আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির এই বিচিত্র আসন ভাগাভাগির পেছনের রহস্য কি?

0
573

আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির আসন ভাগাভাগির বিষয়টি এখন এমন এক বিচিত্র চেহারা নিয়েছে যে তাদের মধ্যে আদৌ সমঝোতা হয়েছে কিনা তা নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছে। খবর বিবিসির।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টিকে ২৯টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু এর বাইরে আরও প্রায় দেড়শ’ আসনকে উন্মুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় পার্টি সেগুলোতে তাদের লাঙ্গল প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে। এই আসনগুলোতে নৌকারও প্রার্থী থাকছে। এই পরিস্থিতি হয়েছে কেন?

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মহাজোট থেকে মাত্র ২৯টি আসন পেয়ে তারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

কিন্তু সেই আসনগুলো তো তারা নিয়েছেন। তার পরে আবার আরও ১৪৫টি আসনে লাঙ্গল প্রতীকে প্রার্থী দেয়া হলো কেন – এ নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে রহস্যের ।

দলটির নেতা জেনারেল এরশাদও পর্দার আড়ালে চলে গেছেন।

মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরুর পর তিনি ছিলেন হাসপাতালে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের সময়ও জেনারেল এরশাদ এক ধরণের রহস্য সৃষ্টি করে রেখেছিলেন।এবার দলটির নেতাদের অনেকে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছিলেন প্রকাশ্যে।

বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, জোটের বাইরে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে দলের ভিতরের চাপ বা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার বিষয়টি একটি কারণ হতে পারে।

তবে জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, তাদের দলে প্রার্থী বেশি হওয়াতেই তারা জোটের বাইরে উন্মুক্ত আসনে প্রার্থী দিয়েছেন।

‘এখন প্রার্থীরা নির্বাচন করতে চায়। আমরাও চাই, সবাই নির্বাচনমুখী হোক। ভোটের সময় কর্মিরা সবাই আশা করে যে নিজের এলাকা থেকে প্রার্থী হবে। সুতরাং তাদের খুশি রাখাটাও আমাদের দায়িত্ব। এখন পাঁচজন ভাল প্রার্থী। তার মধ্যে জোটের জন্য একজন বেছে নেয়া খুব কঠিন হয়’ – বলছেন তিনি।

জাতীয় পার্টির আরও কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে যে দলটি আওয়ামী লীগের কাছে ৫৪টি আসন চেয়েছিল, কিন্তু তাতে সমঝোতা হয়নি। তাদের দলের নেতা জেনারেল এরশাদের চাওয়া অনুযায়ী আসন না পাওয়াতেই দলটি বাড়তি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

কিন্তু মশিউর রহমান রাঙ্গা তাদের দলের অতিরিক্ত প্রার্থী দেয়ার বিষয়কে মহাজোটের কৌশল বলে দাবি করেছেন।

‘নির্বাচনে যদি আমরা দেখি, আমাদের জোটের বাইরে অন্য কেউ জিতে যেতে পারে, তখন কিন্তু আমরা সেখানে এক হয়ে যাব। এছাড়া উন্মুক্ত আসন থাকায় আমাদের এজেন্ট বেশি থাকবে। আমাদের লোকজন বেশি থাকবে। এটা একটা কৌশল হিসেবে আমরা করেছি। আমাদের মহাজোটে কোন মনোমালিন্য নিয়ে আমরা এটা করি নাই।আমরা আলোচনা করেই এটা করেছি।’

জাতীয় পার্টির অন্যান্য সূত্রগুলো বলছে, তাদের জোটের একটা কৌশল ছিল যে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে মহাজোটের বাইরে থেকে জাতীয় পার্টি সব আসনে নির্বাচন করবে।

শেষপর্যন্ত বিএনপিসহ বিরোধী জোট নির্বাচনে অংশ নেয়ায় মহাজোটের অনেক কৌশল পাল্টাতে হয়েছে।

এরপরও শেষ পর্যায়ে গিয়ে বিএনপি এবং তাদের জোট শরিকরা ভোটযুদ্ধ থেকে সরে যায় কিনা, এখনও সেই সন্দেহ রয়েছে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং তাদের মহাজোটে।

সে ধরণের পরিস্থিতি হলেও যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন দেখানো যায়, এই বিষয়কে অন্যতম একটি কারণ বলা যেতে পারে। দল দু’টোর কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে এমন ধারণাই পাওয়া যায়।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণিও বলেছেন, শরিকদলের অতিরিক্ত প্রার্থী রাখার কারণে তাদের ভোটে তেমন কোন প্রভাব পড়বে না বলে তিনি মনে করেন।

