আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেল যেসব যুদ্ধাপরাধী

0
1141

কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধকে ইস্যু করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলেও বাস্তবে আওয়ামী লীগ কতটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে? রাজনীতির ময়দানে ঘুরে ফিরে প্রায়ই এই প্রশ্ন আসে আমাদের সামনে।

যুগ যুগ ধরে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে আসলেও আওয়ামী লীগ বরাবরই অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে বিএনপি জামায়াতের দিকে। কিন্তু এর বাস্তবতা কতটুকু?

বাস্তবতা হল এই যে, আওয়ামী লীগ মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যই এই অস্ত্র ব্যবহার করে। যার কোন ভিত্তি নেই। জামায়াতে ইসলামীতে কোন মুক্তিযোদ্ধা আছে কিনা অথবা ট্রাইবুনালের মাধ্যমে বিতর্কিত রায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতাদের সন্তানরা নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারবে কিনা- এই অযৌক্তিক বিতর্ক সৃষ্টির পেছনে যারা, চলুন দেখে নেয়া যাক সেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তদের মধ্যেই কতজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সন্তান রয়েছে!

১। (ফরিদপুর– ৩) ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন:

ফরিদপুর– ৩ আসনের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। তিনি শান্তি বাহিনী গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার জন্য হানাদার বাহিনীকে প্ররোচিত করেন। “দৃশ্যপট একাত্তর: একুশ শতকের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ” বইয়ের ৪৫ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন। তার পিতা নুরুল ইসলাম নুরু মিয়া ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন।

২। (চাঁদপুর ১) মহিউদ্দীন খান আলমগীর:

চাঁদপুর-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ হতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহে অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকরি করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছেন। তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় আরেফিন রচিত “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান বইয়ের ৩৫০ পৃষ্ঠার মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তাকে চিহ্নিত রাজাকার হিসেবে আখ্যা দিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার বিচার দাবি করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

৩। (ময়মনসিংহ ৬) অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন:

ময়মনসিংহ ৬ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহবায়ক ডা. এম এ হাসানের দেয়া যুদ্ধাপরাধের তালিকায় (ক্রমিক নং-৭৩) উল্লেখ করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে ঐ মাসেরই ২২ এপ্রিল দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ দিকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্বে ২০১২ সালের ৬ এপ্রিল ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জোড়বাড়িয়া গ্রামের ওয়াহেদ আলী মণ্ডলের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিট্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

৪। (রংপুর ৫) এইচ এন আশিকুর রহমান:

রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এইচ এন আশিকুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের অধীনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে টাঙ্গাইলে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি পাকিস্তান সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন। এস এস এম শামছুল আরেফিন রচিত ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ব্যক্তির অবস্থান’ বইয়ের ৩৫০ পৃষ্টায় পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকায় তার নাম প্রকাশিত হয়েছে। ৯ জানুয়ারি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাজাকার আশিকুর রহমান আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ বলে তার বিচার করবেন না তা হয় না। মন্ত্রীসভায় রাজাকার রেখে রাজাকারের বিচার করা যায় না।

৫। (গোপালগঞ্জ ১) লে.কর্ণেল (অব) ফারুক খান:

পর্যটন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক খান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের পক্ষে দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তানী সেনাবাহীনীর পক্ষে প্রথম অপারেশন চালান এবং কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। সুত্র: “দিনাজপুরের মক্তিযুদ্ধ” বই।

৬। সৈয়দ জাফরউল্লাহ:

আওয়ামী লীগের প্রেসেডিয়াম সদস্য সৈয়দ জাফরউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে কাজ করেছেন। মাসিক “সহজকথা” আয়োজিত যুদ্ধাপরাধের বিচার: বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ জাফরঊল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। জাফর উল্লাহ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের পূর্ণ সমর্থন দেন। “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান” বইয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে।

৭। (ঢাকা-২) অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম:

ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম রাজাকার পরিবারের সদস্য। তার বড় ভাই হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলাম নেজামে ইসলামি পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের শায়েস্তা করার জন্য তার নেতৃত্বেই ঢাকায় প্রথম শান্তি কমিটি গঠন হয়। একই সঙ্গে তিনি রাজাকার, আল বদর ও আল শাসম বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসই স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি মু্ক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বড় ভাইকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার রাজাকার ভাইয়ের মালিকাধীন প্রিন্টিং প্রেসে তিনি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন।

