সিঙ্গাপুর হয়ে উঠছে বাংলাদেশীদের কালো টাকার গন্তব্যস্থল

0
290

বৈশ্বিক আর্থিক গোপনীয়তার সূচকে সিঙ্গাপুরের অবস্থান পঞ্চম। দেশটিতে অফশোর আর্থিক সেবার বাজার ক্রমেই বড় হচ্ছে। এশিয়ার শীর্ষ অফশোর ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার হতে হংকংয়ের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা করছে দেশটি। মূলত এশিয়ার দেশগুলোর ক্রমবিকাশমান অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে অফশোর বিনিয়োগের অন্যতম শীর্ষ গন্তব্যও হয়ে উঠেছে সিঙ্গাপুর। একই সঙ্গে হয়ে উঠেছে মুদ্রা পাচার ও কালো টাকার নিরাপদ গন্তব্যস্থলও। এ সুযোগ নিচ্ছে বাংলাদেশীরাও।

সিঙ্গাপুরে রয়েছে নামিদামি অনেক ক্যাসিনো। বেশকিছু ক্যাসিনোর মালিকানায় রয়েছেন বাংলাদেশীরা, যেগুলো কালো টাকার অন্যতম গন্তব্য। এছাড়া সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল হোটেল। ভিআইপি ক্যাসিনো হিসেবে রয়েছে এটির বিশেষ পরিচিতি।

সূত্র বলছে, মেরিনা বে ক্যাসিনোতেই কোটি ডলারের বান্ডিল নিয়ে খেলতে যান এক বাংলাদেশী। তিনি নিজেকে যুবলীগের একজন শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। আলোচিত এ নেতা সিঙ্গাপুরের জুয়ার বোর্ডে প্রতিদিন লাখ ডলারের বান্ডিল নিয়ে বসেন। জনশ্রুতি রয়েছে, জুয়ার বোর্ডে ওড়ানো বিপুল অংকের টাকা তার নিজের উপার্জিত নয়। এ টাকার সবচেয়ে বড় উৎস ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক। তার ছায়ায় ঢাকায় অন্তত ১৫০ জুয়ার স্পট রয়েছে। সেগুলো চালানো হয় সিঙ্গাপুরের ক্যাসিনোর আদলে, যার মাধ্যমে আয় হচ্ছে দৈনিক প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এ টাকার বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে চলে যাচ্ছে সিঙ্গাপুরে।

জানা গেছে, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকও কয়েকটি ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ না করে তা সিঙ্গাপুরে পাচার করেছেন। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও পরিচালকরাও অর্থ পাচারের জন্য সিঙ্গাপুরকে বেছে নিচ্ছেন। আর্থিক গোপনীয়তার সুযোগ নিয়ে দেশটিতে অর্থ পাচার করছেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের ব্যবসায়ীরাও।

আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের মাধ্যমেও সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটছে। উচ্চমূল্যে আমদানি দেখিয়ে দেশটিতে অর্থ পাচার করছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি আমদানি-রফতানির অন্যতম রুট হওয়ায় ব্যবসায়ীদের নিত্য গন্তব্য হয়ে উঠেছে সিঙ্গাপুর। গার্মেন্ট বা টেক্সটাইলের মেশিনারিজ আমদানির জন্যও দেশটিতে যেতে হয় ব্যবসায়ীদের। এ সুযোগ কাজে লাগিয়েও অনেকে দেশটিতে অর্থ স্থানান্তর করেন।

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশীদের যাতায়াত বাড়ায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে এ রুটের এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যেও। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। পাশাপাশি মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ও এয়ার এশিয়াও ঢাকা-সিঙ্গাপুর রুটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করছে। চিকিৎসা, ব্যবসা ও পর্যটনের নামে বাংলাদেশীরা সিঙ্গাপুরে গেলেও এদের অনেকেই ক্যাসিনোয় জুয়া খেলেন এবং অর্থ পাচার করেন।

