হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ধর্ষণের শিকার তিন স্কুলছাত্রী


হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ধর্ষণের শিকার তিন স্কুলছাত্রী। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও ঝিনাইদহের মহেশপুরে ধর্ষণের শিকার দুই শিক্ষার্থী ও ঈশ্বরগঞ্জ ধর্ষণের অপমানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এক স্কুলছাত্রী। এছাড়া নরসিংদী, গোপালগঞ্জ, জামালপুর, বরগুনা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, কাউখালী (রাঙ্গামাটি), লক্ষীপুর, নড়াইল, লালমনিরহাট, নোয়াখালীর সেনবাগ ও মানিকগঞ্জে শিশুসহ আরো ১১ জন ধর্ষণের শিকার হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ সকল মামলায় ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকীদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের সংবাদদাতারা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সেজিয়া বাজারে ঘুমের ইনজেকশন পুশ করে ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে এক পল্লী চিকিৎসক। পুলিশ ধর্ষক সাইফুল ইসলামকে (৩২) গ্রেফতার করেছে। গত রোববার সকালে সেজিয়া বাজারের নাজ ফার্মেসিতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের সেজিয়া গ্রামের নুর মোহাম্মাদের ছেলে। সেজিয়া বাজারের নাজ ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসকের কাজ করে তিনি।

ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মা জানান, বেশ কয়েকদিন আগ থেকে মেয়ের জ্বর। জ্বর ভালো না হওয়ায় শনিবার রাতে সাইফুল ইসলামের নাজ ফার্মেসিতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান তার বাবা। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। ওই সময় পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম মেয়ের বাবাকে বলে সকালে পাঠিয়ে দিবেন আরও চিকিৎসা দিতে হবে। পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলামের কথামতো চিকিৎসার জন্য মেয়েকে নাজ ফার্মেসিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে গেলে সাইফুল ইসলাম আমার মেয়ের শরীরে একটি ইনজেকশন পুশ করে। সেই সঙ্গে একটি ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে দেয়। এরপর মেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধর্ষণ করে সাইফুল ইসলাম।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শামীম কবীর জানান, ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে। ধর্ষণের কারণে ওই শিক্ষার্থীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ ইন্সপেক্টর শেখ গণি মিয়া জানান, উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই শিক্ষার্থীকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অপহরণ করে একই এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন শহীদ ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় অপহৃত শিক্ষার্থীর বড় ভাই থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত রোববার বিকেলে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী সাখাওয়াত হোসেনকেও আটক করা হয়। মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গত শুক্রবার গভীর রাতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী অপহরণের পর ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ধর্ষকের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করে অন্যগ্রামে অবস্থিত এক সহপাঠির বাড়িতে আশ্রয় নেয় সে। লজ্জায় অপমানে গত শনিবার দুপুরে ওই বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় মেয়েটি। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গত শনিবার রাতে ইয়াসীন মিয়া (২২) এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে।

গত রোববার দুপুরে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চর আলগী গ্রামে গিয়ে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে থেকে স্বজনেরা নির্যাতিতা মেয়েটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। গলায় ফাঁস লাগানোর কারণে মেয়েটির কণ্ঠনালী ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় সে এখন কথা বলতে পারছে না। তবে কাগজে লিখে স্বজনদের কাছে ঘটনার পূর্বাপর বর্ণনা দিয়েছে। ছাত্রীর বাড়িতে গেলে তার চাচা বলেন, মেয়েটি যে স্থানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল সেখানে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। ওই চিরকুটে লেখা ছিল তাঁর মৃত্যুর জন্য ইয়াসীন দায়ী। পুলিশ শনিবার রাতে ইয়াসীনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

