আওয়ামীলীগের মন্ত্রী হয়ে এদের আয় বেড়েছে বহু গুন, বাড়বাড়ন্ত সম্পদেও!

0
126

*১০ বছরে আমুর আয় বেড়েছে ১৩ গুণের বেশি
*৫ বছরে মায়ার মোট আয় বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি
*মৎস্য খাতে আইনমন্ত্রীর বার্ষিক আয় ৩ কোটির বেশি
*খাদ্যমন্ত্রীর ভাতার বাইরে বিশেষ কোনো আয় নেই
*রেলমন্ত্রীর কাছে নগদ ২০৩২ টাকা
*মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর এখন গাড়ির সংখ্যা তিনটি
*ভূমিমন্ত্রী ডিলুর কাছে নগদ টাকা ১ কোটি ৩১ লাখ
*জুনাইদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১০ গুণের বেশি

মন্ত্রিসভার আট সদস্যের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁদের আয় বেড়েছে, বেড়েছে সম্পদও। অনেকেরই আয়ের বড় উৎস মন্ত্রী হিসেবে পাওয়া ভাতা। অবশ্য কেউ কেউ ব্যবসা থেকে বাড়তি আয় দেখিয়েছেন।

হলফনামায় মন্ত্রীরা স্ত্রীসহ নির্ভরশীলদের সম্পদের বিবরণও দিয়েছেন। দেখা যাচ্ছে, তাঁদের স্ত্রীদের সম্পদও বেড়েছে। আবার উভয়েরই নগদ অর্থ ছাড়াও আছে নানা ধরনের বিনিয়োগ।

আমুর আয় বেড়েছে
১০ বছরে শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর আয় বেড়েছে ১৩ গুণের বেশি। অথচ একই সময়ে তাঁর স্থাবর সম্পত্তি আড়াই লাখ টাকা কমেছে। নবম সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তাঁর বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা। এবারের হলফনামায় বছরে প্রায় ৮২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা আয়ের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

এবারের হলফনামায় অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার টাকার তথ্য দিয়েছেন মন্ত্রী। এর মধ্যে বন্ড, ঋণপত্র অথবা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। ২০০৮ সালে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৮৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। একই সময়ে তাঁর স্ত্রীর নামে ৫০ লাখ টাকার (বন্ড, ঋণপত্র, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ) অস্থাবর সম্পত্তি ছিল, যা বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ। ২০০৮ সালে আমির হোসেন আমু ও তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এবার তিনি দেখিয়েছেন ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পত্তি।

মায়া পরিবারের আয় বেড়েছে
পাঁচ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার আয়ের উৎস ও মোট আয় বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি। আয় বেড়েছে তাঁর স্ত্রীরও। ২০১৪ সালের নির্বাচনে দাখিল করা তাঁর হলফনামায় আয়ের একমাত্র উৎস দেখানো হয়েছিল বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট-দোকান ও অন্যান্য ভাড়া। এ থেকে তাঁর মোট বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয় প্রায় ৫ লাখ টাকা । ওই একই উৎস থেকে তখন তাঁর স্ত্রীর আয় দেখানো হয়েছিল ১২ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

এবারের হলফনামায় মায়া ভাড়া বাবদ ৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা, চৌধুরী গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও স্টার থাইয়ের পরিচালক হিসেবে বার্ষিক ২৪ লাখ টাকা, মন্ত্রী হিসেবে সম্মানী ২৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং ব্যাংক মুনাফা বাবদ আয় ৫ লাখ ২১ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। তাঁর স্ত্রীর আয় দেখানো হয় ৩১ লাখ টাকার মতো। এ ছাড়া মায়ার হলফনামায় কিছু স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে।

