আওয়ামী লীগের উন্নয়ন বনাম নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ

0
232
ধর্ষকলীগের প্রতীকী ছবি

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট যখন ক্ষমতায় আসে, তার আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় ছিল। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের তেমন উল্লেখযোগ্য কোন নেতাকর্মীর উপর নির্যাতন চালিয়েছিল মর্মে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তবে, সেসময় দেশের কয়েকটি স্থানে সংখ্যালঘু তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উপর হামলা হয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য জানা গিয়েছিল যে, এইসব ঘটনার অধিকাংশই ছিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং অনেকক্ষেত্রে ব্যক্তিগত রেষারেষির বিষয়কেও সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছিল।

ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, একথা স্বীকার করতেই হবে, সেসময়ে সেই সামান্য কয়েকটি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাকে আওয়ামী লীগ বেশ ফুলে ফাপিয়ে প্রচার করতে সক্ষম হয়েছিল। দেশতো বটেই এমনকি বিদেশী অনেক সংস্থাও বিশ্বাস করেছিল যে, চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের উপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। বিএনপির সাথে ইসলামিক দল জামায়াতের জোট হওয়ায় এবং জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা সরকারের মন্ত্রী হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল মোটামুটি বিশ্বাস করেছিল যে ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল থেকেই হিন্দু নির্যাতনের মত ঘটনাগুলোকে মদদ দেয়া হয়েছে। শাহরিয়ার কবিরের মত আওয়ামী দালালেরা সেই সময় নানা ধরনের শর্ট ফিল্ম ও ডকুমেন্টারী নির্মাণ করে এসব ঘটনাকে বিশ্বের দরবারে নেতিবাচকভাবে হাইলাইটও করেছিল।

দুর্ভাগ্য বিএনপির, দুর্ভাগ্য জামায়াতের আর দুর্ভাগ্য দেশবাসীরও। আওয়ামী লীগ বিতর্কিত নির্বাচন করে টানা তৃতীয়বারের মত ক্ষমতায় এসে যখন বর্বরতা আর পৈশাচিকতার জঘন্য নজির স্থাপন করে যাচ্ছে তখনও সেই সব সত্য ঘটনাগুলোকে সর্বমহলে বিরোধী দল তুলে ধরতে পারছেনা।

আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীরা চোখে রঙ্গিন চশমা পড়ে ঘুরছেন। তারা দেশকে উন্নত দেশ বলে ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন। একজন মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ নাকি এখন লস এ্যাঞ্জেলেস হয়ে গেছে। অন্যদিকে আরেকমন্ত্রী এক ডিগ্রী এগিয়ে বলেছেন, কয়েক বছর পর নাকি আমেরিকা থেকেই লোকজন শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করতে আসবে। আল্লাহ এই সব দালাল ও দলকানা লোকদেরকে হেদায়েত নসীব করুন। এর চেয়ে বেশী কিছু আর বলারও নাই।

কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে বাংলাদেশের অবস্থা এখন ভয়াবহ। অন্যসব সংকটের কথা বাদ দিয়ে গেলেও এবারের বিতর্কিত নির্বাচনে নোংরাভাবে বিজয় হাইজ্যাক করার পর সরকার ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষকলীগসহ আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেভাবে নারী নির্যাতন ও ধর্ষনের উৎসব শুরু করেছে, তাতে আওয়ামী লীগের কি হবে জানিনা, তবে আমাদেরই মাথা লজ্জ্বায় হেট হয়ে যায়। নির্বাচনের পর থেকে আজ অবধি সারা দেশে নারী-শিশু ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে আজ নারী ও শিশুর ইজ্জত-আবরুর কোন নিরাপত্তা নেই।

নির্বাচনের পরের দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরে একটি গ্রামে একজন গৃহবধুকে তার স্বামীর সামনেই গন ধর্ষন করা হয়। তার অপরাধ ছিল তিনি বিরোধী দল তথা ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রদান করেছেন। এর ঠিক এক মাস পর গত ১লা ফেব্রুয়ারী রাতে সেই একই এলাকায় অর্থাৎ সুবর্ণচরের পূর্বচরবাটা ইউনিয়নে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত এক ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। দেশে নারী-শিশু-কিশোরী অবাধে ধর্ষিতা হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তরা নারী-শিশু-কিশোরীকে ধর্ষণ করছে।