এসবই তারা করছেন দেশটির আর্থিক গোপনীয়তা আইনের সুযোগ নিয়ে। সিঙ্গাপুর এ গোপনীয়তা সুরক্ষার কাজটি শুরু করে নব্বইয়ের দশকে আর্থিক বাজার ও ব্যাংকিং খাত উদারীকরণের মধ্য দিয়ে। মূলত ওই সময়ের পর থেকেই দেশটিতে তহবিল ব্যবস্থাপনা, ট্রেজারি অপারেশন, বীমা, ইকুইটি মার্কেট, ডেট ইন্স্যুরেন্স, করপোরেট ফিন্যান্সিংসহ আর্থিক খাতের বিভিন্ন অংশের বাজার সম্প্রসারণ হতে থাকে। এ উদারীকরণ আরো জোরালো হয় ২০০১ সালের আর্থিক গোপনীয়তার নীতিমালাকে আরো কঠোর করে তোলার মধ্য দিয়ে। এজন্য সংশোধন করা হয় ব্যাংকিং আইন। সিঙ্গাপুরে গোপনীয়তার আইন লঙ্ঘনের শাস্তি হলো তিন বছরের জেল। ২০০৪ সালে ট্রাস্ট আইনে সংশোধন করার মধ্য দিয়ে কালো টাকার নিরাপদ গন্তব্য করে তোলা হয় দেশটিকে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্র্যাকটিশনারদের ভাষ্য হলো, অন্যান্য দেশের সঙ্গে আর্থিক খাতের তথ্য বিনিময়ে কোনো চুক্তি করা হলেও স্থানীয় আদালতেই বিশেষ সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে তাতে ভারসাম্য নিয়ে আসা হয়। আদালতের এ বিশেষ সুবিধার কারণে অন্যান্য দেশের কর্তৃপক্ষের জন্য আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য বের করে আনাটাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে এ-সংক্রান্ত কিছু সংস্কার করা হয়। এর পরও কালো টাকার স্বর্গ হয়ে উঠেছে দেশটি, যার অন্যতম কারণ হলো আর্থিক গোপনীয়তার নীতি। এ গোপনীয়তা রক্ষায় বেশকিছু সেবা প্রচলিত রয়েছে সিঙ্গাপুরে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দেশটিতে প্রচলিত প্রাইভেট ট্রাস্ট কোম্পানি (পিটিসি) ব্যবস্থার কথা। এটি মূলত আর্থিক লেনদেনে গোপনীয়তা রক্ষা করে চলা ট্রাস্টগুলোর ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় এক প্র্যাকটিশনারের ভাষ্যমতে, একটি পিটিসির কাজ হলো ধনী ব্যক্তিদের ‘ট্রাস্টের ওপর উচ্চমাত্রার নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতা’ বজায় রাখার সুযোগ করে দেয়া। সিঙ্গাপুরের অধিবাসী নয়, এমন কেউ যদি অন্য কোনো দেশ থেকে কোনো ধরনের আয় নিয়ে আসে; তাহলে তার কোনো ধরনের কর পরিশোধ করতে হয় না।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশ থেকে দেশটিতে অর্থ পাচার হচ্ছে এবং তা ফিরিয়ে আনার নজিরও আছে। বিএনপি চেয়াপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা ২০১২ সালে ফেরত আনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মূলত সিঙ্গাপুরে পাচার হওয়া কোকোর অর্থের লভ্যাংশ হিসেবে এ টাকা ফেরত আনে দুদক। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ফেরত আনা হয় আরো ৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

সিঙ্গাপুরে পাচার হওয়া কোকোর টাকা ফিরিয়ে আনতে দুদকের পরামর্শক হিসেবে কাজ করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ফেরদৌস আহমেদ খানের প্রতিষ্ঠান অক্টোখান। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ১৯৪৭ সালের ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট ও ২০১৭ সালের মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনের সামঞ্জস্য নেই। ফলে দেশের ব্যবসায়ীরা বিদেশে তাদের ব্যবসা প্রক্রিয়াকে সহজ করতেই বৈধ আয়ের একটি অংশ সিঙ্গাপুরের ব্যাংকিং চ্যানেলে রাখছেন। যদি কেউ তার ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে অবৈধ কিছু না করেন, তাহলে সিঙ্গাপুরে আধুনিকতম ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা সে সুযোগই নিচ্ছেন। তাদের গচ্ছিত অর্থই যে কালো টাকা সেটি নয়। বরং দেশের আইনের প্রতিবন্ধকতার কারণেই তারা সে দেশে তাদের আয়ের অর্থ রাখছেন। এজন্য দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মিলিয়ে এ খাতের প্রচলিত আইন সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বড় ব্যবসায়ীদের অনেকে বিভিন্ন দেশে আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করেছেন। সেখান থেকেই মূল ব্যবসা পরিচালনা করছেন তারা। আর আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনে প্রথম পছন্দ হিসেবে তারা বেছে নিচ্ছেন সিঙ্গাপুরকে। যদিও অভিযোগ আছে, অর্থ পাচারের নতুন উপায় হিসেবে বিভিন্ন দেশে আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করছেন ব্যবসায়ীরা। এর মাধ্যমে আমদানি-রফতানিতে মূল্য বেশি ও কমের মাধ্যমে অর্থ পাচার করছেন। সুইজারল্যান্ডের আইন শক্ত হওয়ায় সেখানে টাকা রাখতে গেলে প্রশ্ন করা হয়। এ কারণে দেশটিতে টাকা পাচারে ধীরগতি আসছে। তবে সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের ভূমিকায় সিঙ্গাপুরকে দেখা যাচ্ছে। সেখানে টাকা রাখতে গেলে প্রশ্ন করা হয় না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশই হুন্ডির মাধ্যমে দেশে ঢুকছে। এসব দেশে বুথ খুলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে সংঘবদ্ধ চক্র। এ চক্রের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ আছে বাংলাদেশের বড় ব্যবসায়ীদের। বাংলাদেশী প্রবাসীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের গন্তব্য আগে সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপ-আমেরিকার দিকে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দিক পরিবর্তিত হয়েছে। এখন দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থেরও বড় অংশ সিঙ্গাপুরে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নজরেও রয়েছে বিষয়টি।

