আওয়ামী লীগ এখন পাগলের কারখানাঃ অধিকাংশ মন্ত্রী, এমপি, নেতারা মানসিকভাবে অসুস্থ

0
493

রাজনৈতিক মহলে একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে ‘আওয়ামী লীগে কোনো বিবেক সম্পন্ন ও সুস্থ মানুষ নেই’। অথবা, ‘যারা বিবেক সম্পন্ন ও মানসিকভাবে সুস্থ তারা আওয়ামী লীগ করে না’। বিভিন্ন সময় অওয়ামী লীগ নেতাদের অহেতুক কর্মকাণ্ডে প্রচলিত এ প্রবাদের সত্যতা আংশিক খুঁজে পেলেও এখন শতভাগ সত্যতা দেখা যাচ্ছে।

বিবেকবান, বোধশক্তি সম্পন্ন ও সুস্থ মানসিকতার লোক এখন আওয়ামী লীগে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। দেখা যাচ্ছে, দিন যত যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগে এখন মেন্টাল তথা পাগলের সংখ্যা ততই বাড়ছে। তাই অনেকেই হাস্যরস করে বলছেন এ যেন এক পাগলের কারখানা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রাজধানীতে ডেঙ্গু মশার উৎপাত শুরু হয়। দুই সিটিতে মশা নিধনের ওষুধ না ছিটানোর কারণে এ মশা দিন দিন বাড়তে থাকে। দুই মেয়রের দুর্নীতি, আত্মসাত, খামখেয়ালি আর নাগরিকদের প্রতি চরম অবহেলার কারণে ডেঙ্গু এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন ২ হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ ও শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আর এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে মারা গেছে। যদিও সরকার এসব মৃত্যুর সংখ্যা অস্বীকার করছে।

আর সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো-ডেঙ্গু মহামারি নিয়ে দেশের মানুষ যখন আতঙ্কিত ও উৎকণ্ঠিত তখন সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা এ নিয়ে জনগণের সঙ্গে চরম তামাশা ও মশকরা করে যাচ্ছে। গত জুলাই মাসের ২৫ তারিখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালিক বলেছিলেন-রোহিঙ্গাদের মতো এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা বেশি। রোহিঙ্গারা যেমন বেশি বাচ্চা জন্ম দিচ্ছে তেমনি এডিস মশাও বেশি জন্ম দিচ্ছে। তাই এই মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। একই দিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, ডেঙ্গু একটা গুজব। গণমাধ্যমগুলো ডেঙ্গু নিয়ে যা প্রচার করছে বাস্তবে এমন ধরণের কিছু নেই।

এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও খোকনের বক্তব্য নিয়ে সারাদেশে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে সর্বস্তরের মানুষ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লন্ডন থেকে শেখ হাসিনা তাদেরকে কথা কম বলার পরামর্শ দেন। ওবায়দুল কাদেরও সংবাদ সম্মেলন ডেকে মন্ত্রী ও মেয়রকে সতর্ক করে দেন।

কিন্তু, মানুষের সেই ক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার আওয়ামী এমপি কণ্ঠশিল্পি মমতাজ পুনরায় বললেন-ডেঙ্গু একটা গুজব। ডেঙ্গুতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। মমতাজের এই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এনিয়ে আবার বইছে সমালোচনার ঝড়।

এরপর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু নিয়ে মন্তব্য করে আগের তিনজনকেই ছাপিয়ে গেলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। এই ডেঙ্গু মহামারিকে তিনি উন্নয়নের অংশ বলেই দাবি করছেন।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এক সেমিনারে তিনি বলেছেন, দেশ যত উন্নত হবে মানুষের সমস্যা তত বাড়বে। যে দেশ যত উন্নত হচ্ছে সে দেশে তত রোগের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গু এলিট শ্রেণির একটি মশা। এ মশা সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, কলকাতা শহরে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নত দেশ হতে যাচ্ছে। তাই এখন দেশে ডেঙ্গু এসেছে। মানুষের যত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে তত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুনে দেশের সাধারন মানুষ নির্বাক হয়ে গেছে। উন্নয়ন হলে দেশে রোগবালাই বাড়ে! দেশ উন্নত হওয়ার কারণেই ডেঙ্গু মশা আসছে! সরকারের এমন গুরুত্বপূর্ণ একজন মুখ থেকে এসব কথা কিভাবে আসতে পারে? তাহলে সরকার কি জনসংখ্যা কমানোর জন্য দেশ উন্নত করছে?

সচেতন মহল বলছেন, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধস নিয়ে জামায়াত শিবিরকে জড়িয়ে হাইস্যকর মন্তব্য করে পাগলের সূচনা করেছিলেন মহিউদ্দিন খান আলমগীর। এরপর থেকে যেন সেই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গুকে একজন রোঙ্গিহাদের সাথে তুলনা করছেন, আর দুইজন বলছেন গুজব। এবং সর্বশেষ একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বললেন এটা উন্নয়নের অংশ। এতে বুঝাে যাচ্ছে-আওয়ামী লীগে দিন দিন পাগলের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর ইস্যুতে কাশ্মীরের পক্ষ নিয়ে জলঘোলা করলে ব্যবস্থাঃ র‌্যাব ডিজি বেনজির

কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এ নিয়ে বাংলাদেশে কেউ জলঘোলা করার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ঈদ উপলক্ষে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

কাশ্মীর ইস্যুতে দেশে উগ্রবাদে বিশ্বাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে কি-না জানতে চাইলে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। আমাদের দেশে ‘আল্ট্রা-ইসলামিস্টের’ সংখ্যা খুব বেশি নয়। তারা ২৪ ঘণ্টাই আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।

‘যে বিষয়টা আমাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, সে বিষয় নিয়ে কোনো সুস্থ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ আমার দেশে কাশ্মীরের পক্ষ নিয়ে জলঘোলা করার কোনো কারণ দেখি না। কেউ জলঘোলা করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্প্রতি র‌্যাব-৭’র সাবেক অধিনায়ক (সিও) হাসিনুর রহমান নিখোঁজের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক মানুষকেই তো খুঁজে পাওয়া যায় না। খুঁজে না পাওয়াটা শুধু বাংলাদেশে নয়, আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপেও মানুষ নিখোঁজ হয়। একজনকে খুঁজে না পাওয়া মানেই কোনো বাহিনীর ব্যর্থতা নয়। নিখোঁজ হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা জ্ঞাত রয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে কাজ করছি। যদি কারও কাছে কোনো তথ্য থাকে, তাহলে আমাদের জানাবেন।

ঈদ নিরাপত্তার বিষয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, সামনেই আমাদের দু’টি বড় ইভেন্ট- ঈদুল আজহা ও ১৫ আগস্ট। ঈগের আগে, ঈদের দিন ও ঈদ পরবর্তী নিরাপত্তার বিষয়ে পৃথক পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে র‌্যাব সদস্যরা কাজ করছেন। হাটে জাল টাকা ও অজ্ঞানপার্টির তৎপরতা রোধে তারা তৎপর রয়েছেন।

‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি বাস-লঞ্চ টার্মিনাল ও ট্রেন স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করছে র‌্যাব। তবে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার জন্য এবার অনেক সড়ক ও রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে কারণে যান চলাচলে কোথাও কোথাও ধীরগতি রয়েছে। যতটুকু সম্ভব ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছি আমরা।’

র‌্যাবের ডিজি বলেন, সারাদেশে মহাসড়কে ৪২টি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা শনাক্ত করা হয়েছে। সেসব স্থানে যেন ফের দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আমাদের নজরদারি রয়েছে। তবে, এ বিষয়ে চালকদের ভূমিকার পাশাপাশি যাত্রীদেরও দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহসহ গুরুত্বপূর্ণ সব ঈদগাহের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরায় মনিটরিং থাকছে। এছাড়া, ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে সুইপিং করা হবে।

