নাটোরের লালপুরে ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে পেটালেন ছাত্রলীগ!

0
240

নাটোরের লালপুরে সরকারি ভাবে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও ইউপি চেয়ারম্যান দ্বন্দ্বের জের ধরে চেয়ারম্যানকে পিটিয়ে আহত করেছে এমপি সমর্থক ছাত্রলীগ কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার গোপালপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত কদমচিলান ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা মাস্টারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এমপি শহিদুল ইসলাম বকুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের আমি চিনিও না। রাজনৈতিক কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

অপরদিকে, এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজার ভাই আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ৯ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ ঘটনায় নাজিম আলী সরদার নামে এজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার নাজিম আলী সরদার পানঘাটা গ্রামের খোরশেদ সরদারের ছেলে।

আহত ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভিজিএফ কার্ডের তালিকা জমা দিতে উপজেলা পিআইও অফিসে যান কদমচিলান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চেয়ারম্যান সেলিম রেজা। পিআইও আব্দুর রাজ্জাক দলীয় ভাগের কার্ডগুলো স্থানীয় এমপি সমর্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করে তালিকা জমা দেয়ার জন্য বলেন অন্যথায়, তালিকা নেয়া যাবে না বলে জানান।

এসময় চেয়ারম্যান জানান, স্থানীয় ইউপি ও ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দের মাঝ থেকে দলীয় কার্ডের তালিকা নেয়া হয়েছে। তখন পিআইও বলেন, দলীয় বুঝি না। এমপি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিদের মাধ্যমে দলীয় কার্ডের তালিকা দিতে হবে। এভাবে কথাকাটির এক পর্যায়ে দু’জনে উত্তেজিত হয়ে হাতাহাতির পর্যায়ে গেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিতরা দু’জনকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলের সমর্থক ছাত্রলীগ কর্মী স্বপন, দেলোয়ার, সজলসহ কয়েকজন। তারা চেয়ারম্যানকে খোঁজ করতে থাকে ও এমপির নির্দেশ অমান্য করায় হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ৬টার দিকে চেয়ারম্যান সেলিম রেজা উপজেলা থেকে বের হয়ে বাড়ি ফেরার পথে তার পিছু নেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে গোপালপুর বাজারে পথরোধ করে চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি জানান, পিআইও এবং চেয়ারম্যানের মধ্যকার বিবাদের বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক তাদের বিবাদ মিটিয়ে নিয়মমাফিক কাজ করার পরামর্শ দিয়েছি। পরবর্তীতে শুনলাম চেয়ারম্যানকে পথিমধ্যে মারধর করা হয়েছে। কে বা কারা মেরেছে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

লালপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, এ বিষয়ে মামলা হওয়ার পর পুলিশ নাজিম নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌দেশে গণতন্ত্রের গভীর সংকট চলছে: ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সময়ে দেশে গণতন্ত্রের গভীর সংকট চলছে। দেশে নেই আইনের শাসন। নারী নির্যাতন প্রতিদিনই বাড়ছে। এভাবে কোনো সভ্য সমাজ রাষ্ট্র চলতে পারে না।

শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর টাইন হল অডিটরিয়ামে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর ছাত্রদলের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, জাতিকে এ দুরবস্থা থেকে উত্তরণ দিতে হলে জিয়াউর রহমানের আদর্শে জনগণকে উজ্জীবিত করে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। তবেই মিলবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি। এর কোনো বিকল্প নেই।

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাইমুল করিম লুইনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ আলম, যুগ্ম সম্পাদক কাজী রানা প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌বিডি-প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‌নির্বাচিতদের পার্লামেন্টে যাওয়া নিয়ে চাপের চেয়ে লোভ বেশি ছিল: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়


বিএনপির নির্বাচিতদের পার্লামেন্টে যাওয়া নিয়ে চাপের চেয়ে লোভ বেশি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী তাতী দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি পার্লামেন্টে যাবে না, আবার পার্লামেন্টে গেলাম কেনো? এখান থেকে বুঝতে হবে আমাদের প্রতিশ্রুতির অভাব আছে। আমরা অবাধ্যকে বাধ্য করতে পারি না। কারণ তাদের দলের প্রতি ও রাজনীতির প্রতি কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। যারা শপথ নিয়েছে এই ৫টা লোককে আমরা যদি বাধ্য করতে পারতাম তাহলে আজকে আপনাদের এই দুঃখটা থাকত না। মানুষের কাছেও আজকে জবাব দিতে হত না।