উৎসঃ বণিক বার্তা

আরও পড়ুনঃ ৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধের কোন সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি বিটিআরসিঃ বিবিসির প্রতিবেদন

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা- বিটিআরসি দেশের ৫৮টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।

রবিবার বিকালে দেশের ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি)-কে বিটিআরসি লিখিতভাবে এই নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানান ইন্টারনেট সেবা সংস্থাগুলোর সংগঠন আইএসপির মহাসচিব ইমদাদুল হক। খবর বিবিসির।

রোববার বিকালে দেশের ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি)-কে বিটিআরসি লিখিতভাবে এই নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানান ইন্টারনেট সেবা সংস্থাগুলোর সংগঠন আইএসপির মহাসচিব ইমদাদুল হক।

যেসব পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ এসেছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: প্রিয় ডটকম, রাইজিংবিডিডটকম, পরিবর্তনডটকম, শীর্ষনিউজ২৪ডটকম, ঢাকাটাইমস২৪ডটকম ইত্যাদি।

“রাষ্ট্রবিরোধী সেইসঙ্গে অশ্লীল খবর প্রচারের কারণে পোর্টালগুলোর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে,” – বিবিসি বাংলাকে এমনটাই জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক।

তবে কোন পোর্টালের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ এসেছে – সেটা তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কিছুই বলেননি।

কী কারণে পোর্টালগুলোর বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে – সে ব্যাপারে আইএসপির মহাসচিব ইমদাদুল হকও স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি।

বিবিসিকে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে কেবল নির্দেশনা এসেছে, সেখানে কোন কারণ উল্লেখ করা হয়নি।”

মি. হক বিবিসিকে জানান, বিটিআরসির পক্ষ থেকে গতকাল বিকেলে তাদের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে ওই ৫৮টি সাইট বন্ধের নির্দেশ আসে।

তারপর থেকে তারা সেই সিদ্ধান্ত কার্যকরের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তবে আজ দুপুর পর্যন্ত ওই তালিকার বেশিরভাগ পোর্টাল সক্রিয় অবস্থায় দেখা যায়।

এ ব্যাপারে মি. হক জানান, “এতোগুলো পোর্টাল বন্ধ করা টেকনিক্যালভাবে জটিল। তাই এই কাজ কিছুটা সময় সাপেক্ষ।”

তবে আজ রাতের মধ্যেই তালিকাভুক্ত সব পোর্টাল পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে বলে জানান তিনি।

অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করা হয় কেন?

সাধারণত কোন সংবাদমাধ্যম যদি রাষ্ট্রবিরোধী কিছু প্রচার করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়।

“সেই সিদ্ধান্ত দেশের জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র-এনটিএমসি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে নিয়ে থাকে,” জানান মি. হক।

তিনি বলেন, “এসব সাইট বন্ধের ক্ষেত্রে বিটিআরসি সরাসরি কোন নির্দেশনা দেয়না। সিদ্ধান্ত মূলত এনটিএমসি নিয়ে থাকে। যেখানে আর্মি পুলিশ যৌথভাবে পোর্টালগুলো পর্যবেক্ষণ করে।”

পোর্টালের সম্পাদকরা ‘হতাশ’

এ ঘটনায় তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রিয় ডটকমের সম্পাদক জাকারিয়া স্বপন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, “এই পোর্টাল বন্ধের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি।”

মি. স্বপন বলেন, “আমি সকালে এসে দেখি পোর্টাল চলছে না, বন্ধ হয়ে গেছে। এমনটা কেন হল, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী – কিছুই জানিনা।”

“আমরা হতাশ, হেল্পলেস।”

এ ঘটনাকে “সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বড় বাঁধা” বলে মনে করছেন তিনি।

এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে জনবল কাজ করছে তাদের ভবিষ্যত নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন জাকারিয়া স্বপন।

উৎসঃ বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুনঃ জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকাসহ ৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি!

