আওয়ামীলীগ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিতে দলীয় কর্মীর ভূমিকায় ৪ ওসির ফটোসেশন!

0
660

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রাপ্ত গাইবান্ধার-৫ আসনে প্রার্থী এ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়া ও গাইবান্ধার-৩ আসনে প্রার্থী ডা. ইউনুস আলী সরকার এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মোয়াজ্জোম হোসেন রতনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় নেতাকর্মীদের ভূমিকায় ৪ (চার) ওসির ফটোসেশনে তোলপাড় চলছে সর্বত্র।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ছবি ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক তোলপাড়। চার পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- গাইবান্ধার সাঘাটা থানা পুলিশের ওসি মোস্তাফিজার রহমান ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানা পুলিশের ওসি হিপজুর আলম মুন্সী এবং সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল হাসেম। আরেকজনের তাৎক্ষনিক নাম জানা যায়নি।

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় চার ওসির ফটোসেশনে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একেবারে দলীয় কর্মীর ভূমিকায় গিয়ে তারা প্রার্থীর সঙ্গে ছবি তোলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

পাশাপাশি সাঘাটা থানা পুলিশের ওসি মোস্তাফিজারের সঙ্গে বোনারপাড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমানও ফটোসেশনে অংশ নেন।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রাপ্ত গাইবান্ধার-৫ আসনে প্রার্থী এ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়ার সাথে দুই ওসি

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল কুমার ঘোষের কাছে গাইবান্ধা-৫ আসনের (ফুলছড়ি-সাঘাটা) এমপি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময়ে ফটোসেশনে অংশ নেন সাঘাটা থানা পুলিশের ওসি মোস্তাফিজার রহমান ও বোনারপাড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান।

পাশাপাশি পলাশবাড়ী উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল হোসেনের কাছে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের ক্ষমতাসীন দলের এমপি ডা. মো. ইউনুস আলী সরকার মনোনয়নপত্র জমার সময় ফটোসেশনে অংশ নেন পলাশবাড়ী থানা পুলিশের ওসির হিপজুর আলম মুন্সী।

এ বিষয়ে ওসি হিপজুর আলম বলেন, আমরা ওখানে ছিলাম। দায়িত্ব পালনের সময় নেতাকর্মীদের বারবার ডাকে মনোনয়নপত্রে হাত দিয়েছি। তবে এমন ছবি সারা দেশে অনেক হয়। সেসময় আমাদের অনুরোধ করা হয়েছে ছবি তোলার জন্য। এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তোলা হয়নি। নির্বাচনী নীতিমালার কোনো লঙ্ঘন নয়। তবে এটি নিয়ে কেউ বিতর্ক করতে চাইলে করতে পারেন।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রাপ্ত গাইবান্ধার-৫ আসনের প্রার্থী গাইবান্ধার-৩ আসনে প্রার্থী ডা. ইউনুস আলী সরকারের সাথে ওসি

এ বিষয়ে সাঘাটা থানা পুলিশের ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেছি। আমরা ইউএনওর সঙ্গে ছিলাম। তাকে সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেয়া আমাদের দায়িত্ব। প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেছেন। আমরা সঙ্গে ছিলাম। এখানে অন্য কিছু হয়নি।

মনোনয়ন জমার সময় দলের প্রার্থীদের সঙ্গে ফটোসেশনের বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, বিষয়টি আমার নজরে পড়েছে। নিরাপত্তার কারণে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারেন, কিন্তু হাত বাড়িয়ে দেয়া ঠিক হয়নি। এ নিয়ে তাদের সতর্ক করাসহ জবাব দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রাপ্ত সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মোয়াজ্জোম হোসেন রতনের সাথে ওসি

সুনামগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোয়াজ্জোম হোসেন রতনের মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় ওসির ভূমিকা নিয়ে তোলপাড় সুনামগঞ্জে। বিকেলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট সুনামগঞ্জ ১ আসনের আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন মনোনয়নপত্র জমাদানকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ফটোসেশনে অংশ নেন জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল হাসেম । তার এমন আচরণে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সুনামগঞ্জে।

এ বিষয়ে ওসি আবুল হাসেম যমুনা নিউজকে জানান, তিন সেখানে ছিলেন, তারা এমন ভাবে ডেকেছে আমি আর এতকিছু খেয়াল করিনি। এখন মনে হচ্ছে এভাবে ছবি তোলা ঠিক হয়নি। বিষয়টি নজরে আনতেই সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তিনি।

সুত্রঃ আরটিএনএন, যমুনা টিভি

আরও পড়ুনঃ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেঃ বিএনপি (ভিডিও সহ)

