পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে নিহত ৪

0
204

ভারতের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা চলছিল।

এর মধ্যে কয়েক জেলায় দফায় দফায় সংঘর্ষও হয়েছে। তবে শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালীতে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত চারজন।
বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। রাজ্য পুলিশ অবশ্য তিনজনের মৃত্যুর খবর স্বীকার করেছে। আনন্দবাজার পত্রিকা ও এনডিটিভির।

স্থানীয় তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাহিনী শনিবার সন্ধ্যায় হামলা চালায় বলে বিজেপির অভিযোগ। প্রথমে ওই এলাকায় তৃণমূলের বৈঠক হয় এবং বৈঠক শেষে বিজেপির পতাকা খুলতে শুরু করে তৃণমূল, তার থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর দাবি।

কিন্তু জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পাল্টা অভিযোগ, বৈঠক শেষে মিছিল বের করেছিল তৃণমূল। সেই মিছিলে হামলা চালিয়ে তৃণমূলকর্মী কাইয়ুম মোল্লাকে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করা হয়।

বিজেপি অবশ্য জ্যোতিপ্রিয়র দাবি অস্বীকার করে বলছে, বাড়ি বাড়ি হামলা চালিয়ে গুলি করা হয়েছে বিজেপিকর্মীদের, তাতে অন্তত তিন বিজেপিকর্মী নিহত হয়েছেন, জখম ও নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। বেপরোয়া গুলি চালানোর সময়ে তৃণমূলের গুলিতেই তৃণমূলকর্মী কাইয়ুম মোল্লা নিহত হয়েছেন বলে তাদের দাবি।

তৃণমূলের একটি সূত্রের বক্তব্য, শনিবার বিকালে ন্যাজাটে তাদের দলীয় বৈঠক ছিল। তার পরে একটি মিছিল বের করলে বিজেপি তার ওপর হামলা চালায়।

মিছিলের পেছনে থাকা তৃণমূলকর্মী কাইয়ুম মোল্লাকে প্রথমে গুলি করা হয় এবং পরে টেনে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর পরেই পাল্টা প্রতিরোধে নামে তৃণমূল। দলের অপর সূত্রে জানানো হয়, বৈঠক চলাকালীনই বিজেপি আক্রমণ চালায়।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূল আশ্রিত সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বেই এ ঘটনা ঘটেছে। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দলের পক্ষ থেকে প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।

শনিবার রাতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ফোন আসে রাজ্য বিজেপি নেতাদের কাছে। মুকুল রায় টুইট করে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যাবে বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল।

রাজ্য বিজেপি রোববার সন্দেশখালীর ঘটনা নিয়ে বৈঠকে বসবে। সন্দেশখালীতে রাজ্য বিজেপির প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে। দিল্লি থেকেও দলের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল পাঠানো হতে পারে।

তা ছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে সন্দেশখালীর ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট দিয়েছেন মুকুল রায়।

তৃণমূলের জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দাবি, বিজেপিই আমাদের কর্মীকে প্রথমে গুলি করে এবং পরে কুপিয়ে খুন করে। দলের ছয় নারী কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মিনা খাঁ ও বসিরহাটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গ্রামে গেলেও প্রথমে সেখানে ঢুকতেই পারেনি। পরে বসিরহাট থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ফিলিস্তিনি কারাবন্দীদের ঈদ উদযাপনও করতে দেয়নি ইসরাইল


ফিলিস্তিনের শত-সহস্র শিশু কিশোর ও যুবক ইসরাইলের কারাগারে বন্দি। এবারের ঈদ-উল-ফিতরের দিন তাদের ঈদ উদযাপনও করতে দেয়নি ইসরাইল কারাকর্তৃপক্ষ। কারাগারে তারা বন্দিদের ওপর নির্যাতনের মাত্রাও বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর মিডল ইস্ট মিরর।

ফিলিস্তিনের কারাগার বিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল কাদরি আবু বকর ফিলিস্তিনের বন্দিদের ওপর ইসরাইল কারা কর্তৃপক্ষের নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলেছে। অত্যাচার নির্যাতন তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এমনকি ফিলিস্তিনের মুসলিম বন্দিদেরকে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতরও উদযাপন করতে দেয়া হয়নি।

গত ৭ জুন দেয়া এক বিবৃতিতে জানান, ‘ইসরাইলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ইচ্ছামাফিক অত্যাচার নির্যাতনে তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বন্দি ও বন্দিদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে খারাপ আচরণ তাদের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় ফায়েদা তোলার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফিলিস্তিনের বিভিন্ন কারাগারে ধারাবাহিকভাবে রুটিনমাফিক ফিলিস্তিনি বন্দিদের নির্যাতন করা হচ্ছে। কারাবন্দিরা যেন স্থিরভাবে জীবনযাপন করতে না পারে সে জন্য তাদেরকে ঘন ঘন বিভিন্ন জেলে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

কোনো কারাগারে তাদেরকে স্থিতিশীল করতে চায় ইসরাইল কারা কর্তৃপক্ষ। সর্বোপরি ইসরাইলের অ্যাশকেলন কারাগারে নির্দেশনা জারি করে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতনের পাশাপাশি ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন বন্ধের এ নির্দেশনা সব বর্বরতাকেই হার মানিয়েছে ইসরাইল।

দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের কারাগারে আটক নিরাপরাধ ফিলিস্তিনিদের মুক্তির দাবিতে জেরুজালেমে বিক্ষোভ করে আসছে তাদের আত্মীয়-স্বজন। আত্মীয়-স্বজনদের এ দাবিতেও সাড়া দিচ্ছে না ইসরাইল।

