বিবাহিত হয়েও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন তারা

0
317

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারা অনুযায়ী বিবাহিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাবেন না।

এর পরেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বেশ কয়েকজন বিবাহিত নেতাকর্মী যে কারণে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পদবঞ্চিতদের অভিযোগ, বিবাহিত হয়েও অনেককে পদ দিয়েছেন শোভন-রাব্বানী।

এজন্য পদ পাওয়া ওইসব নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

প্রমাণ হিসাবে পদবঞ্চিত যাদের নাম জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহসভাপতি পদ পাওয়া সোহানী তিথি, সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপসম্পাদক পদ পাওয়া আফরিন সুলতানা লাবণী, উপসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদ পাওয়া রুশী চৌধুরী, সহসম্পাদক পদ পাওয়া আনজুমান আরা আনু ও সামিহা সরকার সুইটি।

এরা সবাই বিবাহিত বলে জানান তারা।

এছাড়াও সহসভাপতি ইশাত কাসফিয়া ইরাও বিবাহিত বলে অভিযোগ করছেন কেউ কেউ।

গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারাকে লঙ্ঘন করে এসব নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিবাদ করেছেন পদবঞ্চিতরা।

এ বিষয়ে শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক জেয়াসমিন শান্তা ফেসবুকে লেখেছেন, নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।

সোমবার বিকালে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহসভাপতি হয়েছেন ৬১ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১১ জন, সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন ১১ জন। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক সব সম্পাদক এবং সহ সম্পাদক ও উপসম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগ ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিজেরা কমিটি করতে ব্যর্থ হলে ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক অর্পিত ক্ষমতাবলে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন।

তবে কমিটির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় দু দফায় দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ডাকসুর তিন নেতাসহ অন্তত ৮জন আহত হয়েছেন।

হামলায় আহতরা হলেন- ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সদস্য ও ডাকসুর বর্তমান সদস্য তানভীর হাসান সৈকত, কবি সুফিয়া কামাল হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ডাকসুর আরেক সদস্য ফরিদা পারভীন, ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বি এম লিপি আক্তারসহ কয়েকজন।

উৎসঃ ‌‌যুগাতর

আরও পড়ুনঃ ক্ষোভ দেখাতে গিয়ে ছত্রলীগের হাতেই মার খেল ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা

নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিতরা মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। ছবি: ইউএনবি

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদবঞ্চিতদের ওপর হামলা চালিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। আজ সোমবার পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।

নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের এক বছর পর গতকাল বিকেলে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় নেতা–কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। কমিটি ঘোষণার পর যাঁরা প্রত্যাশিত পদ পাননি এবং কমিটিতে জায়গা পাননি, তাঁদের অনেকের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এল এ ঘটনার মধ্য দিয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেলে ৬০ থেকে ৭০ জন পদবঞ্চিত নেতা–কর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। সন্ধ্যায় তাঁরা মিছিল নিয়ে মধুর ক্যানটিনে যান সংবাদ সম্মেলন করতে। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অছাত্র, ছাত্রদল, বিবাহিত ও বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া ও রাজপথের কর্মীদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে’ সংবাদ সম্মেলন। আয়োজক ছাত্রলীগের রাজপথের কর্মীবৃন্দ। তাঁরা যে টেবিলে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নেন, তার পাশের টেবিলে অবস্থান নেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী নেতা–কর্মীরা। সেখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

পদবঞ্চিতরা সংবাদ সম্মেলন শুরু করার একপর্যায়ে একজন গিয়ে তাঁদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। ডাকসুর কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক লিপি আকতার এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁকে চেয়ার ছুড়ে মারা হয়। কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা এগিয়ে গেলে তাঁকেও লাঞ্চিত করা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলন করতে আসা নেতা–কর্মীদের ওপর অন্য পক্ষের নেতা–কর্মীরা হামলা চালান। গত কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা রাকিব হোসেন, সাইফ বাবুসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। হামলার ঘটনায় লিপি আক্তার, তিলোত্তমা শিকদার (নতুন কমিটির উপসংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক), ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমদসহ ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।

নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিতরা মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। ছবি: ইউএনবি