তিনি বলেন, তারা বলে পার্লামেন্টে যাওয়াতে চাপ আছে। চাপের চেয়ে লোভ বেশি।

এরা একটা দিনও কি বলেছে খালেদা জিয়া মুক্ত না হলে পার্লামেন্টে যাবো না। ৫ জনের একজন বলেছে একদিন? তাহলে তাদের কাছে পার্লামেন্ট জরুরি, খালেদা জিয়ার মুক্তি জরুরি না।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ভোট যদি রাতের আধারে চলে যায় সবারই বদনাম হয়। সামাজিক ক্ষেত্রেও অনেক অন্যায় আবদার মেনে নিতে হয়। এখন এই ৫ জন যদি দল ছেড়ে চলে যেত তাহলে অন্য রকম পরিস্থিতি হত। সেই কারণেই আমাদের প্রেক্ষাপট বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আইন আছে আইনের প্রয়োগ নাই। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন হত, বিবেকতারিত হত তাহলে খালেদা জিয়াকে ১৪ মাস না ১৪ দিনেও জেলে রাখতে পারত না। আমি ধরে নিলাম উনি অপরাধী। কিন্তু উনার যে সাজা হয়েছে। এরকম সাজাপ্রাপ্ত লোকের সংখ্যা বাংলাদেশে শতশত, হাজার হাজার। তারা জামিনে মুক্ত কিন্তু খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না কেনো?

তিনি বলেন, সম্প্রতি লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তারেককে বেশী বারাবারি করতে না বলো, তাহলে কিন্তু তার মাকে আর ছাড়বো না। তার মানে খালেদা জিয়াকে ছাড়ার মালিক শেখ হাসিনা। এটা কি আদালত অবমাননা না? আদালত কি শেখ হাসিনাকে ডাকছে, জিজ্ঞেস করেছে।

জাতীয়তাবাদী তাতীদলের আহবায়ক আবুল কালামের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন ইসলাম খান, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অদক্ষ সেলিম ভুইয়া, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌ঐক্য অটুট রেখে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে হবে: সাদেক হোসেন খোকা


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। এই অপশাসন থেকে মুক্ত হতে প্রয়োজন ইস্পাত কঠিন ঐক্য। এখন বিভেদ বিভাজনের সময় নয়। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস্থ পালকি সেন্টারে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাদেক হোসেন খোকা বলেন, স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়া যে রাজনীতি ও আর্দশ আমাদের দিয়ে গেছেন, তা বিলীন হবার নয় । সংকট, ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করেই আমাদের সামনে অগ্রসর হতে হবে।

তিনি বলেন, যারা ভাবছেন বিএনপি নিঃশেষ হয়ে গেছে, তারা বোকার র্স্বগে বাস করছে। দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে যে রাজনীতি একাকার হয়ে মিশে আছে তা নিঃশেষ হতে পারে না।

বীর এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে যৌবনে রাজনীতির হাতেখড়ি, শহীদ জিয়ার ঘোষণায় উদ্বীপ্ত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গনতান্ত্রিক আন্দোলন ও দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে পথচলা আমার জীবনে পূর্নতা এনে দিয়েছে। আমি হতাশাবাদীদের অন্তভূক্ত নই। শারীরিক এই অসুস্থতার মধ্যেও আমি বিশ্বাস করি গনতন্ত্র পুন:উদ্ধারের এই সংগ্রামে আমরা বিজয়ী হবো।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে এই দোয়া ও ইফতার মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদিন ফারুক ও সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমউদ্দিন আলম। বিপুল সংখক প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে আবুল কাসেমের উপস্থাপনায় এতে মোনাজাত পরিচালানা করেন মাওলানা আনসারুল করিম।

উৎসঃ ‌‌justnewsbd

আরও পড়ুনঃ ‌তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে বিএনপি: রুহুল কবির রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ। তার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে বিএনপি।

শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

ঈদের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে রিজভী বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতা থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন তারেক রহমান। তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন, খোঁজখবর রাখছেন এবং সাংগঠনিক নির্দেশনা দিচ্ছেন।

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, দলকে গতিশীল রাখতে ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম ইতিমধ্যে প্রায় সব জেলা সফর করে সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করেছেন।

‘বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা সংশ্লিষ্ট জেলার সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করছেন এবং সেই অনুযায়ী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।’

রিজভী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। দলের কমিটি গঠন, বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন সবই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে বাস্তবায়ন করছেন।

এ সময় তিনি বিএনপিকে ভাঙার সরকারের কোনো অপচেষ্টাই সফল হয়নি বলে মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে সরকার গঠন করেও তাদের স্বস্তি নেই। দেশ-বিদেশে বিতর্কিত সেই নির্বাচন বৈধতা পায়নি। তাই বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর অপচেষ্টা করছে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি।