উৎসঃ ‌‌মিডল ইস্ট মিরর।

আরও পড়ুনঃ ‌কাশ্মীরে বর্বরতা ভারতের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক: নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন


‘অধিকৃত কাশ্মীরে নয়াদিল্লি যে নৃশংসতা চালাচ্ছে তা ভারতের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক।’ শনিবার ইন্ডিয়া টুডে’তে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন ভারতের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন । খবর জিও টিভি , কাশ্মীর অবজারভারের।

তিনি বলেন, ‘এটা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় কলঙ্ক। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। এ অবস্থা যে একটি কলঙ্ক তার অনেক প্রমাণ আছে। বিদেশের আলোচনাগুলোতেও কাশ্মীর গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাশ্মীরের জনগণ তাকিয়ে আছে। আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ। বিক্ষোভ দমন করতে ভয়ংকর ও সহিংস ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

এতে কাশ্মীরিরা আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এগুলো করে কাশ্মীরিদের যেভাবে শাস্তি দেয়া হচ্ছে তাতে তাদের ভারতকে আপন ভাবার কোনো কারণ নেই।’

ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের সাবেক শিক্ষক ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ অধ্যাপক বলেন, কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর নৃশংসতার ওপর সিএনএনের দীর্ঘ এক প্রতিবেদন আমি দেখেছি। ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে কাশ্মীরিদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। আসল কথা হল বহু দশক ধরে আমরা একে মিসহ্যান্ডেল করেছি। এখন আরও খারাপ উপায়ে সেখানকার পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছি।

উৎসঃ ‌‌জিও টিভি

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলংকায় পদত্যাগে বাধ্য করা হল মুসলিম মন্ত্রীদের


শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন শ্রীলংকার সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ৯ মন্ত্রী। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন দুই মুসলিম রাজ্যপালও।

মুসলিম মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির প্রভাবশালী বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আথুরালিয়ে রাথানার আমরণ অনশনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার পদত্যাগ করেন মন্ত্রীরা।

মুসলিম মন্ত্রীদের গণপদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় বেশ কয়েকজন সিনিয়র রাজনীতিকসহ উদারমনা অনেকেই নিন্দা জানিয়েছেন। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর সাম্প্রদায়িক দাবি নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।

শ্রীলঙ্কায় মোট জনসংখ্যা দুই কোটি ১০ লাখ। এর মাত্র ৯ শতাংশ মুসলিম। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারত মহাসাগরীয় দেশটির তিনটি চার্চ ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।

এতে ২৫৩ জন নিহত ও কয়েকশ’ আহত হন। এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। স্থানীয় মুসলিমদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার পারদ বাড়তে থাকে। মুসলিমদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাতে থাকে বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানরা।

এরই মধ্যে দুই প্রাদেশিক গভর্নর ও এক মন্ত্রী- সিনিয়র তিন মুসলিম কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবিতে ভক্তদের নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন একাধারে প্রভাবশালী সন্ন্যাসী, পার্লামেন্টের এমপি ও প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার উপদেষ্টা আথুরালিয়ে রাথানা।

ঘোষণা দেন, প্রেসিডেন্ট ওই তিন কর্মকর্তাকে না সরানো পর্যন্ত আমরণ অনশন করবেন তিনি। সন্ন্যাসী ওই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলাকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন।

তার সমর্থনে রাজধানী কলম্বো ও অন্যান্য শহরে বিক্ষোভও হয়। দিনচারেক আগে মন্ত্রিসভার সংখ্যালঘু সদস্যদের সরানোর দাবিতে প্রবল বিক্ষোভও হয়। অভিযোগ ওঠে, শ্রীলংকার আঞ্চলিক ইসলামিক সংগঠন ন্যাশনাল তৈহিদ জামাতের সঙ্গে তিন মন্ত্রীর যোগাযোগ রয়েছে। সন্ন্যাসীর চার দিনের অনশনের মাথায় মন্ত্রীদের পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট। এরপরই অনশন ভঙ্গ করেন ওই সন্ন্যাসী। মন্ত্রিসভার অন্য ৮ জন মুসলিম মন্ত্রীকে টার্গেট না করলেও অন্য তিন কর্মকর্তার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সোমবার একযোগে ইস্তফা দেন মন্ত্রীরা। সংখ্যালঘু মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, সিআইডি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা মন্ত্রিসভায় ফিরবেন না।

নভেম্বরে শুরু হতে পারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ১৫ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে এই নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহিন্দা দেশাপ্রিয়া। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

উৎসঃ ‌‌দ্য হিন্দু

আরও পড়ুনঃ ‌কানাডায় হিজাব নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হলেন বাংলাদেশী ঈমানোদ্দীপ্ত ফাতিমা!


ফাতিমা কানাডার সংসদের বিরুদ্ধে প্রায় একাই লড়ে বিজয়ী হওয়া ঈমানোদ্দীপ্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক কিশোরীর নাম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখন একে একে হিজাব ও নিকাব নিষিদ্ধ হচ্ছিল, তারই ধারাবাহিকতায় কানাডাতেও কয়েকমাস আগে প্রকাশ্যে নিকাব নিষিদ্ধ করে একটা আইন পাস হয়। যার নাম বিল-৬২। এর আইন অনুযায়ী কানাডায় প্রকাশ্যে কেউ নিকাব পড়তে পারবে না। ইউরোপবার্তা

ফাতিমার জন্ম ও বেড়ে উঠা কানাডাতে হলেও অন্য আর দশটা মেয়ের মতো সে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়ে পশ্চিমা সংস্কৃতিকে বরণ করে নেয় নি। বরং সে ইসলামী অনুশাসনকে আরও গভীরভাবে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে থাকে। নিকাব পরেই সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করা সহ কানাডিয়ান মানুষের মাঝে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাতে থাকে।

