আ’লীগ নেতারা মিথ্যাচার দিয়ে ষড়যন্ত্র ঢাকতে পারদর্শী: রিজভী

0
136

আওয়ামী নেতারা চরম মিথ্যাচার দিয়ে নিজেদের ষড়যন্ত্র ঢাকতে পারঙ্গম বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, চরম মিথ্যাচার আওয়ামী লীগ ও সরকারে পদোন্নতির একমাত্র মাপকাঠি। আওয়ামী লীগে ব্যক্তির যোগ্যতা ও মেধার ইন্টিগ্রেটির কোনো বালাই নেই।

‘আওয়ামী লীগের নেতাদের মনস্তত্ব বিশ্লেষণে যেটি পাওয়া যায় তা হলো ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড, চরম মিথ্যাচার, অপরাধ করেও অনুশোচনাহীন, অগভীরতা, পরজীবীর মতো আচরণ এবং ব্যর্থতার দায়িত্ব নিতে অপারগতা।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, একবার তিনি মন্ত্রিত্ব খুইয়ে এবারের মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন শুধু অবান্তর, অবিরল ও মিথ্যাচারের প্রতিভা প্রমাণ করে।

তিনি আরও বলেন, বিএসএমএমইউ (পিজি) একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ওই এলাকায় তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গোয়েন্দাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকার কথা। যেখানে সরকারি অনুমোদন ছাড়া কাকপক্ষিও ঢুকতে পারে না; সেই বিএসএমএমইউতে বোমাসদৃশ্য বোতল উদ্ধারের ঘটনায় তথ্যমন্ত্রী এখন বিএনপির যোগসূত্র খুঁজছেন।

‘এ জন্যই বলেছি যে, আওয়ামী নেতারা চরম মিথ্যাচার দিয়ে নিজেদের ষড়যন্ত্র ঢাকতে পারঙ্গম। তথ্যমন্ত্রীর তো ভুলে যাওয়ার কথা নয়, শেরাটনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে বিএনপির আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে সারা দেশে গাড়িতে পেট্রল বোমা হামলা কারা করেছিল, বিহঙ্গ গাড়িতে পেট্রল হামলা কারা করেছিল, যা পরবর্তী সময় আওয়ামী নেতারাই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ স্বীকারোক্তির কথাটি তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করলেন না কেন?’

রিজভী বলেন, নরসিংদী রোডের বিআরটিসি বাস আজিমপুরে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করেছিল কারা? এসব করেছিল যারা, তারা সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ও রাষ্ট্রযন্ত্র, যা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। নারায়ণগঞ্জে পেট্রল বোমা হামলায় যুবলীগ নেতারা কীভাবে আটক হয়েছিলেন, রাবিতে ছাত্রলীগ কীভাবে বোমা হামলার স্বীকারোক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করেছিল।

‘সুতরাং পেট্রল বোমা কালচার আওয়ামী লীগের আবিষ্কৃত, সেটি তথ্যমন্ত্রী এড়িয়ে গেলেও দেশবাসী ঠিকই জানেন,’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, বিএসএমএমইউতে পেট্রল বোমাসদৃশ্য বোতলও ক্ষমতাসীন মহলের ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এটি কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, এটিও দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌দূরত্ব ঘোচাতে সোমবার বসছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা


দূরত্ব ঘুচিয়ে ও ‘ভুল বোঝাবুঝি’ নিরসন করে ফের রাজপথে সক্রিয় হচ্ছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বৈঠকে বসছেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। আগামীকাল সোমবার জেএসসি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় মিলিত হবেন তারা।