‘আসন বন্টন নিয়ে হয়তো আমরা সবক্ষেত্রে একমত হতে পারিনি।কিন্তু আমাদের নির্বাচনে এর বড় কোন প্রভাব পড়বে না।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘যারা আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আছেন।যেভাবে তারা এখনও এগুচ্ছেন। যদিও তারা নির্বাচনে এসেছেন, কিন্তু তাদের পুরো যে প্রক্রিয়া, তাতে তারা শেষপর্যন্ত নির্বাচনে কি করবে, সেটিওতো দেখবার বিষয়। কাজেই সবকিছুকে মাথায় রেখেই আমরা নিজস্ব নির্বাচনী কৌশল বা কর্মকান্ড আমরা পরিচালনা করবো, এবং এক্ষেত্রে আমরা যেটা করছি, তা আমাদের আলোচনার ভিত্তিতেই হচ্ছে। কারণ মহাজোটে আমাদের ঐক্য অটুট আছে।’

শুধু জাতীয় পার্টিই নয়, আওয়ামী লীগের আরেক শরিক অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারা জোট থেকে তিনটি আসন পাওয়ার পর অতিরিক্ত ২০টি আসনে কুলা প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে।

হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদও কয়েকটি উন্মুক্ত আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

তবে মহাজোটের কৌশল যাই থাকুক না কেন আওয়ামী লীগের তৃণমুলের নেতা কর্মিদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ চাঁদপুরে ধানের শীষের মিছিলে পুলিশের ৬ রাউন্ড শটগানের গুলি ও লাঠিচার্জঃ আহত ৩০

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনে ধানের শীষের মিছিলে পুলিশি হামলার অভিযোগ করেছে বিএনপিপ্রার্থী এম এ হান্নান। এতে ৩০ জন আহত হয়েছে। দুজনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যার পূর্বে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে।

তবে পুলিশ বলেছে বিএনপি সশস্ত্র মিছিল করায় নিরাপত্তার বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তাদের বাধা দেয়া হয়েছে।

এদিকে পুলিশের হামলায় বিএনপির ২৫ জন নেতাকর্মী এবং বিএনপির কর্মীদের হামলায় অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে উভয়পক্ষ দাবি করেছে।

পুলিশ হামলার ঘটনায় আরিফ পাটওয়ারী ও ইমাম হোসেন নামে দুজনকে আটক করেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়েছে। আহতরা হলেন, পুলিশের হামলায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফ মো. ইউনুছ, পৌর বিএনপির সম্পাদক আমানত গাজী, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমির বেপারী, শ্রমিক দলের সভাপতি আজিম খাঁ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা বেগমসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, এসআই ওমর ফারুক, সুমন্ত মজুমদার, সাজু বড়ুয়া, গোলাম রসুল ও আবুল কালাম।

জানা গেছে, সোমবার বিকালে বিএনপিপ্রার্থী এম এ হান্নানের নেতৃত্বে ধানের শীষের একটি বিশাল মিছিল উপজেলা সদরে মিছিল করার সময়ে মধ্যবাজারে পুলিশ প্রথমে বাধা দেয় ও পরে লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মুহূর্তের মধ্যে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এদিকে বিএনপিপ্রার্থী এম এ হান্নান সন্ধ্যায় পুলিশ হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এ সময় তিনি ঘটনার নিন্দাজ্ঞাপন করেন এবং ফরিদগঞ্জ থানা ওসির প্রত্যাহার দাবি করেছেন।

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, সোমবার শেষ বিকালে বিএনপির একটি সশস্ত্র মিছিল উপজেলা সদরে আসে। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পুলিশ বাধা প্রদান করলে পুলিশের ওপর হামলা করে বিএনপির কর্মীরা। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়ে। ঘটনার সময় পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করুন, কূটনীতিকদের আহবান

স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের দেয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্র এবং নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের ঢাকাস্থ মিশন প্রধানরা বাংলাদেশে একটি সত্যিকারের, বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সব অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে, আজ সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন কূটনীতিকরা।

সেই সাথে নাগরিকদের সার্বজনীন ভোটাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সমর্থন ও রক্ষা করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ও সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাকেও স্বাগত জানিয়েছেন মিশন প্রধানরা।

বিবৃতিতে কূটনীতিকগণ বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে নিজেদের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালন এবং নির্বাচনী সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁরা বলেন, ‘বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চলমান জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

মিশন প্রধানরা বিবৃতিতে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে আইনের শাসন যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংসদ নির্বাচনের জন্য সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় দায়িত্বরত কূটনীতিকরা এই আহ্বান জানালেন।

তাঁদের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের বিচার-বিবেচনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান এইচইএমএস রেনেসে তেরিংক, ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক, স্পেনের রাষ্ট্রদূত আলভারো দে সালাস গিমেনেজ, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শার্লটা স্লাইটার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মেরি অ্যানিক বার্দিন, জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহেরনহোলৎজ, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারওয়েজ, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি ইস্ট্রাপ পিটারসেন, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন ও সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেন হোলেনস্টেইন।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‘ডিজিটাল কালো আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও গণমানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছে সরকার’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ নেতারা কথায় কথায় ডিজিটাল বাংলাদেশের ধোঁয়া তোলেন। অথচ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মত একটি কালো আইন করে দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করে নিয়েছেন তারা।

সোমবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ অভিযোগ করেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, কিছুদিন আগে শীর্ষ নিউজসহ দেশের পঁচিশটি পত্রিকা বন্ধের সুপারিশ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

বিএনপি মহাসচিব আরও অভিযোগ করেন, মামলা দিয়ে হয়রানি আর গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জীবন দুর্বিষহ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার।

‘একদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা এই বারের নির্বাচনকে সাইবার যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করে সারা দেশে হাজারো বেনামী ফেসবুক আইডি খুলে দিয়েছে দলীয় সমর্থকদের যে সকল আইডিতে তারা প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছে, অন্যদিকে ডিজিটাল কালো আইন করে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করছে।’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, এই কালো আইনের আওতায় চিত্রশিল্পী শহীদুল আলমসহ বিএনপির অনেক নেতাকে তারা গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করেছে। দেশের মানুষ যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে দুঃস্থ-অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াচ্ছিল, বন্যা দুর্গত ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির সাহায্যে এগিয়ে আসছিল, ঠিক তখনি এই ডিজিটাল কালো আইনের মাধ্যমে মানুষকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কোণঠাসা করে ফেলা হলো।

ডিজিটাল আইনকে আওয়ামী লীগ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে বলে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এতদিন তারা এই আইন আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাবহার করেছে। মিথ্যা মামলা করে তাদেরকে হয়রানি করেছে, গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করেছে। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আমরা কখনো পদক্ষেপ নিইনি। কিন্তু আওয়ামী লীগের মিথ্যাচার যখন তাদের দলের প্রাতিষ্ঠানিক এজেন্দা হয়ে গেছে তখন আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। এখন থেকে আমরাও মামলা করবো। দেখবো কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার।

তিনি বলেন, মিডিয়ার কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছে সরকার। মিডিয়ার মালিকপক্ষও এখন তাদের প্রতিষ্ঠান টেকানোর জন্য এবং সাংবাদিক কলা-কুশলীদের বেতন দেয়ার জন্য সরকারের কথামত চলছে। কিন্তু এ রকম কেন হবে?
মিডিয়াকে নিরপেক্ষ আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের কিছু নেতা মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে বিক্ষোভ করলে সেগুলো বড় করে ছাপা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের নিজেদের দ্বন্দ্বে অনেক খুন হলেও মিডিয়ায় সেগুলো ফলাও করে প্রচার হয় না।’

তিনি বলেন, দেশকে রক্ষা করার জন্য, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়ার জন্য, মানুষের বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং দেশের অসহায়-দুঃস্থ মানুষগুলোকে রক্ষা করার জন্য মিডিয়াকে এগিয়ে আসতে হবে, সাংবাদিকদের ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য, মানুষের বাক-স্বাধীনতা ও অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য এই নির্বাচনের তাৎপর্য্য অনেক। এই দেশে গণতন্ত্র থাকবে কি থাকবে না, এই দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন থাকবে কি থাকবে না তা এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের প্রচার থেকে শুরু করে মিডিয়ার ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারণায় কোনো সমতল ভূমি নেই। আমরা ভয়াবহ প্রতিকূলতা ও খানাখন্দে ভরা অসমতলভূমিতে নির্বাচন করতে যাচ্ছি। এখন আগের মতোই মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। এ ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

৫৮ টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধের সুপারিশের নিন্দা জানান মির্জা ফখরুল। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল করব।’

উল্লেখ্য, সোমবার বিকালে প্রিয় ডটকম, পরিবর্তন ডটকম,শীর্ষ নিউজসহ ৫৮টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি। তবে এই পোর্টালগুলোর বিরুদ্ধে কোন যুক্তিসংগত অভিযোগ দিতে পারেনি সরকারী এই সংস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ।

উৎসঃ মানব জমিন

আরও পড়ুনঃ সিলেট থেকে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

সিলেটে মাজার জিয়ারতে ড. কামালসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ (ফাইল ছবি)

সিলেটে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ধানের শীষের প্রচারে নামবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের শীর্ষ নেতারা। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বুধবার সিলেট যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজরত শাহজালাল (রহ.), হজরত শাহপরাণ (রহ.) ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর মাজার জিয়ারত শেষে প্রচার কাজে অংশ নেবেন তারা। পর্যায়ক্রমে সড়কপথে সারা দেশে প্রচার চালাবেন তারা। এ সময় পথসভায় অংশ নেবেন নেতারা। এদিকে নির্বাচন পরিচালনায় সার্বিক বিষয় দেখভাল করতে ১৮টি উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এগুলো হল- নির্বাচন কমিশন সমন্বয়, পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, মিডিয়া, অর্থ, প্রচার, রাজনৈতিক, শৃঙ্খলা, প্রশাসন, পেশাজীবী সমন্বয়, আন্তর্জাতিক এবং সাংস্কৃতিক-সামাজিক ও ক্রীড়া, টেলিভিশন মনিটরিং কমিটি ইত্যাদি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