তার স্বপ্ন, সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে স্কুলে শিক্ষকতা করবে, ছোট ছেলে-মেয়েদের দ্বীনের শিক্ষায় শিক্ষিত করবে। কিন্তু তার স্বপ্নের পৃথিবীতে কালো মেঘ হিসেবে আবির্ভূত হয় নিকাব নিষিদ্ধ করা সেই কালো আইন, বিল-৬২।

এই বিল পাসের পর কানাডার বিপুল সংখ্যক হিজাবি নারী যখন অন্ধকার দেখছিল, তখনই আলোর ঝাণ্ডা হাতে লড়াইয়ে নেমে পরে কিশোরী ফাতিমা। সে তার এক শুভাকাঙ্ক্ষীকে সাথে নিয়ে কানাডার আদালতে রিট করে। আইনি লড়াইয়ের সাথে চলতে থাকে বিল-৬২ এর বিপক্ষে জনমত গঠন। লক্ষ্য পূরণের জন্য ফাতিমা তার কয়েকজন মুসলিম বান্ধবীকে নিয়ে প্রতিকূল পরিবেশে অনেক বাঁধা ও উসকানি সহ্য করেও নিকাব পরেই তার সব কার্যক্রম চালাতে থাকে।

কানাডার প্রথম সারির টিভি চ্যানেলগুলিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে জনমত গঠনে বড় ভূমিকা পালন করে। তার হিজাবি জীবন নিয়ে একটা ডকুমেন্টারিও প্রচার হয় একটা চ্যানেলে। দীর্ঘ এক অসম লড়াই শেষে গতকাল সেই ঐতিহাসিক দিনটির সূর্য যেন নতুন আলোর বারতা নিয়ে উদিত হয়েছে। কানাডার আদালত নিকাব নিষিদ্ধ করা সেই কালো আইন বিল-৬২ বাতিল করে দিয়েছে। ফাতিমা আজ বিজয়ী হয়েছে।

এই বিজয় শুধু তার নয়, এই বিজয় পুরা মুসলিম উম্মাহর, এই বিজয়ের গর্ব ১২ হাজার কিলোমিটার দূরের একজন মুসলিম হিসেবে আমাদেরও স্পর্শ করেছে। ফাতিমার এই সংগ্রাম আমাদের শিক্ষা দেয় শত প্রতিকূলতার মাঝেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার। তার বিজয় তো আমাদের সেই বাণীর কথাই মনে করিয়ে দেয়- “তোমরা হতাশ হয়ো না, মনমরা হয়ো না। তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হও।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌মোদিকে আবারও আলোচনায় বসার আহ্বান ইমরানের


কাশ্মীরসহ অন্যসব সমস্যা সমাধানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা শুরু করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুক্রবার চিঠি পাঠিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

এতে ইমরান খান দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার জন্য মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, দু’দেশের মানুষের দারিদ্রের মোকাবিলা এবং উন্নয়নের স্বার্থে আলোচনায় বসাই একমাত্র রাস্তা। ইমরানের ওই চিঠি নিয়ে অবশ্য নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। খবার আনন্দবাজার পত্রিকার।

শুধু ইমরান খানই নন, নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে চিঠি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি।

চিঠিতে কুরেশি জানিয়েছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের খুব দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসা প্রয়োজন। আগামী ১৩-১৪ জুন কিরগিস্তানের বিশকেকে এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে যাবেন ভারত এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু সেখানে মোদি ও ইমরানের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা নেই- এ কথা জানিয়ে দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে আলোচনার টেবিলে না বসলেও দুই রাষ্ট্রনেতার একাধিকবার দেখা হবে বিশকেক-এ। হবে সৌজন্য বিনিময়ও।

ওই সম্মেলনের কয়েকদিন আগে ইমরান ও কুরেশির চিঠিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারতে ভোটের প্রচারের সময় থেকেই ইমরান বার্তা দিয়েছিলেন, মোদি এলে সেটা পাকিস্তানের পক্ষেই সুবিধাজনক।

ভোটের ফল ঘোষণার আগেই মোদিকে আগ বাড়িয়ে অভিনন্দনও জানিয়েছিলেন তিনি। পুলওয়ামায় হামলার পর থেকে যে আলোচনা বন্ধ ছিল, তা শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন দুদেশের সাধারণ মানুষ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌অবশেষে রোহিঙ্গা গণহত্যার ‘উসকানিদাতা’ ভিক্ষুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা


বিশ্বের সবচেয়ে কুখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু মিয়ানমারের আশিন উইরাথুর বিরুদ্ধে অবশেষে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে দেশটির সরকার।

তবে, সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের গণহত্যায় উসকানি দেয়ার অভিযোগে নয়, মিয়ানমারের ডিফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। খবর ইরাবতী ও বিবিসির।

কুখ্যাত ওই বৌদ্ধ ভিক্ষু প্রজেক্টারের মাধ্যমে ২০০১ সাল থেকেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। মসজিদকে তিনি বর্ণনা করেন ‘শত্রুর ঘাঁটি’ হিসেবে।

তার কাছে মুসলিমরা হচ্ছে ‘পাগলা কুকুর, মুসলিমদের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ- তারা চুরি করে, মিয়ানমারের মহিলাদের ধর্ষণ করে এবং গণহারে জন্ম দিয়ে তারা খুব দ্রুত নিজেদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশ মুসলমান।