এ বৈঠকে ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ ফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এর আগে আজ সন্ধ্যায় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের মতিঝিল কার্যালয়ে জোটের শরিক দলের নেতারা একদফা বসবেন। তবে এটিকে ‘অনানুষ্ঠানিক বৈঠক’ বলে দাবি করছে ঐক্যফ্রন্ট।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এ বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোটের শরিকদের মধ্যে নানা ইস্যুতে সৃষ্ট সংকট, দূরত্ব এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করার উদ্যোগ নেয়া হবে। আলোচনা হতে পারে নতুন কর্মসূচি নিয়েও।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন এবং সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা জোটটি আটটি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ফল বর্জন ও সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ঐক্যফ্রন্ট। জোট শরিকদের না জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বিএনপি ও গণফোরামের নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেন। এ নিয়ে ফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এসব কারণে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত আর মাঠে দেখা যায়নি তাদের।

জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মসূচি না থাকা এবং বিএনপি ও গণফোরামের সদস্যদের সংসদে যোগদান নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভেতরে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

পাশাপাশি বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ এবং জোটের আরেক শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর জোট ছাড়ার আলটিমেটামের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে। ফলে কার্যত থমকে দাঁড়ায় জোটের যাবতীয় কর্মকাণ্ড।

জানা গেছে, এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দীর্ঘদিন পর বৈঠকে বসছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। এর আগে তারা ঘরোয়াভাবে কয়েক দফা বসেছেন, কথাও বলেছেন নিজেদের মধ্যে। প্রথমে ১২ জুন বৈঠক ডাকা হলেও পরে তা এগিয়ে ১০ জুন নির্ধারণ করা হয়।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিব-উন নবী সোহেলের মেয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস


গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গ্রেফতার হন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিব-উন নবী সোহেল।

তখন থেকেই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এই সভাপতি কারাগারে বন্দী আছেন।

এবারের ঈদ আনন্দ অনেকটাই ম্লান সোহেলের দুই কন্যা সূচনা ও মাটির কাছে। প্রাণ প্রিয় বাবা ছাড়া ঈদ উদযাপন মানতেই পারেনি তারা।

তাই ঈদের দিনই (বুধবার) বাবাকে একনজর দেখতে মাকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে গিয়েছিল সূচনা ও মাটি।

তবে তাতে মন ভরেনি তাদের। নিজের অনুভুটির কথা জানাতে ফেসবুককে বেছে নিলেন সূচনা।

কারাগার থেকে বেরিয়ে বাবাকে নিয়ে আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন সোহেলের কন্যা জান্নাতুল এলমি সূচনা।

সূচনার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো- ‘ডেপুটি জেলারের রুদ্ধ কক্ষে মিষ্টি একটা হাসি নিয়ে বাবা ঢুকলেন … পরনে শুভ্র পাঞ্জাবি … চুল ব্যাকব্রাশ … মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন – মা , ঈদ মোবারক , এবার তোমাদের কিছুই দেয়া হলো না, পাওনা রইলো সব কেমন ? … মার দিকে তাকিয়ে কি যেন একটা হাতে গুজে দিলেন … অবাক ব্যাপার! একটা সুন্দর লাল পাড়ের জামদানি! জেলের ভেতর অর্ডার দিয়েছে মাকে ঈদে দিবে বলে … মার চোখের কোণে কি যেন ছলছল করছে … এমন একটা মানুষকে একদিন ভালবেসে নাকি হাজার বছর অপেক্ষা করা যায় …। আজ আমাদের রুদ্ধ ঈদ … তিনজন এপাড়ে, আত্মা ওপাড়ে …। সকাল থেকে এখানেই আছি … নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার … আকাশটাও অঝর ধারায় কেঁদে চলছে … আমরা তাকিয়ে আছি সেদিকে …। বৃষ্টির ফোঁটায় চোখের পানি আড়াল হয়ে যাচ্ছে তিনজনের … খারাপ না ব্যাপারটা …সবাইকে একগুচ্ছ বিপ্লবী ঈদের শুভেচ্ছা।

প্রসঙ্গত ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেলের বিরুদ্ধে ১৪৩টি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

গত বছর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়কে ঘিরে আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্রিয় ছিলেন সোহেল।

তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, যেসব বিএনপি নেতা আন্দোলনে মাঠে নামবেন না তাদের তিনি চুড়ি পরিয়ে দেবেন।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শপথ নিলেন বিএনপির ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা


একাদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি রোববার দুপুরে শপথ নিয়েছেন। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

দুপুর ১২টায় রুমিনকে জাতীয় সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির সহআন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক। একাদশ সংসদে আনুপাতিক হারে বিএনপি একটি মাত্র সংরক্ষিত আসন পেয়েছে। সেই আসনে বিএনপি রুমিনকে মনোনয়ন দিয়েছে।

টেলিভিশন টকশোর পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার রুমিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে আলোচনায় আসেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে মনোনয়ন চান।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উকিল আবদুস সাত্তারকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। নিজ এলাকার মানুষের কাছে তেমন পরিচিতি না থাকলেও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে রুমিন ফারহানার পরিচিতি রয়েছে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন, ভাষাসংগ্রামী অলি আহমদের মেয়ে ব্যারিস্টার রুমিন সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। তিনি দলীয় বক্তব্য জাতিকে জানাতে পারবেন।

৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সাতটি আসনে জয়লাভ করে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বাকি সবাই শপথ নিয়ে সংসদে গেছেন।

এ ক্ষেত্রে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন আইন অনুযায়ী, দলটিকে একটি আসন বণ্টন করে দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌২ দিন সময় বাড়লো কাদের সিদ্দিকীর সেই আল্টিমেটামের


গতকাল শনিবার শেষ হল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সেই আল্টিমেটামের সময়সীমা।

‘অসঙ্গতি’ দূর করার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দকে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি।

গত ৯ মে তিনি বলেছিলেন, ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। এসব অসঙ্গতি ও কিছু প্রশ্নের উত্তর আগামী এক মাসের মধ্যে সুরাহা না হলে ৮ জুন ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে যাবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

কিন্তু গতকাল (৮ জুন) ফ্রন্ট ছাড়েননি কাদের সিদ্দিকী। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তিনি আরও দুই দিন সময় নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আগামী ১০ জুনের পর ঐক্যফ্রন্টের এক জরুরি বৈঠক শেষে জোট ছাড়া বা না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেবেন। এমনটাই জানালেন তিনি।

এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ জন সংসদ সদস্যের শপথ নেয়ার সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলাম। এরই মধ্যে ড. কামাল হোসেন আমাদের সঙ্গে মিটিং করে আগামী ১০ জুন আ স ম আবদুর রবের বাসায় ফ্রন্টের সবাইকে ডেকেছেন ।

তিনি যোগ করেন, ওই বৈঠক থেকে কী ব্যাখ্যা আসে সেটা আমরা দেখব। তারপর আমাদের সিদ্ধান্ত নিব ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে যাব কি যাব না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাদের সিদ্দিকীর প্রশ্নের জবাব দিতে আগামী ১০ জুন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোকে নিয়ে বৈঠকে বসবেন ড. কামাল হোসেন। সেখানে ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণফোরামের দুই জন এবং বিএনপির পাঁচ জন প্রার্থীর শপথ নেয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরবেন।

সুত্র বলছে, ওই বৈঠকের পর আগামী ১১ অথবা ১২ জুন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলীয় সিদ্ধান্ত জানাবেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি।

উল্লেখ্য, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যের শপথ নেয়াসহ নানা অসঙ্গতির বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ফ্রন্টের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবহিত করেছিলেন কাদের সিদ্দিকী।

সে সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আলটিমেটাম দেয়ার আগে তিনি জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মোহসীন মন্টুর সঙ্গে এসব অসঙ্গতির বিষয়ে কথা বলেছিলেন।

গত ৯ মে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের কিছু সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেছিলেন, ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে জঘন্য নাটক হয়েছে, যা শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর কোনো দেশেই এমন নাটকের নজির নেই। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পরও গণফোরামের সুলতান মনসুর শপথ নিলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। মোকাব্বির খান শপথ নিলে ড. কামাল হোসেন তাকে ‘গেট আউট’ বলেন। পরে দেখা যায় গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিলে মোকাব্বির খান উপস্থিত। এসব নিয়ে মানুষের মধ্য বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। মানুষ এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আমরা জবাব দিতে পারি না।