পদবঞ্চিতদের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রলীগের বিগত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেছি৷ কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমাদের বাদ দিয়ে অছাত্র, বিবাহিত ও বিতর্কিতদের নিয়ে “পকেট কমিটি” করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের দাবি, এই বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত করে প্রকৃত ছাত্রলীগকর্মীদের যেন পদায়ন করা হয়৷’
নতুন কমিটিতে প্রত্যাশিত পদ পাওয়া নেতা–কর্মীদের দাবি, একটি ‘বিশেষ সিন্ডিকেটের’ নেতা–কর্মীরা কমিটি ঘোষণার পর বিক্ষোভ করছে। এ বিষয়ে সাইফ বাবু বলেন, ‘রাজনীতি যখন যেভাবে চলেছে, সেভাবেই আমরা করেছি। সিন্ডিকেট বলতে কিছু নেই। আমরা ছাত্রলীগ করি।’

শ্রাবণী শায়লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলাম। সেখানে এ ধরনের হামলা ন্যক্কারজনক। আমরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই।’
পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি সাদিক খান, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, মাহবুব খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। তাঁরা কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন নিয়ে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চারজন নেতা এবং ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ কমিটি করা হয়েছে। বিগত কমিটির অসহযোগিতার কারণে কমিটি দিতে দেরি হয়েছে। এখন যাঁরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছেন, তাঁরা গত কমিটির নিজস্ব লোক (মাই ম্যান)। বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি।

হামলার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে মধুর ক্যানটিনে আসতে থাকেন বর্তমান কমিটির অনুসারী নেতা–কর্মীরা। ‘প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত চূড়ান্ত’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।

গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রায় আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরীকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য পদগুলো ছিল ফাঁকা। গতকাল বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের গত কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন পদে থাকা বেশ কয়েকজন এবার কমিটিতে জায়গা পাননি। আবার অনেকে পদ পেলেও তা তাঁদের মনঃপূত হয়নি।

উৎসঃ ‌‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ ‌হত্যা ও মাদক মামলার আসামিসহ বিবাহিত অছাত্ররাও ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে!

ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন হত্যাচেষ্টা ও মাদকসহ বিভিন্ন মামলার কয়েকজন আসামি। রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত, অগ্নিসন্ত্রাসে যুক্ত, সংগঠনে নিষ্ক্রিয়, বিবাহিত ও অছাত্ররাও।

দুই বছর মেয়াদি কমিটির ৯ মাস পার হওয়ার পর আজ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এই কমিটির অনুমোদন দেন।

এর আগে দুপুরের দিকে তালিকা নিয়ে গণভবনে যান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দুই নেতা। তাঁরা ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্যদের সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন।

গত বছরের ১১ মে ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের পর কমিটি ঘোষণার নিয়ম থাকলেও শীর্ষ পদের নেতৃত্ব বাছাইয়ে সময় নেন শেখ হাসিনা। সম্মেলনের আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতার নাম প্রকাশ করা হয়।

কেন্দ্রীয় কমিটির ২ নম্বর সহসভাপতি তানজিল ভূঁইয়া তানভীর, সহসভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ ও সোহেল রানার বয়স ৩০ বছরের বেশি। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের সদস্য পদই থাকার কথা নয়।

৫ নম্বর সহসভাপতি আরেফিন সিদ্দিকী সুজনকে এক সময় ইয়াবা সেবন ও মাদক রাখার অভিযোগে মাস্টারদা সূর্যসেন হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

৬ নম্বর সহসভাপতি আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ও ইয়াবা সেবন এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মল চত্বরে পয়লা বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে।

৭ নম্বর সহসভাপতির পদ পেয়েছেন বরকত হোসেন হাওলাদার। শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়।

১৩ নম্বর সহসভাপতি শাহরিয়ার কবির বিদ্যুতের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে।

আরেক সহসভাপতি মাহমুদুল হাসানের পরিবার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গোপালগঞ্জে একটি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি।

আরেক সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান তুষার এক সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধেও পয়লা বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আছে।

ছাত্রলীগের ২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়া প্রদীপ চৌধুরী ২০১৪-১৫ সেশনে পরীক্ষায় নকলের দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার হয়েছিলেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে পহেলা বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ।

দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব সাবেক চাকরিজীবী এবং তাঁর বিরুদ্ধেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রাকিনুল হক চৌধুরী কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের আপন ছোট ভাই। তিনি ছাত্রলীগে নিষ্ক্রিয় বলে জানা গেছে।

