মালয়েশিয়ায় বাস দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জন

0
106

মালয়েশিয়ায় যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জন হয়েছেন। শ্রমিকদের নিয়ে তে নীলাই, নেগরি সেম্বিলান থেকে এয়ারপোর্ট অভিমুখে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আহত হন আরও অন্তত ৩৪ জন।

রোববার রাত ১১টায় মালয়েশিয়ার কে এল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের এমএএস কার্গো, জালান এস-৮ পেকেলিলিংয়ের পাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহত হন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাসচালকসহ মারা যান আরও ৫ জন। হতাহতদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকও রয়েছেন।

নিহত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মধ্যে ২ জন চাঁদপুর, ২ জন কুমিল্লা ও ১ জন নোয়াখালীর রয়েছে বলে জানা গেছে। তারা হলেন, চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থানার দেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের মো আনোয়ারের ছেলে সোহেল (২৪), চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার চরভাগল ৩নং ওয়ার্ডের মো. আমির হোসেনের ছেলে আলামিন (২৫), কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানার দুরলবপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে মহিন (৩৭), কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার হাসানপুর কলেজ পাড়ার ঢাকাগাঁও গ্রামের মো. ইউনুস মুন্সির ছেলে মো. রাজিব মুন্সি (২৭) ও নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার নোয়াখোলা ২নং ওয়ার্ডের নুর মোহাম্মদের ছেলে গোলাম মোস্তফা।

এ ছাড়া পরিচয় পাওয়া আহত বাংলাদেশিরা হলেন সেরডাং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান হোসাইন (২১), মোহাম্মদ নাজমুল হক (২১), মোহাম্মদ রজবুল ইসলাম (৪৩) এবং পুত্রাজায়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ ইউনুস (২৭), জাহিদ হাসান (২১), শামীম আলী (৩২) ও মোহাম্মদ রাকিব (২৪)।

চিকিৎসাধীন ৮ জনের মধ্যে ৪ জনের প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

কে এল আই এয়ারপোর্টের ওসিপিডির সহকারী কমিশনার জুলকিফলি আদম শাহ গণমাধ্যমকে বলেন, দুর্ঘটনার সময় বাসটি ৪৩ জন শ্রমিক বহন করছিল। তারা এমএএস কার্গোতে চুক্তিভিত্তিক কাজ করতেন।

এ দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার কাউন্সিলার জহিরুল ইসলাম ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেখান থেকে সারডাং, বান্তিং ও পুত্রাজায়া হাসপাতালে দেখতে যান হতাহতদের।

লেবার কাউন্সিলার জহিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নিহত বাংলাদেশি ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে।

তিনি বলেন, যারা নিহত হয়েছেন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত তাদের লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি হতাহতদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মির্জা আব্বাস দম্পতির বিদেশ যেতে বাধা নেই


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে দেশের বাইরে আসা-যাওয়ার সময় বাধা না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন বিভাগ ও বিমানবন্দর থানার ওসি সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এক আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে মির্জা আব্বাস দম্পতির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম।

গত ৪ এপ্রিল বিদেশ যেতে ও বিদেশ থেকে ফেরত আসার সময় বাধা না দেয়ার নির্দেশ চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাস।

অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন বলেন, আগামী ১০ এপ্রিল মির্জা আব্বাস দম্পতি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাবেন। এর আগে বিদেশ যাওয়ার সময় তাদেরকে বাধা দেয়া হয়েছিল। এবারও বাধা দেয়া হতে পারে- এই আশঙ্কা থেকে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন তারা। আবদনের শুনানি নিয়ে আদালত উপরোক্ত আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং তার স্ত্রী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৭ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক সালাহউদ্দিন রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় এ মামলা করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আফরোজা আব্বাসের নামে যে সম্পদের বর্ণনা পাওয়া গেছে, তা আসলে তার স্বামী মির্জা আব্বাসের সহায়তায় অবৈধ উৎস থেকে অর্জিত।

আফরোজা আব্বাসের নামে ২০ কোটি ৭৬ লাখ ৯২ হাজার ৩৬৩ টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে। আয়কর নথিতে তিনি নিজেকে একজন হস্তশিল্প ব্যবসায়ী হিসাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু পাসপোর্টের তথ্যে বলা হয়েছে, তিনি একজন গৃহিণী। নিজের আয়ের কোনো বৈধ উৎস তার নেই।

আফরোজা আব্বাস অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ হস্তান্তর, রূপান্তর ও অবস্থান গোপন করে অসৎ উদ্দেশ্যে দালিলিক প্রমাণবিহীন ভুয়া ঋণ হিসেবে দেখিয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ রাফিয়াকে পুড়িয়ে হত্যার অপচেষ্টাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন : জামায়াত


ফেনী জেলার সোনাগাজি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় নুসরাত জাহান রাফি নামের এক ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার অপচেষ্টার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের আহবান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ফেনী জেলার সোনাগাজি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় নুসরাত জাহান রাফি নামের এক ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার অপচেষ্টার ঘটনার নিন্দা জানানোর কোন ভাষা নেই। মানুষ যে এত নিষ্ঠুর হতে পারে তা কোন সভ্য মানব সমাজে কল্পনাও করা যায় না। এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা মানুষ নামের কলংক।

তিনি বলেন, প্রতিদিনই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নারী হত্যা, নারী ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও নারীদের পুড়িয়ে হত্যা এবং হত্যার অপচেষ্টার খবর বিভিন্ন্ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কী সাংঘাতিক অবনতি ঘটেছে। এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে নীতি-নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চরম অবনতি ঘটার কারণেই সমাজে নৈরাজ্য চলছে। দেশে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার না থাকার কারণেই সমাজে অরাজকতা চলছে।

নারী হত্যা, নারী ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও নারীদের পুড়িয়ে হত্যা এবং হত্যার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সচেতন দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সোনাগাজির মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করার অপচেষ্টার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে ঐ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করার করতে হবে। তিনি অগ্নিদগ্ধ ছাত্রীর আশু সুস্থতা কামনা করে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং তার পরিবার-পরিজনদের প্রতি সহানুভূতি ও সমবেদনা জানান।

রংপুরে নেতাকর্মী গ্রেফতারের নিন্দা: রংপুর মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ কাওসার আলীসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৬ জন নেতা-কর্মীকে ৭ এপ্রিল পুলিশ গ্রেফতার করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যেই মোঃ কাওসার আলীসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৬ জন নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, সরকার জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের জেলে আবদ্ধ করে রেখে দেশে একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন চালাচ্ছে। সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশের মানুষকে পদদলিত করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চায়। সরকারের কর্তৃত্ববাদী জুলুম-নির্যাতনে দেশের জনগণ অতিষ্ঠ। সরকারের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি মোঃ কাওসার আলীসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৬ জন নেতা-কর্মীকে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে মুক্তি প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ আকাশেই বিমানের ইঞ্জিন বিকল, চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ


সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজের একটি ফ্লাইট গতকাল সোমবার দুপুরে ইঞ্জিন বন্ধ অবস্থায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরন করেছে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে উড়োজাহাজটির ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিলো। বর্তমানে ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের হোটেলে পাঠানোর প্রস্ততি চলছে।

বিমানটি সোমবার বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটের দিকে বিমানটি জরুরি চট্টগ্রামে অবতরণ করে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক কাজী খাইরুল কবির গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের দুইটি ইঞ্জিনের একটি বিকল হওয়ায় চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করেছে। যাত্রীরা সবাই নিরাপদে আছেন। বিমানটি সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ঢাকায় অবতরণ করার কথা ছিল।

কাজী খাইরুল কবির আরো বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিমানটি ঢাকায় নামার কথা ছিল। ইয়াংগুন পর্যন্ত আসার পর পাইলট বুঝতে পারেন যে বিমানের একটি ইঞ্জিন বিকল হয়েছে। তখন চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল দুপুরে যাত্রী নিয়ে (বোয়িং-৭৩৭-৮০০) ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্য ঢাকা ছেড়ে যায়। সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের আগেই মধ্য আকাশেই বোয়িং কোম্পানীর উড়োজাহাজের এক নম্বর ইঞ্জিন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। মেরামত করার পর আবারো ইঞ্জিনে সোমবার একই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে রাতভর মেইনটেন্স এবং ঢাকায় ফিরে আসার পর ওই ইঞ্জিন পরীক্ষা করানো হয়। তারপরও কি কারণে একই সমস্যা দেখা দিলো তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তারা বলছেন ‘এটা সত্যিকারের টেকনিক্যাল সমস্যা না-কি অন্য কিছু?’

