ময়মনসিংহে বাড়ছে অপহরণ, জড়িত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই

0
331

ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীদের অপহরণ ও নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। আর এ ভয়ানক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে খোদ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই। সম্প্রতি দুটি ঘটনায় দুই অপহৃতকে উদ্ধারসহ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিবিএসটি, আনন্দ মোহন ও ঘাটাইল কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিবিএসটির শিক্ষার্থী নূরী আল মামুন, সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী ইমরুল ও ঘাটাইল কলেজের শিক্ষার্থী মাহফুজ। এ ঘটনায় সিবিএসটির শিক্ষার্থী নূরী আল মামুন শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তবে এসব অপরাধের আসল গডফাদাররা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নির্যাতিত শিক্ষার্থী ও তাদের স্বজনরা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মেসে এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে এনে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে অমানুসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। একজন হাত ধরে আছে অন্যজন চুলের মুঠি ধরে হাত ও লাঠি দিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছে। নির্যাতনের এমন ভিডিও ধারণ করে পরিবারের সদস্যদের কাছে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে দেখানো হয়। আর তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মুক্তিপণের টাকা।

সম্প্রতি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের পর বিষয়টি পুলিশকে জানালে অপহরণ ও নির্যাতনকারী চক্রের প্রধান নূরী আল মামুনকে ময়মনসিংহের সানকিপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদে এসব তথ্য জানা যায়। নূরী আল মামুন শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

অপরদিকে গত বুধবার রাতে নগরীর একাডেমি রোডে আনন্দ মোহন কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের ঘটনায় একই কলেজের শিক্ষার্থী ইমরুল ও ঘাটাইল কলেজের শিক্ষার্থী মাহফুজকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারের পর চক্রটি জানায়, প্রথমে নীরিহ ও টাকা পয়সা ওয়ালা দূরের কোনো শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তার অভিভাবকের কাছে ফোন করে জানানো হয় আপনার সন্তানকে তার প্রেমিকার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়েছে। বিষয়টি আপোস মীমাংসার জন্য বিশ হাজার টাকা লাগবে। টাকা পেলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর না পেলে রুমের একটি কক্ষে আটকে রেখে চালানো হয় নির্যাতন। দিনের পর দিন চলে এমন অত্যাচার। এমনকি খাবারও দেয়া হয় না।

ভুক্তভোগী এক অভিভাবক জানান, ভাইকে অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচাতে তিন ধাপে ৩০ হাজার টাকা পাঠাই। কোনো কারণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। আমরা চাইলেও অনেক সময় কিছু বলতে পারি না। কেউ পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়ে ঝামেলায় পড়তে চায় না।

নগরীর কলেজ রোড, একাডেমি রোড, সানকিপাড়া, কাচিঝুলি, হামিদ উদ্দিন রোড, মাসকান্দা পলিটেকনিক্যাল এলাকাসহ মেসের আধিক্য আছে এমন সব এলাকায় ছাত্ররা হরহামেশাই নির্যাতনের শিকার হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, এসব ঘটনার পেছনে বড় ধরনের প্রশয়কারী যদি না থাকে তাহলে শুধু সাধারণ শিক্ষার্থী এত বড় অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সাহস পাবে না। আগে খুঁজে বের করতে হবে এদের পেছনে কারা সাহস জোগাচ্ছে।

জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আর এগুলো নিয়ে কেউ অভিযোগ করতে চায় না। সম্প্রতি অভিযোগ পেয়ে আমরা একাধিক চক্রের সদস্যকে আটক করেছি। তাদের নামে থানায় মামলাও হয়েছে। তারা অপরাধ স্বীকারও করেছে। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না, অন্তহীন হয়রানিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা


চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না, নড়ে না কোনো ফাইল- এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, পিয়ন-দারোয়ান থেকে শুরু করে এসি-ডিসি পর্যন্ত ঘুষের টাকা লেনদেনের বিষয়টি অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’।

কোনো পণ্যের চালান খালাসের জন্য একজন এসি বা ডিসিকে পর্দার আড়ালে কত টাকা দিতে হয়, তা-ও সবার মুখে মুখে। শুধু তা-ই নয়, কোন কর্মকর্তা ‘ঘুষখোর’, কোন কর্মকর্তা কীভাবে কোন ফাঁদে ফেলে আমদানিকারক বা তার প্রতিনিধির কাছ থেকে ঘুষ নেন- সেটিও কারও কাছে অজানা নয়।

তাদের আরও অভিযোগ, অসাধু আমদানিকারকরা সিন্ডিকেটবদ্ধ হয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্যের চালান খালাস করে নিলেও প্রকৃত ও সৎ ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা ঘুষও দিতে পারছেন না, পণ্যও ছাড়াতে পারছেন না। এক্ষেত্রে নানা অজুহাতে আটকে দেয়া হচ্ছে তাদের পণ্য। এতে অহেতুক অন্তহীন হয়রানির শিকার হচ্ছেন এসব ব্যবসায়ী।

কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই অন্তহীন হয়রানি ও অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে উত্তরণে উপায় কী- সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজে পাচ্ছেন না আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, দেশের রাজস্ব আদায়ের প্রধান সূতিকাগার এই কাস্টম হাউসকে যতক্ষণ পর্যন্ত ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত করা না যাবে, ততক্ষণ ব্যবসায়ীরা হয়রানি থেকে বাঁচতে পারবেন না। এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবছর গড়ে ৩০ হাজার থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব যায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে। চলতি বছর এই রাজস্বের টার্গেট দেয়া হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এখানে ১৩টি গ্রুপ রয়েছে। কোন পণ্য কোন গ্রুপে শুল্কায়ন হবে, তা নির্ধারিত। প্রত্যেকটি গ্রুপে কমবেশি ঘুষের লেনদেন হয়। গ্রুপের পিয়ন-দারোয়ান থেকে শুরু করে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও), রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) সবাই ‘ঘুষ’ নেন। বিশেষ করে পণ্য শনাক্তকরণ এইচএস (হরমোনাইজিং সিস্টেম) কোডের ফাঁদে ফেলে ঘুষ আদায় করা হয়। ঘুষ আদায় করা হয় পণ্যের ল্যাব টেস্ট, কায়িক পরীক্ষা, শতভাগ পরীক্ষাসহ নানা অজুহাতে। এছাড়া প্রতিটি ফাইল উপস্থাপনের পর যতক্ষণ ফাইল চলবে, ততক্ষণ ঘাঁটে ঘাঁটে নির্ধারিত হারে ঘুষ দিতে হবে। ঘুষ বন্ধ তো ফাইল চলাচল বন্ধ। এই অনিয়মটাই যেন এখানে নিয়ম। আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৭টি ধাপে ঘুষ দিতে হয় বলে আমদানিকারকদের অভিযোগ।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মহাবুবুল আলম কাস্টমসে অনিয়ম-দুর্নীতি ও হয়রানি প্রসঙ্গে শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন সরাসরি রাজস্বের জোগানদাতা। তাদের অযথা হয়রানি করা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। অথচ চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে নানা অজুহাতে হয়রানির অভিযোগ নিত্যদিনের। হয়রানি ও অনিয়ম-দুর্নীতিমুক্ত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস গড়তে তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সরকারের সর্বোচ্চ মহলের প্রতি দাবি জানান।

চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও এফবিসিসিআই’র জেনারেল বডির মেম্বার মাহফুজুল হক শাহ যুগান্তরকে বলেন, কাস্টমসে অনিয়ম-দুর্নীতি ও হয়রানির মূলে রয়েছে শুল্কায়ন পদ্ধতি পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন না হওয়া এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারা। বন্দরের প্রতিটি গেটে যেখানে একটি করে স্ক্যানার মেশিন প্রয়োজন, সেখানে আছে মাত্র চারটি। তা-ও আবার সবক’টি সবসময় সচল থাকে না। যে কারণে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি বাধাগ্রস্ত হয়। এসব কারণে পদে পদে আমদানি-রফতানিকারকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দুর্নীতির সুযোগ পান। বিদ্যমান সংকট নিরসনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তথা সরকারকে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে চেম্বারসহ ব্যবসায়ী নেতারা বিভিন্ন সময়ে যেসব সুপারিশ করেছেন, সেসব সুপারিশের আলোকে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবেই জাতীয় অর্থনীতির যে প্রবৃদ্ধি, তা ধরে রাখা সম্ভব হবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘যখন কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষ আদায় করেন বা দাবি করেন, তখন কেউ কিছু বলেন না। অভিযোগ নিয়ে আসেন না। কোনো পণ্য চালান আটকে গেলে বা সমস্যা হলে তখনই এ ধরনের অভিযোগগুলো করা হয়। এক্ষেত্রে আমদানিকারক বা সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদেরও নিশ্চয়ই দুর্বলতা থাকে। না হলে তারা কেন পণ্য চালান খালাসে ঘুষ দেবেন। আবার আটকে গেলে অভিযোগ করবেন। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ কেউ দিলে এবং তা প্রমাণ হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন সবার জন্য সমান।’