জামালপুর : জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার মনোয়ার হোসেনকে (২৪) কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে বিয়ে করে বউ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মনোয়ার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দফরপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল বকশীগঞ্জ উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে প্রতিবেশী দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দফরপাড়ার মনোয়ার হোসেন ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় একাধিকবার গ্রাম্য শালিস বসেও কোনো সমাধান না করে অন্য জায়গায় মনোয়ার হোসেনের বিয়ে ঠিক করা হয়। শনিবার রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার সারমারার টালিয়াপাড়া গ্রামে বিয়ে করতে যায় মনোয়ার হোসেন। সেখানে থেকে বউ নিয়ে ফেরার পথে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

নরসিংদী : নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় ধর্ষণ থেকে রক্ষা পায়নি ৪ বছরের এক শিশুও। গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের এ ঘটনা ঘটে। রোববার শিশুটিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত রোববার নির্যাতনের শিকার শিশুর দাদা বাদী হয়ে বেলাব থানায় নারী শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত রায়হান শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের আবদুল বাসেতের ছেলে।

বরগুনা : বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় মাদরাসায় যাওয়ার পথে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় শ্যালক ও দুলাভাইসহ তিনজন। পরে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে ধর্ষণের শিকার ছাত্রী। অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে তিনজন সম্পর্কে শ্যালক ও দুলাভাই। অভিযুক্তরা হলো- পাথরঘাটা উপজেলার চর লাঠিমারা এলাকার আবু মিয়ার ছেলে জাকারিয়া (২০), জাকারিয়ার দুলাভাই মাহবুব (৩২) ও সবুজ (২৪) এবং অজ্ঞাত আরও দুইজন। এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাফত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হানিফ সিকদার বলেন, পাথরঘাটা থানায় মামলা করেছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার ওই শিশুকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি মুকসুদপুর উপজেলার বিশ্বম্ভরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী। গত শুক্রবার সকালে মুকসুদপুর উপজেলার খানজাপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক জামাল শেখ (৩৫) পলাতক রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে প্রেমিক যুগলকে জিম্মি করে এক কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধর্ষণের ভিডিও চিত্রও ধারণ করে বখাটেরা। পরে পুলিশের হেল্পলাইন ৯৯৯ এর সহায়তায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৭ জনকে আসামি করে গত শনিবার (২০ এপ্রিল) মামলা দায়ের করেছেন ওই কলেজছাত্রী। গ্রেফতাররা হলেন- সিংগাইর উপজেলার ইসলামনগর গ্রামের দ্বীন ইসলামের ছেলে ফজর আলী (১৮), আব্দুল মান্নান খানের ছেলে শিপন খান (১৮), মো. চুন্নু খানের ছেল দিপু (১৯), আবুল হোসেনের ছেলে নাজমুল (২১) ও রবিউল দেওয়ানের ছেলে সুজন (২৮)। বাকি দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

সেনবাগ (নোয়াখালী) : নোয়াখালীর সেনবাগে এবার ৭ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী (১৫)কে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ৩ দিন আটকিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাতে ধর্ষক অটোচালক আব্দুর রহমান প্রকাশ ছোটনকে আটক করেছেসেনবাগ থানার এসআই জসিম উদ্দিন। এসময় স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা বাদি হয়ে নাবালিকা মেয়েকে অপহরণ করে আটকিয়ে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে এনে সেনবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। গ্রেফতারকৃত আবদুর রহমান প্রকাশ ছোটন উপজেলা ২নং কেশারপাড় ইউনিয়নের কেশারপাড় গ্রামের বারিক হাজারী বাড়ীর মৃত আবদুস ছাত্তারের পুত্র।

নড়াইল : নড়াইলে সৎ বাবা কর্তৃক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গত শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে ধর্ষিতা শিশুর মা বাদি হয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় মামলা করেছে। এ ঘটনায় ধর্ষক পলাতক রয়েছে। গত শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে লোহাগড়া উপজেলার ছত্রহাজারী গ্রামের এক বাঁশ বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার এস আই মিল্টন কুমার দেবদাস বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