ওই দিনই রাজধানীর মতিঝিলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অসঙ্গতি নিরসন না হলে ৮ জুন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে বলে ঘোষণা দেন কাদের সিদ্দিকী।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নৌকা ভ্রমণেও যদি কৃষিমন্ত্রীর সোফার প্রয়োজন হয়, তাহলে কৃষকের সুখ-দুঃখ কীভাবে অনুভব করবেন!


গত বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের একটি ছবি।

লাখো ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর টাইমলাইনে ছবিটি শেয়ার করতে দেখা গেছে।

ছবিটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন নেটিজেন।

শেয়ার করা পোস্টে ইতিবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্যে করছেন অনেকে। তবে এসব মন্তব্যের মাঝে নেতিবাচকই বেশি দেখা গেছে।

কৃষিমন্ত্রীর ভাইরাল সেই ছবিতে দেখা গেছে, খোলা একটি নৌকার পাটাতনে মুখোমুখি দুটি সোফা পাতা রয়েছে। আর একটি সোফায় হাস্যোজ্জ্বল মুখে বসে আছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তার সঙ্গে নৌকায় নারী-শিশুসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।

নৌকাটি ঘন জঙ্গলের পাশ কেটে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। বেশ খোশ মেজাজে রয়েছেন মন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রীর এই ছবিকে ঘিরে নানা রকম মন্তব্য করা হয়েছে।

অনেকে লিখেছেন, ‘আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য এ নৌকা ভ্রমণেও যদি কৃষিমন্ত্রীর সোফার প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি কৃষকের সুখ-দুঃখ কীভাবে অনুভব করবেন।’

সমীরণ দেবনাথ নামে একজন লিখেছেন, ‘কৃষিমন্ত্রী হবেন মাটির মানুষ। যার মাটির সঙ্গে সখ্য থাকবে। অথচ ইনি দেখছি এর উল্টো।’

সৈয়দা তাজমিরা আখতার নামে একজন কমেন্ট করেছেন, ‘এইসব কর্মকাণ্ড দেখে হতাশ হয়ে যাচ্ছি। এরা নিজেদের জনগণের সেবক মনে করেন না।’

শামীম আহমেদ লিখেছেন, ‘এখনতো মন্ত্রী, তাই হয়তো একটু বাড়তিই উঠলেন এই আর কী…..’

ফুয়াদ লিখেছেন, ‘নৌকায় উঠে এমন রাজকীয় ভঙ্গিতে এর আগে কাউকে বসতে দেখিনি। হয়তো এর মাধ্যমে ড. রাজ্জাক জানালেন, তিনি আমাদের মতো সাধারণ নাগরিক নন, তিনি মন্ত্রী, তিনি ভিআইপি।’

কেউ কেউ ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর অমিল খুঁজে পেয়েছেন।

প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে (সাবেক কৃষিমন্ত্রী) সবকিছুতে ইনি উল্টো ডিগ্রির। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে ইনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি ভুল চয়েস।’

একজন ব্যাঙ্গ করে লিখেছেন, মন্ত্রীর এই প্রমোদতরী ভ্রমণের সময় ওই আশপাশের খালগুলোর নৌকা আটকে রাখা হয়েছিল কিনা। নাকি তিনি উল্টো পথ দিয়ে যাচ্ছেন?

একটি ফেসবুক গ্রুপে লেখা হয়েছে, ‘দেশে যখন ধান কাটতে টাকা না থাকায় কৃষক জমিতে আগুন দিচ্ছে, ধানের দাম না থাকায় কৃষকরা ঈদ করতে পারছে না, আত্মহত্যাও করতে চেয়েছেন কয়েকজন কৃষক, তখন মাননীয় মন্ত্রী নৌকাতে সোফা বিছিয়ে ভ্রমণে বেরিয়েছেন!