৮। (বরগুনা-২) শওকত হাচানুর রহমান:

বরগুনা-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হাচানুর রহমান। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় যুদ্ধাপরাধীর সন্তানদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। অথচ তিনিও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা খলিলুর রহমান বরগুনায় পিস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

৯। (সিলেট ০৩) মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস:

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ফেঞ্চুগঞ্জ-দক্ষিন সুরমার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবা ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট থেকে প্রকাশিত ‘রণাঙ্গন-৭১’ নামক স্মারক গ্রন্থ। সিলেট থেকে প্রকাশিত ‘রণাঙ্গন-৭১’ নামক সেই গ্রন্থে সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবাকে রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের সম্পাদনায় প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থটিতে আওয়ামী লগের সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবা শেখ মুজিব সরকারের আমলের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন পিরু মিয়াকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

১০। (জামালপুর-৩): মির্জা আজম:

জামালপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য, যুবলীগের লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকার দলীয় হুইপ মির্জা গোলাম আযমের বাবা ১৯৭১ সালে মির্জা কাশেম জামালপুরের মাদারগঞ্জে শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন। তিনি রাজাকার, আল-বদরদের গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন। তার বিরুদ্ধে নারী ধর্ষণ ও লুটপাটের একাধিক অভিযোগ আছে। যা “জামালপুরের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৮১ সালের সংস্করণ)” বইয়ে উল্লেখ আছে।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আ. লীগের এমপি মন্ত্রী ছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য- জাতীয় সংসদের উপনেতা ও সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে্র যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতা বিরোধীতার শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে যারা মুখে ফেনা তোলে সেই আ. লীগেরই বাস্তব অবস্থা হলো এই। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে এত দহরম মহরম সম্পর্ক থাকার পরেও আওয়ামী লীগ তার বিরোধী পক্ষকে রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি তকমা লাগাতে একটুও দেরি করে না।

মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই আওয়ামী লীগ বার বার মুক্তিযুদ্ধকে টেনে আনে। আর এদিকে জনগণকে ব্যস্ত রেখে বাস্তবায়ন করে ভিনদেশী আধিপত্যবাদীদের এজেন্ডা। কিন্তু এখন আওয়ামী লীগের সে মুখোশ উন্মোচিত। এখন শুধু জনগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পালা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ জয়নুল আবেদিন ফারুককে পেটানো সেই আলোচিত হারুন নারায়ণগঞ্জের নতুন এসপি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার মো. হারুন অর রশীদকে নারায়ণগঞ্জের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নোটিশে হারুনসহ আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তার বদলির খবর জানিয়েছে। তাদের বদলির ব্যাপারে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন অনাপত্তি জানিয়েছে।

জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও বিএনপির নেতা জয়নুল আবেদিন ফারুককে সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভের সময় পিটিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন হারুন। এবার নারায়ণগঞ্জের সদ্য সাবেক হওয়া এসপি আনিসুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।

অন্যদিকে আনিসুর রহমানকে পুলিশ অধিদপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আজাদ মিয়াকে গাজীপুর নগরীর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদে বদলি করা হয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আনিসুর রহমানের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়ে আসার পর নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে এআইজি করা হয়েছিল। জোটের অভিযোগ ছিল- এই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের এমপি। সে কারণে তার পক্ষে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।

প্রত্যাহারের কয়েক দিনের মধ্যেই তার জায়গায় বদলি হয়ে আসলেন হারুন অর রশীদ।

২০১৬ সালে ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচনের সময় গাজীপুরে এসপি হারুনের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি। ওই নির্বাচনের সময় কিছুদিনের জন্য তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে তাকে আবার সেখানেই দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সর্বশেষ গাজীপুর সিটি নির্বাচনের সময়ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছিল এসপি হারুনের বিরুদ্ধে। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ তুলে বলা হয়েছিল, তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন। নির্বচন কমিশন থেকে তখন তাকে পরোনা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার না করার জন্যও বলা হয়েছিল।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ সারাদেশে ৭৮৬ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বাতিল, রক্ষা পাননি হেভিয়েটরাও