আমদানিকারকরা জানান, পণ্য নিয়ে জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভেড়ার পর শিপিং এজেন্ট থেকে আমদানি চালানের আইজিএম (ইমপোর্ট জেনারেল ম্যানুফেস্ট) নেয়ার পর ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে হয় কাস্টম হাউসের সংশ্লিষ্ট গ্রুপে। এখান থেকেই শুরু হয় ঘুষের লেনদেন। ডকুমেন্টে কোনো ঝামেলা নেই বা ‘ফ্রেশ ডকুমেন্ট’র ক্ষেত্রে প্রতি চালানের বিপরীতে ন্যূনতম ৪ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়।

সূত্র জানায়, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ১ হাজার টাকা, রাজস্ব কর্মকর্তা ১ হাজার টাকা, ফালতু (আন অফিসিয়াল কর্মচারী) ২০০ টাকা, ব্যাংকে ডিউটি বা শুল্ক জমা দেয়ার সময় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, ডকুমেন্ট আউট পাস বা ক্লিয়ারেন্সের সময় দিতে হয় ৫০০ টাকা। ঘুষ দিলে দিনে দিনে পণ্য চালানের অ্যাসেসমেন্ট বা শুল্কায়ন হয়। না দিলে ফাইল পড়ে থাকে। এছাড়া ডকুমেন্টে কোনো ধরনের ত্রুটিবিচ্যুতি বা এইচএস কোড নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে তা আটকে যায় সহকারী কমিশনার বা এসির কাছে। এখান থেকেই শুরু হয় কর্তাদের ঘুষ আদায়ের খেলা। এসি বিরূপ মন্তব্য লিখে দিলে ফাইল যায় আরও ওপরে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এইচএস কোডের সামান্য টেকনিক্যাল ভুল কিংবা অনিচ্ছাকৃত ভুলের বিষয়গুলোও সহজভাবে না দেখে চালান খালাস প্রক্রিয়া জটিল করে দেয়া হয় এই বিরূপ মন্তব্য লিখে। আবার দেখা যায়, তাদের সঙ্গে চালান ছাড়ে ‘ঘুষ’ প্রদানের চুক্তি হলে সেক্ষেত্রে সব ভুল মাফ হয়ে যায়। সব জটিলতা দূর হয়ে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতিটি চালান শুল্কায়নে উৎকোচ আদায় করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে সমস্যা ও জটিলতা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এসব সমস্যা করেন মূলত এসি (অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার) ও ডিসিরা (ডেপুটি কমিশনার)।

আরও জানা গেছে, কর্মকর্তাদের কেউ কেউ সরাসরি আবার কেউ প্রতিনিধির মাধ্যমে পণ্যের চালান খালাসে নির্ধারিত অঙ্কের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হন। ঘুষের দেখা না পেলে এ ধরনের চালান খালাস প্রক্রিয়া নানা কৌশলে দীর্ঘায়িত করে দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এক্ষেত্রে কখনও ল্যাব টেস্টের কথা লিখে দেয়া হয়, কখনও শতভাগ কায়িক পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয় অথবা এইচএস কোডের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে চালান আটকে দেয়া হয়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কম শুল্কের পণ্য বাড়তি শুল্ক দিয়ে ছাড় করতে হয়। এক্ষেত্রে পোর্ট ও শিপিং লাইনের ডেমারেজ দিয়ে চড়া মাশুল গুনতে হয় আমদানিকরারকদের।

আমদানিকারক ও তাদের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, গ্রুপ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে কর্মকর্তারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। কাস্টম সরকার বা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবহার করেন চাকর-বাকরের মতো। কাজ হোক বা না হোক, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভালো ব্যবহারটিও পান না তারা। অথচ রাজস্বে হাজার হাজার কোটি টাকার জোগান দেয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে তারাও জড়িত।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌টেন্ডার জালিয়াতির বিজ্ঞাপন কৌশল ঘটেছে, খোদ আইন, বিচার ও মন্ত্রণালয়ে


একটি জাতীয় দৈনিক। তাতে বিজ্ঞাপন আকারে ছাপানো হয়েছে একটি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি। বিষয় : সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগ। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে চতুর্থ শ্রেণির বেশ কয়েকটি পদে ৪৬৩ জন নিয়োগ করা হবে। একে সরকারি দপ্তরে নিয়োগ, তদুপরি এত সংখ্যক লোক! স্বভাবতই নড়েচড়ে বসলেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।

কিন্তু টেন্ডারবাজির ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় যে ঘটনা ঘটে, এখানেও তা-ই ঘটল। কিছু ঠিকাদার, যাদের ‘বিশেষ যোগাযোগ’ রয়েছে দপ্তরের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে, শুধু তারা টেন্ডার ক্রয় করে, ক্ষেত্রবিশেষে থানাপুলিশের সহায়তা নিয়ে শেষ পর্যন্ত সেটি জমা দিতেও সক্ষম হলেন।

কিন্তু কিছু ঠিকাদার খুবই বিস্মিত হলেন, যখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে দেখলেন, বিধি অনুযায়ী টেন্ডারের জন্য নির্ধারিত কোনো মূল্য ধার্য করা হয়নি। এর পর উৎসুক ঠিকাদারদের কেউ কেউ জানতে চাইলেন, কোন দৈনিকে কবে দরপত্রের বিজ্ঞাপনটি ছাপা হয়েছিল। দপ্তর থেকে দৈনিকের নাম, তারিখ ইত্যাদি জানানো হলো এবং দৈনিক থেকে কাটিং করা হয়েছে এমন একটি দরপত্র দেখানো হলো।

সেই দিনক্ষণ ধরে সেই দৈনিকে গিয়ে ঠিকাদাররা জানতে পারলেন, সেদিনের দৈনিকে এমন কোনো দরপত্রই ছাপা হয়নি। এর পর একে একে যেসব তথ্য বেরিয়ে এলো তা রীতিমতো বিস্ময়কর। টেন্ডার আহ্বান, জমাদান, এর বিপরীতে সিকিউরিটি বাবদ জমাকৃত অর্থ, টেন্ডার কমিটি ও তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রমÑ এসব প্রক্রিয়ার প্রায় পুরোটাই স্রেফ জালিয়াতি।

প্রায় দশ কোটি টাকার গায়েবি এ দরপত্র এবং এর গায়েবি কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের আখের গোছাতে তৎপর হয়েছিলেন। অনেকটা উৎরেও গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু উৎসুক কিছু ঠিকাদারের কারণে তীরের কাছাকাছি পৌঁছে সম্ভবত ডুবতে যাচ্ছে তাদের তরী। আর এহেন নজিরবিহীন বেআইনি কা- ঘটেছে খোদ আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন অধিদপ্তরে (আইন ও বিচার)।

এ যেন প্রদীপের নিচেই অন্ধকার! এমন বিস্ময়কর অনিয়মের বিষয়াদি উল্লেখ করে গত মঙ্গলবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটে (সিপিটিইউÑবাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) ইতোমধ্যেই লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আমাদের সময়ের সঙ্গে কথা হয় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (আইজিআর) খান মো. আবদুল মান্নানের সঙ্গে। তিনিও স্বীকার করেন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগে টেন্ডার জালিয়াতির বিষয়ে অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি। বলেন, আমরা খতিয়ে দেখছি।

অভিযোগের সত্যতা পেলে টেন্ডারটি বাতিল তো করা হবেই, দায়ী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের সময়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, দপ্তর থেকে স্বার্থান্বেষী কর্মকর্তারা চাউর করেছেন যে, ঝাড়–দার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ১০০ জনকে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগের বিষয়ে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর দৈনিক সংবাদে বিজ্ঞাপন আকারে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

কিন্তু নিবন্ধন অধিদপ্তরের সেসব কর্মকর্তার দেওয়া তারিখ অনুযায়ী দৈনিক সংবাদে সেদিন এমন কোনো টেন্ডারই ছাপা হয়নি। গায়েবি ওই বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে নিবন্ধন অধিদপ্তরের স্মারক নম্বর-১৪৮৬১ (২); আর স্বাক্ষর রয়েছে আইআরও (চট্টগ্রাম বিভাগ) নৃপেন্দ্র নাথ সিকদারের। দপ্তরে কাটিং করে রাখা দৈনিকে ছাপানো যে বিজ্ঞাপনটি রয়েছে, তাতে নির্ধারিত বয়সের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছেÑ ১৮ বছর থেকে অনধিক ৬০ বছর; বেতন ১৪ হাজার ৪৫০ থেকে শুরু করে ১৫ হাজার ৫৫০ টাকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস। এ দরপত্র দাখিলের সময় ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর দুপুর একটা পর্যন্ত। এই একটি সার্কুলার ভুয়াভাবে তৈরি করা হলেও একই স্মারক নম্বরে- (১৪৮৬১(২)) আরও ৩টি স্মারক নম্বর তৈরি করে নম্বরের পাশের বন্ধনীতে ১, ৩, ৪, ৫ যুক্ত করে চক্রটিÑ ১৪৮৬১ (১) নম্বর স্মারকে নিরাপত্তা/নৈশপ্রহরী ৬৩ জন; ১৪৮৬১ (৩) নম্বর স্মারকে ঝাড়–দার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী ১০০ জন; ১৪৮৬১ (৪) নম্বর স্মারকে ঝাড়–দার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী ১০০ জন; ১৪৮৬১ (৫) নম্বর স্মারকেও ঝাড়–দার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী ১০০ জন। অথচ ওই তারিখে (২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর) এই তিন সার্কুলারের বিষয়ে দৈনিক সংবাদে কোনো বিজ্ঞাপনই প্রকাশ হয়নি।