পরিবর্তন, প্রিয়, ঢাকাটাইমস২৪, রিপোর্টবিডি২৪, শীর্ষনিউজ ও রাইজিংবিডি ডটকম সহ ৫৮ টি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এসব ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটও রয়েছে।

এসব পোর্টাল বন্ধে রোববার সব ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ সংস্থা এবং আন্তার্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়েকে (আইআইজি) চিঠি দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ সংস্থার মহাসচিব মো. ইমদাদুল হক বলেন, বোরবার বিকালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন সরকারের পক্ষ থেকে এসব ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়ার জন্য একটি চিঠি দেয়া হয়েছে।

বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব ওয়েবসাইট থেকে বিভ্রান্তিকর কিছু তথ্য দেওয়া হচ্ছিলো।

বন্ধ করার নির্দেশে থাকা ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে অনেকগুলো লাইসেন্সকৃত বৈধ জনপ্রিয় নিউজসাইটও রয়েছে।

বন্ধের নির্দেশ পাওয়া সাইটগুলো হলঃ

প্রিয়ডটকম-https://www.priyo.com

বিএনপিবাংলাদেশডটকম- http://bnpbangladesh.com

রাইজিংবিডিডটকম- http://risingbd.com

পরিবর্তনডটকম- http://poriborton.com

রিপোর্টবিডি২৪ডটকম- https://reportbd24.com

শীর্ষনিউজ২৪ডটকম- http://sheershanews24.com

ঢাকাটাইমস২৪ডটকম- http://www.dhakatimes24.com

বিডিপলিটিকোডটকম- https://bdpolitico.com

পেজনিউজ২৪ডটকম- http://pagenews24.com

রেয়ারনিউজ২৪ডটকম- http://www.rarenews24.com

বিএনপিনিউজ২৪ডটকম- http://bnpnews24.com

প্রথমবাংলাদেশডটনেট- https://www.prothombangladesh.net

ডেইলিআমারদেশডটএক্সওয়াইজেড- http://dailyamardesh.xyz

ডিএনএনডটনিউজ- http://dnn.news

রাজনীতি২৪ডটকম- http://www.razniti24.com

আরবিএন২৪ডটকোডটইউকে- http://www.rbn24.co.uk

সংবাদ২৪৭ডটকম- http://www.sangbad247.com

দেশভাবনাডটকম- http://deshbhabona.com

আমারদেশ২৪৭ডটকম- http://amardesh247.com

অ্যানালাইসিসবিডিডটকম- http://www.analysisbd.com

আওয়াজবিডিডটকম- https://www.awaazbd.com

বদরুলডটঅরগ- http://www.badrul.org

বিএনপিঅনলাইনউইংডটকম- http://bnponlinewing.com

ইনডটবিএনপিবাংলাদেশডটকম- http://en.bnpbangladesh.com

বিএনপিবাংলাদেশডটকম- http://bnpbangladesh.com

বাংলামেইল৭১ডটইনফো- http://banglamail71.info

এটিভি২৪বিডিডটকম- http://www.atv24bd.com

বাংলাস্ট্যাটাসডটকম- https://www.banglastatus.com

বিবাড়িয়ানিউজ২৪ডটকম- http://www.bbarianews24.com

শিবিরডটঅরগডটবিডি- http://shibir.org.bd

নিউজ২১-বিডিডটকম- http://news21-bd.com

ওয়াননিউজবিডিডটনেট- https://www.1newsbd.net

নিউজবিডি৭১ডটকম- http://newsbd71.com

জাস্টনিউজবিডিডটকম- http://www.justnewsbd.com

এক্সপ্রেসনিউজবিডিডটকম- http://www.expressnewsbd.com

ডেইলিবিডিটাইমসডটকম- http://dailybdtimes.com

ময়মনসিংহনিউজ২৪ডটকম- http://www.mymensinghnews24.com

মূলধারাবিডিডটকম-http://www.muldharabd.com

সিএনএনবিডি২৪ডটকম-http://cnnbd24.com

ডেইলিমিরর২৪ডটকম-http://www.dailymirror24.com

দেশনেত্রীসাইবারফোরামডটকম-http://www.deshnetricyberforum.com

আলাপনডটলাইভ-http://www.alapon.live

দিগন্তডটনেট-https://diganta.net

মোরালনিউজ২৪ডটকম-http://www.moralnews24.com

পত্রিকাডটকম-http://www.potryka.com

দাওয়াহিলাল্লাহডটকম-https://dawahilallah.com

উৎসঃ যুগান্তর, বাংলা নিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ দহন সিনেমায় পেট্রোলবোমার পাশাপাশি লগি-বৈঠার তান্ডব, ব্যাংক লুট, বাকস্বাধীনতা হরণের কথাও তুলে ধরা যেতো!

কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা নুরুল হক নুর তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন যে, নির্বাচনের আগে মুক্তি পাওয়া ‘দহন’ সিনেমায় পেট্রোলবোমার পাশাপাশি লগি-বৈঠার তান্ডব, ব্যাংক লুট বাকস্বাধীনতা হরণের কথাও তুলে ধরা যেতো। কিন্তু উপরতলাকে খুশি রাখার জন্য সেটা করে নি।

নিচে নুরুল হক নুর তার ফেসবুকে দেওয়া পুরো স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলঃ

‘দহন’ সিনেমায় শুধু রাজনীতির পেট্রোলবোমার বিষয়টি তুলে ধরা হলো। লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ মারা, শেয়ারবাজার, ব্যাংক থেকে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট, দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার, হলমার্ক-ডেসটিনি, রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়া হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি, গুম-খুন, আইন করে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ, গণতন্ত্রকে সংকুচিত করা, বাকস্বাধীনতা হরণ, যৌক্তিক, ন্যায়সঙ্গত ও সাংবিধানিক অধিকারের দাবিতে করা আন্দোলন দমাতে রাষ্ট্রীয় বর্বরতা, সচেতন মানুষ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিথ্যা মামলায় জেল-রিমান্ড, নির্যাতন-নিপীড়ন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি, নোংরা রাজনীতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেহালদশা, রাজনৈতিক কর্মসূচির বিনিময়ে হলে থাকার সিট এরকম ২/৪টি ঘটনাকেও কানেক্ট করে তুলে ধরা যেত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সবাই উপরতলাকে খুশি রেখে কাজ করতে চায়।

উৎসঃ নুরুল হক নুরের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট

আরও পড়ুনঃ প্রথমবারের মতো বিএনপিতে নতুন মুখের জয়জয়কারঃ তরুণদের মনোনয়নে প্রাধান্য

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নতুনদের প্রাধান্য দিয়েছে বিএনপি। দলটির ৯৫ জন প্রার্থী প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছেন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে। সবচেয়ে বেশি নতুন মুখ ঢাকা বিভাগে। বিএনপির পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটের শরিক দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের মধ্যেও অনেকেই এবার প্রথম জাতীয় নির্বাচনে লড়বেন।

অনেক জেলায় একজনও পুরনো প্রার্থী পাননি ধানের শীষের টিকিট। প্রার্থী চূড়ান্তকরণে নতুনদের প্রাধান্য দিলেও গুরুত্ব পেয়েছে তাদের স্থানীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা। নতুন প্রার্থীদের অনেকেই অতীতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। কেউ কেউ সেসব পদ থেকে পদত্যাগ করেই অংশ নিচ্ছেন জাতীয় নির্বাচনে।

এক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রমাণিত জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির বিষয়গুলো। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সদ্য পঁচিশ পেরুনো ডা. সানসিলা জেবরিন মনোনয়ন পেয়েছেন শেরপুর-১ আসনে। তরুণ ভোটারদের কাছে টানার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে প্রার্থী চূড়ান্তকরণে। নতুনদের পাশাপাশি অন্তত ১০০জন রয়েছেন যারা অতীতে এক বা একাধিক জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। অনেকেই মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দলটির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যেন প্রার্থীরা ভোটের মাঠে টিকে থাকতে পারে সেজন্য সমন্বয় করা হয়েছে নবীন-প্রবীণ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে অভিজ্ঞদের। এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন ১৬ জন নারী ও ৭ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী।

বিএনপির দলীয় নতুন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড়-১ আসনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ আসনে ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান, দিনাজপুর-২ আসনে সাদিক রিয়াজ, দিনাজপুর-৩ আসনে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, লালমনিরহাট-১ আসনে হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনে রোকনউদ্দিন বাবুল, রংপুর-৬ আসনে সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আজিজুর রহমান, গাইবান্ধা-৪ আসনে ফারুক কবির আহমেদ, গাইবান্ধা-৫ আসনে ফারুক আলম সরকার;

রাজশাহী বিভাগ: জয়পুরহাট-১ আসনে ফজলুর রহমান, বগুড়া-৩ আসনে মাসুদা মোমিন, বগুড়া-৪ আসনে মোশাররফ হোসেন, বগুড়া-৭ আসনে মোরশেদ মিল্টন, নওগাঁ-১ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-৩ আসনে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী, নওগাঁ-৫ আসনে জাহিদুল ইসলাম ধলু, রাজশাহী-৩ আসনে শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, নাটোর-৩ আসনে দাউদার মাহমুদ, নাটোর-৪ আসনে আবদুল আজিজ, সিরাজগঞ্জ-১ রুমানা মোরশেদ কনকচাঁপা, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে আমিরুল ইসলাম খান আলিম, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ডা. এমএ মুহিত;