তিনি বলেন, সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থা নানা কূটকৌশল করে বিএনপির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পেরে এখন কিছু গণমাধ্যমকে দিয়ে মনগড়া কল্পকাহিনি রচনা করছেন, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

রিজভী আরও বলেন, গত দুদিন আগে ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, যা চাচ্ছি তা লিখতে পারছি না। অনেক ইস্যুতে লেখা উচিত, যেমন ধরুন- গত নির্বাচন। এ ছাড়া আরও ছোট নির্বাচনগুলো নিয়ে লেখা উচিত, যা লেখা ও বলা উচিত তা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও লিখতে ও বলতে পারছি না।

‘এ হলো বর্তমানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা! কীভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে যে, মাহফুজ আনামের মতো বরেণ্য সাংবাদিকরাও কলম চালাতে সাহস পান না।’

রিজভী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংস্থাগুলো কার্যত গণমাধ্যমের ‘সুপার এডিটর’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গণমাধ্যমের কোন খবর ছাপানো যাবে, কোনটি ছাপানো যাবে না- এসব কিছু তাদের খেয়ালখুশির ওপর নির্ভর করছে। আর সে কারণেই বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাজানো গল্প বানিয়ে দিচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থা, আর সেগুলোই কিছু মিডিয়া হেডলাইন করে ছাপাচ্ছে।

এর আগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়। নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়।

রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য টিএস আইয়ুব, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি আলমগীর হোসেন সোহান, সহসাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম মিঠু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইফতে খায়রুজ্জামান শিমুল, ছাত্রদল নেতা জিসান, সুমন হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করল ছাত্রলীগ; ভিপি নুর এবং আখতারের বিরোধীতা!


সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) আজীবন সদস্যপদ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ডাকসুর কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সভায় এ সদস্যপদ দেয়া হয়। সভায় ছাত্রলীগের সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে এ পদ দেয়া হয়।

কিন্তু এতে অসম্মতি জানিয়ে সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেছে ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন। ডাকসুর সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, সবার সম্মতিতে প্রধানমন্ত্রীকে ডাকসুর আজীবন সদস্যপদ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, আমরা বলেছি যে- এ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সেরকম একটি জায়গায় থেকে আমি মনে করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্য পদ প্রদান করা উচিত না। সে জায়গা থেকে আমিসহ কয়েকজন বিরোধিতা করেছেন।

আমরা বলেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সম্মানী ব্যক্তি। তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রধান। সুতরাং ডাকসুর আজীবন সদস্য পদ দেয়াটা তার জন্য বড় কিছু নয়। যেখানে এ নির্বাচনকে নিয়ে বিতর্কিত একটি অবস্থান রয়েছে, আমরা যখন দায়িত্ব নিচ্ছি তখন শিক্ষার্থীরা, আমার ভাইয়েরা-বোনেরা পুনর্নির্বাচেনের দাবি করে বিক্ষোভ করছেন, মিছিল করছেন। তার কথার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন সমাজসেবা সম্পাদকও।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আওয়ামীলীগ সরকারের চলতি বছরের ৫ মাসে ২৩৩ শিশু ধর্ষণ


আওয়ামীলীগ সরকারের চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত প্রথম ৫ মাসে সারাদেশে ২৩৩ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জন মেয়ে শিশু ও ৬ জন ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরে ৩২ জন মেয়ে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘বন্ধ হোক শিশু ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফউন্ডেশন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই ছেলে শিশুসহ মোট ৩৫ জন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। নিহত শিশুদের মধ্যে সাত শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। একজনকে ধর্ষণ চেষ্টার পর হত্যা করা হয়েছে ও দুই শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর আত্মহত্যা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে ধর্ষণের চিত্র তুলে ধরে বক্তারা বলেন, শিশুদের প্রতি ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রতিনয়ত এ ধরণের পরিবর্তন ঘটছে ও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। শুধু মেয়ে শিশুরাই নয়, ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রেও ঘটছে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও হত্যার মতো ঘটনা। শিশুরা আজকে কোনো জায়গাতেই নিরাপদ নয়। এমনকি প্রতিবন্ধী শিশুরাও শিকার হচ্ছে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির।