এই কমিটির বিষয়ে কথা বলতে সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে ফোন দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। পরে আর কথা বলেননি।

সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে তিনবার ফোন দিলেও তিনি কথা বলেননি।

উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শোভন-রাব্বানীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করল ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা


ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১৩ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ ঝাঁড়ছেন ছাত্রলীগের অনেকে। এ তালিকায় বাদ যাচ্ছেন না নারী নেত্রীরাও। বর্তমান সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

এক নেত্রী লিখেছেন, সাজুগুজু করে প্রোগ্রামে যেতে পারেননি বলে শোভন তাকে পদ দেননি। আরেকজন লিখেছেন, ‘নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।’

কমিটি ঘোষণার কিছুক্ষণ পর জেরিন দিয়া নামে কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক এক সদস্য ফেসবুকে লেখেন, ‘রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানী ভাই আপনাদের মধুভর্তি মেয়ে লাগে। বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কী রে চেহারা সুন্দর আছে; তো সেজেগুজে আসতে পারো না!
আমি সেজেগুজে আসতে পারি নাই দেখে আমাকে কমিটিতে রাখলেন না??
আপনারা যেসব মেয়েকে কমিটিতে রেখেছেন তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে! আপা কি জানেন?? আর নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন!!!
আর গোলাম রাব্বানী ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন দুইদিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই! কয়জনের বেডে গেছো এনএসআই রিপোর্ট করলেই জানা যাবে। মনে আছে গোলাম রাব্বানী ভাই?????? আমি তখন আপনার যোগ্য কথার জবাব দিয়েছিলাম। আজ তার শোধ নিলেন?????
অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য।
এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না; মানবো না…
আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।’

শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক জেয়াসমিন শান্তা লেখেন, ‘নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।
অভিনন্দন গোলাম রাব্বানী ভাই ও শোভন ভাই, হিসাব আছে, অনেক হিসাব, চলেন মিলাই।’


উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌এবার ছাত্রলীগের হামলার শিকার হল সেই শ্রাবনী শায়লা!


অযোগ্য, অছাত্র, বিবাহিত, বহিষ্কৃত, অগ্নিসন্ত্রাসে যুক্ত, সংগঠনে নিষ্ক্রিয় বিভিন্ন মামলার আসমীদের ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদায়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগের একাংশ। সেই মিছিলে হামলার অভিযোগ উঠেছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ হামলায় ছাত্রলীগের নেত্রী তিলোত্তমা শিকদার, বিএম লিপি এবং শ্রাবনী শায়লা আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর থেকে পদবঞ্চিত ছাত্রনেতারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

বিক্ষোভকারীরা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অছাত্র, ছাত্রদল, বিবাহিত, বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া এবং ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মীদের বঞ্চিত করায় এই প্রতিবাদ।

ছাত্রলীগের গত কমিটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন, জসিম উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান, সাবেক সদস্য তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ এতে নেতৃত্ব দেন।

জানা গেছে, মিছিলটি মধুর ক্যান্টিনের সামনে গেলে নতুন কমিটিতে পদপ্রাপ্তরা বাধা দেন। হাতাহাতির এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের গায়েও হাত তোলেন কিছু নেতাকর্মী।

শামসনু নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ করেছি। কিন্তু আমাদের কোনো পদ দেওয়া হয়নি। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্ষোভ করছিলাম। কিন্তু আমাদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে।

নতুন কমিটির সাদিক খান, অর্থ সম্পাদক রাকিব হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল ভূইয়া , সহসভাপতি কামাল খান, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক বায়জিদ কোতোয়াল হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন পদবঞ্চিতরা।

‘নিপীড়ন বিরোধী’ শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয় ঘেরাওয়ের সময় তৎকালীন ঢাবির বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবনী শায়লার মারমুখী ছবি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়।

পদবঞ্চিত ছাত্রনেতা তিলোত্তমা শিকদার বলেন, আমি গত কমিটিতে উপ-অর্থ সম্পাদক ছিলাম। এবারও উপ-সম্পাদক রাখা হয়েছে। একটি হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আমাদের রীতিমতো অপমান করা হয়েছে।