এ প্রসঙ্গে সোমবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান প্রকৌশলী কায়সার জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে দায়িত্বরত অপর একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে নয়া দিগন্তকে শুধু এটুকু বলেন, আমরা বোয়িং কোম্পানীর দেয়া ইন্সট্রাকশন মোতাবেক কাজ করেছি। তারপরও আজ সিঙ্গাপুর থেকে আসার পর আবারো কি কারণে ইঞ্জিনে একই সমস্যা দেখা দিলো সেটি জানাতে বোয়িং কোম্পানীকে আমরা জানিয়েছি।

বিমানের বলাকা ভবন সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল দুপুরে (বিজি-০৮৪) বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুরেরর উদ্দেশ্য ঢাকা ছেড়ে যায়। ওই ফ্লাইটের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন সাফা। ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করার আগেই নাম্বার ওয়ান ইঞ্জিনটি অটোমেটিক শাটডাউন (বন্ধ) হয়ে যায়। এই অবস্থায় পাইলট অপর ইঞ্জিন দিয়ে ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করান।

ওইদিন ওই উড়োজাহাজের মেইনটেন্স কাজ চলে সারারাত। ঢাকাগামী যাত্রীদের পাঠানো হয় হোটেলে। পাইলট ও কেবিন ক্রুদেরও পাঠানো হয় হোটেলে। মেইনটেন্স শেষে ৭ এপ্রিল দুপুর ১২টায় যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসে ফ্লাইটটি (০৮৫ ডেলটা)। ঢাকায় আসার পর আবারো ইঞ্জিন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য হ্যাংগারে পাঠানো হয়।

মেরামত শেষে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুরেরর উদ্দেশ্য ঢাকা ছাড়ে (বিজি-০৮৪)। এদিন ফ্লাইটের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন তারেক। ফিরতি ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় আসার কথা। কিন্তু চট্টগ্রামের আকাশে থাকা অবস্থায় আবারো ১ নম্বর ইঞ্জিনটি অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইলট ঢাকায় আসার ঝুঁকি না নিয়ে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরী অবতরণ করান।

সোমবার সন্ধ্যার আগে বিমানের প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী কায়সার জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি এই মুহুর্তে অফিসের ডিউটিতে নাই। যে কোন তথ্য জানতে হলে জনসংযোগ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি।

প্রকৌশল শাখার অপর এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে চট্টগ্রামে বোয়িং-৭৩৭ এর জরুরী অবতরনের কথা স্বীকার করে বলেন, না মেইনটেন্স বোয়িং এসপার ইন্সট্রাকশন এবং ইঞ্জিন মেন্যুফেকচারিং কোম্পানীর দেয়া ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী যেভাবে যা করতে বলা হয়েছে সেভাবে করার পর গ্রাউন্ডে কোনো প্রবলেম হয়নি এয়ারক্রাফটের। মেইনটেন্স পয়েন্ট এর গ্রাউন্ডে যদি কোনো প্রবলেম না থাকে তাহলে এয়ারক্রাফট রিলিজ করে দেয়া হয়। এবং সেটা এসপার বোয়িং এর ইন্সট্রাকশন মোতাবেক করা হয়।

ঢাকায় আসার পথে আবার একই সমস্যার কথা জানালে তিনি বলেন, এখন আবার বোয়িং কোম্পানী এবং ইঞ্জিন মেন্যুফেচারিং কোম্পানীকেও জানানো হয়েছে। যে তোমাদের ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী কাজ হয়েছে। তারপর আবার একই সমস্যা হয়েছে। তাদের অলরেডি জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো ফিডব্যাক (জবাব) পাওয়া যায়নি।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘শোন ভাই আমি মনে হয় বাঁচবো না, ওই শিক্ষকের যেন বিচার হয়’


‘শোন ভাই, আমি বুঝতে পারছি- আমি মনে হয় আর বাঁচবো না। যদি আমার কিছু একটা হয়ে যায়, মায়ের দিকে খেয়াল রাখবি। আর এই ঘটনার জন্য যে দায়ী, তার যেন বিচার হয়।’

ফেনীর সোনাগাজীতে আলিম পরীক্ষাকেন্দ্রে বোরকাপরিহিত দুর্বৃত্তদের আগুনে দগ্ধ হয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন সেই ছাত্রী এভাবেই কাতর স্বরে কথাগুলো বলছিল তার ভাইকে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউর বাইরে কাঁদতে কাঁদতে বাংলানিউজকে এ কথা জানায় সেই ছাত্রীর ভাই। সোমবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে আইসিইউতে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিল সেই ছাত্রী। পরে দুপুর ১২টার দিকে সেই ছাত্রীকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলানিউজকে বলেন, ছাত্রীর শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। সকালের দিকে তার কিছুটা ড্রেসিং করা হলে শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপের দিকে চলে যায়, তখন তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়।

বোনের সঙ্গে আলাপের কথা জানিয়ে ছাত্রীর ভাই বাংলানিউজকে জানায়, ওই ছাত্রী তাকে এভাবে বলেছে- ‘আমি বুঝতে পারছি- আমি মনে হয় আর বাঁচবো না। যদি আমার কিছু একটা হয়ে যায়, মায়ের দিকে খেয়াল রাখবি। আর তোর প্রতি আমার নির্দেশ, আমার এই ঘটনার জন্য যে দায়ী, সেই মাদ্রাসার শিক্ষক যেন কোনোমতেই ছাড় না পায়। সঠিক বিচার যেন তার হয়, সে দিকে খেয়াল রাখবি।’

যৌন হয়রানির অভিযোগে করা মামলার জেরে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার পক্ষের কয়েকজন গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে সেই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন তার আর্তনাদ শুনে মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা ছাদে ছুটে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর জেলা সদর হাসপাতাল, সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে নিয়ে আসা হয়।

ওই ছাত্রীর ভাইয়ের ভাষ্যে, ২৭ মার্চ বেলা পৌনে ১২টার দিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা তার পিয়ন নুরুল আমিনকে দিয়ে সেই ছাত্রীকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। তখন সেই ছাত্রী নিজের সঙ্গে আরও ৩-৪ জন বান্ধবীকে নিয়ে অধ্যক্ষের রুমে ঢুকতে চাইলে সিরাজউদ্দোলা অন্যদের ঢুকতে না দিয়ে কেবল সেই ছাত্রীকে নিয়ে যান। এরপর দরজা আটকে তিনি ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখান। এমনকি পরীক্ষার আধঘণ্টা আগে তাকে প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে জানিয়ে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। এরপর সিরাজউদ্দৌলা ওই ছাত্রীর শরীর স্পর্শ করার চেষ্টা করলে সেখানে কিছুক্ষণ ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়ে যায়। তখন খবর পেয়ে মাদ্রাসায় থাকা ওই ছাত্রীর ছোট ভাই অধ্যক্ষের কক্ষে ছুটে যায়। অধ্যক্ষ তখন তাকে জানান, তার বোন অসুস্থ। সেজন্য ছুটির আবেদন করতে এসে পড়ে যায়।