আশিন উইরাথু প্রথম আলোচনায় আসেন ২০০১ সালে যখন তিনি মুসলিমদের মালিকানাধীন ব্যবসা ও দোকানপাট বয়কট করার জন্যে প্রচারণা শুরু করেন।

এরকম একটি প্রচারণা শুরু করার পর ২০০৩ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিচারে তার ২৫ বছরের সাজা হয়েছিল।

কিন্তু তাকে পুরো সাজা খাটতে হয়নি। সাত বছর পর সরকারের ঘোষিত সাধারণ ক্ষমায় তিনি ২০১০ সালে কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন।

কিন্তু উইরাথুর জেল-জীবন তার মধ্যে কোন পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি, বরং মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে তিনি তার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য অব্যাহত রাখেন।

আশিন উইরাথু তার বক্তব্য বিবৃতিতে বৌদ্ধদের শৌর্য বীর্যের কাহিনী তুলে ধরেন, তার সঙ্গে মিশিয়ে দেন জাতীয়তাবাদের নেশাও।

তার কথার প্রতিটি বাক্যে ছড়িয়ে থাকে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা। মিয়ানমারের বিদ্যমান মুসলিমবিদ্বেষে তার এসব বক্তব্য আরো উস্কানি জোগাতে সাহায্য করে।

মুসলিম পুরুষরা যাতে বৌদ্ধ নারীদের বিয়ে করতে না পারে সেজন্যে একটি আইন তৈরিতেও অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন উইরাথু। ওই আইনে মুসলিম পুরুষের সঙ্গে বৌদ্ধ নারীর বিয়ে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে এক পর্যায়ে আশিন উইরাথু সোশাল মিডিয়াও ব্যবহার করতে শুরু করেন।
তিনি বলতে থাকেন যে মিয়ানমারে মুসলিম জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকার কারণে বৌদ্ধ সংস্কৃতি হুমকির মুখে পড়েছে।

এরই এক পর্যায়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাকে নিষিদ্ধ করে। ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয় যে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করেই তার এসব বিদ্বেষমূলক পোস্ট।

উইরাথু তখন বিকল্প হিসেবে অন্য সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের কথা ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ফেসবুক যখন আমার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়, আমি তখন ইউটিউবের উপর নির্ভর করি। আবার ইউটিউব যেহেতু খুব বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে না, সেহেতু আমার জাতীয়তাবাদী কাজ অব্যাহত রাখার জন্যে আমি টুইটার ব্যবহার করবো।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনেও উইরাথুকে চিত্রিত করা হয় একজন সন্ত্রাসী হিসেবে। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে ম্যাগাজিনটির একটি সংখ্যার প্রচ্ছদে তার একটি ছবি ছাপিয়ে তাতে লেখা হয়: ‘এক বৌদ্ধ সন্ত্রাসীর মুখ।’

কিন্তু সম্প্রতি তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার-জয়ী ও মিয়ানমারের ডিফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চিকে আক্রমণ করার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে অবশেষে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করে।

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিমদের দুঃখ দুর্দশা অনুসন্ধান করে দেখতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংগি লীকে ২০১৫ সালে যখন সেদেশে পাঠানো হয়েছিল। উইরাথু তখন তাকে একজন ‘দুশ্চরিত্রা’ ও ‘বেশ্যা’ হিসেবে গাল দিয়েছিলেন।

রাখাইনের গণহত্যায় সামরিক বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় জেনারেলদের ভূমিকা কী ছিল সেটা খতিয়ে দেখতে গতবছরেই আহবান জানানো হয়েছিলে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে। আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত বা আইসিসির পক্ষ থেকে প্রাথমিক এক তদন্তের সূচনা হওয়ার পরই এই আহবান জানানো হয়েছিল।

মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং বৌদ্ধ ভিক্ষু উইরাথু তখন পাল্টা আক্রমণ চালাতে শুরু করেন।

গত বছরের অক্টোবর মাসে তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘আইসিসি যেদিন এখানে আসবে, সেদিনই উইরাথু বন্দুক হাতে তুলে নেবে।’

রাখাইন রাজ্যে ২০১২ সালে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরু হওয়ার জন্যে আশ্বিন উইরাথুর সমর্থকদের ব্যাপকভাবে দায়ী করা হয়। এর পরই সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

এবিষয়ে ২০১৭ সালে ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে উইরাথু বলেছিলেন, অং সান সু চি ‘বাঙালিদের’ সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি তাকে বাধা দিয়েছি।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌পাকিস্তান সীমান্তে ১৪ হাজার বাঙ্কার নির্মাণ করছে ভারত


জম্মু-কাশ্মির সীমান্তে ভারতীয়দের আশ্রয়ের জন্য ১৪ হাজার ৪০০টি কমিউনিটি বাঙ্কার তৈরি করছে দেশটির সরকার।

বর্ডার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট (বিএডিপি) প্রকল্পের অধীনে এসব বাঙ্কার নির্মিত হচ্ছে। এজন্য বাঙ্কার তৈরিতে স্থানীয়রা নিজেদের জমি দিয়েছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ৪১৫ কোটি ৭৩ টাকা বরাদ্দ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

পাকিস্তান প্রায়ই সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে এমন অভিযোগ এনে সীমান্তের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এসব কমিউনিটি বাঙ্কার তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

সীমান্ত সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যাতে জম্মু-কাশ্মিরের বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি না হয়, সেই লক্ষ্যেই এসব বাঙ্কার নির্মাণ করা হচ্ছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ভারত সরকার।