এ সময় পদবঞ্চিত সাবেক প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু বলেন, তারা (শোভন-রাব্বানী) একটি বিতর্কিত কমিটি ঘোষণা করেছেন। আপনারা জানেন, এই কমিটিতে বহিষ্কৃত, অগ্নিসন্ত্রাসে যুক্ত, সংগঠনে নিষ্ক্রিয়দের স্থান দেয়া হয়েছে। যারা ক্যাম্পাসে বিগত ১০ বছরে ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিং করেছে, ডাকসু নির্বাচনসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা করেছে তাদের এই কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, গত কমিটির ২৩ জনের মধ্যে ১৯ জনকে কোনো পদ-পদবি দেয়া হয়নি। আমরা শেখ হাসিনা কাছে একটি দাবি জানাতে চাই, এই বিতর্কিত কমিটিতে যারা বিতর্কিত তাদের বাদ দিয়ে যারা প্রকৃত ছাত্রলীগ তাদের যেন স্থান দেয়া হয়।

ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বলেন, আপনারা জানেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের নিয়ম মানে না, তাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। আমরা যখন এর বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করি তখন ছাত্রলীগের কিছু গুন্ডা ও অছাত্র আমাদের ডাকসু সদস্য তিলোত্তমা শিকদার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তারের ওপর হামলা করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেনসহ অনেকে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে অধিভুক্ত কলেজ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রীদের নিপীড়নকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কার, প্রক্টরের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের নামে দেয়া মামলা প্রত্যাহার এবং তদন্ত কমিটিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি রাখার দাবিতে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে প্রবেশ করে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক মারধর করে। এসময় তৎকালীন ঢাবির বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবনী শায়লার মারমুখী ছবি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। এনিয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে।

উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌‘সেজে গুজে আসিনি বলে ছাত্রলীগের কমিটিতে রাখলেন না?’: সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভনের সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া

সেজে গুজে আসেনি বলে কমিটিতে রাখেননি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া। নতুন কমিটিতে পদ না পেয়ে অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই নেত্রী।

তিনি লিখেছেন, রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রব্বানী ভাই আপনাদের মধু ভর্তি মেয়ে লাগে । বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কি রে চেহারা সুন্দর আছে ; তো সেজে গুজে আসতে পারো না!

সংবাদ প্রকাশের কিছুক্ষন আগে তার এই পোস্টটি সরানো হয়েছে

নতুন কমিটিতে স্থান না পেয়ে আজ সন্ধ্যায় তার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেয় জেরিন দিয়া। সংবাদের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রব্বানী ভাই আপনাদের মধু ভর্তি মেয়ে লাগে । বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কি রে চেহারা সুন্দর আছে ; তো সেজে গুজে আসতে পারো না!

আমি সেজে গুজে আসতে পারি নাই দেখে আমাকে কমিটি তে রাখলেন না?

আপনারা যেসব মেয়েদের কমিটিতে রেখেছেন তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে! আপা কি জানেন? আর নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন!

আর গোলাম রাব্বানি ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন দুইদিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই! কয়জনের বেডে গেছো NSI রিপোর্ট করলেই জানা যাবে। মনে আছে গোলাম রাব্বানী ভাই ??? আমি তখন আপনার যোগ্য কথার জবাব দিয়েছিলাম। আজ তার শোধ নিলেন???

অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্যে ।

এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না ; মানবো ন…

আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের মারধর করল নতুন কমিটির সদস্যরা

মধুর ক্যান্টিনে মুখোমুখি অবস্থান নেন ছাত্রলীগের দু’পক্ষ

সম্মেলনের এক বছর পর ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই কমিটিকে বিতর্কিত ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন পদবঞ্চিতরা।

একপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সেখানে হামলা চালিয়েছে সদ্য পদপ্রাপ্তরা। এতে ছাত্রলীগের হল কমিটির সাবেক নেতাসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের এক বছর পর গতকাল বিকেলে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় নেতা–কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। কমিটি ঘোষণার পর যাঁরা প্রত্যাশিত পদ পাননি এবং কমিটিতে জায়গা পাননি, তাঁদের অনেকের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এল এ ঘটনার মধ্য দিয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেলে ৬০ থেকে ৭০ জন পদবঞ্চিত নেতা–কর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। সন্ধ্যায় তাঁরা মিছিল নিয়ে মধুর ক্যানটিনে যান সংবাদ সম্মেলন করতে। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অছাত্র, ছাত্রদল, বিবাহিত ও বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া ও রাজপথের কর্মীদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে’ সংবাদ সম্মেলন। আয়োজক ছাত্রলীগের রাজপথের কর্মীবৃন্দ। তাঁরা যে টেবিলে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নেন, তার পাশের টেবিলে অবস্থান নেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী নেতা–কর্মীরা। সেখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