এ সময় সংগঠনের বক্তারা সরকার এবং আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে শিশু ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। সেগুলোর মধ্যে আছে- অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার ও বিচার কাজ সম্পন্ন করা, ধর্ষণ ও সহিংসতা বন্ধে এই মুহূর্তে বাস্তসম্মত আইন ও উদ্যোগ গ্রহণ, পর্নোসাইট ও বিদেশি যেসব চ্যানেলে সহিংসতার ঘটনা দেখানো হয় সেগুলো বন্ধ করা ও আইসিটির মাধ্যমে সংগঠিত সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিফা হাফিজ, এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা হোসেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামসহ অনেকে।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌শীর্ষ সন্ত্রাসী ও যুবলীগ নেতা অমিত মুহুরীর উপাখ্যান


গতকাল চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী, যুবলীগ ক্যাডার অমিত মুহুরী মারা গিয়েছে। কারাগারের ৩২ নম্বর সেলে রিপন নামের অন্য এক বন্দীর সঙ্গে অমিত মুহুরির মারামারি হয়। একপর্যায়ে রিপনের ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন অমিত। বুধবার রাত ১০টায় এ ঘটনার পর আহত অমিতকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিবাগত রাত একটার দিকে তিনি মারা যান বলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ নাশির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩২ নম্বর সেলে অমিত মুহুরিসহ তিনজন বন্দী ছিলেন। রাত ১০টার দিকে আরেক বন্দী রিপনের সঙ্গে অমিত মুহুরির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রিপন ইট দিয়ে অমিতের মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর অবস্থায় অমিতকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অমিত মারা যান।

অন্য দশটি ছেলের মতো চট্টগ্রামের রাউজানে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠেছিল অমিত মুহুরী। এসএসসি পাস করে গ্রামের একটি বিদ্যালয় থেকে। শহরে এসে ত্রাস হয়ে ওঠে অমিত মুহুরী। কথায় কথায় গুলি ছোড়া ও ছুরি মারা তার অভ্যাসে পরিণত হয়। তুচ্ছ ঘটনায় ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বুকে ছুরি চালাতেও হাত কাঁপে না তার। পুলিশের চোখে সে ‘ঠাণ্ডা মাথার ভয়ঙ্কর খুনি’। অন্তত অর্ধডজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় এক ডজন চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যা মামলা রয়েছে। গত ২০১৭ সালের ৯ আগস্ট বাল্যবন্ধু ইমরানুল করিম ইমনকে খুনের পর ফের আলোচনায় এসেছে অমিত মুহুরীর নৃশংসতা।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) জাহাঙ্গীর আলম সমকালকে বলেন, ‘অমিত মুহুরী ঠাণ্ডা মাথার একজন ভয়ঙ্কর কিলার। ইমনকে নৃশংসভাবে খুন করে যে কায়দায় লাশ গুম করার চেষ্টা করেছে, একজন স্বাভাবিক মানুষ সেটি কল্পনাও করতে পারবে না। এ ঘটনায় আরও যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অতীতেও অনেকগুলো খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল অমিত।

চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডা. মনোরঞ্জন মুহুরী চেয়ারম্যানবাড়ির অজিত মুহুরীর ছেলে অমিত মুহুরী। এসএসসি পাস করে রাউজান পৌরসভার সুরেশ বিদ্যায়তন থেকে। এর পর চট্টগ্রাম শহরে এসে ওমর গণি এমইএস কলেজে ভর্তি হলেও উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। এর পর ক্রমে হয়ে ওঠে পেশাদার খুনি। পরিচয় দেয় যুবলীগ নেতা হিসেবে। নন্দনকানন, লাভলেন, হেমসেন লেন, ঝাউতলা, লালদীঘিপাড়, মোমিন রোড ও এনায়েতবাজার এলাকায় দোর্দণ্ড প্রতাপ তার। এসব এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজিই তার মূল কাজ। এ ছাড়া ভাড়ায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বন্ধু রাসেলকে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে খুনের মধ্য দিয়ে উত্থান
২০১২ সালে নগরের মোমিন রোডের ঝাউতলা এলাকার যুবলীগ কর্মী মো. রাসেলের সঙ্গে পরিচয় হয় অমিত মুহুরীর। দু’জনের মধ্যে গড়ে উঠে সখ্য। একপর্যায়ে নারীঘটিত বিষয় নিয়ে দু’জনের বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। এর জেরে অমিত মুহুরীকে মারধর করেন রাসেল। পরে প্রতিশোধ নিতে অমিত মুহুরী তার সহযোগীদের নিয়ে রাসেলকে তুলে নিয়ে যায়। আগ্রাবাদের জাম্বুরি মাঠে নিয়ে বেধড়ক পেটায়। শরীরে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে খুুঁচিয়ে তাকে নিপীড়ন করে। একপর্যায়ে মৃত মনে করে মাঠে ফেলে যায় তারা। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় রাসেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাস নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর দেশ ছেড়ে পালায় অমিত। পরে ফিরে এলে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে আসে।