১৯৯১ সাল থেকে বিএনপি প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সিলেটে গিয়ে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতেন। এটি অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তিনি কারাগারে থাকায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সিলেটে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করবে ঐক্যফ্রন্ট। পরে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেবেন শীর্ষ নেতারা। সিলেটের পর ড. কামাল হোসেনের ঢাকার বাইরে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা বিএনপির এক নেতা বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন হয়তো সিলেটের পর ঢাকার বাইরে যেতে পারবেন না। তবে তিনি ঢাকা মহানগরীর নির্বাচনী এলাকায় প্রচারে অংশ নেবেন। সারা দেশে প্রচারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আসম আবদুর রব, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিএনপি, ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা থাকবেন।

সূত্র জানায়, সিলেটসহ সারা দেশে প্রচারের জন্য ইতিমধ্যে সম্ভাব্য তারিখসহ একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। তবে দুই জোটের শীর্ষ নেতাদের প্রচারে অংশ নেয়ার বিষয়ে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দুটি করে আসনে নির্বাচন করছেন। তাই সারা দেশের অনেক জায়গায়ই তারা প্রচারে যেতে পারবেন না। কারণ তারা তাদের নির্বাচনী এলাকায়ও সময় দিতে চান।

এছাড়াও আ স ম আবদুর রব, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, মাহমুদুর রহমান মান্নাও নির্বাচন করছেন। তারাও হয়তো অনেক জায়গায় প্রচারে যেতে পারবেন না। তবে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন না করার কারণে তাকে সব সময় পাওয়া যাবে।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অথবা যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মধ্যে যে কোনো একজনকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব করা হতে পারে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক সচিব মোফাজ্জেল করিম, আবদুল হালিম, মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, শামসুজ্জামান দুদু, অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

মিডিয়া উপকমিটির প্রধান করা হয়েছে শওকত মাহমুদকে। এর সদস্যরা হলেন- সিনিয়র সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী, সৈয়দ আবদাল আহমদ, আবদুল হাই সিকদার, ইলিয়াস খান, কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক উপকমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমানকে। এছাড়া বাকি উপকমিটিতে কারা থাকবেন তাও প্রায় চূড়ান্ত। দু’একদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮টি উপকমিটি ঘোষণা করা হবে।

জানতে চাইলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, উপকমিটিগুলো গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবেন। এদিকে ভোটের শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পোলিং এজেন্টদের করণীয় নিয়ে এরই মধ্যে একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। ১১ দফা নির্দেশনায় পোলিং এজেন্টদের সারা দিনের করণীয় জানিয়ে দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, খসড়ায় থাকা উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- জাতীয় পরিচয়পত্র, পোলিং এজেন্ট কার্ড, মামলার জামিনের কাগজপত্র, প্রয়োজনীয় অর্থ, খাবার, ভোটার তালিকা, কাগজ ও কলম সঙ্গে নিয়ে সকাল ৭টায় প্রস্তুত হয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে পোলিং এজেন্ট হওয়ার বৈধতা নিশ্চিত করা।

প্রথমেই ব্যালট বাক্সের হিসাব নেয়া, ব্যালট পেপার ও কেন্দ্রের ভোটারসংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা, চিহ্নিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মীরা ভোট দেয়ার সময় কোনো অতিরিক্ত ব্যালট পেপার যেন বাক্সে না ঢোকে সেদিকে খেয়াল রাখা, প্রতিটি স্বচ্ছ বাক্স লক করে নম্বর নিয়ে তা কাগজে লিখে রাখা, ভোট শেষে বাক্স লক করে নম্বর লিখে রাখা, ভোট গণনার সময় প্রতিপক্ষের ব্যালট পেপার বেশি দেখানোর অপচেষ্টার দিকে নজর রাখা, কোনো পুলিশ সিভিল ড্রেসে এলে এবং প্রতিপক্ষের কর্মীর সঙ্গে জোর করে ব্যালট পেপার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার করে বাইরের সাহায্য নিশ্চিত করা, এক সেকেন্ডের জন্যও বাইরে বের না হওয়া, গণনার পর নতুন ধরনের ভোট ডাকাতি চেষ্টার দিকে নজর রাখা, প্রতিটি বুথে ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী ব্যালট পেপার ও বাক্স বুঝে নেয়া ইত্যাদি।

নির্দেশনায় আরও বলা থাকছে- ভোট শেষে মূল পোলিং এজেন্টকে ব্যালট পেপার-বাক্সসহ আগের সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। মূল পোলিং এজেন্ট ভোট গণনার পর ভোট বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার স্বাক্ষর দেয়া থেকে বিরত থাকা।

সূত্র আরও জানায়, প্রতিটি আসনে কেন্দ্রভিত্তিক একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রতি, ক্ষমতাসীনদের গত ১০ বছরের নানা অনিয়মের বিষয় ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে একটি লিফলেট তৈরি করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলে প্রতিটি ঘরে এই লিফলেট পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