পদবঞ্চিতরা সংবাদ সম্মেলন শুরু করার একপর্যায়ে একজন গিয়ে তাঁদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। ডাকসুর কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক লিপি আকতার এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁকে চেয়ার ছুড়ে মারা হয়। কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা এগিয়ে গেলে তাঁকেও লাঞ্চিত করা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলন করতে আসা নেতা–কর্মীদের ওপর অন্য পক্ষের নেতা–কর্মীরা হামলা চালান। গত কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা রাকিব হোসেন, সাইফ বাবুসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। হামলার ঘটনায় লিপি আক্তার, তিলোত্তমা শিকদার (নতুন কমিটির উপসংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক), ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমদসহ ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।

পদবঞ্চিতদের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রলীগের বিগত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু বলেন, ‘ছাত্রলীগের জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেছি৷ কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমাদের বাদ দিয়ে অছাত্র, বিবাহিত ও বিতর্কিতদের নিয়ে “পকেট কমিটি” করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের দাবি, এই বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত করে প্রকৃত ছাত্রলীগকর্মীদের যেন পদায়ন করা হয়৷’

নতুন কমিটিতে প্রত্যাশিত পদ পাওয়া নেতা–কর্মীদের দাবি, একটি ‘বিশেষ সিন্ডিকেটের’ নেতা–কর্মীরা কমিটি ঘোষণার পর বিক্ষোভ করছে। এ বিষয়ে সাইফ বাবু বলেন, ‘রাজনীতি যখন যেভাবে চলেছে, সেভাবেই আমরা করেছি। সিন্ডিকেট বলতে কিছু নেই। আমরা ছাত্রলীগ করি।’

শ্রাবণী শায়লা বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলাম। সেখানে এ ধরনের হামলা ন্যক্কারজনক। আমরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই।’

পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি সাদিক খান, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, মাহবুব খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। তাঁরা কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী।

হামলার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে মধুর ক্যানটিনে আসতে থাকেন বর্তমান কমিটির অনুসারী নেতা–কর্মীরা। ‘প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত চূড়ান্ত’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।

গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রায় আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরীকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য পদগুলো ছিল ফাঁকা।

গতকাল বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের গত কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন পদে থাকা বেশ কয়েকজন এবার কমিটিতে জায়গা পাননি। আবার অনেকে পদ পেলেও তা তাঁদের মনঃপূত হয়নি।

উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ৩ হাজার কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, এক বছরে আসেনি ১ টাকাও!

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এর সফল উৎক্ষেপণের এক বছর পূর্ণ হয়েছে ১২ মে। গত বছরের এদিনে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হলেও একবছরে এখনও আয়ের মুখ দেখেনি স্যাটালাইটটি।

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর দেশব্যাপী ই-এডুকেশন, ই-লার্নিং, টেলি-মেডিসিনসহ আরও নানা সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পৌনে তিন হাজার কোটি টাকার এই স্যাটেলাইট এক বছরে কতটা প্রতিশ্রুতি পুরণ করতে পেরেছে?

বিবিসি প্রতিবেদন বলছে, উৎক্ষেপণের এক বছরেও এই স্যাটেলাইট থেকে এখন পর্যন্ত কোন ধরণের আয় করা সম্ভব হয়নি। সেইসঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় শহরের মতো সুবিধা দিতে ই-এডুকেশন, ই-লার্নিং, টেলি-মেডিসিন অর্থাৎ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা বলা হলেও সেগুলো এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

সম্ভব হয়নি ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) সুবিধা বাণিজ্যিকভাবে চালু করাও। যার আওতায় সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল নিয়ে গ্রাহকদের ১২৫টি চ্যানেল সম্প্রচারের কথা ছিল।

এ অবস্থায় স্যাটেলাইটটি থেকে যেমন সুবিধা ও মুনাফা পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল সেগুলো কবে নাগাদ পাওয়া যাবে সেটাও পরিষ্কার না। তাহলে একবছরে কি অর্জন করতে পেরেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১?