তদন্তে দেখা যায় সরকারী দলের লম্পট দুর্বৃত্তরা প্রশাসনের ছত্র ছায়ায় অবাধে ধর্ষণ ও হত্যার মত নৃশংস ঘটনা একের পর এক ঘটিয়ে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ এসব দেখেও না দেখার ভান করছে। ফলে ধর্ষকরা আরো উৎসাহিত হচ্ছে। তারা ধর্ষিতাদের অভিভাবকদের মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং নাজেহাল করছে। ফলে নারী-শিশু-কিশোরী ধর্ষণ ও নির্যাতন মহামারী আকার ধারণ করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা গিয়েছে যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ সরকারী দলের ধর্ষণকারীদের সাহায্য-সহযোগিতা করছে এবং ধর্ষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আমলে না নিয়ে ধামা-চাপা দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, গত ২০১৮ সালে যৌন সহিংসতায় সারা দেশে ৪২ জন নারী ও শিশু নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ২৮৪ জন। গত জানুয়ারী মাসের ৩৩ দিনে ৪১টি ধর্ষণ ও ধর্ষণ অপচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। তাদের ২৯ জনই শিশু ও কিশোরী। বাস্তবে দেশে নারী-শিশু-কিশোরী ধর্ষণের যে সব ঘটনা ঘটছে তার সামান্য অংশই মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। বেশীর ভাগ ঘটনাই অজানা থেকে যাচ্ছে।

নারী-শিশু-কিশোরী ধর্ষণকারী দুর্বৃত্তদের বিচার না হওয়ার কারণেই নারী, শিশু-কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই যাচ্ছে। এ সব বন্ধ করতে হলে ধর্ষণকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। আওয়ামী যেসব ক্যাডাররা এসব অপকর্মের সাথে যুক্ত হয়েছে তাদের প্রত্যেককে প্রকাশ্যে শাস্তি দিতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনের যে কর্মকর্তারা এসব অপরাধের ব্যপারে নির্বিকার ভুমিকা পালন করছে, মদদ দিচ্ছে তাদেরকেও চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ইসলামপন্থী দল ও ব্যক্তিবর্গদের হেয় করা বন্ধ করতে হবে। ইসলামী দলগুলোকে অবাধে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। ওয়াজ ও ধর্মীয় আলোচনাগুলোর প্রসার ঘটাতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মীয় ও নৈতিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে এগুলো অধ্যায়ন বাধ্যতামুলক করতে হবে। কেননা এটাই দিবালোকের মত সত্য, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা ও মোটিভেশন ছাড়া এই ধরনের জঘন্য অপকর্মকে কোনভাবেই রোধ করা যাবেনা। আর যদি ধর্ষণ আর নারী নির্যাতন এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে আওয়ামী লীগের তথাকথিত উন্নয়নের চাঁপাবাজি করে জনগনকে নিয়ন্ত্রনে রাখাও সম্ভব হবেনা।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বেড়েছে ছয়গুণ


এ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে জানুয়ারি মাসে দেশে মোট ৬৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ধর্ষণ ৪৮টি ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৯টি। গত বছরের একই সময়ে দেশে ১৯টি ধর্ষণ ও তিনটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ ২০১৮ সালের জানুয়ারির তুলনায় এ বছরের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণের ঘটনা তিনগুণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ছয়গুণ বেড়েছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় উঠে আসা এই পরিসংখ্যানের বিষয়ে নারী নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। তাদের ভাষ্য, ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হচ্ছে কিনা, তা মনিটরিং থাকতে হবে। কেননা, বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না হওয়ায় পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগ থাকে।

বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৬৭টি। ২০১৮ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২২টি। ২০১৯ সালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ১৯ জন, এ সংখ্যা ২০১৮ সালের একই সময়ে ছিল তিনটি।

তিনটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উপাত্ত নিয়ে এ গবেষণা করে বাংলা ট্রিবিউন। গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছরের শুরুতেই বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ বছর ছাত্রী ও গৃহবধূরা ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বেশি। কর্মজীবী নারীদের মধ্যে পোশাক শ্রমিকরা বেশি ধর্ষণের শিকার হন। এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীরাও।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ধর্ষণের খবর পাওয়া যায় ১৬টি জেলা থেকে, ২০১৯ সালের একই সময়ে ৩৫টি জেলা এ ধরনের সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার তুলনামূলক চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৩১ জন শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয় ২১ জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় তিন জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাতটি শিশু এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়, এর মধ্যে দু’টি শিশুকে হত্যা করা হয়।

নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর মনে করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা কমছে না। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে যে ধর্ষণের খবরগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার কয়টির বিচার হয়েছে। ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ করে যখন ধর্ষক পার পেয়ে যায়, তখন তা অপরাধকে উৎসাহিত করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধর্ষণ কমবে— এমনটা আশা করা ঠিক না।’

রোকেয়া কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমত, ধর্ষণের ঘটনার বিচার হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভিকটিম যেন নির্ভয়ে বিচার চাইতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংখ্যাগতভাবে ধর্ষণ বাড়ছে দুটো কারণে। এক. আগে ধর্ষণের সংবাদ পত্রিকায় কম আসতো। আরেকটি হলো সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। এমন অপরাধের (ধর্ষণ) ক্ষেত্রে বিচার না হওয়া, অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার পরিমাণ বাড়ছে।’

ধর্ষণ ঘটনার খুব কমই বিচার হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বিচার হলেও অভিযুক্ত খালাস পেয়ে যাচ্ছে। সাক্ষীর অভাব, বাদীর অনীহা, পুলিশের গাফিলতিতে দুর্বল চার্জশিট দেওয়া ইত্যাদি কারণে ধর্ষণ প্রমাণ কঠিন হয়। সমাজের মধ্যে এ ধরনের অপরাধের ব্যাপারে মানুষ সোচ্চার হলেও ভিকটিমকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না। নারীকে অবহেলার চোখে দেখা হয়।’

বেশ কিছু করপোরেট অফিস থেকে নারী নির্যাতনের খবর আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারীরা আসলে রাস্তা-বাড়ি-কর্মক্ষেত্র কোথাও নিরাপদ না। এটি ব্যাপকতা পেয়েছে। একজন নারী, সে যদি অফিসেও যৌন হয়রানির শিকার হন, সেখানেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘পিতৃতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নারীকে সম্মানের জায়গায় অধিষ্ঠিত হতে বাধা দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষণরোধে আইন হতে হবে এবং ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে বর্তমান বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। বিচার না হওয়ার কারণে অপরাধ দ্বিগুণ-তিনগুণ হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিচার হবে কী করে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। সাক্ষীর নিরাপত্তার কোনও জায়গা আমরা রাখিনি। অথচ, ভিকটিমের সাক্ষী লাগবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মেডিক্যাল পরীক্ষা হতে হবে, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সবসময় সেই সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায় না। তাহলে কীভাবে প্রতিকার মিলবে?’

আয়েশা খানম বলেন, ‘ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফলতি হচ্ছে কিনা, সেই বিষয়ে মনিটরিং থাকতে হবে। বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না, ফলে পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগগুলো থাকে। নারী ভিকটিম হলে তাকে ইতিবাচক সহায়তা দেওয়ার বদলে কোন কোন কারণে তার ধর্ষণ জায়েজ, সমাজ এখনও সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেয়। এসব বদলাতে অপরাধকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিচার হতে হবে।’

উৎসঃ ‌banglatribune

আরও পড়ুনঃ নববধূকে তুলে নেয়ার ঘটনায় জড়িত সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী


কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় ছাত্রলীগ সভাপতির নেতৃত্বে বৌ-ভাত অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে নববধূকে তুলে নেয়ার চেষ্টার ঘটনায় জড়িত সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

এ ঘটনায় বুড়িচং উপজেলার নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব অপি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগের এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, শুক্রবার বিয়েবাড়িতে হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব অপি বলেন, সংগঠনের শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার কারণে জেলা ছাত্রলীগের এক জরুরি সভায় জেলার বুড়িচং উপজেলার নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইলের নেতৃত্বে নববধূকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনায় জড়িত সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দেবিদ্বার উপজেলার সূর্যপুর গ্রামের জাকির ফরাজীর মেয়ে ফাতেমা আক্তারের (১৯) সঙ্গে ১ ফেব্রুয়ারি একই উপজেলার সাহারপাড় গ্রামের মো. ইউনুছের ছেলে ছিদ্দিকুর রহমানের (২৫) বিয়ে হয়। শুক্রবার বরের বাড়িতে বৌভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দুপুর আড়াইটার দিকে নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইলের নেতৃত্বে ২৫-৩০ নেতাকর্মী অনুষ্ঠানে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। তারা অনুষ্ঠানের লোকজনকে মারধর করে নববধূকে তুলে নেয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিসহ স্থানীয় লোকজন তাদের ঘিরে ফেলে।