মাছ চাষে আইনমন্ত্রী
পাঁচ বছর আগে কৃষি খাত (মৎস্য) থেকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বার্ষিক কোনো আয় ছিল না। বর্তমানে এই খাতে তাঁর বার্ষিক আয় ৩ কোটি টাকার বেশি। পাঁচ বছর আগে আনিসুল হকের নামে কোনো সঞ্চয়পত্র, মৎস্য খামার, অকৃষিজমি ও স্বর্ণ ছিল না। বর্তমানে তাঁর নামে ১৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, তিনটি মৎস্য খামার, ২৯ লাখ টাকার অকৃষিজমি ও ২০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।

দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ব্যাংকে আমানত ও আইন পেশা থেকে আনিসুল হকের বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৬ কোটি টাকা। তা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি টাকার বেশি। তবে তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের কোনো আয় নেই বলে উভয় হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আছে আইনমন্ত্রীর। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং ১৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেখিয়েছেন মন্ত্রী। এর বাইরে আনিসুল হক গাড়ি, জমি, ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন সম্পদ হলফনামায় দেখিয়েছেন।

ভাতার বাইরে নগণ্য আয় কামরুলের
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের ভাতার বাইরে বিশেষ কোনো আয় নেই। তিনি নিজের ও নির্ভরশীলদের বার্ষিক মোট আয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকাই আসে মুক্তিযোদ্ধা ও মন্ত্রী হিসেবে পাওয়া ভাতা থেকে। এর বাইরে ভাড়া, ব্যাংকের সুদ আর টক শোর সম্মানী থেকে আয় করেন তিনি।

কামরুল ইসলাম এবার স্থাবর সম্পত্তি দেখান ৫৪ লাখ টাকা। নবম সংসদ নির্বাচনের আগে কামরুলের মাত্র ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকার স্থাবর সম্পত্তি ছিল। নবম ও একাদশ দুই সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির কোনো তথ্য দেননি কামরুল ইসলাম। নবম সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কামরুলের স্ত্রীর ১৫ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পত্তি ছিল। এবারের নির্বাচনে স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের কোনো তথ্য দেননি তিনি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় নিজের কাছে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ৫২ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পত্তির তথ্য দিয়েছেন কামরুল। এর মধ্যে একটি গাড়ির দাম উল্লেখ করেছেন প্রায় ৭৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

রেলমন্ত্রীর কাছে নগদ ২০৩২ টাকা
মন্ত্রী হওয়ার পর রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের সম্পদ বেড়েছে। তবে তাঁর কাছে নগদ ও ব্যাংকে জমা টাকার পরিমাণ কম। তাঁর স্ত্রী হনুফা আক্তারের কাছে নগদ টাকা, ব্যাংক, বিমা ও আমানত হিসেবে জমা টাকার পরিমাণ বেশি।

হলফনামা অনুযায়ী মুজিবুল হকের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে নগদ ২ হাজার ৩২ টাকা আছে। স্ত্রী হনুফা আক্তারের কাছে আছে ২ হাজার ২৫৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে জমা ৬০ হাজার টাকা।

২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর মুজিবুল হক বিয়ে করেন। তাই এবার হলফনামার অস্থাবর সম্পদে স্ত্রীর নামের কলাম পূরণ করেন, যেখানে আগে লিখতেন প্রযোজ্য নয়। এতে স্ত্রীর নামে সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স ও জীবন বিমার টাকাসহ ৭০ লাখ টাকা আছে। স্ত্রীর নামে ২১ লাখ টাকার আমানত ও ৮৭ ভরি সোনা দেখিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর নিজের নামে দুটি মোটরগাড়ি আছে। এর বাইরেও কিছু সম্পদ দেখিয়েছেন তিনি।

মোজাম্মেল হকের এখন তিন গাড়ি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের আয় ও সম্পদ সবই বেড়েছে। ১০ বছর আগে তাঁর কোনো গাড়ি ছিল না। এখন তাঁর গাড়ির সংখ্যা তিনটি। ২০০৮ সালে তিনি আইনজীবী ছিলেন। এবার তিনি পেশা পাল্টে কৃষি, মৎস্য ও পোলট্রি ব্যবসা উল্লেখ করেন।

নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। আ ক ম মোজাম্মেল হকের হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে কৃষি খাত থেকে তাঁর আয় ১৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা, বাড়িভাড়া থেকে আয় ৩৬ হাজার, পোলট্রি ব্যবসা থেকে আয় ১৯ লাখ ৯০ হাজার, সঞ্চয়পত্র থেকে আয় ২৬ হাজার এবং ভাতা বাবদ আয় আরও ২৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৮০ টাকা।

মন্ত্রী হয়ে কোটিপতি ডিলু
দশম সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর কোনো নগদ টাকা ছিল না। তবে মন্ত্রী হয়ে ১ কোটি ৩১ লাখ নগদ টাকা এবং ৯৩ লাখ টাকা দামের একটি গাড়ি ও একটি ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। আয় বেড়েছে সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী হিসেবে প্রাপ্য ভাতা থেকে। তবে কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রীর কোনো টাকা নেই। কোনো বন্ড ও শেয়ারও নেই তাঁর। সঞ্চয়পত্রেও কোনো বিনিয়োগ করেননি।

জুনাইদের সম্পদ বেড়েছে
পাঁচ বছরে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদের বার্ষিক আয় তেমন না বাড়লেও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১০ গুণের বেশি। আগের থেকে তাঁর স্ত্রী আরিফা জেসমিন কণিকার সম্পদও বেড়েছে তিন থেকে চার গুণ। মন্ত্রী দম্পতির দাবি, চাকরির বেতন-ভাতা বৃদ্ধি হওয়া ও বিনা খরচে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় সংগত কারণে সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৪ সালে জুনাইদের আয় ছিল ১৮ লাখ টাকার মতো, যা এখন ৪০ হাজার টাকার মতো বেশি। একই সময়ে তাঁর স্ত্রীর আয় ৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকার মতো বেড়ে প্রায় ১২ লাখ ৮১ হাজার টাকা দাঁড়িয়েছে। জুনাইদ আহ্মেদ হলফনামায় নিজ নামে ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন, যা আগের চেয়ে ১১ গুণ বেশি। এ ছাড়া ৭০ লাখ টাকা মূল্যের জিপগাড়ি, ৪১ তোলা স্বর্ণ ও ২ লাখ ৯০ হাজার টাকার আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথাও উল্লেখ রয়েছে। স্ত্রীর নামেও রয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ। যা আগের হলফনামায় উল্লেখ করা অস্থায়ী সম্পদের প্রায় তিন গুণ বেশি। স্ত্রীর নামেও রয়েছে ৪৫ লাখ টাকার ১টি নিশান এক্সট্রেইল কার ও ৬৯ তোলা স্বর্ণ।

জুনাইদ আহ্মেদের ৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকার সম্পত্তিতে। জুনাইদ আহ্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ও আমার স্ত্রীর বেতন-ভাতা বেড়েছে। জীবনযাপনের বেশির ভাগ খরচ সরকারিভাবে মেটানো হয়। তাই সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।’

উৎসঃ প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ এমপিদের সম্পদের পাহাড়! এরাই আবার মনোনয়ন পেল!

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে ৬১ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে ৪৭ জনের মনোনয়ন বৈধ রয়েছে। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ এমপিদের সম্পদের পাহাড় হলফনামায়। নিচে কয়েকজন এমপির সম্পদের বিবরণ তুলে ধরা হলো।

গোলাম দস্তগীর গাজী

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.এসসি। হলফনামায় বাড়ি ও অন্যান্য ভাড়া থেকে বাৎসরিক আয় ২লাখ ৫৯হাজার ২০০টাকা। ব্যবসায় থেকে তার বাৎসরিক আয় ৩৪ কোটি ৭১ লাখ ৯ হাজার ৫৩৭ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত আছে ২ কোটি ৫১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৮ টাকা।

বোর্ড মিটিং ফি ও সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত ভাতা হিসেবে বাৎসরিক ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৭১৫ টাকা। তার কাছে নগদ টাকা আছে ৮ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার ৮৮৮ টাকা। তার স্ত্রীর নামে আছে ১২ লাখ ২৮ হাজার ২৯৬ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে জমা আছে ৩২ কোটি ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ৩১৯ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৪২ হাজার ১০৮ টাকা।

