‘বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে কোনো শিশুই নিরাপদ নয়’ – বিষয়টি প্রচন্ড উদ্বেগজনক!

0
522

সাত বছরের ছোট্ট শিশু সামিয়া আফরিন সায়মা। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলাই ছিল তার নেশা। ওয়ারি সিলভারডেল স্কুলের নার্সারিতে পড়তো। সে ছিল মায়াবী এবং মিশুক। ওয়ারির ১৩৯ নং বনগ্রাম রোডের বাসায় এখন শোকের মাতম। সায়মার মায়ের আহাজারিতে কংক্রিটের দেয়ালগুলোও যেন গুমরে কাঁদছে। ওদিকে নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লায় বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে সম্প্রতি আটক হয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল আমিন। তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

র‌্যাবের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওই শিক্ষক মাদ্রাসার ১০ থেকে ১২ জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। এ ছাড়া তার মুঠোফোন ও কম্পিউটারে তল্লাশি চালিয়ে পর্নো ভিডিও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুদের ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছে আল আমিন। এমন একটি দুটি নয়। প্রতিদিন ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা। শিশুরাও এখন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

চলতি মাসে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল খায়ের বেলালী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পৃথক দুটি ধর্ষণ মামলায় তাঁকে জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আবুল খায়ের বেলালী কেন্দুয়া পৌরশহরের একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তাঁর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁওয়ের গোনাকানি গ্রামে। অধ্যক্ষ বেলালী আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে দুই শিশুকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন। এর আগে মাদ্রাসার আরও ছয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন বলেও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বেলালী। শুধু এসব ঘটনাই নয় সম্প্রতি সারা দেশে বেড়েছে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা। ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকটি। এসব ঘটনায় উদ্বিঘ্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো। প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসবাসের জায়গাসহ নিরাপদ স্থানেই যদি শিশুরা নির্যাতিত হয়, নিরাপদ না থাকে থাহলে তারা নিরাপত্তা পাবে কোথায়?

রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, সে কিশোর। অভিযোগ ওঠা কিশোর হাসপাতালটির ক্যান্টিনে কাজ করে। সে এখন পুলিশ হেফাজতে।

জুন মাসে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ৯ মাসের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক যুবক আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। একই মাসে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আইসক্রিম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৯ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসে বাংলাদেশে ৩৯৯জন শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ধর্ষণের পর একজন ছেলে শিশুসহ মোট ১৬জন শিশু মারা গেছে। ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ৪০৮টি সংবাদ বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি এই তথ্য পেয়েছে। প্রতিবেদনের আরো বলা হয়, অন্তত ৪৯টি শিশু (৪৭ জন মেয়েশিশু ও ২ জন ছেলেশিশু) যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে ৩৫৬টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। এর মধ্যে মারা গেছে ২২ জন এবং আহত হয়েছে ৩৩৪ জন।

শিশু ধর্ষণের ঘটনা আংশকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এক বিবৃতিতে অভিভাবক, শিশু সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা ও তরুণদের সম্মিলিতভাবে এই অপরাধ ঠেকাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমের পৃথক একটি গবেষণার দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সী শিশুরা। ২০১৯ সালে শিশু ধর্ষণের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, প্রথম সাড়ে চার মাসেই ২০১৮ সালের পুরো বছরের পরিসংখ্যানকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ছিল ২৮৯ এবং চলতি বছর ২০১৯ সালের ১৫ মে পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ২৯৬ জন। ফল পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার হচ্ছে ছেলে শিশুও।

শিশু নির্যাতন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছেন সাংবাদিক ও গবেষক আফসান চৌধুরী। তিনি মানবজমিনকে বলেন, এতো বেশি শিশুদের যৌন নির্যাতন করা হচ্ছে যেটা আগেও হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখন সমাজ অনেক বেশি হিংসাত্মক হয়ে গেছে। ফলে এখন যৌন ঘটনার সঙ্গে হিংসাত্মক ঘটনাও ঘটছে। হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যৌন নির্যাতন জড়িত। এবং দুর্বলের ওপর অত্যাচার করার যে প্রবণতা এটা বেড়েছে। আগে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এতো প্রতিষ্ঠা পায়নি। সোনাগাজির নুসরাতের মা কিন্তু যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করে পুলিশের কাছে গিয়েছে। কিন্তু আগে কোনো অভিভাবক পুলিশের কাছে যেতেন না। আগে থেকে সমাজ অনেক বেশি হিংস্র এখন। এখন সমাজে সবচেয়ে অনিরাপদ হচ্ছে শিশুরা। ওকে (শিশুকে) রক্ষা করার কেউ নেই। সমাজে অসহায়ত্ব অনেক বেড়ে গেছে। ২০ বছর আগের তুলনায় তুলনায়মূলকভাবে এই সমাজ এখন অনেক বেশি অসহায়।

