আ.লীগ সরকারের আমলে গত ১০ বছরের আলোচিত কেলেঙ্কারি

0
290

গত ১০ বছরে ব্যাংকিং খাতে নানা আলোচিত কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) তাদের এক গবেষণায় দেখিয়েছে ১০ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে ওই টাকা আদায় করতে পারেনি ব্যাংকগুলো। অ্যাননটেক্স গ্রুপ এখন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় আলোচিত কেলেঙ্কারি অ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি। গ্রুপটি জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এ গ্রুপের কর্ণধার ইউনুস বাদল। ঋণের টাকা আদায়ে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও আদায় করতে পারেনি ব্যাংকটি।

ক্রিসেন্ট গ্রুপ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ক্রিসেন্ট গ্রুপ। ঋণের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে গ্রুপটি। এর মধ্যে প্রায় হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদের ও তার ভাই জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু ঋণের নামে ডাকাতি করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে চেয়ারম্যান জালিয়াতি করেন।

প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বেহাত হয় বেসিক ব্যাংকের। বর্তমানে ব্যাংকটি নানা সংকটে ধুঁকছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারী সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে আত্মসাৎ হয়েছে ৩ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে এসব টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও এমডি জড়িত ছিলেন। গ্রুপটির এমডি তানভীর ও চেয়ারম্যান তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার জেলে রয়েছেন।

এসএ গ্রুপ কেলেঙ্কারি চট্টগ্রামভিত্তিক এসএ গ্রুপের কর্ণধার মো. শাহাবুদ্দিন আলম বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। এর মধ্যে বিদেশে পাচার করেছেন অর্থ। অগ্রণী, ন্যাশনাল, জনতা, ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, কৃষি, পূবালী ব্যাংক থেকে এই টাকা নিয়েছেন। বিসমিল্লাহ গ্রুপ রপ্তানির নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিসমিল্লাহ গ্রুপ।

এ টাকার পুরোটাই বিদেশে পাচার করা হয়েছে। জনতা, প্রাইম, শাহজালাল, যমুনা ও প্রাইম ব্যাংক থেকে এ টাকা নেওয়া হয়েছে। এনআরবিসি ব্যাংকের কেলেঙ্কারি সিপিডির তথ্যমতে নতুন প্রজন্মের এ ব্যাংক থেকে ৭০১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মালিকরা। রিজার্ভ চুরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুইফট সিস্টেম হ্যাক হয়ে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার আজও ফেরত পাওয়া যায়নি।

এতে দেশের ৬৮০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান যোগসাজোশ করে ব্যাংকটির ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এবি ব্যাংক কেলেঙ্কারি এবি ব্যাংকের ঋণের টাকা দিয়ে তা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এতে ব্যাংকটির ১৬৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উৎসঃ ‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ইয়াবাসহ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত কুমার দাসকে আটক


ঝালকাঠির নলছিটিতে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত কুমার দাস শান্তু (২৫) ও তার সহযোগী মাসুদ হাওলাদারকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা শহরের কলবাড়ি রোডের একটি বাসা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

সুশান্ত কুমার দাস শান্তু নলছিটি পৌর এলাকার কলবাড়ি রোডের ঝন্টু দাসের ছেলে এবং মাসুদ হাওলাদার উপজেলার দপদপিয়া গ্রামের বেলায়েত হাওলাদারের ছেলে।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই রাসেলসহ পুলিশের একটি টিম কলবাড়ি রোডের ঝন্টু দাসের বাসায় অভিযান চালায়। এসময় মাদক সেবনরত অবস্থায় সুশান্ত কুমার দাস শান্তু ও মাসুদ হাওলাদারকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্ততি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উৎসঃ ‌পূর্বপশ্চিম

আরও পড়ুনঃ সওজের প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা ৬ প্রকল্পের পরিচালক তিনি একাই!


সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা; ছয়টি প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

সিলেট থেকে: একটি নয়, দুটি নয়। একাধারে গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব একই পালন করছেন সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন, একব্যক্তিকে যেনো একাধিক প্রকল্পের পরিচালক করা না হয়।

কিন্তু সে নির্দেশনা ও সব আইন অমান্য করে একাই ছয়টি প্রকল্পের পরিচালকের (পিডি) দায়িত্ব পালন করছেন তুষার কান্তি। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা।

এগুলো হচ্ছে- বানিয়াচং-আজমিরিগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (ব্যয় ১১৬ কোটি টাকা), সিলেট বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কের জাতীয় মহাসড়ক উন্নতকরণ প্রকল্প (ব্যয় ৬২৭ কোটি), সিলেট জোনের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথ মান ও প্রশস্ত উন্নীতকরণ প্রকল্প (ব্যয় ৫৬০ কোটি), সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক টু শাহ পরাণ সেতু ঘাট সড়ক চারলেনে মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (ব্যয় ২৩৫ কোটি)।

এছাড়া ঢাকা-সিলেট-তামাবিল-জাফলং জাতীয় মহাসড়কের জৈন্তা থেকে জাফলং পযর্ন্ত উন্নয়ন প্রকল্পেরও পিডি তুষার কান্তি। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৯০ কোটি টাকা। আর ৫৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিলেট জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ত উন্নীতকরণ প্রকল্পেরও পরিচালক তিনি।

শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিলেট সার্কিট হাউজে বিভাগের বাস্তবায়িত ৫৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্বয়ং পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানও।

এ সময় তুষার কান্তি সাহা একাই কীভাবে ছয়টি প্রকল্পের পরিচালক হলেন তা জানতে চান মন্ত্রী। তখন তুষার কান্তি বলেন, ‘স্যার, এভাবেই তো চলে আসছে। আমি প্রকল্পগুলোর দায়িত্ব পালন করছি। উপর থেকে আমাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘একব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। সেই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প এলাকায় থাকতে হবে। সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই একব্যক্তি একের বেশি প্রকল্পের পরিচালক হতে পারবেন না! একব্যক্তি কীভাবে ছয় প্রকল্পের পরিচালক হতে পারেন?’

সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, প্রকল্পের গতি বাড়াতে হবে। প্রকল্প কাজে গতি বাড়াতে যথাসময়ে কাজ শেষ করতে হবে। অর্থের অপচয় কমাতে হবে।

সিলেট বিভাগে চলমান ৫৮ প্রকল্পের পরিচালকসহ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়েজউল্লাহ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ সরকার জনগণের উন্নয়ন না করে প্রশাসনের উন্নয়ন করছেঃ মজিবর রহমান সরওয়ার


কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর দলটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার বলেছেন, রাষ্ট্রের কাজ হচ্ছে দেশের মানুষ যাতে ভালোভাবে নিরাপদে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করা। কিন্তু সরকার জনগণের উন্নয়ন না করে প্রশাসনের উন্নয়ন করছে।

শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে নগরের সদররোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে মহানগর বিএনপির আয়োজনে চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে শোক সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সরওয়ার বলেন, অব্যবস্থাপনার কারণে ঢাকার নিমতলীর ঘটনার দীর্ঘ ৯ বছর পর পুনরায় চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এখানে মূলত প্রশাসনের ব্যর্থতাই দায়ী। প্রশাসন শুধু জনগণকে পিছিয়ে রেখে সরকার টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত। সরকার জনগণের উন্নয়ন না করে প্রশাসনের উন্নয়ন করছে। সরকার তাদের উন্নয়ন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।

শোক সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার, সিনিয়র সহ সভাপতি মনিরুজ্জামান ফারুক, সহ সভাপতি মনিরুল আহসান, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, যুবদল মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন, সাহেদ আকন সম্রাট, মহিলা দলের শামীমা আকবর প্রমুখ।

পরে ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ কক্সবাজার উপকূলে হঠাৎ করে বন ধ্বংসের উৎসব শুরু হয়েছে


কক্সবাজার উপকূলে হঠাৎ করে যেন উপকূলীয় বন ধ্বংসের উৎসব শুরু হয়েছে। উপকূলের প্রাকৃতিক বন কক্সবাজারের মূল ভূখন্ডকে ঝড়-জলোচ্ছাস থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে প্রাচীর হিসেবে ভূমিকা রেখে আসলেও ভূমিগ্রাসীরা প্রাকৃতিক এই প্রাচীর কেটে সাবাড় করছেন।