কৃষকদের এই অবস্থায় কৃষিমন্ত্রীর এমন নৌকা ভ্রমন কতটা কাঙ্খিত দেশের মানুষের কাছে?’

এমন সব নেতিবাচক ও ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্যের ভিড়ে ইতিবাচক মতামতও জানিয়েছেন কেউ কেউ।

বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন।

কেউ কেউ মন্ত্রীর সমর্থনে বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি না করতে অনুরোধ করেছেন।

সুব্রত নন্দী নামে একজন লিখেছেন, ‘ভাই উনি সহজ-সরল মানুষ। চাটুকাররা হয়তো নৌকায় সোফা বসিয়ে ওনাকে বসতে বলেছেন। উনি অতো কিছু না ভেবে বসে পড়েছেন।’

একজন লিখেছেন, ‘এটা দৃষ্টিকটু হতে যাবে কেন? ড. আব্দুর রাজ্জাক একজন খাঁটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। তবু যদি কারও কাছে বিষয়টি খারাপ লেগে থাকে তাহলে তার ভুল ভেবে মাফ করে দিয়েন।’

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটিতে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত রাতারগুল ভ্রমণে গিয়েছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ভ্রমণের আয়োজন করেন কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সারওয়ার আহমেদ।

এ বিষয়ে সারওয়ার আহমেদ বলেন, ‘কৃষিমন্ত্রী স্বপরিবারে বৃহস্পতিবার সিলেট পৌঁছান। সেখান থেকে সেদিনই তিনি রাতারগুল ভ্রমণে যান। তবে নৌকার ওপর সোফা তুলে কৃষিমন্ত্রীর ভ্রমণের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।’

নৌকায় সোফা তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সোফা ও নৌকার আয়োজন করে। মন্ত্রী এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রণালয়কে দায়ী করে বেশ ফুঁসে রয়েছেন সাধারণ জনতা। গত ১৩ মে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া গ্রামের আবদুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক নিজের পাকা ধানে আগুন দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে এলে দেশব্যাপী তোলপাড় হয়। কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেশবাসী।

তুমুল সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে ফেসবুকে।

এ ঘটনার পর সমস্যা নিরসনে চাল আমদানি বন্ধ করে চলতি বছর ১০ থেকে ১৫ লাখ টন চাল রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

তবুও অনেকে সমালোচনা করেই যাচ্ছেন। কৃষিমন্ত্রীর এবার এম ছবিটি যেন সেই সমালোচনার নৌকার পালে আবার হাওয়া দিল।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ওবায়দুল কাদেরের ‘স্বস্তির ঈদে’ সড়কে ৫৪ মৃত্যু!


ঈদুল ফিতরের এক সপ্তাহ আগ থেকেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দাবি করে আসছেন যে এবারের ঈদ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদ। ঈদে ঘরমুখো মানুষ নিরাপদে বাড়ি যাবেন এবং যাত্রায় কোনো প্রকার যানজট হবে না বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।

কিন্তু ঈদ যাত্রার বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। শেষদিকে এসে রাস্তায় যানজটের পাশাপাশি এবারের ঈদ যাত্রায় ৫ দিনে সারাদেশে কমপক্ষে ৫৪ জন নারী-পুরুষ ও শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ঈদের দুই দিন আগ থেকেই মানুষ বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে। সোমবার কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের গাড়ি চাপায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ৩ জন নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। একই দিন সাভারের ধামরাইয়ে দুইটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছে আরও ৪ জন। ওই দিন মোট নিহত হয়েছে ৭ জন।

এরপর, ঈদের আগের দিন মঙ্গলবারে নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জে, নাটোর ও সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে ৪৬ জন।

এরপর, ঈদের দিন বুধবার ফরিদপুর, লালমনিরহাট, সাভার ও ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৩০ জন।