ওই সময় ছাত্রলীগ নেতা ইসমাইল ও ছাত্রলীগ নেতা সাকিব পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও স্থানীয় জনতা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গণপিটুনি দিয়ে জাফর হোসেন (১৮), সজিব পাল (১৮), কাউছার আহম্মেদ (২০), আলী হোসেন (২০), মেহেদী হাসান (১৮), মো. আলম (২২) ও নাইদুল ইসলামকে (১৮) পুলিশে সোপর্দ করে।

নববধূর বাবা জাকির ফরাজী বলেন, ফাতেমা আক্তার নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়া অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা ইসমাইল প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করত। ১ ফেব্রুয়ারি ফাতেমার বিয়ের খবর পেয়ে একাধিকবার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছি আমি। এরপরও দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে বিয়েবাড়িতে হামলা চালায় ইসমাইল।

দেবিদ্বার থানা পুলিশের ওসি জহিরুল আনোয়ার বলেন, গ্রেফতারকৃত সাতজন ছাড়াও হামলায় নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রলীগ নেতা ইসমাইল ও তার সহযোগী সাকিবসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়। বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার তাদের রিমান্ড শুনানি হবে।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ঢাকা উত্তর সিটির ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা শামীম আহমেদের ভয়ংকর শাসন।


ঢাকা উত্তর সিটির ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ মাতবর। একই সঙ্গে তিনি ক্যান্টনমেন্ট থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিরও সাধারণ সম্পাদক। এই দুই পদের প্রভাব খাটিয়ে মানিকদী এলাকায় ‘ভয়ংকর শাসন কায়েম’ করেছেন তিনি।

শামীমের বিরুদ্ধে এলাকায় বাড়ি দখলের চেষ্টা, জমি দখল, চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেই ‘আদালত’ বসিয়ে বিচারকাজ করছেন। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। যারাই তাঁর ‘আদালতের’ বিচার মানছে না, তাদের ওপর নেমে আসছে নানা ধরনের হয়রানির খড়্গ। বিএনপির নেতা বানিয়ে একাধিক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে এলাকাছাড়া করেছেন বেশ কয়েকজনকে।

সম্প্রতি কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম মাতবরের এমন ত্রাস সৃষ্টির তথ্য পাওয়া গেছে। শামীম নিজেই ‘আদালত’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মানিকদীতে ৬২৫ নম্বরের বাড়িটির মালিক মৃত মোতাহার হোসেন। ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন জোয়ার সাহারা মৌজার আরএস ৬ নম্বর দাগে প্রায় ৫ শতাংশ জমির ওপর তিনতলা ভবন। মোতাহার হোসেনের মৃত্যুর পর ১৯৯৭ সালে তাঁর মেজ ছেলে মাকসুদ হোসেন টিপু বাড়িটি নির্মাণ করে মা ও ভাইবোনদের নিয়ে ২২ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। মোতাহার হোসেনের স্ত্রী রহিমা খানম জীবিত থাকতেই ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে বণ্টননামা করে সন্তানদের মধ্যে জমিজমা সম্পত্তি ভাগ করে দিয়ে যান। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর এই বণ্টননামা মানতে চাচ্ছেন না বড় ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন বিপু। ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে করা হয় একটি বণ্টননামা, সেটাও মানছেন না বিপু।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা শামীম আহমেদ মাতবরের সঙ্গে আঁতাত করে অন্য ভাই-বোনদের উচ্ছেদ করে পুরো বাড়িটি দখলে নিতে চান লন্ডনপ্রবাসী মোয়াজ্জেম হোসেন বিপু। তিনি বাংলাদেশে এসে এ বিষয়ে শামীম মাতবরের কাছে যান। শামীম মানিকদী বাজার এলাকায় তাঁর কার্যালয়ে পরিবারটির অন্যদের ডাকলেও তাঁরা যাননি। এরপর গত সেপ্টেম্বরে শামীম কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির প্যাডে একটি বণ্টননামা তৈরি করে দেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শামীম মাতবরের রোষানলে পড়ে মাকসুদ হোসেন টিপু প্রায় তিন মাস ধরে এলাকাছাড়া। টিপুর ভাই বিপুর কাছ থেকে কম দামে বাড়িটি কিনে নিতেই টিপুকে মামলায় জড়িয়ে এলাকাছাড়া করেছেন।

কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাকসুদ হোসেন টিপু এলাকার কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। কখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ছিলেনও না। কিন্তু ওয়ার্ড বিএনপির কোষাধ্যক্ষ বানিয়ে তিনটি মামলায় আসামি করা হয়েছে তাঁকে। এর পেছনে ইন্ধন রয়েছে শামীম মাতবরের।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে মাকসুদ হোসেন টিপুকেও আসামি করা হয়েছে (৬১ নম্বর)। কিন্তু মামলার এজাহারে তাঁর নাম ছিল না। অভিযোগপত্রেও মাকসুদকে ওয়ার্ড বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিপু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।