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের দিনে সারাদেশে ৭৮৬ জন প্রার্থীর মনোনয়পত্র বাতিল করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, বিএনপি নেতা আমানুল্লাহ আমান, রেজা কিবরিয়া, সাবেরা সুলতানা মুন্নী ও গোলাম মাওলা রনিসহ বিভিন্ন দলের প্রভাবশালী নেতারাও রক্ষা পাননি।

গত ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে রাজনৈতিক দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৩০০ আসনের জন্য ৩,০৫৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে। এর মধ্যে এক চতুর্থাংশের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেল। মামলায় সাজা, খেলাপি ঋণসহ মনোনয়নপত্রে নানা অসঙ্গতির কারণে এদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।

তবে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর আপিলের শুনানির পর তাদের প্রার্থিতার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবে নির্বাচন কমিশন।

যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হলো তাদের মধ্যে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও রয়েছেন। তার তিনটি মনোনয়নের সবগুলোই সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাতিল করেছেন।

দুর্নীতি মামলায় সাজা পাওয়ায় ‘ঢাকা-২’ আসনে বিএনপি নেতা আমানুল্লাহ আমানের মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

টাঙ্গাইলের রিটার্নিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ঋণ খেলাপি হওয়ার অভিযোগে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর টাঙ্গাইল-৪ এবং টাঙ্গাইল-৮ আসনের মনোনয়ন বাতিল করে দিয়েছেন।

এদিকে, রাজশাহী-১ আসনের জন্যে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও জামায়াত নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই আসনে আরও ছয়জনের মনোনয়ন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির হয়ে পটুয়াখালী-৩ এর জন্যে গোলাম মওলা রনির মনোনয়ন বাতিল করে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। হলফনামায় নিজের স্বাক্ষর দেওয়া হয়নি এমন অভিযোগে পটুয়াখালীর রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মতিউল ইসলাম চৌধুরী বিএনপি প্রার্থী রনির মনোনয়ন বাতিল করে দেন।

২০০৮ সালে রনি আওয়ামী লীগের হয়ে এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

গণফোরামের হয়ে হবিগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপের অভিযোগ রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এছাড়াও, হলফনামায় স্বাক্ষর নেই- এমন অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেয়া চৌধুরীর মনোনয়নও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনের মাঠে খালেদা জিয়া’র না থাকায় কী প্রভাব পড়বে?

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কারাভোগরত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে দেয়া তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল হয়ে গেছে।

কথিত দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হবার কারণে খালেদা জিয়ার তিনটি আসনেই মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর আগে সর্বোচ্চ আদালতের এক রায়েও নিশ্চিত হয়ে যায় যে দুই বছরের বেশি মেয়াদের কারাদন্ড হওয়ায় খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। খবর বিবিসির।

কিন্তু ভোটের মাঠে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি কি এবং কতটা প্রভাব ফেলবে? তার অনুপস্থিতিকে কি ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে চেষ্টা করবে বিএনপি?

বিএনপির স্থানীয় নেতা কর্মিদের মাঝে এ নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হলেও তারা বলছেন, এই নির্বাচনকে আন্দোলন হিসেবে নিয়ে তারা শেষপর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকতে চান।

বগুড়া থেকে বিএনপির একজন নেতা শিপার আল বখতিয়ার বলছিলেন, তাদের নেত্রী নির্বাচনের আগে মুক্তি পাচ্ছেন না, এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তারা নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন।

তার কথায়- ‘আমরা তো একটু হতাশ হয়েছি- তারপরও বাইরের খালেদা জিয়ার চেয়ে জেলখানার খালেদা জিয়া এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। এই শক্তিটাই আমরা নির্বাচনে কাজে লাগাবো।’

দক্ষিণ পশ্চিমের জেলা যশোরেও বিএনপির ভাল অবস্থান রয়েছে। সেখান থেকে দলটির একজন নেত্রী শামসুন্নাহার পান্না বলেছেন, তাদের নেত্রীর মুক্তির বিষয়কে প্রধান এজেন্ডা হিসেবে নিয়ে তারা ভোটারদের কাছে যাবেন।

‘আমরা তৃণমুলে আমাদের ম্যাডামের এই নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার কারণে আমরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছি।এবং নির্বাচনটা আমাদের আন্দোলনের একটা অংশ। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার অংশ হিসেবে আমরা তৃণমুলের নেতা কর্মিরা এই নির্বাচনকে নিয়েছি’- বলছেন শামসুন্নাহার পান্না।