সিআরবি জোড়া খুনের ঘটনায় আলোচনায় অমিত
২০১৩ সালের ২৪ জুন চট্টগ্রাম নগরের সিআরবি সাত রাস্তার মোড় এলাকায় রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে খুন হয় সিআরবি এলাকার মো. ছিদ্দিকের ছেলে মো. আরমান (৮) ও লাভ লেন এলাকার যুবলীগ কর্মী সাজু পালিত (২৫)। চাঞ্চল্যকর এ জোড়া খুনের মামলায় অন্যতম আসামি অমিত মুহুরী। ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এর পর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের খাতায় নাম ওঠে তার। অপরাধজগতেও বেড়ে যায় তার কদর। এরপর ক্রমে নিজেই গড়ে তোলে আলাদা বাহিনী।

বাল্যবন্ধুকে নৃশংসভাবে খুন করে অমিত
রাউজান পৌরসভা এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে ইমরানুল করিম ইমন ও অমিত মুহুরী বাল্যবন্ধু। একই এলাকায় তাদের বাড়ি। গত ৮ আগস্ট রাতে অসুস্থতার কথা বলে নন্দনকাননের বাসায় ইমনকে ডেকে নিয়ে যায় অমিত মুহুরী। ৯ আগস্ট ভোরে লোমহর্ষকভাবে খুন করে তাকে। খুনের পর ড্রামের ভেতরে মরদেহ রেখে এসিড ও চুন ঢেলে সেটা গলিয়ে হাড়গোড় নদীতে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু একদিন পরও মরদেহ অবিকৃত থাকায় সেটি খণ্ড খণ্ড করে কেটে ফেলার চেষ্টা করে। মরদেহ শক্ত হয়ে যাওয়ায় অমিতের সে পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয়। এর পর বালু ও সিমেন্ট দিয়ে ড্রামের ঢাকনা ঢালাই করে মরদেহ পাশের রানীর দীঘিতে ফেলে দেওয়া হয়। ১৩ আগস্ট দীঘি থেকে ড্রামভর্তি গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৩১ আগস্ট অমিতের বন্ধু ইমাম হোসেন মজুমদার ওরফে শিশির (২৭) ও হরিশদত্ত লেনের বাসার নিরাপত্তারক্ষী শফিকুর রহমান শফিকে (৪৬) আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এর দু’দিন পর কুমিল্লার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে অমিত মুহুরীকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় খুনের দায় স্বীকার করে পরস্পরকে দায়ী করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে শিশির ও অমিত।

ছাত্রলীগ কর্মী ইয়াছিন খুন
গত ১১ ফেব্রুয়ারি সিটি কলেজের ছাত্রলীগ নেতা ইয়াছিনকে দিনদুপুরে নগরের আমতলা এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অমিত মুহুরী জড়িত বলে দাবি সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতাদের। খুন হওয়ার কিছুদিন আগে ইয়াছিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এর মধ্যে ইয়াছিনের ইয়ামাহা কোম্পানির এফজেডএস মোটরসাইকেলটি নিয়ে নেয় অমিত। মোটরসাইকেল চাইতে গেলে ইয়াছিনকে হুমকি-ধমকি দেয়। বিষয়টি ইয়াছিন তার রাজনৈতিক বড় ভাইকে জানালে তিনি অমিত মুহুরীকে পাল্টা হুমকি-ধমকি দেন। এর জের ধরে ইয়াছিনকে খুন করা হতে পারে বলে ধারণা ছাত্রলীগ নেতাদের।

এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বাকলিয়া এলাকায় মোটরসাইকেলে শোডাউন করে ত্রাস সৃষ্টি করে অমিত মুহুরী। এ বিষয়ে জানতে চাওয়ায় ছাত্রলীগ নেতা তানজিরুল হকের পায়ে প্রকাশ্যে গুলি চালায় সে। গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন নগরীর ডিসি হিলে পুলিশের ওপর হামলা চালায় অমিত মুহুরী ও তার অনুসারী সন্ত্রাসীরা। গত ২৮ এপ্রিল রাতে নগরের কোতোয়ালি থানার মোমিন রোডের ঝাউতলা এলাকায় স্থানীয় কিশোর-তরুণদের দু’পক্ষ মারামারি শুরু করে। একপর্যায়ে পিস্তল উঁচিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালায় অমিত মুহুরী, যা সিসিটিভির ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ২৫ মে তাকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ২৬ জুন জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও স্বরূপে ফেরে ভয়ঙ্কর এ সন্ত্রাসী।

উৎসঃ ‌‌ব্লগ থেকে

আরও পড়ুনঃ ‌সাত বছরে ৫ বার ফেল ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন!