কমিউনিটি পুলিশিং সার্ভিসেসের প্যাডে বণ্টননামা দলিল প্রসঙ্গে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে মাকসুদ হোসেন টিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বড় ভাই বিপুর পক্ষ নিয়ে অন্যায়ভাবে শামীম মাতবর ও তাঁর লোকজন বাড়িটি দখল নিতে চায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ যেখানে জমির মালিকানা নিয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, এটার কোনো বিধান নেই। সেখানে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সেক্রেটারি হয়ে তাদের প্যাডেই বণ্টননামা দলিল করায় আমরা বিস্মিত এবং হতবাক।’

পরিবারের বড় বোন লুৎফুন নাহার বেলা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ভাই বিপু খুব বেশি অন্যায় করছেন, পুলিশ যেখানে জমি নিয়ে কথা বলে না, সেখানে কমিউনিটি পুলিশের লোকজন দলিলও করে দেয়, এটা কিভাবে সম্ভব?’

স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উদ্দিন আহমদ ও বেলাল উদ্দিন বলছিলেন, দলীয় পদের সঙ্গে শামীম এখন কমিউনিটি পুলিশিংয়েরও নেতা। এ পদের প্রভাব খাটিয়ে নিজেই আদালত বসিয়ে বিচার করছেন। ভয়ে এ ব্যাপারে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চায় না।

শামীমের এক চাচাতো ভাই নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়ে মানুষকে তাঁর কার্যালয়ে নোটিশ করে ডেকে বিচার-সালিস করছেন। কেউ তাঁর অন্যায় বিচার না মানলে নির্যাতন এবং হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।’

পূর্ব মানিকদী কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির প্যাডে জমির বণ্টননামা দলিল তাঁরা কিভাবে করলেন, সেটা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। বিষয়টি নিয়ে আমি থানায়ও গিয়েছিলাম; কিন্তু তারাও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘শামীম মাতবর ক্ষমতার জোরেই এটা করেছেন। বিপুর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পুলিশিং কমিটির ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন তিনি।’

ক্যান্টনমেন্ট থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি সামসুল হক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি আসলে জানতাম এটা করা যায় না। তবে ইচ্ছা করলে সেটা তারা না মানলেও হবে কিংবা ছিঁড়ে ফেলে দিতেও পারবে। আর টিপু আমার কাছে এলে আমি সমাধান করে দেব।’

এ ব্যাপারে শামীম মাতবর বলেন, ‘বণ্টননামা নিয়ে বিপুরা আমার কাছে এসেছিল। তাই করে দিয়েছি।’ টিপুকে বিএনপির নেতা বানানো বিষয়ে বলেন, ‘তারা তো নিজেরা নিজেরা কমিটি করে।’ টিপুকে বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে দেখেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাঁরা তো প্রকাশ্যে কর্মসূচিতে থাকে না।’

বিধবা ও প্রবাসীর জমি দখল

শামীম মাতবরের অপকর্মের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে মানিকদী বাজার, পূর্ব মানিকদী ও পশ্চিম মানিকদী ঘুরে পাওয়া গেছে বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য। এর মধ্যে একজন বিধবার জমি দখল অন্যতম। শামীম মাতবরের দখলবাজির শিকার ঢাকা উত্তরের ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি বাজার এলাকার মৃত মো. হানিফ মিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম আঙ্গুর।

জানা গেছে, আনোয়ারার স্বামীর কেনা তিন শতাংশ নিচু জমি জোরপূর্বক বালু ভরাট করে দখলে নিয়েছেন শামীম। সেখানে ছাপরা তুলে নিজের নামে সাইনবোর্ডও টানিয়ে দিয়েছেন। একপ্রকার বাধ্য হয়ে প্রায় কোটি টাকার জমিটি বিক্রি করার জন্য বারবার ক্রেতা আনলেও শামীম মাতবর ও তাঁর লোকজন ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এই বিধবাকে।