সেখানে আরও জানানো হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাঙ্কারগুলোর প্রত্যেকটিতে প্রায় দেড় হাজার জন মানুষ থাকতে পারবেন। পুঞ্চ, রাজৌরি, খাটুয়া ও সাম্বা জেলায় স্বতন্ত্র ও কমিউনিটি বাঙ্কার তৈরি করা হবে।

গত বুধবার এ প্রকল্পের অধীনে রাজৌরির কালসিয়ান এলাকায় সীমান্তবর্তী স্থানীয় একটি স্কুলের জমিতে প্রথম বাঙ্কারটি তৈরি করা হয়। স্কুলের ছাত্ররা ওই বাঙ্কারটি দেশটির সেনাবাহিনীকে উৎসর্গ করে।

এ বিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নর্দার্ন কমান্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ৭৫ শতাংশ বাঙ্কার তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বাঙ্কার তৈরির জন্য তাদের জমি দিয়েছে।

ভারতীয় সেনা সূত্রে অভিযোগ, ২০১৮ সালে ২ হাজার ৯৩৬ বার সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান সেনারা। সে সংঘর্ষে গুলি এবং বোমার আঘাতে ৬১ জন নিহত ও ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। এসব হতাহতের মধ্যে সাধারণ মানুষের পাশপাশি সেনা কর্মকর্তা ও কর্মীরাও রয়েছেন।

তাই সীমান্তের নিরাপত্তা বাহিনী ও সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এসব বাঙ্কার তৈরি করছে ভারত।

উৎসঃ ‌‌ইকোনমিক্স টাইম, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আরও পড়ুনঃ ‌পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ রাতভর বোমাবাজি, মন্ত্রী ঘেরাও


ভোট মিটেছে, ফল বেড়িয়েছে, সরকার গঠন হয়েছে। কিন্তু শান্তি ফেরেনি। উল্টো আরও অশান্ত হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে পুরো পশ্চিমবঙ্গেই টানটান উত্তেজনা।

হামলা, বোমাবাজি, মারধরের অভিযোগ। একে অন্যের দিকে আঙুল তুলছে দুই শিবিরই। রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির গাড়িবহরকেও ছাড় দিচ্ছে না বিজেপি কর্মীরা। শুক্রবার নৈহাটিতে তার গাড়িবহর আটকে দেয় বিজেপির কর্মীরা। পরদিন শনিবারই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় তৃণমূল ঘাঁটি বীরভূম।

জেলার তৃণমূল পার্টি অফিস, জিনাইপুর, গদাধরপুর দাসপাড়ায় রাতভর বোমাবাজি চলে। পোড়ানো হয় তৃণমূলের পতাকা। দলের যুবনেতার বাড়িতে হামলা, ভাংচুরও করা হয় বলেও অভিযোগ করছে তৃণমূল কর্মীরা। ভাংচুর করা হয় গাড়ি, বাইকও। আরও কয়েকজনের বাড়িতেও তাণ্ডব চালানো হয়। হামলায় আহত হয়েছেন ৪ তৃণমূল কর্মী। এক কথায় উত্তেজনা চরমে। মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। হামলার ঘটনায় তৃণমূল গেরুয়া শিবিরের দিকে আঙুল তুললেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। একই ঘটনা ঘটেছে কাঁচড়াপাড়াতেও।

শনিবার সকালেই জগদ্দলের কাউগাছি পঞ্চায়েতের ২৪ জন সদস্যের সবাই যোগ দিয়ে দিয়েছেন বিজেপিতে। কাল পর্যন্ত যা ছিল জোড়া ফুলের, রাত পোহাতেই সেই পঞ্চায়েত চলে গিয়েছে পদ্মশিবিরের দখলে। এরই মধ্যে জগদ্দলের তৃণমূল ব্লক সভাপতি সুকুমার চক্রবর্তীও গেরুয়া শিবিরে ভিড়ে গিয়েছেন। তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

ঠিক হয় জেলার শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন কাঁচড়াপাড়ার এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে। রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়, সুজিত বসু, বিধায়ক নির্মল ঘোষ, তৃণমূল নেতা মদন মিত্ররা একে একে আসতে শুরু করেন ওই নেতার বাড়িতে।

খবর পেয়েই রাস্তায় জমায়েত করে বিজেপি। তৃণমূল নেতাদের রাস্তা আটকে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে থাকেন তারা। মন্ত্রীদের রাস্তা আটকানোয় লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। আসে র‌্যাফ। কাঁচড়াপাড়ার ব্যস্ততম রাস্তা কেজিআর পথ রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

বন্ধ হতে শুরু করে দোকানপাট। দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত খবর, তৃণমূলের নেতামন্ত্রীরা কাঁচড়াপাড়ার ওই নেতার বাড়িতেই রয়েছেন। চলছে বৈঠক। কিছুটা দূরে রাস্তায় রয়েছে বিজেপির জমায়েতও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পুলিশ। ভাটপাড়া পৌরসভা আগেই হাতছাড়া হয়েছে। এবার যেতে শুরু করেছে লাগোয়া পঞ্চায়েত।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মুসলিম নিধন করতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে অমিত শাহ?