সেখান থেকে ওই ছাত্রীকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হলে ওই ছাত্রী কিছুটা সুস্থ হয়। তখন সে স্বজনদের জানায়, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছিলেন। এরপরে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরা মাদ্রাসায় গিয়ে অধ্যক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে তিনি ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন। এরপর মাদ্রাসার অধ্যক্ষই উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ফোন করেন। আওয়ামী লীগের নেতা পুলিশসহ মাদ্রাসায় যান। তবে মাদ্রাসায় গিয়ে সব ছাত্র-ছাত্রীর মাধ্যমে পুরো ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ অধ্যক্ষকেই আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় পরের দিন সিরাজউদ্দৌলাকে আদালত পাঠানো হয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়।

দগ্ধ করার ঘটনার বর্ণনায় ওই ছাত্রীর ভাই জানায়, ৬ এপ্রিল আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিলো তার বোনের। সকালে মাদ্রাসায় গেলে একজন সেই ছাত্রীকে বলে যে, তার এক বান্ধবীকে কারা যেন ছাদে মারধর করছে। এ কথা শুনে সে তখনই সেখানে ছুটে যায়। কিন্তু সেখানে বোরকাপরিহিত চারজন ওই ছাত্রীকে ঘিরে ধরে এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয়। এই চাপ প্রত্যাখ্যান করায় সেই চারজন প্রথমে তাকে কিল-ঘুষি মারে। এক পর্যায়ে তারা সেই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ছাত্রীর চিৎকার শুনে সেখানে ছুটে যান পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল রাসেল ও মাদ্রাসার অফিস সহকারী মোস্তফা। পরে তারা ছাত্রীর গায়ে কার্পেট জড়িয়ে আগুন নেভান।

ঢামেকে ভর্তি এই ছাত্রীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার চিকিৎসায় কাজ করছে ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে ‘মাতামাতি’ পছন্দ না ২০ দলের


নির্বাচনের পরে একবারই বৈঠক হয় এবং ২০ দল নিয়ে কোনো কর্মসূচিও নেই। অন্যদিকে গত বছর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গঠিত নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সময় সময় বৈঠক হচ্ছে। পাশাপাশি এই জোটের সঙ্গে একের পর এক কর্মসূচিও করছে। নতুন গঠিত ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে বিএনপির এই ‘মাতামাতি’ পছন্দ করছেন না ২০ দলের নেতারা।

বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদে অংশ নেয় দুই জোটকে সঙ্গে নিয়েই। দীর্ঘদিনের জোট ২০ দলকে হাতে রেখে গত বছরের অক্টোবরে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনেও এই নতুন জোটের নামেই বিএনপি ও ২০ দল অংশ নেয়। তবে ২০ দলকে ৪০টি আসন এবং ঐক্যফ্রন্টকে ১৯টি আসনে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। কিন্তু পুরো জোটে বিএনপি পায় ৬টি আসন এবং গণফোরাম পায় ২টি আসন। বিএনপি ছাড়া ২০ দলের অন্য কোনো শরিক দল কোনো আসন থেকে জয় পায়নি।

সম্প্রতি ২০ দলের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঐক্যফ্রন্টের অনেক নেতা সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কোথায় বসে কত টাকা নিয়েছেন, তা–ও তাঁর জানা বলে দলীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেন অলি আহমদ। তাঁর এই বক্তব্য বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। ২০–দলীয় জোটের অনেক শরিকও ঐক্যফ্রন্টের সমালোচনা করছেন প্রকাশ্যেই।

এর মধ্যেই আজ সোমবার সন্ধ্যায় ২০–দলীয় জোটের বৈঠক হতে যাচ্ছে। গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সন্ধ্যা ৭টায় এই বৈঠক হবে। বৈঠকে বিএনপি ও ২০ দলের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

ঐক্যফ্রন্টের কারণে ২০ দল একটু ঝিমিয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বিএনপি এখন ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বেশি ব্যস্ত। ২০ দলের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা বিএনপিকেন্দ্রিক জোট। তারাই ভালো জানে, রাজনৈতিক প্রয়োজনে কখন আলোচনা করবে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরও বলেন, বিএনপি এখন ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে বেশি এগোচ্ছে। এই মুহূর্তে ২০ দলের কোনো তৎপরতা নেই। খেলাফত মজলিসের এই নেতা জানান, ২০ দল নামে মাত্র আছে। তাঁরা এখন নিজেদের দল নিয়ে কাজ করছেন।

গত বছরের ৩০ ডিসম্বরের সংসদ নির্বাচনের পর একবারই ২০ দলকে নিয়ে বৈঠক করে বিএনপি। অন্যদিকে তারা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মানববন্ধন কর্মসূচি, গণশুনানিসহ একাধিক বৈঠক করে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে গণশুনানি হয়। এতে বিএনপি তার দুই জোটের শরিকদের প্রার্থীদের অংশ নিতে আহ্বান জানায়। ২০ দল থেকে মাত্র দুজন প্রার্থী অংশ নেন। এই জোটের প্রধান কয়েকটি দল এই গণশুনানিতে অংশ নেয়নি। সর্বশেষ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গণ–অনশনে ২০ দলের কয়েকটি শরিক দলের নেতা অংশ নেন।

২০ দলের অন্যতম দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টও বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচন করেছে, ২০ দলও করেছে। বিএনপির ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি এবং ২০–দলীয় জোটকে এড়িয়ে চলা—মোটকথা, আমাদের কাছে ভালো লাগেনি।’ তিনি বলেন, এটা দীর্ঘদিনের জোট। বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০ দলের মধ্যে সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। ২০ দলের মধ্যে পর্যালোচনা করে অনিবন্ধিত ও যাদের তেমন কোনো অবস্থান নেই, তাদের বাদ দিয়ে সংস্কার করা দরকার। তিনি বলেন, এখানে অনেক দল আছে, যারা নামসর্বস্ব। আবার অনেক দল আছে, যারা ঐক্যফ্রন্টের অন্য দলগুলোর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে আছে।

অন্যদিকে ২০–দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দল হিসেবে তেমন কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়ে না।

অবশ্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি দুটি কর্মসূচিতে বলেছেন, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলেও ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পর থেকেই ২০ দলের শরিকদের মধ্যে নতুন জোট নিয়ে ক্ষোভ ছিল। বিএনপি নতুন জোটকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে, এমন অভিযোগ তখন থেকেই।

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চলতি মাসেই আসছে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি


সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হচ্ছে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি। চলতি এপ্রিল মাসেই আসছে এই নতুন আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা। সিনিয়র না জুনিয়র দিয়ে কমিটি হবে এমন প্রশ্ন থাকলেও কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচনের লক্ষ্যেই চলতি মাসেই আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হচ্ছে বলে সংগঠনটির বিশ্বস্ত কয়েকটি সূত্র ব্রেকিংনিউজকে জানিয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, সর্বশেষ শিক্ষা সনদ, ব্যক্তিগত সর্বশেষ রাজনৈতিক বিবরণসহ বিভিন্ন তথ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চেয়ে পাঠিয়েছেন বলেও জানা যায়।

ছাত্রদলের বড় একটি অংশ সম্মেলনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু কাউন্সিল হয়ে উঠছিল না। বর্তমান কমিটি দুই বছরের জন্য গঠিত হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে, যা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বহু নেতা হতাশায় ভুগছেন। দীর্ঘদিন ধরে নেতাদের পিছু পিছু ঘুরেও পদ না পেয়ে অনেকেই হতাশ। যদিও নতুন কমিটি ঘোষণার দাবিতে বর্তমান সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের প্রতি প্রায় দুই বছর আগে অনাস্থা জানিয়েছেন অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে অনেকেই দাবি জানাচ্ছেন বহুদিন ধরে। তবে এবার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদেরকে একটি সম্মেলন আয়োজন ও নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব ছেড়ে বিদায় দিতে হবে। কেননা ইতোমধ্যে কৃষকদল, মৎসজীবী দল, ওলামাদল সহ অন্য সংগঠনগুলোরও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আজিজুল বারী হেলাল, আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, বর্তমান সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান সহ-সাবেক ছাত্রনেতারা দফায় দফায় লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে স্কাইপিতে বৈঠক করছেন।

কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা ব্রেকিংনিউজকে জানান, বয়স কোনো ফ্যাক্টর নয়। ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতারাই ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে অগ্রাধিকার পাবেন। এবার ছাত্রদলের কমিটি অন্যবারের মতো বড় আকারের না করারও সিদ্ধান্ত আসবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তিনিই বিষয়টি দেখভাল করছেন। যোগ্য ছাত্র, মেধাবী ত্যাগীদের হাতেই ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিবেন তিনি।

নতুন এ কমিটিতে শীর্ষ পদে আসতে আলোচনায় রয়েছেন আকরামুল হাসান, এজমল হোসেন পাইলট, নাজমুল হাসান, আলমগীর হাসান সোহান, আব্দুল ওহাব, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, ইখতিয়ার কবির, মামুন বিল্লাহ, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, আসাদুজ্জামান আসাদ, করিম সরকার, মিয়া মো. রাসেল, মেহবুব মাসুম শান্ত, মফিজুর রহমান আশিক, নূরুল হুদা বাবু, বায়েজীদ আরেফিন, নাহিদুল ইসলাম সুহাদ অন্যতম। এর বাইরেও শীর্ষ পদের জন্য চেষ্টা করছেন আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, কাজী মোক্তার হোসেন, মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, আবুল বাশার, আরজ আলী শান্ত প্রমুখ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন আমাদের চলমান প্রক্রিয়া। দলকে শক্তিশালী করতে হলেই অবশ্যই সংগঠনগুলোকে ঠিক করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ এটা আমাদের জানা আছে। তবে এটা ঠিক নতুন কমিটি গঠন করতে পারলে সংগঠনের গতিশীলতা আসবে।’

ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া এখনও আলোচনার পর্যায়ে আছে। এটা এখনও বাস্তব রূপ নেয়নি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এবারের কমিটি হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে। এই কমিটি হবে সর্বজন সমর্থিত। যারা কমিটিতে আসবে তাদেরকে অবশ্যই ছাত্র হতে হবে।’

সংগঠনটির আরেক সাবেক সভাপতি ও বর্তমান বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘এবার আমরা বয়সটাকে বেশি প্রাধান্য দেবো না। বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে দলের ত্যাগীদেরকে আমরা প্রাধান্য দেবো।’

জানতে চাইলে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই আমাদের নেত্রীর (বেগম খালেদা জিয়া) মুক্তির জন্য সক্রিয় আন্দোলন জোরদারে ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন এতো হিসেব করে লাভ নেই, ত্যাগী নেতাদের নিয়ে কমিটি দিয়ে আন্দোলন সফল হওয়ার পর সব হিসেবই করা যাবে। তাই আমরা দ্রুত কমিটি ঘোষণার জন্য দাবি জানাচ্ছি।’

ছাত্রদলের আরেক সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘কমিটি গঠন নিয়ে তোড়জোড় চলছে। এই হচ্ছে তো আবার এই থেমে যাচ্ছে। বুঝছি না কমিটি কবে নাগাদ ঘোষাণা করা হবে। তবে আমাদের নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন জোরদার করতে দ্রুত কমিটি ঘোষণা করা উচিত।’

বর্তমান কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করিম সরকার ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে বেগমান করতে হলে নতুন কমিটির কোনো বিকল্প নেই। আমরা চাই আন্দোলনে সক্রিয় নেতাদের দিয়ে দ্রুত কমিটি করা হোক।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজিব আহসানকে সভাপতি আর মামুনুর রশিদ মামুনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩৬ সদস্যের ‘ঢাউস’ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‘প্যারোল’ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিলেন শামসুজ্জামান দুদু


বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে যদি প্যারোলে মুক্তির কাগজপত্র দেয়া হয় তাহলে আমরা বিবেচনা করবো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘আপনার সরকার যদি পদত্যাগপত্র দেয়, আমরা ভেবে দেখব আপনাদের শাস্তি জেলে হবে না জেলের বাহিরে হবে।’

সোমবার (৮ এ‌প্রিল) জাতীয় প্রেসক্লা‌বে ‘গণতন্ত্র: আজ‌কের বাংলা‌দেশ’ শীর্ষক আ‌লোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন। জাতীয়তাব‌াদী চালক দ‌লের উ‌দ্যো‌গে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘এক সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র ছিল কিন্তু এখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে এটা দাবি করা যাবে না। দেশে এখন গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা ছাত্র রাজনীতি করেন তারা জানেন গণতন্ত্রের কিছু শর্ত থাকে। তার মধ্যে একটি শর্ত হলো জনগণের ভোটের অধিকার সে অধিকারটা কেড়ে নেয়া হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনকে গোপাল ভাঁড় এর সাথে তুলনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচন কমিশন আছে কিন্তু সেই কমিশনে বসে আছে গোপাল ভাড়।’

সরকারের কড়া সমালোচনা করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘প্রশাসনের এতো খারাপ ন্যাক্কারজনক ঘটনা গত ৪৭ বছরে আমরা লক্ষ্য করিনি। প্রশাসন ডিসি-এসপি-ইউএনও মিলে রাতে ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে নির্বাচনে সেন্টারে যেতে নিষেধ করে এবং রাত্রেই ভোট শেষ করে দেয় আর নির্বাচন কমিশন বলে ইভিএম থাকলে রাতে নির্বাচন হতো না, দিনে হতো। এটা মানুষ নাকি জানোয়ার ঠিক বুঝতে পারি না।’

দুদু বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ স্বৈরতন্ত্র একসাথে চালাতে চাচ্ছে। অনেক আগে শেখ হাসিনা বলেছিলেন- ১ কেজি বেগুনে ১ কেজি লবণ দিব নাকি ২ কেজি দেব সেটা আমার ব্যাপার। আমি শেখ হাসিনাকে বলি- ঘরে রান্না করা রাষ্ট্র পরিচালনা করা এক জিনিস না, এটা বুঝতে হবে।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আপনি ইডেন কলেজে পড়েছেন, দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছেন। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছি। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে-কলেজে পড়াশোনা করে তার ন্যূনতম জ্ঞান থাকা উচিত, গণতন্ত্র কি আর স্বৈরতন্ত্র কি?’

তিনি বলেন, ‘এদেশের রাজনীতি ৪০ বছর ধরে আমরা দেখছি তো। শেখ মুজিবুর রহমান কোনো ছোট নেতা ছিলেন না, যতো বিতর্কই থাক তিনি খুব বড় মাপের নেতা ছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানের মতো নেতা বাংলাদেশে শতাব্দীতে আর একটা জন্মাবে কিনা সন্দেহ আছে।’

আ‌য়োজক সংগঠ‌নের সভাপ‌তি মো. জ‌সিম উ‌দ্দিন কবী‌রের সভাপ‌তি‌ত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বি এম শাজাহা‌নের সঞ্চালনায় আ‌লোচনা সভায় আরও উপ‌স্থিত ছি‌লেন বিএন‌পির চেয়ারপারস‌নের উপ‌দেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠ‌নিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ,‌ যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন, কৃষক দ‌লের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মো. আ‌নোয়ার,‌ কে এম র‌কিবুল ইসলাম রিপন, আয়োজক সংগঠ‌নের সাংগঠ‌নিক সম্পাদক জু‌য়েল খন্দকার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের ঘুম হারাম : রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও জামিনে বাধা প্রদানের পেছনে সরকারের গভীর নীল নকশা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। তারা (সরকার) দেশনেত্রীকে হয় রাজনীতি থেকে না হয় দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সরকার দলীয় লোকদের মিডিয়া, মন্ত্রী ও নেতাদের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে তাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। দেশনেত্রীর চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্য এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সাহেবের বক্তব্য বিপরিতধর্মী। এতেই বোঝা যায় তারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসা নিয়ে নিষ্ঠুর তামাশা করছেন।