আনোয়ারা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার স্বামী নেভিতে সার্জেন্ট হিসেবে চাকরি করতেন। স্বামী জীবিত থাকতেই ডোবা জায়গায় তিন শতাংশ জমি কেনেন। সেই জমিটি সাত-আট বছর আগে শামীম মাতবর ও তার লোকজন বালু দিয়ে ভরাট করে এবং বিনিময়ে ৭০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ঘর তুলে নিজের নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়।’ তিনি বলছিলেন, মেয়েকে দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও টাকার জন্য পারছেন না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আনোয়ারা বলেন, ‘আমার মতো একজন বিধবার জমিটি দখলে রাখছে শামীম। জমিটি বিক্রির জন্য অনেক চেষ্টা করছি, কিন্তু শামীমের জন্য বিক্রি করতে পারছি না।’

লোকমান খান ২৫ বছর ছিলেন সৌদি আরবে। প্রবাসে থেকে কষ্টের টাকায় দুই কাঠা জমি কিনেছিলেন পশ্চিম মানিকদি এলাকায়। সেখানে নিচু জমি ভরাট করে বাড়ি বানানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। তিন বছর আগে শামীম মাতবর ও তাঁর ক্যাডার বাহিনী এসে বাড়ি তৈরির কাজ বন্ধ করে দেয়। জমিটি নিজের দাবি করে আধাকাঠা জোর করে দখলে নিয়ে যান শামীম। শুধু তা-ই নয়, লোকমান খানের বাড়ি করার জন্য কেনা ইট-বালু-সিমেন্ট দিয়েই দেয়াল তুলে প্রায় ২৫ লাখ মূল্যের জমি দখল করেন।

জানতে চাইলে লোকমান খানের চোখে-মুখে আতঙ্ক ভর করে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ভাই সেই জমি দখলের কথা আর কী বলব? শুধু আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রাখছি। আমার অনেক পরিশ্রমের টাকায় কেনা জমি দখলে নিয়েছে। আমি আর বেশি কিছু বলতে পারব না। একই এলাকার আরো অনেকের জমি দখলে নিয়েছে কিংবা জমির পরিবর্তে টাকা নিয়েছে শামীম সিন্ডিকেটের লোকজন।’

বিধবার জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম মাতবর কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে লোকমানের জমি দখল করে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সেটা তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির অংশ। সে কারণে দখলে নিয়েছেন তিনি।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা দখল করে চাঁদাবাজি

মানিকদি বাজারের মানিক ফার্মেসির মালিক ও পল্লী চিকিৎসক সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা নিজের জমি দাবি করে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে শামীম মাতবর ও তাঁর লোকজন। শেষ পর্যন্ত নিরীহ সিদ্দিকুর রহমান ধারদেনা করে পাঁচ লাখ টাকা শামীমকে দিয়ে রাস্তায় চলাচলের সুযোগ পান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘টাকা দিয়েছি রাস্তার জন্য, সেই বিষয়ে এখন কিছু বলে বিপদে পড়তে চাই না।’

এ বিষয়ে শামীম বলেন, ‘আমাদের জমিতে রাস্তা করেছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। সে জন্য টাকা নিয়েছি।’

মানিকদি বাজারের ষাটোর্ধ্ব সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকায় ঘুরলে শামীম মাতবরের অনেক দখলবাজি আর চাঁদাবাজির ঘটনা পাবেন, তবে কেউ মুখ খুলতে চায় না।’

এলাকাবাসী বলছে, শামীম মাতবরের বাবা মমতাজ মাতবর ছিলেন খুবই ভালো মনের মানুষ। উনি মানুষের বিপদ-আপদে এগিয়ে যেতেন। অথচ তাঁর ছেলে হয়ে শামীম এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন। আওয়ামী লীগের সুনাম নষ্ট হচ্ছে এই শামীমদের কারণে। দলের ওপর মহলের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।

মামলায় আসামি করে হয়রানি

শুধু মাকসুদ হোসেন টিপুই নন, মানিকদি বাজারের সিঙ্গার শোরুমের ম্যানেজার ও স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমানও শামীম মাতবরের রোষানলের শিকার হয়ে মিথ্যা নাশকতা মামলার আসামি হয়েছেন। একইভাবে এলাকার ২০ জনের বেশি নিরীহ বাসিন্দাকে মামলায় জড়িয়ে দিয়েছেন। আরো কয়েকজনের কাছ থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে আদায় করছেন টাকা।

উৎসঃ ‌কালের কণ্ঠ

আরও পড়ুনঃ বুলবুলের নারী কেলেঙ্কারিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাংবাদিকরা


নারীকর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর চরম বিব্রতক অবস্থায় পড়েছেন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতা ও দখল করে নেয়া একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। একুশে টিভির কয়েকজন সাংবাদিক ও বুলবুলের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। ইলিয়াস হোসাইনের ভিডিওটি সামাজিক যোগগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বুলবুল বাইরে বের হচ্ছেন না। কোনো প্রোগ্রামাদিতেও যাচ্ছেন না। সূত্রটি বলেছে, বুলবুলের এসব অপকর্ম ফাঁস হওয়ার পর তার স্ত্রীও এনিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার সংসারে এখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। দুই দিন ধরে বুলবুলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছে না তার আত্মীয় স্বজনও।

এদিকে, বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতন ঘটনা প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সাংসাদিক মহলেও। গত দুই দিন ধরে প্রেসক্লাব ও ডিআরইউতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বুলবুলের যৌণ হয়রানির ঘটনা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আওয়ামীপন্থী অংশের নেতারাও বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। বুলবুলকে এড়িয়ে চলতে কয়েকজন সাংবাদিক নেতা তাদের সহকর্মীদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এরপর, বুলবুলের এই নারী কেলেংকারির ভিডিওর খবর পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনেও। জানা গেছে, শনিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত চা-চক্র অনুষ্ঠানেও বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে অনেকেই কানাঘুষা করেছেন। এক কান দুই কান করে এটা শেখ হাসিনার কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের হাত থেকে নারী সাংবাদিকদেরকে রক্ষা করার জন্য একুশে টিভির কয়েকজন নারীকর্মী যে অনুরোধ করেছেন সেটাও জেনেছেন প্রধানমন্ত্রী। এনিয়ে বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে, বুলবুলের এই ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর একুশে টিভির স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছে- বুলবুলের নামে সাংবাদিক ইলিয়াস অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর জামায়াত-শিবিরের কিছু সাইট এগুলো প্রচার করছে।

এনিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, বুলবুল তার নারী কেলেংকারির ঘটনা চাপা দিতে এখন জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। বাংলাদেশে যখনই যা ঘটেছে বুলবুলরা সব সময় জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। এবার বুলবুল তার প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতন করে এটার দায়ও চাপানোর চেষ্টা করছেন জামায়াত-শিবিরের ওপর।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ হ্যাশট্যাগ মিটু’তে ইটিভি’র রিপোর্টার মিনালা দিবাঃ একুশে টিভি’র (ইটিভি) চিফ রিপোর্টারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ!


একুশে টেলিভেশনের নারী সহকর্মী মিনালা দিবাকে যৌন হয়রানির অভিযোগের মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি’র (ইটিভি) চিফ রিপোর্টার (প্রধান প্রতিবেদক) এম এম সেকান্দারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদারের আদালতে এ মামলার শুনানি হয়। তার বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই নারী।

সোমবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ মিটু-তে একুশে টেলিভেশনের (ইটিভি) প্রতিবেদক মিনালা দিবা লিখেছেন, ‘#Metoo অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমি মিডিয়ায় এসেছিলাম বড় একজন সাংবাদিক হব বলে। ভেবেছিলাম আকাশের তারা হবো। যুক্ত হয়েছিলাম দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান একুশে টেলিভিশনের সাথে। শুরুতে বেশ ভালই কাটছিল। সহকর্মী বড় ভাই ও আপুরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এই স্বপ্নের প্লাটফর্মে পা দিয়ে কিছুদিনের মধ্যে পরিচিত হলাম মুখোশের অন্তরালে থাকা সমাজের এক নরপশুর সাথে। দুঃখজনক হলেও সত্য যাকে আমি বড় ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করতাম সে আমার কাছে উন্মুক্ত করলেন তার নোংরা রুচির নানা আবদারের ঝুলি। সেই নরপশুর নাম এম এম সেকান্দার। একুশে টেলিভিশনের বর্তমান চীফ রিপোর্টার ও প্ল্যানিং এডিটর।’

এর আগে দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানা পুলিশ ফাঁড়ির (উপ-পরিদর্শক) মবিন আহমেদ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত এম এম সেকান্দারকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার ও তুহিন হাওলাদার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে অভিযুক্তের আইনজীবীরা বলেন, ‘মামলার এজহারের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার কোনও মিল নেই। এ আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নেই। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। অভিযুক্ত জামিন পেলে পলাতক হবেন না।’ অপরদিকে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) জাহিদুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

ভিডিওঃ  ‘একুশে টিভির মনজুরুল আহসান বুলবুল ও এম এম সেকান্দার কর্তৃক নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

প্রসঙ্গত, রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে র‍্যাব-২ এর একটি দল এম এম সেকান্দারকে তার বনশ্রীর বাসা থেকে গ্রেফতার করে। এরপর সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ ফজলুল করীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় ভুক্তভোগী নারী মামলাটি করেছেন। মামলায় এম এম সেকান্দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের অভিযোগ এনেছেন ওই তরুণী।’