ভারতে ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর সরকার গঠন করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তার মন্ত্রিসভায় এবার বেশ কিছু নতুন মুখ এসেছে। নতুনদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহও। আর তাকে দেয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। অন্যদের নিয়ে খুব বেশি একটা আলোচনা না হলেও নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে ইতিমধ্যে ভারতজুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দেশটিতে বসবাসকারী মুসলিমরা। কারণ, চরম মুসলিম বিদ্বেষী অমিত শাহ ভারতের রাজনীতিতে একজন গডফাদার হিসেবেও পরিচিত। তিনি সুপ্রিম কোর্ট ঘোষিত একজন দাগী আসামি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।

অমিত শাহ এক সময় দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ওই সময় তিনি বিচারবহির্ভূতভাবে মানুষকে হত্যা করেছেন। এছাড়া কথিত সন্ত্রাসবাদের মিথ্যা অভিযোগ তুলে ২০১০ সালে সোহরাব উদ্দিন শেখ ও তার স্ত্রী ইশরাত জাহানকে হত্যা করেছিল অমিত শাহ।

লোকসভা নির্বাচনের আগ থেকেই মুসলিম নিধন ও তাড়ানোর মিশন নিয়ে মাঠে নামেন অমিত শাহ। ভারতের জাতীয় নাগরিক তালিকা(এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধন নিয়ে ফের আলোচনায় আসেন তিনি। দেশটির সত্যিকার নাগরিকদের পরিচয় বের করার নামে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা মুসলমানদেরকে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গেও তারা এটা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে, মমতা ব্যানার্জি বিজেপির এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভুমিকা পালন করছেন।

অমিত শাহর ভাষায় আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী মুসলমানরা হলো অবৈধ বাংলাদেশি। নির্বাচনের সময় একাধিক জনসভায় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তার দল বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারলে বাঙ্গালী মুসলমানদের ধরে ধরে দেশ থেকে বের দেবো। কোনো অবৈধ বাংলাদেশি মুসলমান ভারতে থাকতে পারবে না।

এখন একটি প্রশ্ন হলো- অমিত শাহতো নরেন্দ্র মোদির অধীনে একজন মন্ত্রী। তিনি চাইলেই কি সব কিছু করতে পারবেন? অমিত শাহ চাইলেও কি মুসলমানদেরকে ভারত থেকে বের করে দিতে পারবেন?

এ প্রশ্নের জবাব হলো- ভারতে দল ও সরকার পরিচালনার পদ্ধতিটা বাংলাদেশের মতো নয়। দেশটিতে ক্ষমতাসীন দলের প্রধানরা সাধারণত কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকেন না। তার দল পরিচালনা করেন। বিগত ১৫ বছরের মধ্যে অমিত শাহই এই রকের্ড ভেঙ্গে মন্ত্রী হলেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলেও মোদির চেয়ে অমিত শাহের ক্ষমতা অনেক বেশি। কারণ, তিনি হলেন দলীয় প্রধান। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই সরকার পরিচারিত হয়। দল না চাইলে মোদিও প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না।

ভারতের মুসলমানরা বলছেন, একজন গডফাদার এবং চরম মুসলিম বিদ্বেষী অমিত শাহকে একটি বিশেষ টার্গেট নিয়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছে বিজেপি। তাদের উদ্দেশ্য হলো কথিত নাগরিক তালিকার নামে মুসলমানদের বের করে দিয়ে ভারতকে একটি কট্টরপন্থী হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা।

অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে দেশটির মুসলমানরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, যেসব মুসলিমরা প্রকৃতি নাগিরক তাদের ওপরও গরু জবাইসহ বিভিন্ন অজুহাতে নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাবে বিজেপি। যাতে মুসিলমরা নিজ থেকেই ভারত ছেড়ে চলে যায়।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌মোদির শপথের সময় বিজেপির ওয়েবপেজে গরুর মাংস রান্নার রেসিপি


ভারতের লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে নরেন্দ্র মোদি যখন শপথ নিচ্ছিলেন তখন তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির ওয়েব সাইট হ্যাক করে পেজে গরুর মাংস রান্নার ছয়টি রেসিপি পোস্ট করে দেয়া হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হ্যাক হওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিজেপির ওয়েবসাইটে আর প্রবেশ করা যাচ্ছিল না।

নির্বাচনের আগেও বিজেপির ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়েছিল এবং অনেকদিন ওয়েবসাইটটি ডাউন ছিল।

হ্যাক হওয়ার পর পেজে রেসিপি দেওয়ার পাশাপাশি ‘বিফ ফ্লাই’ ও ‘বিফ কিমার’ ছবি পোস্ট করা হয়। ছবির নিচে লেখা ছিল ‘হ্যাকড বাই ‘শ্যাডো­­ ভি১পি৩আর’।

এছাড়া ‘বিজেপি লিডারশিপ’ পাতার জায়গায় দেখা গেছে ‘বিফ লিডারশিপ’। ওই পাতায় মিটলোফের ছবি ছিল।

মোদির হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গরু নিয়ে বিভিন্ন গুজব তুলে ভারতে মুসলমানদের ওপর নানা নিপীড়ন-নির্যাতন শুরু হয়। এমনকি গরুর মাংস সংরক্ষণ এবং গরু পরিবহনের অভিযোগে গণপিটুনিতে কয়েকজন প্রাণও হারান।

২০১৭ সালের মে মাসে জবাই করার জন্য গরু চুরির চেষ্টা করছিল অভিযোগ তুলে ভারতের আসামে উত্তেজিত জনতা মুসলমান দুই ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে।

ওই সময় প্রকাশিত হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০১৫ সালের মে মাস থেকে ২০১৭ সালের মে মাস পর্যন্ত ভারতে অন্তত ১০ জন মুসলমানকে গোরক্ষার নামে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে হত্যা করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠনের পর থেকে দেশটির মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে।

মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গোরক্ষার নামে এ হত্যাকাণ্ড এবং নিপীড়ন বন্ধে মোদী সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে অনিচ্ছুক। ফলে পুলিশও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ভারতের মুসলমানরা ভাড়াটিয়া নয়: এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি


ভারতের মুসলমানরা ভাড়াটিয়া নয়। সংবিধানে নাগরিক হিসেবে তাদের যে অধিকার দেয়া হয়েছে তা কেড়ে নেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। এমনটাই বলেছেন, ভারতীয় রাজনীতিক ও এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