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘কোন যুদ্ধপরাধীকে আমরা ধানের শীষ প্রতিক দিবো না এটা আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে পারি। আর তাছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে অনেক মুক্তযোদ্ধাও আছে।’

বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করার জন্য দলের কিছু নেতা মনোনয়ন জমা দেননি বলেও জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান।

আজ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের দলের প্রধান খালেদা জিয়া এবার জেলে। নির্বাচনে সকলের জন্য কাজ করেন তিনি নিজেই। এবার সেই কাজটা আমাদের সকলকে মিলে করতে হবে। যারা জমা দেননি তারা প্রত্যেকে যোগ্য নেতা। আমি নিজে মনোনয়নের দরখাস্ত করিনি। রুহুল কবির রিজভী সাহেব দরখাস্ত করেননি।

বলতে পারেন এটা আমাদের নির্বাচনী কৌশল।

ভিডিওঃ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেঃ বিএনপি

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি কোন যুদ্ধাপরাধীকে আমরা প্রতীক দেব না। জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে শুধু যুদ্ধাপরাধী নয় অনেক মুক্তিযোদ্ধাও আছে। লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, তিন মাস আগে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারান্তরীণ তেজগাঁও ছাত্রদলের নেতা আব্দুল্লাহ আল তামিম গাজীপুর জেলে গতকাল মৃত্যুবরণ করেছে। কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও সরকারের নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার পর এবছর আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করতে বর্তমান আওয়ামী ভোটারবিহীন সরকার। এই জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারান্তরীণ করার মহাতৎপরতা চালাচ্ছে। ভীষণ অসুস্থ হলেও জেলখানায় তিলে তিলে শেষ করার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের কোন চিকিৎসা দেয়া হয় না। এভাবে চিকিৎসা না পাওয়ায় আওয়ামী শাসনামলে বিএনপির তৎকালীন ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুসহ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর জেলখানায় করুণ মৃত্যু হয়েছে। আর গতকাল গাজীপুর কারাগারে এই ধরণের নির্মম ও করুণ মৃত্যুর আরেকজন শিকার হলো তেজগাঁও ছাত্রদলের নেতা আব্দুল্লাহ আল তামিম। জেলখানায় আব্দুল্লাহ আল তামিমের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি, তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি ও শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।

তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এর শাহজাহানপুরস্থ বাসা সার্বক্ষনিক ঘিরে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। মির্জা আব্বাস এর বাসায় ঢোকা ও বেরুনোর সময় নেতাকর্মীদেরকে লাগাতার গ্রেপ্তার করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। গত পরশু থেকে এপর্যন্ত পল্টন থানা ১৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক মো: মুন্না, মো: বেলাল হোসেন, কামাল, শরীফ খান, মুগদা থানা যুবদল য্গ্মু আহবায়ক মেহরাজ উদ্দিন মিল্লাত, মিথুন মোল্লা, বাবু, শাহবাগ থানা প্রেসক্লাব ইউনিট বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শিপন, শাহবাগ থানা জাসাস এর সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শরীফ পাঠান, ঢাকা মেডিকেল ইউনিট ছাত্রদল সভাপতি মো: আজিম, পল্টন থানা ছাত্রদল নেতা নোমানসহ সারা এলাকা থেকে কমপক্ষে ৫০/৬০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক মির্জা আব্বাস সাহেবের বাসা সর্বক্ষণ ঘিরে রাখার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বাসার সামনে থেকে নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

ভিডিওঃ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন নজরুল ইসলাম খান

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ভোলা জেলার তজুমুদ্দিন উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এর পক্ষে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে ফিরে আসার সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডার’রা সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতা মামুন, যুবদল নেতা ইব্রাহিমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে প্রচন্ড মারধর করে। সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজন নেতাকর্মী স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এর পরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে এবং এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ ও আওয়ামী গুন্ডারা কয়েক ঘন্টাব্যাপী হামলা চালায় এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সমগ্র লালমোহন ও তজুমুদ্দিন উপজেলায় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আমি সন্ত্রাসীদের এধরণের বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি, ধিক্কার জানাচ্ছি। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। এছাড়া তজুমুদ্দিন থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত পাটোয়ারীকে গত মধ্যরাতে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি তার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় নরসিংদীতেও নির্বাচনী আচরণবিধি তোয়াক্কা করছে না সরকার দলীয় প্রার্থীরা। বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপি’র সভাপতি খায়রুল কবির খোকন এর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে নির্বাচন থেকে দুরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে। জেলাব্যাপী পুলিশ প্রশাসন সরকারী দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছে। আমি এধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