উৎসঃ jugantor

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন কতটা সফল হবে বিএনপি

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার কথাই শেষ কথা। সংকটময় মুহূর্তে যে কোনো সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর বিএনপির রাজনীতি যখন মুখ থুবড়ে পড়েছিল, নেতারা যখন ছন্নছাড়া, এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছিলেন, তখন দলের প্রয়োজনে রাজনীতিতে আসেন আপাদমস্তক গৃহবধূ খালেদা জিয়া।

দলের প্রাথমিক সদস্যপদ দেয়ার পর তাকে করা হয় দলের ভাইস চেয়ারম্যান। ধীরে ধীরে রাজনীতিতে পরিণত হন খালেদা জিয়া। দলের চেয়ারপারসনের পদ দেয়া হয় তাকে।

এর পরের সময়টি শুধুই সফলতার। নব্বই দশকে গণতন্ত্রের জন্য টানা কয়েক বছর রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন তিনি। কারাবরণও করতে হয়। ওই আন্দোলনে তার আপসহীন ভূমিকা সবাইকে চমকে দেয়।

গৃহবধূর তকমা পেছনে পেলে আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পান খালেদা জিয়া। রাজনীতিতে আলাদা ভাবমূর্তি গড়ে তোলেন তিনি। স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথে দৃঢ়তার সঙ্গে হাঁটতে থাকেন।

১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। এই সময়ে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় তার নেতৃত্বেই। এর পর থেকে দেশের জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক হয়ে ওঠেন তিনি।

১৯৯১ সাল থেকে বিএনপির প্রতিটি সংসদ নির্বাচনের কলাকৌশল নির্ধারণ ও প্রচারে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গত দুটি নির্বাচনে তাকে সহায়তা করেছেন তার বড় ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনিও একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে বিদেশে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।

এমতাস্থায় খালেদা জিয়াকে ছাড়াই দলীয় মনোনয়ন ঠিক করেছে বিএনপি।

দুই মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত হওয়ায় খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নের বৈধতা দেয়নি। আপিলেও প্রার্থিতা ফেরত পাননি।

এখন হাইকোর্টে আপিল করেছেন তার আইনজীবীরা। কোর্টই তার ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।

এমতাবস্থায় খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়া ও তার মুক্তি নিয়ে ঘোর অমানিশায় দলের নেতাকর্মীরা। তার ভোটে অংশ নেয়া ও নির্বাচনী প্রচারে থাকা অনিশ্চিত ধরেই এগোচ্ছে বিএনপি।

খালেদা জিয়ার অবর্তমানে এবার ধানের শীষের প্রচারে নেতৃত্ব দেবেন কে, এটি নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে রাজনীতির অলিগলিতে ও চায়ের কাপে ঝড় তুলছে। এ নিয়ে বিএনপি নেতাদেরও কপালে ভাঁজ।

কারণ ভোটের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার একটি ‘ফেস ভ্যালু’ আছে। নির্বাচনী প্রচারে তার উপস্থিতি একটি ভিন্নমাত্রা যোগ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। তিনি যে এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে যান, সেখানে জোয়ার সৃষ্টি হয়।

নেতাকর্মীরা প্রাণ ফিরে পান। তৃণমূল সব ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষের মোহনায় এক হয় খালেদা জিয়ার মুখপানে চেয়ে।

মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হন, তারাও মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন খালেদা জিয়ার আশ্বাসে। তারা জানেন নেত্রী কথা দিলে কথা রাখেন।

কিন্তু এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বিএনপিকে রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে এগোতে হচ্ছে। দলের মনোনয়ন নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ-অভিমানের।

দুই বৃহৎ রাজনৈতিক জোট এবার বিএনপির নির্বাচনী সঙ্গী। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে রয়েছে ৪টি দল। আর ২০-দলীয় জোটে ২৩ দল। তাদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়েও অনেক মন কষাকষি হয়েছে।

সব মিলিয়ে বিএনপি বাস্তবতার মুখোমুখি। এখনও বহু নেতাকর্মী কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকের নামে শয়ে শয়ে মামলা। এসব কারণে অনেক নেতাকর্মী ভোটের মাঠে থাকা তো দূরের কথা বাড়িতেই থাকতে পারছে না।

এই প্রতিকূল পরিবেশেও বিএনপি ভোটের মাঠে থাকার বিষয়ে প্রত্যয়ী। তারা যে কোনো মূল্যে ভোট করতে চায়। কিন্তু খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে তারেক রহমানকে বিদেশে রেখে ভোটে কতটা সফল হবে বিএনপি। এটি এখন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে কোটি টাকার প্রশ্ন।

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অন্তত ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাদের মধ্যে অনেকে এবার দলের মনোনয়ন ফরমই কেনেননি। আবার অনেকে মনোনয়ন পেয়েও ভোট করছেন না।

দলের আরেকটি অংশ মনে করছে, ভোটে যাওয়া ছাড়া বিএনপির সামনে বিকল্প পথ খোলা নেই। এক দশক নির্বাচনের বাইরে থাকা দলটি এবারও ভোটে না গেলে দলের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। দলের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। নেতাকর্মীদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই ভোট করেই খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন বেগবান ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আত্মপ্রত্যয়ী তারা।