সোমবার (৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই- নিঃশর্তভাবে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। তাকে সাজানো মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে এক বছরের বেশি সময় কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। জামিন পাওয়া তার নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার। যে মিথ্যা মামলায় তাকে জোর করে সাজা দেয়া হয়েছে, সেই মামলায় অন্যান্য সবাই জামিনে রয়েছেন। অথচ আদালতের ওপর প্রভাব খাটিয়ে শুধু দেশনেত্রীকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। নতুন নতুন গ্রেফতারি পরোয়ানা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, মামলা কিছু নয়, আসল উদ্দেশ্য দেশনেত্রীকে তিলেতিলে শেষ করা অথবা সারাজীবনের জন্য রাজনীতির ময়দান থেকে সরিয়ে দেয়া। সেই উদ্দেশ্য সফল না হওয়া পর্যন্ত তাকে বন্দি করে রাখা। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী থেকে শুরু করে তাদের প্রিয়ভাজন ব্যক্তিরা একই ধরনের মামলায় জামিনে আছেন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পিজি (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে তার চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা নেই। তার রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় কোনো অগ্রগতি নেই। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও স্বীকার করছেন দেশনেত্রীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। আমরা জেনেছি, তিনি একেবারেই হাঁটাচলা করতে পারছেন না। ডায়াবেটিস, হাঁটু ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়া এখন গুরুতর অসুস্থ।

রিজভী বলেন, সরকার তার বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করার জন্য সময়ক্ষেপণ করছে কি-না এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন গভীরতর হচ্ছে। তবে দেশনেত্রীর শারীরিক অবস্থার ক্ষতিকর কিছু হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।

তিনি বলেন, মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে এটর্নি জেনারেল যে বক্তব্য দিয়েছেন, যদি তাই হয় তবে তিনি বারবার মিথ্যা মামলায় বেগম জিয়ার জামিন পেতে বাধা দিচ্ছেন কেন? দেশনেত্রী বেগম জিয়ার জামিনে মুক্তি পেতে সরকারের নির্দেশই সবচাইতে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

সরকারের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, এক মাঘে শীত যায় না। পরিস্থিতি সব সময় একই রকম থাকে না। নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভাবুন, পরিস্থিতি বদলাতে সময় লাগে না। মানুষের আওয়াজ শুনুন। ফুঁসছে মানুষ। পায়ে পা, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে তারা। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র বন্ধ করে দ্রুত দেশনেত্রী জনগণের আস্থার প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আর বাধা দিবেন না। গণমানুষের নেত্রীকে তাদের মাঝে ফিরতে দিন।

রিজভী আরও বলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারান্তরীণ আছেন। তাকে বর্তমানে কারাগারের ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছে। জজকোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকার পরও তাকে বিভিন্ন থানার গায়েবি, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলাগুলোতে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। সরকার তাকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে আটকে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। এটি বর্তমান অমানবিক, নির্দয় ও নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপকর্মগুলোর মধ্যে আরেকটি ঘৃণ্য আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তার ডায়াবেটিস ২৫ এর উপরে। তাকে ফাঁসির সেলে রাখা শুধু অমানবিকই নয়, তার মানবাধিকারকেও হরনের সামিল। আমি অবিলম্বে হাবিব উন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

উৎসঃ ‌jagonews24

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার মুক্তি প্যারোল নয় জামিন তার প্রাপ্যঃ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক


খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গণঅনশন করেছে বিএনপি। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে কর্মসূচি শুরু হয়ে বেলা ৪টা পর্যন্ত চলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ শীর্ষ নেতাদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১০টায় অনশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মিলনায়তনের বাইরে অনুমতি না পাওয়ায় আধা ঘণ্টা দেরিতে মিলনায়তনের ভেতরে মাদুর বিছিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। অনশনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের শরিকরাও অংশ নেয়।

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। প্যারোলে নয়, জামিনে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। জামিন তার প্রাপ্য।’

অনশনে অংশ নিতে সকাল ৯টা থেকেই নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সামনের সড়কে খণ্ড খণ্ড ভাবে জড়ো হয়ে তারা নানা স্লোগান দেন। তাদের হাতে ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি সংবলিত ব্যানার।

এছাড়া নেতাকর্মীদের হাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ডও ছিল। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের বাইরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, গৌতম চক্রবর্তী, আবদুস সালাম, গোলাম আকবর খন্দকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, শামীমুর রহমান শামীম, শফিউল বারী বাবু, সাইফুল আলম নীরব, মোরতাজুল করীম, মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকু, মাইনুল ইসলাম, রাজিব আহসান, কালিয়াকৈরের মেয়র মজিবুর রহমান প্রমুখ অংশ নেন।

এছাড়া নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মহাসচিব হাবিবুর রহমান, ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ইছাহাক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদির, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ অনশনে অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অবিলম্বে দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন শুরু করতে হবে। জামিন তার প্রাপ্য। যে মামলায় তিনি কারাগারে আছেন, সেই মামলায় অন্যরা জামিনে আছেন। তিনি কেন জামিন পাবেন না?’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্যারোলের কথা বলিনি। আমরা জামিনে মুক্তির কথা বলেছি। দেশকে বাঁচাতে হলে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে।’

ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘খালেদা জিয়ার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। এজন্য আমরা বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা চেয়েছি। কিন্তু সে সুযোগ দেয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘পিজি হাসপাতাল সরকারি হাসপাতাল। সেখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ। এজন্য সেখানে দেশনেত্রীর চিকিৎসা সম্ভব নয়।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অবৈধ সরকারের কাছে মুক্তি দাবি করে লাভ নেই। কারণ গণতন্ত্রও খালেদা জিয়ার মতোই সরকারের বাক্সে বন্দি। তাই গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। আর গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে আগে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আদালতে সরকারের প্রভাব থাকায় দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আইনজীবী হিসেবে আপনাদের বলব, আইনি প্রক্রিয়ায় দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না। একমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করা সম্ভব।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অনুকম্পা বা দয়ায় হবে না, আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। সময় আসবে, ঘোষণাও আসবে, প্রস্তুতি নিন, দেশনেত্রীকে মুক্ত করা হবে।’

আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সময় বেশি দিন নেই। শেখ হাসিনা প্যারোলে মুক্তি নিয়েছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া প্যারোল নেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, খুব বেশি দিন নেই, আপনাদের নেতাকে জনগণের কাছে প্যারোল চাইতে হবে। জনগণের নেত্রী জনগণের মধ্যে আসবেন আন্দোলনের মাধ্যমে। কারও অনুকম্পা চাই না।’

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নামতে হবে। রাস্তায় নামলে দু-চারটা মামলা হবে। তাতে কী যায় আসে। দেশটাই তো একটি কারাগারে পরিণত করেছে। যদি রাস্তায় নামতে পারেন তাহলে শেখ হাসিনা এক সময় বলবে- ছেড়ে দে মা, আমি গেলাম, আমাকে মাফ করো।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেমন প্যারোলে লাহোরে যাননি, তেমনি খালেদা জিয়াও প্যারোলে মুক্তি না নিলে সেটা হবে দ্বিতীয় নজিরবিহীন। প্যারোলে মুক্তি মানে খালেদা জিয়ার মৃত্যু, গণতন্ত্রের মৃত্যু।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে। আশা করব, এ কর্মসূচি ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন থেকে রাজপথে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমাদের মধ্যে কোনো সন্দেহ সৃষ্টির অবকাশ নেই। ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার প্রথম দফাই হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তি।’

২০ দলীয় জোটের শরিক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ঐক্যফ্রন্টের সমালোচনা করে বলেন, ‘যারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জিয়াউর রহমানের নাম নিতে কুণ্ঠাবোধ করেন তাদের দিয়ে জাতীয় ঐক্য কতটা হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’

নয়াপল্টনে রিজভীর অনশন : খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি গণঅনশনের প্রতি সংহতি জানিয়ে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে অনশন করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার সঙ্গে অনশনে অংশ নেন- বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মাদ মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ভোটডাকাতির বৈধতা নিতে বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আয়োজন?