স্যাটেলাইটটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড বিসিএসসিএল বলছে, এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর অর্জন হলো গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবল গেমসের পরীক্ষামূলক সম্প্রচার এবং স্যাটেলাইটটির ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে বিটিভিসহ কয়েকটি বেসরকারি চ্যানেলের কিছু অনুষ্ঠানের পরীক্ষামূলক সম্প্রচার।

তাহলে কি প্রত্যশা পুরণ করে আদৌ উপার্জন করতে পারবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট?

বিসিএসসিএল এর চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলছেন, স্যাটেলাইটটি তৈরির সময় এর যে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছিল সেখানে বলা হয়েছিল, এই স্যাটেলাইট প্রথম কয়েক বছরের মাথায় খরচ উঠিয়ে মুনাফা করবে। তবে তখন বাজারে স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথের যে দাম ও সরবরাহ ছিল, সেটা এখন একদমই বদলে গেছে।

তিনি বলেন, এখন অনেক দেশ স্যাটেলাইট তুলেছে, সরবরাহ অনেক বেড়ে গেছে। যার জন্য শুরুতে ব্যান্ডউইথের যে দাম ছিল সেটা আর এখন নেই। তাই প্রথমে আমরা যেটা ভেবেছিলাম যে ৫/৭ বছরে খরচটা তুলে আনতে পারব, সেটা আর সম্ভব না।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌অনিয়ম আর দুর্নীতির জন্য ভিসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল বিএসএমএমইউ

আরও পড়ুনঃ ‌দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন!

আরও পড়ুনঃ ‌দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন!


দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন! কি! অবাক হচ্ছেন?

আজ অধিকাংশ জাতীয় পত্রিকায় ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্য সনাক্তকরণের (রেডিক্যাল ইন্ডিকেটর) নিয়ামকসমূহ’ নামে একটি পোষ্টার ছাপানো হয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের জন্য কিছু লক্ষণের কথা বলা হয়েছে। যে লক্ষণগুলো দেখলে তাকে জঙ্গি হিসেবে সন্দেহ করা যাবে। সেই সন্দেহের মধ্যে ইসলামের আবশ্যক পালনীয় দাড়ি রাখা, টাখনুর উপর কাপড় পড়াসহ বেশ কিছু লক্ষণকে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পোষ্টারে উল্লিখিত জঙ্গি লক্ষণের মধ্যে রয়েছে- ধর্ম চর্চার প্রতি ঝোঁক; গায়ে হলুদ, জন্মদিন পালন, গান বাজনা ইত্যাদি থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা; মিলাদ, শবেবরাত, শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনা করা ইত্যাদি।

পূর্বে এ ধরণের পোষ্টার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক প্রচারিত হলেও আজকের পোষ্টারটির নিচে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের নামে প্রকাশ করা হয়েছে। জানা যায়, ধর্মনিরপেক্ষতার স্লোগানকে ধারণ করে গত বছরের জুলাই মাসে এই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ হলো একটি কথিত অসাম্প্রদায়িক সংগঠন। এর আহবায়ক হলো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দোপধ্যায়। সংগঠনটির সাথে আছেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এছাড়াও আছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আবেদ খান, শামীম মো. আফজাল প্রমুখ।

জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার ৪টি ধাপের কথা বলা হয়েছে পোষ্টারে। তার প্রথম ধাপেই রয়েছে- তাওহীদ, শিরক, বেদাত, ঈমান, আকীদা, সালাত, ইসলামের মূলনীতি, দাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা।

এদিকে ইসলামের মৌলিক রীতি নীতিকে জঙ্গিবাদের লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধর্মীয় আলেম ও ওলামারা। তারা এসব বিষয় জঙ্গিবাদের লক্ষণ থেকে অপসারণের দাবি জানান।

তবে ইসলামের মৌলিক কিছু বিষয়কে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরে বিতর্কিত কাজ করলেও সত্যিকারের কিছু জঙ্গি লক্ষণও তুলে ধরা হয়েছে পোষ্টারে। যেমন- ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকৃত নামে রেজিষ্ট্রেশন না করা; কুরআন হাদিসের অরিজিনাল কপি না পড়ে অনলাইন থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া; টার্গেট কিলিং, জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করা, অস্ত্র গোলাবারুদ সংগ্রহ ও ব্যবহার করা ইত্যাদি।

এইরকম ইসলামোফোবিক প্রকাশনা কোন অমুসলিম দেশেও সম্ভব না। সম্ভব হলো কেবল একমাত্র দিল্লীর সরকারের মদদপুষ্ট ও সমর্থিত আওয়ামীলীগ সরকারের দেশে।

উৎসঃ ‌‌নতুন দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌২০ দলীয় জোট রক্ষায় কত জীবন ও রক্ত দিয়েছে জামায়াত?