লক্ষীপুর : লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজেন্ডারের শিক্ষা গ্রামের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় রামগতি থানা পুলিশ মোহন নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে এবং নির্যাতিতা শিশুকে উদ্ধার করে গতকাল দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রামগতি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইউসুফ জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করেছে।

কাউখালী (রাঙ্গামাটি) : কাউখালীতে প্রথম শ্রেণির সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গোপাল কৃঞ্চ নাথকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে কাউখালী থানা পুলিশ। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

লোহাগাড়ায় : চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়ায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ওই উপজেলারই এক কোচিং সেন্টারের পরিচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর মা। ঘটনার পর থেকে কোচিং সেন্টারটি বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন পরিচালক সাইফুল ইসলাম। ধর্ষণের শিকার ওই স্কুলছাত্রীর বাবার অভিযোগ, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে যেকোনো মুহূর্তে এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দিচ্ছে মহলটি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিকাশ রুদ্র বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। লালমনিরহাট : কালীগঞ্জ উপজেলার শ্রীখাতা খোদরপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনর ছেলে জুয়েল এর বিরুদ্ধে সালেহা বেগম নামে এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছর যাবত ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষক জুয়েলকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরজু সাজ্জাদ জানান, তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ বিশ্বের একমাত্র দুর্নীতিমুক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাঃ এডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম


আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম শুক্রবার পিরোজপুরে একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, শেখ হাসিনা বিশ্বের একমাত্র দুর্নীতিমুক্ত প্রধানমন্ত্রী। বিগত ১০ বছরে দেশে শুধু উন্নয়ন হয়েছে। কোনো দুর্নীতি হয়নি। এখনো দেশের কোনো খাতে দুর্নীতি নেই।

শ. ম রেজাউল করিম সুপ্রিমকোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী। ভোটডাকাতির একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রেজাউল করিমকে একজজন সচেতন ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবেই জানতেন মানুষ। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বরের ভোটডাকাতি থেকে তিনিও বিরত থাকেন নি। এমপি হওয়ার খায়েশ পূরণ করতে গিয়ে বিরোধী মতের লোকদের বাড়িঘর ও সভা সমাবেশে অগ্নিসংযোগ, হামলা-ভাঙচুর ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনিও। অতিমাত্রার বঙ্গবন্ধু ও হাসিনা বন্ধনার কারণে নির্বাচনের পর তিনি পেয়ে গেলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এখন অবৈধ সরকারের সকল অপকর্মের পক্ষে সাফাই গাওয়া ছাড়া তার সামনে কোনো বিকল্প নেই। কমপক্ষে মন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও প্রতিদিন থাকে উচ্চ মাত্রায় শেখ হাসিনার প্রশংসা করতে হবে। সেই থেকেই তিনি বিগত ১০ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটকে ধামাচাপা দিতে চাচ্ছেন।

কিন্তু, বিগত ১০ বছর ধরে শেয়ারবাজার লুট, ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিসহ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ আত্মসাতের যে মহোৎসব চলছে রেজাউল করিম কি এসব চাপা দিয়ে রাখতে পারবেন? এখন রেজাউল করিমকে যদি প্রশ্ন করা হয়-শেয়ারবাজার থেকে লাখ কোটি টাকা কি বিএনপি-জামায়াতের নেতারা লুট করেছে? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি কি বিএনপি-জামায়াত করেছে? দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা কি বিএনপি-জামায়াত লুট করেছে? সোনালী-জনতা ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা কি বিএনপি-জামায়াতের লোকজন আত্মসাত করেছে? রেজাউল করিম কি এসব প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন? অবশ্যই পারবেন না।কারণ, সবগুলো দুর্নীতি হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। আর এসব দুর্নীতি হয়েছে শেখ হাসিনার পরিবারের লোকদের নির্দেশনা অনুযায়ী। বলা যায়-এসব দুর্নীতি-লুটপাটের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরাসরি জড়িত।