রাজনীতিতে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসছে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি। পর্দার আড়ালে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সমঝোতার আলোচনা হচ্ছে, এমন খবর বেশ কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে বিএনপির নির্বাচিত ৬ জন এমপি শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়ার শর্তে সরকার খালেদা জিয়াকে প্যারোলে বা জামিনে মুক্তি দিতে পারে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে প্যারোলের বিষয়টিকে বার বার প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে সংসদে যাওয়ার শর্তে খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আর বিএনপির দাবি হলো-প্যারোলে নয়, খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত সংসদের মতো এবারও আওয়ামী লীগ একদলীয় সংসদ নিয়ে চরম বেকায়দায় আছে। জাতীয় পার্টিকে কাগজে-কলমে বিরোধী দলের আসনে বসানো হলেও মূলত: দলটি সরকারি জোটেরই অংশ বিশেষ। আর জাতীয় পার্টিও নিজেদের ইচ্ছায় বিরোধী দলের আসনে বসেনি। এক প্রকার সরকারের চাপের মুখে পড়েই তারা বিরোধীদলের আসনে বসতে বাধ্য হচ্ছে।

অপরদিকে, বিদেশিরা সরকারের সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিলেও সংসদে শক্তিশালী বিরোধীদল না থাকায় বিষয়টি খুব ভালভাবে নিচ্ছে না। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি সংসদের বাইরে থাকার বিষয়টিকেও বিদেশিরা খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। আর প্রভাবশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রতো এখনো তাদের দাবিতে অবিচল যে, বাংলাদেশের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। এসব কারণে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ খুব অস্বস্তিতে আছে।

সরকার মনে করছে, বিএনপির আসন সংখ্যা যা-ই হোক দলটি যদি সংসদে আসে তাহলে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন উঠবে না। কেউ আর সংসদকে একদলীয় সংসদ বলতে পারবে না। তাই বিএনপির নির্বাচিত ৬ জনকে সংসদে আনতে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেই হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা বিএনপিকে টোপ দিয়েছে- যদি আপনারা সংসদে আসেন তাহলে দলীয় প্রধানকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হবে।

আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচিত এমপিরাও সংসদে যেতে রাজি। তারাও চান খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে সংসদে যেতে। আর এক্ষেত্রে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন জাতীয় ঐক্যের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। যদিও বিএনপি নেতারা এসব কথাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমের বক্তব্যেও এসবের কিছু আভাস পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলে সরকার তা বিবেচনা করবে। আর নাসিম বলেছেন, সংসদে এসে খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলুন, লাভ হতেও পারে।

নাসিমের বক্তব্যে বিষয়টি পরিষ্কার যে, কোনো আইনি জটিলতার কারণে খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ নয়। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকার চাচ্ছে না তাই খালেদা জিয়াও মুক্তি পাচ্ছেন না। সরকার মূলত চাচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে যে ভোট ডাকাতি হয়েছে সেটার বৈধতা আদায় করতে। এখন দেখার বিষয়- খালেদা জিয়া কি বাইরের আলো বাতাস দেখার জন্য ভোটা ডাকাতির বৈধতা দেবেন নাকি কারাগারেই থাকবেন। তবে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া এসব প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ এস এম হলের হামলাকারীরা ছাত্রলীগের, ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত!


এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, হল সংসদের ভিপি মুজাহিদ কামাল ও জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সানাউল্লাহ সায়েম ও ছাত্রলীগ কর্মী মোবাশ্বের মারুফ (ওপরে বাঁ থেকে)। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে হল সংসদে প্রার্থী হওয়ায় উর্দু বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরিদ আহমেদকে নির্যাতন করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় হল প্রাধ্যক্ষের কাছে বিচার চাইতে গেলে অবরুদ্ধ করা হয় ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যদের। হামলা করা হয় ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, শামসুন্নাহার হলের ভিপি তাসনিম আফরোজ ইমিসহ বেশ কয়েকজনের ওপর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গঠন করা হয় একটি তদন্ত কমিটি।

গত মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত করা হয়েছে অভিযুক্তদের পরিচয়। এ ঘটনায় জড়িতদের অনেকেই ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আছেন যাদের গত বছরে বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

যদিও ছাত্রলীগ আগে থেকেই দাবি করেছে, তারা এ ঘটনায় জড়িত নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এর আগে বলেছেন, হামলার নাটক সাজিয়ে তাদের চরিত্রে দাগ লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ভুক্তভোগীরা ঘটনার সময় ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করেছেন। তারা নিশ্চিত হয়েছেন হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে।

হামলায় জড়িতরা

এ ঘটনার কয়েকদিন পর কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এক শিক্ষার্থী ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে বলেন, ঢাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজিরের শরীরে যে ছেলেটি দৌড়ে এসে লাথি মারেন তিনি লোক প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী মোবাশ্বের মারুফ। তিনি ছাত্রলীগ মনোনীত হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজারের সমর্থক।

অভিযোগের বিষয়ে মোবাশ্বের মারুফ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমি ঘটনার দিন দুপুরে ট্রেনে করে কক্সবাজার আসি। এসেই হোটেলে উঠি। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।’ তবে কক্সবাজারে কোনো ট্রেন লাইনই নেই। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গিয়ে তারপর বাসে করে কক্সবাজার যেতে হবে। মোবাশ্বেরের কাছে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রেনের টিকেট দেখতে চাইলে দেখাতে পারেননি। তবে তিনি কক্সবাজারের যে হোটেলে ওঠেন তার একটি রশিদ দেখান। সেখানে দেখা যায়, ঘটনার পরের দিন ৩ এপ্রিল তিনি ওই হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। এ ছাড়া তিনি কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার একটি বাসের টিকিট দেখালেও তাতে কোনো নাম বা সময় উল্লেখ নেই।

হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, যারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছিল তাদের মধ্যে রয়েছেন এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ, সহসাধারণ সম্পাদক নওশের আহমেদ, সহসভাপতি মিলন হোসাইন নিরব, সাংগঠনিক সম্পাদক সানাউল্লাহ সায়েম, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক জাহিদ হাসান, নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক নাবিল হায়দার এবং হল ছাত্র সংসদের ১ নম্বর সদস্য আবির রহমান সৈকত।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের নেতৃত্বে ছিলেন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, হল সংসদের ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা মুজাহিদ কামাল এবং জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার।

এদিকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও হল সংসদের ভিপি মুজাহিদ কামালকে এর আগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সংগঠনটির গত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বহিষ্কারের বিষয়টি সেই সময় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। একাধিক গণমাধ্যমেও বহিষ্কারের বিষয়টি আসে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত কামালের বিরুদ্ধে বুয়েট মার্কেটের একটি হোটেলে খাওয়া শেষে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সে সময় তাঁর নেতৃত্বে ওই হোটেলে ভাঙচুর করা হয়। এতে একটি মামলাও করে হোটেল কর্তৃপক্ষ। এই মামলায় দুই নম্বর আসামি হন ২ এপ্রিলের হামলায় অভিযুক্ত ও হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সানাউল্লাহ সায়েম। সায়েমকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

ফরিদকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনার অভিযোগ দিতে ২ এপ্রিল এস এম হলে যান ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন, শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন ও ফারুক হোসেন, ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, ডাকসুর ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খানসহ কয়েকজন। সে সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয় এবং অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, হল সংসদের ভিপি ছাত্রলীগ নেতা কামাল হোসেন, জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার, সাহিত্য সম্পাদক আকিব মোহাম্মদ ফুয়াদসহ অন্যদের হাতে লাঞ্ছিত হন সেমন্তি, ইমি ও বেনজিরসহ ছাত্রীরা। তাদের গায়ে ডিমও ছুঁড়ে মারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় তারা সারারাত সেখানে অবস্থান করেন। পরের দিন বুধবার সকালে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। তিনি হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। পরে সোমবারের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আলটিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