তারপর, ঈদের পরের দিন বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ, কুমিল্লা, ভোলা ও লালমনিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ২৫ জন।

এছাড়া, ঈদের তৃতীয় দিন শুক্রবার মাগুরা, নড়াইল, কক্সবাজার, বগুড়া, পিরোজপুর, কুষ্টিয়া ও কুয়াকাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

অপরদিকে, ওবায়দুল কাদের স্বস্তির গান গাইলেও বাস্তবে রাস্তায় যানজট ছিল প্রচণ্ড। দেখা গেছে, যানজটে আটকা পড়ে টাঙ্গাইলে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা ডিসি ও ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। যানজটের কারণে এটাই মনে হয় ইতিহাসের প্রথম গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা।

তারপর, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুতে যানজট ছিল প্রচণ্ড। দেখা গেছে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে সড়কের অপর পাশে ক্রিকেট খেলেছে।

আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় ছিল, যানজটে আটকা পড়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্ত্বরে একজন নারী রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন। এমন ঘটনা বাংলাদেশে আগে কখনো ঘটেনি। এছাড়া অতি যানজটের কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় আগুন দিয়ে বিক্ষোভ পর্যন্ত করেছে।

কিন্তু, এরপরও ওবায়দুল কাদের তার দপ্তরে বসে বসে দাবি করছেন যে, এবার তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা উপহার দিয়েছেন।

এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে যে, ঈদ যাত্রায় ৫৪ জন নারী-পুরুষ ও শিশু সড়কে প্রাণ হারানোর পরও যদি এবারের ঈদ স্বস্তিদায়ক হয়, তাহলে কত মানুষ মরলে ওবায়দুল কাদের এটাকে অস্বস্তিকর বলবেন? সড়কে এতগুলো মানুষ মারা গেল। এরপরও কি ওবায়দুল কাদের তার ব্যর্থতা স্বীকার করবেন না?

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌নবদম্পতির মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু!


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবুর বিরুদ্ধে নব দম্পতিকে মারধর করে মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনতায়ের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের কলেজ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় শনিবার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল আহম্মেদের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও আহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মীর মাসুদুর রহমান ফরদাবাদ গ্রাম থেকে স্ত্রী সামিনূর নাহার ও শ্যালিকা রাশমি আক্তারকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে পূর্বহাটি থেকে ভুরভুরিয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

কিছু দূর যেতেই ফরদাবাদ কলেজপাড়া এলাকার রাস্তায় ৮-১০ জন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু তাদের পথরোধ করেন।

এক পর্যায়ে কোনো কারণ ছাড়াই অটোরিকশা থেকে মীর মাসুদুর রহমানকে নামিয়ে মারধর শুরু করেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ও তার অনুসারীরা। সেই সময় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে স্ত্রী সামিনূর নাহারকেও মারধর করেন তারা। এক পর্যায়ে সঙ্গে থাকা রাশমি আক্তারকে মারধর করেন ছাত্রলীগের সভাপতি বাবু ও তার অনুসারীরা।

তারা সামিনূর নাহারের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, গলায় থাকা স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে ফরদাবাদ বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের পূর্বহাটি গ্রামের শাহাদাত হোসেনের মেয়েজামাতা মীর মাসুদুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকালে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দিয়ে ওয়াই সেতু যাওয়ার পথে ফরদাবাদ কলেজপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর নূর মোহাম্মদসহ ৮-১০ জনজন ছেলে আমার নাম জিজ্ঞেস করে। নাম বলার পর আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে। পরে স্ত্রী ও শ্যালিকাকে মারধর শুরু করেন।

তিনি বলেন, কেন আমাদের ওপর হামলা করেছে, বুঝতেই পারছি না।

ফরদাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আজিজ জানান, ছাত্রলীগের সভাপতি বাবুর নেতৃত্বে নব দম্পতিকে মারধর করে তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা শুনেছি। এই ধরনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে। দলীয়ভাবে বিষয়টি আমরা তদন্ত করে উপজেলা সভাপতির কাছে প্রতিবেদন জমা দিব।