পরিবহন খাতে তার সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৯৩ লাখ ১৩ হাজার ৫৫৭ টাকা। তার নিজের নামে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু রয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৪ হাজার টাকা মূল্যের সম্পত্তি। তার নামে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী রয়েছে ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকার। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ লাখ টাকার। আসবাবপত্র রয়েছে ১৫ লাখ টাকার এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার। অন্যান্য সম্পত্তির পরিমাণ ৬৯৬ কোটি ৭ লক্ষ ৬৪ হাজার ৮৫৩ হাজার টাকা তিনি আর হলফ নামায় উল্লেখ করেন।

এছাড়া তার নামে জমি রয়েছে ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৮১ হাজার ৪৫৮ টাকা মূল্যের এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৮০ টাকা মূল্যের। তার নামে দালানকোঠা রয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের। তার স্ত্রীর নামে বাড়ি রয়েছে ৩ কোটি ৮৭ লক্ষ ৫৮ হাজার ১১ টাকা মূল্যের। তার নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণের পরিমাণ ৫৭৮ কোটি ৮৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৬ টাকা যা তিনি তার হলফ নামায় উল্লেখ করেছেন।

নজরুল ইসলাম বাবু

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে নজরুল ইসলাম বাবুর শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.এস.এস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)। তার নামে দায়েরকৃত মোট মামলার সংখ্যা ৯টি। হলফনামা অনুযায়ী তিনি ব্যবসা কৃষিখাত থেকে আয় ১০ হাজার ২০০ টাকা। বাড়ি ভাড়া ও দোকান ভাড়া থেকে নিজ নামে আয় না থাকলেও স্ত্রীর নামে আয় রয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫শ টাকা।

মৎস্য চাষ হতে আয় ১২ লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ ব্যাংক আমানত নিজ নামে ১৯ হাজার ৬৪৩ টাকা, স্ত্রীর নামে ৪৪ হাজার ৮৩৬ টাকা। তার স্ত্রী চিকিৎসা পেশা হতে আয় করে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি নিজে সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার স্ত্রী আয় করে ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।

নগদ টাকা রয়েছে ১৯ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৪ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ১০ লাখ ৫৭ হাজার ৪৩৫ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৪২৩ এবং স্ত্রীর নামে আছে ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৪৪৬ টাকা। শেয়ারের মূল্য ৫ লাখ ৪২ হাজার ৭শ টাকা। স্ত্রীর নামে শেয়ারের মূল্য ৬ লাখ ১২ হাজার ৪৭৭ টাকা। বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রের মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

নিজস্ব টয়োটা ল্যান্ড ক্রজার জীপ গাড়ির মূল্য ১ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৪০৩ টাকা। ৬ লাখ ১২ হাজার ১৮৬ হাজার টাকা সমমূল্যের স্বর্ণলংকার সহ ৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে যার মূল্য জানা নেই। স্ত্রীর নামে ৫২.২৩ ভরি স্বর্ণালংকার আছে যার মূল্য জানা নেই। ইলেকট্রিক সামগ্রীর মূল্য ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আসবাবপত্র ৪ লাখ ১১ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে আছে ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা। অকৃষি জমির মূল্য আছে ২ কোটি ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭২০ টাকা। স্ত্রীর নামে আছে ৯৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা। দালানসহ জমির মূল্য ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে আছে ৩৯ লাখ ৩১ হাজার টাকা। বাড়ি, এপার্টমেন্ট ও অর্জনকারী সময়ে আর্থিক মূল্য ৮১ লাখ টাকা। অন্যান্য খাতে আয় ৪১ লাখ টাকা।

লিয়াকত হোসেন খোকা

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে লিয়াকত হোসেন খোকা হলফনামায় স্বশিক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন নিজেকে। হলফনামা অনুযায়ী তার পেশা ব্যবসা। তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে কালীনবাজার চারারগোপ যাবতীয় কাচা পাকা ফলের আড়ৎ ও মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় লাবিবা ট্রেড লিংক আইউব প্লাজা।