‘নেতৃত্বশূন্যতার জায়গাটা অনেকটাই পূরণ করেছে ঐক্যফ্রন্ট’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহেমদ বলছেন, এমন যে হবে তা যদিও আগেই আঁচ করেছিলেন সবাই- কিন্তু তবু এর কিছুটা প্রভাব পড়বেই।

তিনি বলছেন, ‘একটা মনস্তাত্বিক চাপ তো আছেই। কারণ এর আগের নির্বাচনগুলোতে তিনি বিএনপির নেত্রী হিসেবে মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। কিন্তু এবার যে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না তা বিএনপির নেতৃত্ব এবং সমর্থকদের মধ্যে একরকম জানাই ছিল। এটা জেনেই কিন্তু তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে।’

‘তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটের হিসেবে তেমন বড় কিছু না হলেও ইমেজের দিক থেকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্ব বিএনপিকে একটা দাঁড়ানোর জায়গা দিয়েছে, এবং মানুষের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিএনপি নেতৃত্বশূন্য নয়, তারা নির্বাচনে জিতলে দেশের জন্যে ভালো হতে পারে।’

‘নেতৃত্বশূন্যতার জায়গাটা তারা অনেকটা পূরণ করেছেন বলেই আমি মনে করি’- বলেন রিয়াজউদ্দিন আহমেদ।

বেশ কয়েকটি জেলায় বিএনপির নেতাদের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে, দলটির তৃণমুলের নেতারা ইস্যুটিকে রাজনৈতিকভাবে ভোটের প্রচারণায় কাজে লাগাতে চাইছেন, এবং তারা ভোটের মাঠ ছেড়ে দিতে রাজী নন।

বিএনপির মধ্যম সারির নেতাদের প্রতিক্রিয়াও একই রকম। দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেত্রী রুমিন ফারহানা মনে করেন, ভোটাররা তাদের বক্তব্য গ্রহণ করবে।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছিলেন, নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি তাদের দলে প্রভাব ফেললেও অন্য দিক থেকে তাদের আবেগের পাশে ভোটাররা দাঁড়াবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

‘বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতির একটা প্রভাব পড়বেই, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। একইসাথে এই যে অন্যায়ভাবে তাকে দীর্ঘদিন কারাগারে আটক করে রাখা হচ্ছে এবং বিএনপি অসংখ্য নেতা কর্মিকে আটক করে রাখা- এটার একটা আবেগও সৃষ্টি হয়েছে।সারাদেশে এই আবেগের কারণেই একটা জোয়ার সৃষ্টি হবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি’- বলেন মির্জা ফখরুল।

বিশ্লেষক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলছেন, বিএনপির নেতারা তাদের ভাষায় ‘ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে’ খালেদা জিয়াকে তারা মুক্ত করে আনার মতো আবেগপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে কর্মীদের একত্রিত করছেন।
সরকারী দল কি খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কোন সুবিধা পাবে?

এ প্রশ্নের জবাবে রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি বা আওয়ামী লীগের মতো দলগুলোর মূল শক্তি হলো তৃণমূল স্তরে তাদের জন্য অকুণ্ঠ জনসমর্থন।

তার মতে- ‘নেত্রী থাকলে যা হয় – না থাকলেও ভোটটা একভাবেই হয়। ভোটের গাণিতিক হিসেবে কোন পরিবর্তন হয় না।’

‘খালেদা জিয়া থাকলে ভালো হতো। নেতানেত্রীদের মধ্যে উদ্দীপনা-উচ্ছাস থাকতো, কিন্তু তারা একেবারে হতাশ হযে ভেঙে পড়বেন- অবস্থাটা এরকম না।’

রিয়াজউদ্দিন আহমেদের কথায়- সরকার হয়তো ভেবেছিল যে বিএনপি খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তছনছ হয়ে যাবে, উঠে দাঁড়াতেই পারবে না। কিন্তু সেটা বোধহয় হয় নি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে তা কিছুটা হলেও ‘রিকভার’ করেছে।

প্রচারাভিযানে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতির কী প্রভাব পড়বে?

খালেদা জিয়া নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না, সম্ভবত প্রচারাভিযানেও অংশ নিতে পারবেন না- এ বাস্তবতায় উপদলীয় কোন্দল বা বিভক্তি ঠেকানোর জন্য তার উপস্থিতি যে ভুমিকা পালন করতো, তার কি হবে?