হামলার সময় দর্শকের ভূমিকায় প্রক্টর দল

ভিপি নুরসহ অন্য শিক্ষার্থীদের ওপর যখন হামলা করা হয়েছিল তখন আশপাশে কাউকে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। একটি পক্ষ ছিল হামলাকারী আর অন্যটি ছিল ভুক্তভোগী। তখন তৃতীয় একটি পক্ষকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। তাদের গায়ে প্রক্টর টিমের পোশাক দেখা যায়। কিন্তু তারা ছিলেন দর্শকের ভূমিকায়। হামলাকারীদের কোনো বাধা দেননি তাঁরা।

ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানীকে ফোন করা হলে তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, সেখানে প্রক্টর টিমকে পাঠানো হয়েছে, তারা দেখবে। প্রক্টর দলের নীরব ভূমিকার কথা তাঁকে জানানো হলে তিনি বলেন, ওটা হলের অভ্যন্তরীণ বিষয় তো। হল প্রাধ্যক্ষ যাচ্ছেন, তিনি দেখবেন।

ডিম নিক্ষেপের শিকার হন হল প্রাধ্যক্ষও

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যদের দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার পর ঘটনাস্থলে যান হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ারদার। প্রাধ্যক্ষ ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসছিলেন, তখনও তাদের ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলায় বাদ যাননি হল প্রাধ্যক্ষও। যেটি তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন।

জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ বলেন, যখন নুরসহ অন্যদের বের করে আনি তখন ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। এই ধাক্কা আমিও খেয়েছিলাম। আমার গায়েও ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছিল। অন্ধকারে কারা নিক্ষেপ করেছিল, জানি না। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে দেখবে।

তদন্তে অগ্রগতি নেই

হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেন এস এম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ারদার। এ কমিটির প্রধান করা হয় হলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষক ড. সাব্বির আহমেদকে। তদন্তের চারদিন পার হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা ছুটির কারণে কোনো মিটিং বা কিছুই করতে পারিনি। তদন্ত শেষ করতে প্রায় ৪০ জনের মতো সাক্ষাৎকার নিতে হবে। এতে প্রায় এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে।

ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন

ওই হামলায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। এ সময়ের মধ্যে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘উপাচার্য আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তারা বিচার করবেন। আমরা সোমবার পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছি। তারা যদি এর মধ্যে বিচার না করে তবে আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’

নুর বলেন, তদন্ত কমিটি চাইলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের খুঁজে বের করতে পারে। এই সময়ই যথেষ্ঠ। আমাদের কাছে সব তথ্য আছে। তারা চাইলে আমরা দিতে পারব।

উৎসঃ ‌এনটিভি

আরও পড়ুনঃ ডিসেম্বরের নির্বাচন গণতন্ত্রের মানদন্ড পূরণে ব্যর্থ: বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


বাংলাদেশের কাছের বন্ধু হিসেবে বৃটেন স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান থাকা এক প্রত্যয়ী বাংলাদেশ দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন সফররত দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড। রোববার রাজধানীর এক হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত সেমিনারে তিনি বলেন, আমরা প্রাণবন্ত বিতর্ক, উদ্দীপনাময় সুশীল সমাজ এবং প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন দেখতে চাই। বৃটিশ মন্ত্রী তার দীর্ঘ বক্তৃতায় বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জানান, ২০২১ সালে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আয়োজনে বৃটেনও অংশীদার হতে চায়। এ সময় মার্ক ফিল্ড বলেন, বন্ধু হিসাবে আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আবারও বলছি, এখানে ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হয়েছে তা গণতন্ত্রের মানদন্ড পুরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ওই নির্বাচনের যত অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে তার পূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বানও পূণর্ব্যক্ত করেন তিনি। বৃটিশ মন্ত্রী আরও বলেন, তার দেশ দেখতে চায় যে উদীয়মান গণতান্ত্রিক ভূমি বাংলাদেশ অবাধ ও স্পন্দনশীল গণমাধ্যমের দ্বারা জবাবদিহির আওতায় থাকবে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় অর্ধশতকের জন্য তা হবে এক চমৎকার রূপকল্প এবং সেই সাথে এটি হবে দেশটির অবিসংবাদিত সম্ভাবনা বাস্তবায়নের সবচেয়ে ভালো উপায়। বৃটিশ মন্ত্রী জানান, যে কোনো উপায়ে এ সম্ভাবনা অর্জনে বাংলাদেশের পাশে থাকতে তার দেশ প্রস্তুত।

দুই দেশের মধ্যকার ইতিহাস ও আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্ককে শক্তিশালী ও গভীর করেছে মন্তব্য করে মার্ক ফিল্ড বলেন, বাংলাদেশ গত অর্ধশতকে যে বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছে দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে বৃটেন তাকে স্বাগত জানায় এবং আগামীতে এ দেশের আরও অনেক কিছু অর্জনের সম্ভাবনাকে তারা উপলব্ধি করছেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম প্রধান অতিথি ও ড. মশিউর রহমান গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন পিআরআই’র ড. আহসান মনসুর। উল্লেখ্য, বৃটেনের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ কার্যালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সফর করছেন এবং সোমবার তিনি লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়া এখন বিএনপির না দেশের নেতা, তাকে হারাতে চাই না : আ স ম রব


জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা আ স ম আব্দুর বর বলেছেন, ঘরে বসে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইতে রাজি নই। তিনি বলেন, এখানে হলরুমে বসে এক হাজার লোক জীবন দিলেও খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এখন আর বিএনপির নেত্রী না, তিনি এখন দেশনেত্রী। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু হারাতে চাই না কিন্তু দেশনেত্রীর মুক্তি চাই, এটা কিভাবে সম্ভব?

রোববার ০৭ এপ্রিল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনিস্টিউটে বিএনপি আয়োজিত গনঅনশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা বলেন, মন্টু, কাদের সিদ্দিকী, আমরা জীবন দিতে ৭১ এ যুদ্ধে গিয়েছিলাম। এখানে বসে স্লোগান দিয়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব না। তিনি বলেন, আন্দোলন বুঝতে হবে। জাতীয় নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। রব বলেন, ১ লাখ বিরোধী নেতাকর্মী কারাগারে আছেন। ৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা আছে। আরো ৫০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হলেও খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, বাংলাদেশের মানচিত্রটাও আজ বিক্রি হয়ে গেছে। যে শিশুটি আজ জন্ম নিবে তার মাথায় ৫০ হাজার টাকার ঋণের বোঝা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি গনতন্ত্রের মুক্তি। আমি এখন আপনাদের সাথে রাজপথে নামতে রাজি আছি। আপনারা রাজি আছেন? রাজি থাকলে আপনাদের নেতাদের বলুন। মনে রাখবেন রাজপথে আন্দোলন ছাড়া কোনভাবে এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন সম্ভব না, খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব না।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ গণঅনশ‌নে কিছু হ‌বে না, রাস্তায় নামুন: বিএনপিকে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী


বিএন‌পির উদ্দেশ্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘আমি জানি, এ গণঅনশনে কী হবে। যদি পারেন এক হয়ে রাস্তায় নামেন। রাস্তায় নামলে দু-চারটা মামলা হবে। তাতে কী যায় আসে। দেশটাই তো একটি কারাগারে পরিণত করেছে।’

তি‌নি ব‌লেন, ‘যদি রাস্তায় নাম‌তে পা‌রেন তাহ‌লে শেখ হা‌সিনা এক সময় বল‌বে ছেড়ে দে মা, আমি গেলাম, আমাকে মাফ করো।’

র‌বিবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএন‌পির উদ্যো‌গে “গণতন্ত্রের মা বেগম খা‌লেদা জিয়ার সু‌চি‌কিৎসা ও নিঃশর্ত মু‌ক্তির দা‌বি‌তে” আ‌য়ো‌জিত গণঅনশ‌নে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনারা হলের ভেতর গণঅনশন, আমরণ অনশন করে শেখ হাসিনাকে নাড়াতে পারবেন না। শেখ হাসিনাকে নাড়াতে হলে শেখ হাসিনা যা করেছে তা-ই করতে হবে। হা‌সিনা ভোটের কথা বলেছেন ৩০ তারিখে আর ২৯ তারিখে সব ভোট চুরি করেছেন। আর চোরকে সোজা করতে হলে আর একটু শক্ত হতে হবে।’