উৎসঃ jugantor

আরও পড়ুনঃ ‘গোপন বৈঠকে ইউএনওদের ডেকে ডিসিদের ৪ নির্দেশ’

শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করছেন অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘ভোট ডাকাতি প্রস্তুতির শলাপরামর্শ করছেন। নির্বাচনে জাল-জোচ্চুরির সব প্রস্তুতি পাকা করছেন। আমরা বিশ্বস্তসূত্রে জানতে পেরেছি, রবিবার সকল জেলার প্রশাসকরা স্ব-স্ব এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ডেকে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে চারটি বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

সোমবার (১০ ডিসেম্বর)নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চারটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘১. ডিসিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বলেছেন, আপনারা জানেন সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি বিজয়ী হয়ে যাবে, তাই এই সরকারকে আবারও ক্ষমতায় রাখতে হলে বুঝেশুনে কাজ করতে হবে। যেকোন মূল্যে এই সরকারকে ক্ষমতায় আনতে হবে। কাজেই এদিক ওদিক করার মতলব থাকলে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। ২. মাঠে কাজ করবে পুলিশ ও র‌্যাব। আপনাদের দায়িত্ব হলো তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা এবং সহযোগিতা প্রদান। ৩. প্রিজাইডিং অফিসারদের নিরাপদে কন্ট্রোল রুমে আসার ব্যবস্থা করবেন। ৪. প্রিজাইডিং অফিসারদের ব্ল্যাঙ্ক সিগনেচার নিয়ে রাখবেন। সেটা সময়মতা কাজে লাগানো হবে। এই সরকারকে যেকোন প্রকারে হোক ক্ষমতায় রাখতে হবে।’

‘নির্দেশনায় বলা হয়, গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত পুলিশের সহযোগিতায় নৌকা প্রতীককে জয়ী করার জন্য ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালটবাক্স ভর্তি করে রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভয়ংকর গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক তথা রিটার্নিং অফিসাররা। পরিকল্পিত নীলনকশার মাধ্যমে অবৈধ সরকারের দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য লোক দেখানো নির্বাচন আয়োজনে ফন্দি-ফিকির করছে। ক্ষমতাসীনদের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রহসনমূলক নির্বাচনী ছক তৈরি করে এগিয়ে চলছে।’

আওয়ামী লীগ সরকার নিশ্চিত ভরাডুবির আশঙ্কায় অস্থির ও বেসামাল হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘তারা বিএনপির বিরুদ্ধে অনর্গল মিথ্যাচার ও প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া সন্ত্রাসে নেমেছে। প্রতিবেশী একটি দেশকে নিজেদের পক্ষে টানতে, অনুকম্পা ও সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমাদের নেতাদের নামে আজগুবি ভিত্তিহীন কথা ছড়াচ্ছে। গতকাল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ধানমণ্ডি তে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন- পাকিস্তানি দূতাবাসে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাক্ষাৎ ও গোপন বৈঠক করেছেন। এই অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তান হাইকমিশন সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে। লিখিত বার্তায় তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে তা ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। পাকিস্তানের কোনো কূটনীতিকের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘মিথ্যা কুৎসা প্রচারণায় বিকারগ্রস্ত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। গোষ্ঠী স্বার্থে দেন-দরবার করার ঐতিহ্যই হচ্ছে আওয়ামী লীগের। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী সাহেবই তো ৭ দিন পাকিস্তানে কাটিয়ে আসলেন। এই ধরনের মিথ্যাচার থেকে আওয়ামী লীগ ও তাদের অর্থপুষ্ট দালাল মিডিয়া বিরত থাকবে বলে আমরা আশা করি। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও তাদের মদদপুষ্ট কিছু দালাল মিডিয়াকে বলবো-বিকৃত অপপ্রচার না চালিয়ে আওয়ামী লীগের গোপন দেন-দরবারগুলি প্রকাশ করলে জাতি উপকৃত হবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিটিভি (বাংলাদেশ টেলিভিশন) সরকারি সম্পদ নয়, এটা এখন আওয়ামী লীগের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। অতি আওয়ামী লীগ হওয়ার কারণে অতিরিক্ত সচিব বর্তমানে বিটিভির মহাপরিচালক পদে আসীন আছেন হারুন অর রশিদ, যুগ্ম সচিব সুরথ কুমার সরকার ডিরেক্টর অব নিউজ পদে অধিষ্ঠিত আছেন, কিন্তু পদটি উপ-সচিবের ; যুগ্ম সচিব সাখাওয়াত হোসেন পরিচালক প্রশাসন পদে আসীন আছেন, এই পদটিও উপ-সচিবের। অত্যন্ত একনিষ্ঠ আওয়ামী লীগার নুর আনোয়ার হোসেন এবং মাহবুবা ফেরদৌস প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ পদে আসীন আছেন। এরা বিটিভির বর্তমান পদে আসীন থাকলে ভোটের ফলাফল পাল্টে দিয়ে একটা বড় মাপের মিডিয়া ক্যু ঘটাতে সক্ষম হবে। অবিলম্বে উল্লিখিত কর্মকর্তাবৃন্দকে বিটিভি ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে অন্যত্র বদলী করতে হবে। এই সমস্ত কর্মকর্তাবৃন্দকে না সরালে একটা বড় ধরনের বিপর্যয় তারা ডেকে আনবে।’