জবাবে রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থী, উপদলীয় কোন্দল এগুলো খালেদা জিয়া বাইরে থাকলেও হয়েছে। তাই এর কোন বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে তার মনে হয় না।’

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ আমার দেশপ্রেম আল্লাহ ও রাসুলে বিশ্বাস সত্য হলে ২০টির বেশি সিট পাবে না আ.লীগ: কাদের সিদ্দিকী

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘যদি আমার দেশপ্রেম সত্য হয়, আমি সারা জীবন আল্লাহ ও রাসুলের ওপর যে বিশ্বাস করে এসেছি, সে বিশ্বাস যদি বিন্দুমাত্র সত্য হয়, তাহলে ১৯ থেকে ২০টির বেশি আসন পাবে না বর্তমান সরকার।’

তিনি বলেন, আমি নির্বাচনে দাঁড়ানো বড় কথা নয়। আমি চাই নির্বাচনটা ভালো হোক। আমার সংগ্রাম হচ্ছে ভোটাররা যেন ভোট দিতে পারেন।

রবিবার দুপুরে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিলের জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী কোনো নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমার বোন সরকারে থাকবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাকে মনে হয় ইলেকশন করতে দেয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবো। আমরা যখন কমিশনে গিয়েছিলাম, তখন তারা বলেছিলেন, কমিশন কখনো কোর্টে বাদী হবে না। আমি সেটা দেখার জন্যই নির্বাচন কমিশনে যাবো।

উল্লেখ্য, কাদের সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল এবং সখীপুর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ঋণখেলাপির দায়ে দুটি আসনেই তার মনোনয়নপত্রই বাতিল করা হয়েছে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে না, দেশ ছেড়ে পালাবে: আ স ম রব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগ সরে দাঁড়াতে পারে এবং দেশ ছেড়েও পালাতে পারে বলে মনে করছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

রবিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের হলরুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।

আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিরোধী দল নির্বাচন করবে না। আমার তো মনে হচ্ছে, সরকার দলই নির্বাচন করবে না। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে তখন সরকার দেখছে, তাদের বিপক্ষে ভোটার জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। আর সরকারের দুই-একজন বলেও ফেলছেন, হেরে গেলেও দেশ ছেড়ে যাব না।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা বলেন, ‘দেশ ছেড়ে ইতিমধ্যে অনেকে (আওয়ামী লীগ নেতা) চলে গেছেন, সামনে কিছু দিনের মধ্যে সরকারি দলের প্রার্থীসহ অনেকে পালিয়ে যেতে পারেন। যারা দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে বেগম পাড়া করেছেন, মন্ত্রী পাড়া করেছেন, জনতার আদালতে তাদের বিচার হবে-এ জন্য তারা দেশ ছেড়ে পালাবেন।’

আবদুর রব বলেন, ‘মা-বোনেরা যেন ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদ থাকতে পারেন সেটি নিশ্চিত করতে হবে। রাতের বেলায় ধরে নিয়ে যাবে, সকাল বেলা লাশ পাওয়া যাবে-এটাতো গণতন্ত্র নয়, এ জন্য তো মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা দেশ স্বাধীন করিনি। জাতীয় ঐক্যফন্টের মাধ্যমে আমরা ন্যায়বিচার চাই, আন্দোলন অব্যাহত রেখে ভোটের দিন গণজাগরণ সৃষ্টির মাধ্যমে ভোট বিপ্লব ঘটাতে হবে।’

পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে জেএসডির সভাপতি বলেন, ‘আপনারা কোনো নেতা, এমপি, মন্ত্রীর ধারক-বাহক হিসেবে জনগণের বিরুদ্ধে যাবেন না। আপনারা আমাদের শত্রু নন, আমরাও আপনাদের শত্রু নই।’ কতজন গ্রেপ্তার করতে পারেন-দেখা যাবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রব।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেএসডির সহসভাপতি বেগম তানিয়া রব, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল প্রমুখ।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ বিএনপি প্রার্থীর জমা দেয়া নথি থেকে আয়কর সনদ গায়েব, মনোনয়ন বাতিল

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ভাই ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেএম মুজিবুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

রোববার প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে আয়কর সনদ না থাকায় কেএম মুজিবুল হকের মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. আবুল ফজল মীর।