মানবাধিকার আইনজীবী এডভোকেট সালমা আলী বলেন, শিশুরা নিজেদের পরিবারের সদস্য চাচা, মামাসহ কাছের লোকদের দ্বারাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ওয়ারিতে ধর্ষণ শেষে খুন হওয়া সায়মা নামের শিশুটির বিষয়ে পড়েছি ওকে নাকি সবাই অনেক আদর করতো। একজন সচেতন মা বাবা কোনো ভাবেই এলাউ করবে না তার বাচ্চাকে আদর করতে। ‘গুড টাচ এবং ব্যাড টাচ’ বলে একটা বিষয় আছে। একটা মেয়ে বা শিশুকে টাচ করার মধ্যে আদরের টাচ যেমন আছে আবার খারাপ বা যৌনতা সংক্রান্ত টাচও আছে। ওই শিশুটিকে হয়তো বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনকারী অনুস্বরণ করছিল। কিন্তু বাচ্চারা তো এটা বোঝে না। তিনি বলেন, আমাদের বাবা-মা ছোট বেলায় আমাদের শিখিয়েছে ‘কেউ গায়ে হাত দিলে, কোনো কিছু করলে, কেউ আদর করতে চাইলে এগুলো তুমি নিবে না। এবং কোনো কিছু করলে আমাকে এসে বলবে’। একটি শিশুর বাসার ভেতরে আর মাঠে খেলার মধ্যে অনেক পার্থক্য। এ বিষয়ে বাবা-মায়ের অনেক বেশি সচেতন হওয়া উচিৎ। এক্ষেত্রে পরিবারের যেমন দায়িত্ব আছে একইভাবে কমিউনিটিরও একটি দায়িত্ব আছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, সম্প্রতিকালে ৫ বছর ও তার কম বয়সের বাচ্চা থেকে শুরু করে কোনো শিশুই নিরাপদ না। যে সকল ঘটনা ঘটছে তাতে কোনো শিশুই যে একেবারে নিরাপদে আছে এটা বলা যাবে না। শিশুদের এই যে নিরাপত্তাহীনতা এটা প্রচন্ড একটি উদ্বেগজনক বিষয়। এটা সমাজের জন্য খুব একটা খারাপ চিত্র বহন করে। খুব খারাপ ম্যাসেজ দেয় ‘যে শিশুরা নিরাপদ না’। অতএব শিশুদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

উৎসঃ মানব জমিন

আরও পড়ুনঃ ওয়াসার পানিতে মলসহ জীবাণু কেন, জানতে চায় হাইকোর্ট

ঢাকার চারটি জোনের পানিতে মলের অস্বিস্তসহ যে জীবাণু পাওয়া গেছে সে ব্যাপারে ওয়াসার বক্তব্য জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
আজ রোববার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

পরে রিটাকারী পক্ষের আইনজীবী তানভীর আহমেদ জানান, ‘বিশেষজ্ঞ কমিটি রিপোর্ট দাখিলের পর ওয়াসা কী ব্যবস্থা নিয়েছে- সে ব্যাপারে আদালতের কাছে জানতে আবেদন জানিয়েছিলাম। আমরা বলেছি, সুপেয় পানি সরবরাহ করতে আইনগতভাবে তারা বাধ্য। তবে এক্ষেত্রে ওয়াসা ব্যর্থ হয়েছে। তাই আদালত আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ওয়াসার বক্তব্য জানতে চেয়েছেন। ’

এ ছাড়া আগামী ২৪ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন বলেও জানান রিটকারী পক্ষের ওই আইনজীবী।

এর আগে ঢাকা শহরের নাগরিকদের পানি সরবরাহকারী সংস্থা ঢাকা ওয়াসার ১০টি মডস জোনের মধ্যে ৪টি এবং সায়েদাবাদ ও চাঁদনিঘাট এলাকা থেকে সংগৃহীত ৮টি পানির নমুনাতে দূষণ পাওয়া গেছে। গত ৪ জুলাই হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব এলাকার পানিতে ব্যাকটেরিয়া, উচ্চমাত্রার অ্যামোনিয়া পাওয়া গেছে। এমনকি রাজধানীর এই পরিষেবা সংস্থাটির পানির কিছু কিছু নমুনাতে মলের অস্তিত্ব পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