বেনজীর আহমেদ বলেন, ঢাকায় প্রায় ৫০ হাজার পশু কোরবানি হয়। যেখানে-সেখানে কোরবানি করে শহর নোংরা করবেন না। সময় এসেছে পুরো প্রক্রিয়া সংগঠিত করার। এজন্য সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে শহর পরিষ্কার থাকবে।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ডেঙ্গুর বিষয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতন থাকলে চ্যালেঞ্জ কঠিন হবে না। সবাই নিজের বাড়ি ও এলাকা পরিস্কার রাখলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। র‌্যাবের প্রত্যেক ব্যটালিয়নে একজনকে ডেঙ্গুর বিষয়ে অ্যাসাইন করা হয়েছে। তিনি প্রতিদিন সার্বিক বিষয়গুলো মনিটরিং করছেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এমন একজনকে দায়িত্ব দিয়ে মনিটরিং করলে বিষয়টা সহজ হয়ে যাবে।

উৎসঃ শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুনঃ ডেঙ্গু মূলত ইহুদীবাদীদের প্রয়োগকৃত একটি ভয়াবহ জীবানু অস্ত্র! – অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

কিছুদিন আগে একজন প্রাজ্ঞ অ্যানালিষ্ট একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন সচেতন বোদ্ধা মহলের দিকে। এবং তা হলো শুধুমাত্র আমেরিকার সাথে বৈরী সম্পর্কযুক্ত অর্থচ রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্কসম্পন্ন দেশগুলিতেই ডেঙ্গু ভাই*রাস মহা*মারী আকারে ছড়ায় কেন?

একটু মাথা ঠান্ডা করে চিন্তা করুন। উত্তরটা বেরিয়ে আসবে। জীবানু অস্ত্রের সাহায্যে আবালবৃদ্ধাবণিতাকে হ*ত্যা করা এমন নিষ্ঠু*র অমানবিক নির্দয় আচরণ শুধুমাত্র ইহুদীবাদিদের পক্ষেই সম্ভব। আর সবাই জানে যে আমেরিকা চালায় ইহুদীরা।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের সুত্র সহ বিস্তারিত বর্ণনা করা হলঃ

এবার আসুন তো আরেকটু ভিতরে ঢুকি। গত শতকের আশির দশকে ব্যাপক ডেঙ্গু ভাই*রাস এর আক্র*মনে আক্রা*ন্ত হয়েছিলো কিউবা। যা ছিলো আমেরিকার পক্ষ থেকে ঘৃণিত এক জীবাণু অস্ত্রের আক্র*মণ। শুধুমাত্র একজন মানুষকে গদিচ্যুত করার জন্য সেদিন হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে বাধেনি বিশ্ব সন্ত্রা*সী ইহুদীবাদী আমেরিকার। সেদিন ফিদেল ক্যাস্ট্রোর কি বক্তব্য ছিলো তা খতিয়ে দেখা যাক।

“We share the people’s convictions and strongly suspect that the plagues that have been punishing our country, especially the hemorrhagic dengue, could have been introduced into Cuba, into our country, by the C.I.A.”

ক্যাস্ত্রো নিশ্চয়ই চব্বিশ ঘন্টা জেগে জেগে উন্নয়নের দিবা স্বপ্ন দেখতেন না। এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বালখিল্য মিথ্যা বলার প্রশ্নই আসে না। কাজেই আমেরিকা যে রুশ ব্লকের দেশগুলোতে প্রতিহিংসা বশত ডেঙ্গু ভাই*রাস ছড়িয়ে দিয়ে থাকে তা একেবারে প্রমাণিত সত্য।

ফিলিপাইন থেকে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, মায়ানমার হয়ে বাংলাদশে এসে পৌছেছে ভ*য়ঙ্কর মাত্রার ডেঙ্গু

এ জীবানু অস্ত্রের প্রয়োগ মানবাধিকারের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও, অদ্যবধি এই ডেঙ্গু ভাই*রাস আমেরিকা রাশিয়ার মিত্র দেশগুলোর উপর প্রয়োগ করে থাকে। আজকে থেকে দুই বছর আগে যখন চিকনগুনিয়া ভাই*রাস মহা*মারী আকারে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল তখনো কিন্তু গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা গিয়েছিল যে চিকুনগুনিয়া আমেরিকার বায়োলজিক্যাল অস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসুত্রঃ How Chikungunya got its name, and was a potential biological weapon – The News Minute

আমার কাছে কেন জানো শুরু থেকেই অথর্ব মেয়র সাঈদ খোকনের কথাগুলি সন্দেহজনক মনে হয়েছিল। সাঈদ খোকন বলেছে যে, এই ডেঙ্গু মহা*মারী নাকি গুজব। বর্তমানে সচেতন নেটিজেন সূত্রে জানা যায় যে, এই সাঈদ খোকন আজকের থেকে ৪ বছর আগে ঢাকা শহরকে পরোক্ষভাবে বিশ্বব্যাংকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।

অর্থাৎ, সে বিশ্বব্যাংকের কাছে নতজানু সাম্রাজ্যবাদী গোলাম। অতএব ডেঙ্গু মহা*মারী আকারে ছড়িয়ে পড়লেও শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত সাঈদ খোকনের অপচেষ্টা খুবই সন্দেহজনক, বরং এরূপ হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নাই যে প্রথম দিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে সারাদেশে তা ছড়িয়ে দেওয়া তার প্লানেরই একটি অংশ।

ভালোভাবে ইনভেস্টিগেশন করলে বের হয়ে আসবে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে প্রয়োগকৃত আমেরিকান বায়োলজিক্যাল ওয়ার ফেয়ার এর এই দেশীয় ক্রীড়ানক হলেন মেয়র সাঈদ খোকন মশা।

সরকারের উচিৎ সিআইএপন্থী এই মেয়রকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা, এতে অনেক গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে আমি শিউর।

৫০ এর দশকে ফোর্ট ডেরিক সিআইএ’র প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মাল্টি মিলিয়ন ডলার রিসার্চ প্রোগ্রাম চালু করেন। না মানব সম্পদ রক্ষার মত মহৎ উদ্যোগে তার এই গবেষণাকর্ম পরিচালিত হয় নি। বরং কিভাবে নিরীহ নারী-পুরুষ-শিশু আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা কে ডেঙ্গু ভাই*রাস এবং আরও ভয়া*বহ মরণ*ঘাতী রোগ অসুখ-বিসুখ এর ধারা তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারা যায়, হত্যা করা যায়, তার রাগমোচন উপভোগ করার জন্য মানবতার ধ্বজাধারীরা এই প্রজেক্ট চালু করেছিল। এমনকি ফ্লোরিডা, কী ওয়েস্ট, পানামা সিটি, এভন পার্ক অঞ্চলগুলিতে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর এবং অন্যান্য জীবাণু অস্ত্র সমূহের এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়েছিল। আমেরিকার স্বল্পআয়ের আফ্রো আমেরিকান নাগরিকদের উপর এই বায়োলজিক্যাল উইপন এর প্রয়োগ ঘটিয়েছিল ইহুদি কিংপিনরা।

সিআইএ’র ডকুমেন্ট থেকে জানা যায় টপ সিক্রেট প্রজেক্ট এমকে/নাওমী নামে পরিচালিত এই অপারেশনে বিশেষভাবে সজ্জিত বিমান থেকে ডেঙ্গুর জীবাণু বাহী ৬ লক্ষ মশা একেক দফায় ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