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‘নৌকা প্রতীকের ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালটবাক্স ভর্তি করে রাখতে হবে’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত পুলিশের সহযোগিতায় নৌকা প্রতীককে জয়ী করার জন্য ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালটবাক্স ভর্তি করে রাখতে হবে।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারকে ফের ক্ষমতায় রাখতে নির্বাচন নিয়ে ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছেন জেলা প্রশাসকরা। নিশ্চিত ভরাডুবি জেনে আওয়ামী লীগ বেসামাল হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করছেন। ভোট ডাকাতি প্রস্তুতির শলা-পরামর্শ করছেন। নির্বাচনে জাল-জোচ্চুরির সব প্রস্তুতি পাকা করছেন। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, রবিবার সব জেলার প্রশাসকরা নিজ নিজ এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ডেকে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে চারটি বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত পুলিশের সহযোগিতায় নৌকা প্রতীককে জয়ী করার জন্য ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালটবাক্স ভর্তি করে রাখতে হবে।

আমরা বলতে চাই, সাজানো প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। জনপ্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে হবে। আপনারা এদেশের সন্তান। নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুন।

সরকার ৫৮টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে বলতে হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. সিরাজউদ্দীন আহমেদ, ড. মামুন আহমেদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনীর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ মানব জমিন

আরও পড়ুনঃ ৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধের কোন সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি বিটিআরসিঃ বিবিসির প্রতিবেদন

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা- বিটিআরসি দেশের ৫৮টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।

রবিবার বিকালে দেশের ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি)-কে বিটিআরসি লিখিতভাবে এই নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানান ইন্টারনেট সেবা সংস্থাগুলোর সংগঠন আইএসপির মহাসচিব ইমদাদুল হক। খবর বিবিসির।

রোববার বিকালে দেশের ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি)-কে বিটিআরসি লিখিতভাবে এই নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানান ইন্টারনেট সেবা সংস্থাগুলোর সংগঠন আইএসপির মহাসচিব ইমদাদুল হক।

যেসব পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ এসেছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: প্রিয় ডটকম, রাইজিংবিডিডটকম, পরিবর্তনডটকম, শীর্ষনিউজ২৪ডটকম, ঢাকাটাইমস২৪ডটকম ইত্যাদি।

“রাষ্ট্রবিরোধী সেইসঙ্গে অশ্লীল খবর প্রচারের কারণে পোর্টালগুলোর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে,” – বিবিসি বাংলাকে এমনটাই জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক।

তবে কোন পোর্টালের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ এসেছে – সেটা তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কিছুই বলেননি।

কী কারণে পোর্টালগুলোর বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে – সে ব্যাপারে আইএসপির মহাসচিব ইমদাদুল হকও স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি।

বিবিসিকে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে কেবল নির্দেশনা এসেছে, সেখানে কোন কারণ উল্লেখ করা হয়নি।”

মি. হক বিবিসিকে জানান, বিটিআরসির পক্ষ থেকে গতকাল বিকেলে তাদের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে ওই ৫৮টি সাইট বন্ধের নির্দেশ আসে।

তারপর থেকে তারা সেই সিদ্ধান্ত কার্যকরের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তবে আজ দুপুর পর্যন্ত ওই তালিকার বেশিরভাগ পোর্টাল সক্রিয় অবস্থায় দেখা যায়।

এ ব্যাপারে মি. হক জানান, “এতোগুলো পোর্টাল বন্ধ করা টেকনিক্যালভাবে জটিল। তাই এই কাজ কিছুটা সময় সাপেক্ষ।”

তবে আজ রাতের মধ্যেই তালিকাভুক্ত সব পোর্টাল পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে বলে জানান তিনি।

অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করা হয় কেন?

সাধারণত কোন সংবাদমাধ্যম যদি রাষ্ট্রবিরোধী কিছু প্রচার করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়।

“সেই সিদ্ধান্ত দেশের জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র-এনটিএমসি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে নিয়ে থাকে,” জানান মি. হক।

তিনি বলেন, “এসব সাইট বন্ধের ক্ষেত্রে বিটিআরসি সরাসরি কোন নির্দেশনা দেয়না। সিদ্ধান্ত মূলত এনটিএমসি নিয়ে থাকে। যেখানে আর্মি পুলিশ যৌথভাবে পোর্টালগুলো পর্যবেক্ষণ করে।”

পোর্টালের সম্পাদকরা ‘হতাশ’

এ ঘটনায় তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রিয় ডটকমের সম্পাদক জাকারিয়া স্বপন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, “এই পোর্টাল বন্ধের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি।”

মি. স্বপন বলেন, “আমি সকালে এসে দেখি পোর্টাল চলছে না, বন্ধ হয়ে গেছে। এমনটা কেন হল, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী – কিছুই জানিনা।”

“আমরা হতাশ, হেল্পলেস।”

এ ঘটনাকে “সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বড় বাঁধা” বলে মনে করছেন তিনি।

এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে জনবল কাজ করছে তাদের ভবিষ্যত নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন জাকারিয়া স্বপন।

উৎসঃ বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুনঃ জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকাসহ ৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি!