এদিকে এ টেন্ডারের বিষয়ে অফিসে যোগাযোগ করলে টেন্ডার আহ্বায়ক আইআরও (চট্টগ্রাম বিভাগ) নৃপেন্দ্রনাথ সিকদারের সহযোগিতায় দরপত্রের মূল্য ছাড়াই ঠিকাদারদের দরপত্র প্রদান করা হয়। জানা গেছে, চরম এ জালিয়াতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ৪ কর্মকর্তা জড়িত। টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র খুলে দরপত্রের কমিশন/সার্ভিস চার্জ পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়েছে তাদের যোগসাজশে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই চার কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে থলে থেকে আরও বিস্ময়কর তথ্য বেরিয়ে আসবে, যাতে উঠে আসবে আরও অনেকের নামও। ঠিকাদারদের অভিযোগনামা ‘নিবন্ধন অধিদপ্তর, আইন ও বিচার বিভাগ আউটসোর্সিং দরপত্র স্মারক নম্বরÑ১৪৮৬১ (১), ১৪৮৬১ (২) ১৪৮৬১ (৩) ১৪৮৬১ (৪) ১৪৮৬১ (৫)’ গ্রহণকৃত দরপত্রের প্রদানকৃত এনওএ, কার্যাদেশ, চুক্তি বাতিল করার বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটে ঠিকাদার কামাল হোসেন লিখিত অভিযোগ করেন গত ৭ মে।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেনÑ জনবল সরবরাহের গোপনীয়ভাবে গ্রহণকৃত দরপত্রেÑ সিপিটিইউর পিএসএন ও আদর্শ দরপত্র দলিলের কোনো কিছুই অনুসরণ করা হয়নি। টেন্ডার কমিটির সভাপতি ও অন্য সদস্যরা বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করে ওই ভুয়া দরপত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে এ এম এন্টারপ্রাইজ, স্টেট সার্ভিসেস (প্রা.) লিঃ, নর্থ বেঙ্গল সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রা. লি. ও আসিফ ট্রেডার্সকে অভিপ্রায়পত্র (এনওএ) কার্যাদেশ দেয়। এই জালিয়াতির সঙ্গে দরপত্রের মূল্যায়ন কমিটির সকল সদস্যসহ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জড়িত।

ঘুষের বিনিময়ে গ্রহণ কার্যাদেশের চুক্তি বাতিল করাসহ ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ঠিকাদার কামাল হোসেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল শনিবার এই টেন্ডার আহ্বায়ক ঢাকার নিবন্ধন অধিদপ্তরের আই.আর.ও (চট্টগ্রাম বিভাগ) নৃপেন্দ্রনাথ সিকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ওপাশ থেকে সাড়া দেননি তিনি।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌এসএসসি পাস করেই ফাহমিদা যেভাবে এমবিবিএস, এফসিপিএস


নারায়ণগঞ্জে ভুয়া ডাক্তারের হাতে প্রতারিত হচ্ছে স্থানীয় জনগণ। অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিকে এরা বড় বড় ডিগ্রি লাগিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা করছেন। গত কিছু দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাতে এমন বেশ কিছু ভুয়া ডাক্তার গ্রেফতার হয়েছেন। সিলগালাও করে দেয়া হচ্ছে দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। তারপরও এদের দৌরাত্ম্য কমছে না।

২০০১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও ২০০৯ সালে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি পাস করেন তানভির আহমেদ সরকার। এরপর হঠাৎ করেই তিনি ডাক্তার বনে যান। নিজের নামের শেষে এমবিবিএস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ জুড়ে দেন। বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল ও আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে তার পরিচয় ডা: মো: তানভীর আহমেদ সরকার, সনোলজিস্ট উল্লেখ আছে। এছাড়া রোগীদের প্রেসক্রিপশনেও ভিন্ন ভিন্ন নামে তিনি নিজেই সই করতেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি এ ভুয়া ডাক্তারের।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সানারপাড় রহিম মার্কেটের হেলথ কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় গত ৮ মে রাতে র্যাব তাকে গ্রেফতার করে। ওই হাসপাতালের ভবন মালিক সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের হওয়ায় ভুয়া ডাক্তার আর হাসপাতালের মালিকেরা ছিল বেপরোয়া। ভুয়া ডাক্তার তানভির আহমেদ সরকারকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং হাসপাতালের ম্যানেজার আবুল বাশারকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন র্যাব সদর দফতর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: সরোয়ার আলম। এ সময় ওই বেসরকারি হাসপাতালটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

র্যাব জানায়, তানভীর আহমেদ কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার শিবনগর এলাকার আব্দুল মতিন চৌধুরীর ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে নিজেকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে ওই হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখতেন। আসলে সে একজন ভুয়া ডাক্তার।

তানভীর আহমেদ সরকারের মতো আরো দুজন ভুয়া ডাক্তারকে সম্প্রতি কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোতে ভুয়া ডাক্তারের ছড়াছড়ি। দিন দিন ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। চিকিৎসক হওয়ার সনদ না থাকলেও অনেকেই নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এসব ভুয়া চিকিৎসকের খপ্পরে পড়ে অনেক রোগীর জীবন হয়ে উঠছে সঙ্কটাপন্ন।

সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জে তিনজন ভুয়া চিকিৎসককে আটক করে সাজা প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত ২ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ফ্যামিলি ল্যাব হসপিটাল নামের একটি ক্লিনিকে র্যাবের অভিযানে ভুয়া ডাক্তার নজরুল ইসলাম শেখকে ১ বছরের কারাদন্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমান আদালত। ওই ভুয়া ডাক্তারের নামের পাশে ডিগ্রী হিসেবে লেখা ছিল এমবিবিএস, সনোলজিস্ট। নিজেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার পরিচয়েই দিয়ে ২ বছর যাবত প্রতারণা করে আসছিলেন রোগীদের সাথে।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকার এম হোসেন জেনারেল হসপিটাল নামের হাসপাতালে র্যাবের অভিযানে আটক ভুয়া ডাক্তার ফাহমিদা আলমকে ৬ মাসের জেল ও হাসপাতালটি সীলগালা করে দেয়া হয়। নিজেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে ফাহমিদা আলম দিনে পর দিন প্রতারণা করে আসছিলেন রোগীদের সাথে। অথচ ফাহমিদা ছিলেন মাত্র এসএসসি পাস। তবে প্রেসক্রিপশনে তার নামের পাশে পদবির ডিগ্রি হিসেবে লেখা থাকত এমবিবিএস, এফসিপিএস।

র্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এম হোসেন জেনারেল হাসপাতাল থেকে আটক ফাহমিদার নামের পাশে ডিগ্রি হিসেবে লেখা ছিল ‘এমবিবিএস, এফসিপিএস’। নিজেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার পরিচয়েই দিনে পর দিন তিনি রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন। ডাক্তার পরিচয় দিলেও দেখাতে পারেননি কোনো সনদপত্র। তিনি যে হাসপাতালে বসেন সেই হাসপাতালেরও নেই প্রয়োজনীয় কোনো নথিপত্র।

২০১৮ সালের ১৪ মার্চ শহরের খানপুরে অবস্থিত ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে এস এম জালাল নামের ভুয়া ডাক্তারকে আটক করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি ডাক্তার না হয়েও এমবিবিএস পরিচয় দিয়ে রোগীদের আল্টাসনোগ্রাম করাচ্ছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল চৌধুরীবাড়ী বাসস্ট্যান্ডস্থ জনস্বাস্থ্য জেনারেল হাসপাতালে মোবারক ইসলাম নামের এক ভুয়া ডাক্তারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ভুয়া ডাক্তার মোবারক ইসলামের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ জাল সার্টিফিকেট ও সার্টিফিকেট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই হাসপাতালটিকে সিলগালা করে দেন।