গতকাল রাত ১০টায় আদাবর থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক কামালকে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তার কোন হদিস দিচ্ছেনা তারা। এ বিষযে বারবার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কামালকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করছে। বিষয়টি চলমান গুম ও অদৃশ্য করারই ধারাবাহিকতা। আমরা অবিলম্বে কামালকে সুস্থ অবস্থায় তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

তেজগাঁও থানা ২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি সাফিজ উদ্দিন ভুইয়া, সহ-সভাপতি মো: আবুল হাশেম, যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম পাটোয়ারী, বিএনপি নেতা নান্নু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইলিয়াস, শিল্পাঞ্চল থানা মহিলা দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আসমা আক্তারসহ আরও কয়েকজনকে গতকাল গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি তার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন]

বিএনপি নেতা নান্নু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইলিয়াস, শিল্পাঞ্চল থানা মহিলা দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আসমা আক্তারসহ আরও কয়েকজনকে গতকাল গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি তার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

হাতিরঝিল থানা মহিলা দলের সভাপতি সালমা কামালের বাসায় তল্লাশীর নামে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে পুলিশ। ঢাকা-১২ আসনে বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় প্রত্যেক নেতাকর্মীর বাড়ীতে বাড়ীতে তল্লাশীর নামে ব্যাপক তান্ডব চালাচ্ছে পুলিশ। আমি পুলিশের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তা বন্ধের আহবান জানাচ্ছি।

এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী মামুন এবং লালবাগের জাসাস নেতা শহীদুল ইসলাম শহীদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

সরকারের অবসরপ্রাপ্ত উপ-সচিব নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়াকে এক ঘন্টা কথা বলার নাম করে গত পরশু রাত ১০টায় র‌্যাব-২ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই দিন নিখোঁজ রাখার পর বর্তমানে তাকে আইসিটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। নিয়ামত উল্লাহ সাহেব বিএনপি’র নির্বাচনী টিমে কাজ করেন বলেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। আরেকটি একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের এটি আরও একটি নগ্ন বহি:প্রকাশ। আমি অবসরপ্রাপ্ত উপ-সচিব নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আইসিটি মামলা প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন]

কুমিল্লা-৬-আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থীর নোমিনেশন পেপার জমা দেয়ার সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে দুর্গাপুর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন মহিলা মেম্বার ও ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম ও কোতোয়ালী থানা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান উপস্থিত থাকাকে অপরাধ মনে করে আওয়ামী ক্যাডাররা তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ককটেল চার্জ করে অনেককে গুরুতর আহত করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় মনোয়ারা বেগম এবং বিএনপি নেতা রায়হানসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। কেন তারা ধানের শীষের প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার সময় মিছিলে অংশগ্রহণ করেছে, এজন্য দাম্ভিকতার সাথে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে ও বাড়ীতে ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়েছে। আমি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও সমুচিত শাস্তির জোর দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন – বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ প্রমুখ।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ গুম-খুনের নায়ক সেই হেলাল এখন ইসি সচিব!

বর্তমানে দেশে সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত ব্যক্তি হলেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালউদ্দীন। নির্বাচন কমিশনের প্রধান কর্তাব্যক্তি হলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তার নির্দেশনার আলোকেই সব কিছু পরিচালিত হবে। কিন্তু বর্তমানে নির্বাচন কমিশন পরিচালিত হচ্ছে ইসি সচিব হেলালউদ্দীনের নির্দেশনার আলোকে।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ইসির বৈঠকে কি কি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে সেটা আগেই সিইসিকে বলে দেন ইসি সচিব। আর ইসি সচিবের কাছে নির্দেশনা আসে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বাসা থেকে । ইসি সচিবের কাছে সব কমিশনারই জিম্মি।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হেলালউদ্দীন আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত লোক। বিগত দিনগুলোতে আওয়ামী লীগ যে কয়জন পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে বিএনপি জামায়াতের ওপর গুম খুন নির্যাতন করেছে তাদের অন্যতম ছিলেন ইসি সচিব হেলালউদ্দীন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর হেলাল‌উদ্দীন যেসব জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছেন সবখানেই বিএনপি জামায়াতের ওপর বর্বর নির্যাতন করেছেন। নিপীড়ণের এমন কোনো পথ নেই যা তিনি অবলম্বন করেননি।