পরিবর্তন, প্রিয়, ঢাকাটাইমস২৪, রিপোর্টবিডি২৪, শীর্ষনিউজ ও রাইজিংবিডি ডটকম সহ ৫৮ টি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এসব ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটও রয়েছে।

এসব পোর্টাল বন্ধে রোববার সব ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ সংস্থা এবং আন্তার্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়েকে (আইআইজি) চিঠি দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ সংস্থার মহাসচিব মো. ইমদাদুল হক বলেন, বোরবার বিকালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন সরকারের পক্ষ থেকে এসব ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়ার জন্য একটি চিঠি দেয়া হয়েছে।

বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব ওয়েবসাইট থেকে বিভ্রান্তিকর কিছু তথ্য দেওয়া হচ্ছিলো।

বন্ধ করার নির্দেশে থাকা ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে অনেকগুলো লাইসেন্সকৃত বৈধ জনপ্রিয় নিউজসাইটও রয়েছে।

বন্ধের নির্দেশ পাওয়া সাইটগুলো হলঃ

প্রিয়ডটকম-https://www.priyo.com

বিএনপিবাংলাদেশডটকম- http://bnpbangladesh.com

রাইজিংবিডিডটকম- http://risingbd.com

পরিবর্তনডটকম- http://poriborton.com

রিপোর্টবিডি২৪ডটকম- https://reportbd24.com

শীর্ষনিউজ২৪ডটকম- http://sheershanews24.com

ঢাকাটাইমস২৪ডটকম- http://www.dhakatimes24.com

বিডিপলিটিকোডটকম- https://bdpolitico.com

পেজনিউজ২৪ডটকম- http://pagenews24.com

রেয়ারনিউজ২৪ডটকম- http://www.rarenews24.com

বিএনপিনিউজ২৪ডটকম- http://bnpnews24.com

প্রথমবাংলাদেশডটনেট- https://www.prothombangladesh.net

ডেইলিআমারদেশডটএক্সওয়াইজেড- http://dailyamardesh.xyz

ডিএনএনডটনিউজ- http://dnn.news

রাজনীতি২৪ডটকম- http://www.razniti24.com

আরবিএন২৪ডটকোডটইউকে- http://www.rbn24.co.uk

সংবাদ২৪৭ডটকম- http://www.sangbad247.com

দেশভাবনাডটকম- http://deshbhabona.com

আমারদেশ২৪৭ডটকম- http://amardesh247.com

অ্যানালাইসিসবিডিডটকম- http://www.analysisbd.com

আওয়াজবিডিডটকম- https://www.awaazbd.com

বদরুলডটঅরগ- http://www.badrul.org

বিএনপিঅনলাইনউইংডটকম- http://bnponlinewing.com

ইনডটবিএনপিবাংলাদেশডটকম- http://en.bnpbangladesh.com

বিএনপিবাংলাদেশডটকম- http://bnpbangladesh.com

বাংলামেইল৭১ডটইনফো- http://banglamail71.info

এটিভি২৪বিডিডটকম- http://www.atv24bd.com

বাংলাস্ট্যাটাসডটকম- https://www.banglastatus.com

বিবাড়িয়ানিউজ২৪ডটকম- http://www.bbarianews24.com

শিবিরডটঅরগডটবিডি- http://shibir.org.bd

নিউজ২১-বিডিডটকম- http://news21-bd.com

ওয়াননিউজবিডিডটনেট- https://www.1newsbd.net

নিউজবিডি৭১ডটকম- http://newsbd71.com

জাস্টনিউজবিডিডটকম- http://www.justnewsbd.com

এক্সপ্রেসনিউজবিডিডটকম- http://www.expressnewsbd.com

ডেইলিবিডিটাইমসডটকম- http://dailybdtimes.com

ময়মনসিংহনিউজ২৪ডটকম- http://www.mymensinghnews24.com

মূলধারাবিডিডটকম-http://www.muldharabd.com

সিএনএনবিডি২৪ডটকম-http://cnnbd24.com

ডেইলিমিরর২৪ডটকম-http://www.dailymirror24.com

দেশনেত্রীসাইবারফোরামডটকম-http://www.deshnetricyberforum.com

আলাপনডটলাইভ-http://www.alapon.live

দিগন্তডটনেট-https://diganta.net

মোরালনিউজ২৪ডটকম-http://www.moralnews24.com

পত্রিকাডটকম-http://www.potryka.com

দাওয়াহিলাল্লাহডটকম-https://dawahilallah.com

উৎসঃ যুগান্তর, বাংলা নিউজ২৪

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here