জেলার চকরিয়া এলাকায় গত এক মাসে লক্ষাধিক বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে তৈরি করা হয়েছে একাধিক চিংড়ি ঘের। ভূমি গ্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্জকর পদক্ষেপ না থাকায় এভাবে চলে যাচ্ছে শত শত একর সারকারী ভূমি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় চিংড়ি ঘের তৈরির জমির পরিমান ১২ হাজার ১১০ একর। এরমধ্যে তিন হাজার ১০১ একর জমিতে অবৈধ এসব চিংড়িঘের তৈরি করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, উপকূলীয় এলাকার বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে এসব চিংড়ি ঘের তৈরি করা হয়েছে। বন বিভাগের দ্বায়িত্ব অবহেলা এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের অনেকটা সহযোগিতায় এসব কাজ চলছে বলে অনেকের অভিযোগ। এই সুযোগে দখলবাজ প্রভাবশালীদের দাপটে ওই এলাকায় সরকারের হাত ছাড়া হয়েছে সাড়ে তিন হাজার একর প্যারাবন। কক্সবাজার শহর থেকে সমুদ্রপথে ৬০ কিলোমিটার দূরে চকরিয়ার চরণদ্বীপ মৌজার গোলচর ও চিলখালীর চর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েক হাজার একর প্যারাবনের লক্ষাধিক বাইন ও কেওড়াগাছ কেটে সেখানে বিশাল আকৃতির কয়েকটি চিংড়ি ঘের তৈরি করা হয়েছে। ঘের পাহারার জন্য তিন দিকে ১২টি ঘর তৈরি করে পাহারা বসানো হয়েছে।

পাহারাদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছ, গত এক মাস ধরে তিন শতাধিক মানুষ প্যারাবনে ঢুকে অন্তত দেড় লাখ বাইন ও কেওড়াগাছ কেটে চকরিয়ার বিভিন্ন ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করা হয়। স্থানীয় চকরিয়া ও কক্সবাজারের কয়েকজন প্রভাবশালী এই প্যারাবন নিধন করে চিংড়ি ঘের তৈরি করছে বলে জানা গেছে। ১০-১৫ বছর বয়সী বড় বড় গাছ কাটা হয় করাত দিয়ে। আর ছোট গাচ গুলোতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়। স্থানীয় জে এম ঘাট এলকার অনেকেই বলেন, রাতের বেলায় পরিকল্পিতভাবে পেট্রোল ঢেলে এই প্যারাবন ধ্বংস করা হয়েছে। আগে প্যারাবনে হরিণ, বানর, বাদুড়, সাপ, বকসহ নানা পশু-পাখির বিচরণ দেখা যেত। প্যারাবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত এলাকায় কয়েক হাজার পরিবার।

স্থানীয় তরুণ কামাল আহমেদ (২৪) বলেন, কয়েক হাজার একরের প্যারাবনের লক্ষাধিক বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে নিলেও বন বিভাগ নীরব ভূমিকা পালন করে। তারা একটি গাছও উদ্ধার করতে পারেননি।

উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা গোলাম মর্তুজার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে হলে তিনি প্রভাবশালীদের ভয়ে এ প্রসঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার বলেন, ওই সব এলাকায় বাস্তবে কোন গাছ নেই বললে চলে। তাই জমিগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখতে, বেকার লোকজনের কর্মসংস্থানের সুবিধার্থে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষে নতুন করে কিছু জমি চিংড়ি ঘেরের জন্য ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি অবৈধ দখলে থাকা জমিগুলো উদ্ধারের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন। জেলা প্রশাসনের এ কর্মকর্তা বলেন, ইতিপূর্বে ১০ একরের অধিক জমি লীজ নেয়া জমিগুলো যাচাই-বাছাই করে অতিরিক্তি জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা চিংড়ি সম্পদ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা কমিটি।

পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রণমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, চকরিয়া চরণদ্বীপ মৌজায দেড় হাজার একরের বেশি এই প্যারাবনে পাঁচ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি বাইন ও কেওড়াগাছ ছিল। ইতিমধ্যে তিন লাখের বেশি গাছ কেটে চিংড়িঘের করায় উপকূলের ১০ লাখ মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অথচ বন বিভাগের কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়াও কক্সবাজার উপকূলে চিংড়ি চাষের জন্য জমি লীজ না দিতে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনাও রয়েছে।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here