তবে কেএম মুজিবুল হক রোববার দুপ জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, সম্পদের বিবরণসহ যাবতীয় কাগজপত্র হফলনামার সঙ্গে নথিতে সংযুক্ত করে দিয়েছি, যার প্রমাণ এবং স্থির ও ভিডিও চিত্র আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।

‘ওই নথি থেকে আয়করের সনদটি গায়েব করার মাধ্যমে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবো।’

তবে এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর সাংবাদিকদের বলেন, যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে বিধি মোতাবেক তথ্য ও কাগজপত্রের ঘাটতি কিংবা ত্রুটি আছে তাদেরই মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে কারও নথি থেকে কাগজপত্র সরিয়ে ফেলার বিষয়টি সঠিক নয়। ওই প্রার্থী ইচ্ছে করলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারেন।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ যে তিনটি আসনে বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে বিএনপির সব প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর সবগুলোতেই একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল দলটি। কিন্তু সবার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাওয়ায় একই আসনে একাধিক জনকে মনোনয়ন দেওয়ার যে কৌশল নিয়েছিল বিএনপি সেটি কার্যত ব্যর্থ হলো।

কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও শেষ পর্যন্ত ওই আসনে যেন ধানের শীষের প্রার্থী টিকে থাকে তার জন্যে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। এই কৌশলের কথা দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে স্বীকারও করে নেওয়া হয়েছিল।

ঢাকা-১, বগুড়া-৭ ও মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি যাদের যাদেরকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন আজ তাদের সবার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া-৭ আসনে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজে প্রার্থী ছিলেন।

দণ্ডিত ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবে না বলে সম্প্রতি শীর্ষ আদালত এক রায়ের পর্যবেক্ষণে জানানোর পরই খালেদার প্রার্থিতা বাতিলের ব্যাপারটি প্রায় নিশ্চিত ছিল। দুর্নীতির অভিযোগে দুটি মামলায় ১০ বছর ও সাত বছরের কারাদণ্ড নিয়ে তিন বারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সাজা খাটছেন।

খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে সরকারের নীলনকশা হিসেবে উল্লেখ করে এক প্রতিক্রিয়া দলটির পক্ষ থেকে বিলা হয়েছে, একতরফা নির্বাচন করার জন্য সরকার মহাপরিকল্পনা করছে। এর অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ওপর শুনানি হবে ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ অবশেষে সব আসনেই বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করল

কথিত দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত থাকায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার তিনটি আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রই বাতিল হয়েছে।

ফেনী-১, বগুড়া-৬ এবং বগুড়া-৭ আসনে প্রার্থিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তবে এই তিনটি আসনের একটি থেকেও নির্বাচন করতে পারবেন না তিনি। খবর বিবিসির।

ফেনীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘খালেদা জিয়া দুইটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী, পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ক প্রতিবেদন এসেছে আমাদের হাতে। তার ভিত্তিতেই খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।’

‘পুলিশ আমাদের কাছে যে তথ্য দিয়েছে তা অনুযায়ী, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া দশ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত এবং জিয়া চ্যারিটেবল মামলা হিসেবে পরিচিত মামলায় তিনি ৭ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত।’

‘সেকারণে ১৯৭২ সালের গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ এর অনুচ্ছেদ ১৪ এর বিধান মোতাবেক খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে’, নিশ্চিত করেন ওয়াহিদুজ্জামান।

বিএনপির নেতারা আশা করছিলেন যে, তাদের নেত্রী ‘নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন’ এবং সেজন্যে তাকে পাঁচটি আসনে মনোনয়নও দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের একক একটি বেঞ্চ দুটি দুর্নীতির মামলায় সাবিরা সুলতানা নামে একজন বিএনপি নেত্রীকে নিম্ন আদালতের দেয়া মোট ছয় বছরের কারাদন্ডের সাজা স্থগিত করেছিলেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মতে, হাইকোর্টের রায়ে সাজা স্থগিত হবার পর দন্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিতও হয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন- এমন দৃষ্টান্ত আছে।

তাই বৃহস্পতিবারের রায়ের ফলে ‘খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য সাজাপ্রাপ্ত রাজনীতিকরা হয়তো নির্বাচন করতে পারবেন’ এমন সম্ভাবনা তৈরি হয় ।