এই অপারেশন গুলির ব্যায়ভার কে বহন করেছিল জানেন? সেই বিশ্বকুখ্যাত রকফেলার পরিবার যারা সারা বিশ্বে ইহুদি সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের জন্য মূল ভূমিকা পালন করছে। শুধুমাত্র তাই নয় ১৯৮২ সালের মিডিয়ার রিপোর্ট আরো বের হয়ে আসে যে সিআইএ পাকিস্তান মারফত আফগানিস্তানেও ডেঙ্গু মহা*মারীর জীবাণু অস্ত্র পাঠিয়েছিল। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৬ সালে নিকারাগুয়ার কতৃপক্ষ অভিযোগ তুলেছিল জেসিআই ডেঙ্গু ভাই*রাস জীবাণু অস্ত্র তাদের দেশেও প্রয়োগ করেছে।

ভাগ্যের পরিহাস এটাই ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট নিক্সন জীবাণু অস্ত্র নিরোধ চুক্তিতে সই করে এবং জীবাণু অস্ত্রকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

এই আগলি আমেরিকানরা ১৯৬০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মানুষ তো বটেই শস্য সামগ্রির উপরেও জীবাণু অস্ত্র প্রয়োগ করেছিল কিউবাতে।

বর্তমানে চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রতিরোধ করার জন্য আমেরিকা বিজেপি সরকারকে নিয়ে বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রাথমিক সূচনা পর্ব হলো এই জীবাণু অস্ত্র ডেঙ্গুর মহা*মারী।

সামনে বিস্তারিত তালিকা নিয়ে আসব আমেরিকা আজ পর্যন্ত কোথায় কোথায় আশরাফুল মাখলুকাত কে বানিয়েছে তাদের এক্সপেরিমেন্টের বিষয়বস্তু। ইনশাআল্লাহ।

তথ্যসূত্রঃ

(১) Dengue Mosquitoes are being used as a biological weapon!

(২) EPIDEMIC IN CUBA SETS OFF DISPUTE WITH U.S.

(৩) Florida Dengue Fever Outbreak Leads Back to CIA and Army Experiments

(৪) Bio-War against Cuba – AfroCubaWeb

যাইহোক, নিচের এই ছবি দেখে কেউ চীনের ‘স্ট্রিং অব পালর্স’ বা মুক্তার মালা ভেবে ভুল করবেন না। এটা এ বছর যে সব দেশে ডেঙ্গু জ্বর মহা*মারি আকারে ছড়িয়েছে তাদের চিহ্নিত করণ। এবার আপনারাই হিসাব মেলান চীন, অ্যামেরিকা, রাশিয়া ও মোড়ল ইহিদীবাদী ইসরাঈলের কার্যক্রমে কোথায় কে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে এবং কাকে কাকে টাইট দেওয়া হচ্ছে।

যে সব দেশে ডেঙ্গু জ্বর মহা*মারি আকারে ছড়িয়েছে তাদের চিহ্নিতকরণ ছবি

আসুন, এইবার ডেঙ্গুর একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাক্সিন এবং প্রস্তুতকারক কোম্পানির মালিককে নিয়ে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানি।

১) নিচের ছবিতে যাকে দেখতে পাচ্ছেন, তার নাম সার্জ ওয়েইনবার্গ। সে ফেঞ্চ ইহুদী ব্যবসায়ী। তার অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। তবে সে বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি সানোফি (SANOFI)’র চেয়ারম্যান। বাংলাদেশেও সানোফি’র শাখা আছে। ডেঙ্গুর একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাক্সিন ডেঙ্গভ্যাকসিয়া (Dengvaxia) এই কোম্পানির ঔষধ।

সার্জ ওয়েইনবার্গ: ফেঞ্চ ইহুদী ব্যবসায়ী। বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি সানোফি (SANOFI)’র চেয়ারম্যান।

২) ২০১৬ সালে ১১টি দেশ সানোফি’র ডেঙ্গভ্যাকসিয়াকে অনুমোদন দেয় বলে খবর বের হয়। দেশগুলো হলো- মেক্সিকো, ফিলিপাইন, ব্রাজিল, এল সালভাদোর, কোস্টারিকা, প্যারাগুয়ে, গুয়াতেমালা, পেরু, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুর।
তথ্যসূত্রঃ ১১ দেশে সানোফির ডেঙ্গুর টিকার অনুমোদন – জাগো নিউজ ২৪

৩) সমস্যা বাধে ২০১৭ সালে। ডেংভেক্সিয়া নিয়ে তোলপাড় ঘটে যায় ফিলিপাইনে। ৮ লাখেরও বেশি স্কুল শিশুকে দেয়া হয় এই ভ্যাকসিন। কিন্তু রোগ প্রতিরোধের বদলে, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকে। এরইমধ্যে মারা যায় ১৬ জন। এ ঘটনায় ভ্যাকসিনটির উৎপাদক, ফরাসি কোম্পানি- সানোফিকে জরিমানা করে ফিলিপাইন সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয় ডেংভেক্সিয়ার কার্যক্রমও।

সানোফি কর্তৃপক্ষ জানায়, যাদের ডেঙ্গু নেই তাদের শরীরে ডেংভ্যাক্সিয়া দেয়া হলে, গুরুতর অসুস্থ হতে পারে, ঐ ব্যাক্তি। এরপরই তোলপাড় শুরু হয়, ফিলিপাইনজুড়ে। টিকা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। টিকা দেয়ার পর দেশটিতে মারা যাওয়া ১৪ শিশুর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়, ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটিও। শেষমেষ ঐ কমিটি জানায়, এই ওষুধ প্রয়োগে রোগ প্রতিরোধের বদলে, উল্টো গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেক শিশু। পন্যের নিবন্ধন ও বিপননজনিত কারনে, ফরাসি কোম্পানি সানোফিকে, ২ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করে, ফিলিপাইন সরকার।
তথ্যসূত্রঃ ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়ে তোলপাড়, ফিলিপাইনে ১৬ শিশুর মৃত্যু – চ্যানেল ২৪

ডেঙ্গুর একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাক্সিন ডেঙ্গভ্যাকসিয়া (Dengvaxia)

৪) তবে ২০১৯ সালে ফিলিপাইনে যখন আবার ডেঙ্গু মহা*মারি আকার ধারণ করে প্রায় ৪৫০ জন মারা যায়, তখন সানোফি’র ডেংভ্যাক্সিয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে তার ফের ব্যবহার করার অনুমতি দেয় দেশটির সরকার। সানোফি’র বক্তব্য- ফিলিপাইন সরকারের উচিত হু’ এর নির্দেশনা মেনে চলা।
তথ্যসূত্রঃ বিতর্কিত ডেঙ্গু টিকা পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা ফিলিপাইনের – বাংলা ট্রিবিউন

৫) সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা দিয়েছে তারা সানোফির ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’ আমদানি করার কথা ভাবছে। তারা ইতিমধ্যে সানোফির পরিচালকদের সাথে মিটিং করেছে। ওষুধটির দাম পড়বে জনপ্রতি ৫-৬ হাজার টাকা। তবে ওষুধটি তাদের উপর প্রয়োগ করা যাবে, যাদের দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হয়েছে। প্রথম বার ডেঙ্গু হয়েছে, এমন লোকের উপর প্রয়োগ করলে ঐ ওষুধ রিয়্যাকশন তৈরী করে তাকে অসুস্থ করে দিতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ Bangladesh Govt mulls import of dengue vaccine – Daily Sun

আমি এসকোল খবর পড়ে আমি এতটুকু বুঝেছি-এবার ডেঙ্গুর পর বাংলাদেশে সানোফির ব্যয়বহুল ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’ আসতেছে।

বাংলাদেশের অনেক ডাক্তার ও মিডিয়া বলতেছে: এবার নতুন ধরনের ডেঙ্গু আসছে এবং এই ডেঙ্গুটিতে আগে থেকে ভয়*ঙ্কর।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, কেউ বলতেছে না, এই নতুন ডেঙ্গু জন্ম নিলো কিভাবে ? কিংবা এই নতুন ডেঙ্গু জন্ম নেয়ার পেছনে কে দায়ী ?