খুলনা বিভাগ: মেহেরপুর-২ আসনে জাভেদ মাসুদ মিল্টন, কুষ্টিয়া-৩ আসনে জাকির হোসেন সরকার, চুয়াডাঙ্গা-১ শরিফুজ্জামান শরিফ, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মাহমুদ হাসান খান, ঝিনাইদহ-১ আসনে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, ঝিনাইদহ-২ আসনে আবদুল মজিদ, ঝিনাইদহ-৪ আসনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ঝিনাইদহ-৫ আসনে মতিউর রহমান, যশোর-৩ আসনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মাগুরা-১ আসনে মনোয়ার হোসেন খান, বাগেরহাট-১ আসনে মাসুদ রানা, খুলনা-৩ আসনে রকিবুল ইসলাম বকুল;

বরিশাল বিভাগ: ভোলা-১ আসনে গোলাম নবী আলমগীর, ঝালকাঠি-২ আসনে জেবা আমিন খান, পটুয়াখালী-২ আসনে সালমা আলম, পিরোজপুর-৩ আসনে রুহুল আমিন দুলাল; ময়মনসিংহ বিভাগ: শেরপুর-১ আসনে ডা. সানসিলা জেবরিন, শেরপুর-২ আসনে ফাহিম চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১ আসনে আলী আজগর, ময়মনসিংহ-৪ আসনে আবু ওয়াহাব আখন্দু, নেত্রকোনা-২ আসনে ডা. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৪ আসনে তাহমিনা জামান শ্রাবণী ও নেত্রকোনা-৫ আসনে আবু তাহের তালুকদার; ঢাকা বিভাগ: কিশোরগঞ্জ-১ আসনে রেজাউল করিম খান চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, টাঙ্গাইল-১ আসনে সরকার শহীদ, মানিকগঞ্জ-১ আসনে এসএ জিন্নাহ কবীর, ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-২ আসনে ইরফান ইবনে আমান, ঢাকা-৫ আসনে নবীউল্লাহ নবী, ঢাকা-৯ আসনে আফরোজা আব্বাস, ঢাকা-১১ আসনে শামীম আরা বেগম, ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা-১৪ আসনে সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, ঢাকা-১৬ আসনে আহসান উল্লাহ হাসান, গাজীপুর-২ আসনে সালাহউদ্দিন সরকার, গাজীপুর-৪ আসনে শাহ রিয়াজুল হান্নান, নরসিংদী-৩ আসনে মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ আসনে আশরাফউদ্দিন বকুল, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান, ফরিদপুর-৪ আসনে ইকবাল হোসেন খন্দকার সেলিম, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এসএম আফজাল হোসেন, মাদারীপুর-১ আসনে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলু, মাদারিপুর-২ আসনে মিল্টন বৈদ্য, মাদারিপুর-৩ আসনে আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, শরিয়তপুর-৩ আসনে মিয়া নুরুদ্দিন অপু;

সিলেট বিভাগ: সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-১ আসনে খন্দকার আবদুল মোক্তাদির, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৬ আসনে ফয়সল আহমেদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ আসনে নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু;

চট্টগ্রাম বিভাগ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মুসলিম উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, কুমিল্লা-৩ আসনে কাজী মুজিবুল হক, চাঁদপুর-১ আসনে মোশারফ হোসেন, চাঁদপুর-২ আসনে ড. জালালউদ্দিন, চাঁদপুর-৪ আসনে এমএ হান্নান, ফেনী-১ আসনে রফিকুল ইসলাম মজনু, ফেনী-৩ আসনে আকবর হোসেন, চট্টগ্রাম-১ আসনে নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ আসনে আজিমউল্লাহ বাহার, চট্টগ্রাম-৪ আসনে ইসহাক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ আসনে জসিমউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম-৮ আসনে আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৯ আসনে ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১২ আসনে এনামুল হক এনাম ও পাবর্ত্য খাগড়াছড়ি শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া ফরহাদ।