বিশেষ করে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত রাজশাহীতে বিভাগীয় কমিশনার থাকাকালীন বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছেন। দু’বছর রাজশাহী বিভাগে যত গুম ও পলিটিক্যাল কিলিং হয়েছে, সবই ছিল তার লিস্ট করা। পুলিশ দিয়ে এসব গুম খুন করিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার হেলাল। তিনি নিজে করতেন এসব। এমনকি ১৫ জানুয়ারী ২০১৫ এই হেলাল নিজে হুকুম দিয়ে (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই) যৌথ বাহিনীর দ্বারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের ৫০/৬০টি বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। এই হেলালের অত্যাচারে মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। অসহায় নারী পুরুষ আর শিশুদের চিৎকারে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হলেও হেলালের কানে সেই আওয়াজ আসেনি। সেই হেলালউদ্দীনকেই নির্বাচন কমিশনের সচিবের পদে বসিয়েছে আওয়ামী লীগ।

নির্বাচন কমিশনে এসেও হেলালউদ্দীন আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারাদেশে প্রতিদিন বিএনপি জামায়াতের যেসব নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে সবই ইসি সচিবের নির্দেশে হচ্ছে। তার চূড়ান্ত টার্গেট হলো যেকোনো উপায়ে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনা।

অনেকে মনে করছেন, বিএনপির কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশীকে গুম অপহরণ করা হচ্ছে এসবের সঙ্গেও হেলাল জড়িত আছেন। ইসি থেকে হেলালউদ্দীনকে সরানো ছাড়া কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করা ঠিক হবে না।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ গোপন বৈঠক কারা করে, জামায়াত না আওয়ামী লীগ?

এবার রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসছে গোপন বৈঠক। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদিনই এখন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠকের তথ্য ফাঁস হচ্ছে। এসব নিয়ে এখন সারাদেশে তোলপাড় চলছে।

গোপন বৈঠক কি? কতজন লোক নিয়ে বৈঠকে বসলে এটাকে গোপন বৈঠক বলা হয়? বিগত দশ বছর আগে দেশবাসীর এসব জানা ছিল না। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরই মূলত আওয়ামী লীগ সরকার এদেশে গোপন বৈঠক আবিষ্কার করে। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কোনো বৈঠক করলেই সরকারের অনুগত পুলিশ বাহিনী বলছে গোপন বৈঠক। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির এদেশে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। রাষ্ট্রের সংবিধান মেনে গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে তারা তাদের কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের দলীয় বাহিনী হিসেবে পরিচিত পুলিশ সদস্যরা জামায়াত শিবির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেই অপপ্রচার চালায় যে তারা নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করছিল।

এমনকি ২০০ থেকে ৩০০ লোক নিয়ে কোনো রুমে প্রকাশ্যে আলোচনা সভা করলেও সরকার এটাকে বলছে গোপন বৈঠক। মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া মাহফিল ও বিবাহ অনুষ্ঠানে গেলেও পুলিশ বলছে তারা নাশকতার জন্য একত্রিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার এইভাবেই কথিত গোপন বৈঠকের নামে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদেরকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে যাচ্ছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো জামায়াতের কেন্দ্রীয় বয়োবৃদ্ধ নেতাদেরকে বাসা থেকে গ্রেফতার করেও সরকার মিডিয়ায় প্রচার করে যে গোপন বৈঠক থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে কারা গোপন বৈঠক করে? কারা মানুষের অধিকার হরণের জন্য গোপনে বসে ষড়যন্ত্র করে? দীর্ঘদিন পরে হলেও তা দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে ভোট ডাকাতির জন্য কারা গোপনে বসে বসে চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করছে মানুষের কাছে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রশাসনের লোকদের সঙ্গে প্রতিদিন যা করছে সেটাকে শুধু গোপন বৈঠক বললে ভুল হবে। এগুলো গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ গভীর ষড়যন্ত্র।

গত সপ্তাহে রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি গোপন বৈঠকের তথ্য গণমাধ্যমে এসেছে। এবার প্রকাশিত হয়েছে আরও ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের গোপন খবর।

গত মঙ্গলবার অফিসার্স ক্লাবে আগামী নির্বাচনে গণবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগকে জেতানোর জন্য ভয়াবহ গোপন পরিকল্পনা করেছে উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা। আর বৈঠকটি হয়েছে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে। গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, পানিসম্পদ সচিব (শেখ হাসিনার অফিসের প্রাক্তন ডিজি) কবির বিন আনোয়ার, বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব মহিবুল হক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও মহানগরী রিটার্নিং অফিসার সদস্য সচিব আলী আজম, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ (বিচারক কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে) কাজী নিশাত রসুল। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওই দিন রাত সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এ মিটিংয়ে সারা দেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্ল্যান রিভিউ করা হয়। ডিআইজি হাবিব বৈঠকে জানান, পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি সিট নৌকার কনফার্ম আছে এবং ৬০-৬৫ টিতে কনটেস্ট হবে, বাকি আর কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উৎরানো যাবে না।