অথচ এই বিষয়টি আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস, এবিএস-সিবিএন সহ অনেক আন্তর্জাতিক পত্রিকায় এসেছে।

খবর বলছে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে ফিলিপাইনে ৮ লক্ষ শিশুর উপর পরীক্ষামূলকভাবে ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন ‘ডেংভেক্সিয়া’ প্রয়োগ করে ফ্রেঞ্চ বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি স্যানোফি।

স্যানোফির ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন টেস্টের বিরুদ্ধ ফিলিপাইনে গণমানুষের বিক্ষোভ

২০১৭ সালের ১৭ই ডিসেম্বরের নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, “If people who never had dengue are vaccinated and later become infected, the vaccine may provoke a much more severe form of the illness.”
অর্থাৎ যাদের আগে ডেঙ্গু হয় নাই, তাদের শরীরের যখন ডেংভেক্সিয়া’ ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করা হয়, তখন সেই ভ্যাক্সিন উৎসাহিত করে আরো কঠিন মাত্রার অসুস্থতা।
তথ্যসূত্রঃ Drug Company Under Fire After Revealing Dengue Vaccine May Harm Some -NY Times

২০১৮ সালের ১০ই জানুয়ারীর এবিএস সিবিএন নিউজ বলছে-
The Philippines late last year halted the vaccination of public school students with the vaccine Dengvaxia after French drug maker Sanofi disclosed that it might increase the risk of severe dengue in recipients not previously infected by the mosquito-borne virus.
অর্থাৎ যাদের শরীরে ডেঙ্গু আগে হয় নাই, এ ডেঙ্গু ভ্যাক্নিন দেয়ার ফলে আরো মারাত্মক ধরনের ডেঙ্গু আক্রা*ন্ত হওয়ার সম্ভবনা দেখা দেয়।

আরো বলা হচ্ছে:
Dr. Antonio Dans, an epidemiologist from the University of the Philippines, earlier warned that Dengvaxia could act like a primary infection for those who had never had dengue.
If they were bitten by a mosquito carrying the virus after the vaccination, it could allegedly be akin to getting dengue a second time, which often leads to far more severe symptoms and potentially death if bad cases are not treated quickly, he said.
অর্থাৎ Dr. Antonio Dans (epidemiologist) বলছে- যাদের শরীরে ডেঙ্গু হয় নাই তাদের জন্য এই ভ্যাক্সিনটি প্রাইমারী ইনফেকশন হিসেবে কাজ করবে। এরপর যদি তাকে ডেঙ্গু জীবানু বাহিত মশা কামড় দেয়, তখন তার মধ্যে মারা*ত্মক ধরনের ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমনকি দ্রুত চিকিৎসা না করালে মৃত্যু হতে পারে।

এরপর ভ্যাকসিন দেয়ার পরবর্তী কি ঘটছে, সেখানে বলা হচ্ছে:
Dr. Erwin Erfe, head of the PAO Forensic Laboratory, said the 4 children they examined contracted dengue 6 months after receiving the vaccine.
The fatalities had internal bleeding, enlarged organs and petechial rashes. One of them died within 24 hours after experiencing dengue symptoms, he told radio DZMM.
ভ্যাক্সিন দেয়ার ৬ মাস ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ৪ জন শিশুকে Dr. Erwin Erfeপরীক্ষা করেছে। মৃত্যুর কারণ অভ্যন্তরীণ রক্তপাত, অর্গানগুলো বড় হয়ে যাচ্ছে এবং লাল বর্ণের র‌্যাশ হচ্ছে।
তথ্যসূত্রঃ Did Sanofi, WHO ignore warning signals on dengue vaccine?-ABC CBN News

আমার ধারণা- নতুন ধরনের ডেঙ্গু তৈরী হওয়ার কারণ।ফিলিপাইনে ৮ লক্ষ বাচ্চার উপর স্যানোফি’র ভ্যাক্সিন টেস্ট, যার দরুণ এক বছরের মাথায় দেশটিতে ভয়ঙ্কর রকমের ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে, সরকারী হিসেবে আক্রা*ন্ত হয় ১ লক্ষ এবং মারা গেছে প্রায় ৫শ’।

স্যানোফি’র ভ্যাক্সিনেশনের ফলে নতুন মাত্রায় জন্ম নেয়া ডেঙ্গুটি ভিয়েতনাম, কলোম্বিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, মায়ানমার হয়ে খুব কম সময়ের মধ্যে (এক থেকে দেড় বছর) বাংলাদেশে এসে পৌছেছে। খুব শিঘ্রই এটি বাংলাদেশকে অতিক্রম করে আরো পশ্চিমে যাবে।

A worker shows used anti-dengue vaccine Dengvaxia inside a vaccine storage room

এদিকে, ফিলিপাইনে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে ৬২২ জন মানুষ মারা যাওয়ার পর গতকাল এটিকে ‘জাতীয় মহামারী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত অন্তত এক লাখ ৪৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রা*ন্ত হয়েছেন। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় যা ৯৮ শতাংশ বেশি। আর এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৬২২ জন।

তথ্যসূত্রঃ ডেঙ্গুকে মহামারী ঘোষণা ফিলিপাইনে – যুগান্তর

আমার কথা হলো, এই নতুন মাত্রার ডেঙ্গুটি যে এসেছে বা আসছে তা তো আজ থেকে দেড় বছর আগেই বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশ হয় এবং সেই নতুন জ্বরের লক্ষণগুলো কি হবে তাও প্রকাশ হয়ে যায়। এবং এই ঘটনার সাথে যে ফ্রেঞ্চ বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি স্যানোফি জড়িত সেটাও তো মোটামুটি প্রকাশ্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিষয়টি বাংলাদেশে কোন ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট বা সরকার-বিরোধীদল প্রকাশ করতেছে না কেন ?

আমি একটা জিনিস দেখেছি, কোন অপকর্মে যদি কোন বহুজাতিক কোম্পানি বা ইহুদীরা জড়িত থাকে (স্যানোফির প্রধান এক ইহুদী), তখন কেন যেন সবাই সেটা এড়িয়ে যায়, প্রকাশ করতে চায় না। আজ থেকে দেড় বছর আগেই যদি আমরা জানতাম, বহুজাতিক ওষধ কোম্পানি স্যানোফি টেস্টের ফলে এক নতুন ধরনের ডেঙ্গু জন্ম নিয়েছে এবং সেই ডেঙ্গুতে রোগির মধ্যে বিশেষ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে, তবে কি বাংলাদেশের মানুষ আগে থেকেই সচেতন হতে পারতো না?