তার ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪০ টাকা ও স্ত্রীর ব্যবসা হতে আয় ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ব্যাংকে সুদ ও শেয়ার থেকে তিনি আয় করেন ৬১ হাজার ৬৩৪ টাকা ও তার স্ত্রী আয় করেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৮১৪ টাকা। এছাড়া জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তার বাৎসরিক আয় ২২ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৫ টাকা।

অস্থাবর সম্পত্তির ভেতর তার নিকট নগদ অর্থ ব্যবসা থেকে রয়েছে ৮১ লক্ষ ৬ হাজার ২৮৮ টাকা ও ব্যবসা বহির্ভূত সম্পত্তি ১৭ লক্ষ ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। এছাড়া একই ভাবে তার স্ত্রীর নিকট ব্যবসা থেকে নগদ অর্থ ৫৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৫ টাকা। তার নামে ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ রয়েছে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯৪২ টাকা, তার স্ত্রীর নামে ৯ লাখ ৪ টাকা ও তার উপর নির্ভরশীলদের নামে ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৫ টাকা রয়েছে। তার নামে শেয়ার রয়েছে ৮ লাখ টাকার ও তার স্ত্রীর নামে শেয়ার রয়েছে ২ লাখ টাকার।

লিয়াকত হোসেন খোকার নিজের কোন গাড়ি নেই। তার স্ত্রীর একটি গাড়ী রয়েছে যার বাজার মূল্য ২৪ লাখ ৩৫ হাজার ২৯ টাকা। স্বর্ণালংকার তার নিকট উপহার হিসেবে রয়েছে ৩০ ভরি ও তার স্ত্রীর নিকট উপহার হিসেবে রয়েছে ৮৪ ভরি। ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ তার নামে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ও তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার।

এছাড়া অন্যান্য আসবাবের ভেতর তার নামে রয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পত্তি ও তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সম্পত্তি। লিয়াকত হোসেন খোকার সৈয়দপুরে ৮ শতাংশ জমি রয়েছে যার মূল্য ২০ লাখ টাকা। তার নিজস্ব কোন বাড়ি নেই তবে তার স্ত্রীর শেয়ারে একটি ৩ তলা বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে যার মূল্য ২০ লাখ ৭২ হাজার ৬৭৯ টাকা।

শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ এলএলবি। তার নামে এখন পর্যন্ত দায়েরকৃত মামলা সংখ্যা ১৭টি। ৩টি মামলায় বেকসুর খালাস, খালাস ৪টি, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে প্রত্যাহার হয়েছে ৪টি, বাতিল হয়েছে ১টি, হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত হয়েছে ৩টি ও অপর দুটি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

হলফনামায় তিনি নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স জেড এন কর্পোরেশন, জেড এন শিপিং লাইনস লিমিটেড, মাইশা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও শীতল ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড।

নিজের বাড়ি, দোকান ও অন্যান্য খাত থেকে বাৎসরিক আয় করেন ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৪ টাকা। ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ২২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। শেয়ারের সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক থেকে জামানত সুদ থেকে তার বাৎসরিক আয় ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮১ টাকা। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী পান ২২ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৫ টাকা।

তার স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি ব্যবসা থেকে বছরে আয় করেন ২২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এছাড়া শেয়ারের সঞ্চয়পত্র ও ব্যংক থেকে জামানত সুদ থেকে তার স্ত্রীর বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩৪ টাকা করে। তার নিজ নামে নগদ অর্থ রয়েছে ১০ লাখ ৮২ হাজার ৫৭০ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৮২০ টাকা।

এছাড়া তার উপর নির্ভরশীলদের নামে ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৬৩৪ টাকা রয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমান প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ টাকা। স্ত্রীর নামে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬৫২ টাকা। নির্ভরশীলদের নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত কোনো টাকা নেই। তার সাথে থাকা লাইসেন্সকৃত পিস্তলের মূল্য ৩৫ হাজার টাকা।