বিস্তারিত আলোচনা শেষে ওই বৈঠকে মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপি-ফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করা হবে, যতই চাপ দেয়া হোক প্রশাসনে হাত দেয়া যাবে না, ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম খুন করে এমন অবস্থা তৈরি করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

এই গোপন বৈঠক নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে। রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে আওয়ামী লীগ যে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র করছে সেটাই প্রকাশ হলো।

কেউ কেউ বলছেন, এতদিন সরকার ও পুলিশ বাহিনী বলতো জামায়াত শিবির গোপন বৈঠক করে। এবার সরকার নিজেই গোপন বৈঠক শুরু করে দিল। অনেকে আবার বলছেন, জামায়াতের গেপান বৈঠক আওয়ামী লীগ ছিনতাই করেছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আদালতকে ব্যবহার করে নির্বাচন থেকে জিয়া পরিবারকে ‘মাইনাস’ করার চেষ্টা

যেভাইবেই হোক, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম এগোচ্ছে তার নিজস্ব গতিতে। বাংলাদেশের রাজনীতির বড় দুই দলের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে যাচ্ছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও। ইতোমধ্যে মনোনয়ন ক্রয়-বিক্রয়, প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে এক রকম নির্বাচনী আমেজই পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু এর মধ্যেও রাজনৈতিক খেলা কম দেখা যাচ্ছেনা। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’র ন্যাক্কারজনক উদারহরণ তৈরি করা ছাড়াও বিরোধীদের দমনে ক্ষমতাসীনরা ব্যবহার করছে নিজেদের ‘আইনি কৌশল’। আদালতকে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে।

একথা এ জন্য বলা যে, আওয়ামী লীগের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনে আসছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে। যেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে নয়। ইতোমধ্যে বগুড়া’র দু’টি আসনসহ ফেনির একটি আসনে নির্বাচনে প্রার্থীতা দেয়া হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। আর এ ঘটনার পরদিনই নড়েচড়ে বসলেন, আওয়ামী মনোনয়ন প্রার্থী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। জানালেন, নির্বাচন করতে পারবে না খালেদা জিয়া। বগুড়া ৬, ৭ এবং ফেনি ১ আসনে বেগম খালেদা জিয়া থাকতে অন্য কারও জয়ী হওয়া কল্পনা করা সম্ভব না। হয়তো তাই তাকে আটকানোটাই সরকারের প্রথম কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন এই যে, বিচারিক আদালতে দুই বছরের বেশি সাজা হলে এবং আপিলে মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে, সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল বা স্থগিত করে তাকে জামিন দেয়। আদালত যে শাস্তি স্থগিত করবে না তা পরিস্কার। আর খালেদা জিয়াকেও যে এই কৃত্রিম আইনি জালে আটকে ফেলা হয়েছে, তাও পরিস্কার।

এই একই রায়ে আটকে যাচ্ছে তারেক রহমানের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা। অন্যদিকে, তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানও ভোটার তালিকা হাল নাগাদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রচলনের সময় তিনি অনুপস্থিত থাকায় নতুন আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার ফলে, জোবাইদা রহমানেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

প্রশ্ন উঠছে, শেষ মুহূর্তে আদালতের এই রায় ‘জিয়া পরিবার’রকে মাইনাস করার কোন ষড়যন্ত্র নাতো? যে ষড়যন্ত্র কার্যকর করতে ক্ষমতাসীনরা আশ্রয় নিচ্ছেন ‘আদালত’র। মূলত আদালততো তাদেরই! যেখানে রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল দলীয় মনোনয়ন ফর্ম কেনেন, তিনি যে দলের হয়ে কাজ করবেন না। তা কি করে বিশ্বাস করা সম্ভব।

অথচ আওয়ামী লীগ শামীম ওসমান, পংকজ দেবনাথদের মতো দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ওই একইভাবে আইনি মারপ্যাচে প্রমাণ করেছেন ‘দুধে ধোয়া তুলসী পাতা’ আর মনোনয়ন দিয়ে দায়িত্ব দিতে চলেছেন ‘দেশের সেবা’ করার।

উৎসঃ জবান

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here