এছাড়া, ৩০ ডিসেম্বর ভোটডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে প্রতি মাসেই সরকারের বিভিন্ন খাতের ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসছে। এসব দুর্নীতির কারণে চরম খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে। আর অচল হয়ে পড়ছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনকি সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত এসব খাতের দুর্নীতি অনিয়ম নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এখানে চারটি খাতের দুর্নীতির উৎসগুলো উল্লেখ করা হলো-

দুর্নীতির কারখানা তিতাস

সম্প্রতি দুদকের অনুসন্ধানে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে এসেছে তিতাসে। এখানে পদে পদে দুর্নীতি অনিয়ম হচ্ছে। আর খেসারত দিচ্ছে গ্রাহকরা। যেমন-অবৈধ সংযোগ, নতুন সংযোগে অনীহা এবং অবৈধ সংযোগ বৈধ না করা, অবৈধ লাইন পুনঃ সংযোগ, অবৈধ সংযোগ বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া, অদৃশ্য হস্তক্ষেপে অবৈধ সংযোগ, গ্যাস সংযোগে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করা, বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহককে শিল্প শ্রেণির গ্রাহক হিসেবে সংযোগ প্রদান, মিটার টেম্পারিং, অনুমোদনের অতিরিক্ত বয়লার ও জেনারেটর এ গ্যাস সংযোগ, মিটার বাইপাস করে সংযোগ প্রদান সংক্রান্ত দুর্নীতি, এস্টিমেশন অপেক্ষা গ্যাস সরবরাহ কম করেও সিস্টেম লস দেখানো, ইচ্ছাকৃতভাবে ইভিসি-ইলেকট্রনিক ভলিয়ম কারেক্টর না বসানো।

দুর্নীতির শিকার ওয়াশার গ্রাহকরা

ঢাকা ওয়াসার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে টিআইবি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৬২ শতাংশ গ্রাহক ওয়াশা কর্মকর্তাদের দুর্নীতি অনিয়মের শিকার। এসব অনিয়মের মধ্যে- পানির সংযোগের জন্য ২০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। পয়:লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ৩০০-৪৫০০ টাকা, গাড়িতে জরুরি পানি সরবরাহের জন্য ২০০থেকে ১৫০০ টাকা, মিটার ক্রয়/পরিবর্তনের জন্য এক হাজার-১৫ হাজার, মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত কাজের জন্য ৫০ থেকে তিন হাজার এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়।

দুর্নীতির কারণে ধসে পড়েছে বিমান খাত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ১৯ খাতে দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিমানের ৮ এবং বেবিচকের ১১ খাতে দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত হয়েছে।

বিমানের ৮ খাতের মধ্যে এয়ারক্রাফট কেনা ও লিজ নেয়া, রক্ষণাবেক্ষণ-ওভারহোলিং, গ্রাউন্ড সার্ভিস, কার্গো আমদানি-রফতানি, ট্রানজিট যাত্রী ও লে-ওভার যাত্রী, অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাৎ, টিকিট বিক্রি, ক্যাটারিং খাতের দুর্নীতি চিহ্নিত হয়েছে।

আর বেবিচকের ১১ খাতের মধ্যে আছে টাওয়ার বোর্ডিং ব্রিজসহ বড় বড় কেনাকাটা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, বিমানবন্দরের দোকান বিলবোর্ড ভাড়া, পরামর্শক নিয়োগ, কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণ, মন্ট্রিল কনভেনশন বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলট ফ্লাইং ইঞ্জিনিয়ার ও এয়ারক্রাফটের লাইসেন্স, ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্স ও সিডিউল অনুমোদন ও অপারেশনাল কাজে দুর্বলতা।

দুর্নীতির মহোৎসব স্বাস্থ্যখাতে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১টি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্রয়, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসা দেওয়া, চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইকুইপমেন্ট ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব খাতের দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা জড়িত। এসব দুর্নীতি ও লুটপাটের টাকা সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকদের পকেটেও যাচ্ছে। যার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here