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সাত বছরেও তৃতীয় বর্ষ উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত তিনি পাঁচবার ফেল করলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের আদেশ অনুযায়ী স্নাতক পর্যায় ছয় বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে। সে হিসেবে তিনি ছাত্রত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

জানা গেছে, আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল সোমবার প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় সাদ্দাম হোসেন অকৃতকার্য হয়েছেন।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ১২৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ১২১ জন পরীক্ষায় পাস করেন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

প্রকাশিত ফলাফলে অকৃতকার্য হন সাদ্দাম হোসেন।

সূত্র জানিয়েছে, তৃতীয় বর্ষের মোট ছয়টি কোর্সের পরীক্ষায় সাদ্দাম হোসেন অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, ঢাবি ছাত্রলীগরে সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ২০১১-১২ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষ উত্তীর্ণ হতে তিনি তিন বছর সময় নেন। অর্থাৎ ২০১২, ‘১৩, ‘১৪ সালে প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন।

চতুর্থবারের চেষ্টায় ২০১৫ সালে প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় সাদ্দাম হোসেন উত্তীর্ণ হন।

‘১৬ সালে দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি পাস করতে পারেননি। ২০১৭ সালে দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে পাস করেন।

‘১৮ সালে তৃতীয় বর্ষে ভর্তি হন। তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ শুরু হয়। সেই পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন।

সব মিলিয়ে এই ছাত্রনেতা সাত বছরে তৃতীয় বর্ষ পার হতে পারেননি।

ঢাবি সিন্ডিকেটের একটি আদেশ আছে, আট বছরের বেশি কোনো শিক্ষার্থী ঢাবির নিয়মিত ছাত্র হয়েছে অধ্যয়ন করতে পারবে না।

এই আট বছরের মধ্যে ছয় বছরে স্নাতক ও দুই বছরে স্নাতকোত্তর করতে হবে।

কিন্তু সাদ্দাম হোসেন সাত বছরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকের ছাত্র রয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবির আইন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. নাইমা হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসব বিষয় আমরা বিভাগ থেকে দেখি না। এগুলো ডিন অফিস, রেজিস্ট্রার অফিস দেখে’।

উৎসঃ ‌‌দেশ রূপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের টেন্ডার ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে হল নির্মান বন্ধ!


খুন, হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, দখল, মারামারির পর এবার চাঁদাবাজি ও কয়েকশ কোটি টাকার টেন্ডার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। তাদের চাঁদাবাজির কারণে বন্ধ রয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ হাসিনা ছাত্রী হল ও ড. ওয়াজেদ মিয়া হল নির্মাণের কাজ। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প এর প্রথম ধাপের ছয়টি হল নির্মাণের ৪শ’ কোটি টাকার দরপত্র ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছিনতাই করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীর মালিকানাধীন বনানীস্থ ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বরাবর লিখিতভাবে এই অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, গত ২৩ মে প্রি-টেন্ডার মিটিংয়ে অংশগ্রহণ পূর্বক সিডিউল কিনে ফেরার সময় ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে ২০-৩০ জন যুবক তাদের কাছ থেকে সিডিউল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। ফলে তাদের পক্ষে দরপত্র প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই দরপত্র বাতিল করে পুনরায় দরপত্র (ইজিবি) আহবান করার অনুরোধ জানানো হয় অভিযোগপত্রে।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে প্রকল্প পরিচালকের অনুমতি নিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে সিডিউল কিনেন কোম্পানীর একজন প্রতিনিধি। তিনি সিডিউল কিনে বের হলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের অনুসারী বেশ কিছু নেতাকর্মী তাদের কাছে সিডিউল দিয়ে দিতে বলেন। তারা বলেন, বিশ্বাস বিল্ডার্সসহ অনেকে আমাদের কাছে সিডিউল জমা দিয়ে গেছে। আপনিও দিয়ে দেন। কালকে আমরা একটা সমঝোতা করে আপনাদের মধ্যেই ছয়জনকে ছয়টা কাজের ব্যবস্থা করে দিব। প্রায় ১ ঘণ্টা বাকবিতন্ডার পর কোম্পানীর প্রতিনিধি ছাত্রলীগের কাছে ঐ সিডিউল দিয়ে দেন।