সুতরাং, পরিশেষে বলা যায় যে, ডেঙ্গু মূলত ইহুদীবাদীদের প্রয়োগকৃত একটি ভয়া*বহ জীবানু অস্ত্র। মোসাদ তাদের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র আমেরিকার সাথে বৈরী সম্পর্কযুক্ত অথচ, রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক সম্পন্ন দেশগুলিতেই ডেঙ্গু ভাই*রাস মহা*মারী আকারে ছড়াচ্ছে।

উৎসঃ নয়ন চ্যাটার্জির (Noyon Chatterjee)’র অনুসন্ধানী একাধিক ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংকলিত

নয়ন চ্যাটার্জির ফেসবুক পেইজ

আরও পড়ুনঃ ​‘শেখ হাসিনা মিথ্যা বলেছেন, বিরোধী মতাবলম্বীদের ওপর বেশি নির্যাতন হচ্ছে’

বিরোধী মত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পুলিশের হেফাজতে ‍নির্যাতন-মৃত্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা তো আমার কাছে পরিস্কার যে, এখানে প্রধানমন্ত্রী সত্য কথা বলেননি। আমাদের পত্র-পত্রিকাগুলোতে মানবাধিকারের যে গ্রুপগুলো রয়েছে তাদের যে রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। এমনকি অ্যামিনেস্টি ইন্টান্যাশনাল, হিউম্যান রাইট ওয়াচ’র রিপোর্টে আমরা দেখেছি- প্রতিবছরে এখানে জুডিশিয়াল কাস্টিডিওতে মৃত্যু হয়েছে ৪শ’ থেকে ৭শ’। গতবছর বিশেষ করে ৪শ’ উপরে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে জডিশিয়াল কাস্টিডিও হত্যা হয়েছে।’

‘আর পুলিশ হেফাজতে যে টর্চার-এটা তো কমন ব্যাপার। পত্র-পত্রিকায় ছবিতে এসেছে- ফ্যান সিলিংয়ের সাথে ঝু্লিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের অনেক নেত-কর্মী আছেন যাদের পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। এটা ছবিতে চলে এসেছে। এগুলোতে আপনারা সবাই জানেন, পত্র-পত্রিকায় এসেছে। সুতরাং উনি (প্রধানমন্ত্রী) অবলীলায় অস্বীকার করলেন- এটা( হেফাজতে মৃত্যু) হয় না। আমরা মনে হয় এটা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রকৃত যে চিত্র নির্যাতন বাংলাদেশে নির্যাতন সরকারিভাবেই চলছে এবং সরকার বিরোধী মত ও যারা ভিন্নমত পোষন করে তাদের উপরে অত্যাচার-নির্যাতন আরও বেশি করে চালাচ্ছে। আপনারা দেখেছেন যে, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোকচিত্রী শিল্পী শহিদুল আলমকে গ্রেফতার করে অত্যাচার করা হয়েছে এবং কাস্টিডিওতে নেয়ার পরে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সাথে নির্মম আচরণ করা হয়েছে।’

সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার মতো বিএনপি চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না- এরকম প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার যখন মনে করে চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া তারা কোনো ন্যায়ের কাজ করবে না। তখন তো ওইটা ডিফিকাল্ট হয়ে যায়। ইট ইজ এ রেসপনসিবিলিটিজ দ্যা গর্ভমেন্ট, তাকে ডেঙ্গুর কাজ করতে হবে, বন্যা পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে, কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি করতে হবে। আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

সর্বক্ষেত্রে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, তাহলে আপনার সরকারই উস্কানি দিচ্ছে ভিন্নপথে যাওয়ার। যেটা আমরা মনে করি একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য কখনোই ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

সরকারি দল বলছে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মতো আন্দোলন বিএনপি পারছে না- এরকম প্রশ্নের মহাসচিব বলেন, ‘বিষয়গুলো আপেক্ষিক না। ফ্যাসিস্ট সরকার যখন থাকে তখন সেই মুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন কী জ্বালাও-পোঁড়াও করে সব পুঁড়িয়ে দিতে হবে নাকি? এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা আওয়ামী লীগের মধ্যে আছে যা এটা তারা চাচ্ছে।’

আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিয়মের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করছি। জনগণ যদি মনে করে যে, তারা অন্যভাবে দেখবেন- সেটা জনগণের ব্যাপার বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ যুদ্ধ বাধলে ভারতের পক্ষে থাকবে বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল


ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বাধলে বাংলাদেশ ভারতের পক্ষে থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। সবখানে ভারত আমাদের সহযোগিতা করে। ভারত যখন আক্রান্ত হবে, তখন নিশ্চয়ই আমরা ভারতের সঙ্গে থাকব।’

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশ ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান কী—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নয়াদিল্লিতে সাম্প্রতিক সফরের সময়ে ভারতীয় সাংবাদিকেরাও একই প্রশ্ন করেছিলেন। আমি বলেছি, ভারত যখন আক্রান্ত হবে, তখন নিশ্চয়ই আমরা ভারতের সঙ্গে থাকব।’

চলমান অবস্থায় বাংলাদেশের কোনো প্রস্তুতি রয়েছে কি না—জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের বর্ডার নেই। ১ হাজার ২০০ মাইল দূরে তাদের অবস্থান। তাদের হুংকার, হাঁকডাকে আমাদের কিছু আসে-যায় না। আমরা তাদের ১৯৭১ সালে পরাস্ত করে বিদায় করে দিয়েছি। তাদের কথা চিন্তাও করতে চাই না, স্মরণও করতে চাই না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমােন্ত হত্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার। এখন বিজিবি ও বিএসএফের সুসম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শ্যামল সরকার। এতে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা শামীম চৌধুরী, বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ বক্তৃতার নামে সিইসি, কমিশনার, সচিবদের পকেটে দেড় কোটি টাকা


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও কমিশনারদের মতো সাংবিধানিক পদের পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে বক্তৃতা না দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের সঙ্গে আছেন ইসির সচিবসহ পদস্থ কর্মকর্তারা। আর এই অর্থের পরিমাণ একেবারে কম নয়, দেড় কোটি টাকা।

বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও এরপরে উপজেলা নির্বাচনে প্রশিক্ষণ উপলক্ষে শুধু ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেবে বক্তৃতা দিয়ে তাঁরা এই অর্থ নিয়েছেন। আর এর বাইরে ‘কোর্স উপদেষ্টা’ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের তৎকালীন সচিব (বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব) একাই নিয়েছেন ৪৭ লাখ টাকা। তিনি ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেবেও টাকা নিয়েছেন। তবে তা কত জানা যায়নি।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশন ৬১ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। আর উপজেলা নির্বাচনে প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার নামে যাঁরা টাকা নিয়েছেন তাঁরা হলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা; চার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও কবিতা খানম; সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ; অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান এবং দুই যুগ্ম সচিব আবুল কাশেম ও কামরুল হাসান। উপজেলা নির্বাচনে ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেব এর সঙ্গে আরও চারজন যুগ্মসচিব যুক্ত হয়েছেন। এদিকে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে একটি প্রশিক্ষণ থেকে ‘কোর্স পরিচালক’ হিসেবে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক নিয়েছেন ১৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ ‘বিশেষ বক্তা’, ‘কোর্স উপদেষ্টা’ ও ‘কোর্স পরিচালক’ হিসেবে তাঁদের পকেটে গেছে দুই কোটি টাকার বেশি।

এভাবে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিইসি ও চার কমিশনারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাবেক ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেননি। তিনি বলেছেন, এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।

বিগত সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশন ‘বিশেষ বক্তা’র একটি প্যানেল গঠন করা হয়। এতে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনের উচ্চপদস্থ ১৩ কর্মকর্তা। আর ‘কোর্স উপদেষ্টা’ নামে আরেকটি পদ সৃষ্টি করে তাতে পদায়ন করা হয় সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে।

ইসি সচিবালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় নয়জন ‘বিশেষ বক্তা’ ১৮ দিনে (৭ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮) জেলা ও উপজেলার ৫২০ জায়গায় বক্তৃতা দিয়েছেন। প্রতিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চারজন ‘বিশেষ বক্তা’র উপস্থিত থাকার কথা। ফলে সাধারণ পাটিগণিতের হিসাবে প্রত্যেক ‘বিশেষ বক্তা’কে দিনে কমপক্ষে ১৪টি স্থানে বক্তৃতা দিতে হয়েছে। বাস্তবে যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ থেকে বোঝা যায়, বক্তৃতাস্থলে উপস্থিত না থেকেই তাঁরা টাকা নিয়েছেন। এভাবে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় যাঁরা অর্থ নিয়েছেন, তাঁদের কেউ কেউ সম্মানী ভাতা ফেরত পাঠাতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