নারী প্রার্থী: ধানের শীষের টিকিট পেয়েছেন ১৬ জন নারী প্রার্থী। তারা হলেন- রংপুর-৩ আসনে রিটা রহমান, বগুড়া-৩ আসনে মাসুদা মোমিন, নাটোর-২ আসনে সাবিনা ইয়াসমিন, সিরাজগঞ্জ-১ রুমানা মোরশেদ কনকচাঁপা, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে রুমানা মাহমুদ, ঝালকাঠি-২ আসনে জেবা আমিন খান, পটুয়াখালী-২ আসনে সালমা আলম, শেরপুর-১ আসনে ডা. সানসিলা জেবরিন, নেত্রকোনা-৪ আসনে তাহমিনা জামান শ্রাবণী, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খানম রীতা, টাঙ্গাইল-৮ আসনে ব্যারিস্টার কুঁড়ি সিদ্দিকী (কৃশ্রজলীগ), ঢাকা-৯ আসনে আফরোজা আব্বাস, ঢাকা-১১ আসনে শামীম আরা বেগম, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা ও কক্সবাজার-১ আসনে হাসিনা আহমেদ। এর মধ্যে ১৪জন বিএনপি ও দুইজন শরিক দলের প্রার্থী।

সংখ্যালঘু প্রার্থী: ধানের শীষের টিকিট পেয়েছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭ জন প্রার্থী। তারা হলেন- মাগুরা-২ আসনে নিতাই রায় চৌধুরী, টাঙ্গাইল-৬ আসনে অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৬ আসনে সুব্রত চৌধুরী (গণফোরাম), মাদারিপুর-২ আসনে মিল্টন বৈদ্য, পার্বত্য রাঙ্গামাটি মনি স্বপন দেওয়ান ও পার্বত্য বান্দরবান সাচিং প্রু জেরি। এর মধ্যে ৬ জন বিএনপি ও একজন গণফোরাম নেতা।

উৎসঃ মানব জমিন

আরও পড়ুনঃ সমগ্র বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন লড়বেন ধানের শীষ প্রতীকে!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সবচেয়ে কমবয়সী প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা (২৭) । তিনি এ নির্বাচনে সমগ্র বাংলাদেশের প্রার্থীদের মধ্যেও সর্বকনিষ্ঠ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন ডা. সানসিলা জেবরিন। তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীর মেয়ে। তার নির্বাচন সংক্রান্ত কাগজ-পত্র পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, সানসিলার জন্ম ১৯৯৩ সালের ২২ জুন। সে হিসেবে তার বয়স ২৫ বছর। এবারের নির্বাচনে বয়সের দিক থেকে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ।

২০০৮ সালে এসএসসি পাশ করেন ডা. সানসিলা। আর এইচএসসি পাশ করেন ২০১০ সালে। এমবিবিএস পাশ করেন ২০১৬ সালে। বর্তমানে তিনি পেশায় ডাক্তার এবং রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা যায়, এ আসনে বিএনপি থেকে চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায় এবং ভাগ্যগুণে টিকে যায় সানসিলা জেবরিন।

জেবরিনের বাবা ও শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাবার মুক্তি এবং দলকে সংগঠিত করতে জেবরিন কর্মীদের নিয়ে মাঠে সরব রয়েছেন। সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা হলে ডা. সানসিলা জেবরিন বলেন, সারাদেশের মতো এ আসনেও ধানের শীষের জয়ধ্বনী শোনা যাচ্ছে। দীর্ঘ ২২ বছর পর এ আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী দেওয়ায় আনন্দের মাত্রাটা আরো বেড়েছে। বর্তমানে ধানের শীষের গনজোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আওয়ামীলীগ হেভিওয়েট প্রার্থী সম্পর্কে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, হুইপ আতিউর রহমান আতিক শ্রদ্ধার একজন মানুষ, চারবারের এমপি। উনার কাছে শেখার অনেক কিছু আছে। নিজেকে অনেক লাকি মনে করছি, কারণ সর্বকনিষ্ঠ একজন প্রার্থী হিসেবে উনার বিপক্ষে প্রতিযোগিতা করব এবং আমি মনে করি রাজনীতিতে জয় পরাজয় থাকবেই। যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তবে ১৪০টি কেন্দ্রেই ধানের শীষের জয় হবেই ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য, বিগত চারটি জাতীয় নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয় বিএনপি কিন্তু কোনবারেই এ আসনে জামায়াত জয়ের মুখ দেখেনি। ধানের শীষ প্রতীকে গত ২২ বছর এখানে কোনো প্রার্থী ছিলো না বিএনপির।

উৎসঃ সময় টিভি, ওয়ান নিউজ বিডি

আরও পড়ুনঃ মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করতে পারে নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশে নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উপরে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে নির্বাচন কমিশন। তারা বলছেন, দরকার হলে মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেয়া হবে।

বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন বলছে, গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে কেউ যদি কোথাও নির্বাচন বানচালের উস্কানি দেয় – তবে তা ঠেকাতে দরকারে এমনকি সেই এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেয়া হবে।

কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলছেন, “সোশাল মিডিয়াতে কিন্তু অসংখ্য আছে ফেক আইডি। যাদেরকে আমরা চিনতে পারছি না। তারা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা ঐসব পোস্ট বন্ধ করে দিতে পারি।”

“অথবা, যদি এমন হয় যে ঐ সোশাল মিডিয়ার কারণে এলাকার আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হতে পারে সেক্ষেত্রে আমরা নেটওয়ার্ক শাটডাউনও করতে পারি” – বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উপরে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে।

এজন্যে টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে শুরু করে ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন কোম্পানি ও পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

কিন্তু কোন ধরনের মন্তব্য, ছবি, পোষ্ট, গুজব বা অপপ্রচারের আওতায় পড়বে?