পরে ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশনের একজন পরিচালক বলেন, আমাদের কাছে থেকে জাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সিডিউল ছিনতাই করেছে। কোম্পানীর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা লিখিত অভিযোগ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছেও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন ম্যানুয়েল টেন্ডারের ব্যবস্থা করেছে কিন্তু আমাদের কোন নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি। আমরা অনিয়ম রোধে পুনরায় ইজিবি টেন্ডার আহবান করার দাবি জানিয়েছি।

এই পরিচালক আরো বলেন, এখানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা জড়িত। বিশ্বাস বিল্ডার্স, মাজেদ এন্ড সন্স, বঙ্গ বিল্ডার্সসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এরুপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে।

এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে সিডিউল কেনার ব্যাংক কার্যালয়ে ছাত্রলীগ শোডাউন দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক গ্রুপের পাশাপাশি বিদ্রোহী গ্রুপ ও সাবেক নেতাদের একটা গ্রুপও তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানের জন্য সিডিউল কিনেছে।

অপরদিকে, রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মণানাধীন ড. ওয়াজেদ রিসার্স ইন্সটিটিউটের ভবনের ঠিকাদারী কর্তৃপক্ষের কাছে ছাত্রলীগ সভাপতি আবু মোন্নাফ আল কিবরিয়া ওরফে তুষার কিবরিয়া ১৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানায় এই জিডি করেন নির্মাণাধীন ভবনের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসাইন।

জানা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসাইন সাধারণ ডায়েরীতে অভিযোগ করেছেন যে, গত ১২ এপ্রিল বিকেল ৩টায় আমি নির্মাণাধীন ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাইটে অফিস কক্ষে অবস্থান করছিলাম। এসময় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া আমার অফিস কক্ষে এসে ১৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

পাশাপাশি একইদিন সন্ধ্যার মধ্যে ১ লাখ টাকা দাবি করেন এবং বাকি ১৩ লাখ টাকা পরবর্তীতে দিতে হবে বলে হুমকি দিয়ে যান। এ সময় প্রজেক্টের ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল বাহারকে টাকা দেয়ার চাপও সৃষ্টি করেন ছাত্রলীগ নেতা তুষার কিবরিয়া। এছাড়াও শ্রমিকদের ওপর বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি ও চাপ প্রদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দিয়ে যান তিনি। এরপর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এর আগে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চাদাবাজি টেন্ডারবাজির প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে লাগাতার আন্দোলন করেছে ছাত্রলীগেরই একাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জিম্মি করে ক্যাম্পাসের উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্থ করেছিল তারা।

ছাত্রলীগের দাবি-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এখন প্রশ্ন হলো- ছাত্রলীগ সবসময় বলে তারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে। এসব খুন, হত্যা, মারামারি, চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ, দখল বাণিজ্য, টেন্ডার ছিনতাই আর চাঁদাবাজি কি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল? কারণ, ছাত্রলীগকে কখনো কোনো গঠনমূলক কাজ করতে দেখা যায়নি। প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই শুধু ছাত্রলীগের বিভিন্ন অপকর্মের সংবাদ দেখা যায়। প্রতিদিনই তারা সংবাদের শিরোনাম হচ্ছেন। শেখ মুজিবুর রহমান কি ভাল কোনো স্বপ্ন দেখেন নি?

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌জননেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান : জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্ম ও শৈশবে তাঁর ডাক নাম ছিলো কমল। পিতা মনসুর রহমান ও মাতা জাহানারা খাতুন ওরফে রানীর সংসারে পাঁচ ভাইয়ের জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়। মনসুর রহমান কলকাতায় একটি সরকারি দফতরে রসায়নবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জিয়াউর রহমানের শৈশবের কিছুটা সময় বগুড়ার গ্রামে ও কিছুকাল কলকাতা শহরে অতিবাহিত হয়।

ভারত ভাগের পর পিতার কর্মস্থল হয় পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি শহরে। সেই সুবাদে সেখানে চলে যান জিয়া। কলকাতার হেয়ার স্কুল ত্যাগ করেন ভর্তি হন করাচি একাডেমী স্কুলে। ওই স্কুল থেকে ১৯৫২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক পাস করে ১৯৫৩ সালে ভর্তি হন করাচির ডি.জে. কলেজে। ওই বছরই কাবুল মিলিটারি একাডেমীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন।