এছাড়া স্কুলের গণ্ডি না পেরুলেও দিব্যি সাইনবোর্ডে চিকিৎসক উপাধি লিখে তিন বছর ধরে রোগীদের চিকিৎসার নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন মাহফুজ চৌধুরী। কয়েক বছর আগে হাতেনাতে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল চৌধুরী বাড়িস্থ সুলতান সুপার মার্কেটে চৌধুরী ডেন্টাল কেয়ার নামের একটি ভুয়া দন্ত চিকিৎসালয় থেকে অষ্টম শ্রেণী পাস করা মাহফুজকে আটক করে সম্প্রতি দুই মাসের কারাদণ্ড দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা ইয়াসমিনের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে গৌরি চাঁদ পণ্ডিত ওরফে সুবির নামের একজন ভুয়া ডাক্তারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ন্যাশনাল মেডিক্যাল সেন্টারে ওই অভিযান চালায় র্যাব-১১ সদস্যরা। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নারায়ণগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুম আলী বেগের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই সাজা দেয়া হয়।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌অস্ত্র-গুলিসহ ৪ ভারতীয় নাগরিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আটক


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিদেশি পিস্তল, গুলি, বিভিন্ন অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির মালামালসহ চার ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।

তাদের সঙ্গে এ সময় বাংলাদেশি দুই নাগরিককেও আটক করা হয়।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার কুটি বাজারের মা প্লাজার আলিফ হোটেলের একটি কক্ষে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলো, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বিশালগড় মহকুমার নেতাজি নগরের স্বর্ণজিৎ দেবনাথ (২৩), আমতলী থানার বাদারঘাট এলাকার শংকর সরকার (৩১), বাতিলা থানার রাজনগর দত্তক বাড়ি এলাকার বিমল দাস (৩৩), উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর মহকুমার ধর্মনগর সদরের নির্মলেন্দু চৌধুরী (৩২)।

তাদের সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের হাসিবুল হাসান অনিক (২২) ও আখাউড়া উপজেলার বনগজ গ্রামের আমজাদ হোসেন শাওনকে (২২) আটক কররা হয়।

পুলিশ তাদের কাছ থেকে এ সময় একটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি (লোড অবস্থায়), দুটি দেশীয় লোহার তৈরি পাইপগান, দুটি শিশার কার্তুজ, দুটি ওয়াকিটকি, দুটি চার্জার, তিন জোড়া লেকগার্ড, পাঁচ লিটার পেট্রল, একটি রিফ্লেকটিং বেল্ট, এক জোড়া হ্যান্ডগ্লভস, এক জোড়া বুট জুতা, একটি রেইনকোট উদ্ধার করে।

কসবা-আখাউড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল করিম জানান, আমরা গত কয়েক দিন ধরেই খবর পাচ্ছিলাম কে বা কারা অস্ত্র নিয়ে কসবা এলাকায় ঘোরাফেরা করছে কিন্তু সঠিকভাবে তথ্য পাচ্ছিলাম না।

তিনি জানান, শনিবার দুপুরে গোপনে কুটিতে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে আটক ও অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হই। কী কারণে তারা এ সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র নিয়ে অবৈধভাবে আসল, তারা কোথায় কী করতে চেয়েছিল তা আমরা খতিয়ে দেখছি।

আবদুল করিম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এলোমেলো কথাবার্তা বলছে। তবে এটুকু নিশ্চিত হয়েছি দুদিন আগে তারা কসবা উপজেলার মাদলা সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতার ভেদ করে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

তিনি এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।

উৎসঃ ‌‌দেশ রূপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌দুর্নীতির নিউজ করায় হত্যা মামলার আসামি সাংবাদিক!


কুলাউড়ার ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের অনিয়ম ও দুর্নীতির নিউজ করায় হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এম. এ. কাইয়ুমকে। উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে অপকর্ম আড়াল করতে কুলাউড়ার উপজেলা চেয়ারম্যান শফি আহমদ সলমান, ইউএনও আবুল লাইছ ও এসিল্যান্ডে জাদিদ ষড়যন্ত্র করে সাংবাদিকের নাম যুক্ত করিয়েছেন।

মামলায় ঘটনার যে তারিখ দেওয়া হয়েছে সেই দিন এম এ কাইয়ুম ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার আবু জাফর রাজুর সফর সঙ্গী হয়ে সিলেট শহরে। মামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুলাউড়া উপজেলা ও মৌলভীবাজার জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ কাজে অনিয়ম ও লুটপাট এবং কুলাউড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিসের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে একসনা বন্দোবস্ত প্রদানের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ’র প্রতিনিধি এম. এ. কাইয়ুম। এসব নিউজ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ কাজে অনিয়ম তদন্ত করতে মাঠে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয় থেকে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয় আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজের গুণগত মানের প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠাতে। ইউএনও এবং এসল্যিান্ড তাদের দুর্নীতি আড়াল করতেই কুলাউড়ার উপজেলা চেয়ারম্যান সলমানের নেতৃত্বে একটি হত্যা মামলায় এম এ কাইয়ুমকে যুক্ত করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুলাউড়ায় চলমান প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ‘যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ জমিতে ঘর নির্মাণ’ কাজে করা হয়েছে সীমাহীন অনিয়ম। যার নেতৃত্বে আছেন কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল লাইছ। প্রকল্প থেকে লুটপাটের জন্য ঘর নির্মাণে প্ল্যান, ডিজাইন প্রাক্কলন মোতাবেক গুণগত মান বজায় রাখা হয়নি বলে অভিযোগ উঠে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর কাজে এক বস্তা সিমেন্টের সাথে ২০ টুকরি বালু মিশিয়ে কাজ করেছে মিস্ত্রি। প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো অপদস্থ হতে হয়েছে উপকারভোগীকে। এতে ফেটে গেছে খুঁটি, ঘর ও বারান্দার ফ্লোর। ফলে ঘরের টেকসই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। ল্যাট্রিন নির্মাণে ৮টি করে রিং স্লাব ব্যবহারের কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে ৫-৬টি করে রিংস্লাব।

প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন থেকে নিয়োগ দেয়া হয় ইউএনওর পছন্দের ঠিকাদার। নিয়োগকৃত রাজমিস্ত্রি ও কাঠমিস্ত্রিরা ইচ্ছে মতো কাজ করছেন। উপকারভোগীদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন। এমনকি দরজা-জানালা তৈরিতে শাল, গর্জন, জামরুল, কড়াই, শিশু, আকাশমণি গাছের কাঠ ব্যবহারের কথা থাকলেও অল্প বয়সী ও অসার ইউক্যালিপটাস কাঠ দিয়ে তড়িঘড়ি কাজ করছেন।

অন্যদিকে কুলাউড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিসের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে একসনা বন্দোবস্ত প্রদানের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের খবর প্রকাশ হয়। উপজেলার রবিরবাজার থেকে প্রায় ৪৫টি দোকান বন্দোবস্ত দেয়ার নামে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: সাদিউর রহিম জাদিদ। উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে লিজ নেয়ার প্রস্তাব দিয়ে কৌশলে এই টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে লিজগ্রহীতরা জানান।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কুলাউড়া উপজেলার রবিরবাজারে প্রায় ৪৫টি দোকান একসনা লাইসেন্স ভিত্তিক বন্দোবস্ত প্রদানের লক্ষ্যে চুক্তিনামা সম্পাদন করা হয়। এক বছরের লিজ ফি বাবত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দোকানকোটা প্রতি মাত্র একশ থেকে দেড়শ টাকা জমা করা হয়। অথচ প্রতিটি দোকান মালিকের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়।

মামলায় যেভাবে নাম যুক্ত করা হল:

কুলাউড়ার কাদিপুর ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে চুরির দায়ে ৫ সদস্যের বিচারকি প্যানেল অভিযুক্ত আসামি ইছরাইল আলী নামের এক যুবককে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। গ্রাম আদালতের রায়ের পর আদালতের বারান্দায় ইছরাইল আলী তার বাবা আছদ আলী সাক্ষী দিয়ে তাকে চোর সাব্যস্ত করেছেন বলে বাবাকে দোষারোপ করে।

এরপর বাড়ি ফিরে বাবা ও ছেলে পরস্পরকে অভিযুক্ত করেন। ঘটনার দিন বিকেল ৫টায় এক পর্যায়ে বাবা আছদ আলীর বিরুদ্ধে অভিমান করে ছেলে ইছরাইল আলী কীটনাশক পান করেন। প্রথমে কুলাউড়া হাসপাতালে ও পরে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করলে পরদিন ৬ মে সকাল ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ইছরাইল আলী।

ইছরাইল আলীর মৃত্যুর পর একটি প্রভাবশালী মহলের প্ররোচনায় প্রভাবিত হয়ে ৭ মে রাতে আছদ আলী কুলাউড়া থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রাম আদালতের বিচারক হাবিবুর রহমান ছালাম, গ্রাম আদালতের মামলার বাদী গোলাম মোস্তফা চৌধুরী পাবেল ও বাদী পক্ষের মনোনীন গণ্যমান্য ব্যক্তি নজরুল ইসলাম সহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনের নামে কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় প্রথমধাপে ৩ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে উপজেলা চেয়ারম্যান শফি আহমদ সলমানের নেতৃত্বে সাংবাদিক এম এ কাইয়ুমের নাম যুক্ত করা হয়। যদিও সেই ঘটনা কিংবা বিচারকি কার্যালয়ে এম এ কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন না।

এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান (শফি আহমদ সলমান) নাম দিলে আমার কি করার আছে।

পূর্বপশ্চিমের প্রতিনিধি এম এ কাইয়ুম জানান, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ কাজে অনিয়ম এবং একসা বন্দোবস্তের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের নিউজ করায় ষড়যন্ত্র করে আমায় মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার নাম সংযুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে সেই নিউজ করা কি আমার অপরাধ?