এর আগে হাইকোর্ট গত ২১ মে এক আদেশে ঢাকা ওয়াসার পানির উৎস, ১০টি বিতরণ জোন, গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০টি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন। এরপর ৩৪টি স্থান থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এসব নমুনা আইসিডিডিআরবি, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়।

গত বছরের ৬ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া এক নির্দেশে ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আইসিডিডিআরবি’র প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা ১৮ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ের তরফে। এরই ধারাবাহিকতায় আদালত গত ২১ মে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

উৎসঃ শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ ঈদের আগেই ৩ দাবিতে ৮ বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে বিএনপি

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, সুচিকিৎসা এবং নতুন করে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে মাঠে নামছে বিএনপি। ঈদুল আজহার আগেই দেশের ৮ বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

সূত্র জানায়, চলতি মাসে চট্টগ্রামে ও খুলনা ছাড়া রাজশাহী এবং বরিশাল বিভাগেও সমাবেশ করার প্রস্তুতি চলছে। রাজশাহী ও বরিশালে এ মাসের শেষ সপ্তাহেই সমাবেশ হতে পারে। বাকি চার বিভাগীয় শহরে ঈদের আগেই তারিখ নির্ধারণের জন্য কেন্দ্র থেকে স্থানীয় নেতাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে ২০ জুলাই চট্টগ্রাম ও ২৫ জুলাই খুলনাতে সমাবেশের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ঢাকায় সমাবেশ হবে সবার পর। অনুমতি পেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সমাবেশের আয়োজন করা হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের পর দল পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগ দেয় বিএনপি। যে কারণে গত ছয় মাসে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি দেয়নি দলটি। কেন্দ্রীয়ভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে শুধু মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে বড় ধরনের কর্মসূচি না দেয়ায় এ নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা আগামী ঈদের আগেই ৮ বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করব। ইতিমধ্যে কয়েকটি বিভাগে সমাবেশের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রংপুর- এই ৮ বিভাগীয় শহরে সমাবেশ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে বিভাগীয় স্থানীয় নেতারা তাদের সুবিধা অনুযায়ী সমাবেশের তারিখ চূড়ান্ত করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, আমরা আশা করছি এ সমাবেশের মধ্য দিয়েই ঝিমিয়ে পড়া তৃণমূল নেতাকর্মীরা আবার চাঙ্গা হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে চাপে রাখতে চান তারা। পাশাপাশি আইনি লড়াইও চালিয়ে যাবেন। সরকার হস্তক্ষেপ না করলে শিগগিরই খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাবেন বলে আশা করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সমাবেশ করার জন্য ইতিমধ্যে রাজশাহী মহানগর নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। চলতি মাসের শেষে যে কোনো একদিন সমাবেশ হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাশেম বকর বলেন, ২০ জুলাই আমরা সমাবেশ করব। ইতিমধ্যে লালদীঘির ময়দানের অনুমতি চেয়ে প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি। সেখানে অনুমতি না পেলে জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বর অথবা কাজীর দেওড়ির মোড়ে সমাবেশ করব। এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ২৫ জুলাই আমরা সমাবেশ করছি। ইতিমধ্যে নগরের হাদিস পার্ক, সোনালী ব্যাংক চত্বর ও শিববাড়ীর মোড়- এই তিনটি ভেন্যুর যে কোনো একটি চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসা, নতুন জাতীয় নির্বাচনের দাবিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এই সমাবেশ হবে।

ঢাকা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ বলেন, সব শেষে ঢাকা বিভাগীয় শহরে সমাবেশ হবে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হবে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ দুভোর্গ হলেও গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদের হরতালে সমর্থন দিচ্ছে জনগণ

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রবিবার (৭ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশব্যাপী আধাবেলা হরতাল পালন করছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। হরতালে রাজধানীতে জনসাধারণের দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। অফিস, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের হরতালের মাঝেও রাস্তায় বের হতে হয়েছে। সাধারণ জনগণ বলছে হরতালে তাদের সাময়িক যানবাহনের জন্য দুর্ভোগ হলেও এই হরতালকে তারা সমর্থন করছে। কারণ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হোক এটা তারা চায় না।

রবিবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে শাহবাগে অবস্থান নেয় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এতে সায়েন্স ল্যাবরেটরি, কারওয়ান বাজার, মৎস্য ভবন রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা এসব রোডে অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত মোটরসাইকেল ও রিকশাসহ পতাকাবাহী সরকারি কোনো গাড়িই চলতে দিচ্ছে না।

রবিবার অফিস স্কুল-কলেজ খোলা থাকার কারণে গণপরিবহনের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে বাসে আটকে আছেন রিয়াজুল করিম নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। তার অফিস মতিঝিলে। প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে তিনি একই জায়গায় আটকে আছেন।

ফকিরাপুলে বেসরকারি চাকরিজীবী মোতাহা হাসান লাবীব ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তার সাথে আবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলে আমরা খাবো কি? আমরা সামান্য বেতনের চাকরি করি। এই টাকা দিয়ে কিভাবে আমরা সংসার চালাবো?’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষারথী জাকিয়া সুলতানা ইমু ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘অযৌক্তিক কারণে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা জগণের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছুই না। আমরা সাধারণ জনগণ এই মূল্যবৃদ্ধি কখনোই মানি না।’

গুলিস্তান যাওয়ার জন্য রিকশায় বসে আছেন দুলাল শেখ। তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘শাহবাগ থেকে কেউ আমাকে যেতে দিচ্ছে না। সবাই বলছে হরতাল হরতাল, যাওয়া যাবে না। আমি ছোট খাটো একটা ব্যবসা করি। গুলিস্তান যেয়ে মাল না নিয়ে এলে আমি কিভাবে ব্যবসা করবো? আমি জানতাম না আজ হরতাল।’

পল্টনে একটি বীমা কোম্পানিতে চাকরি করেন জামাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘যাতায়াতের জন্য আমাদের সাময়িক হয়তো একটু অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু সার্বিক দিক বিবেচনা করলে এই হরতালে আমাদের সবাইকে সমর্থন দেয়া উচিত।’

হরতাল শুরুর পর রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকে রাস্তায় যান চলাচল বাড়তে থাকে। ৯টার পর পর বেশ কিছু রুটে গাড়ি চাপে যানজট বেঁধে যায়। তবে গণপরিবহনে থেকে ব্যক্তিগত পরিবহনের চাপ বেশি দেখা যাচ্ছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে কয়েকটি প্রিজন ভ্যান, রায়টকার ও জলকামান। সম্ভব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে সতর্ক অবস্থানে।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে সারা দেশে বাম জোটের অর্ধদিবস রতাল চলছে

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল পালন করছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই হরতালে ইতিমধ্যে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি।

আর পুরোপুরি সমর্থন দিয়েছে গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ ন্যাপ, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য এবং ক্ষেতমজুর সমিতি। হরতাল সফল করতে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আহূত হরতাল কর্মসূচি পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পদযাত্রার সূচনায় নেতৃবৃন্দ বলেন, গণশুনানিতে আমাদের বক্তব্য অগ্রাহ্য করে বিইআরসি অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করায় জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। সিএনজির দাম বৃদ্ধি করায় পরিবহন ব্যয় বাড়বে। শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করায় শিল্প পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলে শিল্প পণ্যসহ কৃষি ও সেচে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এভাবে ব্যয় বৃদ্ধির ফাঁদে জনগণ নিপতিত হবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সিলিন্ডার গ্যাসের দামও বর্তমান বাজার দামের অর্ধেকে কমিয়ে আনার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ এ সময় হরতালে কোনো প্রকার উসকানি না দেয়ার জন্য সরকারকে হুশিয়ার করে দেন এবং দেশবাসীকে কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জনস্বার্থের এ হরতাল সফল করার আহ্বান জানান। বক্তব্য রাখেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, সিপিবি’র সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন। সদরঘাট টার্মিনালে পদযাত্রার সমাপনীতে বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম।

পদযাত্রায় অংশ নেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা লিয়াকত আলী, সিপিবি’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য বহ্নি শিখা জামালী, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফখরুদ্দিন কবীর আতিক প্রমুখ।

জানা গেছে, হরতালে পিকেটিং করতে ভোর থেকে বাম কর্মী-সমর্থকরা রাজধানীর শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, সূত্রাপুর, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হচ্ছেন। তবে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়াতে বাম নেতারা আহ্বান জানিয়েছেন।