এ প্রশ্নে জবাবে হেলালুদ্দিন আহমদ বলছেন, “যেমন দেলোয়ার হোসেইন সাইদীকে চাঁদে দেখা গেছে সেই গুজবকে ভিত্তি করে হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনত করেছে। অথবা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় একটা প্রোপাগান্ডা হয়েছে। সেটাই আমরা মাথায় রেখে নির্বাচনকে ঘিরে যাতে প্রচার করে মানুষকে উস্কানি দিতে না পারে – তা আমরা মনিটরিং করবো।”

বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন এমন একটা সময়ে হচ্ছে যখন এর আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার হচ্ছে অনেক বেশি।

এর আগের কোন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি নিয়ে এতটা ভাবতে হয়নি।

বিষয়টি এক ধরনের উদ্বেগ যে তৈরি করছে সেটি বোঝা যাচ্ছে।

হেলালুদ্দিন আহমদ বলছেন, গুজব বা অপপ্রচার পাওয়া গেলে তারা চলমান আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি বলছেন, নির্বাচন কমিশন নিজে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নজরদারির একটি সেল তৈরি করেছে। তথ্য মন্ত্রণালয় আগে থেকেই কাজটি করছিলো। পুলিশের বাহিনীর সবগুলি ইউনিটে সাইবার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তৈরি করেছে একটি সোশাল মিডিয়া মনিটরিং অ্যান্ড সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন কমিটি।

নির্বাচন কমিশনের ভাষায় ঝুঁকিপূর্ণ কোন পোস্ট, ফেক আইডি, ভুয়া খবর – এগুলো যাচাই করার ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বড় ভূমিকা পালন করবে।

পুলিশের গণমাধ্যমের দায়িত্বে থাকা এআইজি মোঃ: সোহেল রানা বলছেন, “নির্বাচন কেন্দ্রিক কিছু ট্রেন্ড এবং টেন্ডেন্সি আমাদের আছে, গুজব ছড়ানো এবং গুজব সৃষ্টির।”

তারা কিভাবে নির্ধারণ করছেন কোনটি গুজব বা অপপ্রচার? তিনি বলছেন, “আমাদের সেলগুলো নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিং-এর কাজগুলো করে। আমাদের যে সোশাল মিডিয়া মনিটরিং অ্যান্ড সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন কমিটি আছে তাদের দৃষ্টিতে বিষয়গুলো আনা হয়। আসলেই এগুলো গুজব কিনা কমিটি তা যাচাই বাছাই করে এবং এই সিদ্ধান্ত দেয়। তারপর এটি নিয়ে কাজ করা হয়।”

কিন্তু এই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুমিন ফারহানা।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বের সকল দেশের জন্য সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে সর্বশেষ নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে। সেই নির্বাচনের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের হারের পেছনে এমন কিছু কাজ করেছে কিনা সেটি নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে।

রুমিন ফারহানা মনে করছেন, নজরদারির কারণে তারা সাইবার জগতেও চাপে রয়েছেন।

তিনি বলছেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে যে কথাটি বারবার উঠে আসছে যে সরকার এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করছে, নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে। এমনকি আমার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দুবার হ্যাক হয়েছে, স্টপ করে রাখছে সরকার। আমাদের কর্মী ও নেতাদেরও একই কাণ্ড হয়েছে। এরকম একটি অবস্থায় দাঁড়িয়ে আমাদের মনে হচ্ছে যে আমরা সাইবার জগতেও চাপের মধ্যে আছ। আমাদের আইনের মাধ্যমে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগের যেসব ওয়েবসাইট রয়েছে সেগুলোর উপরে কোন নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের সরকারি সংস্থাগুলোর নেই।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলছেন, “অনেক সময় ফেসবুকে যে প্রোপাগান্ডা হয় সেটা বন্ধ করতে বলে। আসলে বিটিআরসি বন্ধ করতে সক্ষম না। বিটিআরসি ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করতে পারে। অনুরোধ করলে কখনো কখনো তারা কনসিডার করে। তারা কিন্তু তা করতে বাধ্য না।” সূত্র:

উৎসঃ বিবিসি বাংলা।

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here