উৎসঃ ‌‌পূর্বপশ্চিম

আরও পড়ুনঃ ‌অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবস্থান কানাডার সমানঃ আ হ ম মুস্তফা কামাল


অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কানাডার সমান বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

শনিবার রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অংশীদার হবে এমন প্রভাবশালী ২০টি দেশের মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ। গত ৬মে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুকে আইএমএফ ২০২৪ সাল পর‌্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে প্র্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ করেছে তাঁর আলোকে ব্লুমবার্গ-এর করা বিশ্লেষণে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ওই বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামী অর্থবছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর সেই প্রবৃদ্ধিতে দশমিক ৯ শতাংশ অবদান রাখবে বাংলাদেশের অর্থনীতি। কানাডা অবদান রাখবে ১ শতাংশ। থাইল্যান্ড-স্পেনও ১ শতাংশ করে অবদান রাখবে।

আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের এই অবদান অব্যাহত থাকবে বলে ব্লুমবার্গ-এর গবেষণার বরাত দিয়ে তথ্য দেন মুস্তফা কামাল।

‘সে তথ্যের ভিত্তিতেই আমি বলছি, প্রবৃদ্ধিতে আমরা কানাডার সমান। স্পেন-থাইল্যান্ডের সমান। আর এটা আমার কথা নয়; আইএমফের কথা। বিশ্ব ব্যাংকের কথা।’

‘শুধু তাই নয়, কয়েক দিন আগে ফিজিতে এডিবির বার্ষিক সম্মেলনেও বলা হয়েছে, চমকপ্রদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ।’

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হওয়ার যে আভাস সরকার দিচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেম।

সরকারের কথার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিগুলোর তথ্য-উপাত্ত মেলে না দাবি করে সংস্থাটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সরবরাহ করা তথ্য-উপাত্তগুলো পুনঃপর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডিও সরকারের প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল।

গত জানুয়ারিতে টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়া আওয়ামী লীগ সরকার চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হবে বলে আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তথ্য হিসাব করে আভাস দিয়েছে।

সরকারের এই প্রাক্কলনের কাছাকাছি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের আভাস দিয়েছে এডিবি; তারা বলছে এই অঙ্ক ৮ শতাংশ হতে পারে। তবে বিশ্ব ব্যাংক বলছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর এ সব সমালোচনার জবাবে মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘তাদের কাজ তারা করবে; আমার কাজ আমি করবো। তবে তাদের হোমওয়ার্ক করে তথ্য দেয়া উচিৎ। আমি তথ্য নিয়ে কথা বলি। আমি মানে বাংলাদেশ…। আমি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই কথা বলি।’

‘আমি কারো নাম বলছি, তবে অনেকেই অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলেন। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করে বলছি…। আসেন, গোলটেবিল আলোচনায় বসি…। আমি বা বিবিএস যে তথ্য দিচ্ছে সেটা যে সঠিক তা প্রমাণ করে চাড়ব।’

‘দুঃখ একটাই, বিশ্ব ব্যাংক-আ্ইএমএফ-এডিবি আমাদের প্রশংসা করছে। আর আমাদের এখানকার কয়েকজন সেটা মেনে নিচ্ছে না বা মেনে নিতে পারছে না।’

‘এ সব সংগঠনের কাজই সরকারের সমালোচনা করা। তারা বছরে কিছু প্রোগ্রাম করে আর সরকারের সমালোচনা করে। এটা তাদের বাৎসরিক রুটিন হয়ে গেছে।’

ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত

তবে বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কমেছে বলে যে তথ্য বেসরকারি সংস্থাগুলো দিচ্ছে তা ঠিক আছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘জিডিপির তুলনায় আমাদের ট্যাক্স অনেক কম। ১০ থেকে এখন ৯ এ নেমে এসেছে। এটা অবশ্যই বাড়ানো দরকার। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম হলেই যে প্রবৃদ্ধি কমবে এটা ঠিক নয়।’

‘আমাদের অর্থনীতির প্রায় ৮০ শতাংশই ইনফরমাল ইকনোমি। এই ইনফরমাল ইকনোমি জিডিপিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে।’

‘তবে ট্যাক্স বেশ ভালোই বেড়েছে’ তথ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরে কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সেটার লক্ষ্য ধরা আছে ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। হয়তো লক্ষ্যের পুরোটা আদায় হবে না। কিন্তু কাছাকাছি তো হবে।

‘হিসাব করলে দেখা যাবে, এই কয় বছরে কর আদায়ের পরিমাণ চার গুণ বেড়েছে।’

নতুন ভ্যাট আইন ১ জুলাই থেকেই

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মুস্তফা কামাল বলেন, আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন ভ্যাট আইন কার‌্যকর করা হবে।

“এ বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজস্ব বোর্ডের প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। ভ্যাট আইনের যেসব ধারায় ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়েছেন তা নিয়ে এনবিআরকে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসে সমাধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের কোনো দুর্বলতা মেনে নেওয়া হবে না।”

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌আমরা রাতের আধারে ভোটের বাক্স ভরেছি! বিএনপি কেনো ভরতে পারল না?: মোশাররফ


স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, অনেকে বলেন আমরা নাকি ভোটের আগের রাতের আধারে ভোট কেটে বাক্স ভরে জিতেছি! আমরা যদি সত্যি সত্যিই ভোট কেটে বাক্স ভরেই জিতে থাকি তাহলে বিএনপি কেনো রাতের আধারে ভোটের বাক্স ভরতে পারলো না? আমরা কি তাদের বাঁধা দিয়েছিলাম? আমরা না হয় বাক্স ভরলাম, তোমাদের বাক্স খালি কেনো? তোমাদের ভোট গেলো কোথায়?

শনিবার দুপুরে ফরিদপুর শহরের বদরপুরে অবস্থিত আফসানা মঞ্জিলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত ফরিদপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় দ্বারা বাস্তবায়িত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বয়স্ক, বিধবা ও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধি ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ভোট পেতে হলে জনগণের পাশে থাকতে হয়। বিএনপি জনগণের পাশে ছিলো না বলেই তারা ভোট পায়নি। অপরদিকে, শেখ হাসিনা একজন জনদরদি নেত্রী বলেই তাকে জনগণ ভোট দিয়েছে। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শুরু করেছে। এর আওতায় অবহেলিত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে প্রতিমাসে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশের মাথাপিছু আয় ছিলো ৫৩৬ ডলার। এখন সেটি বেড়ে ২১শ’ ডলারে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাই বিশ্বে একমাত্র নেত্রী যিনি নির্দিষ্ট দিনতারিখ ঠিক করে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করছেন। শুধু শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এটি সম্ভব।

বিএনপি নেত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং এবং একটি দলের সভানেত্রী। অথচ তিনি দুর্নীতির দায়ে আজ জেল খাটছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, যাদের আসলে পরিবারে বোঝা মনে হতো কিন্তু তারা যে মোটেও পরিবারের বোঝা নন বরং সমাজেরই অংশ; এটি বোঝানোর জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বয়স্ক, বিধবা ও অসুস্থ প্রতিবন্ধী ভাতা উপহার স্বরূপ আপনাদের দিয়েছেন।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এসএম আলী আহসান, উপ সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা, বিধবা ভাতাভোগী রাশেদা বেগম ও বয়স্ক ভাতাভোগী শেখ আব্দুল হক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফরিদপুর সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮৭১ জন ভাতাভোগীর মাঝে ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৮শ’ টাকা ভাতা বাবদ প্রদান করা হয়। এরমধ্যে বয়স্ক ও বিধবা ভাতাপ্রাপ্তগণ প্রতি মাসে ৫শ’ টাকা করে এবং অসুস্থ শারীরিক প্রতিবন্ধীরা প্রতিমাসে ৭শ’ টাকা করে ভাতা পান। বর্তমানে ফরিদপুর সদর উপজেলায় ১১ হাজার ৮শ’ ৬৯ জন বয়স্ক ভাতা, ২ হাজার ১শ’ ৮৫ জন বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা এবং ২ হাজার ৬শ’ ৭৮ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এ বাবদ তাদের মাঝে এ বছর ৮ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার ৬শ’ টাকা প্রদান করা হবে।

উৎসঃ ‌‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন!


দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন! কি! অবাক হচ্ছেন?