এরআগে এ কর্মসূচি সফল করতে শনিবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মশাল মিছিল করেছেন জোটের নেতাকর্মীরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হরতালে যেকোনো ধরনের নাশকতা মোকাবিলায় তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।

বাম গণতান্ত্রিক জোট আহূত হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, সরকার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করায় সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। হরতালের সমর্থনে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি’র উদ্যোগে গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণের সময় তিনি এ কথা বলেন।

শনিবার এক বিবৃতিতে হরতাল সফল করতে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন বাম ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক ও গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন আহম্মদ নাসু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা শওকত হোসেন আহমেদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার মুর্শেদ, কমিউনিস্ট ইউনিয়নের সানোয়ার ইমরান।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণায় মধ্যবিত্তের মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা

গত ১ জুলাই থেকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে। এমনিতেই ‘বাড়বাড়ন্ত’ জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে গলদঘর্ম সাধারণ মানুষ। সেখানে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবনকে আরও অসহনীয় করে তুলবে-এমন অশনি সংকেতই দেখা যাচ্ছে সামনে। ঈশান কোণের কালো মেঘের মতো এ সংকেত সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ফেলে দিয়েছে মধ্যবিত্তকে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নিম্নমধ্যবিত্তের ভোগব্যয় তুলনামূলক কম। মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোগব্যয় অপেক্ষাকৃত বেশি। কারণ, সামাজিকভাবে এরা অগ্রসর, রাষ্ট্রীয় অন্যান্য অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে তারা বেশি জড়িত। নিয়মিত কর- ভ্যাট ইত্যাদি শোধ করতে হয় তাদেরই। ফলে মধ্যবিত্তকেই মূল্যবৃদ্ধির জাঁতায় পিষ্ট হতে হবে বেশি। আবাসিকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পরপর বিভিন্ন খাতে মূল্যবৃদ্ধির মিছিল শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ১২ কেজি সিলিন্ডারে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কমিশন (বিপিসি)।

এদিকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে নাগরিকদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোট আজ রোববার সারা দেশে আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বলেছে, সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে সরকার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে গ্যাসের দাম নেমে এসেছে অর্ধেকে সেখানে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মেনে নিতে পারছেন না কেউ। এমনকি যেদিন থেকে বাংলাদেশে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির চূড়ান্ত ঘোষণা আসে, সেদিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ভারতের মতো দেশে কমানো হয়েছে গ্যাসের দাম।

গত ৩০ জুন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন নির্ধারিত মূল্যে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে আগের চেয়ে ৩২.৮ শতাংশ। আবাসিক গ্রাহকদের এক চুলার জন্য জুলাইলের ১ তারিখ থেকে গুনতে হচ্ছে ৯২৫ টাকা; আগে যা ছিল ৭৫০ টাকা। আর দুই চুলার জন্য গুনতে হচ্ছে ৯৭৫ টাকা; যার মূল্য আগে ছিল ৮০০ টাকা।

অন্যদিকে যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) দাম প্রতি ঘনমিটারে ৩৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৩ টাকা। সে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসে প্রতি ঘনমিটারে বাড়ানো হয়েছে ৪.৪৫ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৩.৮৪ টাকা, সারে ৪.৪৫ টাকা, শিল্পে ১০.৭০ টাকা, চা-বাগানে ১০.৭০ টাকা, বাণিজ্যিক হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ২৩ টাকা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ১৭.০৪ টাকা এবং সিএনজিতে ৪৩ টাকা।