সেলিম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক। তার নামে মামলা সংখ্যা ৮ টি। হলফনামা তিনি নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ্য করেছেন। কৃষিখাত থেকে সেলিম ওসমানের বাৎসরিক আয় ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৯০।

বাড়ি, দোকান ভাড়া ও অন্যান্য খাতে বাৎসরিক আয় ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাৎসরিক আয় ৬০ লাখ, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্রে প্রাপ্ত সুদ থেকে আয় ৬ লাখ ৭১ হাজার ৩২৯ টাকা।

এছাড়া জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে হিসেবে সম্মানী ভাতা ২২ লাখ ২ হাজার টাকা। কৃষিখাত থেকে তার স্ত্রীর বাৎসরিক আয় ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪০ টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, ব্যবসা খাত থেকে ৬০ লাখ টাকা, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্রে প্রাপ্ত সুদ থেকে ৭ হাজার ২৮৮ টাকা আয় করেন। তার কন্যা ব্যবসা খাত থেকে ৬০ লাখ এবং শেয়ার ও সঞ্চয়পত্রে প্রাপ্ত সুদ থেকে ৫০ হাজার ৩১১ টাকা আয় করেন।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেল যেসব যুদ্ধাপরাধী

কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধকে ইস্যু করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলেও বাস্তবে আওয়ামী লীগ কতটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে? রাজনীতির ময়দানে ঘুরে ফিরে প্রায়ই এই প্রশ্ন আসে আমাদের সামনে।

যুগ যুগ ধরে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে আসলেও আওয়ামী লীগ বরাবরই অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে বিএনপি জামায়াতের দিকে। কিন্তু এর বাস্তবতা কতটুকু?

বাস্তবতা হল এই যে, আওয়ামী লীগ মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যই এই অস্ত্র ব্যবহার করে। যার কোন ভিত্তি নেই। জামায়াতে ইসলামীতে কোন মুক্তিযোদ্ধা আছে কিনা অথবা ট্রাইবুনালের মাধ্যমে বিতর্কিত রায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতাদের সন্তানরা নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারবে কিনা- এই অযৌক্তিক বিতর্ক সৃষ্টির পেছনে যারা, চলুন দেখে নেয়া যাক সেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তদের মধ্যেই কতজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সন্তান রয়েছে!

১। (ফরিদপুর– ৩) ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন:

ফরিদপুর– ৩ আসনের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। তিনি শান্তি বাহিনী গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার জন্য হানাদার বাহিনীকে প্ররোচিত করেন। “দৃশ্যপট একাত্তর: একুশ শতকের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ” বইয়ের ৪৫ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন। তার পিতা নুরুল ইসলাম নুরু মিয়া ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন।

২। (চাঁদপুর ১) মহিউদ্দীন খান আলমগীর:

চাঁদপুর-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ হতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহে অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকরি করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছেন। তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় আরেফিন রচিত “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান বইয়ের ৩৫০ পৃষ্ঠার মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তাকে চিহ্নিত রাজাকার হিসেবে আখ্যা দিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার বিচার দাবি করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

৩। (ময়মনসিংহ ৬) অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন:

ময়মনসিংহ ৬ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহবায়ক ডা. এম এ হাসানের দেয়া যুদ্ধাপরাধের তালিকায় (ক্রমিক নং-৭৩) উল্লেখ করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে ঐ মাসেরই ২২ এপ্রিল দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ দিকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্বে ২০১২ সালের ৬ এপ্রিল ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জোড়বাড়িয়া গ্রামের ওয়াহেদ আলী মণ্ডলের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিট্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

৪। (রংপুর ৫) এইচ এন আশিকুর রহমান:

রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এইচ এন আশিকুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের অধীনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে টাঙ্গাইলে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি পাকিস্তান সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন। এস এস এম শামছুল আরেফিন রচিত ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ব্যক্তির অবস্থান’ বইয়ের ৩৫০ পৃষ্টায় পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকায় তার নাম প্রকাশিত হয়েছে। ৯ জানুয়ারি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাজাকার আশিকুর রহমান আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ বলে তার বিচার করবেন না তা হয় না। মন্ত্রীসভায় রাজাকার রেখে রাজাকারের বিচার করা যায় না।

৫। (গোপালগঞ্জ ১) লে.কর্ণেল (অব) ফারুক খান:

পর্যটন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক খান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের পক্ষে দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তানী সেনাবাহীনীর পক্ষে প্রথম অপারেশন চালান এবং কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। সুত্র: “দিনাজপুরের মক্তিযুদ্ধ” বই।

৬। সৈয়দ জাফরউল্লাহ:

আওয়ামী লীগের প্রেসেডিয়াম সদস্য সৈয়দ জাফরউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে কাজ করেছেন। মাসিক “সহজকথা” আয়োজিত যুদ্ধাপরাধের বিচার: বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ জাফরঊল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। জাফর উল্লাহ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের পূর্ণ সমর্থন দেন। “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান” বইয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে।

৭। (ঢাকা-২) অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম:

ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম রাজাকার পরিবারের সদস্য। তার বড় ভাই হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলাম নেজামে ইসলামি পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের শায়েস্তা করার জন্য তার নেতৃত্বেই ঢাকায় প্রথম শান্তি কমিটি গঠন হয়। একই সঙ্গে তিনি রাজাকার, আল বদর ও আল শাসম বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসই স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি মু্ক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বড় ভাইকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার রাজাকার ভাইয়ের মালিকাধীন প্রিন্টিং প্রেসে তিনি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন।

৮। (বরগুনা-২) শওকত হাচানুর রহমান:

বরগুনা-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হাচানুর রহমান। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় যুদ্ধাপরাধীর সন্তানদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। অথচ তিনিও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা খলিলুর রহমান বরগুনায় পিস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

৯। (সিলেট ০৩) মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস:

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ফেঞ্চুগঞ্জ-দক্ষিন সুরমার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবা ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট থেকে প্রকাশিত ‘রণাঙ্গন-৭১’ নামক স্মারক গ্রন্থ। সিলেট থেকে প্রকাশিত ‘রণাঙ্গন-৭১’ নামক সেই গ্রন্থে সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবাকে রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের সম্পাদনায় প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থটিতে আওয়ামী লগের সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবা শেখ মুজিব সরকারের আমলের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন পিরু মিয়াকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

১০। (জামালপুর-৩): মির্জা আজম:

জামালপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য, যুবলীগের লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকার দলীয় হুইপ মির্জা গোলাম আযমের বাবা ১৯৭১ সালে মির্জা কাশেম জামালপুরের মাদারগঞ্জে শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন। তিনি রাজাকার, আল-বদরদের গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন। তার বিরুদ্ধে নারী ধর্ষণ ও লুটপাটের একাধিক অভিযোগ আছে। যা “জামালপুরের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৮১ সালের সংস্করণ)” বইয়ে উল্লেখ আছে।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আ. লীগের এমপি মন্ত্রী ছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য- জাতীয় সংসদের উপনেতা ও সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে্র যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতা বিরোধীতার শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে যারা মুখে ফেনা তোলে সেই আ. লীগেরই বাস্তব অবস্থা হলো এই। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে এত দহরম মহরম সম্পর্ক থাকার পরেও আওয়ামী লীগ তার বিরোধী পক্ষকে রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি তকমা লাগাতে একটুও দেরি করে না।

মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই আওয়ামী লীগ বার বার মুক্তিযুদ্ধকে টেনে আনে। আর এদিকে জনগণকে ব্যস্ত রেখে বাস্তবায়ন করে ভিনদেশী আধিপত্যবাদীদের এজেন্ডা। কিন্তু এখন আওয়ামী লীগের সে মুখোশ উন্মোচিত। এখন শুধু জনগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পালা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here