১৯৮১ সালের এই দিনে (৩০ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থানরত জিয়াউর রহমান এক ব্যর্থ সেনা অভ্যূত্থানে নিহত হন। রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র সংসদ ভবনের পাশে অবস্থিত চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানকে সমাধিস্থ করা হয়। চন্দ্রিমা উদ্যান অনেকেই কাছে জিয়া উদ্যান নামেও পরিচিত।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক এই রাষ্ট্রপতির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি তুলে ধরা হলো:

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৫৩ সালে কাবুল মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন। সামরিক বাহিনীতে তিনি একজন সুদক্ষ প্যারাট্রুপার ও কমান্ডো হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেন এবং স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। করাচীতে দুই বছর চাকুরি করার পর ১৯৫৭ সালে তিনি ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হয়ে আসেন।

১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন।

১৯৬০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দিনাজপুর শহরের মেয়ে খালেদা খানমের (বেগম খালেদা জিয়া) সঙ্গে জিয়াউর রহমান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে খেমকারান সেক্টরে তিনি অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। যুদ্ধে দুর্ধর্ষ সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য যেসব কোম্পানি সর্বাধিক বীরত্বসূচক পুরস্কার লাভ করে, জিয়াউর রহমানের কোম্পানি ছিল এদের অন্যতম। এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পাকিস্তান সরকার জিয়াউর রহমানকে হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত করে। এছাড়াও জিয়াউর রহমানের ইউনিট এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য দুটি সিতারা-ই-জুরাত এবং নয়টি তামঘা-ই-জুরাত পদক লাভ করে।

১৯৬৬ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে পেশাদার ইনস্ট্রাক্টর পদে নিয়োগ লাভ করেন। সে বছরই তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটার স্টাফ কলেজে কমান্ড কোর্সে যোগ দেন।

১৯৬৯ সালে তিনি মেজর পদে উন্নীত হয়ে জয়দেবপুরে সেকেন্ড ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। এডভান্সড মিলিটারি এন্ড কমান্ড ট্রেনিং কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি পশ্চিম জার্মানিতে যান এবং কয়েক মাস ব্রিটিশ আর্মির সাথেও কাজ করেন।

১৯৭০ সালে একজন মেজর হিসেবে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। পূর্ব বাংলার জনপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবের বন্দিদশায় জিয়াউর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়েই আবারও বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামের দিশা খুঁজে পায়।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।

১৯৭২ সালের জুন মাসে তিনি কর্নেল পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ-অফ-স্টাফ (উপসেনাপ্রধান) নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে ও ১৯৭৩ সালে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৭৫ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নির্মমভাবে স্বপরিবারে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই বছরই চিফ অব আর্মি স্টাফ নিযুক্ত হন জিয়াউর রহমান। ওই বছরের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন এবং নিযুক্ত হন উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে।

১৯৭৬ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৬ সালের ৮ মার্চ মহিলা পুলিশ গঠন করেন, ১৯৭৬ সালে কলম্বোতে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন সম্মেলনে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশ ৭ জাতি গ্রুপের চেয়ারম্যান পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৭৬ সালেই তিনি উলশি যদুনাথপুর থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন উদ্বোধন করেন এবং ওই বছরের ২৯ নভেম্বর জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। একই বছরের ১৯ নভেম্বর তিনি পুনরায় সেনাবাহিনীর চীফ অফ আর্মি স্টাফ পদে দায়িত্বে প্রত্যাবর্তন করেন। ওই বছরই গঠন করেন গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

১৯৭৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি একুশের পদক প্রবর্তন করেন জিয়াউর রহমান। এবং রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত সায়েমের উত্তরসূরি হিসেবে ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জিয়াউর রহমান দেশে আবার গণতন্ত্রায়ণের উদ্যোগ নেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেন। দেশের রাজনীতিতে আবারও গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়।

১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে প্রধান করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠা করেন। ছয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে তিনি ৭৬.৬৭% ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং রাষ্ট্রপতির পদে নিয়োজিত থাকেন।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বর্তমানে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি এবং যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান) বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়াউর রহমানে নবগঠিত বিএনপিতে বাম, ডান ও মধ্যপন্থিসহ সকল স্তরের রাজনীতিকদের অংশগ্রহণ ছিল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সামরিক আইন প্রত্যাহার করেন।

সেনাবাহিনীতে অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন জিয়াউর রহমান। ওই সময়ে অনেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ১৯৮১ সালের ২৯ মে তিনি চট্টগ্রামে আসেন এবং সেখানে সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন। এর একদিন পরই ৩০ মে ভোরে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। চন্দ্রিমা উদ্যানে তাঁর জানাজায় প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হয়।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, উইকিপিডিয়া

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here