এলপি গ্যাস : বেশ কয়েক বছর বাসাবাড়িতে পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রেখেছিল সরকার। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ দেশের কয়েকটি বড় শহরে যেখানে পাইপলাইন গ্যাস ব্যবহার হয়, সেখাসে সিলিন্ডারভর্তি এলপিজি বা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যায়। সাধারণত যারা পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহার করেন তারা যে বিল মাসান্তে শোধ করেন, সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের তার দ্বিগুণ ব্যয় করতে হয় গ্যাসের জন্য। গ্যাস ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ বৈষম্য দূর করার দাবি উঠলে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এলপিজি সহজলভ্য করা হবে। কিন্তু ঘটলো তার উল্টোটা। কয়েক বছরে কয়েক দফা বেড়েছে এলপিজির দাম। এমনকি দাম নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ব্যবস্থাও নিতে দেখা যায়নি সরকারকে। সরকারের কোনো কার্যকর ভূমিকাও দেখা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এলপি গ্যাসের বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। নেই তদারকিও। ফলে বাজার পুরোটাই ব্যবসায়ীদের দখলে। মোট চাহিদার ৯৮ শতাংশই তারা সরবরাহ করেন। সরকার শুধু লাইসেন্স দেওয়ার মধ্যেই তার দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রেখেছে। গত ১০ বছরে এলপিজি সরবরাহে বিভিন্ন কৌশলের কথা বললেও এলপিজির সরবরাহ বাড়াতে পারেনি বিপিসি। উল্টো চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারিত্ব কমেছে। এ অবস্থায় তারা লোকসান গুনছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগকে। লোকসান কমাতে এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কথা ভাবছে তারা। যদিও ১২ কেজি বোতলের এলপি গ্যাসের দাম কত নির্ধারণ করা হবে তার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এখনো করেনি তারা।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, ‘নতুন অর্থবছরের বাজেটে এলপিজির ভ্যাট ট্যাক্স বাবদ একটি বড় অঙ্ক যোগ হচ্ছে। এমনিতেই লাভ ছাড়াই এলপিজি বিক্রি করে বিপিসি।’ তিনি বলেন, ‘বাজারে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি করি আমরা। তবে আমাদের এলপিজির পরিমাণ কম। এই অবস্থায় আমরা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে এলপিজির দাম বাড়াবে নাকি লোকসান গুনবে বিপিসি, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছি।’ বিপিসির দাবি, দাম না বাড়ালে বছরে ৩৯ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে।

এদিকে বাজেটে এলপি গ্যাসের ওপর করের বোঝা বাড়ানোর কারণে দেশে উৎপাদিত সিলিন্ডার বোতলের দাম বাড়বে এমন আশঙ্কা আগেই করা হচ্ছিল। বাজেটে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার উৎপাদন পর্যায় মূল্যের ওপর পাঁচ শতাংশ ভ্যাট, এলপিজি আমদানি পর্যায়ে পাঁচ শতাংশ আগাম কর ও সিলিন্ডার তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে পাঁচ শতাংশ আগাম কর আরোপ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ : বিইআরসির নতুন নির্ধারিত গ্যাসমূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসে প্রতি ঘনমিটারে বাড়ানো হয়েছে ৪.৪৫ টাকা ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে বাড়ানো হয়েছে ১৩.৮৪ টাকা। এতে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ।

স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করলে, এর ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং গ্রাহক পর্যায়েও বাড়বে বিদ্যুতের দাম। তবে বিইআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি হবে না।

পরিবহন : বিইআরসি পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিতে প্রতি ঘনফুটে মূল বাড়িয়েছে ৭.৫ শতাংশ। নতুন এ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে পরিবহন খাতে। বেড়ে যাবে পরিবহন ব্যয়। এরই মধ্যে পরিবহনের ভাড়া বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোয় গণপরিবহনে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এর আগে গ্যাসের দাম বাড়লেও গণপরিবহনে ভাড়া বাড়েনি। ব্যয় সামঞ্জস্যের জন্য এবার ভাড়া বাড়ানো হতে পারে।

সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, বাংলাদেশে পরিবহনের ভাড়া নিয়ে এমনিতেই নৈরাজ্য রয়েছে। কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া আদায় করেন পরিবহন মালিকরা। এ অবস্থায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে আবারো বাড়ানো হবে গণপরিবহন ভাড়া।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাস, মিনিবাস, সিএনজি অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহনের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করতে সরকারের কাছে দাবি তুলে ধরতে চায় পরিবহন খাতের মালিক ও শ্রমিকরা। এ নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন তারা।

নিত্যপণ্য : শিল্পখাতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। এর ফলে শিল্পকারখানার পরিচালনা ব্যয় বাড়ছে। এতে ক্ষুদ্র বা মাঝারি পণ্য উৎপাদন কারখানাগুলোর ব্যয় বাড়বে। ফলে কারখানার পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেতে পারে। খরচ পোষাতে না পারলে অনেক কারখানা বন্ধও হয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা করছেন কেউ কেউ। এতে কর্মহারা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির শঙ্কাও রয়েছে।

উৎসঃ বিডি টুডে ডটনেট

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here