আজ অধিকাংশ জাতীয় পত্রিকায় ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্য সনাক্তকরণের (রেডিক্যাল ইন্ডিকেটর) নিয়ামকসমূহ’ নামে একটি পোষ্টার ছাপানো হয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের জন্য কিছু লক্ষণের কথা বলা হয়েছে। যে লক্ষণগুলো দেখলে তাকে জঙ্গি হিসেবে সন্দেহ করা যাবে। সেই সন্দেহের মধ্যে ইসলামের আবশ্যক পালনীয় দাড়ি রাখা, টাখনুর উপর কাপড় পড়াসহ বেশ কিছু লক্ষণকে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পোষ্টারে উল্লিখিত জঙ্গি লক্ষণের মধ্যে রয়েছে- ধর্ম চর্চার প্রতি ঝোঁক; গায়ে হলুদ, জন্মদিন পালন, গান বাজনা ইত্যাদি থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা; মিলাদ, শবেবরাত, শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনা করা ইত্যাদি।

পূর্বে এ ধরণের পোষ্টার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক প্রচারিত হলেও আজকের পোষ্টারটির নিচে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের নামে প্রকাশ করা হয়েছে। জানা যায়, ধর্মনিরপেক্ষতার স্লোগানকে ধারণ করে গত বছরের জুলাই মাসে এই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ হলো একটি কথিত অসাম্প্রদায়িক সংগঠন। এর আহবায়ক হলো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দোপধ্যায়। সংগঠনটির সাথে আছেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এছাড়াও আছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আবেদ খান, শামীম মো. আফজাল প্রমুখ। 😡

জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার ৪টি ধাপের কথা বলা হয়েছে পোষ্টারে। তার প্রথম ধাপেই রয়েছে- তাওহীদ, শিরক, বেদাত, ঈমান, আকীদা, সালাত, ইসলামের মূলনীতি, দাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা।

এদিকে ইসলামের মৌলিক রীতি নীতিকে জঙ্গিবাদের লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধর্মীয় আলেম ও ওলামারা। তারা এসব বিষয় জঙ্গিবাদের লক্ষণ থেকে অপসারণের দাবি জানান।

তবে ইসলামের মৌলিক কিছু বিষয়কে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরে বিতর্কিত কাজ করলেও সত্যিকারের কিছু জঙ্গি লক্ষণও তুলে ধরা হয়েছে পোষ্টারে। যেমন- ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকৃত নামে রেজিষ্ট্রেশন না করা; কুরআন হাদিসের অরিজিনাল কপি না পড়ে অনলাইন থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া; টার্গেট কিলিং, জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করা, অস্ত্র গোলাবারুদ সংগ্রহ ও ব্যবহার করা ইত্যাদি।

এইরকম ইসলামোফোবিক প্রকাশনা কোন অমুসলিম দেশেও সম্ভব না। সম্ভব হলো কেবল একমাত্র দিল্লীর সরকারের মদদপুষ্ট ও সমর্থিত আওয়ামীলীগ সরকারের দেশে।

উৎসঃ ‌‌নতুন দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌হুমায়ন আজাদের মৃত্যুর জন্য মাওলানা সাঈদী দায়ীঃ শাহরিয়ার কবির


একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, হুমায়ন আজাদের মৃত্যুর জন্য মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী দায়ী।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন শাহরিয়ার কবির।

তিনি বলেন, সাঈদীর কোন বিচার হল না। তার ওয়াজে সুস্পষ্ট ভাবে হুমায়ন আজাদের বিষয়ে কুৎসা করা হয়েছে। দুষ্কৃতিকারীরা তার ওয়াজ শুনে অনুপ্রাণিত হয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমি একটি কথা খোলামেলা ভাবেই বলতে চাই, আইএস, আলকায়দা, জামায়াতে ইসলাম সব একই সূত্রে গাঁথা ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। এরা জঙ্গিবাদের জন্য দায়ী।

শাহরিয়ার কবির বলেন, আমরা যদি চুনোপুঁটি না হতাম তবে আমাদেরকে যারা হত্যার হুমকি দিচ্ছে, তাদের অবশ্যই আইন শৃঙ্খলাবাহিনী গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করেই তিনি বলেন, আমরা কি দেখতে পাই শেখ হাসিনাকে কেউ কোন কটূক্তি করার সঙ্গে সঙ্গে অজপাড়া গ্রাম থেকেও গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হয়।

অথচ আমাদের মত চুনোপুঁটি মানুষদের হত্যার হুমকি দেওয়ার পর কার্যত কোন ব্যবস্থা না নেওয়া দুঃখজনক। এটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়। আমরাও তো মানুষ? সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছাড়ানোর অপচেষ্টায় এসব হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমার মত যারা মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক কথা বলে বিশেষ করে মামুন, জাফর ইকবাল, সুলতানা কামাল ছাড়াও এমন ১৫০ লোককে হত্যার হুমকি প্রতিনিয়তই দেওয়া হচ্ছে।

উৎসঃ ‌‌bangladeshtoday

আরও পড়ুনঃ ‌২০২০ সাল মুজিব বর্ষ, ‘২১ সাল ডিজিটাল বর্ষ এবং ‘২২ সাল হাসিনা বর্ষ: পলক


সিংড়ার মাটিতে আগামী ২০২০ সালে শেখ মুজিব বর্ষ, ২০২১ সালে ডিজিটাল বর্ষ এবং শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিবস উপলক্ষে আগামী ২০২২ সালে শেখ হাসিনা বর্ষ উদযাপনের ঘোষণা করলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাড জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি।

শুক্রবার বিকালে সিংড়া পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সাধারণ সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পরপর ৩টি বর্ষ উদযাপনের এই ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড ওহিদুর রহমান শেখকে আহ্বায়ক করে তৃণমুল নেতা কর্মীদের নিয়ে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট মুজিব বর্ষ উদযাপন কমিটি গঠন করার আহবান জানান। প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ‘ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না। আর দেশ স্বাধীন না হলে আমরা চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী হয়ে এভাবে দেশ সেবার সুযোগ পেতাম না। তাই আমরা আগামী ২০২০ সালে সিংড়ার মাটিতে জাঁকজমকপুর্ণ ভাবে মুজিব বর্ষ উদযাপন করবো। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে ডিজিটাল বর্ষ এবং তার পরের বছর মুজিক কন্যা শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্ম দিবস উপলক্ষে শেখ হাসিনা বর্ষ উদযাপন করবো।’

তিনি বলেন, ‘এই ৩ টি বর্ষ উদযাপনের জন্য আমাদের সবার প্রস্তুত থাকতে হবে ‘

সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কোন অনৈক্য নেই। সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী সংগঠন। আজকের এই রমজান মাসের প্রখর গরমে তৃনমুল নেতা কর্মীদের উপস্থিতিই তাই প্রমাণ করে। আমরা আগামী দিনেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার যে কোন নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালনের জন্য প্রস্তুত আছি ইনশাআল্লাহ।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড ওহিদুর রহমান শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আগে বক্তব্য রাখেন সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান, উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক, উপজেলা উলামা লীগের সভাপতি মাও আব্দুর শাকুর, মাও আব্দুর বারি রশিদী, মাওলানা সুমনসহ আরও অনেকে।

উৎসঃ ‌‌ইত্তেফাক

আরও পড়ুনঃ ‌‘বর্তমান পার্লামেন্ট জনগণের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’


বর্তমান পার্লামেন্ট জনগণের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় সুতরাং এই পার্লামেন্টে কে গেলো কে গেল না এটা বড় বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান।

তিনি বলেন, ‘দেশে দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র অনুপস্থিত। এই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য বুলেটের চেয়ে শক্তশালী ব্যালটের একটি সুযোগ হয়েছিল গত ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে। কিন্তু সেই সুযোগ আওয়ামী সন্ত্রাসীর পেশি শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছে। ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখে হয়েছে। সুতরাং এই পার্লামেন্টে কে গেলো কে গেল না এটা আমার কাছে বড় বিষয় নয়। এই সংসদ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং দেশে যে জাতীয় সমস্যা চলছে সেই সমস্যা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমেই সমাধান হবে।’

শনিবার (১১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত মজুলম জননেতা মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই মন্তব্য করে নোমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য আজও আমরা লড়াই করছি। উন্নয়নের নামে লুটপাট করছে ক্ষমতাসীনরা। ব্যাংকগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। সরকারের উন্নয়নের রাজনীতি অসার হয়ে গেছে। বরাদ্দের নামে এমপিরা লুটপাট করছে। প্রবৃদ্ধিকেও আওয়ামীকরণ করা হয়েছে।’

গণতন্ত্রবিহীন উন্নয়ন কখনও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করে তিনি। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে বিএনপি সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আমাদের রাজনীতির বিরাট একটি অর্জন। রাজনীতিতে এত অল্প সময়ে গড়ে ওঠা এই ইতিবাচক প্লাটফমটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।জাতীর প্রয়োজনে এটি গঠিত হয়েছে। অন্য দলগুলোকে আরও যোগ করে ঐক্যফ্রন্টকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করতে হবে।’