ইসির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের এভাবে অর্থ নেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইসির ইতিহাসে এমন ব্যয়বহুল প্রশিক্ষণ হয়নি। আমাদের সময়ে সিইসি, আমি ও অন্য কমিশনাররা দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণে বক্তৃতা দিয়েছি। কিন্তু কোনো ভাতা নিইনি। এমনকি সচিবও বক্তৃতা দিয়ে ভাতা নিতেন না। সে রকম রেওয়াজও ছিল। এবার যা ঘটেছে সেটা অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ছাড়া আর কিছুই নয়। এ জন্য অবশ্যই জড়িতদের দায় নিতে হবে।’

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা যায়, সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে প্রশিক্ষণের জন্য অতীতে ‘বিশেষ বক্তা’ বা ‘কোর্স উপদেষ্টা’ বলে কিছু ছিল না। গত নির্বাচনের সময় এসব সৃষ্টি করা হয়েছে কেবল অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার জন্য।

এ বিষয়ে জানতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হলে নির্বাচন কমিশন থেকে কিছু তথ্য দেওয়া হয়। তবে ‘বিশেষ বক্তা’রা কে কত টাকা নিয়েছেন তার হিসাব দেয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এ তথ্য জানাননি।

পত্রিকা ঘেঁটে পাওয়া তথ্য

ইসির নথিতে আছে, সিইসিসহ এই কর্মকর্তারা ১৮ দিনে ৫২০টি স্থানে বক্তৃতা করেছেন। কিন্তু প্রথম আলো ছাড়াও জনকণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ ও ডেইলি স্টার ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৭ থেকে ২৪ ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে সিইসি দুবার ঢাকার বাইরে যান। ১৮ ডিসেম্বর সিইসি চট্টগ্রাম-রাঙামাটিতে এবং ২২ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে যান। সেখানে তিনি শীর্ষ বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। চট্টগ্রাম সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ। এর বাইরে কমিশনার রফিকুল ইসলাম ১৫ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে এবং ২১ ডিসেম্বর রাজশাহীতে নারীদের ভোটাধিকার বিষয়ক দুটি কর্মশালায় অংশ নেন। কবিতা খানম ২২ ডিসেম্বর যশোরে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ প্রতি তাঁদের প্রত্যেকের সম্মানী ছিল পাঁচ হাজার টাকা।

তবে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মহাহিসাব নিরীক্ষক এম হাফিজ উদ্দীন খান প্রথম আলোকে বলেন, এখানে প্রশিক্ষণের নামে লুটপাট হয়েছে। ‘বিশেষ বক্তা’র নামে পুরো কমিশন ও সচিব যে টাকা নিয়েছেন তার পুরোটাই বেআইনি। কারণ, প্রশিক্ষণের অর্থ হলো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে খাতায় সই করতে হবে। টাকা নেওয়ার সময়ও সই করতে হবে। তাঁরা সেটা করেছিলেন কি না, তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে।

ইসির হিসাব বলছে, সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে বরাদ্দ ছিল ৪৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এই অর্থ থেকে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা ভাগ করে নিয়েছেন নয় জন ‘বিশেষ বক্তা’। এই হিসাবে প্রতিজনের ভাগে পড়ে ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ৫২০টি প্রশিক্ষণের প্রতিটিতে ৪ জন করে ‘বিশেষ বক্তা’ দেখানো হয়েছে। ইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, সিইসি, চার নির্বাচন কমিশনার ও চার কর্মকর্তা এভাবে দেশজুড়ে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ালে সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল আয়োজনের বাকি কাজ বন্ধ রাখতে হতো।এভাবে প্রশিক্ষণে ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেবে ইসির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা অর্থ গ্রহণ করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক আহমেদ আতাউল হাকিম প্রথম আলোকে বলেন, প্রশিক্ষণে বক্তৃতার বিনিময়ে টাকা নেওয়ার কথা থাকলে অবশ্যই প্রশিক্ষণস্থলে উপস্থিত হয়ে বক্তৃতা দিয়ে টাকা নিতে হবে। উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে রেজিস্ট্রারে সই করতে হবে এবং ভাতা গ্রহণের সময়ও সই করতে হবে। ‘কোর্স উপদেষ্টা’ পদ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি যতটা না আইনি, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন নৈতিকতার। নৈতিকভাবে এ ধরনের কাজ মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়।

বক্তৃতার নামে টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা যেভাবে

বিশেষ বক্তাদের বক্তৃতা বাবদ অর্থ মাঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঢাকায় এনে ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়। এই প্রশিক্ষণের ‘কোর্স উপদেষ্টা’ হিসেবে দেখানো হয় হেলালুদ্দীন আহমদকে। তিনি প্রতি প্রশিক্ষণ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে ৫২০টি প্রশিক্ষণ থেকে ২৬ লাখ টাকা নিয়েছেন। অথচ এই প্রশিক্ষণে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের যাতায়াত ভাতা হিসেবে মাত্র ৫০০ টাকা এবং পোলিং অফিসারদের ৪০০ টাকা করে দেওয়া হয়।

২০০৭–০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ইসির সচিব হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ সব সময় থাকে। তবে সেই প্রশিক্ষণ দিতেন জেলা ও উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তারা। ঢাকা থেকে কমিশনার বা সচিবেরা যেতেন না। কোর্স উপদেষ্টা নামেও কোনো পদ ছিল না। অবশ্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কিছু প্রশিক্ষণ ঢাকায় হয়ে থাকে। সেগুলোতে প্রশিক্ষক হিসেবে তাঁরা গেলেও সম্মানি ভাতা পেতেন।

সংসদ নির্বাচনের পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য মাস্টার ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় জেলা পর্যায়ে। এ খাতে ‘বিশেষ বক্তা’রা ৬৪ জেলা থেকে ৫ হাজার টাকা করে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন। এখানেও ‘কোর্স উপদেষ্টা’ হিসেবে হেলালুদ্দীন একাই নেন ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

উপজেলা নির্বাচনেও একই মডেল

নির্বাচন প্রশিক্ষণ–সংক্রান্ত ৪৩১টি উপজেলার হিসাবে দেখা যায়, সেখানে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের সংখ্যা ছিল মোট ৬ লাখ ২০ হাজার ৯২৩ জন। এই প্রশিক্ষণে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ভাতা দেওয়া হয়েছে পাঁচ শ টাকা করে এবং পোলিং অফিসারদের চার শ টাকা করে। প্রশিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা করে। সারা দেশে ৪৩১টি উপজেলায় ২ দিনে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু মাঠ পর্যায়ে অনুপস্থিত থেকেও ‘বিশেষ বক্তা’রা এসব প্রশিক্ষণ থেকে উপজেলা প্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ৪৩ লাখ ১০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা নিয়েছেন। ‘কোর্স উপদেষ্টা’ হিসেবে ইসি সচিব নিয়েছেন প্রতি উপজেলা থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ২১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। আর কোর্স পরিচালক হিসেবে ইটিআইয়ের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক নিয়েছেন প্রতি উপজেলা থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা করে মোট ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা।ইভিএমে ভোটগ্রহণের জন্য শুরুতে নির্ধারণ করা হয় ৪৬টি উপজেলা। এসব উপজেলার প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের ইভিএম–সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে ব্যয় হয় ৭ কোটি ৭২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এই খাতে ‘বিশেষ বক্তা’রা প্রতি উপজেলা থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট চার লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কোর্স উপদেষ্টা নেন পাঁচ হাজার টাকা করে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোর্স পরিচালক নেন সাড়ে চার হাজার টাকা করে ২ লাখ ৭ হাজার টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছিল মাত্র ১০ উপজেলায়। বাকি উপজেলাগুলোতে দেওয়া প্রশিক্ষণ কোনো কাজে আসেনি।