এবিষয়ে ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু বলেন, ওই ছেলেটার (মীর মাসুদুর রহমান) সঙ্গে এলাকার কিছু ছেলের পূর্বের ঘটনার জের ধরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আমার বিরুদ্ধে তার এবং তার স্ত্রীর চেইন ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা সঠিক না।

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল আহমেদ জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। জেলা সভাপতির নির্দেশে আমরা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে ছাত্রলীগ নেতার বিরদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, নব দম্পতিকে মারধর করে মোবাইল ও চেন ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে কেউ যদি অভিযোগ করে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশঃ ফ্রিডম হাউস-এর প্রতিবেদন


বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত বাড়ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউস। সংস্থাটি তাদের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার এ তালিকায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। সংবাদমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতিবাচক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

বিজনেস ইনসাইডার জানায়, গণতন্ত্রের জন্য নেতৃত্বদানকারী দেশগুলোতেও গণমাধ্যম তার মতপ্রকাশে বাধার মুখে পড়ছে।

‘কোনো সমালোচনা দেখা দিলে তাকে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে’।

ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকার কথা, তারা উল্টো নিজেদের বিরুদ্ধে কিছু প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন এবং নিজেদের পক্ষে খবর প্রকাশে সুবিধা দিচ্ছেন।

চীন, রাশিয়া, সৌদি আরবকে রাখা হয়েছে গণমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে খারাপ দেশের তালিকায়। ভারত, পাকিস্তানের অবস্থান বাংলাদেশের তুলনায় ভালো বলে দেখানো হয়।

বাংলাদেশের তালিকায় আরো রয়েছে, কঙ্গো, কিউবা, মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ।

উৎসঃ ‌‌‌ফ্রিডম হাউস-এর প্রতিবেদন

আরও পড়ুনঃ ‌একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে পর্যাপ্ত অভিযোগ আছে


বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও ‘সংকুচিত গণতান্ত্রিক’ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটি বলেছে, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে পর্যাপ্ত একাধিক অভিযোগ আছে।’ যুক্তরাজ্য সরকারের ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি রিপোর্ট ২০১৮’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের বিদেশ ও কমনওয়েলথ কার্যালয় থেকে আজ বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকারের সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক—যুক্তরাজ্য দৃঢ় ও স্বচ্ছভাবেই এটা প্রত্যাশা করেছিল। গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তা সহায়তা করবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সব বিরোধী দলের এ নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা উৎসাহব্যঞ্জক ছিল। নির্বাচনের সময় গ্রেপ্তারসহ নানা রকম বাধা তৈরি করা হয়েছিল। যার কারণে বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারণা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। নির্বাচনের দিনে নানা রকম অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ আছে। যার ফলে অনেকেই ভোট দিতে পারেননি।’

নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট যত রকমের অভিযোগ রয়েছে, তার সব কটির গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য বাংলাদেশের কাছে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

গতকাল ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, নির্বাচন ইস্যু ‘ডান অ্যান্ড ডাস্টেড’। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ধুলোয় মিশে গেছে, এ আলোচনা শেষ৷ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে এখন আর কোনো আলোচনা করার সুযোগ নেই৷

যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গেল বছর বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়ে যায়। এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও কমেছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়েও নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ৫৪ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরগুলোর অবস্থা উন্নত হয়েছে। যদিও আশ্রয়শিবিরে যৌন হয়রানি, মানব পাচার, অপরাধমূলক কাজসহ নারী-পুরুষের মৌলিক সেবাগুলো এখনো ঝুঁকির মুখে রয়ে গেছে।

ওই প্রতিবেদনে জাতিসংঘের সংস্থা ও এনজিওদের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের অতিরিক্ত সাত কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া মোট অর্থের পরিমাণ ১২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার।।

উৎসঃ ‌‌‌পালাবদল

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here