মওলানা ভাসানীর স্মৃতিস্মারণ করে নোমান আরও বলেন, ‘মওলানা ভাসানী আজীবন শ্রমজীবী ও কৃষিজীবী মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ যাত্রা এটা আমরা প্রথমে মওলানা ভাসানীর কাছেই শিখেছি। তার আদর্শে আনুপ্রাণিত ছিলাম আমরা। এখনও আছি।’

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সংগঠনের নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক জসিম উদ্দীন আহমেদ, মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, জহির উদ্দীন স্বপন, কৃষকদলের সদস্য লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উৎসঃ ‌‌jagonews24

আরও পড়ুনঃ ‌ঈদের আগেই বেগম জিয়াকে মুক্তি দিন: সরকারকে জাফরুল্লাহ


সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্র‌তিষ্ঠাতা ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ব‌লে‌ছেন, ‘আগামী ঈদুল ফিতরের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করছি। তাঁকে দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে জামিন দেয়া দরকার। খালেদাকে মুক্তি দিলে দেশে গণতন্ত্র ফি‌রে আস‌বে, দে‌শে শা‌ন্তি ফি‌রে আস‌বে।’

শনিবার (১১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত মজুলম জননেতা মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপ‌তির বক্তব্য তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে যেখানে খুন, গুম হত্যা, ধর্ষণ অহরহ চলছে। স্কুলের ছাত্রীরা এমনকি মাদরাসাছাত্রীরাও রাস্তাঘাটে চলতে পারছে না। শুধু তাই নয়, নার্সরা পর্যন্ত নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিরাপদে নির্ভয়ে রাস্তায় চলাচল করতে পারি না। গাড়ি এসে চাপা দিয়ে যায়। এর থে‌কে দে‌শের জনগণ মু‌ক্তি চায়। একটু শা‌ন্তি‌তে নিরাপ‌দে রাস্তায় চল‌তে চায় মানুষ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আপনি এখন বড় বিপদে আছেন। আপনি দেশের সবচেয়ে বড় ঋণ খেলাপিদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ফলে দেশে আজ সুশাসন নেই, ব্যাংকগুলো খেলাপি হচ্ছে, শেয়ারবাজারে ধস নামছে।’

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে ২০২০ সালে স্ট্যাচু অব লিবার্টি আদলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন করা হবে। এটা করা হলে বঙ্গবন্ধু হাসবেন না কাঁদবেন সেটা ভেবে পাই না। কারণ বঙ্গবন্ধুর গুরু মওলানা ভাসানীকে বাদ দিয়ে এটা করা কি ঠিক হবে? ভাসানী বেঁচে থাকলে বলতেন দেশের জনসাধারণ নিয়ে ভাবো।’

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী ব‌লেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছেন, আপনি বিদেশে চিকিৎসা নেবেন না। দেশে চিকিৎসা নেবেন এবং ১০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছি‌লেন। কিন্তু চোখের অপারেশনের জন্য বিদেশে গেলেন। আশা করি আপনার চোখ ভাল হয়ে যাবে। তবে বিদেশে যে অপারেশন করলেন সে অপারেশন বাংলাদেশেও করানো যেত। আসলে কেউ কথা দিয়ে কথা রাখে না।’

‌তি‌নি ব‌লেন, ‘আপনার চোখের যে অপারেশনটা করিয়েছেন ওটা আমিও করিয়েছি। দে‌শে আমার সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আপনার কত খরচ হ‌য়ে‌ছে এটা দেশে এসে কি হিসাবটা দেবেন?’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সংগঠনের নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক জসিম উদ্দীন আহমেদ, মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, জহির উদ্দীন স্বপন, কৃষকদলের সদস্য লায়ন মিয়া মো:আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌অবরুদ্ধ খালেদা জিয়াকে যেভাবে নিরাপত্তা দিয়েছিল জামায়াত!


শিরোনামটা দেখে আপনার কাছে নিশ্চয় অদ্ভুত মনে হচ্ছে। আর বিষয়টি অদ্ভুত মনে হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, খালেদা জিয়া এদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সবচেয়ে বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। শেখ হাসিনা প্রতিদিন তাকে দুর্নীতিবাজ, অশিক্ষিত ও খুনি বলে গালি দিলেও আসলে খালেদা জিয়াই এদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। সরকারের বাইরে থেকেও তিনি যথেষ্ট নিরাপত্তা পেয়েছেন। পুলিশ ছাড়াও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীও রয়েছে। এছাড়া দলীয় লোকজনতো আছেনই। এরমধ্যে আবার জামায়াতকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা দিতে হবে কেন? আর খালেদা জিয়াও জামায়াতের নিরাপত্তা নেবে কেন? এমন প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।

বিষয়টা একটু খোলাসা করলেই সব প্রশ্নের জবাব পাঠকরা পেয়ে যাবেন। খালেদা জিয়ার একটা বিশেষ ক্রাইসিস মুহূর্তে পর্দার আড়াল থেকে নিরাপত্তার দিকটাসহ সার্বিক খোঁজ খবর রাখতেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। সময়টা ছিল ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা ৩ মাস অবরোধের সময়। ওই সময় খালেদা জিয়া তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় টানা অবরোধের ঘোষণা দেয়ার পর ওই দিন প্রেসক্লাবে ঢুকে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরের দিন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতারা তাকে প্রেসক্লাব ছাড়তে বাধ্য করেন। প্রেসক্লাবের গেট থেকে মির্জা ফখরুলকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর ক্রমান্বয়ে বিএনপির আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে আটক করে পুলিশ। আর বাকীরা চলে যায় আত্মগোপনে। তবে, খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে অবরোধ সফল করতে মাঠে নেমে আসে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর মাঠে নামার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। তারা শুধু খালেদা জিয়ার ঘোষণার অপেক্ষা করছিল।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে যখন সারাদেশ উত্তাল, তখন গুলশানের কার্যালয়ে আটকা পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতাকর্মীরা তখন গুলশানের কার্যালয়ে প্রবেশ করাতো দূরের কথা গুলশানের কোনো রাস্তায় তারা নামতে পারেনি। তখন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য কেউ গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেনি।

ওই সময় দেখা গেছে, অবরোধের তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের উত্তর পাশের সড়কের পূর্ব মাথায় স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে অন্য আরেকটি গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ওই গ্রপটির পরিচয় জানা না গেলেও পরে জানা গেছে তারা জামায়াত-শিবিরের লোক ছিল।

যেভাবে নিরাপত্তায় ছিল জামায়াত

টানা অবরোধের সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাওয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার অফিসে কয়েক দফা হামলাও চালানো হয়েছে। এমনকি একজন মুক্তিযোদ্ধা অস্ত্র হাতে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের গেটের সামনে গিয়ে খালেদা জিয়াকে গালাগালি করেছেন। র‌্যাব-পুলিশসহ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে। এমন আরও বহু ঘটনা তখন ঘটেছে।

তবে, প্রতিদিন কারা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে যেতো, সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা গুলশান কার্যালয় ঘেরাও করতে গিয়ে কখন কোন সড়কের কোথায় অবস্থান নিতো সব খবরই রাখতেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন লোক পালা বদল করে সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়ে সামনে অবস্থান করতেন। জামায়াতের একটি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক ওই এলাকায় অবস্থান করতো।

বিষয়টিকে সরাসরি তদারকি করতেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল। আর স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করতেন বাড্ডা, গুলশান ও বনানী এলাকার জামায়াতের ৬ জন দায়িত্বশীল। বিশেষ কারণে- এখানে ওই ছয়জনের নাম উল্লেখ করা গেল না।

দেখা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান যেদিন দল বল নিয়ে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করার জন্য গিয়েছিলেন সেদিন গুলশানের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মীকে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। কথা বললে একজন জানিয়েছিলেন, তারা উপরের নির্দেশে এসেছেন। কেউ যদি খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা করে তাহলে তারাও প্রতিরোধ করবেন। এভাবে তারা পুরো তিন মাস নিজেদের লোক দিয়ে গুলশান এলাকার সব খবর নিতেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্যও প্রস্তুত থাকতেন।

পরবর্তীতে স্থানীয় একজন সমন্বয়কের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান- খালেদা জিয়া তাদের জোটের শীর্ষনেতা। তিনি শুধু গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার আদায়ের জন্যই আজ সরকারের রোষানলের শিকার। জোটের অন্যতম শরিক হিসেবে তার বিষয়টি দেখাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তার প্রতি ভালবাসা, বিশ্বাস এবং আস্থা থেকেই আমরা এ ব্যবস্থা নিয়েছিলাম।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌‘ বাংলাদেশে এর চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীতে ছিল বলে জানা নেই’


বলা হচ্ছে দেশ উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু এই উন্নতির অন্তরালে মানুষ আর্তনাদ করছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের কোনো মানুষ নিরাপদে নেই। এমন অনিরাপদ অবস্থা আমরা ৭১ সালেই দেখেছিলাম। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে ধর্ষণ। এসব অন্যায় রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির আয়োজনে ‘শ্রমিক আন্দোলনের একাল সেকাল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