অল ইন্ডিয়া মজলিশ ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের এই নেতা এক সমাবেশে বলেন, ভারতকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে হবে আমাদের। আমরাই সেটা করবো। মুসলমনরা ভারতে অন্যদের সমান অধিকার ধারণ করে, আমরা ভাড়াটিয়া নই।

তিনি আরো বলেন, বিজেপি যদি মনে করে ৩০০ সিট পেয়ে তারা যা খুশি করবে তাহলে ভুল করবে। আমি অঙ্গীকার করছি, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি আজীবন ভারতের জন্য লড়াই করবে। আমি দলিতদের প্রতিও আহ্বান জানাই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই যে সংবিধানের শক্তির ওপর আসাদউদ্দিন ওয়াইসি আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করবে। মজলুম মানুষের ইনসাফের জন্য লড়াই করবে। জুলুম নির্মূল করার জন্য লড়বে। অধিকার অর্জনের জন্য লড়বে।’

ওয়াইসি বলেন, ‘সম্মানিত বন্ধুরা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মনে রাখো আমরা মুসলমান। মুসলমান ও ভয় একসঙ্গে থাকতে পারে না। হয় ভয় থাকবে না হয় মুসলমান থাকবে। আমরা এখানেই থাকব ইনশাআল্লাহ্। ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।’

ওয়াইসি শুক্রবার হায়দ্রাবাদের মক্কা মসজিদে দেয়া ভাষণে বলেন, ‘যদি প্রধানমন্ত্রী মোদি মন্দিরে যেতে পারেন তাহলে আমরাও মসজিদে যেতে পারি। যদি প্রধানমন্ত্রী মোদি গুহায় যেয়ে ধ্যান করতে পারেন তাহলে আমরা মুসলিমরাও গর্বের সঙ্গে মসজিদে বসে নামাজ আদায় করতে পারি। দেশের মুসলিমদের ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার জন্য ভয় পাওয়া উচিত নয়। কারণ সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। ভারতীয় আইন, সংবিধান আমাদেরকে ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে।’

ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ভারতের হায়দরাবাদ থেকে এ নিয়ে টানা চারবার নির্বাচিত হয়েছেন।

উৎসঃ ‌‌পার্সটুডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুনঃ ‌নারী পুলিশের হিজাবকে অফিসিয়াল মর্যাদা দিল স্কটল্যান্ড


বিভিন্ন দেশে যখন হিজাবের ওপর একে একে নিষেধাজ্ঞা নেমে আসছে, ঠিক এমন সময় ইউরোপের দেশ স্কটল্যান্ড হিজাবকে নারী পুলিশের আনুষ্ঠানিক ইউনিফর্ম হিসেবে ঘোষণা করেছে। খবর সিয়সাত ডেইলির।

দেশটির পুলিশ বাহিনীতে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য হিজাবকে অফিসিয়াল ইউনিফর্মের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এখন থেকে মুসলিম নারীরা কর্তব্যরত অবস্থায় হিজাব ব্যবহার করতে পারবেন ইউনিফর্ম হিসেবে।

এতে করে মুসলিম নারীদের মধ্যে পুলিশে যোগদানের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

দেশটির পুলিশ বলছে, এতে করে নারীরা উৎসাহিত হবে। স্কটিশ পুলিশ মুসলিম অ্যাসোশিয়েশন (এসপিএমএ) এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এটিকে তারা ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন।

এমন পদক্ষেপে দেশটির ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করতে উৎসাহী হবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌’শ্রী রাম’ না-বলায় ভারতে নামাজ ফেরত যুবককে মারধর


বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের লোকসভা নির্বাচনে দুর্দান্ত ফলাফলের পর গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, সমাজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।

এতদিন যেভাবে সংখ্যালঘুদের ‘ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে’ ব্যবহার করা হতো, তা বন্ধ করতে হবে। এ কথা বলার একদিন পরই বিজেপি শাসিত হরিয়ানার গুরুগ্রামে ঘটল একটি অপ্রীতিকর ঘটনা।

মোহাম্মদ বরকত (২৫) নামে এক যুবক দাবি করল, মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফিরে আসার সময় রাস্তায় চার-পাঁচ লোক তাকে ঘিরে ধরে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে দেয় এবং বারবার ‘জয় শ্রী রাম’ বলার জন্য জোর করে। রাজি না হওয়ার তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে তার অভিযোগ।

মুসলিম ওই যুবক বলেন, আমি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফিরছিলাম। রাস্তায় একজন লোক পথ আটকে আমার মাথার টুপি খুলে ফেলতে বলে। রাজি না হওয়ায় জোর করে মাথা থেকে টুপি ফেলে দিয়ে আমাকে মারতে থাকে, সঙ্গে চলে গালি। সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি দাবি করে বরকত আরো বলেন, আরো কয়েকজন এসে আমাকে ‘জয় শ্রী রাম’ উচ্চারণ করতে বলে। আমি বললাম, কেন বলব এ কথা? এটা বলার পরই তারা আমাকে মারধর শুরু করে এবং আমার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে দেয়। এরপর একপর্যায়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে দাবি করেন বরকত।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজও শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

বরকত বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা, এখন গুরুগ্রামে থাকেন। গুরুগ্রামের ঘটনার দুই দিন আগে মধ্যপ্রদেশেও একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। মধ্যপ্রদেশের সিওনিতে গোমাংস নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দাবি করে এক মুসলমান দম্পতিসহ চারজনকে বেধড়ক পেটানো হয় ।