১০টি উপজেলায় ভোট গ্রহণে ইভিএমের পরীক্ষামূলক ব্যবহার–সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে একই কায়দায় ভাতা নেন সিইসি, চার কমিশনার ও সচিব।

১০টি উপজেলার ভোটারদের ইভিএমে ভোট দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাঁচ দিনের এই প্রশিক্ষণে ব্যয় হয় ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা। এখান থেকে কোর্স উপদেষ্টা নেন উপজেলা প্রতি সাড়ে সাত হাজার টাকা করে মোট ৭৫ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে কোর্স উপদেষ্টা ছিলেন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। জানা যায়, এর কয়েকটি প্রশিক্ষণে এই কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। এর প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে ইসি সচিবও সমান হারে ৭৫ হাজার টাকা নেন।

পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের জন্য মাস্টার ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণে ব্যয় হয় ২ কোটি ৬৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। এ খাতে বিশেষ বক্তারা ৬৪ জেলা থেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা ভাতা নেন। কোর্স উপদেষ্টা নেন পাঁচ হাজার টাকা করে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর কোর্স পরিচালক নেন ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

উপজেলা নেই, তাই ব্যাচ

সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের কিছু প্রশিক্ষণ ঢাকার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এসব প্রশিক্ষণে উপজেলা প্রতি ভাতা নির্ধারণের সুযোগ না থাকায় ব্যাচ করে ভাতা ধরা হয়। সংসদ নির্বাচনে ইসি সচিবালয় ও এর মাঠ কর্মকর্তাদের ইভিএম–সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ব্যয় হয়েছে ৪৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২৪টি ব্যাচে এই প্রশিক্ষণ হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাচে দুজন বিশেষ বক্তার ভাতা ছিল ১০ হাজার টাকা করে। এই হিসাবে ২৪টি ব্যাচ থেকে তাঁরা নিয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বক্তৃতা না দিয়েই কোর্স উপদেষ্টা প্রতি ব্যাচ থেকে তিন হাজার টাকা করে মোট ৭২ হাজার টাকা নিয়েছেন।

একই নির্বাচনে তিনটি ব্যাচে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে ব্যয় হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ১০০ টাকা। এই খাত থেকে ৬ জন বিশেষ বক্তা প্রতি ব্যাচ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৯০ হাজার টাকা সম্মানী নেন। কোর্স উপদেষ্টা নেন ৭ হাজার ৫০০ করে।এর বাইরে সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ, ইলেকক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণ, অনলাইনে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ও অফিস সহাকারীদের প্রশিক্ষণ এবং ইসির কর্মকর্তা প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ থেকে বিশেষ বক্তা, কোর্স উপদেষ্টা ও কোর্স পরিচালক সম্মানি ভাতা নেন। এ ক্ষেত্রে বিশেষ বক্তাদের নেওয়া মোট টাকার অঙ্ক ১০ লাখ টাকার ওপরে। কোর্স উপদেষ্টার অঙ্কও ১০ লাখ টাকার ওপরে।

কর্মকর্তারা যা বললেন, যা বলেননি

এ বিষয়ে গত ২২ জুলাই প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সিইসি কে এম নূরুল হুদার কাছে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। নূরুল হুদা বর্তমানে সরকারি খরচে হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে আছেন।

কমিশনার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাতের অনুমতি চাইলেও তিনি সাক্ষাৎ দেননি। যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি কমিশনার মাহবুব তালুকদার ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। কবিতা খানমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

ইসির তৎকালীন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ অবশ্য বলেছেন, ‘নির্বাচনে ১১ লাখের বেশি কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাজেটও বড় ছিল। সেই বাজেট কমিশন অনুমোদন করেছে। এতে কোনো অনিয়ম হয়েছে বলে আমি মনে করি না।প্রশিক্ষণের নামে অর্থ গ্রহণের বিষয়ে ইটিআইয়ের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য ইটিআই খসড়া বাজেট প্রস্তাব করেছে। সেই প্রস্তাব চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য কমিশন সভায় তুলেছে ইসি সচিবালয়। কমিশন সেটা অনুমোদন করেছে।

ইসির বর্তমান সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘কাজগুলো আগের সচিবের সময়ের। তাই এসব বিষয়ে আমার তেমন কিছু জানা নেই।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, নির্বাচন করা নির্বাচনের কমিশনের কাজ। কোথাও গিয়ে বক্তৃতা দিলেও সেটা কাজের অংশ। এ থেকে ভাতা নিতে হবে কেন? পুরো ব্যাপারটাই অন্যায়, অনৈতিক।

উৎসঃ প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে এক স্বৈরাচারের বিদায়, গদিতে বসা আরেক স্বৈরাচারের


শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ চালাচ্ছেন তা স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির শাসন ছাড়া আর কিছুনা। এমন স্বৈরতান্ত্রিক চিন্তা এরশাদের মাথাতেও আসেনি।বাংলাদেশে একনায়কের বিদায় হয়েছে। আর সে বিদায়ের পর ক্ষমতার গদি আঁকড়ে আছে আরেক একনায়ক।

এশিয়ান টাইমসে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর হালচাল নিয়ে এমনি সোজাসাপ্টা অভিমত ব্যক্ত করেছেন জন কনারস। “এস বাংলাদেশ বুরাইজ ওয়ান ডিকটেটর, এনাদর হোল্ডস ফার্ম,” শিরোনামের এই সম্পাদকীয়টি প্রকাশিত হয় ৩১ জুলাই। জাস্ট নিউজ পাঠকদের জন্য তার ভাবানুবাদ প্রকাশ করা হলো:

১৯৮০ পরবর্তী দশকে যে জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশ শাসন করেছেন গত ১৪ জুলাই তিনি ইন্তিকাল করেছেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিরক্তিকর একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। সদ্য যৌবনে পা রাখা দেশটির সবচাইতে বিতর্কিত শাসনামল ছিলো সেটা। বাংলাদেশিরা তার বিদায়ে পেছন ফিরে তাকালে দেখতে পাবে কীভাবে একজন স্বৈরশাসন চালিয়েছিলো আর পরবর্তীতে কীভাবে সে রাজনীতির ছায়ায় পালিত হলো। এরশাদের এই রাজনৈতিক প্রভাবকে আজো খেলো হিসাবেই দেখা হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতির হিসেব-নিকেশে একমাত্র স্বৈরশাসকে হিসেবে যাকে দেখা হয় তিনি হলেন এরশাদ।

অতীতের যারা সাক্ষী তারা ১৯৮২ সালে সাবেক এই ক্ষমতাধর শাসকের (এরশাদ) মার্শাল ল জারিকে উঠতি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের নকশা মনে করেন। তরুণ বাংলাদেশিরা তাকে শুধুমাত্র একজন সুবিধাবাদী হিসেবেই চিনে। অধিকন্তু এরশাদ ছিলেন স্বৈরশাসক, স্বৈরতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এরশাদকে আমরা যেভাবেই স্মরণ করিনা কেন বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতির হিসেবে তাকে কিছুতেই অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। অন্ততপক্ষে তিনি ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনাকে যেভাবে সমর্থন যুগিয়েছেন সেটার জন্য হলেও তাকে মনে রাখতে হয়। ১৯৭৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত একের পর এক যতো সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে তাতে এরশাদের কল-কাঠি নাড়ায় শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগ উপকৃত হয়েছে। সেই ফলের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে দলটি ভালো একটা বিজয় পেয়েছে!