কিন্তু শনিবারই সরকারের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।

কয়েকদিন আগে বিএনপির পাঁচজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে তাদের সাজা ও দণ্ড স্থগিত করার জন্যে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।

তখন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ তাদের আবেদন খারিজ করে রায় দিয়েছিল যে কারো দুই বছরের বেশি দণ্ড বা সাজা হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলছেন, ‘সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে নৈতিক স্খলনের কারণে কেউ যদি দুই বছর কিম্বা তারও বেশি সাজাপ্রাপ্ত হন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।’

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ আমানউল্লাহ আমানসহ ১৬৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

ফাইল ছ বি

ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানায় নাশকতার দুই মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আমানউল্লাহ আমানসহ ১৬৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রবিবার ঢাকার জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম ফাইরুজ তাসনীম এ আদেশ দেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আনোয়ারুল কবির বাবুল বলেন, দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনে দুই মামলায় অভিযোগপত্র আমলে নেয়ার জন্য দিন ধার্য কিন্তু আমানসহ ১৬৯ জন আদালতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করেন। বিচারক সময়ের আবেদন নাকচ করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

বাবুল আরো বলেন, ১৩ জানুয়ারি এ মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেল কি না, এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

নথি থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২ জুন ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনা ঘটান অজ্ঞাত আসামিরা। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ থানায় নাশকতার অভিযোগে মামলা করে পুলিশ।

পরবর্তী সময়ে, ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর আমানউল্লাহ আমানসহ ১৬৯ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পরে মামলাটি বিচারের জন্য এ আদালতে বদলি হয়ে আসে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ঘর জামাই থাকেন ওবায়দুল কাদের

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরর রাজধানীতে কোনো বাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই। থাকেন স্ত্রীর বাড়িতে। ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী-৫ আসন থেকে নির্বাচন করছেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জমা দেয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তার হলফনামা পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ওবায়দুল কাদেরের সম্পদ স্ত্রীর চেয়ে বেশি। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- উত্তরায় অর্জনকালীন সময়ের ৫০ লাখ ৭৯ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি এবং পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে ৬০ শতাংশ অকৃষি জমি। ওবায়দুল কাদেরের নিজস্ব কোনো বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট নেই। স্ত্রীর অর্জনকালীন সময়ের ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এক হাজার ৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট আছে।

মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন- বর্তমানে তার নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। অতীতে ১২টি মামলা দায়ের হয়েছিল। অব্যাহতিমূলে ৯টি নিষ্পত্তি এবং ৩টিতে খালাস পেয়েছেন।

আয়ের স্থানে তিনি উল্লেখ করেছেন- বাড়িভাড়া/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে বছরে আয় ১৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, পেশা (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক ইত্যাদি) থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার, বই লিখে আয় চার লাখ ৮৯ হাজার ৬৫১ টাকা। ৩১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫১ টাকা। মাসিক গড় আয় দুই লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ টাকা ২৫ পয়সা।

স্ত্রীর আয় আসে বাড়িভাড়া/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে, বছরে আয় দুই লাখ ৬৬ হাজার ৪৩৬ টাকা, ব্যবসা থেকে আয় তিন লাখ ৯৩ হাজার ২৬০ টাকা, অন্যান্য আয় দেখিয়েছেন- তিন লাখ ৯৬ হাজার ৫১৯ টাকা।

ওবায়দুল কাদেরের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নিজের নগদ টাকা আছে ৫৫ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৮৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪২ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ এক কোটি ২৪ লাখ ২১ হাজার। ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। আর এক লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ২৫ তোলা স্বর্ণ আছে। তিনি উপহার পাওয়া মোবাইল ব্যবহার করেন। নিজের নামে আট লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র আছে।

স্ত্রীর হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা আছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২৬ লাখ ৩৪ হাজার ৬১১ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৫৫ লাখ ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা, ব্যক্তিগত কোনো গাড়ি নেই। এক লাখ টাকা মূল্যের ২০ তোলা স্বর্ণ আছে। ১২ হাজার টাকার টিঅ্যান্ডটি ও মোবাইল আছে। আছে এক লাখ টাকার আসবাবপত্র।

অন্যদিকে স্ত্রীর ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ১৪০ টাকা দামের একটি গাড়ি দানসূত্রে ব্যবহার করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া স্ত্রীর ব্যাংক-ব্যালেন্স তার চেয়ে বেশি।

উৎসঃ আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here