মামলা করার আগে এই নারী সাংবাদিক ইটিভি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ২৮ জানুয়ারি চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এম এম সেকান্দারের বিরুদ্ধে তিন পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি। তাতে হয়রানির পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ওই নারীর অভিযোগ, তাকে দীর্ঘদিন ধরে সেকান্দার যৌন হয়রানি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কথা বলতে গেলেও তিনি তাদের কাছে পাত্তা পাননি।

ভুক্তভোগী নারীর আরও অভিযোগ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রিপোর্টিং কোর্স করার সময় এম এম সেকান্দারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তার মাধ্যমেই ইটিভিতে চাকরি পান ওই নারী। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সেকান্দার তাকে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানি করেছেন। কোনও কারণ ছাড়াই তাকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে বসিয়ে রাখতেন। এরপর সেকান্দার তার নিজের গাড়িতে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতেও যৌন হয়রানি করতেন। এই কাজে চ্যানেলটির আরও কয়েকজন সেকান্দারকে সহায়তা করতেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

উৎসঃ ‌বাংলা ট্রিবিউন, সময় টিভি, বাংলা নিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে গ্রেফতার এড়াতে গণভবনে ধরণা দিচ্ছেন মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল!


একুশে টেলিভিশনে নারীকর্মীদেরকে জোরপূর্বক ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে চ্যানেলটির প্রধান নির্বাহী কথিত সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সহযোগী ও চিফ রিপোর্টার এম এম সেকান্দরকে সোমবার রাতে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর তাকে রিমান্ডেও নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে সেকান্দর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। বুলবুলের প্ররোচনাতেই তারা কয়েকজন নারীকর্মীদেরকে উত্যক্ত করতো বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এমনকি সেকান্দরের বাসায় নারীকর্মীদেরকে নিয়ে বুলবুল রাত যাপন করেছে বলে রিমান্ডে পুলিশকে জানিয়েছে সেকান্দর।

একটি সূত্রে জানা গেছে, সেকান্দরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন বুলবুল। এখন শুধু সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন প্রশাসন। কারণ, বুলবুলের সম্পর্কটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে। বিশেষ করে গোলাম সরওয়ার মারা যাওয়ার পর বুলবুলই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চাটুকারিতার দায়িত্বটা পালন করছেন। তাই, সরকারের সবুজ সংকেত ছাড়া বুলবুলকে গ্রেফতার করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন। তবে সূত্রটি বলেছে, পুলিশ বুলবুলকে গ্রেফতার না করলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারে।

ভিডিওঃ  ‘ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে বুলবুল ও সেকান্দারের শাস্তির দাবীতে একুশে টিভির সাংবাদিকদের মানববন্ধন’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

একুশে টিভির একটি সূত্রে জানা গেছে, বুলবুল এখন গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। গ্রেফতার থেকে রক্ষা পেতে তিনি একুশে টিভির পরিচালক আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সুবহান গোলাপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ধরণা দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে, বুলবুলের এই অপকর্মে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। কারণ, বুলবুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ জানিয়েছেন নারীরা। এখন বুলবুলের বিষয়টা নিয়ে সরকারও চরম বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে আছেন।

এদিকে, একুশে টিভিতে কর্মরত নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতনের মূল হোতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের গ্রেফতার দাবিতে মাঠে নেমেছেন সাংবাদিক সমাজ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সেকান্দরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বুলবুলের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। মানববন্ধনে নির্যাতন-হয়রানির শিকার একুশে টিভির এমন কয়েকজন নারী সাংবাদিকও বক্তব্য রাখেন। নারীদের সম্মান রক্ষায় বুলবুলকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করেছেন।

মানববন্ধনে একজন সাংবাদিক বলেছেন, এটিএন বাংলায় থাকাকালীনও বুলবুল নারীকর্মীদের সঙ্গে এমন অপকর্ম করেছেন। তার অপকর্মের ভিডিও এমন জায়গায় পৌছেছে যা খুবই লজ্জাকর।

অপরদিকে, একুশে টিভির আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে চ্যানেলটিতে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। ঘটনাগুলো ফাঁস হওয়ায় বুলবুলের পক্ষের লোকজন এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। বুলবুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা মালিক পক্ষকে চাপ দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এখন যেকোনো মুহূর্তে বুলবুলকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘোষণাও আসতে পারে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here