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পর বাইরের দিক থেকে সবার প্রত্যাশা ছিলো বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উপায় এবং পন্থাগুলো বিকশিত হবে। দেশ স্থিতিশীল হবে। বাস্তবতা হচ্ছে, হাসিনা যেভাবে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছেন তা স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির বাস্তবায়ন। এরকম স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতি এরশাদের মাথাতেও আসেনি।

প্রধান সব বিরোধীদলগুলো ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বয়কট করেছিলো। ২০১৮ সালেও স্পষ্টত অস্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে যেটাকে নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে “প্রহসন”।

ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য হাসিনাকে কোনো অভ্যুত্থান করতে হয়না। কিন্তু বিরোধীদলকে শেষ করে দেবার যে নির্ভার পন্থা তিনি বেছে নিয়েছেন তাতে করে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিকাশের আশা অংকুরে মরে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের ভোটে অংশ নিয়েছিলো বিএনপি। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগে দলটির হাজারো নেতা-কর্মী আর নির্বাচনী প্রার্থীকে গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হয়। ভোটের দিনেও ৪০ এর বেশী প্রার্থী নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলো।

হাসিনা সরকারের অধীনে রাজনৈতিক বিরোধী কর্মী এবং সমালোচকদের সহিংসভাবে দমন করা হয়। আইনের ইচ্ছামতো বদল করে সমাজকর্মী, সাংবাদিক এবং শিল্পীদের আটকে এবং জেলে পুরা হয়। বাংলাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বাহানা করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে ব্যবহার করে শতাধিক লোককে হত্যা করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে হাজারো মানুষকে। রাজপথে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।

যারা অনলাইনে সরকার, প্রধানমন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর স্বজনদের যারা সমালোচনা করে তাদের আটক করতেই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বানানো হয়েছে। ২০১৮ সালের আগস্টে ফেসবুকে এবং আল-জাজিরায় মানবাধিকার লংঘন নিয়ে কথা বলার অপরাধে সাংবাদিক এবং সমাজকর্মী শহীদুল আলমকে ১০৭ দিন জেলে থাকতে হয়েছে।

সবচাইতে অন্যায় আচরণের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে বিএনপি এবং তার নেতাকর্মীদের। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবদনের প্রেক্ষিতে দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে দ্বিগুণ করে সেটা ১০ বছর বানানো হয়েছে। গত বছরের শুরু দিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়। এটাকে ২০১৮ সালের নির্বাচন থেকে খালেদা জিয়াকে বঞ্চিত করার কৌশল বলেছেন সমালোচকরা। আর শেষমেষ সে বুদ্ধিই কাজে লাগানো হলো।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, “২০১৮ সালের বাংলাদেশ নির্বাচনে যেটা খোলাখুলিভাবে দৃশ্যমান হলো তা হলো সরকার শক্ত হাতের ভয় দেখিয়ে তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করছে।”

“সরকারের উচিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মুক্ত মতপ্রকাশ, আইনের স্বাধীনতা এবং গতিশীল সুশীল সমাজকে স্বীকৃতি দেয়া।”

হাসিনার সমর্থকরা তার নেতৃত্বকে বৈধতা দিতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বুলি কপচায়।

হাসিনার একনায়কতান্ত্রিক শাসনে অস্থিরতা ক্রমশ বড়ছে। আর সেটা এখনকার জন্য যেমন, তেমনি দীর্ঘ মেয়াদের জন্যও একটা ঝুঁকি। তার সরকার যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলছে সেটা একটা ঝুঁকি হিসেবে থেকেই যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে নেমে আসে তখন থ্রিজি এবং ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় সরকার।

উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ায় বাংলাদেশের অংশীদার যারা রয়েছে তাদের উচিত সরকারের এসব নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলা।

শেখ হাসিনা ধারাবাহিকভাবে কঠোর হস্তে নির্যাতন করে তার সমালোচকদের মুখ বন্ধ রাখতে চাইছে। এতোকিছু করেও তিনি জাতিসংঘ থেকে “চ্যাম্পিয়নস অফ দ্যা আর্থ” পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন। পরিবেশ নিয়ে সংবিধান ধারা সংশোধন করার কারণে জাতিসংঘ যখন তাকে স্পষ্টত পুরস্কৃত করছে ঠিক সেই সময়টাতেই গণতন্ত্র সুরক্ষার প্রতি তার যে অবজ্ঞা সে বিষয়টি কিন্তু দৃষ্টিসীমার বাইরে ফসকে যাচ্ছে।

যখন মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং হংকংয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা নিয়ে কথা হয় তখন কিন্তু বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অবনতির বিষয়টি নিয়ে কথা হয়না। ভালো পরিবেশে রাজনীতি থেকে মানুষ কী প্রত্যাশা করতে পারে -এরশাদের মৃত্যু সে বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।

উৎসঃ justnewsbd

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশের পরই সব দুধ খাটি!


সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ। এখানে যে সব কিছুই সম্ভব সেটা আবারও প্রমাণ করলেন সরকারের অনুগত বিচারপতিরা। দেশে উৎপাদিত পাস্তুরিত দুধ নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই সমস্যা চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছেন এসব দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক মাত্রায় ভারী ধাতু, সালফা ড্রাগ ও অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব আছে। তার এই পরীক্ষাকে যাছাই করার জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিলেন আদালত। তারা যাছাই করে দুধে এসব ক্ষতিকর উপাদান পেয়েছে। আদালতে তারা গত সোমবার এনিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

এরপর আদালত ১৪টি কোম্পানিকে দুধ উৎপাদন করতে নিষেধ করেছেন। এছাড়া উৎপাদিত দুধ বিক্রি বন্ধ করতেও আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার পরই তেলেবেগুনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন শেখ হাসিনা। লন্ডনে বসে তিনি বললেন-কোথা থেকে এক প্রফেসর এসে এসব পরীক্ষা করেছে? ফারুক আহমেদের এই পরীক্ষার সঙ্গে দুধ আমাদানী কারকদের কারসাজি আছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করলেন শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশ করার পরই বুধবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) পুষ্টি ইউনিটের করা পরীক্ষার বরাত দিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বললেন-এসব পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত তরল দুধ খেলে কোনো ক্ষতি নেই। সম্প্রতি দুধের মধ্যে ভারী ক্ষতিকর ধাতুর অস্তিত্বের যে খবর ছড়িয়েছে, তা সত্য নয়। তাই তরল দুধ খাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের এই রিপোর্ট হাইকোর্ট বিবেচনায় নেবেন বলেও তিনি তখন আশা প্রকাশ করেন।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের আশা প্রকাশের এক ঘণ্টা পরই চেম্বার আদালত আদেশ দিলেন যে, ১৪টি কোম্পানির দুধে ক্ষতিকর কিছু নেই। এই দুধ উৎপাদন ও বিক্রি চলবে।

আদালতের এই আদেশের পর মানুষ বিস্ময় প্রকাশ করছেন। আগের দিন যেখানে হাইকোর্ট বলেছে দুধে ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। এই দুধ উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। সেখানে একদিন পরই এসব দুধ কি করে খাটি হয়ে গেল?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ হাসিনার ক্ষোভকে প্রশমন করতেই চেম্বার আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। চেম্বার বিচারপতিরা দুধ কোনো পরীক্ষা করেননি। শুধু সরকারকে খুশী রাখতেই তারা এই আদেশ দিয়েছেন। পদ ধরে রাখার জন্য এই মুহূর্তে জাতির বৃহত্তর স্বার্থের চেয়ে সরকারের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন তাদের মূল কাজ। সেটাই তারা করেছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here