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্যই ১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট। এই জোট গঠনে মূলত মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে তখন গঠিত হয়েছিল ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলসহ আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য।

চারদলীয় জোট আর সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের আন্দোলনের মুখে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। তখন থেকেই মূলত আওয়ামী লীগ ও ভারত আস্তে আস্তে জামায়াতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ২০০১-৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে ব্যাপক অপপ্রচার চালায় আওয়ামী লীগ। এছাড়া, বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার কারণে জামায়াতের ওপর একটা চরম প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগের অপেক্ষায় থাকে আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙ্গার কাজে হাত দেয় আওয়ামী লীগ। এজন্য প্রথমেই তারা ২০১০ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আর ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এদেশে সবার আগে মাঠে নামে জামায়াত। সেজন্য ভারতের পক্ষ থেকেও জামায়াতকে দুর্বল করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

এদিকে, জামায়াত যখন বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে না আসার সিদ্ধান্তে অটল থাকে তখনই সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত মামলায় জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে আটক করে।

ওই সময় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কথিত মামলায় গ্রেফতারের পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদেরকে বলা হয়েছে যে, বিএনপি থেকে আপনারা বেরিয়ে আসলে আপনাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। অন্যথায় যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হবে। কিন্তু, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখন সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি। দল এবং তাদের জীবন ঝুকির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার পরও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন।

এরপরই শুরু হয় একের পর এক শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাদের মামলা। সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয় শীর্ষনেতাদেরকে। চরম মিথ্যাচার ও বানোয়াট সাক্ষীর মাধ্যমে তারা প্রথমেই অন্যায়ভাবে বিচারের নামে হত্যা করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মোল্লাকে। জানা গেছে, আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার আগেও সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপি জোট ছাড়ার জন্য জামায়াতকে বলা হয়েছে। কিন্তু জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখনো কোনো আপোস করেননি।

এরপর একে একে হত্যা করা হয়েছে জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে। সকলকে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেও যখন বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করতে পারেনি তখন সরকার জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি, নিবন্ধন বাতিলের আগেও সরকার জামায়াতকে বলেছিল বিএনপি ছাড়ার জন্য।

আর জোটে থাকার কারণেই যে সরকার জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়েছে সেটা বিএনপিও বুঝতে পেরেছে। খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতা ওই সময় প্রায় প্রতিদিনই বলতেন যে, শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণেই জামায়াত এখন যুদ্ধাপরাধী। বিএনপি জোট থেকে জামায়াত চলে গেলেই সরকার তাদের ওপর আর নির্যাতন করবে না। কাউকে ফাসিতেও ঝুলাবে না। বিএনপি নেতা হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাধিক বার বলেছেন যে, ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল তখন তারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আর এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার কারণেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধীর দল হয়ে গেছে।

অপরদিকে, বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে জামায়াত শুধু তাদের শীর্ষনেতা এবং নিবন্ধনই হারায়নি। বিগত ১১ বছর ধরে সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে দলটির সারাদেশের নেতাকর্মীরা। জামায়াত-শিবিরের সহ¯্রাধিক মেধাবী নেতাকর্মীকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রিমান্ডের নামে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। বলা যায়-শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণে সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এখন ঘর ছাড়া। কেউ বাসায় থাকতে পারেনি। বিগত ১১ বছরে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মীর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরিচ্যুত হয়েছেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এত নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও নিজেদের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি জামায়াত।

এখনো জামায়াতের প্রত্যাশা, ২০ দলীয় জোট টিকে থাকবে এবং এই জোটের আন্দোলনের মাধ্যমে একদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে। মুক্ত হবে গণতন্ত্র, মানুষ ফিরে পাবে তাদের মৌলিক অধিকার। অবসান ঘটবে দুঃশাসনের।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here