বিএনপি আন্দোলন না করলেও বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই অবৈধ সরকারের কাছে কোনও দাবি আপনারা (বিএন‌পি) করতে পারেন না। যদি এই অবৈধ সরকারের কাছে আপনারা কোনও দাবি করেন তাহলে আপনাদের পতন হবে। এই দাবির মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনাকে স্বীকৃতি দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার অবৈধ, সংসদ অবৈধ, এটা আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে।’

এসময় তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘অনেকেই বলেছেন নির্বাচনের পরের দিন কেন হরতাল ডাকা হলো না। রাস্তা অবরোধ করা হলো না। আমি মনে করি আপনারা রাস্তা অবরোধ না করে ভালোই করেছেন। এখন ধীরে ধীরে অবরোধ শুরু করেন।’

শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একটি গণভোটে যদি আসেন তাহলে ৫ পার্সেন্ট ভোটও পাবেন না।’

বর্তমা‌নে দে‌শের যে অবস্থা এরকম অবস্থা হ‌বে জান‌লে কাদের সি‌দ্দিকী-রব আপনারা কি মু‌ক্তি‌যোদ্ধ কর‌তেন? বিএন‌পির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু’র এমন প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবীর ব‌লেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি এর ১০০ ভাগের এক ভাগ হবে- এটা জানলেও আমি মুক্তিযুদ্ধ করতাম না।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেমন প্যারোলে লাহোরে যাননি তেমনি বেগম জিয়াও আজ প্যারোলে মুক্তি নিলে সেটা হবে দ্বিতীয় নজিরবিহীন। প্যারোলে মুক্তি মানে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু, গণতন্ত্রের মৃত্যু।’

‘আজ গণতন্ত্র আর খালেদা জিয়া এক কথা’- এমন মন্তব্য ক‌রে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যে আদালতে যে বিচারক বেগম খালেদা জিয়ার শাস্তি দিয়েছেন সেই বিচারকের জনগণের আদালতে শাস্তি হবে।’

অনশনে আরও উপস্থিত আছেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, গোলাম আকবর খন্দকার, যুগ্ম-মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মাইনুল ইসলাম প্রমুখ।

ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত আছেন- আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, মোস্তফা মহসিন মন্টু প্রমুখ।

২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত আছেন- খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ডিএল’র মহাসচিব সাইফুদ্দিন মুনির, মুসলিম লীগের মহাসচিব জুলফিকার বুলবুল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়: খন্দকার মাহবুব


এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

রোববার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হত্যা মামলায় দায়ের হওয়া মামলায় খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন আপিল বিভাগেও বহালের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি- প্যারোলের বিষয়টি রাজনৈতিক বিষয়। এখানে ম্যাডাম প্যারোল চাইবেন কিনা এবং সরকার প্যারোল দেবে কিনা- এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা আইনজীবী হিসেবে এটুকু বলতে পারি যে, চিকিৎসার জন্য প্যারোল চাওয়া যায়। রাষ্ট্রও প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে।’

বিভিন্ন দেশে প্যারোলে রাজবন্দিদের মুক্তির বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে খালেদা জিয়ার এ আইনজীবী বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতে ও পাকিস্তানে প্যারোলে মুক্তির বহু নজির আছে। রাজবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। আমরা চাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আইনগতভাবে মুক্তি দেয়া হোক।’

তিনি বলেন, মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে। তার সব মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মুক্তির পথ খুঁজতে হবে।

জামিন বহালের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের আবেদন ডিসমিসড করে জামিন বহাল রেখেছেন। সরকারের বাধার কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন কঠিন হবে। এখনও তার দুটি মামলা পেন্ডিং আছে। তবে এর মধ্যে আর কোনো মামলা না দিলে ওই দুটি (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট) মামলায় জামিন পেলে তিনি জেল থেকে বের হবেন।

খালেদা জিয়ার শারীরিক দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকার তাকে শিগগিরই মুক্তি দেবে এমন আশা ব্যক্ত করেন বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘মুজিববর্ষ’ কি লুটপাটের আরেক প্রজেক্ট?


আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী পালনের ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২০২০ সালকে সরকার মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। গত ১৭ মার্চ শেখ মুজিবের জন্মবার্ষিকীতে শেখ হাসিনা এ ঘোষণা দিয়েছেন। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের পাড়ায় মহল্লায় যাতে মুজিববর্ষ পালন করা হয় সেই লক্ষ্যে একাধিক কমিটিও গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে কয়েকটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবের ভুমিকা নিয়ে অবশ্যই বিতর্ক আছে। তিনি স্বাধীনতা চেয়েছেন বা স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানী সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এমন কোনো প্রমাণ আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দেখাতে পারেনি। শেখ মুজিব মূলত ক্ষমতা চেয়েছিলেন। ৭ মার্চের ভাষণে শেখ মুজিব মূলত কেন্দ্রীয় সরকারকে ৪টি শর্ত দিয়েছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তন যদি তার দেয়া শর্তগুলো পূরণ করতো তাহলে নিশ্চয় পূর্ব পাকিস্তান আর আলাদা হতো না। মুক্তিযুদ্ধেরও প্রয়োজন হতো না।

এরপর মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পূর্ব পর্যন্ত দেশ পরিচালনায় শেখ মুজিবের ব্যর্থতার পাল্লাই বেশি ভারী ছিল। শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবকে মহামানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে শেখ মুজিবের স্বপ্নের যে ফিরিস্তি প্রতিদিন মানুষের সামনে তুলে ধরছেন তা সবই অতিরঞ্জিত ও বিকৃত। কারণ, শেখ মুজিবের পুরো আমলটাই ছিল দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-হত্যা, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, বিরোধী পক্ষের ওপর দমন-পীড়ন, নির্যাতনে ভরপুর। মানুষের বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও শেখ মুজিব দেশের সব রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে দেশে সেই পাকিস্তানি শাসন জারি করেছিল। এদেশের সকল শ্রেনি-পেশার মানুষ শেখ মুজিব ও তার পরিবারের ওপর এতই ক্ষুব্ধ ছিল যে, ১৫ আগস্ট তারই ঘনিষ্ঠদের হাতে স্বপরিবারে জীবন দিতে হলো শেখ মুজিবকে।

তারপরও এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবের অবদানকে একেবারে অস্বীকার করে না। মুক্তিযুদ্ধের আগে দেশের মানুষকে অধিকার আদায়ে সংগঠিত করেছিলেন শেখ মুজিব। পূর্ব বাংলার পক্ষ থেকে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বলিষ্টভাষায় প্রতিবাদ করেছিলেন। এসব সত্য। দেশের মানুষ এসব স্বীকারও করে।

কিন্তু, শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে যা করছেন তা সবই অতিরঞ্জিত। দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে সেগুলোতে শেখ মুজিবের নাম দেয়া হয়েছে। আবার শেখ মুজিবকে প্রতিষ্ঠিত করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় করে তার নামে বিনোদন পার্ক করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ সরকার মুজিববর্ষ পালনের যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সেজন্য আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ আওয়ামীপন্থী ব্যক্তিদের নিয়ে দেশে যত সংগঠন ও সংস্থা আছে সবগুলোতে একটি করে কমিটি গঠন করা হবে। সেই হিসেবে কয়েকশ কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি কমিটির জন্যই সরকারের পক্ষ থেকে থাকবে মোটা অংকের বাজেট।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ পালনের জন্য সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টর থেকে এক হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছে। এসব খাতের মধ্যে ব্যাংক-বিমাসহ আর্থিক খাতকে তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংক-বিমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেতো আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো চাঁদাবাজি করবেই। মোটকথা মুজিববর্ষ পালনের নামে সরকার লুটপাটের আরেক বৃহৎ প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here