উৎসঃ ‌‌এনডিটিভি

আরও পড়ুনঃ ‌‘ভারতে মুসলমানদের খুন হওয়া আটকান, নির্ভয়ে তাদের শান্তিতে বাস করতে দিন’


ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর মুসলমানরা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিতে বসবাস করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে আহ্বান জানানো হয়। মুসলমানদের শান্তির সাথে নির্ভয়ে বাস করতে দেয়ার পাশাপাশি তাদের খুন হওয়া আটকাতে এই আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের দুইজন শীর্ষ মুসলিম নেতা। মুসলমানরা যাতে ভারতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও ধর্মীয় উগ্রতার কারণে তারা যাতে ভীতসন্ত্রস্ত না হয় সে জন্য ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম নেতা মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী।

ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভ‚মিধস জয় লাভ করায় ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সব নাগরিকদের এক দৃষ্টিতে দেখার জন্য নরেন্দ্র মোদির প্রতি তিনি আহ্বান জানান। গত রোববার ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাওলানা মাহমুদ মাদানীর ওই চিঠি প্রকাশিত হয়। জাতি ও ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ করা হবে না, নির্বাচনে জয়ের পর এমন বক্তব্য দিয়েছেন মোদি। তার এমন বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে চিঠিতে মাওলানা মাদানী বলেন, আপনার সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে আমরা জানতে পেরেছি সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করার পরিবর্তে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপারে আপনি বিশেষ মনোযোগী হবেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আপনার এ কথাগুলো বাস্তবায়িত হবে।

ধর্মীয় উগ্রতার বিষয়ে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানিয়ে মোদিকে মাওলানা মাদানী বলেন, আমরা আশা করছি আপনি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন। যাতে মুসলমানরা ভারতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও ধর্মীয় উগ্রতার কারণে মুসলমানরা ভীতসন্ত্রস্ত না হয়।

উল্লেখ্য, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ পুরোনো প্লাটফর্ম। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে এ সংগঠনটির জন্ম। উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দলটির ব্যাপক অবদান রয়েছে। মাওলানা মাহমুদ মাদানী ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের প্রাণপুরুষ সাইয়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানীর দৌহিত্র ও সাইয়্যেদ আসআদ মাদানীর ছেলে। তার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা ও সৃজনশীল কর্মপন্থায় ভারতীয় মুসলমানরা এক অভিন্ন প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। মাওলানা মাদানীর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ভারতের সর্বমহলে স্বীকৃত। আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, মত পথ ভুলে এক কাতারে সবাইকে নিয়ে চলার মানসিকতা ও উদ্যোগ তাকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়।

এদিকে ভারতে মুসলমানদের খুন হওয়া আটকাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি জোর আহবান জানিয়েছেন এআইএমআইএম নেতা ও এবার লোকসভা ভোটে গেরুয়া ঝড়ের মধ্যে হায়দরাবাদ কেন্দ্রে ফের জয়ী হওয়া পার্লামেন্ট সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।

বিজেপি জামানা নিয়ে মুসলিমদের মিথ্যে ভয় দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, তার সরকার সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার পক্ষপাতী। কিন্তু সোমবার তথাকথিত ‘গোরক্ষকদের’ তান্ডব নিয়ে মোদির কঠোর সমালোচনা করেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তার প্রশ্ন, মোদি এই ধরনের গোষ্ঠীর তান্ডব রুখতে কী পদক্ষেপ করছেন?

বিজেপি দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ঠিক পরেই ফের ‘গোরক্ষকদের’ তান্ডবের অভিযোগ উঠেছে মধ্যপ্রদেশে। সিওনীতে গরুর গোশত নিয়ে যাওয়ার ‘অপরাধে’ এক দম্পতিসহ তিনজনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পাঁচ জন ‘গোরক্ষকে’র বিরুদ্ধে। তার পরে আক্রান্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কারণ, মধ্যপ্রদেশে গরুর গোশত রাখা বা বিক্রি করা বেআইনি।

ওয়াইসি বলেন, ‘সংবিধানে মানুষের জীবনের অধিকার স্বীকৃত, পশুর নয়। প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন সংখ্যালঘুরা ভয়ে ভয়ে আছেন তাহলে তার জানা উচিত উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে যারা মহম্মদ আখলাককে পিটিয়ে মেরেছিল তারা একটি নির্বাচনী জনসভার প্রথম সারিতে বসেছিল।’ ২০১৫ সালে দাদরিতে বাড়িতে গরুর গোশত রাখার ‘অপরাধে’ মহম্মদ আখলাককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায় ১৪ জন গ্রেফতার হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন জামিন পেয়েছে।

ওয়াইসির প্রশ্ন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের গোষ্ঠীগুলিকে রুখতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন? এই গোষ্ঠীগুলি মুসলিমদের পিটিয়ে খুন করছে। সেই ঘটনার ভিডিও পর্যন্ত তুলে রাখছে। আমাদের চ‚ড়ান্ত অপমান করা হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের ঘটনাই এর সাম্প্রতিক নজির।’ তার বক্তব্য, ‘সংসদে মুসলিমদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে কি বিজেপি উদ্যোগী হয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর নিজের দলের সংসদ সদস্যের সংখ্যা এখন ৩০০ জনের বেশি। কিন্তু তাদের মধ্যে ক’জন মুসলিম?’

উল্লেখ্য, এবারের লোকসভা ভোটে গেরুয়া ঝড়ের মধ্যে হায়দরাবাদ কেন্দ্রে ফের জয়ী হয়েছেন ওয়াইসি।

উৎসঃ ‌‌ আনন্দবাজার পত্রিকা

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here