দৃশ্যমান দুর্ভিক্ষ না থাকলেও দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে দাবি করে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আজকে দেশে যে রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে, তার চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীত ইতিহাসে ছিল কি না আমার জানা নেই। আমরা দুর্ভিক্ষ দেখেছি যে দুর্ভিক্ষে অনেক মানুষ মারা গেছে। কিন্তু আজকে বাংলাদেশে দৃশ্যমান কোনো দুর্ভিক্ষ না থাকলেও নীরব দুর্ভিক্ষ আছে।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই শিক্ষাবিদ। বলেন, ‘আমরা দেখেছি, নুসরাত জাহানের ঘটনার সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা জড়িত ছিল এবং সবাই মিলে প্রমাণ করতে চাইল যে নুসরাত আত্মহত্যা করতে চেয়েছে। ইতিমধ্যে একজন নার্সকে বাসের মধ্যে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো।’

তিনি কথা বলেন দেশের আাইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতি নিয়েও। বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন মুক্তিযুদ্ধের ভুয়া সনদে পদোন্নতি নিতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন। অথচ যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে তারাই যদি দুর্নীতি করে তাহলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা কী তা সহজে অনুধাবন করা যাচ্ছে। আমরা পুঁজিবাদের অধীনে দাস হয়ে রয়েছি। এ ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে রাষ্ট্রের মালিক শ্রেণির সঙ্গে শ্রমিক শ্রেণির যে শোষণের সম্পর্ক তা ভেঙে দিতে হবে। বিপ্লবের মাধ্যমে পুরনো রাষ্ট্রকে ভেঙে এমন রাষ্ট্র করতে হবে, যে রাষ্ট্র মানবিক হবে, যেখানে নারী ধর্ষিত হবে না, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের নামে প্রতারণা করবে না কেউ।’

আলোচনা সভায় শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী এবং শাহ আতিউল ইসলামকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ ‌২০ দলীয় জোট রক্ষায় কত জীবন ও রক্ত দিয়েছে জামায়াত?


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্যই ১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট। এই জোট গঠনে মূলত মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে তখন গঠিত হয়েছিল ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলসহ আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য।

চারদলীয় জোট আর সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের আন্দোলনের মুখে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। তখন থেকেই মূলত আওয়ামী লীগ ও ভারত আস্তে আস্তে জামায়াতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ২০০১-৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে ব্যাপক অপপ্রচার চালায় আওয়ামী লীগ। এছাড়া, বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার কারণে জামায়াতের ওপর একটা চরম প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগের অপেক্ষায় থাকে আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙ্গার কাজে হাত দেয় আওয়ামী লীগ। এজন্য প্রথমেই তারা ২০১০ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আর ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এদেশে সবার আগে মাঠে নামে জামায়াত। সেজন্য ভারতের পক্ষ থেকেও জামায়াতকে দুর্বল করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

এদিকে, জামায়াত যখন বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে না আসার সিদ্ধান্তে অটল থাকে তখনই সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত মামলায় জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে আটক করে।

ওই সময় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কথিত মামলায় গ্রেফতারের পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদেরকে বলা হয়েছে যে, বিএনপি থেকে আপনারা বেরিয়ে আসলে আপনাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। অন্যথায় যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হবে। কিন্তু, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখন সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি। দল এবং তাদের জীবন ঝুকির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার পরও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন।

এরপরই শুরু হয় একের পর এক শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাদের মামলা। সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয় শীর্ষনেতাদেরকে। চরম মিথ্যাচার ও বানোয়াট সাক্ষীর মাধ্যমে তারা প্রথমেই অন্যায়ভাবে বিচারের নামে হত্যা করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মোল্লাকে। জানা গেছে, আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার আগেও সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপি জোট ছাড়ার জন্য জামায়াতকে বলা হয়েছে। কিন্তু জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখনো কোনো আপোস করেননি।

এরপর একে একে হত্যা করা হয়েছে জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে। সকলকে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেও যখন বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করতে পারেনি তখন সরকার জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি, নিবন্ধন বাতিলের আগেও সরকার জামায়াতকে বলেছিল বিএনপি ছাড়ার জন্য।

আর জোটে থাকার কারণেই যে সরকার জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়েছে সেটা বিএনপিও বুঝতে পেরেছে। খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতা ওই সময় প্রায় প্রতিদিনই বলতেন যে, শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণেই জামায়াত এখন যুদ্ধাপরাধী। বিএনপি জোট থেকে জামায়াত চলে গেলেই সরকার তাদের ওপর আর নির্যাতন করবে না। কাউকে ফাসিতেও ঝুলাবে না। বিএনপি নেতা হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাধিক বার বলেছেন যে, ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল তখন তারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আর এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার কারণেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধীর দল হয়ে গেছে।

অপরদিকে, বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে জামায়াত শুধু তাদের শীর্ষনেতা এবং নিবন্ধনই হারায়নি। বিগত ১১ বছর ধরে সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে দলটির সারাদেশের নেতাকর্মীরা। জামায়াত-শিবিরের সহ¯্রাধিক মেধাবী নেতাকর্মীকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রিমান্ডের নামে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। বলা যায়-শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণে সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এখন ঘর ছাড়া। কেউ বাসায় থাকতে পারেনি। বিগত ১১ বছরে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মীর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরিচ্যুত হয়েছেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এত নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও নিজেদের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি জামায়াত।

এখনো জামায়াতের প্রত্যাশা, ২০ দলীয় জোট টিকে থাকবে এবং এই জোটের আন্দোলনের মাধ্যমে একদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে। মুক্ত হবে গণতন্ত্র, মানুষ ফিরে পাবে তাদের মৌলিক অধিকার। অবসান ঘটবে দুঃশাসনের।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌মদ খেয়ে মাতলামি: ক্ষমা চাইলেন আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান


ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির একটি অনুষ্ঠানে হুইস্কি খেয়ে নারীকে জড়িয়ে ধরার জন্য অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন টকশো ব্যক্তিত্ব,আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান। এক নারীকে জড়িয়ে ধরার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এর ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের ফেসবুকে ক্ষমা চান তিনি। জানান, প্রায় ৫ বছর পর হুইস্কি খাওয়ায় তিনি অজান্তে এই মাতলামি করে ফেলেন। এজন্য তিনি ক্ষমা চান।

নাঈমুল ইসলামের ফেসবুক পোষ্টটি নতুন দিগন্তের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

“নাসিমা খান মন্টির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টির কাছে আমি নাঈমুল ইসলাম খান নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। গত ২ মে বৃহস্পতিবার ওয়েস্টিন হোটেলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি অত্যন্ত অনভিপ্রেত, অন্যায় করেছি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ উপর্যুপরি অনুরোধ করলে আমি ঈষৎ গরম পানি দিয়ে ২ পেগ হুইস্কি পান করি। ৫ বছরেরও বেশি সময় পর প্রায় অনভ্যস্ততার পর্যায়ে ২ পেগ হুইস্কি সম্ভবত আমাকে বেসামাল করে ফেলে। এমন ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘরের আলো আধারি মোহনীয় পরিবেশে আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টিকে কখন যে আমি জড়িয়ে ধরে আমার কাছে টেনে নিয়েছি তখন বুঝতে পারিনি।

কিন্তু উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরদিন শুক্রবার দিন শেষে ঘূর্ণিঝড় ফণী যেভাবে বাংলাদেশে ঝড়বৃষ্টি নিয়ে এসেছে, প্রায় তেমনিই আমার এই অসদাচরণের ছবি ঝড়ো হাওয়া ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অনেক ছবির মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে আমি নাসিমা খান মন্টিকে জড়িয়ে অনেকখানি আমার দিকে কাত করে ফেলেছি। কয়েকটি ছবি বিশ্লেষণে এটা পরিস্কার যে, নাসিমা খান মন্টিকে আমি সম্ভবত নিশানা করে বার বার জড়িয়ে ধরেছি, বিরক্ত করেছি। মন্টির বিনা অনুমোদন এবং বিনা আগ্রহে আমার এই আচরণ খুবই অনুচিত হয়েছে সেটা এখন আমি উপলব্ধি করি।

আত্মপক্ষ সমর্থনে আমার কিছুই বলার নেই। একটি সুন্দর অনুষ্ঠানকে এভাবে অনেকের জন্য অস্বস্তিকর করে তোলায় আমি যারপরনাই লজ্জিত। এমন ঘটনার পুনরাবৃতি যেন না হয় সে জন্য আমি সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

আপনাদের পক্ষে সদয় বিবেচনা করে আমাকে ক্ষমা করা যেন সহজ হয় তার সুবিধার্থে সেই রাতের, সেই ঘটনার কিছু দালিলিক ছবি এখানে যুক্ত করা হচ্ছে।”

উৎসঃ ‌‌দেশ রুপান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here